Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৫

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৫
শানজানা আলম

পরের দিন, এহসান অফিসের কাজে বের হবে। রুবাই ফোন করল আজই। এহসান প্রথমে রিসিভ করল না।
এহসানের কলিগ সাব্বির জিজ্ঞেস করল, ভাই, মিটিংয়ে যাবেন না?
এহসান ল্যাপটপ থেকে মুখ না তুলেই বলল, হুম।
-ভাই, আপনের চেহারা তো দিন দিন খোলতাই হইতেছে, ঘটনা কি? নতুন বিবাহের নমুনা?
এহসান মুখ না তুলে হেসে বলল, হুম, বিবাহ করো, বুঝতে পারবা নতুন বউয়ের আদরযত্ন কি জিনিস!
আপনাকে হ্যাপি দেখে ভালো লাগতেছে ভাই! চলেন বের হই।
একটু, এক মিনিট- রুবাই বার বার ফোন করছে।
এহসান পিক করে বলল, আমি একটু বিজি। পরে কথা বলি?
রুবাই বলল, আমি মনে হয় আপনার অফিসের কাছাকাছি আছি। দেখা করবেন না?
এহসান বলল, আমার তো একটা কাজ আছে! একবার আগে ফোন করলে ভালো হতো। আচ্ছা দেখছি। কোথায় আছ?

দ্য এক্সপ্রেসো- একটা বেশ এক্সক্লুসিভ কফিশপের নাম বলল রুবাই। এহসান মনে মনে ভাবল, এক্সপেন্সিভ জায়গায় বসেছে!
অসময়ে এসেছে বলে কিছুটা বিরক্তও হলো তবে প্রকাশ করল না।
ফোন রেখে সাব্বিরকে এহসান বলল, সাব্বির ভাইয়া, তুমি বের হয়ে যাও। আমি জাস্ট হাফ এন আওয়ার পরে জয়েন করি। আমার একটা ফ্রেন্ড এসেছে, জাস্ট এক কাপ কফি খেয়েই চলে আসব।
এহসান সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে বের হলো।
কফিশপের দরজার ঠেলে দেখল রুবাই এক সাইডে বসে আছে, সামনে এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা, একটা৷ রুবাই গোলাপি রঙের শাড়ি পরে এসেছে, তার লম্বা চুল ছেড়ে দেওয়া। তাকে মনে হচ্ছে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসেছে।
এহসানকে সাদা শার্টে দেখে রুবাই অপলক তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড তারপর হাত নাড়ল। সানগ্লাস খুলে এহসান ভেতরে ঢুকলো।

-কি ব্যাপার,হঠাৎ? না জানিয়ে চলে এলে! – এহসান বসতে বসতে বলল।
-আজ আমার জন্মদিন। ভাবলাম, দিনটা আমার জন্য একটু স্পেশাল হোক!
-তো স্পেশাল করতে আমার সাথে দেখা করতে এসেছ? – এহসান বলল।
-হুম, এক তরফা অনুভূতি বলতে পারেন। এখন আর বলতে দ্বিধা নেই৷
রুবাই স্পষ্ট করেই বলল।
এহসান বলল, দেখো রুবাই, আমি তো তোমাকে বুঝেছিলাম, তখনি তোমাকে বলেওছি, আজ এই সময়ে এসে এরকম কথা বলা মানে আমাকে বিব্রত করা, তাই নয় কি! এনি ওয়ে, হ্যাপি বার্থডে, আগে জানলে, অন্তত একটা চকলেট নিয়ে আসতাম।

-সময় তো পেরিয়ে যায় নি, চকলেট কিনে দিয়েন। – রুবাই হেসে বলল।
দ্য এক্সপ্রেসোতে এসে ঢুকলো ঐশি। নায়েব পাশা এখানে আসবে দেখা করতে। এক্সপেন্সিভ হওয়ায় এখানে ভীড় কম থাকে।
কফিশপে ঢুকেই ঐশি দেখল এহসান রুবাইয়ের সাথে হেসে কথা বলছে। সামনে ফুল রাখা, ঐশির মাথায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ খেলে গেল।
ঐশি কয়েকটা ছবি তুলে ফেলল।
তারপর হোয়াটসঅ্যাপে অথৈকে ভিডিও কল করল, অথৈ বিজি থাকায় পিক করল না। ঐশি একা একা বিড়বিড় করতে লাগল, অথৈ পিক আপ দ্যা ফোন, প্লিজ, পিক আপ!
ঐশির অনবরত ফোন দেখে কিচেন থেকে বের হয়ে হাত মুছে অথৈ পিক করল।
আপু বল-

ঐশি বলল, ভিডিও অন করে দেখ।
বলে সামনে এগিয়ে গেল ঐশি- এহসানের সামনাসামনি
দাঁড়িয়ে বলল, হ্যালো এহসান – এহসান প্রচন্ড চমকে গেল। ঐশির হাতে ফোন। ঐশি ফোন ঘুরিয়ে রুবাইয়ের দিকে নিয়ে বলল, অথৈ, আমার এক্স হাজবেন্ড আর তোর প্রেজেন্ট, এই মেয়েটাকে নিয়ে ডেটে এসেছে, তাও ফুল নিয়ে। মেয়েটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তারা কেন এখানে এসেছে, আমি তোকে বলেছিলাম, তুই বিশ্বাস করিস নাই, সত্য কখনো চাপা থাকে না। দেখ, তোর স্বামীর চরিত্র। আমি ছেড়ে দিয়েছি বলে আমাকে দোষী মনে হয়েছে না? মায়া করে বিয়ে করেছিস, এখন দেখ! দেখছিস? এটা তো কফিশপ, আর হোটেলে গিয়ে এরপরে লাগাবে এইটারে, সেটাও তুই বুঝবি না।

অথৈ অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে দেখল, সত্যিই এহসান। সাদা শার্ট পরা, যেটা সকালে সে নিজের হাতে বের করে দিয়েছিল! এহসানের পাশে একটা মেয়ে শাড়ি পরে আছে, সামনে ফুল! এহসান বলেছিল, জরুরি মিটিং আছে অফিসের! মিটিং শেষে ফোন করবে, এই সেই মিটিং!
নিজের অজান্তেই চোখ থেকে গড়িয়ে জল গাল ভিজিয়ে দেয়!
অথৈ চোখ বন্ধ করে বলল, আপু, আমি ফোন রাখছি।
ঐশি বলল, গাধা মেয়ে, কাঁদছিস এখন! ফোন রাখবি কেন, এরপরেও তুই এই শয়তানটার সংসার করবি, রান্না করে খাওয়াবি, ঘর গুছিয়ে রাখবি, স্পাইনলেস কোথাকার, চলে যা এখনি, বের হয়ে যা, এর জন্য বাবা মায়ের মুখে চুনকালি দিয়ে বের হয়ে এসেছিস, তোর তো ফেরারও মুখ নেই, এক কাজ কর, বিষ খা বা গলায় দঁড়ি দিয়ে ঝুলে পর!

এহসান আকস্মিকভাবে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল, ঐশির এই কথাগুলো শুনে, এহসান বলল, স্টপ ইট ঐশি, না জেনে কথা কেন বলছ তুমি, রুবাই আমার পরিচিত, ওর জন্মদিন আজ! ও এসেছে, আমি কোনো ডেট করতে আসিনি!
ঐশি বলল, ওহ, জন্মদিনে শাড়ি পরে ও তোমার সাথে লুডু খেলতে এসেছে, দেখ অথৈ, কেমনে মিথ্যা কথা বলতেছে! মরে যা তুই- কথাটা আবার রিপিট করল।
এহসানের মাথায় রক্ত উঠে গেল। এহসান ঐশির হাত থেকে আইফোনের লেটেস্ট মডেল ফোনটা কেড়ে নিয়ে ঐশিকে ধাক্কা দিলো, আর ফোনটা মেঝেতে ছুড়ে মারল। ফোন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
কফিশপের ওয়েটাররা ঘটনা সামলাতে চলে এসে বলল, ম্যাম আমাদের এখানে ভিডিও করা যায় না। আপনি চলুন এইপাশে আসুন!

ঐশি চিৎকার করে বলল, স্টপ, আপনাদের ধারনা নেই, আমি কি করতে পারি!
এহসান ঐশিকে বলল, তোমার জন্য অথৈ কিছু করে ফেললে আমি তোমাকে খুন করে জেলে যাব। তুমিও জানো না এহসান কি করতে পারে!
রুবাই ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে গেছে৷ এহসান বলল, রুবাই, গো ফ্রম হেয়ার। চলে যাও এক্ষুনি!

রুবাই দৌড়ে বের হয়ে গেল। । এহসানকে সরিয়ে নিলো কফিশপের লোকেরা।
এহসান অথৈকে কল করল। অথৈ রিসিভ করল না। কয়েকবার ফোন করলেও কেটে দিয়ে অথৈ ফোন বন্ধ করে দিলো।
এহসানের দম বন্ধ হয়ে এলো মনে হলো, পায়ের নিচের মাটি আলগা লাগতে শুরু হলল।
এহসান ম্যানেজারকে বলল, আপনাদের কোনো পেমেন্ট আছে, আমি পে করে দিচ্ছি। আমাকে এখনি যেতে হবে, খুব জরুরি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৪

কফিশপের ওরা বলল, জি না স্যার৷ এহসান নিজের কার্ডটা দিয়ে বলল, যে কোনো সমস্যা হলে জানাতে, এখানি তাকে বাসায় যেতে হবে।
অথৈ সব কিছু ছেড়ে তার হাত ধরে এসেছে,ঐশির শয়তানিতে প্রভাবিত হয়ে অথৈ যদি কিছু করে ফেলে!
এহসান দৌড়ে বের হয়ে গেল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৬