এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২
সুহাসিনী
প্রেম:”কি আবোল তাবোল বলছো বাবা?আমি আবার কি করলাম? আর তোমার এই বাচ্চাদের মতো কান্না প্লীজ থামাও। খুব অসহ্য লাগছে।”
প্রেমের বাবা এবার নিজেকে কিছুটা গম্ভীর বানিয়ে শক্ত কণ্ঠে বললেন,
“তোমরা যেহেতু দু জনেই এই বিয়েতে রাজি তাহলে আর দেরি করতে চাচ্ছি না।তোমাদের যা অবস্থা দেখছি কখন কী করে বসো বলা মুশকিল।”
প্রেম:”কে বলল তোমাকে আমরা দুজনেই এই বিয়েতে রাজি?”
“রাজি না থাকলে তাহলে তুমি রাহিকে একা রুমে দরজা বন্ধ করে কি করছিলে।আর যা দেখার তা তো আমরা নিজের চোখেই দেখলাম।”
প্রেম:”আমি ওকে জাস্ট বুঝাচ্ছিলাম যেনো বিয়েটা ও না করে।আর রাহিও বিয়েতে রাজি না আমিও না,বুঝলে তোমরা।”
“তোমরা যা করেছো তার পরেও কীভাবে বলো যে তোমরা বিয়েতে রাজি না?লজ্জা করে না তোমার প্রেম?আমার মান সম্মান কিছুই রাখলে না তুমি।”
এবার প্রেম রেগে গেলো।চিৎকার করে বলল,
প্রেম:”এনাফ ইজ এনাফ বাবা।আমি রাহির সাথে কিচ্ছু করিনি। বিশ্বাস না হলে তোমরা রাহিকেই জিজ্ঞেস করো। বাই দ্যা ওয়ে রাহি নিজেই তো আমাকে বিয়ে করতে রাজি না তাহলে কাকে বিয়ে করতে বলছো তোমরা?”
প্রেমের বাবা রাহির দিকে তাঁকিয়ে প্রশ্ন করলেন,
“তুমি কি সত্যিই এই বিয়েতে রাজি না আম্মু?”
রাহি এতক্ষণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল।প্রেম আর তার বাবার কথোপকথন শুনে রাহির বুঝতে বাকি নেই যে এই ছেলেটাই তার এমপি সাহেব।
রাহির ভীষণ লজ্জা করছে কিছুক্ষণ আগের কথা ভেবে।লোকটাকে না চিনেই তার সামনে নিজের মনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা কিছু সুপ্ত অনুভূতি প্রকাশ করে ফেলেছে।
রাহিকে চুপ করে থাকতে দেখে প্রেম কিছুটা খুশিই হলো।প্রেম তার বাবাকে বললো,
প্রেম:”ওর চুপ থাকায় বলে দিচ্ছে যে ও এই বিয়েতে রাজি না বাবা। সো বিয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না।”
“তুমি চুপ করো।যা শোনার টা আমি রাহির মুখ থেকেই শুনবো। আর লাস্ট আরেকটা কথা,তোমার দুজন যদি এই বিয়েতে রাজি নাও থাকো তাহলেও তোমাদের বিয়ে করতে হবে।নয়তো….”
প্রেম:”নয়তো কি?”
“নয়তো তোমাদের পুলিশে দেওয়া হবে।”
প্রেম:”আমাদের অপরাধ?”
“তোমরা বিয়ে ছাড়ায় দুজন এক রুমে দরজা বন্ধ করে খারাপ কিছু করছিলে সেটা আমরা সবাই দেখেছি।”
এবার প্রেমের মা অবাক চোখে স্বামীর দিকে তাকালেন।কি বলে এই লোক।বাবা হয়ে নাকি ছেলের বিরুদ্ধে এতো বড়ো মিথ্যা অপবাদ। প্রেমের মা রাগী কণ্ঠে বললেন,
“কি বলছো তুমি এগুলি?বাবা হয়ে কি করে তুমি তোমার ছেলের ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলছো। শুধু মাত্র নিজের জেদ ধরে রাখতে?”
“চুপ করো তুমি,যা বুঝো না তা নিয়ে কথা বলো না।”
প্রেম:”তোমার যা মন চায় তুমি তাই করো বাবা। যাই হয়ে যাক না কেন আমি এই বিয়ে করছি না।”
প্রেমের কথা শুনে রাহির চোখ দুটো পানিতে ভরে উঠলো।তার এমপি সাহেব তাকে এভাবে রিজেক্ট করতে পারলো।ভেবেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
প্রেমের বাবা প্রেমকে বলে,
“বিয়ে যদি না করতে চাও সমস্যা নেই।তবে তোমার এই অপকর্মের কথা যদি মিডিয়াতে একবার ছড়িয়ে পড়ে ভাবতে পারছ কি হবে তোমার?”
প্রেম কিছু একটা ভেবে শান্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”ঠিক আছে ,আমি বিয়ে করবো তবে একটা শর্ত আছে।”
“কি শর্ত”
প্রেম:”রাহি যদি নিজে থেকে আমাকে বিয়ে করতে রাজি থাকে তবেই আমি তাকে বিয়ে করবো।”
প্রেমের বাবার খুশি এবার দেখে কে। তিনি জানেন রাহি অনেক আগে থেকেই এই বিয়েতে রাজি ।না করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। তিনি রাহিকে জিজ্ঞেস করলেন রাহি বিয়েতে রাজি কিনা।রাহি প্রেমের দিকে তাঁকিয়ে ভাবলো
“যদি এই লোক পরে তাকে বিয়ে না করে তাহলে তো সে বাঁচতে পারবে না।এই লোক তো জানে না যে সেই হচ্ছে রাহির জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।”
রাহি চোখ বন্ধ করে বলে দিলো কে সে বিয়েতে রাজি।
মুহূর্তেই রাগে প্রেমের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।সে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
প্রেম:” এতক্ষণ যাবৎ কি বুঝালাম তোকে । শেষ বারের মতো বলছি,আমার অবাধ্য হোস না ।এর ফল কিন্তু ভালো হবে না ।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১
ভয়ে রাহির গলা শুকিয়ে গেল।কিন্তু সে তার সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়ল না।আগে তার এমপি সাহেবকে নিজের করে পাক।পরে নাহয় রাগ ভাঙ্গানো যাবে। এই ভেবে সে বিয়েতে হ্যাঁ বলে দিলো।
নিরুপায় হয়েই প্রেমকে নিজের এমপি পদ বাঁচাতে বিয়েটা করতেই হলো। তবে কবুল বলার পর আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায়নি প্রেম। সবাইকে ফেলে বেরিয়ে গেছে। রাহি কান্নাভেজা চোখে শুধু প্রেমের বেরিয়ে যাওয়া দেখলো।
