Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৭

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৭

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৭
রিমঝিম বৃষ্টি

বিকেলর আলো যেনো পুরো শহরকে গোধূলির আপন রঙে ছেয়ে দিয়েছে আজ। চারপাশে যেনো ক্যানভাসের আঁকা ছবির মতো বিকেল মনে হচ্ছে। দারোয়ান দূর হতে ইয়াশ কে আসতে দেখে ছুটলো খবর দিতে। মালিকের ফ্ল্যাট এর সামনে জোরে হাঁক ছাড়লো,
” আপামনি ইয়াশ বাবা আইসা পরছে জলদি বের হন..?”
বাইরে থেকে দারোয়ান এর গলা পেয়ে ফারিশা বেরিয়ে গেলো সাথে জিসান, তুবা সহ মহিলাটাও বেরিয়ে এলো।
ইরাদ ইয়াশকে নিয়ে গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ফারিশা দৌড়ে এসে তার সামনে দাঁড় হলো। ইয়াশ মাকে দেখে ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসলো। হাত দুটো বাড়িয়ে দিলো মায়ের কোলে উঠার জন্য। ফারিশা চট করে ছেলে কোলে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো কাঁধে মাথা রাখলো ইয়াশ তাতেই যেনো ফারিশার বুক জুড়িয়ে গেলো শান্তিতে । ফারিশা লালচে হওয়া চোখ বড় বড় করে ইরাদের দিকে তাকিয়ে বললো,

” আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি আমি। কোন সাহসে আমার ছেলেকে নিয়ে গেছিলেন আপনি..? ”
ইরাদ রাগলো না এবার। শীতল চাহনি নিক্ষেপ করলো ফারিশার দিকে। শান্ত গলায় বললো,
” কথা টা একটু ভুল বললে ফারিশা। আমার ছেলে নয় বলো আমাদের ছেলে এ্যাম আই রাইট ফারিশা..?”
ফারিশা স্থির হলো ক্ষণিকের জন্য। তার বুকের মাঝে যেনো ধুকপুক করছে। এক নজর আশেপাশে তাকিয়ে ফারিশা তড়াক গলায় বললো,
” আমাদের মানে কি ও আমার সন্তান শুধু আমার, ভুলেও আর ওর কাছে আসবেন না…! ”
” আমার ছেলেকে আমার থেকে আলাদা করতে চাইছো ফারিশা। একজন বাবার ফিলিংস বুঝো তুমি। শুধু মায়েদেরই ফিলিংস থাকে না। এটা কেনো করলে তুমি ফারিশা..?”
” এতদিন কোথায় ছিলো আপনার বাবাগিরি। একটা বারও আমার খোঁজ নিয়েছেন আপনি। মরে গেছি না বেঁচে আছি খবর নিয়ে ছিলেন বলুন..?”
ইরাদ ফের কিছু বলতে গেলে ইয়াশ ঘাড় বাকিয়ে ইরাদের দিকে তাকালে ইরাদ শান্ত হয়ে যায় । ফারিশা সেদিকে তাকিয়ে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

” বাবা তুমি কী কান্না করেছো..? ”
” আম্মু মিলাদ ভালো..? ”
ফারিশা কথা বললো না কিন্তু ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে ইয়াশের কথায় এগিয়ে এসে তার মাথায় হাত দিতে গেলে পিছন থেকে জিসান বলে উঠলো,
” দূরেই থাকুন। আর না এগোনোই ঠিক হবে বুঝতে পেরেছেন মিস্টার ইরাদ..!”
জিসান এগিয়ে আসতেই ফারিশা ইয়াশকে নিয়ে ভেতরে চলে যেতে লাগলে ইরাদ হাত নামিয়ে নিলো। ইরাদ ফারিশার যাওয়ার পানে তাকিয়ে কিছুটা উঁচু গলায় গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” ফারিশা কাল আমি আবার আসবো তুমি দেখা করবে ইয়াশকে নিয়ে আর যদি না আসো তো আমি কি করতে পারি তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না কথাটা মাথায় রেখো..!”
ফারিশা শুনলো ঠিকই কিন্তু পিছন ঘুরে তাকালো না আর গটগট পায়ে ভেতরে চলে গেলো তুবার সাথে। মহিলাও আর দাঁড়ালো না যা শোনার তা সে শুনে নিয়েছে তাই ভেতরে চলে গেলো ইরাদের সব জিনিস দারোয়ানের কাছে দিয়ে। জিসান এগিয়ে এসে সোজা ইরাদের মুখোমুখি হলো। পকেটে দু’হাত গুজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আর বললো,

” এত বছর আপনার স্বামী গিরি কোথায় ছিলো মিস্টার ইরাদ। দিব্যি তো ছিলেন তারাও ছিলো ভালো হঠাৎ ঝড় তোলা কি খুব জরুরি ছিলো..?”
ইরাদ গা দুলিয়ে এবার হেসে উঠলো পাশেই দারোয়ান এর কাছে এগিয়ে গিয়ে হাতে থাকা শপিং ব্যাগগুলো ধরিয়ে দিয়ে বললো,
” এগুলো ওদের দিয়ে দিবেন। ”
তারপর নিজের জিনিসগুলো নিয়ে এগিয়ে এলো জিসানের সামনে। সেগুলো পকেটে ভরে নিজেও দু’হাত পকেটে গুঁজে দাঁড় হলো তবে তার মুখে এক ব্যঙ্গ হাসি ঝুলছে যেনো।
” যদি ভুল না বলে থাকি তুই সেই ছেলে যে ফারিশার সাথে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করতি প্লাস একই কলেজে পড়তিস তাই না..?”
জিসান শক্ত গলায় বললো,
” আর যাই করি আপনার মতো নয়। যে কি না বউকে ফেলে আরামে দিন পার করতো। আপনি ওর জীবনে না আসলে এতদিন আমার সাথে তার একটা সুন্দর সম্পর্ক হতো, সুন্দর সংসার বাঁধতাম একটা । কেনো একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করলেন বলুন তো । প্লিজ চলে যান আর আসবেন না..?”
” তোকে ধন্যবাদ ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার নেই কিন্তু যা বলেছিস এনাফ্ আর ভুলেও ওগুলো মুখে আনবি না। আমি আমার স্ত্রী আর সন্তানের সাথে কীভাবে চলবো তা আমি বুঝে নিবো। আমি হয় বা সে হোক, যদি কোনো ভুল করি শুধরে নিবো তবুও তারা আমারই। সো প্লিজ ওদের এতটা ক্লোজ হওয়ারও চেষ্টা করবি না..? ”

ইরাদের কথায় জিসান হাত তালি দিয়ে হেসে উঠলো আর বললো,
” থ্রেড দিচ্ছেন মনে হলো। ইয়াশ আপনাকে কখনো বাবা বলে মেনে নিবে তো আর ফারিশা…….
এতটুকু বলেই জিসান ভাবান্তর হলো থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো,
” এতগুলো বছর আমি পাশে ছিলাম আপনার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নাকি। একটা সাত দিনের সদ্য বাচ্চাকে নিয়ে যখন ফুটপাতে ঘুরপাক খাচ্ছিলো শীতের মাঝে তখন কোথায় ছিলো আপনার এই স্বামী গিরি। ইউ নো হোয়াট, ইউ আর রিয়েলি ক্রেজি বয়। আপনার অস্তিত্ব নেই হয়ে যাক আমি চায়। ইয়াশ আপনাকে কখনো বাবা বলবে না..? ”
” ব্যাপার টা ঠিক এমন হলো না যে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। ”
ইরাদের কথায় জিসান মুখ কিছুটা বাকিয়ে পাশে ঘুরে তাকাতেই ইরাদ জিসানের কাছে এগিয়ে এসে কিছুটা ঝুঁকে এলো আর ভারী গলায় ফের বললো,
” অতি আশা ভালো না জিসান শিকদার পেট খারাপ করবে! “,
বলেই ইরাদ এক চোখ মারলো জিসানকে তারপর ইরাদ সোজা পিছন ঘুরে গাড়ির কাছে গিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। জিসান তা দেখে রাগে হাত দু’টো মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললো।

কেটে গেছে গত দু’দিন এর মাঝে ইরাদের নেই কোনো দেখা তা দেখে জিসান বেশ খুশি হয়েছে ভেবেছে হয়তো আর আসবে না তার কথায় কাজ হয়েছে তাহলে। রাত হতেই ফারিশার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইয়াশের জন্য একটা সুন্দর খেলনা গাড়ি, পেস্ট্রি আর সাথে কিছু চিপস্ কিনেছে তা দেওয়ার জন্যই দাঁড়িয়ে আছে। গত দু’দিনে ফারিশা ছেলেকে এক চুলও নড়তে দেয় নি তার কাছ থেকে আর না নিজে কোথাও গিয়েছে। একটা ইনর্কোস পরীক্ষা মিস দিয়েছে যার জন্য তাকে জরিমানা হিসেবে তিনশত টাকা দিতে হবে কিন্তু সে ছেলের জন্য তা খরচ করতেও রাজি। ক্যাফেতেও যাওয়া হয়নি তার শুধু রুমের মধ্যেই বসে থাকে সারাদিন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই দু’দিনে এ বাড়ির সামনে ইরাদের ছায়াও পরে নি তা দেখে ফারিশা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছে শুধু। আশা করেনি ভাগ্যিস।

” জিসান আসছে ফারিশা আসতে বলবো ওপরে..?”
তুবার কথায় ফারিশা মুখ তুলে তাকালো আর বললো,
” এত রাতে কেন..?”
ইয়াশ গাড়ি নিয়ে খেলতে খেলতে তুবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” জিতান…!”
তুবা ইয়াশের মাথার চুল এলোমেলো করে বলে উঠলো,
” জি পাজী তোমার জন্য চিপস্ নিয়ে আসছে..! বললাম আসতে..?”,
বলেই তুবা বেলকনিতে গেলো তাকে আসতে বলতে ফারিশা বিছানার পাশ থেকে ওড়না নিয়ে মাথায় সুন্দর করে পেঁচিয়ে নিলো।
জিসান আসতেই দরজা খুলে দিলে ভেতরে ঢুকতেই ইয়াশ দৌড়ে এসে জিসানের কোলে উঠে পড়ে। জিসান কোলে নিতেই বলে উঠলো,
” এই যে কিউট বয় কেমন আছেন আপনি.? দোকানে আসেন না কেন হুম..?”
” আম্মু দায় ( যায়) না..?”
ইয়াশের কোথায় পাশে থাকা ব্যাগ টা উঁচিয়ে ধরে বললো,

” এই দেখো কী এনেছি খাবে এগুলো..?”
ইয়াশ জিসানের গালে একটা চুমু দিয়ে বললো,
” আমি চিপ খাবো..?”
ইয়াশ কে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে চিপস্ বের করে হাতে দিতেই তুবা ইয়াশ কে নিয়ে সোফায় বসলো। ফারিশা এগিয়ে এসে বললো,
” এসব বাইরের খাবার কেনো আনলি তার ওপর তুই সব ওকে দেখালি, এখন সব না খাওয়া অব্দি ও পাগল বানিয়ে ছাড়বে তুই যে কী করিস না..?”
জিসান হেসে ব্যাগ টা ফারিশাকে দিতে দিতে বললো,
” খেয়ে ফেলুক আবার এনে দিবো..?”
” এত টাকা নষ্ট করার মানেই হয় না জিসান। এত রাতে এখানে কেনো এসেছিস আন্টি বাড়ি ফিরে তোকে না পেলে চিন্তিত হবে আবার…!”
জিসান ইয়াশের পাশে বসে বললো,

” তুই কী আমাকে বাচ্চা পেয়েছিস যে মা চিন্তা
করবে..? তোদেরকে একটা কথা বলতে এসেছি
আমি.? ”
ফারিশা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বললো,
” বল কী বলবি..?”
” আমার না হসপিটাল থেকে একটা অফার এসেছে জবের জন্য ভালো পদেরই ভাবছি জয়েন করবো..?”
” ভালো তো কর…!”
তুবাও পাশ থেকে প্রফুল্ল হয়ে বললো,
” মিষ্টি খাওয়া দোস্ত…! ”
জিসান ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বললো,
” অবশ্যই সবাইকে খাওয়াবো। কিন্তু তোরা ক্যাফেতে আয় আমার ভালো লাগছে না তোদের ছাড়া..!”
” সম্ভব না কিছু দিন যাক বলেছি তো তোকে..?”
ফারিশার কথায় জিসান ইয়াশকে নিজের বাহুদ্বরে নিয়ে বললো,
” আমি ইয়াশ কে দেখে রাখবো ট্রাস্ট মি..? ”
” তুই বাড়ি যা জিসান অনেক লেইট হয়ে গেছে আরেকটু পরে দারোয়ান গেইট বন্ধ করে দিবে তখন তোর সমস্যা হবে..! “,
বলেই ফারিশা ঘরে চলে গেলো তুবা আস্তে করে বলে উঠলো,
” লাভ নেই বলে তুই বাড়ি যা এখন..!”
জিসান আর দাঁড়ালো না ইয়াশকে বলে চলে গেলো।

পরেরদিন সকাল প্রায় ১০ টার দিকে অফিসের কেবিনে বসে আছে ইরাদ আর তিহান সাথে আরও অনেকেই । সেদিন ফারিশার সাথে তার দেখা করার কথা ছিলো কিন্তু হেডকোয়ার্টার থেকে সিও এর ডাকে তাকে অফিস আসতে হয়েছে। নতুন হিসেবে তারা বিদেশ থেকে যেহুত বাংলাদেশে সেটেল্ড হয়েছে তাই কিছু ফর্মালিটিস্ ঠিক করতে হচ্ছে তাদের আর সেই নিয়েই গত দু’দিন তারা সেই কাজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইরাদ গত দু’দিন ছেলের মুখ দেখতে না পেয়ে কাজও করছে যেনো অস্থিরতার সাথে তা তিহান ঠিকই খেয়াল করেছে। তাদের ইন-প্রসেসিংয়ের কাজ প্রায় শেষের দিকে এখন শুধু সিও স্যারের থেকে আউট-সাইন টা দিলেই কাজ শেষ কিন্তু যিনি নিবেন সে এখনো আসে নি তাই বসে আছে সবাই। তিহান ইরাদ কে প্রশ্ন করলো,
” আচ্ছা ক্যাপ্টেন আপনি ওর ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে কেনো টেস্ট করালেন যখন জানেনই ও আপনার ছেলে..?”
সেদিন ইয়াশকে নিয়ে মার্কেট থেকে তিহানের ভাইয়ের কাছে গেছিলো। তিহানের ভাই হসপিটালের একজন ডাক্তার, তিহানের পরামর্শেই ইরাদ তার কাছে যায় আর সুযোগ বুঝে ইয়াশের ব্লাড নেই। ইরাদ তিহানের কথায় ফোন স্ক্রল করতে করতেই বললো,

” প্রুফ লাগবে তবে আমার জন্য নয় কারণ আছে সময়মতো জানতে পারবি । আমি আমার সন্তানকে কে চিনবো না তা কখনো হয় নাকি? ওটা প্রয়োজন আমার কারণ খুব শীঘ্রই তাদের আমার কাছে আনার ব্যবস্থা করবো তিহান। আমি ছেলেকে ছাড়া এক মুর্হুত থাকতে পারছি না। তার ওপর সেদিন ছেলেকে যে অবস্থায় দেখেছি বিশ্বাস কর আমার জায়গায় কোনো মেয়ে থাকলে কােদে ফেলতো বোধহয়.। ”
” ওই বুড়ির ব্যবস্থা করা উচিত ক্যাপ্টেন..?”
ইরাদের ভ্রু কিছুটা কুঁচকে গেলো। ফোন টা পকেটে ঢুকিয়ে তিহান দিকে তাকিয়ে বললো,
” তুই ক্যাপ্টেন বলা টা বাদ দিবি, ডিউটির বাইরে আমি তোর বন্ধু । ”
তিহান মুচকি হেসে উঠলো আর বললো,
” কী করবো বল, অভ্যাস হয়ে গেছে রে..!”
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠায় ইরাদ হাই তুলতে তুলতে বললো,
” বুড়ি দু’দিন বাদে রাস্তায় প্লেট নিয়ে বসবে বুঝলি তো, ওর বাড়ি গেলো বলে কি? ”
তিহান কিছুটা কৌতুহল হয়ে বললো,

” কিভাবে..? ”
” সময় হলেই দেখতে পাবি..! বাড়ি যেতে হবে দ্রুত রে আসছে না কেন স্যার..? ”
কয়েক মিনিট বাদেই কমান্ডিং অফিসার আসলে সবাই তাদের ফিনিশিং কাজ শেষ করতেই তিনি সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন-কল লিভ দেন আর জানান পরবর্তী নির্দেশের জন্য ই-মেইল ও অফিশিয়াল মেসেজের দিকে খেয়াল রাখতে। কাজ শেষ হতেই ইরাদ আর বসলো না দ্রুত বেরিয়ে গেলো বাড়ির দিকে।

” শিউলি ইমদাদুল আসলে আমার ঘরে পাঠাস তো! ”
আয়েশার কথায় শিউলি টেবিল মুছতে মুছতে বললো,
” আচ্ছা বলে দিচ্ছি আমি..! দাদী তোমার পান লাগবো নাকি আজ, বানিয়ে দিবো কি..?”
” এখন আর খাবো না বিকেলে দিস..!”
আয়েশা ঘরে গিয়ে বসতেই ইমদাদুল বাইরে থেকে ডেকে বসলো,
” মা ডেকেছো আমায় তাড়াতাড়ি বলো অফিস যাবো..?”
আয়েশা মুখ খিঁচড়ে উঠলো,
” তোর কাজই তো আগে পোলা আইসে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেছোস্ না কেন? ”
ইমদাদুল ভেতরে এসে বললো,
” সেদিন তো দেখলে কি রাগ দেখালো আবার বিয়ের কথা বললে এ বাড়ি আস্ত রাখবে ও..?”
আয়েশা গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” শুন আমি বলি কী, তুই কাল বাড়িতে সবাইকে দাওয়াত দে, এই ধর তোর ফুফু শাশুড়ী, তোর শালা, তোর বন্ধু আর সেই সুযোগে কাবিশার পুরো পরিবারকেও দাওয়াত দে। বাড়িতে আন দেখ মিল করতে পারিস কি না..?”
ইমদাদুল ভাবান্তর হয়ে গেলো আর বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৬

” আচ্ছা দেখছি একবার ইরাদের মাকে বলে দেখি..?”
” বউকে সব জানানো লাগবে কেন? শুধু বলবি শশুর বাড়ির লোকজনকে আসতে বলো ওরা ইরাদ কে দেখে যাবে! ”
ইমদাদুল মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বেরিয়ে গেলো নিজের রুমের দিকে।

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৮