Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৩
সুহাসিনী

“দরজাটা খুলো বউ। তোমার কষ্ট হচ্ছে না একমাত্র জামাইকে বাথরুমে আটকে রাখতে।”
রাহি বাথরুমের বাইরে থেকে বলল,
“না করে না। সুস্থ জামাই থাকলে হয়তো কষ্ট লাগতো কিন্তু আপনি তো আজকে পাগল হয়ে গেছেন।তাই পাগলকে আটকে রাখতে আমার কোনো কষ্টই হচ্ছে না।”
প্রেমের কোনো উত্তর আসলো না।রাহি ভ্রু কুঁচকে ওয়াশরুমের দরজার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।প্রেমের কোনো সাড়া না পেয়ে সে একবার ভাবলো দরজা খুলে দিবে কিন্তু আবার ভাবলো যদি দরজা খুললে আবার উল্টাপাল্টা কিছু করতে চায়।তাই আর খুললো না। রাহি ঘুমিয়ে পড়লো।
ওদিকে বেচারা প্রেম একজন এমপি হয়েও সারারাত বাথরুমে কাটাতে হলো।

সকাল সাতটার দিকে প্রেমের ঘুম হালকা হয়ে এলো।ঘুমের ঘোরেই সে বিড়বিড় করলো,
“আজকে বিছানা এতো শক্ত আর ঠাণ্ডা কেনো লাগছে।”
প্রেম মিটমিট করে চোখ খুললো। নিজেকে ফ্লোরে আবিষ্কার করতেই এক লাফ দিয়ে উঠে গেলো শুয়া থেকে।সে সারারাত ওয়াশরুমের ফ্লোরে ঘুমিয়েছে ভাবতেই গাঁ ঘিন ঘিন করে উঠলো। রাতের কিছুই মনে করতে পারলো না।রাতের ঘটনা মনে করার জন্য মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করতেই মাথা ব্যথা অনুভব হলো।তাই বেশি চাপ দিলো না।
রাহির কথা মাথায় আসতেই মনে হলো পড়ল কাল রাতে তো তার বউকে ফুলের বিছানায় শুইয়ে শাস্তি দেওয়ার কথা তা না করে সে ওয়াশরুমের ফ্লোরের সাথে ভালোবাসা করছে।
প্রেম দরজা খুলতে গেলে দেখলো বাইরে থেকে দরজা বন্ধ।রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো তার। জোরে দরজা ধাক্কাতে লাগলো।
শব্দে রাহি ঘুম থেকে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো।বুঝার চেষ্টা করলো শব্দটা কিসের।ওয়াশরুমের থেকে শব্দ আসতে দেখে প্রেমের কথা মনে পড়ে গেলো।ঘুমের তরে ভুলেই বসেছিল সে যে তার জামাইকে বাথরুমের কমোডের সাথে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে।
মাথার কাছ থেকে উড়না নিয়ে তাড়াতাড়ি দরজার কাছে গেলো।দরজা না খুলেই বললো,

“এভাবে ষাঁড়ের মত দরজায় গুতোচ্ছেন কেন। দরজাটা কি আপনার বাপের টাকায় কেনা?”
“আমার বাপের টাকায় কেনা না তবে নিজের টাকায় কেনা।দরজা খোল শালী।”
“আমি আপনার কত নাম্বার বউ এর বোন যে আমাকে শালী ডাকছেন?বললেই হলো দরজা খোল,আপনার কমোডকে শসা খাওয়ানো শেষ হলে পরেই দরজা খুলবো।”
“তোর বালের শসা তোকেই খাওয়াবো শালী।দুই সেকেন্ড এর মধ্যে দরজা না খুললে উল্টো করে তোকে আজকে ফ্যানের সাথে ঝুলাবো।”
“পারবেন না ফ্যানের সাথে ঝোলাতে। কারণ আপনার এই বড়লোক বাড়িতে তো ফ্যানই নেই।”
বলেই খিলখিল করে হেসে উঠলো রাহি।প্রেম বুঝল এই পাগলের সাথে তর্ক করে লাভ নেই।তাই সে তার দ্বিতীয় অস্ত্র কাজে লাগলো। করুণ স্বরে বলল,

“দেখ বউ আমার ভেজা ফ্লোরে ঘুমিয়ে ঠাণ্ডা লেগে গেছে, জ্বর ও আসতে পারে। আর শ্বাসকষ্ট হলে তো আমি ঘুমাতেই পারবো না জানিসই তো। প্লীজ খুলে দে বউ আমার।”
রাহি এবার সত্যি সত্যি আবেগী হয়ে গেলো।দেরি না করে ফটাফট দরজা খুলে প্রেমকে কিছু বলতে না দিয়ে হাত ধরে বিছানায় বসালো। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো,
“আপনি এখানে চুপ করে বসুন এমপি সাহেব,আমি আপনার জন্য এক্ষুনি সরিষার তেলে গরম করে নিয়ে আসছি।ওটা দিলেই আপনার ঠাণ্ডা আর শ্বাসকষ্ট পালিয়ে যাবে।”

রাহির অস্থির ভাব দেখে প্রেম সব রাগ ভুলে গেলো।এই বাচ্চা মেয়ে কি করে তাঁর মতো বদমেজাজি একজনকে এভাবে পাগলের মতো ভালোবাসতে পারে।প্রেম কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাহির পানে।রাহি নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই প্রেম এক টান মেরে রাহিকে তার উরুর উপর বসিয়ে দেয়।
রাহি কিছু না বলে শুধু প্রেমের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রেম রাহির চোখের দিকে পলক বিহীন তাকিয়ে নেশালো কণ্ঠে বললো,

“তুই কি কালোজাদু জানিস বেগমজান?”
“মানে?”
“আমার খুব অসুখ করেছে।”
রাহি প্রেমের কথার মানে বুঝতে না পেরে বলল,
“হ্যাঁ,সে জন্যই তো নিচে যাচ্ছিলাম।”
“আমার এই অসুখের কারণ যে তুই সেটা কেনো বুঝিস না।”
রাহি এবার আর কিছু বলল না উত্তরে।তার থুতনি গিয়ে ঠেকলো গলায়।গাল গুলো কেমন লাল হয়ে যাচ্ছে।প্রেম রাহির খোলা চুলে তার হাতের আঙুল গলিয়ে দিলো। রাহির শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠলো।
প্রেম আলতো করে রাহির মুখটা একটু উপরে তুললো। রাহির চোখ তখনো বন্ধ, বুকটা ধকধক করে কাঁপছে। চারপাশটা যেন হঠাৎ করেই নিস্তব্ধ হয়ে গেলো—শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দটাই শোনা যাচ্ছে।
প্রেম ধীরে ধীরে তার কপালে ঝুঁকে পড়লো। খুব নরম একটা স্পর্শ…
রাহির শরীরটা কেঁপে উঠলো সেই স্পর্শে।

এরপর প্রেম একটু থামলো, যেন মুহূর্তটা অনুভব করতে চাইছে। তারপর খুব সাবধানে, খুব আদর করে রাহির গালের পাশে ঠোঁট ছোঁয়ালো। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো জোর নেই—শুধু একটা গভীর অনুভূতি।
রাহি চোখ খুললো না, কিন্তু তার আঙুলগুলো অজান্তেই প্রেমের পরণের পাঞ্জাবী আঁকড়ে ধরলো।
প্রেম ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল,
“এটাই আমার অসুখ… তোর কাছে থাকলেই বাড়ে… শুধু তোকে কাছে পেতে মন চায় বেগমজান”
রাহির ঠোঁটের কোণে লাজুক একটা হাসি ফুটে উঠলো। প্রেম ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো রাহির ঠোঁটের দিকে। রাহির ঠোঁট থেমে থেমে কেঁপে উঠছে।প্রেম মুহূর্তেই সেই কাঁপুনি বন্ধ করে দিলো রাহির ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে।
প্রেম এখন রাহির ঠোঁট জোড়ায় নিজের অধিকার ফলাতে বেস্ত। রাহি স্তব্ধ হয়ে গেছে প্রেমের এরূপ কাণ্ডে।রাহি এবার আরও শক্ত করে প্রেমের পাঞ্জাবী আঁকড়ে ধরলো। ধীরে ধীরে প্রেমের স্পর্শ আরও গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগলো।আজকে যেনো সে কোনো বাধায় মানবে না।যত সময় যাচ্ছে প্রেম রাহির ওষ্ঠদ্বয় টেনে নিচ্ছে। রাহি শ্বাস নিতে পারছে না এবার।

হঠাৎ খট করে দরজা খোলার শব্দ কানে এলো দুজনের। রাহি মুহূর্তেই প্রেমকে নিজের সব শক্তি দিয়ে সজোড়ে ধাক্কা মারল। প্রেমের মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় তাল সামলাতে না পেরে বিছানায় কিছুটা হেলে গেলো। শোয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে রাহির ঘাড় থেকেও হাত সরে গেলো।
এই সুযোগে রাহি প্রেমের উরুর উপর থেকে উঠে দূরে সরে গেলো। শান্তকে হা করে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহি লজ্জায় সেখানে আর দাঁড়াতে পারলো না। এক দৌঁড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। শান্ত শুধু হা করে তাকিয়ে দেখলো।
শান্তর কাণ্ডে প্রেম বিরক্তিতে শক্ত কণ্ঠে বললো,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২২

“তোর টাইমিং সেন্স কখনো ঠিক হবে না, শুধু বেমক্কা এন্ট্রি।”
“তোরা অসময়ে আকাম করতে পারবি আর আমি অবলা শান্ত ঠিক সময়ে ভুল জায়গায় এন্ট্রি নিলেই দোষ।”
“তুই জানিস তোর টাইমিং সেন্স কেমন?”
“কেমন?”
” সামনে দিয়ে ত্যাগ করতে গিয়ে পাছা দিয়ে গু বের হয়ে যাওয়ার মতো।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৪