Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৮

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৮

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৮
সুহাসিনী

“এই বজ্জাত ছেলে, কোথায় আছো তুমি?”
“যেখানে থাকার কথা।”
“রাহি আম্মু যা বলছে তা কি সত্যি?”
“তোমার গুণবতী বউমা যা বলে তাই তো সত্যি মনে হয় তোমার কাছে,তাহলে এটা কেনো মিথ্যা হতে যাবে।”
“ছিঃ প্রেম,তুমি এতটা নিচে নেমে গেছো,তোমাকে এই দিন দেখার জন্য তোমাকে মানুষ করেছি,বেয়াদব ছেলে।”
“শুধু শুধু কল দিয়ে ডিস্টার্ব কেনো করছো আব্বু,আমাকে আমার কাজটা করতে দাও শান্তি মতো, একটা ইমপোর্টেন্ট কাজে এসেছি।”

“তুমি যে কি ইমপোর্টেন্ট কাজে গেছো সেটা তো বুঝতেই পারছি,আজকে তুমি শুধু বাসায় আসো।”
“রাতে বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছি নাকি। যাই হোক, ডোন্ট ডিস্টার্ব মি।”
বলেই কল কেটে দিলো প্রেম। রাহি চোখ বড় বড় করে কোমড়ে হাত ধরে দাঁড়িয়ে প্রেমের প্রতিটা কথা খুব মনোযোগ সহকারে শুনলো।তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে খুব রেগে আছে।
রাহি চোখ গরম করে আমজাদ খানের দিকে তাকাতেই আমজাদ খান আমতা আমতা করে বললেন,
“অ.. অনেক রাত হয়েছে রাহি আম্মু, যাও শু..শুয়ে পড়ো এখন, কাল প্রেম এলে এর একটা বিহিত করবো।”
রাহি আরও রাগে তাকালে আমজাদ খান নিজের কোমড় ধরে বললেন,
“উফফ..মা গো,কি ব্যাথা, এই ছেলের টেনশনে মনে হয় কোমরের ব্যথাটা বাড়লো আমার, আফরোজা এসো তো কোমড় টা একটু মালিশ করে দিবে।”

বলেই আর এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করে নিজের রুমে এক প্রকার দৌঁড়ে চলে গেলো। আফরোজা খান ও পরিস্থিতি বুঝে কেটে পড়লেন।
রাহি বেচারা আয়েশার দিকে কটমটিয়ে তাঁকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“টেনশনে কোমড় ব্যাথা হয়, ভালো। সবার ব্যথা আমি বের করবো।”
বলেই নিজের রুমে ঢুকে ঠাস করে ডোর লাগিয়ে দিলো। আয়েশা কিছুটা কেঁপে উঠলো,তবুও তার জানি কেনো হাসি পাচ্ছে খুব।তারপর নিজ মনেই ভাবলো,
“এরকম সিরিয়াস মুহূর্তে আমার হাসি পাচ্ছে কেনো?আমি কি সারাদিন শান্ত ভাইয়ের কথা ভাবতে ভাবতে ওর মতো হয়ে যাচ্ছি নাকি, কোনো কিছুই আজকাল সিরিয়াসলি নিতে পারছি না।”
ফোস করে শ্বাস ছেড়ে সেও নিজের রুমে চলে গেলো।

রাহি রুমে এসে রাগে ফুঁসছে।রাগ কমার বদলে তরতর করে বাড়ছে।তার মাথা কাজ করছে না। এইসময় রাহির চোখ পরল বিছানার একপাশে পড়ে থাকা প্রেমের শার্টের উপর। যেটা প্রেম কিছুক্ষণ আগে রাহীর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগ মুহূর্তে পড়েছিল।
এটা দেখে রাহির রাগ আরো বেড়ে গেল। রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে শার্ট টা নিয়ে কাচি বের করে ফ্লোরে বসে কুচি কুচি করলো। প্রেমের এতো দামি ব্র্যান্ডের শার্ট মুহূর্তেই টুকরো টুকরো করে ফেললো । এতেও রাহি দমলো না।উঠে গেলো আলমারির কাছে। আলমারি খুলে প্রেমের সকল জামাকাপড় বের করে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেললো।একটা কাপড়ও রাখেনি আলমারিতে। এরপর নিজের কাজ শুরু করলো।এক এক করে প্রেমের দামি দামি সব শার্ট, টি শার্ট , প্যান্ট, পাঞ্জাবী নিচ্ছে আর কাঁচি দিয়ে ইচ্ছেমতো কুচি কুচি করছে। সকল রাগ এখন সে প্রেমের এই জামাকাপড়ের উপর দেখাচ্ছে।প্রেমকে না পেয়ে প্রেমের জামা কাপড়ের অবস্থা খারাপ করছে, আর প্রেমকে এখন হাতের কাছে পেলে কি যে করতো আল্লাহ্ মালুম জানে।
রাহির সবগুলো ড্রেস নষ্ট করার পর ক্লান্ত হয়ে কাদতে কাদতে কাপড়ের টুকরোর উপরেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। পুরো রুম জুড়ে শুধু কাপড়ের টুকরো।যে কেউ রুমে আসলে মনে করবে তারা কোনো গার্মেন্টস এর কাটিং ফ্লোরে চলে এসেছে।

রাত প্রায় তিনটা নাগাদ। প্রেম বাড়িতে এসেছে।নিজের রুমের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিতেই দেখে ভেতর থেকে বন্ধ।বুঝতে পারল তার বাচ্চা বউ রাগ করেছে।রাগ করাটা স্বাভাবিক।সে জানে রাহি এখন ঘুমাচ্ছে। শত চেষ্টা করেও মেয়েটা বেশি রাত অব্দি জাগতে পারে না। এমনিতেই রাহি রেগে আছে তার ওপর যদি প্রেম এখন ঘুম ভাঙ্গায় তাহলে রণচন্ডীর রূপ ধারণ করবে সেটা প্রেম জানে। তাই রাহিকে না জাগিয়ে রুমে যাওয়ার জন্য চাবি বের করলো পকেট থেকে।প্রেমের কাছে তার নিজের রুমের ও বাড়ির এক্সট্রা একটি করে চাবি সবসময় থাকে।
রুমের দরজা আস্তে করে খুলে রুমে ঢুকে আবার দরজা লাগিয়ে দিলো প্রেম।ঘরে ঢুকতেই পায়ের কাছে নরম কিছু ঠেকলো। রুমের ডিম লাইট অন থাকায় ফ্লোরের দিকে বেশি খেয়াল করলো না।সে এগিয়ে গেলো।তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো সে যতো এগোচ্ছে,পায়ে নরম কাপড়ের মতো কিছু একটা আটকাচ্ছে। হঠাৎ শক্ত কিছু পায়ে ঠেকলো।প্রেম আগে রুমের লাইট দিলো। ফ্লোরের দিকে কপাল কুচকে তাকাতেই ঠোঁট দুটো আপনা আপনি ফাঁক হয়ে গেলো। চোঁখ দুটো না চাইতেও বড় বড় হয়ে গেলো।

সারা রুমে তার শখের নামি দামী ব্র্যান্ডের কাপড়চোপড় টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে। আর সে সবের মাঝখানে হাতে কাচি নিয়ে কেঁদে ঠোঁট মুখ ফুলিয়ে ফেলা তার বাচ্চা অবাধ্য বউ নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।
প্রেম নিজের জিনিসের এরকম অবস্থা দেখে চোখ বন্ধ করে দুই আঙ্গুল দিয়ে কপাল স্লাইড করতে লাগলো।কিছুক্ষণ জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে রাহির কাছে এগিয়ে গেলো। রাহিকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে পুরো রুম ঝাড়ু দিয়ে সব নিজে হাতে পরিষ্কার করলো। রাহির জন্য তার যে জীবনে আর কি কি করতে হবে আল্লাহ জানে। যেই ছেলে নিজে এক গ্লাস পানি তুলে খায় না সে কিনা আজ ঘর ঝাড়ু দিলো। ভাবতেই প্রেমের অবাক লাগছে।এই মেয়ে তাকে কি বানিয়ে ছাড়লো।
প্রেম ফ্রেশ হয়ে রাহির পাশে বসে তার ঘুমন্ত ঘুখবয় এর দিকে পলকহীন তাঁকিয়ে শান্ত কণ্ঠে শুধাল,
“কি আছে তোমার মধ্যে?কেনো তোমাকে দেখলেই আমি শত রাগের মাঝেও হিমশীতল এর মতো ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কি জাদু করলে আমায় বেগমজান?”
রাহি কারো ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শে ঘুমের মধ্যেই নড়ে উঠল।কিন্তু ঘুম ভাঙলো না। প্রেম রাহির গালে হাত রেখে রাহির কপালে হালকা পবিত্র প্রেমের চিহ্ন একে দিলো। এরপর রাহির পাশে শুয়ে রাহিকে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিজেও ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো।

শ্বাস আটকে আসছে রাহির।মনে হচ্ছে সে এখন যেখানে আছে সেখানে অক্সিজেনর চরম ঘাটতি।দম নিতে না পেরে আর নিজেকে শক্ত কিছুর মাঝখানে আবদ্ধ অনুভব করে ঘুম ছুটে গেলো তার। চোখ খুলে দেখলো প্রেম তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আরাম করে ঘুমাচ্ছে, এদিকে যে তার জীবন যায় যায় অবস্থা সেদিকে এই লোকের কোনো খেয়াল নেই। সারারাত অন্য মেয়ের সাথে কাটিয়ে এসে এখন তাকে জড়িয়ে শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে।
“দাঁড়ান আমি আপনাকে জন্মের ঘুম পাড়াচ্ছি।”
বলেই প্রেমের খোলা বুকে দাঁত বসিয়ে দিলো। হঠাৎ ঘুমের মধ্যে আক্রমণে প্রেম ধড়ফড়িয়ে উঠলো। রাহির রাগান্বিতো চেহারা দেখে ব্যাথা টুকু গিলে নিলো।
শক্ত কণ্ঠে বললো,
“কি হচ্ছে কি এসব? সাত সকালে পাগলের মতো কামড়াকামড়ি শুরু করেছো কেনো? পাবনা যাওয়ার শখ জেগেছে?”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৭

“পাবনা না,আমি তো আপনাকে আজকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাবো, খবিশ এমপি। লুচ্চা বেডা।ঘরে বউ এর সাথে মেলামেশা করে আবার বাইরে গিয়ে ফষ্টিনষ্টি করে আসে।আজকে যদি আপনাকে আমি সারাজীবনের মতো অক্ষম না করি তাহলে আমার নামও রাহি না।আজকের পর থেকে অন্য মেয়ে কেনো নিজের বউ এর কাছে আসতেও ভয় পাবেন আপনি।”
বলেই রাহি শুয়া অবস্থাতেই প্রেমের গোপনাঙ্গ বরাবর দিলো সজোড়ে এক লাথি। সম্ভবত ক্ষমতা হারানোর মতোই লেগেছে লাথিটা।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৯