এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৬
সুহাসিনী
রাহিকে শক্ত ভাবে চেপে ধরে শক্ত কণ্ঠে বললো,
“খুব শখ হয়েছে না জামাই থাকতেও অন্য একজনকে বিয়ে করার?”
রাহিও সাবলীল ভাবে উত্তর করলো,
“হ্যাঁ হয়েছে,তাতে আপনার কি? আর কে বলেছে আমার জামাই আছে,আমার কোনো জামাই নেই,আমি পিউর সিঙ্গেল মানুষ।”
“একটু আগে তো নিজেই স্বীকার করলে।”
“কি স্বীকার করেছি?”
“আমি তোমার ভাতার লাগি।”
“ভাতার লাগেন বলেছি,জামাই লাগেন এটা তো বলিনি।”
“ভাতার আর জামাই কি আলাদা জিনিস ম্যাডাম?”
“হ্যাঁ স্যার,ভাতার আর জামাই আলাদা জিনিস,জামাই মানে হচ্ছে জামাই আর ভাতার মানে হচ্ছে বড় ভাই। সো,আপনি আমার বড় ভাই লাগেন।”
রাহির এমন যুক্তিহীন উত্তরে প্রেমের চোয়াল ঝুলে গেলো।
রাহি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে।
এর মাঝেই প্রেম বললো,
“ইউ নো,আজকে তুমি কয়টা ভুল করেছো?এখন আমি সব গুলো ভুলের এক এক করে শাস্তি তোমাকে দিবো।”
“ভুল করেছি বেশ করেছি, আরও ভুল করবো,আপনার শাস্তি দেখে আমি ভয় পায় নাকি।”
বলেই রাহি নিজের হাতের এক আঙ্গুল দ্বারা নাকের ডগায় পরপর দুইবার ঘষা দিলো।রাহির কান্ড দেখে প্রেমের কেনো জানি হাসি পেলো,কিন্তু তা প্রকাশ করলো না।এমনিতেই যা সাহস বেড়েছে তার অবাধ্য বউ এর এখন যদি সে এই মুহূর্তে হেসে দেয় তাহলে এই মেয়ে আরও পেয়ে বসবে।তাই প্রেম মুখ ভঙ্গিমা স্বাভাবিক রেখে বলল,
“সেটা না হয় শাস্তি দেওয়ার সময়ই টের পাবেন ম্যাডাম।আপনার ক্ষেত্রে শাস্তি টা কিন্তু একটু অন্য রকম জানেন তো।”
প্রেমের কথা বলার টোনে রাহির ভেতর কিছু একটা হলো।প্রেমের দৃষ্টি কেমন অস্থির।রাহি বোধহয় এবার বুঝলো প্রেমের ফন্দি,কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। প্রেমে ডান হাত চলে গেছে রাহির সরু কোমড়ের ভাঁজে, আর বাম হাত গলিয়ে দিয়েছে রাহির মসৃণ চুলের মাঝে।এতে করে রাহির হাত খোপা করে রাখা চুল গুলো সযত্নে ছড়িয়ে পড়ল পিঠে। রাহির সারা অঙ্গ কাপছে।চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে।প্রেমের উন্মাদনা সম্পর্কে সেদিন হাসপাতালে অবগত হয়েছে সে তার উপর আজকে প্রেম খানিকটা রেগে আছে।আজকে প্রেম কতটা উগ্র হবে কে জানে।এসব ভাবতেই আবার কেঁপে উঠলো রাহি। পরক্ষণেই তার কানের কাছে প্রেমের গানের গলা শুনতে পেলো,
হালকা হাওয়ার মতন
চাইছি এসো এখন,,
করছে তোমায় দেখে__
অল্প বেইমানী মন,,
বাঁধবো তোমার সাথে
আমি আমার জীবন__
গানের লাইন শেষ করেই প্রেম রাহির কানের লতিতে হালকা করে কামড় বসালো।রাহি নিজেকে আর স্থির রাখতে না পেরে প্রেমের শার্ট খামচে ধরলো।এতে করে প্রেম যেনো বিনা বাক্যেই অনুমতি পেয়ে গেলো তার বেগমজানের কাছ থেকে।
প্রেম ধীরে ধীরে নাক ডুবিয়ে রাহির ঘাড়ে।এমন কামকাময় স্পর্শে রাহির ছোট্ট শরীর কেমন নেতিয়ে গেলো,প্রেমের মাঝে ঢুকে যেতে চাইছে সে।এতো ভালোবাসা সে সহ্য করতে পারছে না।প্রেমের স্পর্শ ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে।প্রেম তার ডান হাত দিয়ে রাহি কোমড় পেঁচিয়ে ধরে রাহিকে শূন্যে তুল নিলো।ভয়ে রাহি শক্ত করে প্রেমকে জাপটে ধরলো। রাহির নিষিদ্ধ কিছু অঙ্গের ছোঁয়ায় প্রেম দ্বিগুণ মাতোয়ারা হয়ে উঠলো। রাহিকে শূন্যে তুলেই রাহির ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নিলো।
ধীরে ধীরে হেঁটে বিছানার কাছে গিয়ে রাহিকে বিছানায় বসালো ঠিকই কিন্তু রাহির ঠোঁট প্রেমের কাছ থেকে ছাড়া পেলো না।প্রেম সমান তালে ঠোঁটে লেহন দিচ্ছে আবার মাঝে মাঝে আস্তে করে কামড় বসাচ্ছে।
রাহির এবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে,প্রেমকে সরানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না।রাহির চোখ বেয়ে এবার পানি গড়িয়ে পড়লো।সেই পানি প্রেমের গালে লাগলে প্রেমের হুশ ফিরে। রাহির ঠোঁট ছেড়ে দেয়।ছাড়া পেয়ে রাহি জোরে জোরে দম নিচ্ছে।প্রেম রাহির শুধু ঠোঁট ছেড়েছে ঠিকই কিন্তু রাহিকে আগের মতোই নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে।প্রেম শান্ত কন্ঠে বললো,
“শাস্তির প্রথম ডোজ কেমন লাগছে বেগমজান?”
“আ… আপনি খুব বা..বাজে এমপি সাহেব।”
“জানি তো বউ, এখন এই বাজে টাকে একটু সয়ে নাও। চলো শাস্তির দ্বিতীয় ডোজ শুরু করি।”
প্রেম যেই রাহির বুক থেকে উড়না সরাতে যাবে ওমনি দরজায় কারো করাঘাত শোনা যায়।
“দরজা খোলো প্রেম।কথা আছে তোমার সাথে।”
আমজাদ খানের ডাকে প্রেম বিরক্ত হয়।এই প্রথম বোধহয় কোনো বাবা তার ছেলে যখনই বাসর বা রোমান্স করতে যায় তখনই বাগরা দিতে চলে আসে। আমজাদ খান এই নাগারে ডেকে যাচ্ছে আর দরজায় আঘাত করছে।উনার ডাকে প্রেম দরজা না খুলে পারলো না।প্রেম দরজা খুলতেই সুযোগ বুঝে প্রেমের পেছন থেকে তার হাতের নিচ দিয়ে এক দৌঁড়ে রাহি বাইরে বেরিয়ে যেতে চাই,কিন্তু দৌড় দেওয়ার আগেই প্রেমের হাতে আটকা পরে।প্রেম জানত তার বউ তার অবাধ্য হবেই।তাই আগে থেকেই হুশিয়ার ছিল।প্রেমকে দেখে আমজাদ খান শক্ত কণ্ঠে বললো,
“রাহিকে আটকে রেখেছ কেনো?”
“আটকে না রেখে বাইরে ছেড়ে রাখি যেনো আরও কয়েকজন আমার বউ এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে আর তুমি তাদের আদর যত্ন করে গেলাও।”
“আমি কি জানতাম নাকি ওরা আগে থেকেই রাহিকে চিনে। যাই হোক,আমার রাহির সাথে কথা আছে,ওকে আমার রুমে পাঠাও।”
“পারবো না,এখন ওর সাথে আমার বুঝাপড়া আছে।আমি এখন ওকে শাস্তি দিচ্ছি।”
“কি শাস্তি দিচ্ছ তুমি এই বাচ্চা মেয়েটাকে?বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু আমি সত্যি সত্যি রাহিকে সাঈদ চৌধুরীর হাতে তুলে দিবো প্রেম।”
“সেটার শাস্তিই এখন ও পাবে। আর কি শাস্তি দিচ্ছি সেটা দাদু হলেই টের পাবে।”
বলেই মুখের উপর দরজা আটকে দেয় প্রেম।রাহি কিছু বলবে কিন্তু প্রেম তার মুখ আটকে রেখেছে হাত দিয়ে।
প্রেমের কথা না বুঝেই আবার দরজায় ধাক্কাতে লাগলো আমজাদ খান।যখন প্রেমের কথার মানে বুঝলো তখন তার হাত থেমে গেলো।নিজে নিজে বিড়বিড় করে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বললো,
“না না এই ছেলে কোনো ভাবেই আমার ছেলে হতে পারে না। আল্লাহ্ যখন সবাইকে লজ্জা সরম বিলি করছিল তখন মন হয় এই ছেলে কোথাও ঘুরতে চলে গিয়েছিল,তাই লজ্জা শরমের ছিটে ফোঁটাও নেই এর মধ্যে।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৫
প্রেম রুমে এসে রাহিকে ছাড়তেই রাহি এক লাফে খাটের উপরে উঠে গেলো।প্রেমের দিকে একের পর এক বালিশ ছুঁড়ে মারছে রাহি।প্রেম মুচকি হেঁসে বলল,
” যতোই করো বাহানা, যতোই করো না না না,কাছে তো আজকে তোমাকে আসতেই হবে বেগমজান।”
