Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৫

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৫

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৫
সুহাসিনী

প্রেম পার্টি অফিসে কাজ করছে। তার মাঝেই ফোনে রিং হতে থাকে। প্রেম কাজে বেস্ত থাকায় প্রথমে কোনো পাত্তা দেয় না এমনকি দেখেও না কে কল করেছে।যখন পরপর দুই বার কল আসে তখন তার ভ্রু জোড়া কুঁচকে যায়। ফোন হাতে নিয়ে দেখে রাহির জন্য ঠিক করে রাখা লোকের নাম্বার থেকে কল আসছে।প্রেম কিছু একটা আন্দাজ করে কল রিসিভ করে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায়।
প্রেমকে ফোন কথা বলতে বলতে বিচলিত পায়ে বেরিয়ে যেতে দেখে লিয়নও দ্রুত পায়ে প্রেমের পিছু নেয়।
ওপাশের লোকটা প্রেমকে সব ঘটনা খুলে বললে প্রেমের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।ফোনের মধ্যেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে লোকটাকে বলে,

“ওর যদি কিছু হয়েছে তোর কলিজা আমি নিজে হাতে ছিঁড়বো কু*ত্তারবাচ্চা।তোকে কি হাওয়া খাওয়ার জন্য রেখেছি ওখানে।”
ওপাশ থেকে কি বললো শুনা গেলো না।প্রেম আবার বলল,
“তুই লোকেশন পাঠা, কুইক।”
বলেই প্রেম ফোন কেটে দিলো। প্রেমের রাগ দেখে লিয়নের সাহসে ধরলো না কি হয়েছে প্রশ্ন করতে।প্রেম এই ঝুম বৃষ্টিতেই ভিজে ভিজে গাড়িতে উঠে গেলো। ড্রাইভার আসার অপেক্ষাও করলো না।লিয়ন গিয়ে প্রেমের পাশের সিটে বসে পড়লো।সে প্রেমকে দেখে ভালোই বুঝতে পারছে কোনো বড়সড় বিপদ হয়েছে হয়তো।
প্রেম আর লিয়ন বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের পিছনে তাদের বডিগার্ড রাও ছুটলো।

রাহি আর নিপাকে নির্জন এক জঙ্গলের ভাঙ্গা একটা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ছেলেগুলো তাদের মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চারপাশে হাঁটছে আর বিশ্রী ভাবে হেসে যাচ্ছে।যা দেখে তাদের দুজনেরই গা গুলিয়ে আসছে।কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।কান্না ছাড়া আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা যে তাদের সামনে খোলা নেই। এখনো বৃষ্টি থামার কোনো নাম গন্ধ নেই।মনে হচ্ছে আজকে যেনো আকাশ তার জমিয়ে রাখা সমস্ত দুঃখ বৃষ্টির মাধ্যমে ঢেলে দিচ্ছে ধরণীতে।
বৃষ্টির পানিতে রাহি আর নিপার স্কুল ড্রেস ভিজে লেপ্টে আছে গায়ের সাথে। এর ফলে তাদের শরীরের সমস্ত ভাঁজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে আর দু হাত দিয়ে নিজের শরীরের উন্মুক্ত ভাঁজ ঢাকতে ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে।
চারটা ছেলের মধ্যে তখন রাহির হাতে চড় খাওয়া ছেলেটা কেমন বিশ্রী ভাবে হেসে রাহির দিকে আঙুল তাক করে বলল,

“আমার যে ওই বাঘিনিটাকে চাই। সবার আগে আমি ওকে টেস্ট করবো পরে বাকিরা তাদের ভাগ বুঝে নিবে। আর ততক্ষণ ওর সাথেরটার স্বাদ ভোগ করতে থাক তোরা।”
বলেই রাহির দিকে এগিয়ে গেলো।রাহি ভয়ে সিঁটিয়ে গেলো।ছেলেটার কথা শুনে বাকি সবাই সায় জানিয়ে হাসতে লাগলো আর লোলুভ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো তাদের দিকে। রাহি আর নিপা মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো। রাহির চোখের সামনে ভেসে উঠলো প্রেমের মুখ।
ছেলেটা যেই রাহির দিকে হাত বাড়িয়ে রাহিকে স্পর্শ করতে যাবে অমনি পেছন থেকে একটা পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এলো।
“নাহ্,কিচ্ছু করবি না ওদের।যদি বাঁচতে চাস তাহলে ছেড়ে দে ওনাদের।”
লোকটার কথা শুনে ছেলেগুলোর কোনো ভাবান্তর দেখা দিল না।সবাই কেমন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে লোকটার দিকে। রাহির লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে।কয়েকবার দেখেছে তাদের স্কুলের সামনে।তাহলে কি উনি তাদের বাঁচাতে এসেছেন।কিন্তু উনি একা এতগুলো ছেলের সাথে করবেন কিভাবে।রাহি বুঝলো তাদের এখন এই সুযোগে এখান থেকে পালাতে হবে।নয়তো এই লোকটাও মরবে আর তাদেরও বাঁচার কোনো রাস্তা থাকবে না।
ছেলেগুলোর মধ্যে একজন বলে উঠলো,

“এই বাল আবার কোন থাইক্কা আসলো, শুধু শুধু ডিস্টার্ব।”
আর একটা ছেলে বললো,
“তুই কে?এই মাল গুলোর জন্য এতো দরদ উতলে পড়ছে কেনো তোর? ওহ বুঝতে পেরেছি,আমাদের থেকে বাঁচিয়ে দুটোকে নিজে এক সাথে ভোগ করতে চাইছিস?সেটা তো হবে না চন্দু। চল আমাদের সাথে যোগ দে, তোকেও ভাগ দিবো নে একটু।”
বলতেই ছেলেটার নাক বরাবর ঘুষি বসালো লোকটা।মুহূর্তেই একটা হট্টগোল লেগে গেলো।এই সুযোগে রাহি নিপার হাত ধরে উঠে দাঁড়ালো।রাহি নিপাকে ফিসফিস করে বলল,
“এই সুযোগ,আমাদের পালাতে হবে।নয়তো আজকে আমাদের ইজ্জত কেউ বাঁচাতে পারবে না।”
নিপাও সায় দিল রাহির কথায়। আস্তে আস্তে তারা পিছনে সরে যেতে লাগলো।দরজার কাছে গিয়ে প্রাণপণে ছোট লাগলো। ছেলেগুলোর মধ্যে একটা ছেলের চোখ পড়ে গেলো তাদের দিকে।সে চিল্লিয়ে বলল,
“শালীরা পালাচ্ছে। ধর শালীদের।”
দুইটা ছেলে রাহিদের পিছু নিলো আর বাকি দুজন মিলে লোকটাকে মারতে লাগলো।লোকটা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হওয়ায় দুজন বেশি সুবিধা করতে পারলো না।কিন্তু হাল ছাড়লো না কেউ।

ঘন জঙ্গল, বৃষ্টির কারণে এবং আকাশ মেঘলা হওয়ায় জঙ্গলটা যেনো আরও ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। থেমে থেমে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
রাহি আর নিপা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তারা জানে না।তারা শুধু জানে এখান থেকে যেভাবেই হোক পালাতে হবে।আশেপাশে না তাকিয়ে দুজন হাত ধরে প্রাণপণ ছুটছে।তাদের পিছনে ছেলে দুটো তাদের ধাওয়া করছে আর হাক ছেড়ে ডাকছে,
“দাড়া বলছি শালী।ধরতে পারলে কিন্তু ছিঁড়ে খাবো।বাঁচতে চাইলে দাড়া এখনোও সময় আছে।”
ছেলেগুলোর গলা তাদের দৌড়ের গতি যেনো দ্বিগুণ করছে।তাদের এক কথা মরে যাবে তবু ইজ্জত দিবে না।
প্রেমরা এসে পৌঁছে দেখে ছেলে দুটো লোকটাকে প্রায় কাবু করে ফেলেছে।কিন্তু প্রেম দের দেখে ছেলে দুটো ঘাবড়ে যায়। তারা ভেবে পাই না একজন এমপি বৃষ্টিতে ভিজে এখানে কি করতে এসেছে।পরক্ষণেই তাদের মনে পড়লো রাহি বলেছিল সে এমপির বউ। এখন তো দেখছে রাহি সত্যি কথায় বলেছিল।তারা প্রেমকে দেখে শুঁকনো ঢোক গিললো।
প্রেম এখানে এসেই আশেপাশে অস্থির ভাবে কাউকে খুঁজতে লাগলো।প্রেম বুঝতে পারল এখানে রাহিরা নেই।প্রেম ক্ষিপ্ত হয়ে একটা ছেলের কলার ধরে চিৎকার করে বলল,

“ওই শুয়োরের দল,ওকে কোথায় রেখেছিস?”
ছেলেটা ভয়ে কাপা কাপা কণ্ঠে বলল,
“কা.. কার কথা ব..বলছেন আপনি স্যার?”
প্রেম রাগে চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টানলো।রাগে প্রেমের কপালের রগ ফুলে উঠেছে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“পার্ক থেকে যেই দুটো মেয়েকে কিডন্যাপ করে এনেছিস তারা কোথায়?ভালোই ভালোই বলে দে,নয়তো তোকে মারার পর বডির এমন অবস্থা করবো কুকুরেও খুঁজে পাবে না হারামির বাচ্চা।”
লিয়ন বুঝল রাহিকে কিডন্যাপ করা হয়েছে আর তার সাথে আর একটা মেয়েকেও।রাহির সাথে অন্য মেয়ে থাকা মানে নীপা এটা সে জানে।তারমানে কি নিপাকেও কিডন্যাপ করেছে।লিয়নের কাছে এখন সব পরিষ্কার।তার বুকের ভেতরটা এবার কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো।নিপার সাথে তার ওইদিনের অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রায় কথা হয়। মেয়েটা যদিও এখনও কিছু শিকার করেনি তবে তার কথায় লিয়ন বুঝতে পেরেছিল যে মেয়েটাও তার প্রতি দুর্বল।
প্রেম রাগে ছেলেটাকে পরপর কয়েকটা পাঞ্চ বসিয়ে দিল। পাশের ছেলেটা প্রেমকে আটকাতে আসলে প্রেমের সাথে থাকা বডিগার্ড গুলো আটকে নেয়।প্রেমের রাগ দেখে ছেলেটা বলে,

“ঐমেয়ে দুটো তো পালিয়েছে স্যার,আমাদের দুটো লোক ওদের ধরতে গেছে।”
প্রেম চোখ বন্ধ করে দু আঙুল দ্বারা কপালের এক পাশ স্লাইড করতে লাগলো।
নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করে বললো,
“কোনদিকে গেছে ওরা?”
ছেলেটা দেখিয়ে দেয় আর বলে,
“এই রাস্তা একদম জঙ্গলের শেষ প্রান্তে গিয়ে থেমেছে। যেখানে আদিবাসীদের বসবাস এবং সেখান থেকে একটা চক্র মানবপাচারকারীদের সাথে যুক্ত। কোনো বুড়ি মহিলাও যদি যদি তাদের হাতে পড়ে তাহলে তারা তাকেও জানোয়ারের মতো ছিঁড়ে খাবে, আর ওই মেয়েদুটো তো কুমারী,ওদের দেখলে তাদের তো হুশ উড়ে যাবে।”
ছেলেটা একদমে কথা গুলো বলে থামলো।সাথে সাথে প্রেম উরাধুরা মারতে লাগলো ছেলেটাকে। আর কিছুক্ষণ এভাবে মার খেলে ছেলেটার প্রাণ চলে যাবে।প্রেম থামলো। কয়েকজন বডিগার্ডদের এখানে থাকতে বলে কয়েকজনকে সাথে নিলো প্রেম।বলে গেলো সে এসে এদের ব্যবস্থা করবে।
বিকাল হয়ে গেছে। বৃষ্টিও কমে এসেছে। ঝিরিঝিরি পড়ছে।আকাশ মেঘলা হওয়ায় বিকাল বেলাও সন্ধ্যার মত লাগছে। আর এটা গভীর জঙ্গল হওয়ায় মনে হচ্ছে রাত হয়ে গেছে,সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেছে।
রাহি আর নিপার দম বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তাদের পিছনে ছেলেগুলো এখনও তাদের পিছু করছে।কিন্তু তারা বহুত দূরে।রাহি নিপাকে বললো,

“আমরা দুজন একি রাস্তায় গেলে ওরা আমাদের সহজে ধরে ফেলবে।দুজন এখন দুইদিকে যাবো,যদি বেঁচে থাকি তাহলে ঠিক এই জায়গায় এসে তোর জন্য অপেক্ষা করব,তুইও করবি।”
“ঠিক আছে,কিন্তু বুঝব কি করে যে এই জায়গায় আসব,জঙ্গলের সব জায়গা তো আমার কাছে একি রকম লাগছে।”
“আমার পায়ের নুপুর আমি এখানে ফেলে যাচ্ছি,আমাদের হাতে বেশি সময় নেয় নিপা,আমার জন্যে তুই এত বড় বিপদে পড়লি, সরি দোস্ত।”
“এখন এসব কথা রাখ,চল পালায়।”
দুজন দুদিকে দৌড় দিল। ছেলেগুলো এসে দুজনের কাউকেই আর দেখতে পেলো না। তাই অপারক হয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য চলতে শুরু করলো,বলল,
“ধরতে পারলাম না,আজকের খাবারটা মিস হয়ে গেলো আমাদের।এখন আমাদের মুখের খাবার ওই রাক্ষস আদিবাসী গুলো খাবে।সামনেই ওদের আস্তানা। আমরা গেলে আমাদেরও মেরে ফেলবে নয়তো পাচার করে দিবে। মেয়ে দুটোকে তো একদিনের জন্য ভোগ করতে নিজের প্রাণ হারাতে পারিনা।কি বলিস।”
“ঠিক বলেছিস।মেয়ে দুটো আমাদের হাতে মরলে হয়তো কষ্ট কম পেতো।এখন যাদের হাতে পড়বে তারা তো জেন্ত কেটে খাবে।”

প্রেম পুলিশকেও খবর দিয়েছে।ওই আদিবাসীদের আড্ডাখানায় একা যাওয়া রিস্ক হবে।জঙ্গলে গাড়ি ঢুকবে না,তাই তারা কতগুলো বাইক নিয়ে রওনা দিল।
প্রেম খুব ভালো বাইক চালাতে পারে।একসময় প্রায় বাইক নিয়ে রেস করতো।এমপি হওয়ার পর থেকে এখন আর ওসব করে না। যদিও বাইক চালানোর দক্ষতা চুল পরিমাণও কমেনি তার।কিন্তু এখন সে বাইক চালানোর অবস্থাতে নেই। চালালে যেকোনো সময় একসিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।তাই অন্যজনের বাইকের পিছনে উঠে বসলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৪

কিছুদূর যেতেই দেখলো দুটো ছেলে আসছে।প্রেম বুঝলো এরায় রাহিদের ধাওয়া করছিল। পুলিশ ছেলেদুটোকে ধরে জিজ্ঞাসাদাব করলে তারা বলে রাহি আর তার বান্ধবী আদিবাসীদের আড্ডাখানায় ঢুকে পড়েছে,তাই তারা আর তাদের ধরতে যায়নি।তারা রাহিদের যেখানে হারিয়ে ফেলেছিল সেখান থেকেই আদিবাসীদের অবস্থান শুরু।গাছের আড়ালে,গাছের ডালে, গর্তে লুকিয়ে থাকে তারা মানুষ ধরার জন্য। তার মানে রাহিরা তাদের আস্তানায় ঢুকে পড়েছে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৬