কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২৪
তন্ময়ী তিতিক্ষা
বর্ষণ হচ্ছে। মুষলধারে বর্ষণ। দুপুরের এই শীতলতায় হয়তো কেউ নিজের প্রিয় মানুষটার সাথে সময় কাটাতে ব্যস্ত আবার কেউ হয়তো ব্যস্ত ভাতে ঘুমে। ভিজে চুপচুপ হয়ে সবে বাড়ি ফিরলো মিহির। হাতে ছোট্ট একটা প্যাকেট। ভিজা শরীরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁক ছেড়ে ডাকল মাকে,
“আম্মা! আম্মা!”
কয়েকবার ডাকতেই রুম থেকে বের হয়ে এলো মনিরা খাতুন। বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে আছে তার। ছেলেকে দেখে আগ্রহহীন কন্ঠে বলে উঠল,
“কি হয়েছে এভাবে ষাঁড়ের মতো চেচ্চাছিস কেন?”
মিহিরের চোখে আঁধার ছেঁয়ে গেল নিমিষেই। কিছুটা শ্বাস ফেলে নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো। ঠোঁটের কোণে স্বল্প হাসি ফুটিয়ে বাঁড়িয়ে দিল বাবার জন্য আনা ঔষধের প্যাকেটটা। স্লান কন্ঠে বলল,
“বাবার জন্য ঔষধ আনতে বলেছিলে যে নিয়ে এসেছি। একটু খাবার বেরে দেও আম্মা। খুব ক্ষিধে পেয়েছে।”
“দিচ্ছি।”
বলে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল মনিরা খাতুন। মিহির কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। ভেজা শার্ট থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে মেঝেতে। চোখদুটো কেমন নিস্তেজ। খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ছোট্ট ঘরটার দিকে পা বাড়াল মিহির। ঘরের প্রবেশ করতেই অদ্ভুত এক ভেজা মাটির গন্ধ তার নাসারন্ধ্র ভেদ করে বেরিয়ে গেল। জানালার এক কোণা দিয়ে বৃষ্টির ছাঁট ঢুকে বিছানার চাদরটা ভিজিয়ে দিয়েছে খানিকটা। মিহির নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু খুব একটা পাত্তা দিলো না। আলমারির ভেতর থেকে একটা গামছা বের করে মাথা মুছতে লাগলো। শার্টটা খুলে চেয়ারের ওপর রাখতেই পকেট থেকে ভেজা একটা কাগজ বেরিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল । মিহির নিচু হয়ে তুলে নিলো সেটা। চাকরির আবেদনপত্র। কাগজটা ভিজে কুঁচকে গেছে। কিছুক্ষণ নিরবে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল মিহির। অভ্যন্তর গলিয়ে বেরিয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস। কতদিন যাবত একটা চাকরী আশায় ঘুরছে সে। অথচ কিছুতেই পাচ্ছে না। পাবেই বা কি করে? অনার্স পড়ুয়া একটা ছেলেকে কেই বা চাকরী দিবে? মিহির কাগজটা কাঠের টেবিলটার ওপর রেখে ওয়াশরুমে প্রবেশ করল। ফ্রেশ হয়ে বেরত হতেই যেন আবহাওয়া আরও গুমোট হয়ে উঠেছে। টিনের চালের ওপর শুধু টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ।
মায়ের ডাক শুনে খাবার টেবিলে গিয়ে বসে পড়ল মিহির। গরম গরম ধোঁয়া উঠা খিচুড়ি দেখেই যেন জিভে জল চলে এলো। আর দেরি করল না সে। চটজলদি এক লোকমা মুখে চালান করল। দু’এক লোকমা মুখে পুড়তেই কর্ণে এসে ঠেকলো মনিরা খাতুনের কন্ঠস্বর। নিমিষেই মিহিরের চলমান হাতটা থেমে গেল।
“এখনো চাকরী পাসনি?”
মিহির মুখে থাকা খাবারটুকু গিলে নিল। মৃদুভাবে মাথা নেড়ে বলে উঠল,
“উঁহু মা।”
ঘরের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে মুহুর্তে মনিরা খাতুন তেতে উঠলেন। কিছুটা ঝাঁঝ মিশিয়ে বলে উঠল,
“একটা চাকরি জোগাড় করতে পারিস না? আর কতকাল বাপের পেনশনে চলবে সংসার?বোনটার দিকেও তাকাস কখনো? মেয়েটা বড় হচ্ছে। বিয়ে দিতে হবে না? মানুষজন কত কথা শোনায় জানিস? ভাই বেকার।ঘরে আয়-রোজগার নাই এইসব শুনতে ভালো লাগে?”
প্রতিটা শব্দ যেন ধীরে ধীরে এসে বিঁধছে মিহিরের বুকের ভেতর। সে চেষ্টা করল এক লোকমা ভাত মুখে তুলতে। কিন্তু গলার কাছে এসে যেন খাবারটা আটকে গেল। পানি খেলো একটু। তবুও নামলো না। মনিরা খাতুন বলেই চলেছে। কিন্তু মিহির কক্ষে নিরবতা ছড়িয়ে মুখে কু্ঁলুপ এটে রয়েছে। খাবারের প্লেটটার দিকে নিনির্মেষ দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইল অপলকভাবে। আকস্মিক উঠে দাড়াল মিহির। থেমে গেলেন মনিরা খাতুন। চোখ মুখ কুঁচকে বলে উঠলেন,
“কি হলো? উঠলি কেন?”
মিহির কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। পরক্ষণেই শান্ত স্বরে বলে উঠল,
“পেট ভরে গেছে।”
আর একমুহুর্তও দাঁড়ালো না মিহির৷ কদম ফেলে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। কয়েক সেকেন্ডের মাঝে বৃষ্টি তাকে ভিজিয়ে দিল পুরো। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই তার। তীব্র বর্ষণের মাঝেও পথহারা পথিকের ন্যায় চলতে থাকলো। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া একফোঁটা অশ্রু মিশে গেল বৃষ্টির জলের সাথে। তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল মিহিরের ঠোঁটে। আনমনেই বলে উঠল,
“পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই মিহির। পুরুষ মানুষ কেন কাঁদবে? তারা তো হলো টাকার মেশিন। টাকা উপার্জন করতে পারলেই তবে তুই পুরুষ মানুষ। এর আগের তুই কিচ্ছু না।”
অঝরে ঝরতে থাকা অশ্রু ক্ষণে ক্ষণে মিশে যাচ্ছে বৃষ্টিতে। সেই অশ্রু দেখার মতো কেউ নেই। কেউ না!
“এতক্ষণ লাগে খাবার ডেলিভারি দিতে? কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি?”
সামনে দাঁড়ানো লোকটার কর্কশ কন্ঠে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো আযরানের। ফর্সা মুখটায় নিমিষেই রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ল। কখনো কারো উচ্চকন্ঠে বলা কথা সহ্য করেনি সে। তবে আজ করল। নিজেকে শান্ত রাখল বহুকষ্টে। মস্তক নত করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,
“দুঃখিত স্যার। জ্যামের কারনে একটু লেট হয়ে গিয়েছে।”
“হয়েছে আর অযুহাত দিও না। এই নেও টাকা।”
আযরান ক্ষীণ এগিয়ে এলো৷ লোকটার বাঁড়িয়ে দেওয়া টাকাটা নিয়েই জায়গা প্রস্থার করল সে। নিচে নিজের সাইকেলের কাছে এসেই রাগ উপছে পড়ল তার। রাগে থরথর করে কাঁপতে লাগলো কন্ঠনালি। শুধুমাত্র টাকার প্রয়োজন বিধায় ডেলিভারি ম্যানের চাকরিটা জোগাড় করেছে আযরান। গত কয়েকদিন ধরেই করে আসছে এটা। কিন্তু আজকে একটু লেট হওয়ায় কাস্টমারের এহেম ব্যবহারে তার মাথায় যেন আগুন জ্বলছে। কয়েকবার বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করতে চাইল আযরান। ঠিক তখনই চক্ষুপর্দায় ভেসে উঠল আর্শির মুখটা। নিমিষেই যেন বরফের ন্যায় গলে গেল আযরানের সমস্ত রাগ। চক্ষুদ্বয় খুলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আনমনে আওড়ালো,
“সবকিছু সহ্য করতে শিখে ফেল আযরান। আর্শিকে ভালো রাখতে হলে এইটুকু তো শিখতেই হবে।”
আর ভাবল না আযরান। দৃষ্টি ঘুরিয়ে একবার তাকালো আশেপাশে। রাত হয়েছে। সূর্য ডুবেছে প্রায় অনেকক্ষণ। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভীর। সবাইই যে যার কাজে ব্যস্ত। হুট করে আযরানের নজর গিয়ে আঁটকালো পেয়ারা মাখা বিক্রি করতে থাকা একটা বাচ্চা ছেলের ওপর। চক্ষুদ্বয় ছোট ছোট করে তাকিয়ে আযরাব বয়স বুঝার চেষ্টা করল। বড়জোর নয় বছর হবে হয়তো। ঘুমে বার বার একপাশে হেলে পড়ছে ছেলেটা। খুব বেশি ক্লান্ত দেখাচ্ছে ছেলেটাকে। আযরান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেদিকে। ছেলেটার বয়সে থাকাকালীন নিজের অবস্থান মনে করার চেষ্টা চালাল। মনে পড়লোও। তখন কত আবদার করতো বাবা মার কাছে। সবকিছু হাতের কাছে পেয়েও যেন আবদারের শেষ ছিল না আযরানের। অথচ এইটুকু ছেলেটা আবদারের বয়সে কিনা চরম বাস্তবতার বেড়াজালে বন্ধি হয়ে গেল? আযরানের হুট করে খেয়াল হলো তার চক্ষুদ্বয় কেমন ভেঁজা। মুহুর্তে আযরান চমকাল। তার মতো শক্ত মনের মানুষের চোখে পানি আসবে কেন? কিছুক্ষণ উন্মাদের ন্যায় বাচ্চা ছেলেটার দিকে চেয়ে থেকে ধীর কদমে এগোলো আযরান। এগিয়ে গিয়ে থামল একদম ছেলেটার নিকটে। হাঁটু ভেঙে বসে মৃদুস্বরে বলে উঠল,
“পেয়ারা মাখা কত করে?”
ঘুমন্ত ছেলেটা তড়িৎ বেগে চক্ষুদ্বয় মেলে চাইল। কাস্টমার দেখতে সবগুলো দাঁত বের করে হাসল। ছোট মুখটায় যেন উপচে পড়ছে আনন্দ। আযরান দেখলো হাসিটা। একদম প্রাণখোলা হাসি। ছেলেটা হাসিমাখা মুখেই বলে উঠল,
“বিশ ট্যাকা কইরা। মাইখা দিমু ভাইজান?”
আযরান মৃদু হাসল এমন কথায়। এখন তার ওইরকম সামর্থ্য থাকলে হয়তো কিছু একটা হলেও করতো। কিন্তু আফসোস ওইটুকুও এখন তার নেই। কিছুটা হতাশ হলো আযরান। হালকা মাথা কাত করে বলে উঠল,
“দু’টো বানিয়ে দেও।”
ছেলেটা দ্রুত হাত চালিয়ে পেয়ারা মাখাতে লাগল। ছোট্ট হাতদুটো কেমন নিপুণভাবে কাজ করে চলেছে। আযরান গভীর চোখে দেখতে লাগলো সবটুকু।
“এই নেন ভাইজান।”
কথাটা কর্ণপাত হতেই দৃষ্টি ঘুরালো আযরান। ছোট্ট পলিথিনের ব্যাগ দুটো এগিয়ে দিল ছেলেটা। আযরান পকেট হাতড়ে একশ টাকার নোট বের করল। নোটটা বাড়িয়ে দিতেই ছেলেটা সেটা হাতে নিয়ে থমকে গেল। তারপর অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলল,
“ভাংতি নাই তো ভাইজান…”
“রেখে দেও।”
কথাটা বলেই আযরান উঠে দাঁড়ালো । বড্ড ক্লান্ত লাগছে শরীরটা। মাথাটা ঝিমঝিম করছে গরমে। হুট করে পদচারণ থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেল আযরান। সারাদিনের ক্লান্তিতে পা ভেঙে আসছে। খানিকটা অপেক্ষা করে পুনরায় চলতে শুরু করল সে। থেমে গেলে কি করে হবে? সবকিছুর অভ্যাস করে নিতে হবে আস্তে আস্তে। সকল ক্লান্তিকে দমিয়ে আযরান পুনরায় সাইকেলে উঠে বসল। চলতে শুরু করল পরের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে
ধীর গতিতে চন্দ্রিমার লালিমা মিশে যাচ্ছে ধরনীতে। নিকৃষ্ণ আঁধারের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত হলো আর্শি। এতরাত হয়ে যাচ্ছে তবুও কেন আযরান ফিরছে না? কোনো বিপদ হলো নাকি? বক্ষস্থল কেঁপে উঠল নিদারুণ ভাবে। নিমগ্ন হলো চিন্তায়। আকস্মিক দরজায় খটখট শব্দে নড়েচড়ে উঠল সে। নিশ্চিয়ই আযরান এসেছে। আনন্দিত মন নিয়ে ছুঁটে গেল আর্শি। দরজা খুলতেই ওপাশে দৃশ্যমান হলো মেহরকে। নিমিষেই আর্শির আনন্দটুকু মাটিতে মিলিয়ে গেল। হতাশ হলোও কিছুটা। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে মেহর। আর্শিকে দেখেই হাতে থাকা বাটিটা বাঁড়িয়ে দিল তার নিকট। খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠল,
“মা এটা তোমাকে দিতে বলেছে আপু।”
অনিচ্ছা শর্তেও স্বল্প হাসল আর্শি। জাহানারা বেগম পাঠিয়েছে শুনে আর না করতে পারল না। হাত বাঁড়িয়ে বাটিটা নিয়ে বলে উঠল,
“ভিতরে এসো মেহর। আর আন্টিকে ধন্যবাদ এটার জন্য।”
মেহর মিটমিট করে হাসল। চক্ষুদ্বয় বুলালো আশেপাশে। পরক্ষণেই মাথা এগিয়ে নিয়ে এলো আর্শির নিকটে। নিমিষেই আর্শির ভ্রুযুগল কুঁচকে গেল মেহরের এহেম কান্ডে। মেহর এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,
“নতুন বিবাহিত কাপলদের ঘরে রাত বিরেতে যেতে নেই তুমি জানো না?”
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল আর্শি। কপালে ভাঁজ পড়ল কিছুটা। কিছুক্ষণ ভেবে বুঝার চেষ্টা করল মেহরের কথাটা। যখন বুঝতে পারল থমকে গেল আর্শি। নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সে। থমথমে কন্ঠে বলে উঠল,
“কি সব পাকা পাকা কথা বলো মেহর।”
মেহর মিটিমিটি হেসে কাঁধ ঝাঁকালো। দুষ্টুমিভরা স্বরে বলল,
“পাকা হলেও সত্যি কথা। যাইহোক থাকো চললাম আমি। বায় আপু।”
কথাটা বলেই একপ্রকার লাফাতে লাফাতে চলে গেল মেহর। আর্শি হেসে ফেলল আনমনে। মেয়েটা একটু বেশিই চঞ্চল। এখানে আসার পর থেকে তার সঙ্গ দেয়। যা বেশ ভালো লাগে আর্শি।
রাত প্রায় ১১টা। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে ফিরল আযরান। আর্শি চমকিত দৃষ্টি ফেলল আযরানের পানে। কৃত্রিম আলোয় ঝলঝল করছে আযরানের নিস্তেজ, ফ্যাকাসে মুখশ্রী। তাকে দেখা মাত্র সূক্ষ্ম হাসি ফুঁটে উঠল আযরানের ওষ্ঠের কোণে। আর্শির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। ঘামে ভিজে আছে আযরানের পরনের শার্টটা। চুলগুলোও কেমন উস্কখুস্ক। দ্রুত কদমে এগোলো আর্শি। একগ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বিচলিত কন্ঠে বলে উঠল,
“তোর এই অবস্থা কেন আযরান?”
আযরান গ্লাসটা নিলো। একঢোকে পুরো পানি শেষ করে নিস্প্রভ কন্ঠে বলল,
“একটু ক্লান্ত লাগছে আর কিছু না। ফ্রেশ হবো ঠিক লাগবে।”
আর প্রশ্ন করল না আর্শি। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো নিস্পলকভাবে। চেহেরায় অসীম অস্থিরতা। হুট করে কয়েক কদম এগিয়ে থামল আযরানের অতি নিকটে। তারই দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছেলেটা। আর্শি সূক্ষ্ম একটা নিঃশ্বাস ফেলে হুট করে মিশে গেল আযরানের বুকে। বক্ষমাঝে মুখ গুঁজে চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে ফেলল। আযরান চমকে উঠল। বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ল মুখশ্রী জুঁড়ে। নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“কি করছিস মুটি? ঘেমে আছি আমি। ঘৃণা লাগছে না তোর?”
কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২৩
আর্শি আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আযরানকে। নেত্রপল্লব বন্ধ রেখেই নিঃশব্দে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে বলে উঠল,
“ঘামের গন্ধটা মানুষটার কষ্টের গন্ধ হলে, সেটা ঘৃণা না আযরান..বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে।”
