Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫৩
সুহাসিনী

ছাড়া পাওয়ার জন্য রাহি ছটফট করছে। প্রেমের তপ্ত নিঃশ্বাস এসে আঁচড়ে পড়ছে রাহির মুখে। রাহির দম আটকে আসছে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর প্রেম ছেড়ে দিলো রাহিকে। ছাড়া পেয়ে রাহি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। প্রেম রাহির ঠোঁট ছেড়ে কানের লতিতে হালকা কামড় দিয়ে শীতল কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

“এতো ছটফট কেনো করছো বেগমজান? পালানোর পাঁয়তারা করলে তা চিরতরে ভুলে যাও।”
প্রেমের এহেন কথায় রাহি জমে গেল।রাহি প্রতিত্তর করলো না, ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। প্রেম রাহির চুলে নিজের হাত গলিয়ে গলায় মুখ ডুবালো। রাহি খামচে ধরলো প্রেমের শার্ট।
প্রেম যেনো আরও সুযোগ পেলো।নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে রাহিকে নিজের মাঝে আঁকড়ে ধরলো। অতি আবেশে রাহির চোখজোড়া আপনাআপনি বন্ধ হয়ে এলো।প্রেম এক হাতে রাহির কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে,তার অন্য হাত বিচরণ করছে রাহির সিল্কি চুলের মাঝে।
ধীরে ধীরে সে রাহির গলা থেকে মুখ তুললো।আলতো করে রাহির ললাটে একে দিলো ভালোবাসাময় স্পর্শ। রাহি চোখ খুলে প্রেমের ওই নেশাক্ত চোখে নিজের দৃষ্টি ফেললো।রাহিকে কেমন যেন টানছে ওই অতি মায়াবী এবং রহস্যময় চোখজোড়া।রাহি কাপা কাপা কণ্ঠে মিনমিন করে বলল,
“আ..আমি কিন্তু রাগ করেছি আপনার সাথে এমপি সাহেব। তাই একদম আ..আমার সাথে অন্য কি..কিছু করতে পারবেন না।”
রাহি কথা গুলিয়ে ফেলছে এই মুহূর্তে।মনে হচ্ছে তার মাঝেও জেঁকে বসেছে ভালোবাসার ক্ষিদে। প্রেম রাহিকে আরও জোরালো ভাবে কোমড় চেপে ধরে অন্যরকম নেশালো স্বরে হিম করা কণ্ঠে বললো,

“রাগ যদি সত্যিই থাকে, তবে শাস্তি দিও।শুধু আমাকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে দিও না, বেগমজান।”
রাহি জমে গেল। কিছু বলতে পারল না এরপর।সযত্নে মুখ গুজলো প্রেমের বুকে। মিনিট খানেক পরে প্রেম রাহির চিবুক ধরে ওর মুখ উপরে তুলল। কানের লতিতে চুমু দিয়ে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিলো। রাহি দুহাতে প্রেমের গলা জড়িয়ে ধরলো কিন্তু বাঁধা দিলো না কোনো প্রকার।আজ কেনো জানি তারও নিজের ব্যক্তিগত পুরুষটাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করছে। রাহির গাল দুটো লাল টমেটো হয়ে গেছে এতক্ষণে। প্রেম রাহিকে বিছানায় আলতো করে শুইয়ে দিয়ে রাহির উপর ঢুকে শান্ত কণ্ঠে বললো,

“টমেটো সস ক্ষেতে আমার কিন্তু দারুণ লাগে।”
রাহির গালজোড়া যেনো আরও গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করলো। প্রেম একের পর এক চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলো রাহির গালে। মুখের এমন কোনো অংশ বাদ নেয় যেখানে প্রেম নিজের ঠোঁট ছোয়ায়নি। রাহির গলায় মুখ গুঁজে বললো,
“আজকে যখন শাড়ি পড়েছিলে তখন কীভাবে যে নিজেকে সামলেছি সেটা শুধু আমি আর আমার খোদা জানি। ওই অনুষ্ঠানে লোক না থাকলে আই সোয়ার তোমাকে এতক্ষণ অপেক্ষা করাতাম না।”
রাহির কান থেকে মনে হলো গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। প্রেম আর একমুহূর্ত দেরি না করে এক লহমায় রাহির গলা থেকে নেমে গেল বুকে।তার হাত জোড়া বিচরণ করছে রাহির মসৃণ কোমড়ে।
সময় ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো। রাতও সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু বাইরে চলছে এখনো ধরণীকে ভিজিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা।আজকে যেনো এই বৃষ্টি থামবার নয়।আজ এই রাতে মৃদু আলোতে দুটো মনও যেনো চাইছে আজ যেনো এই বৃষ্টির খেলা না থামে। পুরো রুম জুড়ে নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেলো শুধু দুজনের জোরে জোরে তপ্ত নিঃশ্বাস এর শব্দ ভেসে আসছে।

ঘরের ডিম লাইট এর মৃদু আলোয় গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে প্রেমের খোলা বুকে মাথা গুঁজে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে রাহি।বাইরে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। ঘর জুড়ে ছড়িয়ে আছে পিনপতন নীরবতা।এই নীরবতার অন্ত ঘটলো রাহির কথায়।প্রেমের বুক থেকে হালকা মাথা তুলে নরম সুরে বলল,
“ভালোবাসেন আমায়?”
সাথে সাথে প্রেমের শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো।বলল,
“নাহ্।”
রাহি প্রেমের বুকে কামড় বসলো।প্রেম কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না। অধৈর্য্য হয়ে রাহি ছেড়ে দিলো।আবার পুরো রুম জুড়ে নেমে এলো নিস্তব্ধতা।
কিছুক্ষণ নিঃশ্চুপ থেকে প্রেম বললো,

“উঠো, ফ্রেশ হতে হবে।”
রাহি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
“আজকে আমার একটা আবদার পূরণ করবেন?”
“কী আবদার?”
“এই বৃষ্টির মাঝে নিঝুম রাতে প্রিয় মানুষের সাথে রাতের শহর দেখা আমার এক প্রকার স্বপ্ন। প্লীজ এই শখ টা পূরণ করবেন আমার?”
প্রেম নিঃশ্চুপ।চোখ বন্ধ তার।রাহি প্রেমের নীরবতা দেখে ভাবলো হয়তো প্রেম রাজি হবে না। তাই তার মুখটা চুপসে গেল।হঠাৎ প্রেম বলে উঠলো,
“যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।”
রাহি আর কোনো কথা না বলে ফ্রেশ হতে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।ওয়াশরুমের দরজার কাছে গেলে পেছন থেকে প্রেমের গলা শুনে দাঁড়িয়ে যায়।প্রেম বলে,
“বাইক রাইড পছন্দ?”

রাহির চোখজোড়া চকচক করে ওঠে।পেছনে ঘুরে মিষ্টি হেঁসে মাথা ঝাঁকায়।প্রেম হালকা ঠোঁট বাকাল রাহির কাণ্ডে।রাহি চলে গেলো ফ্রেশ হতে।
ওয়াশরুম থেকে বের হলে দেখতে পেলো বিছানায় তার জন্য রাখা ব্ল্যাক বাইকার জ্যাকেট আর রাইডিং প্যান্ট।প্রেম কাবার্ড থেকে নিজের জন্য পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। ততক্ষণে রাহি রেডি হয়ে গেলো।
প্রেম ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে নিজেও রেডি হয়ে রাহিকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বৃষ্টিস্নাত এই রাতে একজোড়া কপোত-কপোতী ছুটে গেল অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
বাইকের ইঞ্জিনের মৃদু শব্দ আর টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ মিলেমিশে যেন রাতটাকে আরও মায়াবী করে তুলেছে। রাস্তার দুপাশের আলো বৃষ্টির ফোঁটায় ঝাপসা হয়ে একের পর এক পেছনে ছুটে যাচ্ছে।
রাহি দুই হাত দিয়ে শক্ত করে প্রেমকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে। ঠান্ডা বাতাসের মাঝেও তার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে এক চিলতে হাসি। এতদিনের ছোট্ট একটা স্বপ্ন যে এভাবে সত্যি হয়ে যাবে, সেটা যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না সে।
প্রেম কিছু বলছে না। শুধু নির্ভার ভঙ্গিতে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আকাশের বিদ্যুৎ চমকে উঠলে রাহি আরও একটু গুটিয়ে যায়। প্রেম সেটা টের পেয়ে গতি সামান্য কমিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ পর প্রেম শহরের ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে তুলনামূলক নিরিবিলি একটা রাস্তার দিকে বাইক ঘুরিয়ে নিল। চারপাশে বৃষ্টিভেজা গাছ, দূরের হলুদ আলো আর ভেজা রাস্তার ওপর আলো-ছায়ার খেলা।
রাহি বলল,

“কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
“জানি না।”
প্রেম উত্তর করলো। হঠাৎ সামনে চোখ পড়লে রাহি উৎফুল্ল হয়ে প্রেমকে বাইক থামাতে বললে প্রেম থামালো। ভ্রু কুঁচকে রাহিকে বললো,
“কি সমস্যা?”
রাহি এতক্ষনে নেমে দাঁড়িয়েছে।প্রেমের সামনে দাঁড়িয়ে পেছনের রাস্তার দিকে আঙ্গুল তাক করে একটা টং দোকানের দিকে দেখিযে বললো,
“প্লীজ..”
প্রেমের আর বুঝতে বাকি রইলো না।প্রেম রাহিকে বললো,
“গো।”
এরপর বাইক স্ট্যান্ড করে নিজেও গেলো সেদিকে।
এতো গভীর রাতে দোকানে কেউ নেই বয়স্ক দোকানী ছাড়া। এখনি দোকান বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন। প্রেম আর রাহিকে দেখে থামলেন। তাঁরা দুজনেই বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। ওভাবেই ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে রাহি বললো,

“চাচা,আমাদের দুটো চা দেন, কড়া লিকার যেনো হয়।”
রাহির কথায় দোকানী চা বানাতে শুরু করলেও প্রেম নাক মুখ কুঁচকে বলল,
“আমি খাবো না,একটা বানাতে বলো।”
দোকানী রাহির দিকে তাকালে রাহি বললো,
“আপনি দুটোই বানান চাচা।”
এরপর প্রেমকে ফিসফিস করে বলল,
“আজকের জন্য না হয় আপনার ওই অখাদ্য ব্ল্যাক কফি ছেড়ে এই অমৃত রুপি চা খেয়ে দেখুন।এটা খাওয়ার পর ওই অখাদ্য আপনার মুখে আর রুচবে না।”

বলেই মিটিমিটি হাসলো সে।প্রেম চোখ গরম করে তাঁকালো।এই মেয়ের জন্য তার যে আর কি করতে হবে খোদা জানে।মুখের উপর কেনো যেন নাও করতে পারে না।
এতক্ষণে তাদের চা হয়ে গেছে।রাহি নিজের হেলমেট খুলে পাশের বেঞ্চ এ রেখে চায়ের কাপ নিয়ে একটা প্রেমের দিকে বাড়িয়ে দিলো।প্রেম রাহির দিকে তাকালে রাহি চোখ দিয়ে ইশারা নিতে বললো।প্রেম আর কথা না বাড়িয়ে নিজের হেলমেট ও খুলে ফেলল।
তারা চা খাচ্ছে।চা খাওয়া শেষে প্রেম টাকা দিতে গেলে দেখতে পেলো বয়স্ক লোকটা তার দিকে কেমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে।পাশ থেকে লোকটার তাকানো দেখে রাহি বললো,
“আপনি ঠিকই ধরেছেন চাচা, উনিই আপনাদের মন্ত্রী মশায়, আর আমার এমপি সাহেব।”
শেষের কথাটা প্রেমের দিকে তাকিয়ে মাথা হালকা কাত করে চোখ মিটমিট করে বলল রাহি।
প্রেম টাকা মিটিয়ে রাহিকে বললো,

“তোমার কি আমার মন্ত্রী পদ পছন্দ নয়?”
“পছন্দ নয় এমন না।কিন্তু আপনাকে আমার কাছে এমপি সাহেবই ভালো লাগে।”
“ওকে ডান,আজকে থেকে তোমার এমপি সাহেব হয়েই থাকবো। মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করবো।”
রাহি আতকে উঠলো প্রেমের কথায়।বলে কি এই লোক।
“এই না,কিসব বলছেন আপনি।আমি তো এমনই বলেছি।”
“তোমার জন্য আমি এই দুনিয়া ত্যাগ করার ক্ষমতা রাখি বেগমজান আর মন্ত্রীর পদ তো পানি ভাত।”
রাহি কিছু বলতে নিবে তার আগেই প্রেম ফোন বের করে লিয়নকে কল করে বলে,
“কাল সকালে আমি পদত্যাগ করছি, কাগজ পত্র সব আজ রাতের মধ্যেই রেডি কর।আমি আবার আগের এমপি পদে ফিরে যাবো।”

বলেই কল কেটে দিলো।ওইদিকে লিয়ন মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে প্রেমের এমন আদেশ পেয়ে বেকুব বনে গেলো।আহম্মকের মতো কতক্ষণ চেয়ে থেকে ভাবলো এটা হয়তো তার স্বপ্ন, সারাদিন ওই লোকের এসব আজগুবি হুকুম পালন করতে করতে এখন বুঝি স্বপ্নেও আজগুবি হুকুম এর স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু কল লিস্ট চেক করে দেখলো সত্যি সত্যিই প্রেম কল করেছে।তার মানে প্রেম যা বলল এখন তাকে তাই করতে হবে।ভেবেই তার কান্না পাচ্ছে।এই বুঝি সে মুখ ভেঙে কেঁদে দিবে।খুব কষ্ট সে নিজেকে সামলালো।নিজের মাথায় বারি মেরে নিজের মাথা ফাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো।খুব কষ্টে সেই ইচ্ছে দমন করলো সে।কেনো যে এই লোকের চাকরিটা নিতে গেলো,এখন নিজের উপরেই রাগ হচ্ছে তার উপর আবার নিজের জীবন নিয়ে খুব আফসোস হচ্ছে।
রাহি প্রেমের কাণ্ডে মুখ হা করে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।এই লোক পাগল হয়ে গেছে নির্ঘাত।প্রেম রাহির অবস্থা দেখে সামনে এগোতে এগোতে বললো,

“মুখ বন্ধ করে তাড়াতাড়ি চলো,মুখে কিন্তু মশা মাছি যা আছে সব ঢুকে যাবে।”
রাহি মুখ বন্ধ করে প্রেমে পিছু পিছু গেলো।প্রেমকে কিছু বলতে নিবে অমনি প্রেম বললো,
“ওই বিষয় নিয়ে আর একটা কথা বললে কিন্তু এই খানেই ফেলে রেখে চলে যাবো।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫২

রাহি জানে প্রেম যা বলে তাই করে।তাই রিস্ক নিলো না।মনে অনেক কিছু আসলেও ওই বিষয়ে আর কথা বলল না।প্রেম বাইক স্টার্ট দিলে রাহি বললো সে পদ্মা সেতু দেখবে। প্রেমও অমত না করে বাইক ছুটিয়ে নিয়ে চলল পদ্মা সেতুর দিকে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫৪