কাজলরেখা পর্ব ৪৮
তানজিনা ইসলাম
আঁধার আর চাদনী ঢাকায় ফিরে এসেছে। তবে আঁধার নিজের যে ওয়াদা দিয়ে চাদনীকে এখানে এনেছিলো, সে ওয়াদা ও রাখেনি। ও বলেছিলো চাদনী ঢাকায় ফিরে আসলে, ও চাদনীর কাছে আসবে না। দূরে দূরে থাকবে। কিন্তু ও ঠিকই কাছে এসেছে। যতটা কাছে আসলে চাদনী স্বাভাবিক থাকে ততটা। বেশি কাছে আসা চাদনী মানতে পারে না। অস্বাভাবিক হয়ে যায়।
ঢাকায় আসার পর থেকেই, আঁধার খুব ফ্রি একটা সময় পার করছে। ওর ভার্সিটি, পড়াশোনা কিচ্ছু না। শুধু অবসর আর অবসর। আর কিছুদিন পর হয়তো ফোর্থ ইয়ারে ভর্তির ডেইট দিবে।আর ওর ফ্রেন্ডদের এক্সামের রেজাল্ট।এটা নিয়ে ওর খুবই লজ্জা লাগছে।যদিও আঁধার একটা নির্লজ্জ। তবুও একজন সেরা স্টুডেন্ট হয়েও, একটা বছর জাস্ট ফেইল করার ভয়ে গ্যাপ দেওয়া, আবার সে একই ক্লাসে গিয়ে ভর্তি হওয়া এ অভিজ্ঞতা আঁধারের জন্য নতুন। ওর খুবই খারাপ লাগছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তবে চাদনী কলেজে চলে গেলে,ও ওর বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরিয়েছে। ওঁদের সামনে ওর কোনো হীনমন্যতা কাজ করে না। ওর একটা অভ্যাস হচ্ছে ও সবাইকে খোঁচাতে পারবে। কিন্তু কেও, ওঁকে নিয়ে উল্টাপাল্টা বলতে পারবে না। এজন্য ওর কোনো ফ্রেন্ড ওঁকে পিঞ্চ মারা থেকে একশো হাত দূরে থাকে।
তবে আঁধার একটা জিনিস খেয়াল করেছে,শাবিহা ওর ফ্ল্যাটে আসা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই ওর অন্য কোনো বন্ধুরা এখানে আসে না। ওরা একসাথে ট্যুর দেয়, কিন্তু এখানে আসে না। ওরা চাদনীকে স্নেহ করে, কিন্তু শাবিহার জন্যও ওঁদের খারাপ লাগে। মেয়েটা পুরাই পাগল। একটা জিনিস এতোদিন ধরে বসে থাকতে আছে। কোথায় একটা সুন্দর ছেলে দেখে বিয়ে করে নেবে তা না! কষ্ট পাচ্ছে। আর সাথে ওর বন্ধুরাও ওর কষ্ট নিতে পারে না বলে আধারের ফ্ল্যাটে আসে না। বন্ধুত্বে অন্তত এটুকু এডজাস্টমেন্ট তো থাকা উচিত।
চাদনীও স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা আসার পর থেকে। নিজেকে রিকোভারি করার সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছে। আঁধারের সাথে মাঝখানে যেভাবে বন্ডিং টা খুব খারাপ হয়ে গেছিলো৷ ও আঁধারকে টোটালি সহ্যই করতে পারতো না।এখন তেমন হয় না। আসার পর থেকে ওরা একসাথে অনেকবার শহরের অলিগলি তে ঘুরেছে। আঁধার ঘুরতে নিয়ে গেছে ওঁকে। অনেক নতুন জায়গা চিনিয়েছে।চাদনীও আর নিস্তব্ধ হয়ে, একজায়গায় বসে থাকে না। ওর মন খারাপ হলে ও ছাঁদে যায়, নিচে হাঁটতে যায়। ওর বন্ধুদের সাথে কথা বলে। প্রতিদিন নিয়ম করে কলেজ যায়। ওর বন্ধুদের দেখলে ওর মুড এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়।
সকাল আটটায় আঁধারের ফ্ল্যাটের বেল বাজলো। চাদনী মাত্রই উঠেছিলে রেডি হওয়ার জন্য। নয়টা ত্রিশ থেকে ওর ক্লাস শুরু হয়। আঁধার এতো সকালে উঠবে না। ও খুব সুখে আছে। পড়াশোনা নেই, ভার্সিটিতে যেতে হয় না। চাদনীর খুব চোখে লাগে ওর সুখ। এদিকে চাদনীর ফাইনালের জন্য প্রিপারেশন নিতে গিয়ে অবস্থা খারাপ হচ্ছে। সেখানে আঁধারের এতো সুখ ও নিতে পারছে না।
চাদনী চুল বাঁধছিলো। বেল বাজানোর শব্দ শুনে ও নিচে নেমে এসে দরজা খুলে দিলো। বাইরে শাবিহা দাঁড়িয়ে ছিলো। শাবিহাকে দেখে চমকে তাকালো।
শাবিহা ওঁকে দেখেই হাসলো। হাসিমুখে বললো
-“কেমন আছো?”
-“ভালো।”
কিন্তু মনে মনে খুব অবাক হলো। শাবিহাকে ও এখানে আসতে দেখেছিলো, যখন ও প্রথমবার ঢাকায় এসেছিলো। এরপর আধারের অন্যান্য বন্ধুরা মাঝেমধ্যে আসলেও শাবিহা আসেনি কখনো।
-“আমি আসায় খুশি হওনি?”
শাবিহা আবার বললো। চাদনী সৌজন্য হেঁসে বললো
-“না, না তা কেন হবে!ভেতরে আসুন আপু।”
শাবিহা ভেতরে এলো। আশেপাশে তাকিয়ে আঁধার কে খুঁজতে থাকলো।চাদনী বুঝতে পেরে বললো
-“আঁধার ভাইকে খুঁজছেন?”
-“হাসবেন্ড কে কেও ভাই ডাকে?”
শাবিহা ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো৷ চাদনী চোখ পিটপিট করে।তাকালো। শাবিহাকে ওর ভয় লাগে। কেমন যেন মেয়েটা! গম্ভীর হয়ে থাকে সবসময়।তটিনীর মতো যখন তখন হাসে না। কথা বলে, ভ্রু কুঁচকে। হাত নেড়ে বিজ্ঞদের মতো। ওর এই অভ্যাস টাতে চাদনী একজনের খুব মিল পায়।
শাবিহা চাদনীর দিকে তাকালো। ওর গায়ে সাদা এপ্রোন। বেনি অর্ধেক বেঁধেছে, বাকি অর্ধেক চুল খোলা। বেনি করতে করতেই দরজা খুলতে এসেছিলো। শাবিহা ওঁকে পরখ করে বললো
-“কলেজে যাবে?”
-“জ্বি!”
-“তোমার হাসবেন্ড কোথায়?”
চাদনীর মনে হলো ওঁকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে। তবুও কথা না বাড়িয়ে বললো
-“ঘুমাচ্ছে।”
-“ডেকে নিয়ে আসো।”
অথচ শাবিহা বলতে চায়লো, আচ্ছা, আমি ওর সাথে দেখা করে আসি। ও বলতে পারলো না। আঁধারের বিয়ে হয়ে গেছে। ও কি পারমিশন ছাড়া একটা বিবাহিত ছেলের রুমে ঢুকতে পারে।পারে না! আর এই আফসোসটাই ওঁকে শেষ করে দেয়।
চাদনী সম্মতি দিয়ে আঁধারকে ডাকতে গেলো। আঁধার উপুড় হয়ে,ব্ল্যাঙ্কেট পেঁচিয়ে ঘুমাচ্ছিলো। চাদনী ফিসফিস করে ডেকে বললো
-“আঁধার ভাই, উঠো।তোমার বিএপএপ এসেছে।”
-“কী এসেছে!”
-“বিএপএপ!”
আঁধার ঘুমঘুম চোখে, অবুঝ দৃষ্টিতে তাকালো।
-“তোতলা তুই?”
-“নাহ।”
-“কে এসেছে ঠিক করে বল, তাহলে।”
-“তোমার বিএপএপ।”
অর্ধেক করা বেনুনি টেনে ধরলো আঁধার। চাদনী নিচু কন্ঠে চেঁচিয়ে বললো
-“এখন আমি চেঁচালে তোমার বিএপএপ এর সামনে তোমারই ইজ্জত যাবে।”
-“তটিনী কে তো এভাবে বলিস না তুই?”
-“শাবু এসেছে।তোমার শাবু।”
চাদনী খুব সুক্ষ্ম ভাবে বাঁশ মারলো। আঁধার আসলেই শাবিহাকে শাবু ডাকে।ও হামি তুলে বললো
-“তুই না চাইলে ডাকবো না।”
-“আমি তোমার মতো ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে হুলুস্থুল বাজিয়ে দিই না। বেস্টফ্রেন্ডকে এভাবে ডাকাই যায়।”
-“জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিস। অঙ্গার পর্যন্ত অক্ষত থাকছে না। আমি পরিষ্কার পোড়ার গন্ধ শুঁকতে পাচ্ছি। কিন্তু সে বলে, সে এসব ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না।
চাদনী মুখ ঘুরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। বিনুনি খুলে, চুলগুলো ঝুঁটি করে বাঁধলো।
শাবিহা চুপচাপ ড্রইংরুমের সোফায় বসেছিলো। আঁধার গলা খাকড়ি দিয়ে ওর মনোযোগ আকর্ষণ করে। শাবিহা তাকালো৷ ওঁকে দেখেই হাসলো। আঁধারের মনে হলো, ও জোরপূর্বক হাসি দিয়েছে। শাবিহা বা ওর অন্য কোনো ফ্রেন্ড রা এখানে আসলেই, এক্সাইটমেন্টে চেঁচামেচি করে।আঁধার ওঁদের চিল্লানি শুনেই বুঝে যায় ওরা এসেছে। সেখানে আজ শাবিহা শান্ত হয়ে বসে আছে।
আঁধার এসে ওর সামনে বসলো। শাবিহা বললো
-“কেমন আছিস?”
আঁধার উত্তর না দিয়ে বললো
-“ভেবেছিলাম আর কোনেদিন এখানে আসবিই না।”
-“আমি আসায় কোনো সমস্যা হয়েছে। চাদনী মন খারাপ করবে?”
-“ও কেন মন খারাপ করবে? ভাই, ওঁকে তুই কেমন ভাবিস আমি জানি না৷ কিন্তু ওর এসবে কোনো যায় আসে না। ও সবাইকে ভালোবাসে।”
-“হু।”
শাবিহা উপরে তাকালো। আবার আঁধারের দিকে তাকিয়ে বললো
-“কলেজে যাচ্ছে না ও!”
-“যাবে তো। রেডি হতে একঘন্টার উপর লাগে।”
-“আচ্ছা। তুই আমাকে আপনি করে ডাকবি।তোর সিনিয়র আপু হই, তোর উচিত আমাকে সম্মান করা।”
আঁধার হাসলো। শাবিহাও হেঁসে দিলো।
-“আগে পাশ কর।”
-“স্ট্যান্ড করবো।”
-“লল! ”
-“কেন? আমি ভালো স্টুডেন্ট না? তোর মতো আহামরি ভালো না! বাট পাশ করাটা কেমন যেন শোনায়। এটলিস্ট তুই এটা বলতে পারতি, টপ টেনে থেকে দেখা!”
-“আমি জানি তুই টপ টেনে থাকবি!”
-“জানিস? এতো কনফিডেন্স?”
-“অবশ্যই!”
-“ভুল জানিস রে! এবার আমার পাশ নিয়ে টানাটানি চলবে। আমি বোধহয় ফেইল করবো।”
-“সে তো তুই সবসময়ই বলিস। কিন্তু মেরিট লিস্টে দেখা যায় দশের ভেতর।”
-“এবারে সত্যি বলছি।”
শাবিহা হঠাৎ করেই মুখ কালো করে ফেললো। আঁধার উদ্বিগ্ন স্বরে বললো
-“কী হয়েছে? এক্সাম ভালো হয়নি? তোর ফ্যামিলিতে আবার সমস্যা শুরু হয়েছে? পরিবারের সবাই ঠিক আছে? তোর পিচ্চি ভাইটা।”
-“ভালো সবাই।”
-“তাহলে?”
-“তোকে মিস করতে করতে পড়ার আর সুযোগই হলো না। ফেইল করবো শিউর।”
-“যাহ।মিথ্যুক!”
-“মিথ্যা বলছি না।পড়তে বসলেই আমার খালি মনে হতো, এবারে পাশ করে গেলে আমি তোর চেয়ে উপরের ক্লাসে উঠে যাবো। ওই যে বলেছিলি, আমাকে বড় আপা ডাকবি।ওই কথাটা বড্ড গায়ে লাগতো রে। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি পড়ার সুযোগ টা পাইনি।”
-“শাবিহা!”
আঁধার অসম্ভব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ওর দিকে। বললো
-“আমার বিয়ে হয়ে গেছে।”
-“তাতে কী? বিয়ে বিয়ের জায়গায়, বন্ধুত্ব বন্ধুত্বের। তোকে ফেলে আমি কী করে অন্য ক্লাসে উঠে যেতাম বল। ফ্রেন্ডশিপ মানে তো কম্প্রোমাইজ।”
-“আমি তোকে এমন কম্প্রোমাইজ করতে বলিনি।”
আঁধার শক্ত কন্ঠে বললো।শাবিহা কোমল গলায় বললো
-“রুডভাবে কথা বলবি না আমার সাথে। তোকে ছেড়ে অন্যক্লাসে মন টিকতো না আমার। এজন্য ইচ্ছে করে খালি খাতা জমা দিয়েছি। আমরা আবারো এক ক্লাসে পড়বো। সবাই যদি একসাথে তোকে ছেড়ে অন্য ক্লাসে উঠে যেতাম তোর খুব খারাপ লাগতো। এখন আমরা দু’জনেই ফেল্টুস, পার্থক্য তুই এক্সাম দিসনি। আমি দিয়েও খালি খাতা জমা দিয়েছি।”
নিরবতা নেমে এলো ওঁদের মাঝে। আমার অনেক্ক্ষণ কথা বলতে পারলো না। কিন্তু ও স্পষ্ট খেয়াল করলো শাবিহার হাতের অস্বাভাবিক কাঁপুনি। ও মেঝের দিকে দৃষ্টি তকক করে আছে। আঁধার কথা ঘুরিয়ে বললো
-“চা বানিয়ে আনি?”
-“নাহ।ইচ্ছে করছে না খেতে!”
-“কিছুই খাবি না?”
-“তোর হাতে বানানো ডিশ আমার অনেক পছন্দের রে অন্ধকার। প্রতিদিন খেতে ইচ্ছে করে। আজকে খেলে, আমি আবার কালকে খাওয়ার জন্য চলে আসবো।”
-“আজাইরা কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে না!”
শাবিহা তড়িঘড়ি করে বললো
-“ওহ হ্যাঁ যেটার জন্য এসেছি।”
-“কোনো কাজে এসেছিস?”
-“হুম। নয়তো আমি তোর ফ্ল্যাটে কেন আসবো?”
-“এভাবে কেন বলছিস?”
-“তোর বউ যদি আবার উল্টাপাল্টা ভাবে।”
-“চাদনী এমন না শাবিহা।কেন তুই ওঁকে এমন ভাবিস!
তুই আমার ফ্রেন্ড। এখানে আসার জন্য তোর কোনো কারণের দরকার নেই। তুই আসিস না তাই, ওরাও আসে না।”
-“আমি ওঁদের মানা করি না।”
-“জানি আমি। তবুও আমার খারাপ লাগে।”
ওঁদের কথার মাঝেই চাদনী ব্যাগ নিয়ে নিচে নামলো।শাবিহা ওঁকে দেখে বললো
-“কলেজে যাচ্ছো?”
-“জ্বি!”
-“বসো, আমাদের সাথে একটু। লেইট হয়ে যাবে?”
-“না।”
চাদনী আঁধারের দিকে তাকালো৷ আঁধার একবার শাবিহার দিকে তাকাচ্ছে, একবার চাদনীর দিকে। শাবিহা এতোটা মহান মানুষ কবে হয়ে গেছে। ও তো চাদনীকে সহ্যই করতে পারতো না। চাদনী আঁধারের থেকে দূরে করে বসলো।
শাবিহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আধারকে বললো
-“তোকে দাওয়াত দিতে এসেছি।”
-“কীসের দাওয়াত?”
-“বড় ভাইয়া ইলেকশনে জিতে গেছে।”
-“কোন ভাই?
-“আবরার ভাইয়া। বলেছিলাম না তোকে।”
-“ওই যে তোর স্টেপ ব্রাদার!”
-“স্টেপ ব্রাদার বলিস না।”
চাদনী চমকে তাকালো। কোনোভাবে কী শাবিহার আবরার ভাই, নেতা সাহেব! পরক্ষণে ভাবলো, এ দুনিয়ায় কতো আবরার আছে। কতে আবরারই বাংলাদেশে রাজনীতির সাথে যুক্ত আছে। চাদনী নিজের সামনে যুক্তি দাঁড় করালো। আর ওই ছেলেটার কথা ভাবায় মনে মনে তওবা খেলো।
শাবিহা বললো
-“সৎ ভাই কথাটা আমার খুব খারাপ লাগে। ভাইয়াকে আমি অনেক ভালোবাসি।”
-“সরি!”
-“আরে নাহ!তাহলে তুই আসছিস?”
-“চেষ্টা করবো!”
-“তুই যদি না আসিস আঁধার, সেদিনের পর থেকেই তোর সাথে আমার সব ফ্রেন্ডশিপ ভেঙে যাবে। এবারে কিন্তু আমি সিরিয়াস। প্রতিবারের মতো এমনি এমনি বলছি না। তুই তোর সব ফ্রেন্ড থেকে দূরত্ব বানিয়ে নিয়েছিস। জাস্ট বিয়ে হয়েছে, এজন্য তুই তোর সব ফ্রেন্ড কে ভুলে যাবি, ওঁদের আবদার রক্ষার একটু চেষ্টা পর্যন্ত করবি না, এমন তো হতে পারে না।”
শাবিহা তপ্তস্বরে বললো। আঁধার বুঝ দিয়ে বললো
-“আরে বাবারে যাবো তো।”
-“চাদনীকেও সাথে নিয়ে আসবি কেমন!”
পরক্ষণে চাদনীর দিকে তাকিয়ে বললো
-“চাদনী তুমি কিন্তু যাবে।”
আঁধার অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
-“সূর্য কি আজকে পশ্চিম দিকে উঠেছে দোস্ত!”
-“দুনিয়া কী আজকে ধ্বংস হয়ে গেছে?”
-“না তো। তাহলে আমরা এখানে কী করে বসে আছি?’
-“তাহলে সূর্যও পশ্চিম দিকে উঠেনি।”
-“আচ্ছা।”
-“ওঁকে নিয়ে আসবি। আমার সব ফ্রেন্ড আসবে।”
-“ওঁদের ফ্যামিলিকেও দাওয়াত দিয়েছিস?”
-“নাহ।আমরা কী আমাদের পার্টিতে, ফ্যামিলি সহ দাওয়াত দেই? আমাদের ফ্রেন্ডশিপের রুলসই তো এমন,কোনো ফ্রেন্ড তাদের বিএফ, জিএফ,হাসবেন্ড, ওয়াইফ নিয়ে আসতে পারবে না। শুধু আমরা বন্ধুরা বন্ধুরা থাকবো।”
-“তাহলে চাঁদ?”
-“তোর চাঁদ কে দাওয়াত না দিলে তো তুই আবার যাবি না।”
আঁধার কেমন করে তাকিয়ে থাকলো শাবিহার দিকে। শাবিহা টলমলে দৃষ্টিত তাকালো।
-“তুই ওঁকে খুব বেশিই ভালোবাসিস আঁধার?”
আঁধার চাদনীর দিকে তাকালো। চাদনী ওর দিকে। শাবিহা চোখের পানি আঁটকে বললো
-“চাদনী তুমি বলো, আঁধার তোমাকে খুব ভালোবাসে?”
নার্ভাসনেসে হাত কচলাতে লাগলো চাদনী।
শাবিহা, আধারকে বললো
-“আমার কী বিয়ে করে নেওয়া উচিত? একটা বিবাহিত ছেলের জন্য অপেক্ষা করা খুব ছ্যাচড়ামি তাই না রে!”
-“কী হয়েছে তোর?”
-“আমি তোকে খুব মিস করেছি রে ।তুই যখন চট্টগ্রামে চলে গেছিলি আমাে কীভাবে যে মনে পরেছে তোর কথা!
এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। আরেকজনের স্বামীকে মিস করা উচিত না।”
-“চাদনী তুমি খারাপ ভাবছো না তো? বন্ধু হিসেবে মিস করেছি।”
চাদনীর এসব শুনতে খুবই খারাপ লাগছিলো। ও দাঁড়িয়ে বললো
-“আপনি কথা বলুন আপু। আমাকে কলেজে যেতে হবে, লেইট হয়ে যাচ্ছে।”
শাবিহা উঠে দাঁড়ালো ওর সাথে।বললো
-“আমার কোনো কথা নেই। দাওয়াতে দিতে এসেছিলাম। দেওয়া শেষ। আর কি কথা থাকতে পারে? চলো আমরা একসাথে যাই।”
ওঁদের দেখাদেখি আঁধারও দাঁড়িয়ে গেলো।ও শাবিহাকে চিনতে পারছে না। মেয়েটা এমন কেন করছে। ও হঠাৎই চাদনীকে জড়িয়ে ধরলো। চাদনী অকস্মাৎ অবাক হতেও ভুলে গেলো। শাবিহা ওঁকে ছেড়ে দিয়ে বললো
-“মাঝে মাঝে তোমার প্রতি আমার খুব হিংসে জাগে বুঝেছো।”
-“কী?”
-“কিছু না। চলো আমরা একসাথে যাই।”
-“আমি একা যেতে পারবো আপু।”
-“নাহ। আমি তোমাকে পৌঁছে দেবো। সিটি কলেজের রাস্তা পেরিয়েই আমার বাড়ি যেতে হয়। চলো।”
চাদনী বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকালো আধারের দিকে।আঁধার বললো
-“যা, ও নামিয়ে দেবে।”
ও খুব ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো। যেন শাবিহা ওঁকে মাঝরাস্তায় মার্ডার করে ফেলবে। আঁধার ওর দৃষ্টির মানে বুঝতে পেরে হাসলো। শাবিহাকে বললো
কাজলরেখা পর্ব ৪৭
-“ও আসলে তোর সাথে যেতে ভয় পাচ্ছে!”
-“ওঁকে মাঝরাস্তায় গুম করে দেবো আমি।”
-“দিতেও পারিস তোর তো বিশ্বাস নেই।”
-“হা হা। সো ফানি!
চাদনী চলো।”
শাবিহা চাদনীর হাত ধরে নিয়ে গেলো ওঁকে। চাদনী আঁধারের দিকে বারবার পিছু ফিরে তাকালো।আঁধার ইশারায় বোঝালো ভয় না পেতে! শাবিহা ওর কিছুই করবে না। অন্তত আঁধারের কোনো প্রিয় জিনিসের ক্ষতির কারণ তো হবেই না।

Apu next part Kobe diben