হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৮
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
মেঘমালা ভেদ করে সূর্যের তীক্ষ্ণ রশ্মি ধরণীতে প্রবেশ করবে করবে ভাব। পূর্ব দিগন্তের লালাভ আভা তা জানান দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। চারপাশের সবকিছু তখন স্পষ্ট দৃশ্যমান।
মাটির রাস্তার কিনারে বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃশান। হাতে স্থান পেয়েছে কিছুক্ষণ আগের দুটো সূর্যমুখী ফুল, যা হুমায়রার হাতে থাকার কথা ছিল। এখন মনে হচ্ছে হুমায়রাকে নিয়ে বেরোনোই তার ভূল হয়েছে। সে ধমকের স্বরে বলল,
“ এই তুই আসবি? নাকি তোকে রেখেই চলে যাব আমি? ”
লতার মতো বিছিয়ে থাকা, সবুজ গাছগুলোর মধ্যে অবহেলায় ফুটে উঠা, ছোট ছোট ভৃঙ্গরাজকে নিজের হাতে সযত্নে তুলে নিতে ব্যস্ত হাতদ্বয় থামল হুমায়রার। স্বামীর কথার পৃষ্ঠে শশব্যস্ত হয়ে উত্তর করল,
“ আরে এইতো হয়ে গেছে আমার। ”
“ একটু আগে তো স্বয়ং সূর্যমুখী কেই নিতে চাইছিলি না এখন পুরো জাত গুষ্টি নিতে লেগে পড়েছিস! তোদের নারী জাতি দের মতিগতি বুঝা মুশকিল! ”
উত্তরে চুপ থাকা ছাড়া কোনো পথ খুঁজে পেলো না মেয়েটা। ওভাবেই আরও কিছু ফুল নিয়ে সেগুলো ব্রেসলেটের মতো পেঁচিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। বলল,
“ চলুন। ”
কথা শেষ করে ব্রেসলেট টা হাতে পড়ার চেষ্টা চালিয়ে গেল। তবে এক হাতে তা করতে সক্ষম হলো না। বারংবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হলো। অগত্যা সামনে দন্ডায়মান পুরুষটির পানে চাইল রমণী। সাথে সাথেই মিলিত হলো দুই জোড়া আঁখি। কৃশান এতক্ষন বিরক্তি নিয়ে তার কান্ডই দেখছিল। সে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ কি সমস্যা? এটা কি বানিয়েছিস! ”
“ এটা পুষ্পবাধুনী, হাতে পড়ার জন্য। ঐ যে ফুলের দোকানে দেখেন না ঝুলিয়ে রাখে কি সুন্দর গাজরা? ওইগুলোর মতো আর কি! একটু বেধে দিবেন? ”
শেষের লাইনটা বলতে গিয়ে কন্ঠ কিছুটা খাদে নামল হুমায়রার। নিশ্চয়ই এখন একটা রাম ধমক খাবে সে। মনে মনে তারই প্রস্তুতি নিতে লাগল। তখনি শুনা গেল মানুষটার বিরক্তি ভরা শক্ত কন্ঠ,
“ তোর কি আমাকে প্রেমিক পুরুষ মনে হয়! ”
“ উহু, আমার তো আপনাকে বখাটে পুরুষই মনে হয়। ”
“ তাহলে এমন আজাইরা আবদার করিস কেন? এসব আমার কাজ না। ”
” এইটুকু করলেই কি আর প্রেমিক পুরুষ হয়ে যায়? আগে তো ইকরা নিজের হাতে বানিয়ে পড়িয়ে দিতো! ”
“ আমি পারিনা এসব। ”
“ ওহ, আচ্ছা তাহলে ফেলে দেই। ”
বলেই সেটাকে ফেলে দিতে নিল মেয়েটা। ওমনিই খপ করে তার হাত ধরে থামিয়ে দিলো কৃশান। বলল,
“ আচ্ছা দে। ”
বলেই বস্তুটি নিয়ে হাতে থাকা সূর্যমুখী ফুল গুলো হুমায়রার হাতে ধরিয়ে দিল। শান্ত চোখে মানুষটার পানে চেয়ে রইল হুমায়রা। পরপর কথা না বাড়িয়ে অপর হাতটা এগিয়ে দিলো। মুহূর্তেই সেথায় স্থান পেল লতাপাতা ও ফুল দিয়ে গড়া একটা জীবন্ত পুষ্পকাঁকন। ফর্সা হাতে ফলুদ ফুলগুলোর উপস্থিতি হাতের মাঝে এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করল। সেদিকে এক পল তাকিয়ে সামন রাস্তার দিকে নজর ফেরাল কৃশান। বলল,
“ চল। ”
“ হুম চলুন। ”
অতঃপর একত্রে পথ চলতে লাগল দুই জোড়া পা। পুরো দুনিয়া যখন নিজেদের ঘুমের রাজ্যে বিভোর তখনই নিজেদের মতো দুনিয়া দেখে চলে গেল তারা। এক স্নিগ্ধ ভোর আর নীরব প্রকৃতি সাক্ষী হয়ে রইল সেই পথচলার। যার প্রতিটি কদমের অন্তরালে বুনিত হলো কিছু বাক্য,
“ পুরো দুনিয়া যখন নিজেদের ঘুমের ঘোরে মত্ত,
কৃশান মির্জা তখন নিজের একান্ত দুনিয়া দেখায় ব্যাস্ত! ”
ঘর বন্দি হয়ে বসে আছে ইকরা। একটু আগেই উমর রুম থেকে বেরিয়ে গেছে। হয়তো বা বাইরের পরিবেশ স্বাভাবিক কিনা সেটা দেখতে গিয়েছি সে। তাকে বলে গেছে সে আসা না অব্দি রুম থেকে বের না হতে। তাই ইকরাও চুপচাপ বসে আছে।
কিছুক্ষনের মধ্যেই রুমে ফিরে এলো উমর। ইকরার দিক নিজের ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ আপনার আম্মাজান কল করেছেন। ”
ফোন কানে নিয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে সালাম চুকল ইকরা। ওপাশ থেকে ভেসে আসলো ইয়াসমিন বেগমের অতি আদুরে স্বর,
“ কেমন আছো মা আমার? ”
“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো আম্মু? ”
মা-মেয়ের কথা বলার মাঝেই রুম ত্যাগ করল উমর। সেদিকে এক পল তাকিয়ে মায়ের কথায় মনোযোগ দিলো ইকরা,
“ ও বাড়িতে কোনো ঝামেলা হয়নি তো? কেউ কোনো খারাপ ব্যবহার করেছে? ”
“ নাহ আম্মু, কেউ কিছু বলেনি তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করোনা। ”
মেয়ের কথায় শান্ত হতে পারলেন না ভদ্রমহিলা। তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন,
“ তোমার শাশুড়ি তোমায় মেনে নিয়েছে? ”
“ জ্বি, ”
“ তুমি মিথ্যা বলছো না তো? ”
“ আরে না, সবাই মেনে নিয়েছে। এমনিতেই এখন একটু রেগে আছে। এসব নিয়ে তুমি চিন্তা করো না তো। আচ্ছা হুমায়রা কোথায়? ”
“ ওঁ তো ঘরে নেই। কৃশানের সাথে কোথায় যেন গেছে। ”
বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল ইকরার। অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বলল,
“ সত্যি? ”
“ হুম। ”
মায়ের জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো এতক্ষণে খুশিতে চেঁচিয়ে উঠতো মেয়েটা। তবে এক্ষেত্রে এসে নিজেকে সামলে নিল।
“ তোকে ঐ বাড়ির সকলে অনেক কথা শুনিয়েছে আমি জানি। তুই বলছিস না আমাকে। ”
আবারও একই কথায় হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল ইকরা। মায়ের কাছে লুকিয়ে লাভ নেই। অগত্যা বলল,
“ আরে এখন সবাই একটু রেগে আছে। কিছুদিন বাদেই ভালো হয়ে যাবে। এসব নিয়ে চিন্তা করোনা তো তুমি। আচ্ছা এখন রাখি। পরে কথা বলবো। ”
দরজার কাছে খাদিজাকে দেখতেই কথার সমাপ্তি টানলো ইকরা। ফোন রেখে এগিয়ে গেল সেদিকে। আর এইদিকে ইয়াসমিন বেগম মেয়ের ফোন রাখার ব্যাস্ততা দেখে নিজের মতো করে কতকিছু ভেবে নিলেন। আর সবশেষে সবটা ক্ষুভ গিয়ে পড়ল নিজের ছেলের উপর।
বাড়িতে ফিরে সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো কৃশান। আর হুমায়রা গেল রান্নাঘরে। বরাবরের মতোই সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাজমিন বেগম ও ইয়াসমিন বেগম। তাকে দেখতেই ইয়াসমিন বেগম গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
” কৃশান কই? ”
“ রুমে। ”
বিনয়ী স্বর হুমায়রার। অথচ উত্তরে কিছুই বললেন না ভদ্রমহিলা। এমনকি রান্নাঘরে থাকাকালীন পুরোটা সময় মুখ ভার করে রাখলেন।
নিত্যদিনের মতো আজকে আর তাড়াহুড়া নিয়ে ভার্সিটির জন্য তৈরি হতে হলো না কৃশানের। বরং রেডি হওয়ার পরও অনেক টাইম বেঁচে রইল। যার দরুণ আজকে ভার্সিটি পৌঁছাতে সবসময়ের মতো লেইট হবে না তার। গায়ে জিন্সের জ্যাকেট জড়িয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ড্রয়িং রুম অব্দি এলো সে। পথিমধ্যে দেখা মিলল ইয়াসমিন বেগমের। ছেলেকে দেখতেই এগিয়ে এলেন ভদ্রমহিলা। আচমকা কেঁদে উঠলেন তিনি। বললেন,
“ তোর কি বিন্দুমাত্র মায়া মমতা নেই পরিবারের প্রতি? কিভাবে পারলি তুই নিজের বোনের বিয়েতে এমন মারপিট করতে? একবার ভাবলি না আমার মেয়েটার উপর দিয়ে কি যাবে! তোর জন্য আজকে শ্বশুড় বাড়ির সবার কথা শুনছে মেয়েটা! এতোটা অমানুষ তুই কিভাবে হলি? ”
কোনোরূপ হেলদোল দেখা গেল না কৃশানের মাঝে। উল্টো বিরক্ত হয়ে বলল,
“ কথা শুনালে এখানে নিয়ে এসো। ওখানে রাখার কি দরকার! আমি আগেই বলেছিলাম ওসব পরিবারে বিয়ে না দিতে। ”
“ তোর কি সবকিছু ছেলেখেলা মনে হয়? বিয়ে, সংসার মানে বুঝিস তুই? সারাটা জনম তো বাপের ঘাড়ে বসে বসে খেয়েছিস- তুই কিভাবে বুঝবি এসবের মূল্য। ”
“ বাপে জন্ম দিছে তাই বাপের টাকায় খাই। ”
“ তোর মতো অমানুষ ছেলেকে জন্ম দেয়াই ভুল হয়েছে আমাদের। মরে যাস না কেন তুই? কত মানুষ মরে তুই মরতে পারিস না! হয় সৃষ্টিকর্তা তোকে নিয়ে যাক নয়তো তোর থেকে আমাকে উদ্ধার করুক। ”
বুক ছিদ্র করার মতো কথাগুলো কতটা দাগ কেটেছে কৃশানের ভিতর বুঝা মুশকিল। কেননা তাকে একদম নীরব দেখা যাচ্ছে। শুধু এক জোড়া শান্ত চোখে দেখে যাচ্ছে নিজের মাকে। সহসা কোনো বাক্য বিনিময় ছাড়াই ইয়াসমিন বেগমকে পাশ কাটিয়ে ধুপধাপ পায়ে বেরিয়ে গেল কৃশান। সেদিকে তাকিয়ে নিজের মতো আরও কত কি বলতে লাগলেন ইয়াসমিন বেগম।
এইদিকে রান্নাঘর থেকে অকস্মাৎ শাশুড়ির এহেন আচরণে রীতিমত আহাম্মক হয়ে তাকিয়ে রইল হুমায়রা। ইকরার ব্যাপারে কিছুই অবগত নয় সে। যার দরুণ কিছুই মাথায় ঢুকল না। পাশে থাকা নাজমিন বেগমের কাছে জানতে চাইলে সব তথ্য খুলে বললেন তিনি। সবটাই মাথায় ঢুকলো। তার শাশুড়ি যে মেয়ের চিন্তা আর রাগের মাথায় যা মুখে এসেছে তাই বলে দিয়েছে বুঝতে আর বাকি রইল না। অতিরিক্ত রাগ উঠলে মানুষের মাথা ঠিক থাকেনা। ইয়াসমিন বেগমের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। কিন্তু এতে কৃশানের উপর কেমন প্রভাব পড়বে- সেটাই চিন্তার বিষয়।
রাত তখন প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। খাটের সাথে হেলান দিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসে আছে হুমায়রা। বারবার চোখ বুঁজে আসছে ঘুমে। তবে অস্থির মন জেগে আছে স্বামীর অপেক্ষায়। সেই যে সকালে রেগে মেগে ঘর থেকে বের হয়েছে কৃশান এখন অব্দি ঘরে ফেরেনি। দুপুর থেকে কাঙ্ক্ষিত মানুষটার বাসায় ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রমণী। অথচ কোনো খুঁজ খবরই নেই তার।
হঠাৎ করে লোড শেডিং এর কারণে অন্ধকার নেমে এলো পুরো রুম জুড়ে। ক্লান্ত আঁখি যুগল আঁধারের সংস্পর্শে আসতেই বুঁজে এলো হুমায়রার। গরম হতে হালকা নিস্তার পাওয়ার সুবিধার্থে হিজাবটা খুলে ঘুমটার মতো করে দিল। পরপরই মাথাটা খাটের সাথে ঠেকিয়ে চোখ বুঁজে নিল। এভাবেই কাটলো আরও কিছুটা সময়।
সহসা অন্ধকার রুমে কিঞ্চিৎ আলোর উৎস নিয়ে টালমাটাল পায়ে ভিতরে প্রবেশ করল কৃশান। ওমনিই লালিত চক্ষুদ্বয় আটকে গেল এক ঘুমন্ত রমণীর পানে।
খাটের সাথে হেলান দিয়ে অসচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে হুমায়রা। যেকোনো সময় মাথাটা হেলে পড়লেই বিছানা থেকে পড়ে যাবে। নিভু নিভু চোখে বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করে সেদিকে এগিয়ে গেল কৃশান। কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ গভীর দৃষ্টিতে পরখ করল ঘুমন্ত স্ত্রীকে। মাথা থেকে উড়না প্রায় সরে গেছে, দৃশ্যমান হয়ে আছে রমণীর ঘন কালো কেশ রাশি। তন্মধ্যে ছোট ছোট কগাছি অবাধ্য কেশ বারান্দার পর্দা ভেদ করে আসা হালকা বায়ুর সংস্পর্শে এসে রমণীর মায়াবী মুখে রাজত্ব চালাচ্ছে। ব্যাপারটা বড্ডো অপছন্দ হলো কঠোর মানবের। সে আলতো হাত বাড়িয়ে সেগুলোকে অযত্নে সরিয়ে দিলো।
ঘুম গভীর না হওয়ায় ঘুমের মধ্যে গালে কারও ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেতেই হালকা নড়ে উঠল হুমায়রা। পিটপিট করে চোখ তুলে তাকাল। সম্মুখপানে কাঙ্ক্ষিত পুরুষকে দেখতেই ঘুম পুরোপুরি ছোটে গেল। সাথে সাথেই বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়াল। ব্যাস্ত কণ্ঠে বলল,
“ আপনি কখন এলেন? ”
কোনোরূপ সাড়া শব্দ মিলল না কৃশানের তরফ থেকে। একেবারে নির্জীব হয়ে রইল সে। তার নেশাক্ত আঁখি যুগল পলকহীন ভাবে দেখতে লাগল সামনের রমণীকে। ফোলা ফোলা গাল, মুখ, চোখে মুখে এখনো ঘুমের আবেশ, সদ্য ফোটা টিউলিপের পাঁপড়ির ন্যায় গোলাপি রঙা এক জোড়া শুষ্ক অধর- সবকিছু মিলিয়ে নেশার মাত্রা মুহূর্তেই বেড়ে উঠল কৃশানের। মস্তিষ্কে খেই হারাল ওমনিই। হাতে থাকা ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল সে। মানুষটার মতিগতি বুঝতে সক্ষম হলো না হুমায়রা। অবাক নেত্র নিক্ষেপ করে বলতে নিল,
“ আপনি……..”
বাক্য সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হলো না মেয়েটা। এর আগেই কৃশানের খড়খড়ে শক্ত হাত তার গলা ছাড়িয়ে ঘাড় স্পর্শ করতেই জবান বন্ধ হয়ে গেল। শ্বাস যেন গলায় আটকে গেল। অজানা শিহরনে শরীরের প্রতিটা লোম কাটা কাটা দিয়ে উঠল। তীব্র গতিতে স্পন্দিত হতে লাগল হৃদয়। হাতের মধ্যে চাপ প্রয়োগ করে হুমায়রার মুখটা একেবারে নিকটে নিয়ে এলো কৃশান। এইদিকে তার থেকে আসা মদের উটকো গন্ধে ভিতর সুদ্ধ নাড়া দিয়ে উঠল হুমায়রার। মেয়েটা থেমে থেমে বলল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৭
“ ক..কি করছেন? আপনি হুশে…..”
এবারও বাক্য শেষ করতে পারল না রমণী। মানুষটাকে নিজের দিকে ঝুঁকে আসতে দেখে আপনা আপনিই চোখ মুখ খিঁচে নিল। দুজনের শ্বাস- প্রশ্বাস বারি খেতে লাগল। দুজনের ঠোঁট জোড়া প্রায় ছুঁই ছুঁই…..
