এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৪
সুহাসিনী
দেখতে দেখতে চার দিন কেটে গেছে।আশা বাড়িতে নেই আজ চার দিন হয়ে গেলো।আশার নাম্বার থেকে আশা তার মাকে টেক্সট করেছিল সে কিছুদিনের জন্য বন্ধুদের সাথে দেশের বাইরে ট্যুরে যাচ্ছে।এরকম সে প্রায় ট্যুরে যায়।তাই আশাকে নিয়ে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।আশার মা বিন্দাস মনের সুখে তিন বেলা খাচ্ছে আর সিরিয়াল দেখছে।মাঝে মাঝে তিন বেলার জায়গায় পাঁচ বেলাও খাওয়া পড়ে। মাগনা পেলে আর ছাড়ে কে,সেই দশা হয়েছে তার।এদিকে যে তার মেয়ের উপর প্রেমের স্পেশাল ট্রিটমেন্ট চলছে সেটা তাকে কে বুঝাবে।
ওইদিনের পরে প্রেম প্রতি রাতে আশার কাছে যায়। আর নতুন নতুন ব্যথার স্বাদ গ্রহণ করায়। এটা যেনো প্রেমের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এখন। আশার মাথায় এখন একটা চুলও নেই।তার কারণ অবশ্য প্রেম নিজেই।তার বউ চুলে অ্যালোভেরা লাগাতো সেই অ্যালোভেরা গাছ এই মেয়ে নষ্ট করেছে দিয়েছে,এখন যদি সে এই মেয়ের মাথায় চুল রাখে তাহলে তো চুল গুলোর সাথে অন্যায় করা হবে।
আশাকে দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হয়,শুধু শুকনো রুটি। রাহির সাথে এই সামান্য অন্যায় এর জন্য প্রেম যে তাকে এতো বড় শাস্তি দিবে এটা যদি জানত তাহলে কোনো দিনই রাহির মুখ দর্শন করত না। প্রেম যে রাহির প্রতি কতটা দুর্বল এতো দিন আশা সেটা হারে হারে বুঝে গেছে।যদিও প্রেম মুখে স্বীকার করে না যে সে রাহির প্রতি অবসেসড।তার এক কথা ওই বাচ্চা মেয়েকে সে বউ হিসেবে মানা তো দূর তাকে নাকি সহ্যই করতে পারে না।
আজ থেকে রাহির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু।আজকে আমজাদ খান তাকে স্কুলে নিয়ে যাবে আর আসার সময় ড্রাইভার নিয়ে আসবে। প্রায় এক মাস চলবে পরীক্ষা।
প্রেমও এখন অনেক বেস্ত হয়ে গেছে পার্টি অফিসে। অন্যদিকে বিরোধী দলের উৎপাত বেড়েই চলেছে।তারা শুধু উত পেতে আছে কীভাবে প্রেমের ক্ষতি করা যায়।এমপি হওয়ার সুবাদে অনেক জায়গায় যেতে হয় তাকে। প্রতিদিনই রাত করে বাড়িতে ফিরে আবার খুব সকাল সকাল বেরিয়ে যায়।রাহির এখন প্রেমের সাথে দেখা হয় না বললেই চলে।রাহি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে পরীক্ষার জন্য আর সকালে স্কুলের জন্য রেডী হতে হতে প্রেম উধাও। এটাতে তার একটু মন খারাপ হলেও ইদানিং পড়ালেখায় তার মনোযোগ বেশ বেড়েছে।
বিরোধী দলের থেকে প্রেমের এবং তার পরিবারের বিপদের আশঙ্কা আছে বিধায় প্রেম আগের চেয়ে সেফটি বাড়িয়ে দিয়েছে সবার।তবে রাহি এখনও একায় চলাচল করে। কারণ তার কাছের কয়েকজন বাদে বাইরে সবাই জানে রাহি প্রেমের কাজিন।এখন যদি সে রাহির জন্য আলাদা সেফটির ব্যবস্থা করে তাহলে শত্রু দের সন্দেহ হতে পারে।তাই রাহির জন্য গোপনে বডিগার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। যারা দুর থেকে রাহির উপর সবসময় নজর রাখে যেনো কেউ রাহির কোনো ক্ষতি করতে না পারে।
আজকে রাহির শেষ পরীক্ষা। পরীক্ষা দিয়ে বান্ধবীদের সাথে বের হয় রাহি।আজকে ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা ছিল তাই তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে তাদের পরীক্ষা।
রাহি স্কুলের বাইরে এসে দেখলো এখনও গাড়ি আসেনি।রাহি ভাবলো এখন থেকে তো স্কুল বন্ধ অনেক দিনের ।আবার কবে না কবে বান্ধবীদের সাথে দেখা হবে,তাই আজকে সবাই মিলে ফুচকা খাবে এবং আড্ডা দিবে।তারা স্কুলের কাছেই একটা পার্কের দিকে হাঁটা ধরলো।
পার্কে গিয়ে ফুচকা অর্ডার করে একটা টেবিলে বসলো সবাই।তারা মোট তিনজন।রাহি,নিপা আর তাদের আরেক বান্ধবী।আজকে পার্কটা একটু ফাঁকা।শুক্রবারে প্রচুর ভিড় থাকে আজকে ছুটির দিন না হওয়ায় তাদের বেশ সুবিধে হয়েছে।
হঠাৎ করেই আকাশ মেঘলা হয়ে এলো।সবাই পার্ক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে লাগলো।শুধু কয়েকজন থেকে গেলো। রাহির বান্ধবী আর নিপা রাহিকে বললো,
“মনে হচ্ছে বৃষ্টি আসবে,অন্য একদিন আড্ডা দিবো নে,আজকে চল বাসায় চলে যায়।”
কিন্তু রাহির গাড়ি তো এখন আসেনি।সে স্কুলের দারোয়ানকে বলে এসেছে গাড়ি আসলে যেনো তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।এখন যদি তার বান্ধবীরা চলে যায় তাহলে সে একা একা কি করবে ।তাই সে মানা করলো।কিন্তু তারা মানলো না।রাহি তার সমস্যা বলার পরেও তার বান্ধবী চলে গেলো কিন্তু নিপা রয়ে গেলো রাহির সাথে,এটায় মনে হয় আসল বন্ধুত্ব। বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো । এরকম বন্ধুত্ব হয়তো আজকাল খুব কম দেখা যায়।
কিন্তু বিপত্তী ঘটলো তখন যখন কিছু বখাটে ছেলে এসে তাদের দুজনকে ঘেরাও করে ধরলো। চারটা ছেলে তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো। আশে পাশে তেমন কেউ নেই।ফুচকাওয়ালা সেই কখন ফুচকা দিয়ে তার দোকানের ভেতর ঢুকে গেছে।তারা যেই টেবিলে বসেছে সেটা পার্কের একেবারে কর্নারে বিধায় কারো নজর সেদিকে বেশি পড়ে না।তারা দুইজন আর ছেলে গুলো চারজন, ছেলে গুলো সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তারা ভয় পেলো।একটা ছেলে খেকখেক করে বলল,
“বন্ধু মাল দুটো কিন্তু একদম কচি। রসে ভরা, একদম টইটুম্বুর। আমার তো দেখেই জিভে পানি চলে আসলো।খেতে না জানি কত মজা হবে।”
ছেলেটার কথা শেষ করতে দেরি কিন্তু রাহির হাতের শক্ত থাপ্পড় গালে পড়তে দেরি হলো না।রাহির তেজ দেখে ছেলেগুলো গা জ্বলে উঠল।একটা ছেলে রাহির হিজাবের উপড় দিয়েই রাহির চুলের মুঠি ধরে রাগে বলে উঠলো,
“মা*গীর তেজ আজকে মিটাবো।আজকে তোর এমন অবস্থা করবো যে কখন ছেলের গালে থাপ্পড় দেওয়ার অবস্থা থাকবে না।আগে তোর ঝাল মিটায় সবাই মিলে তারপর না হয় তোর সাথের টার ঝাল মিটাবো।”
রাহি নিপা দুজনেই ভয়ে কেঁদে দিলো। ঢাকা শহর যে শুধু কেড়ে নিতে জানে আজকে সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারছে। কারণ দুর থেকে কয়েকজন তাদের দিকে খেয়াল করেছে কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।যদি এগিয়ে আসলে পড়ে তারা ঝামেলায় ফেঁসে যায় এই চিন্তায়।
হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। যাও কয়েকজন ছিল এখন কেউ নেই।তাদের মনে হয় আজকে আর রক্ষা নেই।ভেবেই রাহি আর নিপার আত্মা শুকিয়ে আসছে। রাহি করুণ স্বরে বলল,
“দয়া করে আমাদের ছেড়ে দিন।আপনারা যা চাইবেন আমরা তাই দিবো,যত টাকা চাইবেন তত টাকায় দিবো।”
“আমাদের টাকার দরকার নেই ,আমাদের দরকার তোদের ওই নরম তুলতুলে শরীর।”
রাহি এবার কিছুটা শক্ত কণ্ঠে বলল,
“যদি নিজেদের ভালো চান তো ছেড়ে দিন।আপনারা জানেন না কার দিকে হাত বাড়িয়েছেন আপনারা।আমার স্বামী কিন্তু এমপি।উনি যদি জানতে পারে তাহলে কিন্তু কাওকেই ছাড়বে না।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৩
রাহির কথা শুনে ছেলেগুলি হেঁসে দিলো। রাহির প্রতিটি কথা তাদের কাছে যেনো কৌতুকের মতো শোনাচ্ছে।রাহিকে পাত্তা না দিয়ে এই বৃষ্টির মাঝেই রাহিকে আর নিপাকে টেনে তাদের গাড়িতে তুলে নিলো। রাহির জন্য ঠিক করা লোক এতক্ষণ তাদের দিকে লক্ষ্য না করলেও গাড়িতে তোলার সময় ঠিকই চোখ আটকে গেলো তার।ততক্ষণে ছেলে গুলো রাহিদের নিয়ে গাড়িতে উঠে গেছে।
গাড়িটা চলতে শুরু করলো। উনিও প্রেমের নাম্বার এ কল দিয়ে গাড়িটিকে ফলো করতে লাগলেন।
