এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৫
সুহাসিনী
শান্তর এই আজগুবি গান প্রেমের রাগে ঘি ঢালার মতো কাজ করলো।।প্রেম রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পাশে বসা রাহির হাত সজোড়ে চেপে ধরলো। ব্যথায় রাহি ছটফট করে উঠলো।প্রেমের রাগের কারণ সে বুঝতে পারলো। সেও তো নিরুপায়।ব্যথায় রাহির চোখ জোড়া ছলছল করে উঠলো।প্রেমের অগ্নি ঝড়া চোখ যখন রাহির শান্ত করুন দৃষ্টি দেখলো তার রাগ কেমন হিম শীতল হয়ে এলো।সে বুঝতে পারলো নিজের অজান্তেই রাহিকে সে ব্যথা দিয়ে ফেলেছে।প্রেম ছেড়ে দিলো।রাহি খুব সূক্ষ্ম ভাবে সবার অগোচরে নিজের চোখ মুছে নিলো।
আমজাদ খানকে কোনো কথা বলতে না দেখে আজিজ চৌধুরী বললেন,
“কথা বলছেন না কেনো মিস্টার খান?আমার ছেলেকে কি আপনার পছন্দ হয়নি?না হওয়ার তো কোনো কারণ দেখছি না।”
“আসলে আপনারা হয়তো জানেন না রাহির মা মারা যাওয়ার আগে ওর দায়িত্ব আমার হাতে তুলে দিয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু ওর বিয়ের জন্য পাত্র উনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন।এখন শুধু রাহির বয়স হলে তার হাতে রাহিকে তুলে দেওয়া আমার কর্তব্য।”
মুহূর্তে সাঈদের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
“কে সেই ছেলে?”
আমজাদ খান এই ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে কোনরকম বানিয়ে বললেন কথাটা। সাঈদের মুখভঙ্গিমা দেখে উনি প্রেমের পানে তাকালেন।প্রেমের রাগ সম্পর্কে তিনি অবগত। তিনি আর ঝুঁকি না নিয়ে বললেন,
“ছেলেটা হলো…
“ছেলেটা বিদেশ থাকে, রাহির বয়স হলে এসে বিয়ে করে নিয়ে চলে যাবে।”
আমজাদ খানের কথার মাঝে শান্তর এমন উক্তিতে হতভম্ব সবাই।আমজাদ খান, প্রেম,রাহি,আয়েশা সবাই এক সাথে শান্তর দিকে তাকালে শান্ত বোকা বোকা হেসে বললো,
“ঠিক বললাম না মামা।”
আমজাদ খান কথা বাড়ালেন না, তিনি মাথা নাড়িয়ে সায় জানালেন।
প্রেম রাগে গজগজ করছে। সাঈদ রাহির দিকে তাকিয়ে বললো,
“তুমি কি সেই ছেলেকে বিয়ে করতে মন থেকে রাজি?নাকি নিজের মায়ের কথা রাখতে বিয়ে করবে তাকে?”
আবার শান্ত কথার মাঝে ঠেং ঢুকিয়ে বললো,
“বলো রাহি বোন আমার,তুমি চাইলে ওই বিদেশের ছেলেকে সাঈদ ভাই লাথি মেরে উড়িয়ে তোমাকে বিয়ে করে নিবে।আমাদের সাঈদ ভাই কিন্তু অনেক জেন্ট্যাল, কারো মতো ঘাউরা না।”
শেষের কথাটা প্রেমের দিকে তাকিয়ে বললো।রাহির কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“অনেক টাকা আছে বেটার,প্রেমের মতো কিপ্টা না।বিয়ে করে নাও, পরে কিছু টাকা আমাকেও দিও।”
বলেই দাঁত বের করে দিল।রাহি নির্বিকার।
প্রেমের আর সহ্য হচ্ছে না।সে জায়গা ছেড়ে উঠে সিঁড়ি বিয়ে উঠতে উঠতে বললো,
“আমার কাজ আছে,আমি গেলাম। রাহি,আমার জন্য একটা কফি নিয়ে আমার রুমে এসো, ইমিডিয়েটলি।”
প্রেম চলে গেলো। সাঈদ রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“রাহি কেনো উনার জন্য কফি নিয়ে যাবে?বাড়িতে কি কাজের লোকের অভাব?”
আমজাদ খান বললেন,
“রাহি তো প্রেমের কাজিন হয়,তাই বড় ভাইয়ের মতই বলেছে আর কি। আর প্রেম কাজের লোকের হাতের কপি পছন্দ করে না।”
আবার নিজেকে প্রেমের কাজিন বলায় রাহি তেতে উঠলো।সে কফি বানাতে যেতে যেতে বললো,
“আমার যখন কোনো সমস্যা হচ্ছে না উনার জন্য কফি নিতে আপনার কেনো এতো সমস্যা হচ্ছে ভাইয়া? আর আমাকে বিয়ে করতে চান তো?সমস্যা নেই আমি আপনাকে পরে জানিয়ে দিবো আমার মায়ের পছন্দের ছেলেকে আমার পছন্দ কিনা।”
রাহি চলে গেলো। সাঈদ মনে মনে ভাবলো,
“কাজিন হলেই কি এতটা ক্লোজ হতে হবে।দুজনের তো বয়সের অনেক ডিফারেন্স ।”
আমজাদ খান এই বিষয়ে আর কথা বাড়ালেন না।শেষে শুধু এতটুকুই বললেন,
“এখানে তো আমার কোনো হাত নেই,রাহি তো নিজে রাজি কিনা সেটায় জানালো না।”
“আচ্ছা সমস্যা নেই,এই বিষয় নিয়ে তাহলে অন্য একদিন বসা যাবে।”
আজিজ চৌধুরীর কথায় আমজাদ খান যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।
“এই নিন আপনার মতো কফি।আজকে থেকে আপনি আমার কাছে আসবেন না ভাইয়া?”
প্রেম অবাক চোখে তাকালো রাহির দিকে,
“হোয়াট ভাইয়া?”
“আপনি আজকে থেকে আমার বড় ভাই।”
“তোমার মাথার তার কি কিছুদিন পর পর ছিঁড়ে যায় নাকি? রাবিশ।”
“আপনি রাবিশ,সবার সামনে যখন আমাকে কাজিন বলে পরিচয় দেন তখন আমার কেমন লাগে বুঝেন,যখন সবাই আপনাকে আমার বড় ভাই বানিয়ে দেয় তখন আমার বুকে তীরের মতো আঘাত লাগে,এটা বুঝেন আপনি?”
“কেনো কষ্ট লাগে তোমার?আমি তোমার কে হয়?”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৪
“ভাতার লাগেন আপনি আমার, হয়েছে এবার । যত্তোসব।”
রাহি কফির মগ রেখে চলে যেতে নিলে প্রেম আটকে নেয়। রাহিকে নিজের কাছে এনে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“খুব শখ হয়েছে ওই সাঈদের সামনে যাওয়ার, সেকেন্ড টাইম যদি ওই লোকের সামনে যেতে দেখি ঠেঙ্গ ভেঙে বিছানায় ফেলে রাখবো।”
“এহহ,নিজে যা করবে তা সই, আর আমি কিছু করতে গেলেই দোষ,বেশি করলে না এক্ষুনি গিয়ে বিয়েতে রাজি হয়ে যাবো,তখন আপনি দেবদাস হয়ে বসে বসে গান গায়েন।”
