Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৪

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৪

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৪
কায়নাত খান কবিতা

” খেলা হবে!”
” কোনো খেলা হবে না! বাড়ি যাহ শয়তান ছেমড়ি!”
তামিম সুবহার সাথে একটু কর্কশ গলায় কথা বলে! তার কথার ওজন বলে দিচ্ছে সে কতটা রাগ করে রয়েছে সুবহার উপরে! মুখের ভাবমূর্তি ও বলে দিচ্ছে তামিম চাই না সুবহার সাথে আর একটি কথা ও বলতে!! সুবহার হাত খানিকটা দূরেই সরিয়ে ফেলে তামিম!

” তামিম..!”
” বাড়ি যা পরী! মুড ঠিক নাই!”
হনহনিয়ে ভিতরে চলে আসতে থাকে তামিম! সুবহাকে তেমন একটা পাত্তা দেয় না! চোখে পানি গড়িয়ে পরে সুবহার! সে ও তামিমের পিছু নেয়! যদি রাগ কমাতে পারে তার শয়তান সরকারের! সুবহা ডেকেছে আর তার শয়তান সরকার আসেনি, এমন তো খুব কম হয়েছে! তাই সাহস নিয়েই তামিমের পিছু পিছু ছুটে চলে সুবহা! তামিমের হাটার গতির সাথে তাল মিলাতে না পেরে তার হাত চেপে ধরে সুবহা!!
” তামিম! প্লিজ কথা শুনুন না!”
” কোনো কথা নাই!”
” ভুল হয়েছে, মানছি তো! প্লিজ বাড়ি চলুন!”
” তুই যা!”
” গেলে আপনাকে নিয়েই যাবো!”
” আর তুই গেলে আমি যাবো না!”
থমকে যায় সুবহার কদম! তামিম রাগি প্রকৃতির মানুষ এটা সত্যি! কিন্তু সুবহার সাথে তো তেমন রাগ দেখায় না বললেই চলে! কিন্তু আজ এতো রাগ কেন?

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” তামিম!”
” হুম! তুই যেখানে, আমি সেখানে নাই!”
তামিমের এতো কড়া কড়া কথা গুলো কাঁচের টুকরোর মতো সুবহার মনে গেঁথে যায়! বুক অস্বাভাবিক ভাবে ভারি হতে থাকে তার! সে গেলে তামিম যাবে না? এতে বড় কথা সে বলতে পারলো?
” আমি চলে যাচ্ছি তামিম, তাও বাড়ি ফিরুন প্লিজ!”
সুবহার কথাকে তেমন পাত্তা না দিয়েই তামিম তার চেম্বারে চলে যায়! আর সুবহা নিচেই থেকে যায়! পঞ্চ পান্ডব এসে সুবহার পাশে দাড়ায়! সুবহার চোখের পানি তাদের ও মর্মাহত করছে! পৃথিবীতে এখন সুবহার আপন বলতে রয়েছে শুধু তামিম! সে ও যদি এমন করে তাহলে কীভাবে বাঁচবে সে?

” ভাবি মা?”
মাহিরের কথা কানে যেতেই চোখের পানি মুছে ফেলে সুবহা! সে তো তামিমের বাঘিনী বউ! সবার সামনে ভেঙে পড়লে চলবে?
” আমি চলে যাচ্ছি মাহির! আপনার ভাইকে বলবেন একটা বাইরের মেয়ের জন্য বাড়ি ছাড়া না হতে ”
সুবহা চুপচাপ চলে যায় তামিমের পার্ট অফিসের সামনে থেকে! একবার ও পিছনে ফিরে তাকায় না! অপর প্রান্তে তামিম ও নিজের জেদ বজায় রাখে! এতো অবাধ্য বউ তার ও প্রয়োজন নেই!

——রাত তখন ১১ টা ২০ মিনিট!
নিজের চেম্বারে চুপচাপ বসে থাকে তামিম! ল্যাপটপ থেকে মুখ সরাচ্ছে না! আর অন্য দিকে পঞ্চ পান্ডব যে যার মতো বসে থাকে আর ইশারা করতে থাকে! তামিম যেহেতু রেগে আছে, কোনো কথা বলা যাবে না! বললেই বিপদ! মা’র একটা ও মাটিতে পড়তে না!
কাজের ফাঁকে তামিমের ফোনে কল আসে! তামিম ঠিক করে ধরবে না কল! নিশ্চয়ই সুবহাই দিয়েছে! এভাবে পরপর দু-বার কল রিসিভ করে না তামিম! তারপর মাহিরের কাছে কল আসে! মাহির সাথে সাথে রিসিভ করে! কারণ আয়েশা সরকারের কল ধরবে না এতো বড় কলিজা তার নেই!

” এখানে তো নাই বড় আম্মা”
হালকা জোড়ে কথাটি বলতে বলতে দাড়িয়ে পড়ে মাহির! তামিম সহ বাকিরা ও কপাল কুঁচকে তাকায় তার দিকে! হঠাৎ এভাবে ঘাবড়ে যাওয়ার কারণ কী?
” হা’লার পো হার্ট অ্যাটাক করাবি নি?”
” আব্বে হা’লা, কাম সারছে!”
সাকিব মাহিরের কথার আগা মাথা কিছু বুঝতে পারে না! উঠে দাড়ায় সে ও তার সাথে! মাহির তামিমের টেবিলের সামনে চলে যায়!
” ভাই, বড় মা কল দিছিল! কয়ছে ভাবিমারে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় যাইতে ঠান্ডা পরে রাতে, ভাবি মায়ের শরীর খারাপ হইবো! কিন্তু ভাই?””

তামিমের মুখে চিন্তার ভাজ পড়ে যায়! সুবহাকে নিয়ে তারা কীভাবে যাবে? সে তো বিকেলেই চলে গেছে! তামিম সাথে সাথে কল দেয় তার আম্মা জান কে! তার আম্মা তাকে জানায়,উনি সুবহাকে যেতে দেখেছে, কিন্তু ফিরতে নয়!
ব্যাস! এই একটা কথায় ছিলো তামিমের পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য!!
” শানসুওওওও! গাড়ি বের কররর!”
তামিম তড়িঘড়ি করে উঠে বেরিয়ে পরে! তার গেছে বিকেলে, এখন রাত ১১ টার বেশি! আল্লাহ না করুক যদি রাগের বসে কিছু করে ফেলে! তামিম দ্রুত গাড়িতে উঠে বসে! থাকে তার পঞ্চ পান্ডব ও! তাদের উদ্দেশ্য আগে শিকদার বাড়িতে যাওয়া! কোথায় ও গেলে ও সুবহা শিকদার বাড়িতে যাবে এটাতে শতভাগ নিশ্চিত তামিম!
” ভাই সিসিটিভি ফুটেজ! ”

চলন্ত গাড়িতে বসে শিকদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয় তামিম! সাথে গার্ডদের জানিয়ে দেয় সিসিটিভি ফুটেজ তার ফোনে ট্রান্সফার করতে! বাড়িতে গিয়ে যদি না পায়! তাহলে ফুটেজ অনুযায়ী খুঁজবে!
ফুটেজ অন করে দেখে তামিম, সুবহা হেঁটে হেঁটে উত্তর দিক দিয়ে যাচ্ছে! তার পরের রাস্তার ফুটেজ পাওয়া যায় নি! সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায়! রাগে গাড়ির জালানার কাঁচে ঘু’ষি মা’রে তামিম!
” আই হাই! রক্ত ভাই! হা’লা জলদি হাসপাতালে ল, ডাক্তার লাগবো! ”
” বউ লাগবে আমার, বউ! ডাক্তার না!”
তামিম রুমাল দিয়ে নিজের হাত বেঁধে ফেলে! আর নিজেকে প্রচন্ড বকতে থাকে! এতো রাগ করে কথা বলা উচিত হয়নি তার! তার পানির মতো প্যাচ মুক্ত বউ! কথার আঘাত সহ্য করতে পারেনি!
সারা রাস্তা নিজের মনের সাথে লড়াই করে যায় তামিম! এই ঠান্ডার মাঝে তার মোমের মতো বউ যদি গলে যায়!
গাড়ি ব্রেক কোষার সাথে সাথে নেমে পড়ে তামিম! কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, শিকদার বাড়িতে তার জন্য সুবহা নয়, বরং বিশাল বড় একটি তালা ঝুলছিলো! থমকে যায় তামিম!

” আমার বউ কই!”
তামিমের গর্জে উঠা দেখে শুকনো ঢোক গিলে পঞ্চ পান্ডব! আজকে যদি সুবহার কিছু হয়ে যায়! তামিম তাদের ও মা’টি চাপা দিবে!
তামিম ফোন নিয়ে তার আব্বাকে কল করে! এখন প্রধানমন্ত্রীর পাওয়ার দরকার! পুরো দেশ অচল করার জন্য!
” প্রধানমন্ত্রীর পাওয়ার কাজে লাগান আব্বা!”
” কী করতে হবে বাবাজান?”
” পুরো দেশ অচল করে দেন!”
” কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করেন বাবা জান!”
” অপেক্ষার সময় নাই আব্বা! বউ লাগবে আমার!”

তামিম ফোন কাটার সাথে সাথে রাষ্ট্রপতিকে কল করে তানভীর সরকার, সেখান থেকে সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে! পুরো দেশ অচল করতে হবে! কড়াকড়ি ভাবে কারফিউ জারি করতে হবে!
প্রতিটি চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নেমে পড়ে! আরশিনগর এবং তার আশেপাশে! শহরের বাইরে সব জায়গায়! খুব কড়াকড়ি ভাবে কারফিউ জারি করা হয়! আর কারণ হিসেবে দেখানো হয় র-এজেন্ট প্রবেশ করেছে দেশে! রাতারাতি তাদের ধরতে হবে! ব্যাস এই একটা ভুয়া নিউজ ছিলো পুরো দেশকে আতঙ্কে ফেলার জন্য! একটি রিক্সা ও নিজের স্থান থেকে নড়ে না! যাত্রীরা ও থমথম আতঙ্কে পরে যায়! সেনাবাহিনী যেহেতু প্রতিটি চেকপোস্টে অবশ্যই ঘটনা সত্যি! এভাবে খুব গোপনীয়তার সাথে খোঁজা হয় সুবহাকে! কিন্তু প্রতিটি জায়গা থেকে ফলাফল শূন্য আসে! কোথায় ও খুঁজে পাওয়া যায় না সুবহাকে!

এরপর তামিম আন্ডা’ওয়াল্ডে ঘোষণা দেয়, যে সুবহাকে সুরক্ষিত অবস্থায় খুঁজে দিতে পারবে তাকে নগদ ৪ কোটি টাকা এবং ১০ তলা বিলাশ বহুল বিল্ডিং গিফট করা হবে! তামিমের এই পরিকল্পনা পিছনের কারণ ছিলো সুবহার নিরাপত্তা! কারণ কেউ যদি তাকে নিয়ে ও যায়, কোনো ক্ষতি যেনো না করে! এভাবে প্রায় সব জায়গায় খবর পৌঁছে যায়! পুলিশ, সেনা সদস্যের সাথে সাথে আন্ডা’রওয়াল্ডের সব কুখ্যা’ত লোকরা ও নেমে পরে তামিম সরকারের বউকে খুঁজতে! এভাবে প্রায় রাতে ভর চলে সাড়াশি অভিযান! কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি সুবহাকে! পুরো দেশ অচল করে দিয়ে ও কোনো লাভ হয়নি! ইন্টারনেট ও বন্ধ করে দেওয়া হয়! তারপর ও ফলাফল শূন্য! কোথায় ও খুঁজে পাওয়া যায় নি সুবহাকে!

— ঘড়ির কাটা বলছে রাত শেষের দিকে! সময় তখন ৫ টার কাছাকাছি! পুরো পৃথিবী জুড়ে সূর্যের আলো জলবে! নতুন দিনের সূচনা হবে! কিন্তু তামিম সরকারের জন্য দিন ও রাত হয়ে গেলো! কোথাও খুঁজে পেলো না তামিম তার পরী তার সকালে! ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরে তামিম! পুরো সরকার বাড়িতে অন্ধকার আচ্ছন্ন! শুধু হল রুম ছাড়া! তামিম মূল ফটল দিয়ে প্রবেশ করে! তানভীর সরকার আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলো! শুধু ছিলো না আয়েশা সরকার! জ্বর আসার কারণে তিনি নিচেই নামেনি! তামিম এসে সোজা তার আব্বাকে জড়িয়ে ধরে!
” তারে আমি খুব ভালো বাসি আব্বা! ফিরাইয়া দেন তারে আব্বা! প্লিজ!”
যুবক ছেলের এমন বুক ফাটা আর্তনাদ ভিতর থেকে নড়িয়ে তুলে তানভির সরকারকে!
” নিজের সর্বোচ্চ শক্তি কাজে লাগাবো বাবা জান! কালকের মধ্যে আপনার বউ, আপনার ঘরে থাকবে! আই প্রমিজ! তানভির সরকার এক কথার লোক! ”

তামিম তার আব্বাজানের দিকে তাকায়! ধরতে গেলে বাপ ছেলে দু-জনেই লম্বায় এক সমান! কিন্তু তানভীর সরকার একটু বেশি অন্য রকম! তার মুখ খানিকটা প্রয়াতক নায়ক স্যার সালমান শাহের মতো! তামিমকে তার নতুন আপডেট ভার্সন বলা চলে!
” আব্বাজান, তারে না পাইলে, আমি ও দুনিয়া থেকল বিদায় নেবো! এমপি তামিম সরকার যা বলে তাই করে!”
তামিম উঠে যায় উপরে! নিচে থাকে শুধু তানভীর সরকার! তামিমের উঠে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে!
” আমি ও সরকার ভাই, আমার কথায়, আমার শাসন!”

–দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে নিয়ে নিজের কক্ষে প্রবেশ করে তামিম! দরজা খোলার সাথে সাথে বুকটা ভারি হয়ে আসে! প্রতিবার দরজা খোলার সাথে সাথে সুবহা এক গাল হাসি দিয়ে তামিমের দিকে ছুটে আসে! কিন্তু আজকে এলো না! নিজের অশান্ত মন নিয়ে ভিতরে ঢুকে যায় তামিম! দরজা লাগিয়ে পিছনে ঘুরতেই দেখে টিভি চলছে! ডোরেমনের মুভি হচ্ছে! খুব হতাশ হয়ে যায় তামিম! কারণ সুবহার সাথে প্রতিবার মারা’মারি করতো তামিম রিমোট নিয়ে! সে ইচ্ছে করে সুবহার পিছনে লাগতো! কিন্তু আজকে সুবহা নেই! শুধু টিভিটা চলছে!
পরক্ষণেই বেডে চোখ যায় তার! দেশে কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে খুব আরাম করে ঘুমাচ্ছে সুবহা! তামিম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে! কারণ এটা ও তার কল্পনা! মনে হচ্ছে সুবহা তার কত কাছে! কিন্তু নেই! সুবহা নেই! সবটাই কল্পনা!
তামিম টি-টেবিলে থেকে রিমোট নিয়ে টিভি অফ করে! শুধু ড্রিম লাইট ছাড়া আর তেমন কোনো আলো নেই এই রুমে!
ক্লান্ত মন, ভারাক্রান্ত শরীর নিয়ে বিছানার কাছে চলে যায় তামিম! এখানেই তো সুবহা তার পাশে ঘুমাতো! এখন ও মনে হচ্ছে সে ঘুমিয়ে আছে! কিন্তু না এটা তার কল্পনা!
তামিম উল্টো হয়ে শুয়ে পরে বিছানায়!

” ওমা গো…! আমার পেট গেলো..! শয়তান, হাতি! ”
তামিমকে ধাক্কে তুলে দেয় সুবহা! তামিম ও ধড়ফড়িয়ে উঠে! তার মানে এটা স্বপ্ন নয়? সুবহা তার রুমেই আছে!
পুরো দেশ অচল করে আকাশ পাতাল এক করে নিজের বউকে খুজতে লাগলো তামিম! আর অন্য দিকে তার বউ তারই ঘরে বসে ডোরেমন দেখছিলো!!
পাশে থাকা বেড সাইটের লাইট অন করে দেয় সুবহা! তামিম তখন ও চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে! চোখ মুখ প্রচন্ড লাল, চোয়াল শক্ত! সুবহা বুঝতে পারে না তামিমের হলো টা কী?
” তাম..!”

পুরো কথা শেষ করার আগেই খুব জোড়ে চ’ড় পরে সুবহার গালে! বেয়াক্কলের মতো গাল ধরে তামিমের দিকে তাকিয়ে থাকে সুবহা! সে করলো টা কী? এভাবে ভোর বেলা চ’ড় খেলো! তামিম তখন ও কোনো কথা না বলে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সুবহার দিকে! চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো বলে! সুবহা বুঝে যায় তামিমের চোখের ভাষা! হঠাৎ নেট অফ হয়ে যাওয়া, কোনো যোগাযোগ হয়নি তার তামিমের সাথে! তখন কী কিছু হয়েছে? চিন্তারা ভাবায় তাকে! কিন্তু সুবহা এটা বুঝতে পারলো না, নেট থেকে পুরো দেশ তার জন্য অচল করে দেওয়া হয়! অথচ সে নিজেদের ঘরেই বসে ডোরেমন দেখছিলো! নেট চলে যাওয়ায় আঁটকে যায় মুভি! সুবহা ও ঘুমিয়ে পড়ে! এর মধ্যে কি হয়েছে পুরোটাই তার অজানা! তার উপরে নিজে খেতে ও যায়নি সে!

” তা..!”
সুবহা আবার ও যখন তামিমকে কিছু বলতে যাবে, তামিম একটান দিয়ে সুবহাকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়! খুব শক্ত করে তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়! রীতিমতো নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েই সুবহাকে কি’স করতে থাকে তামিম! সুবহাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ অব্দি দেয় না সে! এমন কি নড়াচড়ার ও সুযোগ দেয় না! ঝাপিয়ে পড়ে সুবহার উপরে! প্রায় সকাল অব্দি চলতে থাকে তামিমের অত্যা’চার! কিন্তু সুবহা এটা বুঝে না তাকে কেন এতো কষ্ট দেওয়া হচ্ছে! তামিম তাকে ভালোবাসতে চাইলে সে তো নিজে ও সাই দেয় তার ডাকে! তাহলে আজ এমন বিপরীত ভাব কেন?

এভাবে প্রায় সকাল ১০:২০ অব্দি তামিমের অত্যা:চার সহ্য করে সুবহা! তারপর দু-জনেই চুপচাপ শুয়ে থাকে বিছানায়! সুবহাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তামিম!
সুবহা ও চুপচাপ তামিমের বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকে! কিন্তু সে এখনো ও বুঝলো না হলো টা?
” তামিম!”
খুব সাহস নিয়ে তামিমকে ডাকে সুবহা! তামিম ও এখন প মোটামুটি ঠান্ডা! নিজের বাহুতে থাকা সুবহার দিকে তাকায়!

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৩

” আপনি এতো রেগে ছিলেন কেন?”
সুবহার কথা শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তামিম! তার জন্য পুরো দেশে ভূমিকম্প হয়ে গেলো! অথচ তার কোনো খবরই নেই!
চুপচাপ সুবহার দিকে তাকিয়ে থাকে তামিম! কোনো উত্তর দেয় না তাকে! সুবহা ও কৌতুহলীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তামিমের দিকে! কোনো কথা না বলে তামিম আবার ও সুবহাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে!
” তোকে আমি হারাইতে দিবো না সকাল! সারাজীবন লুকাইয়া রাখবো! ”

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৫