কাজলরেখা পর্ব ৩৯
তানজিনা ইসলাম
রোদেলা এহসানের খুব সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেলো। সাধারণত তিনি এতো সকালে ঘুম থেকে উঠেন না। ওনার যখন ঘুম ভাঙে, যখন মর্জি হয় তখনই বিছানা ছেড়ে নামেন। বাড়িতে ওনার দাপটটাই আলাদা।সম্মানটা কোনো পুরোনো যুগের রাণী, বা জমিদারনীর মতো। ওনার সব কাজের জন্য বাড়িতে আলাদা আলাদা সার্ভেন্ট আছেন। মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই সব সামনে হাজির হয়ে যায়। তবে আবরার বাড়িতে আসলে ঘুমটা খুব কম পায় ওনার। সারাক্ষণ একটা চিন্তা থেকে যায় আবরার কে নিয়ে।মাথায় ঘুরতে থাকে, ছেলেটা আবার চলে গেলো না তো। এতো কাজ ছেলেটার। তাই সে বাড়িতে আসলেই ওনি সবসময় নজরে নজরে রাখেন। শুধু ঘুম আসলে নজর ছাড়া হয়ে যায়। এজন্য ঘুমের সময়টা ইচ্ছে করেই কমিয়ে দেন তিনি।
বাড়ির কেও তখনও ঘুম থেকে উঠেনি। সকাল বাজে মাত্র ছয়টা। পুরো বাড়ি শুনশান নীরব।সার্ভেন্টরাও সবাই হয়তো ঘুমাচ্ছে। রোদেলা এহসান ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে দোতলায় আবরারের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। দরজা বন্ধ দেখে শিশুর মতো ঠোঁট উল্টালেন। যায় হয় যাক, উনি কখনো কারো রুমে নক করা ছাড়া ঢোকেন না। যতই নিজের ছেলে হোক না কেন।ফিরে যাবেন তার আগে একবার দরজায় হাত রাখলেন। ওমনিই দরজা খুলে গেলো। তার মানে দরজা বন্ধ না। রোদেলা এহসান ফিসফিস করে ডাকলেন
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
-“আবরার!” ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না। খরগোশের মতো উঁকি দিলেন ভেতরে। রুম খালি দেখে বুক ধ্বক করে উঠলো ওনার।নাহ এটা হতে পারে না। ছেলেটা আবার ধোকা দিয়ে চলে গেছে৷ আবারও মিথ্যে বলেছে। একা করে চলে গেছে তাকে। রোদেলা এহসানের কান্না পেলো। কক্ষে ঢুকে আরেকবার ভালো করে খুঁজলেন তিনি, পেলেন না। কান্নাকাটি করে বাড়ি মাথায় তুলবেন তার আগে ভাবলেন ছাঁদে গিয়ে একবার দেখে আসবে কি-না। ওখানেও তো যেতে পারে।
ছাঁদে কুয়াশার ঘনত্বটা বড্ড বেশি। শীত পরছেও হাড় কাপিয়ে।ওনার শীত লাগলো না, চিন্তায় অবস্থা খারাপ হচ্ছে। কুয়াশার আড়ালে রেলিং ধরে কাওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো। রোদেলা এহসান দৌড়ে গেলেন
-“আবরার!”
রাত পিছু ফিরলো। হাসিমুখে বললো
-“আম্মু তুমি?”
রোদেলা এহসান ওর বাহু ধরে, ধরফরিয়ে বললেন
-“আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!”
-“কেনো ভয় পেয়েছিলে, মাম্মা?”
-“মনে করেছি তুমি চলে গেছো।”
-“তোমাকে না জানিয়ে কোথায় যাবো বলো! আর কোথায় যাওয়ার জায়গা আছে আমার। আর কেও তো নেই তুমি ছাড়া।”
রোদেলা এহসান হাঁপাচ্ছেন। পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন উনি রাতকে। রাত হাসলো ওনার দিকে তাকিয়ে। রাতের বাচ্চা! কিচ্ছু বোঝেনা ওঁকে ছাড়া। মা থেকে অবুঝ বাচ্চা হওয়ার কাহিণী টা যদিও একটুও সুখকর ছিলো না।
রাত জড়িয়ে ধরলো ওনাকে।নরম গলায় বললো
-“এতো সকাল সকাল উঠে গেলে যে? সোয়েটার কই তোমার?”
রোদেলা এহসান কিছু বললো না। রেলিংয়ের দেয়ালের উপর কফির কাপ রাখা। কফি খেতে খেতে বোধহয় রাত শীতের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলো। ওর গায়ে একটা চাদর জড়ানো। নিজের গা থেকে খুলে,সেটা রোদেলা এহসানের গায়ে জড়িয়ে দিলো ও। শীতে হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে ওনার। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললেন
-“তোমার ঠান্ডা লাগবে না?’
-“তোমার গরম লাগলে, আমারও গরম লাগবে।”
-“তা হয়?”
-“হয় তো! আত্মা এক হলেই হয়।চলো নিচে যাই!”
-“একটু থাকি? ভালো লাগছে এখানে!”
-” কফি খাবে?”
-“না।তুমি কখন ঢাকায় যাবে?”
-“যাবো না।”
-“মিথ্যে কেন বলছো? আমি কালকে শুনেছি, তুমি বাবাকে বলছিলে তুমি ঢাকায় চলে যাবে।”
-“ভুল শুনেছো মাম্মা।”
-“আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাবে?”
-“নাহ।”
-“কেন?”
-“ওখানে মন্সটার আছে। তুমি না মন্সটার ভয় পাও।”
-“তুমি প্রটেক্ট করবে আমাকে। তোমার তো অনেক পাওয়ার আবরার।”
-” তুমি গেলে আমি দুর্বল হয়ে যাবো রে আম্মা।ওঁদের থেকে আমি কি করে তোমাকে প্রটেক্ট করবো তখন! যখন দরকার ছিলো তখন তো পারিনি।”
-“তখন তো তুমি ছোট ছিলে!”
-“এখন বড় হয়ে গেছি?”
রাত তাকালো ওর মায়ের দিকে। ওনি বাচ্চাদের মতো করে বললো
-“নাহ, তুমি তো আমার কাছে সারাজীবন ছোট থাকবে।”
রাত মিষ্টি করে হাসলো। ওর আম্মু দেখতে অনেক সুন্দর। একদম পুতুলের মতো দেখতে, ধবধবে ফর্সা। রাতের দলের অনেক ছেলেরা যারা রোদেলা এহসানকে প্রথমবার দেখে তারা ওনাকে রাতের ছোটবোন ভেবে গুলিয়ে ফেলে।তারপর মা বলে পরিচয় দিলে অবাক হয়।এ বয়সে এসেও একটা মানুষ এতোটা পার্ফেক্ট, সুন্দর কি করে হতে পারে।বয়স বোঝার কোনো উপায় নেই ওনাকে দেখে।
রাত ওনাকে কত নামে যে ডাকে! আম্মু, আম্মা,মাম্মা, মাম, মম,মিমি। আর যখন উনি খুব রেগে যান, দুষ্টামি করে এংরি বার্ড। মানুষটা দেখতেই কেমন আদর আদর। রাতের সাথে ওনার বন্ডিংটাই অন্য রকম। তবুও কোনো একটা সময়ে এসে তো, রাতের বুক ফুঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরোয়।এ সুন্দর মানুষটার জীবনটা ওনার মতোই সুন্দর হলে কি ক্ষতি হতো! রাত ওনার জীবনে আসার পরপরই সব যেন বদলে গেলো। ও নিজেকে খুব দোষারোপ করে এসব নিয়ে। এই অসহায়ত্বের যে সমাপ্তি ঘটে না এতো ক্ষমতা পেয়েও।
আঁধার গতকালকে সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে উঠেছিলো রাত বারোটায়। তারপর রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে চলে গেছে। যতই বলুক চাদনীর রুমে থাকবে তারপরও নিজের রুম ছাড়া ও অন্য রুমে এডজাস্ট করতে পারে না। কিন্তু যাওয়ার আগে চাদনীকে টেনেটুনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো।চাদনী ঘুমানোর ভং ধরে ছিলো। অথচ তখনও ও ঘুমোয়নি। আঁধার আর ঘাটায়নি ওঁকে। নিজেও ক্লান্ত ছিলো। আর একদিন তো ছাড় দেওয়ায় যেতো।
আজ শুক্রবার, বাড়ির সবাই বাড়িতেই আছে। আঁধার, অপূর্ব শিকদার আর আকিব শিকদার ড্রইংরুমে বসে আছেন।আরমান শিকদার বাজারে গেছেন। ওনার মেয়ের জামাইয়ের জন্য বাজার করতে। আঁধার এটা শুনেই অদৃষ্টে মুখ বাকালো। আহ্লাদের আর শেষ নেই। ঘিন লাগে এসব ওর! অর্পিতা যথাসাধ্য চেষ্টা করছে রুম থেকে না বেরোতে। আঁধার ওঁকে দেখলেই চিল্লাপাল্লা করছে। বাড়ি থেকে বের করে দিতে বলছে। সে ভয়ে রুমেই আছে নিজের স্বামী কে। তবুও আঁধার গো ধরে বসে থাকে। কোনোকিছুই সহজে ছাড় দেয় না ও। যেটা করবে বলে একবার মাইন্ডে সেট করে ফেলে সেটা করেই ছাড়ে। কেউ আটকাতে পারে না। এখনও ও সুযোগে আছে কি করে অর্পিতা কে বের করবে! শুধু জবা বেগম বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছেন।কান্নাকাটি করে মানাচ্ছেন পরিবারের অন্য সদস্যদের কে। আঁধারের সাথে একটা নীরব যুদ্ধ চলছে ওনার, কেউ বুঝতে পারছে না। আঁধার সহজেই ব্যাপারটা মিটতে দিবে না। এটা ওর ইগোর প্রশ্ন। অর্পিতাকে ওর ইগো হার্ট করার মাশুল চোকাতেই হবে।
বর্ষা বেগম কিচেনে কাজ করছেন। ওনাকে সারাদিনই কিচেনে পরে থাকতে দেখা যায়। বাড়ির সব কাজ করার দায়িত্ব যেন ওনার। কাজের লোকদের সাহায্য নিয়ে সারাদিন রান্না আর কাজ করতেই থাকে। চাদনী ওনাকে টুকটাক সাহায্য করছে শুরু থেকেই।হাতের কাজ এগিয়ে দিচ্ছে। বাড়ির আর কেও রান্নাঘর মুখো হবে না। আঁধার সোফায় বসে ক্ষণকাল পরপর উঁকি মেরে মেরে দেখছে ওঁকে। চাদনী বসে আছে মোড়াতে। একটা সালোয়ার ওর গায়ে।ওড়নাটাকে গিন্নির মতো করে ঘুরিয়ে কোমড় আর কাঁধে পেঁচিয়েছে। চুলগুলো ঝুটি করে বাঁধা। দু’পায়ের রূপার নুপুরগুলো চকচক করছে। সবজির আশ ছাড়াচ্ছে ও।
কাজে খুব মনোযোগে। আঁধার মুখ বাকালো।
বলদ একটা! ঢাকায় আঁধার ওঁকে কিচেনে পর্যন্ত যেতে দিতো না পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলে। চা টা পর্যন্ত ও বানিয়ে দিতো। আর এখানে এসে কাজ থেকে ফুরসত পাচ্ছে না, সারাক্ষণ কিচেনে পরে থাকছে। তারপরও এতো তাড়া কীসের ছিলো এই মেয়ের এখানে আসার?
আঁধারের ইচ্ছে করলো, চাদনী কে একটা ডাক দিতে। পড়াশোনা নেই ওর? সারাক্ষণ কিচেনে কী?বাঙালি মেয়েদের নিচে যেচে গিয়ে কাজের লোক হতে ইচ্ছে কেন করে?দিলো না। ওর লজ্জা নেই, কিন্তু চাদনীর তো আছে।ডাক কেন দিয়েছে সবার সামনে, এটা নিয়েই কান ঝালাপালা করে ফেলতো।
আকিব শিকদার আর অপূর্ব শিকদার ব্যবসা নিয়ে কথা বলছিলো। আঁধার কুশোন কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ ওঁদের কথা শুনছিলো কিছুক্ষণ চাদনীকে দেখছিলো। কথার মাঝেই অপূর্ব শিকদার চা দিতে বললেন।
আঁধারের খুব কষ্ট লাগলো,দেখতেই পাচ্ছে ওর মা রান্না করছে। তার মধ্যে উঠে আবার চা দিবে। মানুষটা এই কষ্টগুলো কেন বোঝে না। ওর বাবার উপর মাঝে মাঝে ভীষণ রাগ উঠে ওর।আরমান শিকদার তো পারে পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের স্ত্রীর জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াতে। ওর বাবা কেন পারে না? উল্টো পরিবারের সামনে অসম্মান করে সবসময়, ছোট করে কথা বলে। ওর মা একটু সম্মান পেলো না এ বাড়িতে। আঁধার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
বর্ষা বেগম চা বানিয়ে, ট্রে তে করে চাদনীকে দিয়ে পাঠালেন। চাদনী টেবিলের উপর ট্রে রাখতেই, আঁধার আদেশ ছুঁড়ে বললো ওঁকে
-“আমার মোবাইল টা নিয়ে আয়তো।”
-“তোমার মোবাইল কোথায়?”
-“আমার রুমে।”
-“তোমার মোবাইল আমি আনবো কেন? তুমি যাও।”
আঁধার ফিসফিস করে বললো
-“তুই কিন্তু ঢাকার মতো এখানে আমার সাথে ত্যাড়ামি করতে পারবি না। চাচ্চু কে উল্টাপাল্টা বলবো আমি।”
চাদনী নাক ফুলিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠে গেলো। আঁধার তাকালো নিজের বাপ চাচার দিকে। ওরা ওঁদের কথা বলায় ব্যস্ত। মনোযোগ এদিকে নেই। এককাপ চা হাতে নিয়ে বললো
-“তাহলে তোমরা কথা বলো, আমি নিজের রুমে যাচ্ছি। চা-টা ওখানেই খাবো!”
-“যা।”
চাদনী মোবাইল খুঁজছিলো আঁধারের রুমে। অনেক খুঁজেও পেলো না। শেষে বিরক্ত হয়ে বেরোতে যাবে, তার আগে আঁধার এসে ঢুকলো। আচমকা আঁধার কে আসতে দেখে কিছুটা ভয় পেলো ও। বুকে থুতু ছিটিয়ে বললো
-“তোমার মোবাইল পাইনি।”
-“ভয় পেয়েছিস?”
চাদনী দুপাশে মাথা নাড়লো। আঁধার ভ্রু উচিয়ে বললো
-“চোখ হাতে নিয়ে খুঁজলে পাবি কী করে? এতোক্ষণ লাগে একটা জিনিস খুঁজতে?”
-“হাতে নিয়ে কেন খুঁজবো?”
-“সেই তো আমাকেই আসতে হলো।”
-“তাহলে নিজের জিনিস নিজেই খুঁজে নাও।”
চাদনী বেরিয়ে যাচ্ছিলো আঁধার ওর হাতের কব্জি আঁকড়ে ধরলো। চাদনী থেমে গেলো। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে
-“আমার বউ আছে।সে থাকতে আমি কষ্ট করবো কেন?”
-“তুমি আমাকে বউ বলে মানো না!”
আঁধার ওর কব্জি ধরেই এগিয়ে গিয়ে চায়ের কাপটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখলো।
-“হাত ছাড়ো।”
-“তুই এমন করিস কেন আমার সাথে? তোকে ছুলেই তোর গা ক্ষয় হয়ে যায়?”
-“হ্যাঁ।জ্বলে যায়।”
আঁধার টেডি হাসলো ওর দিকে তাকিয়ে। গালে হাত রেখে বললো
-“তাহলে তো আরো বেশি ছুবো। তোকে জ্বালাতে আমার বেশ লাগে।”
চাদনী নিষ্প্রভ স্বরে বললো
-“হাত ছাড়ো। কাজ আছে আমার!”
-“তোকে এ বাড়িতে কেও পার্ট টাইম কাজের লোক রেখেছে চাদনী? কিচেন থেকে বেরোতে পারছিস না কেন তুই?”
-“নিজের বাড়ির কাজ করলে কেও কাজের লোক হয়ে যায় না। এ বাড়ির সবাই আমার আপনজন।”
-“কেও তোর আপন না।”
-“শুধু তুমি!”
-“হাহ! আপনজন চিনলি না রে চাঁদ। তোকে সাধে বলদ বলি আমি।তুই একটা বোকা!”
-“তাই সই। ছাড়ো, যেতে দাও আমাকে।”
-“কিচেনে যাবি না আর।সকাল থেকে কাজ করছিস!”
-“বড় আম্মু একা কাজ করছে সেটা দেখছো না?আমি তো শুধু সাহায্য করছি।”
-“করিস না।তোর বড় আম্মু কে অনেকবার মানা করেছি রে। জানিস, যে দু’টো সার্ভেন্ট আছে ওদেরও তার জন্যই রেখেছি। এতো মানা করি, বেশি কাজ করতে। শোনা না। বাড়িতে তো আরো আছে মানুষ। তাদের কোনো দায়িত্ব নাই? যে নিজের ভালো বোঝে না তাকে আমি কী বোঝাবো বল। কিন্তু বাবা বললেই আম্মু শুনবে। বাবা তো বলে না। কিন্তু আমি তো তোকে বলছি!”
-“কী বলছো?”
-“কাজ না করতে। করিস না এতো কষ্ট। এখানে সবাই বেইমান।”
-“তোমার এতো বিতৃষ্ণা কেন,এ বাড়ির মানুষগুলোর প্রতি?”
-“এঁদের দু মুখো আচরণ গুলো নিতে পারি না।”
-“তুমি বলছো এই কথা?”
ব্যঙ্গ করে হাসলো চাদনী। আঁধার গম্ভীর মুখে তাকালো ওর দিকে। চাদনী হেঁসে বললো
-“তুমি নিজেই তো ব্যাখ্যা করে দিলে, আমি কেন তোমার থেকে দূরে দূরে থাকি।”
আঁধার কথা ঘুরিয়ে বললো
-“নিজের কাপড়চোপড় নিয়ে আমার রুমে আয়।কালকে ছাড় পেয়েছিস বলে,আজকেও ছাড়া পেয়ে যাবি, এটা ভাবিস না।”
-“আমি আসছি না। আমি তোমার সাথে থাকতে চাচ্ছি না।”
-“তোর চাওয়ার ধার ধারে না কেও।এক্ষুনি আসবি তুই!”
-“না।”
-“তুই চাস আমি এখানেও তোর সাথে জোর করি?”
-“বাবাকে বলবো।”
-“কিচ্ছু করতে পারবে না আমার।”
-“ডিভোর্সের ব্যবস্হা তো করতে পারবে।”
আঁধার চাদনীর মুখ চেপে ধরলো। কঠোর স্বরে বললো
-“মেরে ফেলবো একদম। বেশি বাড়াবাড়ি করছিস তুই!”
চাদনী কেমন করে যেন তাকালো।আঁধার ঢোক গিলে বললো
-“তুই আমার সাথে জিততে পারবি না রে। শুধু এই অকাজের লড়াই করিস না। কোনো লাভ হবে না। তোর সবকিছু নিয়ে আয় এখানে। আজ থেকে তুই এই রুমেই থাকবি।”
-“না।”
-“চাদনী!”
-“না মানে না।”
আঁধার মুঠো করে চুল টেনে ধরলো চাদনীর।চাদনী চোখমুখ কুঁচকে তাকালো।
-“তোকে মারবো আমি।”
-“মারো।”
-“আমি তোকে হার্ট করতে চাইনা।”
-“হার্ট হবার আর কিছু বাকি নেই। এখন আর কিছুই গায়ে লাগে না!”
-“গায়ে লাগার মতো কিছু করলেই লাগবে। আর তুই কাওকে কিছু বলতেও পারবি না।”
আঁধার বাঁকা হেঁসে বললো। ছেড়ে দিলো ওর হাত। চাদনী শ্লেষাত্মক স্বরে বললো
-“ভয় দেখাচ্ছো?”
-“সাবধান করছি।আজকে থেকে এখানেই থাকবি,কথা শেষ।”
চাদনী তিক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। কিছু বলতে যাবে তার আগেই ঝঙ্কার তুলে ফোন বাজা শুরু করলো।চাদনীর কথা থেমে গেলো। আঁধার ট্রাউজারের পকেট থেকে ফোন বের করতেই, চাদনী অবুঝের মতো বললো
-“তোমার মোবাইল তো তোমার কাছেই আছে। আবার খুঁজতে পাঠালে কেন?”
-“তুই যদি বলদ না হতি, এই প্রশ্নটা করতি না।”
কাজলরেখা পর্ব ৩৮
চাদনী মুখ ফেরালো। আঁড়চোখে আঁধারের ফোনের দিকে তাকালো। শাবিহা কল করেছে। ওর নামের পাশে বিএফএফ লেখা। বেস্টফ্রেন্ড ফরএভার। চাদনীর হৃদয়টা আরো তিক্ত হয়ে উঠলো। আঁধার ওর দিকে তাকিয়ে বললো
-“যা নিজের রুম থেকে সব নিয়ে আয়।শাবিহা কল করেছে, আমি কথা বলে আসছি। এসে যাতে আমি তোরে এ রুমে দেখি।আর যেন বলতে না-হয়।”
