এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১
সুহাসিনী
“করবো না বিয়ে আমি। তোমরা সবাই পাগল হয়ে গেছো। আমার হাঁটুর বয়সী একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করে বলছো আমরা তোর খারাপ চায় না। তোমরা জানো এর জন্য আমার এমপি পদ বাতিল হয়ে যেতে পারে?”
প্রেম রাগে রিরি করতে করতে বললো কথা গুলো। রাগে তার শরীর কাপছে। তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে কিনা তার চাইতে তেরো বছরের কম বয়সি একটা পিচ্চি মেয়ের সাথে।
প্রেম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছিল এক সপ্তাহের জন্য একটা কাজে। বাড়িতে ফিরতেই একটা অনুষ্ঠানের কথা বলে তার বাবা মা তাকে পাঞ্জাবি পড়িয়ে,, সুন্দর করে সাজিয়ে এখানে এনে তার গলায় বাচ্চা ঝোলাতে চাচ্ছে। নাহ্,এটা সে কখনোই মেনে নিবে না।
প্রেম রাগে রুমের বাইরে বেড়িয়ে যেতে চাইলে হঠাৎ একটা মেয়ের সাথে আচমকা ধাক্কা লাগে। এমনিতেই প্রেমের মাথা গরম হয়ে আছে, তার উপর আবার এই পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চির মেয়ে তাকে ধাক্কা দিলো। ধাক্কাটা যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করলো।
রাগে প্রেম তেড়ে গেলো রাহির দিকে। তার আগেই রাহি রাগী কণ্ঠে খেক খেক করে বলে উঠলো,
রাহি:”এইযে মিস্টার দিন কানা, রাত কানা আপনি কি চোখে দেখেন না নাকি? অবশ্য যার দিনকানা এবং রাতকানা দুটো রোগীই আছে তার চোখে দেখা সম্ভব না। যত্তসব কানা এসে জুটেছে আমার বিয়েতে।”
এই মেয়ের সাথে প্রেমের যে বিয়ে ঠিক হয়েছে তা বুঝতে আর দেরি হলো না প্রেমের। প্রেম তো রাহিকে দেখে পুরাই টাশকি খেয়ে চেয়ে আছে। তার সামনে যেনো একটা জ্বলজ্যান্ত পুতুল দাঁড়ানো। পরণে মেরুন রঙের জামদানি শাড়ি। রাগে গাল দুটো লাল হয়ে আছে । প্রেমের ইচ্ছে করলো রাহির গাল টেনে দিতে। তখনই রাহির গলা শোনা গেলো,
রাহি:”আমার পথ ছাড়ুন।আমার ভবিষ্যৎ জামাই যদি জানতে পারে যে আপনি তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জননীকে ধাক্কা দিয়েছেন তাহলে কিন্তু আপনাকে জেলে ঢুকিয়ে দিবে। আফটার অল সে একজন এমপি।”
প্রেম:”আমার বাচ্চা জন্ম দেওয়ার এতোই শখ তোমার? নিজেই তো একটা বাচ্চা ”
রাহি:”আজব তো আমি আপনার বাচ্চা কেনো জন্ম দিতে যাবো? আমি তো আমার এমপি সাহেবের বাচ্চা জন্ম দিবো। আর আমি বাচ্চা না,আমি এখন ক্লাস নাইনে পড়ি বুঝলেন।”
প্রেম:”বাচ্চা পেটে নেয়ার জন্য যে প্রোসেসিং করতে হয় তার লোড নিতে পারবে তো?”
রাহি:”আপনাকে কেনো বলবো।আমার জামাই এর লোড আমি অবশ্যই নিতে পারবো।আপনি জান তো আমার সামনে থেকে।আমার হাতে এতো সময় নেই।”
রাহি চলে যেতে চাইলে প্রেম হঠাৎ করেই তাকে কোলে তুলে নেয়। রাহি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে। যখন দেখলো প্রেম তাকে নিয়ে একটা রুমের দিকে যাচ্ছে তখনই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো,
রাহি:”কে আছো বাঁচাও।আমাকে এই লোক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাঁচাও।”
বাইরে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে প্রেমের বাবা মা রুম থেকে তাড়াতাড়ি বেরোলেন। প্রেমের কোলে রাহিকে দেখে তিনি এক প্রকার অবাক হলেন। যেই দেখলেন প্রেম রাহিকে নিয়ে একটা রুমে ঢুকেছে অমনি তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো।তিনি মনে মনে ভাবলেন,
“এবার কোথায় যাবে বাছাধন।বিয়ে তো এবার তোমাকে করতেই হবে।”
যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি দৌঁড়ে গিয়ে রুমের দরজা বাইরে থেকে লাগিয় দিলেন। প্রেম6শুধু দরজা চাপিয়ে রেখেছিল। রাহি ভেতর থেকে চিৎকার করেই যাচ্ছে আর মুখে যা আসছে তা বলে প্রেমকে গালি দিচ্ছে।
প্রেমের বাবার এমন কাজে প্রেমের মা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি সব ছেলেমানুষী করছ তুমি। প্রেম এমনিতেই রেগে আছে।এখন যদি রাহিকে মারে।”
প্রেমের বাবা মিটিমিটি হেসে জবাব দিলেন,
“তার আগেই যা কাণ্ড ঘটানোর তা আমি ঘটিয়ে ফেলবো।”
বলেই কাকে যেন ফোন করে সবাইকে নিয়ে উপরে আসতে বললেন।
প্রেম রাহিকে কোল থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল,
প্রেম:”তোমার এখনোও বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করো তারপর তোমাকে আমি বিয়ে করবো, কথা দিচ্ছি।”
রাহি রাগে দুঃখে বললো,
রাহি:”ওই শালা, তোকে কে বিয়ে করবে ।আমি তো আমার এমপি সাহেবকেই বিয়ে করবো।তোর মতো খাটাশ বেটাকে আমি বিয়ে করতে যাবো কোন দুঃখে।”
এবার প্রেম রেগে গেলো।তার সব সহ্য হয় কিন্তু বেয়াদবি একদম সহ্য হয় না।তার হাঁটুর সমান বয়সী মেয়ে কিনা তাকে তুই তুকারি করছে, ভাবতেই তার মাথা গরম হয়ে গেলো।
মুহূর্তেই রাহির গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
প্রেম:”চুপ, একদম চুপ।যা বলেছি তাই করবি। বাইরে গিয়ে সবাইকে বলবি যে তুই এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত না। কয়েক বছর পর তুই আমাকেই বিয়ে করবি।
ব্যথায় রাহির চোখ দিয়ে পানি চলে এলো।সে ওই অবস্থাতেই বললো,
রাহি:”করবো না বিয়ে আমি আপনাকে।আমি শুধু আমার এমপি সাহেবের বউ হবো। বুঝেছেন আপনি?”
রাহির এমন কথায় প্রেম কিছুটা শান্ত হলো।
ঠিক ওই সময় রুমের দরজা খুলে সবাই ভেতরে আসলো। প্রেম আর রাহিকে এতো কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রেমের বাবা মনে মনে বললো,
“যতো সাধু গিরি সব আমাদের সামনে আর রুমের মধ্যে আশিক বানায়া গানের শুটিং চালাচ্ছে। যত্তোসব ন্যাকামি।”
এবার তিনি তার নাটক শুরু করে দিলেন। কান্নার ভান করে বললেন,
“এটা তুই কি করলি বাপ।তোর বিয়ে তো আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম।আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারলি না?”
সব কিছু প্রেম আর রাহির মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
