Home কার্নিশে আলতা মাখানো কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৬

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৬

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৬
তন্ময়ী তিতিক্ষা

বর্ষণ শেষে রোদ্র নিজের তেজী রুপে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। রাস্তার দুপাশে গাছগুলোকে পিছনে ফেলে সাঁই সাঁই করে ছুটে চলেছে বাস। রোদ থেকে বাঁচার জন্য ঘুমন্ত আর্শি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিল। মাথাটা হেলে পড়ল একপাশে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল আযরান। ঘুমন্ত আর্শি দেখে নিল একবার। এলোমেলো চুল গুলো ছড়িয়ে আছে মুখের সামনে। মুখটাকে আড়াল করতে ব্যস্ত তারা। আকস্মিক ভ্রুঁ কুঁচকাল আযরান। জানালার ফাঁক গলিয়ে আসা রোদ বার বার ছুঁয়ে যাচ্ছে আর্শি মুখশ্রী। মেয়েটা ক্ষণে ক্ষণে ভ্রুঁ কুচঁকাচ্ছে। আর্শির মাথা ঘোমটা একটু টেনে দিল আযরান। এতেই পুরো মুখশ্রী ঢেকে গেল ঘোমটার আড়ালে। কিছুটা স্বস্থির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল ভিতর থেকে। বিরবির করে বলে উঠল,

“এমন অদ্ভুত মেয়ে আমি দু’টো দেখি নি। গাড়িতে উঠলেই দিন দুনিয়া ভুলে ঘুমের রাজ্যে পারি জমায়।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে দৃষ্টি ঘুরাল আযরান। কিছুক্ষণ পূর্বেই তারা বাসে উঠেছে। উদ্দেশ্য ঢাকা। তবে আসার পূর্বেও একদফা ঝামেলা করেছে দিনা হায়দার। তবে সে সবের পরোয়া করেনি আযরান বরং আর্শিকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। এই মেয়েটাকে ঢাকায় নিয়ে না গেলে মারতে মারতে শেষ করে ফেলল দিনা হায়দার নামক মহিলা। এত রোদে বিরক্ত হলো আযরান। মুখে রুমাল দিয়ে চক্ষুদ্বয় বুঁজে ফেলল। একটা ঘুম দিলে মন্দ হতো না। যেমন ভাবা তেমন কাজ। মূহুর্তে বুকের সাথে হাত বেঁধে নেত্রপল্লব বুঁজে ঘুমের দেশে পারি দিল আযরান নিজেও।
কেটে যায় কিছুটা মূহুর্ত। হুট করে হাতে ভারী অনুভব হতে মুখ থেকে রুমাল সরাল আযরান। সবে চোখ দু’টো লেগে এসেছিল। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে আসল। চক্ষুদ্বয় পিট পিট করে পাশে তাকাতেই দৃষ্টি শান্ত হয়ে গেল তার। তার কাঁধে গাল লাগিয়ে ঘুমে মগ্ন আর্শি৷ ওষ্ঠযুগল সামান্য ফুলে আছে গালের চাপে। এভাবে থাকলে মেয়েটা ঘাড়ে ব্যথা পাবে। আযরান নিনির্মেষ দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইল। পরক্ষণেই আর্শির কাঁধ আঁকড়ে সোজা করে বসিয়ে দিল। আপন মনে বলে উঠল,

“ব্যাপার কি কোনো নড়চড় নেই কেন এই মেয়ের? মরে টরে গেল নাকি?”
কথাটা বলেই হালকা হাতে থাপ্পড় বসাল আর্শির গালে। চমকে উঠে চোখ খুলল আর্শি। হকচকিয়ে বলে উঠল,
“উফফ মারলি কেন অসভ্য।”
“মরার মতো ঘুমাচ্ছিস কেন এমন?”
আর্শি ভ্রুঁ কুঁচকাল। পুনরায় আঁখিদ্বয় বুঁজে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়ে বলে উঠল,
“রাতে ঘুম হয়নি। তার ওপর সকাল সকাল উঠতে হয়েছে। আমি ঘুমাবো একদম জ্বালাবি না আযরান।”
“আচ্ছা ঘুমা।”

পুনরায় ঘুমের দেশে পারি জমাল আর্শি। এবারের ঘুমটা যেন আরেকটু গভীর হলো। আযরান এবার আর ডিস্টার্ব করল না। ঘাড় ফিরিয়ে বাইরের পরিবেশটা চোখের পাতায় বন্দি করে নিল একবার। পরিবেশটা গ্রামীণ ছোঁয়ায় ভরা। রাস্তার চারপাশে ধান ক্ষেত আর এর মাঝে দিয়ে ছুটে চলেছে গাড়ি। কেটে যায় বেশ খানিকটা সময়। মাথার ওপর উত্তপ্ত সূর্য নিজের তেজী রূপে সকলকে উত্যক্ত করে চলেছে। আকস্মিক ‘চ’ সূচক শব্দ শ্রবণ শক্তিতে প্রবেশ করতেই সেদিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল আযরান। ঘুমন্ত আর্শি এবার রীতিমতো বিরক্ত। চোখমুখ কুঁচকে যাচ্ছে তাই অবস্থা। আযরান মৃদু শব্দে হেসে ফেলল। হাসির হুট করেই শান্ত হয়ে গেল তার দৃষ্টি।
আর্শি রোদ থেকে বাঁচতে তারদিকে এগিয়ে এসেছে। একদম মিশে গেছে তার বাঁহুডরে। গভীর দৃষ্টিতে আর্শির পুরো মুখে নয়নজোড়া বুলাল আযরান। সূক্ষ্ম একটা নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে নিল। তারপর হুট করে আর্শিকে নিয়ে এল নিজের বক্ষমাঝে। একহাতে আলতো করে আগলে নিজের সাথে। আড়াল করে ফেলল একদম রোদ থেকে। উষ্ণতা পেয়ে মেয়েটাও যেন গুটিয়ে গেল বিড়াল ছানার মতো। কিছু একটা বিরবির করে উঠল যা স্পষ্ট শুনল না আযরান৷ এবার আর্শি পুনরায় ঘুমের দেশে হারিয়ে গেল। আযরান পুরো ব্যাপারটায় ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
“নিজের নোমানকে না জ্বালিয়ে আমাকে জ্বালিয়ে মারছিস? মুটি একটা। ঘুমা এবার শান্তির ঘুম”

উত্তপ্ত দুপুর। টিউশনি শেষ করে সবে বেরিয়েছে আর্শি। কাঠফাটা রোদে হেলে দুলে হেটে চলেছে মেয়েটা। ক্ষুধায় পেট মুছড়ে যাচ্ছে বারবার। সেই সকালে একটা পাউরুটি খেয়ে বেরিয়েছে। আর দানাপানিও জুটেনি কপালে। তারওপর আরও দু’টো টিউশনি। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল অভ্যন্তর থেকে। গায়ের সুতির থ্রি পিসটা লেপ্টে আছে গায়ের সাথে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। বড্ড অস্বস্তি ঘিরে ধরেছে তাকে। বাতাসও নেই। গলা শুকিয়ে কাঠ পুরো। পানির জন্য হাহাকার করছে ভিতরটা। পরিশ্রান্ত হয়ে পরেছে দেহের প্রত্যেকটা অঙ্গ- প্রত্যেঙ্গ। শেষমেষ না পেরে ধুলোয় সজ্জিত রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসে পড়ল। রোদে মুখশ্রী পুরো লালাভ আকার ধারণ করেছে। করুণ দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকাল আর্শি। আরও ১০ মিনিটের পথ। তবে পিপাসা আর ক্ষুধায় শরীর যেন আর চলতে চাইছে না।

কাঁধে থাকা ব্যাগ থেকে নামিয়ে একবার দেখে নিল আর্শি। কেবল দেড়শ টাকা পরে আছে। নিমিষেই মুখশ্রী আঁধারে ছেঁয়ে গেল। মাসের এখনো সাতদিন বাকি। এই কটা টাকায় চলবে কি করে? বাড়ি থেকে বাইরে থাকলেও নিজের সম্পূর্ণ খরচ নিজেকেই চালাতে হয় তার। বাসা থেকে একটাকাও তার জন্য খরচ করা হয়না। আর্শির বুক চিঁড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু এলো না বরঞ্চ তা দমিয়ে ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলল আর্শি। আকস্মিক ফোন কলের আওয়াজে মনোযোগ ঘুরে গেল তার। ছোটমার ফোন দেখে বেশ অবাক হল। ফোন রিসিভ করে কানে তুলতেই কর্ণপাত হলো ছোটমার তেজী কন্ঠস্বর।

“কোথায় তুই?”
“টিউশনিতে যাচ্ছি ছোটমা।”
সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর করল আর্শি। ওপাশ থেকে পুনরায় ভেসে এলো দিনা হায়দারের কন্ঠস্বর,
“বাড়ি আয়। তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে। ৩দিন পরেই হয়তো বিয়ের বন্দোবস্ত করা হবে।”
স্তব্ধ হয়ে গেল আর্শি। বিয়ে? মানে কি? সে ঢাকায় এসেছেই তিন-চারদিন হবে। এখন আবার ফিরে যেতে হবে? গলা দিয়ে একটা শব্দও বের হলো না। বহুকষ্টে উচ্চারণ করার চেষ্টা করল,
“ছো..ছোটমা আমি এ..এখন..”
“চুপ কর। তোর কথা শুনতে চাইনি। দুইদিনের মধ্যে বাসায় আসবি।”
ফোনটা কানে নিয়েই স্থির হয়ে বসে রইল আর্শি। হাতের ফোনটা কাঁপছে সামান্য। ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড পর কল লিস্ট খুলল আর্শি। নোমানের নামটা স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে। একটা গভীর শ্বাস নিল সে। মনে হচ্ছিল প্রতিটা সেকেন্ড যেন ঘণ্টার মতো দীর্ঘ। অবশেষে ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হলো।

“হ্যালো?”
নোমানের কণ্ঠ শুনতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল আর্শির। চোখ দুটো মুহূর্তেই ভিজে উঠল। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“নোমান… তুমি কি ব্যস্ত?”
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর ভেসে এল নোমানের উদাসীন কন্ঠস্বর।
“হুম… একটু কাজ ছিল। বলো, কি হয়েছে?”
এই উদাসীনতাটায় আর্শির বুকটা কেমন করে উঠল। তবুও নিজেকে শক্ত করল। অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল চক্ষুকার্নিশ। ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রাস্তার পানে। বলে উঠল,
“বাড়ি থেকে আমার বিয়ে ঠিক করেছে নোমান। ৩দিনের মধ্যে সব হয়ে যাবে ছোটমা বলল।”
নিঃশ্বাস আঁটকে বসে রইল আর্শি। অপেক্ষা করছে ওপাশে থাকা মানুষটার থেকে কিছু শোনার। ওপাশ থেকে নোমান শান্তস্বরে বলে উঠল,

“বুঝলাম। পরিবার ঠিক করছে যেহেতু খারাপ করবে না আশা করি।”
নোমানের কন্ঠে স্পষ্ট বিরক্তির ছোঁয়া। আর্শি যেন অবাক হতেও ভুলে গেল। এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কপোল বেঁয়ে। উত্তেজিত স্বরে বলে উঠল,
“কিসব বলছো তুমি? তুমি কি বুঝতে পারছো না ৩দিন পরে আমার বিয়ে। তুমি কিছু করবে না? তোমার কিছু করার নেই এখানে?”
ডুকরে কেঁদে উঠল আর্শি। ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আশে না? নোমান কি পুনরায় বিরক্ত হচ্ছে? কিন্তু কেন বিরক্ত হচ্ছে? ভালোবাসার মানুষের কথায় কেউ বিরক্ত হয়? আর্শি কাঁদতে কাঁদতে পুনরায় বলে উঠল,
“নোমান! প্লিজ চলো না আমরা বিয়ে করে ফেলি। তাহলে আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না আমিও তোমাকে পেয়ে যাবো।”
“উফফ কি শুরু করলে আর্শি? এখন বিয়ে কি করে সম্ভব? হুট করে বললেই হয়?”
নোমানের বিরক্ত কণ্ঠ যেন আর্শির কানের ভেতর ধাক্কা দিল। আর্শি কয়েক সেকেন্ড কিছুই বলতে পারল না। তার বুকের ভেতর কেউ একটা ভারী পাথর বসিয়ে দিয়েছে। রাস্তার ওপরে তপ্ত বাতাস বইছে। ধুলো উড়ছে। সেই ধুলো মিশে যাচ্ছে আর্শির ভেজা চোখে। আর্শি কাঁপা কণ্ঠে বলল,

“কিন্তু…কিন্তু আমার তো আর কোনো উপায় নেই নোমান। তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই। তুমি যদি এখন আমাকে না বাঁচাও তাহলে তারা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবে।”
ওপাশে আবার কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। পুনরায় নোমানের গলা শোনা গেল। বেশ বিরক্ত ভঙ্গিতে বলে উঠল,
“তুমি একটু বাড়াবাড়ি করছো না আর্শি? সবাই কি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে? পরিবারের সাথে কথা বলে ঠিকঠাক করলেই তো হয়।
“তু..তুমি তো জানো নোমান ছোটমা কেমন মানুষ। জোর করে হলেও বিয়ে দিয়ে দিবে। প্লিজ..চলো বিয়ে করে ফেলি।”
“উফফ আর্শি! তুমি বুঝতেই চাইছো না। এখন বিয়ে করা সম্ভব না বলছি তো।”
আর্শির শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। নেত্রপল্লব বেঁয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে৷ এবার কিছুটা অসহায় কন্ঠে বলে উঠল,
“কেন সম্ভব না? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না?”

এই প্রশ্নটা শুনে নোমান কিছুক্ষণ চুপ রইল। তারপর বলল একটু বিরক্ত ভঙ্গিতে,
“ভালোবাসি বলেই তো বলছি মাথা ঠান্ডা রাখতে। এসব হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না।”
আর্শি কেঁদেই ফেলল এবার। অভ্যন্তর ব্যথায় চিনচিন করছে৷ প্রচন্ড ব্যথায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কন্ঠস্বর জড়িয়ে এলো। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। তবুও টেনে টেনে বলে উঠল,
“তাহলে চলো না আমরা এখনই কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলি। পরে সবাইকে বুঝিয়ে নেবো। প্লিজ নোমান..”
“উফফ অসহ্য! ঠিক আছে করবো বিয়ে কাল রেডি থেকে। আর জ্বালাবে না একদম। আমি ব্যস্ত আছি রাখছি।”
কথাটুকু বলেই ফোন কেটে দিল নোমান। কান থেকে ফোনটা নামিয়ে ফেলল আর্শি। গাল বেয়ে অনবরত ঝরছে জল। শুভ্র চেহেরা একদম রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। অজস্র ব্যথার বসবাস আর্শির বক্ষস্থলে। আচ্ছা সেকি একটু বেশিই ছ্যাচড়ামি করে ফেলল। তার কি একটুও আত্মসম্মান নেই? সে তো নোমানকে ভালোবাসে। চাইলেও আত্মসম্মানবোধ দেখাতে পারে না। সে কিছুতেই নোমানকে হারাতে চায় না। তবে নোমানের ব্যবহার তার ভিতরটা একদম ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। হাতের সাহায্য অশ্রুকণা মুছে ফেলল আর্শি। আনমনে আওড়াল,
“তোমার মায়ামাখা ব্যবহারেই আমি একদিন ভালোবেসেছিলাম, আজ সেই ব্যবহারেই ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি। তুমি যখন চাও মায়া হয়ে জড়িয়ে ধরো,

আর যখন চাও না তখন সেই মায়ার ভেতরেই বিষ ঢেলে দাও। কি অদ্ভুত তাই না নোমান?”
তাচ্ছিল্যের হাসি ফুঁটে উঠল আর্শির ঠোঁটের কোণে। পেটে ক্ষুধা আর মানসিক যন্ত্রণায় শরীরটা ভারী হয়ে আসছে। চক্ষুদ্বয় বুঁজে আসতে চাইলেও জোর করে তা মেলে ধরল আর্শি। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। প্রচন্ড রোদের মাঝে মূহুর্তে রাস্তায় ঢলে পড়ল মেয়েটা। জনশূন্যহীন জায়গাটায় কেউ নেই তাকে সাহায্য করার জন্য। দু’একজন দেখেও নজর ফিরিয়ে চলে গেল নিজ গন্তব্যে। হুট করে একজোড়া পা এসে থামল আর্শির নিকটে। বেশ কিছুক্ষণ গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভারিক্কি শরীরটা পাজকোলে তুলে নিল। একটা গভীর শ্বাস নিয়ে চক্ষুদ্বয় নিক্ষেপ করল আর্শির মুখে। ব্যঙ্গ স্বরে বলে উঠল,

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৫

“মুটি কোথাকার! তোর জন্য জিম করে করে এই শরীর বানিয়েছি। কিন্তু এখন তো মন চাচ্ছে আছাড় মেরে তোর কোমড় ফাঁটিয়ে দেই। বিয়ের খুব সখ তাই না? তোর বিয়ের সখ আমি ছুটাচ্ছি।”

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৭