তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৮
রিমঝিম বৃষ্টি
রাত হওয়ার আগমন যেনো, সন্ধ্যা নেমে এসেছে চারিদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। ফারিশা ইয়াশ কে নিয়ে আজ বিকেলে একটু ক্যাফেতে গেছিলো। ইরাদকে আসতে না দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে যেনো। ইয়াশকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো। গেইটের সামনে আসতেই দেখতে পেলো তিন ভাড়াটিয়া সব জিনিসপত্র গুছিয়ে ট্রাকে ভর্তি করছে। বাড়ির সামনে বড় বড় তিনটে ট্রাক তিনজনের জন্য এসেছে । ফারিশা তা দেখে এগিয়ে এসে দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলো ,
” কাকা এরা এইসময় চলে যাচ্ছে কেনো, তার ওপর আবার তিন ফ্যামিলি মনে হচ্ছে..?”
দারোয়ান চিন্তিত গলায় বললো,
” আমিও সঠিক বলতে পারলাম না আপামনি কিন্তু শুনলাম বাড়ির মালিক নাকি সবার সাথে দুর্ব্যবহার করছে তাই নাকি কেউ থাকবো না নাকি আর। তিন তলা
তো পুরোই খালি করে ফেলছে..! ”
ফারিশা ওদের দিকে তাকিয়ে বললো,
” কিন্তু এভাবে ভাড়াটিয়া হাতছাড়া করার মহিলা তো উনি নন হঠাৎ কি হলো..?”
” আপামনি আপনি এসবে জোড়াতে আইসেন না ওদের ব্যাপার ওরা বুঝে নিক..!”
ফারিশা আর দাঁড়ালো না সোজা হাঁটতে লাগলে ইয়াশ মায়ের হাত টেনে বললো,
” আম্মু পা ব্যাতা কলছে….?”
ফারিশা ইয়াশকে কোলে তুলে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বললো,
” সামান্য হাটিয়েছি তাতেই পা ব্যাথা করছে দুষ্ট ছেলে..?”
” ওওওওও..!”
” ওরে পাজী মাকে ধমকাচ্ছে দাঁড়া..! “,
বলেই ইয়াশকে কাতুকুতু দিতে দিতে হাটতে লাগলো সাথে ইয়াশ খিলখিলিয়ে হাসতে লাগলো। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতেই তিনজনই খেতে বসলো। আজ তুবা বাড়িতেই ছিলো জন্য সবজি তরকারি, ভাত আর ডিম সিদ্ধ রান্না করে রেখেছিলো ইয়াশের জন্য। দু’জন খেতে বসলো সাথে ইয়াশও। ইয়াশ ভাতের সাথে সিদ্ধ ডিম খেতে মায়ের পাশেই বসেছে। ছেলের আড়ালে ভাতের ভেতরে দু-একটা সবজি তরকারির আলুও চটকে দিলো। খাবার দেখে ইয়াশ মায়ের উরুর ওপর কনুই ভর দিয়ে মায়ের কোলের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,
” আম্মু আমি মাম দিয়ে ভাত খাবো..?”
ইয়াশের কথায় তুবা আর ফারিশা ভাতে হাত দিতে গিয়েও থেমে গেলো হতভম্ব হয়ে তাকালো ছেলের দিকে।
” এসব খেতে তোমাকে কে শেখালো? ”
তুবার কথায় ইয়াশ বললো,
” দাদী..!”
” দিয়ার নানু..?”
ফারিশার কথায় ইয়াশ মাথা দুলালে ফারিশাকে তুবা রাগী গলায় বলে উঠলো,
” তোকে আগেই বলেছিলাম ওই বুড়ি সুবিধার না হলো তো এবার..?”
” সকাল হতে দে দেখছি আমি মহিলাকে..? ”
ফারিশা রাগী গলায় বলে ইয়াশকে বললো,
” বাবা ওসব খেতে হয় না তুমি ডিম দিয়ে ভাত খাও..!”
মায়ের কথায় লক্ষ্মী ছেলের মতো কথা শুনলো আর বায়না ধরলো না। খেতে খেতে ইয়াশ মাকে শুধু সবজি দিয়ে ভাত খেতে দেখে নিজের প্লেটের আধ-খাওয়া ডিম হাতে তুলে মায়ের দিকে ধরলো আর বললো,
” আম্মু দিম খাও…?”
” উহু কী আদর আমাকে কেউ একটু ডিম দিতেও চায় না। থাক আমি কাল চিপস্ কিনে না হয় একাই
খাবো..? ”
ইয়াশ মায়ের দিকে তাকিয়ে এক নজর তুবার দিকে তাকালো। ভেবে পেলো না কি করবে ছোট্ট মস্তিষ্কে তার কিছুই এলো না মায়ের কাছ থেকে ডিম টা নিয়ে তুবার সামনে ধরতেই ফারিশা ফিক করে হেসে দিলো আর বললো,
” তুই কারে কী শেখাচ্ছিস। আমার তো মনে হয় রাস্তায় যদি কেউ ওকে চিপস্ বা আইসক্রিম- চকলেটের লোভ দেখায় ও মনে হয় সাথে সাথে চলে যাবে। ওকে শিখিয়েও লাভ নেই..?”
ফারিশার কথায় তুবাও হেসে উঠলো সাথে ইয়াশও না বুঝে হাসলো। খাওয়া শেষ করতেই বিছানায় গিয়ে শুইয়ে পড়লো ইয়াশ আর ফারিশা। তুবা নিজের রুমে শুইয়ে পড়েছে। ফারিশা ছেলের মাথায় হাত বুলাতে লাগলে ইয়াশ বলে উঠলো,
” আম্মু আমাল ভেকু গালি ( গাড়ি) টা কোতায়..?”
” এখন নিয়ে কী করবে ঘুমাও তুমি..?”
” না আমায় দাও আমি গালির সাথে ঘুমাবো..?”
ফারিশা পাশ ঘুরে টেবিলে তাকাতেই দেখলো গাড়ি নেই তখন তার মনে পড়লো দুপুর বেলায় জানালা দিয়ে ফেলে দিছিলো সে। ইয়াশের আবার এটা-ওটা জানালা দিয়ে ফেলার অভ্যাস আছে। তার রুমের জানালা দিয়ে তাকালেই নিচে সব দেখা যায় কতগুলো গাড়ি পড়ে আছে এখনো তার ঠিক নেই । ফারিশা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
” তোমার মনে নেই তুমি গাড়ি ফেলে দিছো জানালা দিয়ে..? তুমি ফেলেছো কেনো এখন চোর এসে গাড়ি নিয়ে যাক..?”
” চোর কীভাবে আতবে আম্মু..?”
” চোর লাফিয়ে আসবে। চোর শুধু গাড়িই চুরি করে না যে ফেলে দেয় গাড়ি, তাকেও সাথে করে চুরি করে নিয়ে যায় তারপর তাকে ধরে অনেক মারে আর টিকটিকি ধরিয়ে দেয় তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো হয়তো তোমায় ধরে নিয়ে যাবে..?”
মায়ের কথায় ভয় পেয়ে আর একটা কথাও বললো না চুপটি করে চোখ বুজে ফেললো আর কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়লো তা দেখে ফারিশা কিছু টা নি:শব্দে হেসে উঠলো তারপর সেও চোখ বুজলো।
চৌধুরী প্যলেস——–
রাত বাজে সাড়ে ১০ টা চৌধুরী বাড়িতে সবাই এক সাথে খেতে বসেছে ডাইনিং টেবিলে। তারেক আর ইমদাদুল অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে ৯ টা এর বেশি বাজে সবাই একসাথে খাবে জন্য তাদের অপেক্ষাতেই ছিলো। টেবিল টা অনেক বড় হওয়ায় সবাই বসতে পারে। ইরাদ খেতে বসলে তার মা ইভা তার সামনে তিন-চার বাটি ভর্তি এক এক আইটেম এর তরকারি রাখলো। ইরাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে খাবার গুলো থেকে এক বাটি নিয়ে ভাতের ওপর নিতে গিয়েও থেমে গেলো। কয়েক সেকেন্ড যেনো স্থির হয়ে ভাতের দিকেই তাকিয়ে রইলো। তা দেখে পাশ থেকে আয়েশা বলে উঠলো,
” কি দাদু ভাই তরকারি ভালো লাগছে না নাকি দেখে পছন্দ হচ্ছে না..? বাইরের খাবার খাইছো তো এতদিন তাই হয়তো মন মানছে না..?”
ইরাদ সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে সামনে থাকা জগ টা কাছে এগিয়ে ভাতের মধ্যে পানি ঠেলে দিলো। তা দেখে শিউলি দূর থেকে হা হয়ে চেয়ে দেখলো। ইভা ছেলের এমন কান্ড দেখে বললো,
” ইরাদ পানি দিয়ে দিলি কেন খাবি না ভাত..?”
” আমি পানতা ভাত খাবো আম্মু..? ”
ইভাসহ বাড়ির সবাই অবাক চোখে তাকালো। পাশ থেকে শিউলি তমার পাতে তরকারি দিতে দিতে বললো,
” ম্যাডাম আপনার পোলা মনে হয় নদীর পাড়ে-টারে ঘুরছে আজ দু’দিন তাই খারাপ বাতাস লাগছে বোধহয়..! ”
ইরাদ শিউলির দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগী গলায় বললো,
” হু তোর মাথার চুল গুলো ছিঁড়ে যখন ন্যাড়া করে ফেলবো তখন আবার বলবি ঘাড়ে ভূত ঢুকছে। করবো নাকি বল..?”
শিউলি থতমত খেয়ে বলে উঠলো,
” আসতাগফিরুল্লাহ্! না না থাক লাগবো না আপনি পানতায় খান..!”
” মরিচ নিয়ে এসে দে কিচেন থেকে শিউলি..?”
শিউলি ইভার দিকে তাকিয়ে কিচেনে চলে গেলো। ইভা ছেলের পাশেই চেয়ার টেনে বসলো আর বললো,
” তুই তো ছোট থেকে পানতা দেখলেই নাক ছিটকাস হঠাৎ এসব খাবি কেন? এসব রেখে দে ইরাদ আমি আবার ভাত দিচ্ছি..? ”
” ইরাদ এসব খাওয়া কে শেখালো তোমাকে..? ”
বাবার কথায় ইরাদ তাকালো না বরং বললো,
” তুমি খাও তো বাবা। আমার মন চাইছে তাই খাবো..! ”
শিউলি কিচেন থেকে দুটো বড় বড় মরিচ এনে দিতেই ইরাদ মরিচ কামড়ে ভাত মুখে নিলো। যা কখনো সে মুখে দেয় নি আজনপ্রথম বার নিলো, গলা দিয়ে খাবার নামার মতো না যেনো আর তা নাকি তার ছেলে অনায়াসে খেতে পারে। ইরাদ এক জোরের নিঃশ্বাস নিয়ে খেতে শুরু করলো। তার খাওয়া দেখে সবাই বেশ অবাক নয়নে চেয়ে রইলো যারা পানতা কখনো খায় নি আজ ভাইকে দেখে সামনে থাকা তিনজনই খাওয়া বন্ধ করে ইরাদের খাওয়া দেখতে লাগলো। তার খাওয়া দেখে আর ইভাও কিছু বললো না। আয়েশা এক নজর ইমদাদুল এর দিকে তাকাতেই ইমদাদুল হালকা কেশে বললো,
” ইরাদ কাল বিকেলে কোথাও যাবে কি। একটু বাড়িতেই থেকো তো..? ”
” কেনো…? ”
ইমদাদুল ইভার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললো,
” তোমার মামা, ফুপি রা তোমাকে দেখতে চায় । এতদিন দেশের বাইরে ছিলে জন্য তোমাকে দেখতে পায় নি তাই আমিই ইনভাইট করেছি ওদেরকে..? কাল আসবে সবাই.! ”
ইরাদ বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” আচ্ছা থাকবো তবে নিজের বাদে বাইরের কাউকে যেনো আমি না দেখতে পায়..?”
ইমদাদুল গম্ভীর দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকালে আয়েশা ইরাদকে বললো,
” আচ্ছা থাকবে না তুই থাকিস কিন্তু বাড়িতে..?”
সবার কথার মাঝে ফোঁড়ন কাটলো সাবাহ্।
” ভাইয়া তুমি আমাকে যেই আইফোন দিছো ওটা না অনেক সুন্দর তবে এত দামী ফোন না কিনলেও পারতা..?”
সাবাহ্’র কথায় ইরাদ ঠোঁট কিছুটা প্রশস্ত করে বললো,
” ভার্সিটিতে চান্স পেলে ল্যাপটপ কিনে দিবো তোকে তাই ভালো করে পড়াশোনা কর..?”
সাবাহ্ ইরাদের কথা শুনে ইরাদের দিকে তাকালো। আর সেই সুযোগে ইভান পাশ থেকে সাবাহ্’র প্লেট থেকে মাছের ডিম থেকে হাফ চট করে ভেঙে নিজের মুখে পুড়ে নিয়ে বললো,
” ও করবে পড়াশোনা। সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুজে থাকে, রিলস্ দেখে তার ওপর আবার নতুন ফোন কিনে দিলে ভাইয়া। ”
সাবাহ্ ইভার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
” বড় মা দেখো তোমার ছেলে আমার ডিম খেয়ে নিছে..?”
সাবাহ্’র কথায় ইভা রেগে ইভান কে বলে উঠলো,
” ইভান ওর ডিম খাইলি কেন তুই..? ”
” আজ বিশ্ব রেকর্ড হলো তুই নিজ মুখে শিকার করলি তুই মুরগি। মুরগিই তো ডিম পাড়ে তাই না। তোকে চুরি করে আমি ব্যবসা শুরু করলে লাভে লাভ হবে এমনিতেও পরীক্ষায় মারবি তো হলুদ হলুদ ডাল তার চেয়ে তুই ডিম পার আর আমি তোর মালিক হয় তারপর শুধু টাকাই টাকা..!”
সাবাহ্ রাগী চোখে তাকালো ইভানের দিকে কিন্তু ইভানের নজর সাবাহ্’র প্লেটে থাকা মাছের বাকি অর্ধেক ডিমের ওপর। সাবাহ্ তা খেয়াল করে ডিম টা হাত দিয়ে ঢেকে বললো,
” ইভান ভাই ভালো হচ্ছে না কিন্তু..? ”
” ছোট মা জানো তোমার মেয়ে না কোচিং এ পড়তে যায় না একটা ছে…..
বাকি কথা বলার আগেই নিজের পাতের ডিম খানা ইভানের মুখে পুড়ে দিলো ইভান সুযোগ বুঝে টোপ মারতে চেয়েছিলো আর সফলও হলো। ডিম টা মুখে নিয়ে আরাম করে চিবোচ্ছে আর বলছে,
” উফ একদম ডিমের মতোই স্বাদ। এত সুর্গন্ধ কেন আ..হা একদম ফার্মের মুরগীর মতো..?”
সাবাহ্ ঠোঁট উল্টে রইলো। তা দেখে ইরাদের সামনে থাকা ডিমের বাটি টা এগিয়ে দিয়ে ইরাদ বললো,
” এটা খা তুই..?”
সাবাহ্ প্রফুল্ল সুরে বললো,
” সত্যি খাবো ভাইয়া..?”
ইরাদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিতেই সাবাহ্ ডিমের বাটি আর তার প্লেট নিয়ে উঠে সোফায় গিয়ে বসলো তা দেখে ইভা হেসে উঠলো সাথে সুমানাও। ইভান পিছন ঘুরে সাবাহ্ কে দেখে হালকা হেসে উঠলো। তারপর নিজের খাওয়ায় মন দিলো।
পরেরদিন——–
সকাল সকাল ফারিশা আজ রেডি হচ্ছে ক্যাফেতে যাবে বলে সাথে ইয়াশও রেডি হচ্ছে। ফারিশার পরনে হালকা গোলাপি রঙের থ্রিপিস আর ইয়াশের পরনে কালো গেঞ্জি আর কালো হাফপ্যান্ট। তুবা আগেই চলে গেছে। ফারিশা রেডি হয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে নিচে মালিকের রুমের সামনে গিয়ে কলিং বেল বাজাতেই ওপাশ থেকে দরজা খুলে দিলো মহিলা। ফারিশা আর ইয়াশকে দেখে বললো,
” ইয়াশকে রাখবা নাকি রাইখা যাও ভালো খাবার রান্না করছি কিছু দিতে হবে না তোমার আজকে..!”
” আপনি আমার ছেলেকে পানতা খাওয়ান চাচী..? তাহলে আমি যা দিয়ে যেতাম সেটা কার পেটে যেতো আপনার..? ”
মহিলা তেঁতে উঠলো যেনো এমন খুঁচিয়ে কথা বলায় । কটমটিয়ে বলে উঠলো,
” কে বলছে ওরে পানতা খাওয়ায় আমি। ও.. তোমার ওই প্রেমিক না কে যেনো সে বলছে নাকি..? ”
ফারিশা রেগে উঠলো ধারালো গলায় বলে উঠলো,
” চাচী আমি কষ্ট করে চলি তবুও আমার ছেলেকে কখনো পানতা কী জিনিস বুঝতে দেয় নি আর আপনি এসব খাইয়েছেন আমার ছেলেকে। উপকার করতে না জানতে ডিরেক্ট মানা করে দিবেন কিন্তু তবুও কারোর ক্ষতি করার কথা ভাববেন না। “,
বলেই ইয়াশকে নিয়ে চলে গেলো তা দেখে মহিলা মুখ ভেঙচিয়ে ভেতরে চলে গেলো তার এমনিতেই হুট করে ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ায় মাথা গরম তার ওপর কথা শুনতে হচ্ছে । ঘরে যেতেই মেয়েকে ভার মুখ নিয়ে বসে থাকতে দেখে মহিলাটি বলে উঠলো,
” কী রে কি হয়ছে তোর আবার? ”
” তোমার জামাইয়ের চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ছে
কিন্তু হঠাৎ কি হলো বুঝতে পারলাম না..!”
মহিলাটাও চিন্তিত হয়ে পড়লো এবার।
ফারিশার কোল থেকে ইয়াশ নামার জন্য ছটফট করলে ফারিশা বলে উঠলো,
” কী হয়েছে টা কী ওমন করছো কেনো..?”
” মা আমি খেলবো, সবাই খেলচে..?”
ফারিশা বাইরে এক নজর তাকিয়ে দেখলো ২ টা বাচ্চা বাগানে খেলছে তা দেখে ফারিশা ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে বললো,
” তুমি খেলো আমি ব্যাগ নিয়ে আসছি..?”,
বলেই ইয়াশ কে ছেড়ে দিলে ইয়াশ দৌড়ে বাগানে চলে গেলো আর ফারিশা ওপরে চলে গেলো ব্যাগ আনতে । ইয়াশ বাইরে আসতেই দেখলো দু’জন খেলছে তাদের সাথেই খেলতে বসলে তারা দেখলো বাগানের এক সাইডে ট্যাপের সাথে পাইপ লাগানো। বাড়ির মালিক ভোর বেলা গাছে পানি দিয়ে ওমন করেই রেখে চলে গেছে। তিনজন মিলেই এগিয়ে গেলো ট্যাপ দেখে ইয়াশ বললো,
” চলো মাম নিয়ে খেলি..?”
ইয়াশের কথায় আরেকজন ট্যাপ ঘোরাতেই দেখলো পানি নেই পাইপ এর শেষ প্রান্তে তাকাতেই পানির বের হতে দেখে তিনজনই চেঁচিয়ে উঠলো খুশিতে।
” ইয়ে…..!”
তিনজনই পাইপ ধরে ভিজতে লাগলো। এদিকে দারোয়ান অন্য সাইডে থাকায় টের পেলো না। ফারিশা নিচে নামতেই হা হয়ে গেলো তিনজনকেই ভিজতে দেখে ব্যাগ টা বাইরের এক কোণায় রেখে ছুটলো সেদিকে।
” ইয়াশ ভিজছো কেনো? এই ইয়াশ..?”,
বলেই এগিয়ে গেলে ইয়াশ পাইপটা ফারিশার সামনে ধরে বলে উঠলো,
” আম্মু বৃষ্টি মাম..?”
পাইপ ফারিশার সামনে ধরার কারণে ভিজে একাকার হয়ে গেলো ফারিশাও । ফারিশা এগিয়ে গিয়ে পাইপ টা নিয়ে এবার নিজেই কেনো যেনো তাদের মতো ভিজতে মন চাইলো । সেও তাদের দিকে পাইপের পানি ছিটিয়ে দিয়ে বললো,
” ইয়াশ বৃষ্টি মাম তোমার..?”
ইয়াশ খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। ইয়াশ ফারিশার পিছনে কাউকে দেখতে পেয়েই জোরে বলে উঠলো,
” আম্মু মিলাদ এসেচে..?”
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৭
ফারিশা ইয়াশের কথায় পাইপ টা পিছন ঘুরতেই পাইপ টা সোজা ইরাদের মুখের ওপর গিয়ে পড়লো। ইরাদ কিছুক্ষণ আগেই এসেছিলো ইয়াশের সাথে দেখা করতে। ভেতরে যেতে পথে বাচ্চাদের হৈচৈ এর আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে আসতেই দেখলো ফারিশা আর ইয়াশকে। ইরাদও যেনো পানিতে ভিজে একাকার হয়ে গেলো তা দেখে ইয়াশ যেনো মজা পেলো হাত তালি দিয়ে উঠলো
আর ফারিশা ইরাদকে দেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
