Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১
ফাতেমা তুজ জোহরা

পু*রু*ষ*ত্ব হীন,, ছেলের সাথে আমি বাকি জীবন কাটাতে চাই না এমপি রুশভিয়ান মির্জা । একজন মে*য়ে যা চাই তা দেওয়ার ক্ষমতা আপনার নেই তাই আজকে কোর্ট দাঁড়িয়ে আপনাকে আমি তা*লা*ক দিলাম। বলেই মেয়েটি খসখসে কিছু কাগজে সাইন করার আগে তার লু*টি*য়ে পড়লো নিচে। গলগল করে র**ক্ত গড়িয়ে পড়লো মেয়েটার মাথা দিয়ে। পুরো এ*জ*লা*স রুম স্ত*ব্ধ হয়ে গেল। সবাই তাকালো এমপি রুশভিয়ান মির্জার দিকে। রুশভিয়ানের ঠোঁটে ক্রু*র হাসি এখনো হাতের ব*ন্দু*ক*টা তাক করে আছে মেয়েটার। কিয়তক্ষন থেমে আবার মেয়েটার উ*দ*র বরাবর কয়েকটি গু**লি ছেড়ে সোফায় বসে গেল আরাম করে। এজলাস রুমে উকিল, জজ সবাই থ**রথ**র করে কেঁ*পে উঠছে সামনের মানুষটাকে দেখে। এই মানুষটা কোন মানু*ষ না। আস্ত একটা শ*য়*তা*ন বললে ও কম মনে হবে সবার। এই রু*প*নগ**র শহরে তার কথা সবার আগে।

রুশভিয়ান লা***শটার দিকে তাকিয়ে হুং*কা*র ছেড়ে বলল,” আলি ”
সাথে সাথে একটা কালো মোটা লোক এসে হাজির। মাথার তেলতেলে টাক বিদ্যমান লোকটার। তাকে দেখতে একদম আফ্রিকার বংশোদ্ভূত লাগছে। লোকটা নিচু হয়ে কূর্নিশ জানিয়ে বলল,” বলেন হুজুর?
রুশভিয়ান লা*শে*র দিকে তাকিয়ে বলল,” এই শা*লি*রে লইয়া যা। আমার নাকি পু*রু*ষ*ত্ব নাই । শা**লি একদিন কাছে আসলেই তো ছুঁকছুঁক করে পালিয়ে যেতি। না পালালে তোর আমি বুঝাইয়া দিতাম এই এমপি রুশভিয়ান মির্জার কত পাওয়ার আছিলো ? তা না করে আমারে আ*প*বা*দ দাওয়া হইতাছে, ” বলেই পকেট থেকে সি*গা*রে*ট বের করে ঠোঁটে চেপে ধরে ধোঁ*য়া উঠাতে লাগলো রুশভিয়ান।
রুশভিয়ানের পরনে কালো শার্ট শার্টের উপরে তিনটে বোতাম খোলা,, আর নিচে সাদা লুঙ্গি পড়ে আছে। চুল গুলো এলোমেলো। বয়স তেত্রিশ, উচ্চতা ছয়ফুট। রুপ**ন*গ*র শহরের সদ্য নবনির্বাচিত এমপি। তাকে এক দেখায় কেউ গু*ন্ডা বলতে বাধ্য।তার পোশাক আশাক বেশভূষা দেখে।

একজন উকিল ভ*য়ে কাঁ*প*তে কাঁ*প*তে এগিয়ে এসে বলল, ” হুজুর আমাদের মা*ফ করে দিন, কত বারণ করলাম মেয়েটাকে যে হুজুরের সাথে পা*ঙ্গা না নিতে। কিন্তু ম্যাডাম আমাদের কথা শুনলো না।
রুশভিয়ান উঠে লুঙ্গির গিট টাকে শক্ত করে বেঁধে বলল,” আমারে বুঝাইতে হইবো না উকিল বাবু। তোমার মতো হাজার টা উকিল আমি জন্ম দিয়াইছি। তাই সামনে থাইকা সইরা যান নাহলে মেজাজ গরম হইলে আজকে রাইতে বৌয়ের লগে লু লু খেলিতে পাইবেন না। তার আগেই লু লু খেলার জাইগা কাইটা লইয়া চইলা যামু গা ” বলেই একগাল ধোঁ**য়া লোকটার মুখ বরাবর ছেড়ে দেয় রুশভিয়ান।
লোকটা লজ্জায় মাথা নিচু করে সরে গেল সামনে থেকে। রুশভিয়ান এক হাতে লুঙ্গির একমাথা ধরে,আরেক হাত দিয়ে সি*গা*রে*ট ফুঁকতে ফুঁকতে এগিয়ে গেল জজের দিকে। মুখে বাঁকা হাসি বিদ্যমান তার।
জজ পারেনা যে চেয়ার থেকে একলাফে উঠে পালিয়ে যায়। ভয়ে কাট হয়ে বসে রইলো একজায়গাতে। রুশভিয়ান জ্বলন্ত সিগারেট টা মুঠো মধ্যে পুরে বলল,” তা জ*জ সাহেব কয় টাকা লই*য়াছেন আক*বরের কাছ থেইকা?

জজ আমতা আমতা করে বলল, ” স্যার আমি কোন টা*কা নেয়*নি? আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।
রুশভিয়ান লুঙ্গিটাকে কোমড়ের সাথে বাঁধতে বাঁধতে বলল,” মিছা কথা কইয়েন না। এক পা ক*ব*রে চইলা গেছে গা তাহইলে মিছা কথা ক্যান বলিছেন ”
জজ ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে বলল,” বিশ্বাস করেন স্যার আমি মিথ্যা বলছি না। আপনার না…. বাকি টুকু বলার আগেই রুশভিয়ান জজের বুক বরাবর চা*র*টা গু**লি ছুড়ে দেয়।
আলী এগিয়ে এসে বলল,” বাড়ি চলেন হুজুর। ওখানে দাদা আপনারে ডাকছে?
রুশভিয়ান ব*ন্দু*ক*টা*কে কপালে ঘষা দিয়ে বলল,”আগে নিজেরে ঠান্ডা করমু তারপর হের লগে কথা কমু আমি। হের কারণে আমারে এত অ*প*মা*নিত হইতে হইলো,” বলেই গটগট করে বাইরে চলে গেল রুশভিয়ান।

পিছনে আলী এগিয়ে গেল তার হুজুরের পিছু পিছু। গোটা কো*র্ট চত্বর ফাঁকা। তারা সবাই জানে আজকে এমপি রুশভিয়ান মির্জা কো*র্টে আসবে।তা কারো সাধ্য হয়নি কোর্টে আসার।
কোর্টের সামনে সারি সারি করে সাতটা মার্সিডিজ কার দাঁড়িয়ে আছে। কারের কাছে দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো মোটাসোটা লোক। প্রত্যেকের হাত মোটা মোটা রা*ই*ফে*ল, পরনে শার্ট আর লুঙ্গি। মার্সিডিজ গাড়ির সামনে তাদের বড্ড বেমানান লাগছে। হয়তো শার্ট প্যান্ট পরলে বেশ মানানসই লাগতো। কিন্তু রুশভিয়ানের কাছে এটাই চয়েস। সে মনে প্রানে একজন বাঙালি মানুষ। তাই শার্ট প্যান্ট জুতো তার কাছে বড্ড বেমানান। তার একটাই কথা বাঁচলে বাঙালি হইয়া বাঁচমু না হইলে ম*ই*রা যামু। তার দলের প্রতিটা লোকের একই পোশাক। এদের পোশাকের কারনে লোক অনায়াসে চিনে ফেলে এগুলো এমপি রুশভিয়ান মির্জার লোক।

রুশভিয়ান এগিয়ে গেল সামনের গাড়ির দিকে একজন লোক গাড়ি দরজা খুলতে এলেই রুশভিয়ান তার কান বরাবর থাপ্পড় মেরে বলল, ” আমার হাত নাই সু*দা*নি*র ফু*য়া তোরে কেডা খুলিতে বইলো গাড়ির দরজা ?
আলী এগিয়ে এসে বলল,” হুজুর এই ছেলেটা নতুন আইছে হের লইগা নিয়মকানুন জানে!
রুশভিয়ান ছেলেটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো। আলি সামনের সিটে বসলো। এরইমধ্যে গাড়ি স্ট্যার্ট দিয়ে দেয় কংক্রিটের রাস্তায় দিয়ে এগিয়ে গেল সাতটা মার্সিডিজ গাড়ি।

আর কত ঘুমাবে মহারানী সকাল যে হয়ে গেছে এবার উঠে বাড়ির কাজ কাম গুলো করেন…. কথাগুলো রা*গী স্বরে বলল রুমি বেগম তার ননদের মেয়ে ইনান কে।
ইনান কম্বল টাকে শক্ত করে চেপে ভ**য়ে মিনমিনে স্বরে বলল, ” মামী আমার গায়ে প্রচুর জ্ব**র। তুমি একটু আজকে কাজ গুলো করে না…. বাকি কথাটুকু বলতে পারলো না ইনান তার আগেই রুমি বেগম কম্বলটাকে টেনে নিচে ফেলে দেয়। ইনান জ্ব**রে তোড়ে মেয়েটার ছোট শ*রী*র টা থরথর করে কেঁ*পে কেঁ*পে উঠছে। শুয়া অবস্থা নিজেকে আরো গুটিয়ে নেয় মেয়েটা।

রুমি ঝাঁঝালো স্বরে বলল,” তোর কতবড় সা*হ*স আমাকে তুই কাজ করতে বলিস? আমাদের ঘাড়ে খাবি আর আমাকে হুকুম দিবি ” বলেই ইনানের চু*ল গুলোকে মু*ষ্টি*ব*দ্ধ করে ধরে নেয় রুমি। ইনান ব্যা*থা*য় ডু*ক*রে কেঁ*দে উঠল।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২