এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১২
ফাতেমা তুজ জোহরা
ইনান আইল পথ থেকে উঠে সামনে তাকাতেই আছরে পড়লো আইলের উপরে মুখের ভরে। এতটাই জোরে পড়েছে যার কারনে ইনান আ*র্ত*না*দ করে উঠলো। সে বুঝতে পারলো না কেন এভাবে পড়লো। ইনান কপালটাকে ঘষতে ঘষতে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই মুখ থেকে র**ক্ত সরে ফ্যাকাশে বর্ণ ধারন করলো। সারা শরীর থরথর করে কাঁ*পতে লাগলো সামনে মানুষটাকে দেখে। সে বিশ্বাস করতে পারলো না এটা কিভাবে সম্ভব সে তো নিজের হাতে ওই শ*য়*তা*ন*টা*কে মে*রে ফেলেছে। তাহলে এতরাতে এইখানে কেন। ইনান বিরবির করে বলল,” র রকি….
ইনান কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে জমে গেল। তার কানে হৃৎস্পন্দন ছাড়া আর কিছু পৌঁছাছিল না। এটা কিভাবে সম্ভব ? আমি তো নিজের চোখে দেখেছিলাম …. তাহলে সে বেঁচে আছে। আ*ত*ঙ্ক অবিশ্বাস সব চেপে বসলো তার বুকের উপর।
ইনান পিছনে পিছিয়ে গেল ভ*য়ে। রকি চোখ দুটো বেজায় লালটকটকে হয়ে আছে।মাথা সাদা ব্যান্ডেজ করা আছে। অতিরিক্ত রা*গে কপালের রগ গুলো ফুলে ফেঁপে উঠছে। রকি তার হাত দুটো মু*ষ্টি*বদ্ধ করে এগিয়ে এলো ইনানের দিকে। ইনান শাড়ীর আঁচলটাকে শক্ত করে আকড়ে ধরে রইলো। এক বি*প*দ থেকে নিজেকে বাঁ*চা*নো*র জন্য পালাতে গিয়ে আরেক বিপদ সামনে এসে দাঁড়ালো । রকি এগিয়ে এসে শক্ত করে ইনানের চু*ল গুলোকে মুষ্টিবদ্ধ ধরে বলল,” কি ভেবেছিলি তুই আমাকে মে*রে শান্তিতে বাঁচতে পারবি? ভালো করে দেখ আমি ম*রি*নি মা*গি। তোর শরীরটাকে ভো*গ না করা অবধি আমি ম*র*বো না” রকি কথাগুলো বলে আরো জোরে চুল গুলো ধরলো। ইনান শব্দ করে কেঁদে উঠলো এবার। রকি বি*চ্ছি*রি ভাবে হেঁসে বলল, ” তোর কাপড়ে আমি ট্রাকার লাগিয়ে দিয়েছিলাম তাইতো তোর নাগাল পেলাম পাখি।পরক্ষণেই বলল,” আজকে পালাতে পারবি না!
ইনান ব্যা*থা*য় কুঁকড়ে গেল।কিন্তু ঠিক সে সময় সে লক্ষ্য করলো, রকির মাথার ব্যান্ডেজে র*ক্তে*র দা*গ ফুটে উঠছে। যা চাঁদের আলোয় সে স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারলো। অর্থাৎ সে এখনো সুস্থ নয়। এই দুর্বলতাই ইনান কাজে লাগালো। হঠাৎ ইনান সমস্ত শক্তি দিয়ে রকির হাতের কব্জিতে আ*ঘা*ত করলো এবং নিজেকে রকির কাছ থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। রকি মুহুর্তেই ভারসাম্য হারালো। সেই ফাঁকে ইনান প্রা*নপ*নে দৌড় দিল ধানের আইল দিয়ে। তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, নিঃশ্বাস এলোমেলো, তবুও একবার পিছনে তাকালো না।
রকি রা*গে গর্জে উঠে বলল,” থাম ” কথাটুকু বলেই ইনানের পিছনে পিছনে দৌড় দিলো।
ইনানের নিঃশ্বাস আটকে এলো। পেছন থেকে রকির ভারী পায়ের শব্দ ক্রমশ কাছে আসতে লাগলো। অন্ধকার রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুরু হলো তাদের শ্বা*স*রু*দ্ধক*র ধাওয়া, যেখানে ইনানের সামনে একটাই লক্ষ্য, যেভাবে হোক বেঁচে থাকতে হবে। ইনান এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট খাদে পা পড়ে হোঁ*চট খেয়ে পড়ে গেল। ইনানের মনের ভেতরটা ধক করে উঠলো। তাহলে কি আজকে এই মানুষরুপী শ*য়*তা*নের কাছে নিজেকে শেষ করে দিতে হবে।
ইনানকে প*ড়তে দেখে রকির ঠোঁটে ফুটলো ক্রু*র হাসি। সে এগিয়ে গিয়ে ইনানের চু*ল গুলোকে আবারো মু*ষ্টিবদ্ধ করে ইনানকে দাঁড় করিয়ে হিসহিসিয়ে বলল, ” তোকে বললাম না আমার হাত থেকে তোর মুক্তি নেই, আজকে রাতে তোকে আমি বুঝিয়ে দিবো এই রকি কে মা*রা*র শাস্তি কি হতে পারে ” রকি কথাটুকু বলে ইনানের আঁ*চ*ল ধরে দিলো একটান। মুহুর্তেই ইনানের সারা শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো। ইনান নিজের ইজ্জত বাঁচানোর জন্য রকিকে আবারো ধা**ক্কা দিয়ে ফেলল। রকি নিচে গড়িয়ে পড়লো আবারো। কিন্তু রকির হাতে শাড়ীর আঁচল থাকায় পুরো শাড়ীটা ইনানের শ*রী*র থেকে খুলে গেল। ইনান ভ*য়ে লজ্জায় বুকে আড়াআড়ি করে হাত দিয়ে সামনে দৌড়াতে লাগলো নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য। ইনানের পরনে এখন ছা*য়া আর ব্লা*উ*জ। রকি রা*গ উঠে গেল সপ্তম আকাশে শাড়ীটাকে হাতে পেঁচিয়ে ইনানের পিছু নিলো সে। ইনান কিছুদূর দৌড়ে যেতেই শক্তপোক্ত বুকের সাথে ধা*ক্কা খায়। ইনান টাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলে আগুন্তক তার কো*ম*ড়টাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে নেয়। ইনানের নাসারন্ধ্র হলো পরিচিত ঘ্রান। ইনানের মস্তিষ্ক মুহূর্তেই হানা দিলো এমপি রুশভিয়ানের মুখবায়ব।
ইনান ছোট হৃদয় আবারো কেঁপে উঠলো। যে ন*র*ক থেকে পালাতে এত আয়োজন করলো সে ন*র*কে আবারো তাকে ফিরে যেতে হবে না তো। ইনান সরে আসতে চাইলে,কিন্তু পারলো না সে। আরো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।
এরইমধ্যে রকি উপস্থিত হলো সে জায়গায়। হাতে ইনানের শাড়ী বিদ্যমান তার। ইনানকে অন্য আরেকজনের সাথে চিপকে থাকতে দেখে রকি এগিয়ে গিয়ে ইনানের শরীরে টাচ করার আগে। আগুন্তক তার হাতটাকে শক্ত করে আকড়ে।ধরলো। রকি ব্যা*থা*য় কুঁ*ক*ড়ে উঠলো। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো অস্ফুটস্বরে আ*র্ত*না*দ। রকি হাতের ব্যা*থা স*হ্য করতে না পেরে বলল,” ওই শা*লা আমার গার্লফেন্ডকে এভাবে ধরে রেখেছিস কেনো, আর আমার হাতটাকে এভাবে ধরে রেখেছিস কেন ছাড়!
আগুন্তক কিছু বলল না রকির বুকের উপরে দিলো এক লা**থি। রকি ছিঁটকে পড়লো বেশ কিছু দূরে। ইনান ভ*য়ে ভ*য়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,” ছাড়ুন আমাকে?
আগুন্তক গমগমে স্বরে বলল, ” নাগরের লগে ফ*ষ্টিন*ষ্টি করবি তার লেইগা ছাড়তে বলছিত খা*ন*কি*র বাচ্চা।
ইনানের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। সে ভেবছিলো এটা বদ*মাশ এমপি হতে পারে। কিন্তু তার ভাবনা সত্যিতে রুপান্তর হবে সে ভাবতে পারেনি। ইনান সারা শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগলো। কপাল দিয়ে গড়িয়ে পড়লো ঘাম।
রকি নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় আবারো বলল,” এই শালা আমার গার্লফেন্ড ছাড় তুই?
রুশভিয়ানের মস্তিষ্ক কথাটা দ্বিতীয়বারের মতো প্রবেশ করতেই চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে গেল। হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল সহসা। ইনান কি করবে বুঝতে পারছে না। রকি তাকে গার্লফেন্ড হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে বারংবার সে রুখে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলবে সেটাও পারছে না। রুশভিয়ানে আলিঙ্গনে তার কন্ঠস্বর যেন রোধ হয়ে এসেছে।
রুশভিয়ান যতদূর পড়ালেখা করেছে সে এই গার্লফেন্ড শব্দটার মানে জানে। এই শব্দটার মানে হলো একজন প্রেমিকা। রুশভিয়ান রা*গ সামলে পিছনে লাঠিয়ালদের উদ্দেশ্য স্ফুলিঙ্গের ন্যায় বলল,” একে তু*ই*লা আন রত্নকুঞ্জে? কথাটুকু শেষ করে রুশভিয়ান ইনানকে পাঁজাকোলা করে তুলে এগিয়ে গাড়ির দিকে। ইনান ভ**য়ে রুশভিয়ানের বুকে ঘামটি মেরে আছে।
বিশজন লাঠিয়াল রকিকে চারদিক থেকে ঘি*রে ধরলো। রকি বুঝতে পারলো না এই লোক গুলো তাকে কেন ধ*র*বে। আর ইনানের সাথে এদের কি সম্পর্ক সে বুঝতে পারলো না। সবকিছু তার মাথার ভেতরে তাল গোল পাকিয়ে যাচ্ছে। রকির ভাবনার মধ্যেই একজন লাঠিয়াল রকির মা*থা বরাবর দিলো এক লাঠির বা**রি। মুহূর্তেই রকি জ্ঞা*ন হারিয়ে পড়ে গেল নিচে। লাঠিয়াল গুলোর মধ্যে দুজন লোক তাকে চ্যাংদোলা করে এগিয়ে নিয়ে গেল গাড়ির দিকে।
আমাকে মা*র*বে*ন না, আমাকে ছে*ড়ে দিন,আমি আর কোথাও যাবো না ” ইনান আ*ত্ম*চি*ৎ*কা*র করে কথাগুলো বললো। আর রুশভিয়ান পা*গ*লে*র ন্যায় ইনানের পি*ঠে চাবুকের স*পাৎ স*পা*ৎ করে বা*রি মা*র*ছে। রুশভিয়ানের কানের কাছে এখনো ছেলেটার কথা গুলো ঘুরছে। আর সে তো নিজের চোখো দেখেছে ইনানকে শাড়ী হীন অবস্থায়। রুশভিয়ানের রা*গ*টা শুধু ইনানের পালিয়ে যাওয়াতে সৃষ্টি হয়নি। রা*গ তৈরি হয়েছে ইনানকে ছা*য়া আর ব্লা*উজ পড়া অবস্থা দেখে। এই দেখে তার মন বলছে ছেলেটার কথা সত্যি, আর তারা দুজন ধানক্ষেতে ন*ষ্টা*মি করছিলো।
রুশভিয়ান আরো জোরে জোরে ইনানের পি*ঠে চাবুক মা*র*তে লাগলো। ইনান শব্দ করে কেঁদে যাচ্ছে চাবুকের মা*রা*র য*ন্ত্রনায়। তার আ*র্ত*চি*ৎ*কা*রে পুরো রত্নকুঞ্জ প্রসাদ কেঁপে কেঁপে উঠছে।চাবুকের আ*ঘা*তে তার পি*ঠে লা*ল*চে দাগ ফুটে উঠছে । য*ন্ত্র*না নিয়ে ইনান মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো। তবুও রুশভিয়ানের থামার কোন নাম নেই। সে একভাবে ইনানের পি*ঠে চাবু*কের আ*ঘা*তে ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত করে তুলছে। রুশভিয়ান কিয়তক্ষন বাদে হাতের চাবুকটা অদূরে ফেলে এগিয়ে গিয়ে ইনানের চুল গুলোকে শক্ত করে ধরে বলল,” এত তোর শরী*রের জ্বা*লা, তার লেইগা তুই ধানক্ষেত টাকে ছাড় দিলি না? কথাটুকু শেষ করে ইনানকে মেঝে থেকে উঠিয়ে গাল বরাবর দিলো এক থা*প্প*ড়। ইনান তার ভঙ্গুর শরীরটাকে নিয়ে প*ড়ে গেল মেঝেতে। মেঝেতে পড়ে ইনান মা বলে চি*ৎ*কা*র করে উঠলো।
রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে ইনানের ডা*নহা*তের উপরে দাঁড়িয়ে গেল চামড়ার সে*ন্ডেল পড়ে। তার পা দ্বারা ইনানের হাত গুলোকে ক*চ*লে দিতে লাগলো। ইনান গ*গ*ন*বি*দা*রী চি*ৎ*কা*র দিয়ে বলল,” আল্লাহ গো, ম**রে গেলাম গো আল্লাহ ”
এত চি*ৎ*কা*র,আ*র্ত*না*দ রুশভিয়ানের কানে কোন কথা যাচ্ছে না। তার চোখে শুধু ভাসছে ধানক্ষেতে ছেলেটার সামনে ইনানকে সে অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে।
ইনান কাঁদতে কাঁদতে বলল,” আল্লাহর কসম…… আমি পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম ….. আমি কোন পা*প করিনি,
রুশভিয়ান কথাটা শুনে গম্ভীর,ভ*য়ং*ক*র,ঠান্ডা কন্ঠে বলল,” মিথ্যাবাদী ….. একটাও শব্দ না!
ইনান কিছু বলল না। সে শুধু নিরবে চোখের পানি ফেলতে লাগলো৷ রুশভিয়ান সরে আসলো হাতের উপর থেকে। ইনান হাতের অ*স*হ্য য*ন্ত্র*ণা ডুকরে কেঁদে উঠলো।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১১
রুশভিয়ান চোখ বন্ধ করে নিলো। বারংবার মস্তিষ্ক বলতে লাগলো এই মেয়ের চ*রি*ত্রে দো*ষ আছে। কিন্তু মন বলছে না এই মেয়ে এমন কাজ করতে পারে না। কিন্তু সে তো নিজের চোখে ছেলেটার সাথে দেখেছে। এমনকি শাড়ীটা ছেলেটার হাতে ছিলো। রুশভিয়ান রা*গে ক্ষো*ভে পাশে থাকা বড় ফুলদানিটা মেঝেতে আছরে ফেলল। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ঝনঝন শব্দে কেঁপে উঠলো। ইনান মেঝেতে শুয়ে ভ*য়ে কুঁকড়ে গেল। রুশভিয়ানের হাতদুটো কাঁপছে। রা*গে, নাকি অন্য য*ন্ত্র*ণা*য় সে বুঝতে পারছে না। ঠিক তখনই দরজা কড়া নড়ার শব্দ হলো……
