তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৬
রিমঝিম বৃষ্টি
দুপুর ১২ টা বাজতেই সাবাহ্ কোচিং করে বের হলো। আজ আর সে বোরকা পড়ে বের হয় নি। চুলগুলো সুন্দর করে হেয়ারব্যান্ড দিয়ে বেঁধে রেখেছে। তার পরনে শুভ্র সাদা আর নীল মিশ্রণের একটা থ্রিপিস । সাবাহ্ আর পাঁচ টা মেয়েদের মতো সুন্দর না শ্যামবর্ণের হবে তবুও মুখের গঠনের জন্য তার গায়ের রঙ ফিকে যেনো। ডাগরডোগর এক জোড়া চোখে সবসময় কাজল রাঙানোই থাকে ঠিক যেনো মনে হয় কাজল চোখের মেয়ে, পড়াশোনার মেধা থাকলেও সে একজন মনভুলো মেয়ে এই ধরুন, পরীক্ষায় ভুল উত্তর লিখেছে নাকি সঠিক উত্তর লিখেছে বাড়িতে এসেছে সেটাই মনে করতে পারে না এর জন্য তমা আর ইভানের হাতে কত যে মাইর খায় তার হিসেব নেই কোনো । কোচিং থেকে বের হতেই বাইরে হাটা ধরলে পাশে এসে দাঁড় হলো তার ক্লাসমেট ছাদ।
” কি রে আজ মুড অফ কেন তোর..?”
” আজ আসতে চাইলাম না কিন্তু আম্মু জোর করে পাঠিয়েছে..? ”
ছাদ ভ্রু কুঁচকে তাকালো আর বললো,
” কেনো আসতে চাইলি না তুই..? ”
” ভাইয়া আসলো এত বছর পর ভাবলাম গীফট নিবো, একটু গল্প করবো কিন্তু না সারাক্ষণ শুধু সবাই পড়া পড়া করে। এই পড়া যে তৈরি করেছিলো তাকে ধরতে পারলে চিবিয়ে খেতাম..!”
সাবাহ্ কে গাল ফুলিয়ে থাকতে দেখে ছাদ তার গাল টানার জন্য হাত বাড়াতে গিয়ে আর বাড়ালো না কারোর কন্ঠস্বর পেয়ে সরিয়ে নিলো ।
” সাবাহ্..! ”
সাবাহ্ কারোর ডাক শুনে গলির মোড়ে তাকাতেই ইভানকে দেখে বেশ অবাক হলো। ইভানের পরনে আর কালো গেঞ্জি আর তার ওপরে কালো শার্ট, শার্টের বোতামগুলো সব খোলা, মাথার চুলগুলো জেল দিয়ে সুন্দর করে এক সাইড করে রেখেছে । ইভান দেখতে ঠিক তার ভাইয়ের মতোই সুন্দর তবে তার ভাইয়ের চেয়ে একটু খাটো হবে সে । ইভান বাইকে বসে বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। তার বন্ধুর বাড়ি এই এলাকাতেই হওয়ায় এসেছিলো এখানে আড্ডা দিতে। এর মাঝেই সাবাহ্ কে চোখে পড়লো। এগিয়ে গেলো সাবাহ্ আর পাশে থাকা ছেলেটাকে দেখে ইভান শীতল চাহনি তাক করলো ছেলেটার দিকে ছেলেটার চুলে হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” তা ভাই পড়তে আসছো পড়াশোনাই করো ঠিক আছে এরকম গায়ে পড়তে এসো না, পড়ে দেখা গেলো নিজের গায়েই পড়াশোনার সিল পেয়ে যাবে..!”,
ছাদ এক নজর তাকিয়ে সাবাহ্ কে বিদায় দিয়ে সামনে চলে যেতেই সাবাহ্ চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকিয়ে বললো,
” ইভান ভাই এখানে কেনো তুমি..?”
ইভান শার্টের কলার ঝাঁকিয়ে বললো,
” বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসছিলাম। ভাগ্যিস এসেছিলাম তুই এসব করতে আছিস দাঁড়া আজ বাড়ি গিয়ে তোর বাইরে আসা বন্ধ করবো আগে..! ”
সাবাহ্ ইভানের গেঞ্জির মাঝে চশমাটা ঝুলিয়ে রাখতে দেখে এক টানে নিয়ে নিজের চোখে পড়ে বললো,
” ভালোই হবে পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না আমার। এমনিতেও হাত পুড়িয়ে সেই রান্নায় করতে হবে তার চেয়ে আগে আগে বিয়ে করে নেওয়া ভালো..!”
ইভান সাবাহ্’র কান টেনে ধরে বললো,
” খুব পেকেছিস তাই না..! ”
ইভানের বন্ধু এতক্ষণে এগিয়ে এসে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো সাবাহ্’র দিকে। দু’জনের ঝগড়ার মাঝে তার বন্ধু লাবিব বলে উঠলো,
” ইভান এই পিচ্চি টা কে রে? ”
ইভান সামনে তাকাতেই দেখলো তার বন্ধুর দৃষ্টি কেবল সাবাহ্’র দিকে। সাবাহ্’ও এদিকে মুখ ঘুরিয়ে তার বন্ধুর দিকে তাকাতে যাচ্ছিলো আর ওমনি ইভান শার্টের এক সাইড টেনে সাবাহ্ কে নিজের কাছে টেনে মুখ ঢেকে চেপে ধরলো আর বললো,
” লাবিব বাড়ি যা আজ আর আড্ডা দিবো না যা..! ”
এদিকে সাবাহ্ ছোটাছুটি করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য তা দেখে লাবিব ফের কিছু বলতে গেলে ইভানের রাগী মুখ দেখে দ্রুত পিছন ঘুরে বাইক নিয়ে চলে গেলো। লাবিব চলে যেতেই ইভান সাবাহ্ কে ছেড়ে দিলে সাবাহ্ সরে গিয়ে মাথার চুল ঠিক করতে করতে বললো,
” বাড়ি গিয়ে সব বলবো ফাজিল ভাই একটা..? ”
” বল কানী বেডী একটা..! বোরকা কয় তোর..? “,
বলেই রেগে সামনে গিয়ে বাইকে বসে পড়লো। সাবাহ্ সেদিকে তাকিয়ে মুখ বাকিয়ে রিক্সা ধরার জন্য দাঁড়ালে পাশ থেকে ইভান আঁড়চোখে তাকিয়ে গুনগুনিয়ে বলে উঠলো,
” কেউ যদি ঢাকা ভার্সিটি দেখতে চায় তো তাকে আজ ফ্রি তে ঘোরাতে পারি,শুধু আজই তার সুযোগ। যদি না গ্রহণ করে সে সুযোগ তাহলে এডমিশনের আগে আর সেখানে পা দিতে পারবে না সে। সুযোগ! সুযোগ! লম্বা সুযোগ! ”
ইভানের বলতে দেরি হলেও সাবাহ্’র বসা হয়ে গেছে বাইকে। কখনো ঢাকা ভার্সিটিতে সে যায় নি, তার সব বন্ধু-বান্ধবীরা গেলেও সে যেতে পারেনি এই ইভানের জন্য। ইভান বলেছে ” যদি তুই চান্স পেয়ে যাস তো তবেই ওখানে যাবি এর আগে নয় এর আগে ওখানে পা দিলেও তোর পা ভেঙে দিবো ” সেই জন্যই সে যেতে পারেন। আজ সুযোগ পেয়েছে তা হাতছাড়া করবে কীভাবে সে। সাবাহ্ কে বসতে দেখে ইভান ঘাড় বাকিয়ে পিছনে তাকিয়ে বললো,
” লাস্ট ওয়ার্কিং দিলাম এরপর থেকে বোরকা ছাড়া বাইরে আসলে তোর চোখ দুটো তুলে আমি নর্দমায় ফেলো আসবো..!”
সাবাহ্ খুশির ঠেলায় মিষ্টি হেসে বললো,
” ওকে…!”
তারপর দু’জনেই বাইক নিয়ে চলে গেলো।
প্রতিদিনের মতো ক্যাফেতে জিসান আজও সকাল সকাল এসেছিলো। ফারিশার পরীক্ষার কথা শুনে জিহাদ কে রেখেই সে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে তাদের নিতে। জিসানের পরিবার বেশ বড় বলায় যায় তার বাবা একজন কম্পিউটার ইন্জিনিয়ারিং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করে মাস গেলে বেতন প্রায় ষাট বা সত্তর হাজারের ওপরে আর তার মা হসপিটালের জব করে। জিসান ঢাকা ভার্সিটির রসায়ন বিভাগের স্টুডেন্ট। পরিবারের মধ্যে জিসান ছোট হলেও দুই বোনের পরে সে তাই তার আদরের শেষ নেই। তার বড় দুই বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে অল্প বয়স থাকতেই এখন জিসানকে নিয়ে তার মা-বাবা থাকে। জিসানের পরনে একটা বাদামি রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট। গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলো তাদের জন্যই। ফারিশাকে খুঁজতে খুঁজতে তার চোখে পড়লো ফারিশাকে।
ফারিশা বোধহয় এখানে এইসময় জিসান কে আশা করে নি। কিছুটা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো। জিসান ফারিশার তাকানো দেখে মুচকি হেসে এগিয়ে এসে বললো,
” পরীক্ষা শেষ তোদের..?”
” তা তো শেষ কিন্তু তুই এই সময়..?”
তুবার কথায় জিসান মাথা চুলকে চোখ ঘুরিয়ে বললো,
” আসলে এখানে এসেছিলাম একটা কাজে তাই ভাবলাম তোরা আছিস কি না তাই দেখতে। তো ইয়াশ কোথায় আমার কাছে দিয়ে গেলি না কেন আজ..?”
ফারিশা জিসানের গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কিছুটা মুখ ভার করে বললো,
” জানিস তো কাল কি হলো আর জিজ্ঞেস করিস না কিছু ভালো লাগছে না পৌছে দে তাড়াতাড়ি..! “,
বলেই গাড়িতে উঠে বসলে জিসান তুবার দিকে তাকিয়ে কিছু বললে তুবা ইশারায় চুপ থাকতে বললো তারপর দু’জনেই এগিয়ে গেলো। গাড়িতে বসতেই গাড়ি স্টার্ট করলো।
প্রায় বিশ মিনিট পর ফিরলো বাড়িতে। গাড়ি থেকে নামলো তিনজনই। বাইরে এসে জিসান বললো,
” কাল তো পরীক্ষা নেই ক্যাফেতে আছিস দু’জনেই..! ”
ফারিশা মাথা দুলিয়ে বললো,
” আচ্ছা..! ”
” আপামনি আইসেন আপনি..?”
দারোয়ানের কথায় ফারিশা সোজা পিছন ঘুরে গেইটের পাশে তাকালো। দারোয়ান ফারিশার তাকানো দেখে এগিয়ে এসে বললো,
” আপামনি আপনার কোনো বন্ধু এসেছিলো বোধহয়।”
ফারিশার কপাল কুঁচকে গেলো বন্ধু বলতে তো তার শুধু জিসান আর জাহিদই তবে এলো টা কে। নিচু গলায় বললো,
” নাম কী কাকা? আমার তো তেমন বন্ধু নেই..?”
” কি জানি আপা। উনি বললো আপনি নাকি তারে বলছেন এইখানে ফ্ল্যাট খালি আছে তাই আইছিলো..!”
দারোয়ানের কথায় ফারিশা কিছুটা ঘাবড়ালো। তুবা আর জিসান এগিয়ে এসে জিসান পকেট থেকে ফোন বের জিহাদের পিক দেখিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” দেখুন তো এ এসেছিলো নাকি..?”
দারোয়ান স্ক্রিনে ভালো করে তাকিয়ে বললো,
” না স্যার । কিন্তু উনি ঠিক মতো পরিচয় দেয় নাই। একবার বলে হাসবেন্ড তো আরেকবার বলে বন্ধু। পরে ভেতরে গিয়ে মালিকের সাথে কথা বলছে। ”
হাসবেন্ড নাম টা শুনতেই ফারিশার বুক কেঁপে উঠল আচ্ছা ইরাদ এসেছিলো নাকি কিন্তু ঠিকানা পেলো কীভাবে । ফারিশা চমকালো কিছুটা কম্পিত গলায় বলে উঠলো,
” আমার ইয়াশ কোথায়..?”,
বলেই ভেতরে হনহনিয়ে ছুটলে সাথে তুবাও ছুটলো। এদিকে জিসান এগিয়ে এসে দারোয়ান কে বললো,
” আপনি কী ইয়াশ কে বের হতে দেখেছেন..? ”
দারোয়ান এবার আমতা আমতা করে বললো,
” স্যার আমি তো পাহারাতেই ছিলাম শুধু এর মাঝে একটু ওয়াশরুমে গেছিলাম ঠিক বলতে পারছি না তাই কিন্তু ভেতরেই আছে দেখেন বাইরে যাবে কেন..?”
জিসান চোয়াল শক্ত করে ভেতরে চলে গেলো দ্রুত।
একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্টে এসে বসেছে দু’জনেই কিছুক্ষণ আগে ইরাদ ইয়াশকে নিয়ে মার্কেট থেকে বেরিয়ে এখানে এসেছে। পাশের চেয়ারে প্রায় ২০টারও বেশি শপিং ব্যাগ রাখা যেখানে শার্ট থেকে শুরু করে গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট, ফুলপ্যান্ট, জুতো সব কিনেছে প্রায় ডজন ভাবে। ইয়াশও বেশ খুশি হয়েছে নতুন নতুন জামা-কাপড় দেখে। ইয়াশ চেয়ারে বসে পা দোলাতে দোলাতে ইরাদকে বলে উঠলো,
” কী খাবো..?”
ইরাদ টেবিলের ওপর দু’হাত রেখে বললো,
” তুমি কী খাও বলো তো? মানে তোমার কী খেতে ভালো লাগে.?”
ইয়াশ চকচকে দাঁতগুলো বের করে আদো আদো সুরে বলে উঠলো,
” মুগগি..!”
” মুরগি…!”
ইরাদের কথায় ইয়াশ মাথা দোলাতেই ইরাদ নিজের থুতনিতে হাত রেখে ফিক করে হেসে দিলো। হাসার ফলে ইরাদের বাম গালে সুন্দর করে টোল পড়লো যা ইয়াশের চোখে পড়লো । ওয়েটারকে ডেকে এক প্লেট মোরগ পোলাও অর্ডার দিলো। ইয়াশের ইরাদের টোল চোখে পড়তেই হাত উঁচিয়ে দিতেই ইরাদ ভ্রু কুঁচকে তাকালো সেদিকে । ইরাদের ওমন চাহনি দেখে ইয়াশ হাত নামাতে গেলে ইরাদ বলে উঠলো,
” কি নিবা..?”
” তোমাল ওইটা কী..?”
ইরাদের মুখের দিকে দেখালে ইরাদ মুখে হাত দিয়ে চেক করতে করতে বললো,
” কোথায়..?”
ইয়াশ ফের হাত উঁচু করলে তার ছোট্ট হাতখানা পৌছালো না তা দেখে ইরাদ উঠে গিয়ে এবার ইয়াশের পাশে বসে ইয়াশকে কোলে নিলে ইয়াশ ঘাড় বাঁকিয়ে ইরাদের গালে হাত দিয়ে বললো,
” একানে গোল কী..?”,
বলেই ইয়াশ আঙুলগুলো তার গালে ছুঁইয়ে দিলে ইরাদ শীতল চাহনিতে ইয়াশের দিকে তাকালো। আপনাআপনি যেনো নিজের হাতখানা রাখলো ইয়াশের গালে। আদুরে গলায় বললো,
” বাবা ওইটা টোল তুমি বড় হও তোমারও হবে..?”
ইয়াশ মাথা নাড়িয়ে বুঝলো তা। এর মাঝেই খাবার নিয়ে আসতেই। ইরাদ নিজেই ইয়াশকে খাইয়ে দিতে লাগলো।
” আচ্ছা ওই দাদী টা কী তোমায় সবসময় পানি দিয়ে ভাত খেতে দেয়..?”
ইয়াশ মাথা দুলিয়ে বললো,
” হুম…!”
ইরাদ আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না ওদের ব্যবস্থা তো সে করেই ছাড়বে তার ছেলেকে এসব খাওয়ায়। বাইরে থেকে আসরের আযান কানে ভেসে আসতেই ইয়াশ খেতে খেতে বললো,
” আমি বালি ( বাড়ি) যাবো..?”
” হুম যাবো তো এটা আরেকটু খাও..?”
” না এটা খাবো না, আমি ঠান্ডা মাম খাবো..?”
ইরাদ সামনে থাকা গ্লাসের পানি এগিয়ে ইয়াশের মুখের সামনে ধরতেই বললো,
” নাও খাও..?”
ইয়াশ নাক ছিটকে মুখ ঘুরিয়ে বললো,
” এটা না ওইটা…!”,
বলেই এক সাইডে থাকা ভিসি কুলারের ভেতরে থাকা জুস দেখালো। ইরাদ ওয়েটার কে ডেকে দুটো জুস নিয়ে বিল দিয়ে বেরিয়ে গেলো। রাস্তার ফুটপাত দিয়ে ইরাদ হাটছে তার কোলে ইয়াশ আর অন্য হাতে শপিং ব্যাগগুলো। শানিবার হওয়ায় আজ রাস্তায় তেমন ব্যস্ততা নেই আর না আছে কোনো কোলাহল। মাঝে মাঝে কয়েকটা রিক্সা যাতায়াড করছে শুধু। ইরাদ এক নজর ছেলের দিকে তাকালো। আজকের দিনটা যেনো তার কাছে এক অনুভূতির সাক্ষী হলো। এভাবে তো সে পুরো জীবন কাটাতে পারতো, কেনো তার জীবন থেকে গোটা কয়েক বছর তার ছেলেকে আলাদা করলো ফারিশা। ফারিশার সাথে তার কথা বলা খুব জরুরি। ইয়াশকে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরলো। হাটতে হাটতে ইয়াশ ইরাদের গলায় হাত জড়িয়ে রেখে বললো,
” তোমাল নাম কি..?”
” ইরাদ..!”
” মিলাদ…!”
ইরাদ ঠোঁট জোড়া জিভ দিয়ে ভিজিয়ে ফের বললো,
” উহু ইরাদ হবে বাবা বলো ই..রা..দ..?”
ইয়াশ হেসে বলে উঠলো,
” মিলাদ…!”,
ইয়াশের কথায় এবার ইরাদও হেসে উঠলো। ঠোঁট জোড়া উল্টে বললো,
” আচ্ছা যাও আমি তোমার মিলাদ..!”
” আপনি কোন সাহসে আমার ছেলকে অপরিচিত কারোর সাথে যেতে দিলেন বিকেল হয়ে এলো এখনো ফিরলো না।”
ফারিশার কান্না দেখে তুবা তাকে সাত্ত্বনা দিচ্ছে তবুও মায়ের মন ছেলের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ছে বারবার। জিসান রেগে চেঁচিয়ে বললো,
” আপনাদের নামে আমি কেইস দিবো যদি ইয়াশ আজ না ফিরে..? ”
মহিলাটা মুখ ভেঙচিয়ে বললো,
” নিজে প্রেম-পরিত্তি করে বেড়ায় আবার বাড়ির ঠিকানাও দিয়ে দেয় আমরা কি করে জানবো সে এই কাজ করবে..?”
পাশ থেকে তার জামাই এগিয়ে এসে ইরাদের সব জিনিস টেবিলের রাখলো আর বললো,
” দেখুন চিনেন নাকি ওকে। আর শুনুন এর পর থেকে ওকে আমাদের কাছে দিয়ে যাবেন না..?”,
বলেই চলে গেলো রুমে। ফারিশা সামনে থাকা আইডেন্টিটি কার্ড টা হাতে নিতেই ধমকালো। সে যা ধারণা করেছিলো তা আসলে ঠিক তারমানে ইরাদই ইয়াশ কে নিয়ে গেছে। ফারিশা জিসানের দিকে তাকিয়ে বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৫
” জিসান আমার ছেলেকে নিয়ে ফিরবে তো ও। আমি ইয়াশকে ছাড়া থাকতে পারবো না জিসান, আমার ছেলেকে এনে দে তোরা..?”,
বলেই কাঁদতে লাগলো। জিসান আইডেন্টিটি কার্ড টা ফারিশার থেকে কেড়ে নিজে হাতে নিয়ে দেখলো ইরাদের তা দেখে রেগে উঠলো যেনো। ভারী গলায় বললো,
” ফারিশা কাঁদিস না আমি দেখছি..?”
