Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৪

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৪

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৪
ফাতেমা তুজ জোহরা

তারা মাথা তুলে সামনে তাকাতেই কপালে ভাঁজ পড়লো তার । তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আইয়ুব মির্জা তার সাথে আকবর শিকদার আর কিছু লাঠিয়াল। তারা বুঝতে পারলো না কেন তাকে মা*র*লো। আর আকবর তো আইয়ুবের জাত শ*ত্রু তাহলে তাকে নিয়ে কেন তার কাছে এসেছে।আকবর বয়স পঞ্চাশ, গায়ের রং কুচকুচে কালো, মুখ ভর্তি দাঁড়ি, পরনে পাঞ্চাবি আর পাজামা। তারার ভাবনার মাঝে আইয়ুব রা**গে গ*জগ*জ করতে করতে তারার গাল বরাবর থা*%প্প*ড় বসিয়ে দিয়ে চু*ল গুলোকে শ*ক্ত করে আ*কড়ে ধরে হি*সহি*সিয়ে বলল,” ন*%ষ্টা মা*%গী তোর লেইগা আমার মির্জা মহল অপবিত্র হয়ে গিয়েছে। তোর জা*%রু*জ সন্তান আমার পুরো মির্জা মহল নোং*%রা করছে ” বলেই আরেকটা থা*%প্প*ড় মা*র*লো তারার গালে। তারা ক*%ব*রের হুমড়ি খেয়ে প*ড়ে তার কপাল কে*টে র*ক্ত বের হয়ে গেল।

আকবর এগিয়ে এসে তার নোং*রা দৃষ্টি দিয়ে তারার শরীরটাকে মেপে মুখে বি%চ্ছি*রি হাসি টেনে বলল,” আমি তোরে কইছিলাম বাচ্চাটা ন*ষ্ট কইরা দে,সারাজীবন আমার র%ক্ষি*তা হয়ে জীবন কাটাতি। তা না কইরা ওই মির্জা পরিবারের ছোট ছেলেরে লইয়া প্রে*মের খেলা মেতে উঠলি। শেষ পর্যন্ত ও তোরে রাইখা চইলা গেল, আর দিয়ে গেল তোর পেটে অ*বৈ…. আকবর বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই তারার হাতে ফটো ফ্রেম এনে আকবরের ক*পাল দিলো একটা ফ্রেমের আ%ঘা*ত। আকবর ক*পাল ধরে
পিছনে পিছিয়ে গেল। তারা ঝাঁঝালো স্বরে বলল,” আমার বুকের ধন অ%বৈ*ধ না আকবর, আমার লগে রেমান মির্জা তিন কবুল বইলা বিয়া হইছিলো। আর তুই আমার রেমানরে কাইরা নিয়েছিস ” বলেই আরেকটা আঘাত করলো কপালে।

এদিকে আইয়ুব বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আকবরের দিকে। দীর্ঘদিন যাবৎ তার ছোট পোলা রেমান এর খোঁ*জ নাই তা হইলে কি আকবর মা%র*ছে। কথাটা মস্তিষ্ক আসতে তার মনে পড়লো চিঠির কথা। যেখানে রেমান স্পষ্ট করে লিখেছে “তারা আমার জীবনটাকে ন*%ষ্ট করে দিলো, সে আমাকে বা*জে ভাবে ঠ*কিয়েছে। আইয়ুব দোটানায় পড়ে গেল। মাথার ভেতর পুরনো ক্ষ*%ত দ*গদ*গ করে জ্ব*লে উঠলো তার।
আর “তারা” কপালে র*ক্ত নিয়ে আ*হ*ত বাঘিনীর ন্যায় ফুঁ*স*ছে। আইয়ুব এগিয়ে এসে কিছু বলতে যাবে তক্ষুনি আকবর তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,” চলেন চাচা? এই মা*%গি*র লগে কথা বলতে হইবো না? এর ছেলের প্রথমে মা*র%তে পারি নাই তো কি হইছে এইবার এই দুইহাত এই মা%গির ছেলের র%*ক্তে গোসল করামু ” বলেই আইয়ুবের হাত ধরে টেনে গো%র স্থান থেকে বের হতে লাগলো।
আর এদিকে তারা আকবরের কথাশুনে তারা যেন চোখ বড়বড় করে ফেলল, সিঁরদাড়া বেয়ে বয়ে গেল ঠান্ডা স্রোত। তার ছেলে বেঁ*চে আছে এই কথাটা যেন সে বিশ্বাস করতে পারলো। নাকি তাকে মাত দেওয়ার জন্য এটা আইয়ুব আর আকবরের নতুন চাল। প্রশ্নটা মাথা এলে ও মন বললো হয়তো সত্যি তার বুকের মানিক বেঁচে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার বাচ্চার হাত পা নড়ানো দৃশ্য সাথে তার ছেলের মায়া ভরা মুখটা । সে দাঁড়ালো না দৌড়ে গিয়ে আকবরের রাস্তা ঘিরে দাঁড়িয়ে নিষ্প্রভ কন্ঠে বলল,” কি বললি?
আকবর চোখ মুখ লাল করে বলল,” সর এইখান থেইকা, আমি কিছু বলি নাই?

তারা চোখ থেকে পানি পরতে লাগলো, সে আকবরের হাত ধরে মিনতি করে বলল,” এই আকবর বল না, আমার পোলা বাঁ*ই*চা আছে না। তার কিছু হয়নাই। এই ক*ব*র, সেদিন রাতে ত%লোয়ারের র*%ক্ত গুলোন সব মিছা তাই না ! আমাকে ভেতর থেইকা ভা*ইঙ্গা দেওনের লেইগা এগুলো করছে এই আইয়ুব তাইনা!
আকবর মুখ বাঁকা করে বলল, ” আমি জানি না, সর সামনে থেইকা ” বলেই তারাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো, তারা গিয়ে প*ড়*লো একটা ঝোপঝাড়ের মধ্যে খানে গিয়ে পড়লো।
আকবর একবার তার দিকে তাকিয়ে তার মুখে ফুটলো পৈ*শা%*চি*ক হাসি, অতঃপর আইয়ুবকে নিয়ে এগিয়ে গেল। আর পিছনে পড়ে কাঁ*%টা ওয়ালা ঝোপঝাড়ে ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত হয়ে পড়ে রইলো তবু থামলো না। মনের ভেতর নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে তার, এইসবের উত্তর দিতে পারবে সায়েরা, হ্যাঁ সায়েরা পারবে। সে বলেছিলো তার সন্তান নাকি খু%*ন করা হয়েছে সে নিজের চোখে দেখেছে । তারা থামলো না ছবিতে টাকে বুকে আগলে ছুটলো তার আপা সায়েরার বাড়ি। পথের কাঁ%টা*য় তার পা বিঁ*ধে গেল তবুও পা থামলো না। তার পুরো দুনিয়া আজকে ঘুরে গিয়েছে আকবরের কথায়। তার সন্তান বেঁ*চে থাকলে আবার তাকে মা*রা*র ষ*ড়*যন্ত্র করা হবে, সে এইবার কিছুতেই তার সন্তানকে হারাবে না,পারলে সবাইকে খু*ন করবে নিজ হাতে।

রুশভিয়ান হাসপাতালের করিডোরে মাথা নিচু করে বসে আছে, পাশে সায়েরা তাকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে শান্তনা দিচ্ছে। কিন্তু রুশভিয়ান মন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না, ওই কেবিনের ওপারে তিনটি প্রান জীবন মৃ*ত্যুর সাথে লড়াই করছে। যাদের ছাড়া তার পুরো পৃথিবীটা শূন্য সে কিভাবে শান্ত থাকবে। রুশভিয়ান উঠে দাঁড়াতেই হাত টান পড়লো সায়েরা তার হাতটা শক্ত করে ধরে আছে। সায়েরা বলল,” কোথায় যাবি?
রুশভিয়ান মলিন কন্ঠে বলল, ” আমি আইতাছি ” বলেই হাতটা ছেড়ে নিয়ে চলে গেল কেবিনের কাছে, তৃষ্ণান্ত কাকের মতো তাকিয়ে রইলো কেবিনের দিকে। সায়েরা বেগম চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। মনে মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করলো তাদের তিনজনের যেন কোন ক্ষতি না হয়!

আমির একসাইডে মনম*রা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ছেলেটার মনে কেমন অনুভূতি হচ্ছে তা যেন বলার বাইরে। মনের ভেতর ভ*য়ের সাথে তার সং*শয় শুরু হয়েছে।রুশভিয়ান তারার ছেলে এই ভাবনাটাই তার মস্তিষ্কে বার বার হানা দিচ্ছে। কিন্তু একদিক থেকে তার অবুঝ মনে প্রশ্ন করছে ভাই যদি তারার সন্তান হয় তবুও তাদের কোন ক্ষ*তি করিনি। উল্টে নিজের মায়ের থেকে তাদের দুইভাইকে সবসময় বাঁ*চিয়ে রাখতো। আমিরের চোখের কোনে পানি জমলো। তার খুব ইচ্ছে করছে রুশভিয়ান ভাইয়ের বুকের মধ্যে খানে ঢুকে গিয়ে খুব কান্না করতে। বলতে ইচ্ছে করছে ও ভাই, তুমি আমার ভাই তাইনা , তুমি ওই তারার সন্তান না। কিন্তু আজকে এই কথাগুলো তার বুকের ভেতরে বাজচ্ছে মুখ ফুটে কিছু বলার সাহসটুকু হচ্ছে না। আমির মুখে হাত দিয়ে ডুকরে উঠলো, শক্ত করে মুখ চেপে ধরলো যেন কেউ তার কান্নার শব্দ না পায় কিন্তু রুশভিয়ান ঠিক শুনেছে। সে পায়ে পায়ে এগিয়ে এসে আমিরের সামনে দাঁড়ালো, এসেই শক্ত করে আমিরকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো । আমির হকচকিয়ে গিয়ে মাথা তুলে দেখলো তার রুশভিয়ান ভাই। যে ভাই তার অগোচরে প্রত্যেকদিন তার ঘরে গিয়ে তাকে দেখে আসে। জ্বর হলো সারারাত শিয়রে বসে মায়ের মতো সেবা করে তার অগোচরেই । কিন্তু আমির সব জানে, সব বুঝে।
আমির দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো । আমির না পেয়েছে বাবা মাকে না বড় ভাইকে। আরিয়ান পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকতো। তার সবটা জুড়ে রয়েছে রুশভিয়ান ।

রুশভিয়ান ভাঙা কন্ঠে বলল,” কি হইছে এত কানছিস ক্যান?
আমির বাচ্চার মতো বলল,” ও ভাই তুমি আমারে আর ভালোবাসবে না, তুমি কি তোমার মায়ের সাথে মিলাইয়া আমারে আর বড় ভাইরে মা*ই*রা ফালাইয়া দিবা?
আমির কথা শুনে রুশভিয়ানের ঠোঁটে শুকনো হাসি ফুটলো,সে বলল,” ক্যান মনে হইলো?
আমির বলল,” এমনি?
রুশভিয়ান প্রসঙ্গে পাল্টে বলল,” হয়েছে আর কিছু বলতে হইবো না, যা কিছু খাইয়া আয় মুখটা শুকাইয়া গিয়েছে ”
আমির বুঝতে পারলো তার ভাই তার কথার উত্তর দিবে না, তার সে আর কিছু জিজ্ঞেস করলো শুধু বলল,'” ভাই আমি খামু না, আমার খুদা নাই ” বলেই হাসপাতালের স্টিলের চেয়ারে বসে পড়লো। আর রুশভিয়ান কিছু বলল না, তার ও মন মেজাজ কোনটাই ভালো নেই। এক একটা সেকেন্ড তার কাছে বছরের মতো লাগছে, সে এগিয়ে গেল কেবিনের সামনে।

সন্ধ্যা সাতটা,,
তারা ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত পা নিয়ে প্রবেশ করলো হাসপাতালে । শাড়ীর আঁচল মেঝেতে পড়ে আছে, চুলগুলো এলোমেলো, কপালে র*ক্ত গুলো শুকিয়ে কপালে জমাট হয়ে লেগে আছে,সাথে দুই গা*লে পাঁ*চ আ*ঙুলের ছাপ বিদ্যমান ,পা দিয়ে র%ক্ত গড়িয়ে পড়ছে তার। তারা গিয়েছিলো সায়েরার বাড়িতে সেখানে সিয়াম সায়েরার বড় ছেলে সে বলল সায়েরা নাকি হাসপাতালে আছে। তাই সে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছে হাসপাতালে। রুপনগর হাসপাতালে এদিক সেদিক হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু কোথায় তাদের দেখতে পেল না । তবুও তারা থামলো না সে এই কেবিন থেকে সেই কেবিন খুঁজে বেড়াতে লাগলো সায়েরাকে। আর সবাই তার দিকে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে।

রুশভিয়ান কেবিনের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলো এমন সময় কেবিন থেকে বের হলো ডাক্তার নিশা, সায়েরা কলিগ আর বান্ধবী হয়। রুশভিয়ান ডাক্তার কে দেখে কি বলবে বুঝতে পারলো না, সেই সাহসটুকু যেন তার মন থেকে অচিরেই হারিয়ে গেল। শুধু বোবা মানুষের মতো করে তাকালো ডাক্তারের দিকে।
সায়েরা এগিয়ে এসে ব্যাতিব্যাস্ত গলায় বলল,”নিশা, ইনান আর বাচ্চারা কেমন আছে?
নিশা গম্ভীর হয়ে বলল,”আচ্ছা উনি আজকে কি খেয়ে ছিলেন?
আমির সাইড থেকে বলল,” গরম ভাত আর মাছ?
নিশা কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,” দেখুন ওনার শরীরে ধ*তু%রা ফলের বি%*ষ পাওয়া গেছে?
রুশভিয়ান সায়েরা আর আমির আঁ%ত*কে উঠলো ।সায়েরা বলল,” কেমন আছে এখন ইনান?
নিশা বলল,” ইনান আর বাচ্চারা ঠিক আছে, উনি যদি বমি করে না ফেলতেন,, তাহলে তিনজনের প্রান সং*শয় হতো। আল্লাহর আপনাদের আ*র্ত*না*দ শুনে তিনজনকে সহি সালামতে ফিরিয়ে দিয়েছে
সায়েরা মুখে হাত দিয়ে কেঁদে উঠলো, সাথে আমির ও। আর রুশভিয়ান চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। তার ইনান আর বা*চ্চাগুলো ঠিক আছে, যাদের নিয়ে মনের ভেতর নানা ধরনের স্বপ্ন বুনেছিলো তাদেরকে আল্লাহ আবার ফিরিয়ে দিয়েছে তার কাছে ।রুশভিয়ান নিশাকে ভাঙা গলায় বলল,” আমি দেখা করতে চাই?
নিশা বলল,” কেন নয়, উনি জেগে আছেন? কিন্তু ওনাকে কোন কথা বলতে দিবেন না, নাহলে ক্ষ*তি হবে উনার?
রুশভিয়ান মাথা নাড়িয়ে বলল,” হ্যাঁ আমি, কিছু বলতে দিবো না ওরে, শুধু একবার দেখা করমু ” বলেই কেবিনের দিকে চলে গেল।

রুশভিয়ান ধীরে ধীরে কেবিনের দরজাটা ঠেলে কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করলো। বাইরের করিডোরের ব্যাস্ততা পেরিয়ে কেবিনের ভেতরটা যেন একেবারেই অন্যরকম
।চারপাশে শুধু নিরবতা, শুধু পাশে থাকা মনিটর থেকে নিয়মিত বিপ বিপ শব্দ ভেসে আসছে। স্যালাইনের স্ট্যান্ডার্ট ইনানের বিছানের পাশে রাখা, স্বচ্ছ তরল ফোঁটা ফোঁটা তার শরীরে প্রবেশ করছে। কেবিনের মৃদু আলোয় পুরো ঘরটাকে
অদ্ভুত শান্ত লাগছে।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৩

বিছানার উপরে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে ইনান। মুখটা ঘুরিয়ে জানালার দিকে করে রাখা আছে। তাই মুখটা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু পিঠের ছড়িয়ে ছিটিয়ে চুল গুলো দেখা যাচ্ছে । রুশভিয়ানের চোখ গেল ইনানের পেটের দিকে,যেখানে তার অংশ গুলো ভালো আছে।এই ভাবনাটাই তার মনের মধ্যে একপ্রকার শান্তি এনে দিলো।
রুশভিয়ান সামনে এগিয়ে যেতেই ইনান না ঘুরেই বলল,” আমার তা*লা*ক চাই আপনার থেকে!

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here