Home কালকুঠুরি কালকুঠুরি পর্ব ৫৩

কালকুঠুরি পর্ব ৫৩

কালকুঠুরি পর্ব ৫৩
sumona khatun mollika

কাশেম চলে এসেছে সামিরের সাহায্য করতে । সামির তাকে ডাকেনি তবে কাশেম সাফিনের অর্ডারে এসেছে। সাফিন কড়া হুকুম করেছে, সামিরের হাতের কাছে থাকতে। সিয়াম ও বলে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সামির যেন ওই বাচ্চাটাকে না ছাড়ে। এমনভাবে যেন গা ঢাকা দেয় , সাফিনও যেন খবর না পায়। কারণ কার্তিক আরিয়ান সহজে হার মানার লোক না। নাতনিকে খুজে না পেয়ে সে নিশ্চয়ই পুরো বাংলাদেশ ঢু মেরে দেবে।

তবে সাফিনের প্ল্যান কিছুটা ব্ল্যাকমিলের মতো। সামির আর কাশেম রামচন্ডিপুর এর মেঠোপথের মধ্যে দাড়িয়ে ছিল,, হটাৎ রাস্তার ধারে ফুটে থাকা গাদা ফুলের ঝাঁক দেখে কাশেম আনমনে বলে উঠলো,, ”
“হায়য়,, আমার শ্যামার বড্ড পছন্দের ফুল রে তুই। ”
– “কাইশসা,, দেখ ওই কাইলানীর জন্য দিল পুড়ানো বন্ধ কর ! ও শালীর জন্য এত শোকে মরার কি আছে? দেখিস অর বিয়া তর সাথেই হবে। ”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

– “নিজের ব্যক্তিগত মানুষকে নিজের কইতে না পারার যন্ত্রণা বুঝেন ভাই ? বুঝলে এমনে কইরে বুইলতে পারতেননা। আমি তার বিরহে জ্বলে পুড়ে যাইতেছি।এই উত্তুরে বাতাস রে আমি ঘেন্না করি। যে উত্তরে বাতাস আমারে তার কথা মনে করায়, আমার সারা অঙ্গে তার বিরহের সুর বাজায়।আপনেতো তাও ভাবিসাবরে নিজের কইতে পারেন ”

-” সাহিত্য গিরি মারানি বন্ধ কর! গিয়ে ওই পুরান বাড়ি ঠিকঠাক কর,, ওখানেই থাকবো বাচ্চাটাকে নিয়ে । ”
-” আমি সঙ্গে যাই? ”
– “দরকার নাই। একটা বাচ্চাইতো। আমি ওকে তুলে সোজা ওই পুরানবাড়ি কালকুঠুরি তে চলে যাব। পেছনে যে বাসযোগ্য ঘরগুলো আছে ওগুলো কে সাফ করে দিস। ”
-” ভাই, আপনে,, কালকুঠুরিতে,, মানে কইতে চাইতাছি, অন্য কোনো জায়গা চলবে না ? ”
-” নিজেদের সবচে সহজ জায়গাই শত্রুদের সবচে কঠিন ডেরা হয় । । ”
– “আপনার সমস্যা হবে না? ”
– “না। যা কাজে যাহ। ”
– “জ্বি আচ্ছা ভাই। ”
কাশেম চলে যেতেই সামির রামচন্ডিপুর এর পূর্ব এলাকার এক বাড়িতে ঢুকে পরে। বাড়ির চারপাশে বেশ কয়েকজন গার্ড তবে তাদের চোখ ফাঁকি দিতে তার বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি সামিরের।

ঠান্ডা তিরতিরে বাতাস বইছে। বড়বড় হারামজাদারা যে এমন জায়গায় থাকে তা কল্পনা করা মুশকিল । কার্তিক আরিয়ানের নাতনি এমনভাবেই মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর সাথে মিশে রয়েছে যেন সে ওইসকল পরিবারেরই অংশ । রামচন্ডিপুর এর নাটোর রাজশাহী মহাসড়ক এর প্রায় মাঝামাঝি জায়গায় ৬ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট একটা দালানকোঠা ।
আলো জ্বলছে চারটেতে। বড় করে চোখ মেলে সামির দেখল একটা জানালায় কার্তিক আরিয়ানের সেই নাতনি ঝুলে ঝুলে খেলছে আর সঙ্গে একটা বেড়াল। বাচ্চাটা কিছুসময় নিচের দিকে তাকালো,, হয়তবা সামিরকে দেখতে পেয়েছে৷
তারপর দৌড়ে নিচে চলে এলো। সামির গাছের আড়ালে লুকিয়ে দাড়ালে সে নিজেই তার সামনে গিয়ে দাড়ালো, ভয় দেখানোর বদলে সামির নিজেই ভীত হলো! অন্ধকারে শিশু বালিকার চোখ দুটি ঝলমল করছে । তার মুখেও মাস্ক তবে হাতে বেড়াল। বেড়ালটা তাকে পুতুলের মতো করে জড়িয়ে ধরে আছে।

সামিরের সামনে দাড়িয়ে সে জোরে করে বলে,,,
“ইয়েএএএ ধাপ্পা! ”
“ও বাপ! ”
“হিহিহিহি ! ”
সামিরের মেজাজটা এবার চটে গেল ! নিজে উবু হয়ে বসার বদলে শিশুটিকে কোলে তুলে সামনের একটা ঢিবির ওপরে বসালো।
“ওই, এভাবে কেও ধাপ্পা দেয়, শালার কইলজা ঢিপঢিপ করতেছে ”
” তোমারতো করছে না। ”
” কি? ”
” বলছি যে শালার কলিজা ঢিপঢিপ করছে তোমারটাতো করছে না। ”
” আচ্ছা বাচ্চু! আমার সাথে পাকনামি ”
” এখানে কেন এসেছ? ”

“ও হ্যা তাইতো ”
কথাটা শেষ করার আগেই সামির কায়দা করে তার নাকে রুমাল চেপে ধরলে সে কোনো ছটফটই করেনা। চোখে দুষ্ট হাসি রেখে বলে,,
“তোমার মাথায় কি গোবর? ”
“কেন?”
“বলদ লোকটা দেখতে পাচ্ছোনা আমার মুখে মাস্ক”
“আবববব..!
“তুমি কি আমাকে অপহরণ করতে এসেছ?”
“হ্যা”
“না, তুমি যদি আমাকে অপহরণ করতে এসে থাক তাহলে আমি চেচাচ্ছি । আর যদি কিডন্যাপ করো তো সাথে যাচ্ছি , মুখ ধরতে হবেনা। ”
“কিই?”
“ইয়েসস!”
“কিডন্যাপ আর অপহরণের তফাত কি?”
“যাবেনাকি চেঁচালাম? ”
” ঠিকাছে, চল যাই । ভালোই হারামি তুই, ”
” ও থামো পুইপুই টা নিয়ে আসি ”

এই বলে হাত ঝাঁকি দিয়ে মেয়ে টা দৌড়ে ভেতরে চলে গেল। সামিরের মাথা জ্যাম পেকে গেল, কি অদ্ভুত বাচ্চা, এলো, মাথাটা খারাপ করে আবার চলে গেল! সামিরের মনে হলো চালাকি করে সে পালিয়েছে তবে খেয়াল করল, ওমা বাচ্চাটা আবার ফিরে আসছে। বেড়ালের গলায় দড়ি, নিজের গলায় একটা খেলনা গিটার চোখে সানগ্লাস আর মুখে ললিপপ সে তার সবুজ প্লাস্টিকের বেবি সাইকেলে প্যাডাল মেরে সামনে এগিয়ে আসছে। সামির প্রথমে অবাক হলেও তার আজব হুলিয়া দেখে এখন তার হাসতে ইচ্ছে হচ্ছে ।

অদ্ভুত সেই মানবশিশু সাইকেলে প্যাডাল মেরে মেরে তার সামনে এসে দাড়ালো। মাথায় তিন কোনাচি হিজাবও বেধেছে। তাকে দেখলে আসলেই হাসি পাবে। সামির এবার উবু হয়ে তার দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করে,
” সেজেগুজে, বোঁচকাবুচকি বেধে কিডন্যাপ হতে এসেছ? ”
চশমা তুলে, সে মাথা নাড়িয়ে হ্যা জানান দিয়ে বলে,
” এই লোক, কিসে বসে কিডন্যাপ করতে এসেছ?
” গাড়ি”
” নাও এসব গাড়িতে তোলো আর তারাতারি চলো আম্মু এখনি চলে আসবে ”
“তোমার আম্মু বাড়িতে নেই? ”
” না দিদার কাছে গেছে। এই লুকাও লুকাও ”

সামির গাছের পাশ দিয়ে তাকিয়ে দেখলো, স্হির চিত্তে এক বোরখাপড়া মহিলা সাথে আরেকটা মেয়ে, রিক্সা থেকে নেমে বিল্ডিংয়ের ভেতরে চলে গেল।
“এই লোক, আমি কিন্তু ফেরত গেলাম তোলো বলছি”
“এহহহ তুই কে রে আমাকে অর্ডার করছিস ”
“তেরি মাম্মি ”
” আচ্ছা বাচ্চু! ”
” হুউউ চলো এখন যাই ”
” চল ”

সামির তার বোঁচকাবুচকি , সাইকেল গাড়িতে তুলে তাকে সামনের সীটে বসিয়ে দিল। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিছুদূর গিয়ে একটা ব্রেক কষলো তারপর কিছুক্ষণ বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে দেখে, পাতলা হিজাবে বাতাস আটকাবেনা ঠান্ডা লাগবে ভেবে নিজের মাফলার যেটা গাড়িতেই ছিল সেটা দিয়ে ভালো করে বাচ্চাটার কান মাথা পেচিয়ে দিল। সেও তখন বিড়ালটাকে নিজের জামার আড়ালে ঢেকে নিল। দুজনের চেহারাই ঢাকা। একজনের রুমালে আরেকজনের মাস্কে। কনকনে ঠান্ডা কুয়াশা ভেদ করে গাড়ি ছুটে চলল রাজশাহীর উদ্দেশ্যে । রাজশাহীর হলুদ টিউবলাইটগুলোর আলোয় আর কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িটা।
কাশেম জানালো সাফিন বলেছে রাজশাহীর সিমানা পেরিয়ে যেতে। কালকুঠুরির ঠিকানা কার্তিক আরিয়ান জানে। কালকুঠুরির সামনে পৌছেও সামির গাড়ি দাড় করালোনা। শুধু মাঝপথে থেকে কাশেমকে তুলে নিল। কাশেম ভুমিকে কোলে তুলে বসতে চাইলে সে আঙুল ঝাকিয়ে বলে,,

– এই, দামড়া লোকটা,, যাও পিছে গিয়ে বসো!
– হাাাা দাম.. আ দামড়া বেডা?
– তো কি বেডি? মেয়ে মানুষ কে কোলে নিতে চাও লজ্জা করেনা!
– ও বাপ! এডি কি জিনিস ভাই!
সামির গাল টেনে হাসলো। জিজ্ঞেস করল,
– তোর নাম কি বে?
– সামহা সিকাদদার ভুমি।
– কোথাও শুনেছি মনে হচ্ছে,, ওয়াও তোর আমার নামে বহুত মিল! তু সামহা বাঙ্গি আমি সামির বাঙ্গি !
কাশেম বলে,,
– এডি ভিরান আর এডি ভুমি! কি মিল মাইরি!
– এই লোক, গাড়ি চালাতে পারোনা তে চালাচ্ছো কেন!
– আমি গাড়ি চালাতে পারিনা?
– না। এমন ঝাকানাকা করে কে গাড়ি চালায়! এভাবে তাকা্ছো কেন ?

সামির দুইদিকে মাথা নাড়ালো। গাড়ির স্পিড কমালো। হঠাৎ করে ভুমি আবারো নিজের মধুর মুখটা খুলল,,
– ভাবলাম কিডন্যাপ হবো, সবাই আমাকে নিয়ে টেনশন করবে, আমি এই হেনসাম কিডুর সাথে ঘুরে বেরাবো, কার সাথে এলাম আল্লাহ!
” আমি দুঃখে মইরা যাই, আমি লজ্জায় মইরা যাই ”
” আহ! হহাহাহা ও বাপ! ভাই,, এডি দি আপনের বেডি ভার্সন, সম্পত্তির অদ্দেক হেরে লেইখে দিয়েন ”
কাশেমের কথায় মন দিতে গিয়ে সামিরের কনসেন্ট্রেশন সরে যায়! হুট করে কোথা থেকে সামনে একটা গাড়ি চলে আসে স্টেয়ারিঙ ঘুরিয়ে হুট করে ব্রেক কষলে সামহা প্রায় ফসকে যায় , সামির তাকে বাহাতে ধরে ক্ষেপে গিয়ে বলে,

” সম্পত্তি তোর পেছনে ভরে দিচ্ছি শাইয়ার বেটা! ”
সামহার হাত থেকে তার পুইপুই নামের গিটারটা পড়ে গিয়ে ভেঙে যায় ! সাথে সাথে সে চেচিয়ে কেদে ওঠে!
” আমার পুইপুই !! এ্যাআআ আব্বুউউ আমার পুইপুই! ”
” ইশশহ একটা খেলনাইতো! চেচাচ্ছিস কেন চুপ করে বস! ”
” তুমি চুপ করো! অভদ্র কিডু লোকটা! ”

সামির নিজেই হা করে চেয়ে রইল । কাশেম তাকে শান্তনা দিয়ে বলল,,
– এইযে সামনে থেকে তোমাকে আরেকটা পুইপুই কিনে দেব, একটু চুপ কর মেরি নানি ! ”
” আব্বুউউ! আমার পুইপুই ! ”
সামির এবারে গাড়ি থামিয়ে তাকে ডিকির ওপর তুলে নিয়ে শান্তনা দিয়ে বলল,,
” কাদে না বাবা, ভুল করে পরে গেছে । তোমাকে আবার পুইপুই কিনে দেব আচ্ছা? ”

শিশু বাচ্চা কি কখনো কারো ভালোবাসা ভেতর থেকে অনুভব করতে পারে? হয়ত পারে বা পারেনা। কিন্তু সামহা কেমন অদ্ভুত করে সামিরের চোখের দিকে তাকিয়ে কান্না থামিয়ে বলল,,
” সত্যি দেবে? ”
” হু”
” সাবাশ! ”
কাশেম জিজ্ঞেস করে এই কিডু মানেটা কি?
সামহার আগেই সামিরের জবাব কিডু মানে কিডন্যাপারের শর্ট ভার্সন বোকাচোখা ! এটুক বুজিস না?
কাশেম মনে মনে আওড়াল, ল্যাংটা কাল থেকে আপনে সাথে থাইকা আইজ পন্ত বাঙ্গি মানেই চিনলাম না আরতো কিডু!

সামির গাড়ির সীট থেকে নিজের ব্লেজার কোর্ট টা তুলে তাকে সযত্নে জড়িয়ে নিল। কাশেম কিছু বলবে তার আগেই সামির সামহার দুই হাত নিজের মুঠিতে জড়িয়ে ধরল। খুবই ঠান্ডা , তার হাত পুরো ফাঁকা । তারওপর শরীরে সোয়েটার নেই। পাতলা একটা সবুজ রঙা টপ আর মাথায় পাতলা সুতির হিজাব। সামহা ডিকির ওপর দাড়িয়ে সামিরের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,,
” তুমি খুব ভালো, আর ওই দামড়া মামা পচা ”

সামিরের চেহারা তখনো রুমালে ঢাকা। চোখটা মুছে দেওয়ার জন্য সামির যখন সামহার মুখের হাস্যকর মাস্কটা খুলে দিল , হলুদ টিউবলাইটের আলোয় তার চেহারা দৃশ্যমান হতেই সামির শিউরে উঠলো। কাশেমও বেশ অবাক হয়ে বলল,,
” ওমাগো ! এডিতো রঙ নাম্বার ! ”

কিন্তু সামির স্হির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল । যেন গভীর ভাবে কিছু চিন্তা করছে। কাশেমের শব্দগুলো হয়ত কর্ণকুহরে পৌছলোনা। রুমালের আড়ালে শুকনো ঢোক গিলে সামির বলে,,
” তোমাকে একদম আমার মতো দেখতে বোরখাওয়ালী বেবি, ”
” শোনো, লালশাটওলা কিডু লোকটা,, তোমাকে আমি আব্বু বলে ডাকি? ”
সামির জবাব দিল না । চোখের ঘন পল্লব নাচিয়ে নাচিয়ে বড্ড নজর দিয়ে সামহার চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলো। হুট করে মনে পরে গেল বিয়ের আগের একদিনের কথা ,

সামির তখন বয়সে কিশোর। কিন্তু সেই বয়সেও তার প্রায় দুই কি তিনটি খুনের রেকর্ড হয়ে গেছে । ছোটবেলা থেকেই সামির সিকান্দার কারো হাত ধরে বড় হয়নি, বাস্তবতা আর স্বার্থের ধুলো গায়ে মেখে অবহেলার মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে বড় হয়েছে৷ সাফিনের আদেশে সিয়াম আর সামির একবার মীর বাড়িতে গিয়েছিল কেস ফাইল চুরি করতে। তখন ওই বাড়িতে মফিদ উদ্দিন এর পরিবার থাকতো ওপরতলায় আর মেহেদী উদ্দিন এর পরিবার থাকতো নিচের তলায় ।

সবার জানা, তখনকার সময়ে মাহার বাবা জনপ্রিয় এডভোকেট যিনি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে দুইদন্ড কাঁপতেন না। সুতরাং তার বাড়িতে চুরি করতে যাওয়া কোনো সহজ কাজও ছিলনা। কায়দা করে দুই ভাই ফকির সেজেছিল । গরিব বাচ্চা সেজে গিয়ে খাবার চেয়েছিল মাহার মায়ের কাছে। মীর মেহেদী উদ্দিন মানা করেছিলেন তাদের ভেতরে ঢুকতে দিতে। কোমলপ্রাণ মায়ের হৃদয় বাঁধা মানেনি। দুজনকে যখন বসতে দিয়ে তিনি ভেতরে গেলেন, সামির হুট করে দৌড়ে মেহেদীর ঘর থেকে ফাইলটা নিয়ে নিজের ঝোলার ভেতর পুরে আবারো সিয়ামের কাছে ফিরে গেল ।

পেট পুরে গিলে আবারো ওভাবেই বেরিয়ে গেল । সামির নিজের হাতের লাঠিটা ভেতরে রেখে গেছিলো তাই আবারো ফিরে গেল। দেখলো একটা মেয়ে সেই লাঠিটা হাতে নিয়ে ঘাটছে । সামির তার ফেরার অপেক্ষা করলেও মেয়েটি ফিরলোনা। অপেক্ষা না করে সে নিজেই ডাকলো,,
” এই মেয়ে , আমার লাঠি দাও ”
” তুমিতো ল্যাঙড়া, লাঠি ছাড়া হাটছো কিভাবে? ”
” ওভাবেই, জিজ্ঞেস করার তুমি কে? ”
“আমার নাম মাহাদিবা। বাবা দিবা বলে ডাকে ”
“তো?”
” এখনি বাবাকে বলছি ”
“না দাড়াও, আসলে খুব খিদে পেয়েছিল তাই একটু খাবারের জন্য মিথ্যা বলেছি। ”
মাহার মায়া হলো। ভেতরে যাবার আগে সে বলল,,
” ওহ, তাহলে ঠিকাছে। তুমি দাড়াও আমি তোমাকে আরো কিছু এনে দিচ্ছি। ”

হাতে করে নিজের চকলেট আরো কিছু শুকনো খাবার একটা পলিথিনে ভরে সামিরের দিকে এগিয়ে দিল। সামির একদৃষ্টে চেয়ে তার জ্বলজ্বলে চোখদুটো দেখলো। ঠিক এভাবেই ডানদিকে ঘাড় কাত করে। চোখের পাতা নাচিয়ে। মাহার সাথে সামিরের ওটাই প্রথম দেখা ।
” আমার কাছে টাকা নাই, বদলে কি নেবে? ”
” কিছু লাগবেনা ”
” ফ্রির জিনিস নেইনা ”
“তাহলে,,,,,,,, উমমম আমাকে বিয়ে করো ”
” বিয়ে!?? ”
” হুমম ”
” এইটুক বয়সে বিয়ে কে করে? ”
“তাহলে বড় হলে করবে। তোমাকে আর কিছু করতে হবেনা শুধু আমাকে বিয়ে করে নিও ”
” ঠিকাছে! ”
” কথা দিচ্ছো?”
“দিলাম , দিবা। ”

মাহা গাল টেনে হাসলো। সামির কিছু সময় তার চেহারাটা পরিদর্শন করে নিজ গন্তব্যে বেরিয়ে গেল । তখনি ঠিক করে রেখেছিল।৷ সে তার কথা রাখবে। তারপর আর কারো দেখা হয়নি দীর্ঘদিন। ঋতু নামের সেই মেয়েটার সাথে আবারো একবার দেখেছিল, কিন্তু চিনতে পারেনি। ।
“এই কিডু লোকটা , কি ভাবছো? ‘
সামহার ডাকে সামিরের ঘোর ভাঙে। কাশেম বলে,,
– ভাই রঙ নাম্বার তুইলা লইয়াইছি চলেন ব্যাক যাই ।
-না, তুই রকিরে কল লাগা আর ওদিকে চলে যা। বিনা দরকারে আসবিনা।
– কিন্তু….
– চোপ শালা ! যা। আর এই-যে, প্রিটি লিটিল বাঙ্গি, তুমি কিজন্য বোঁচকা বুঁচকি বেধে কিডন্যাপ হতে এসেছিলে উমমম??
– আর বোলোনা, বাড়িতে কেও পাত্তাই দেয় না। সারাদিন একাই পরে থাকি। তাই তোমার সাথে ট্যুরে চলে এসেছি। চিন্তা নট, বেশি জ্বালাবোনা। কিন্তু আব্বু? ”
” বলো মা,,,,”
“আমার শীত লাগছে ”
– চলো আবার রওনা দেই, এই কাইশসা, ব্যাক যা ”
“জ্বি ভাই”

কালকুঠুরি পর্ব ৫২

কাশেমকে ওখানে রেখেই সামির সামহাকে তুলে গাড়ি স্টার্ট দেয় । এবার সামহা নিজেই দার কোলের ভেতরে ঢুকে বসে। ছোটখাটো বেড়ালের ন্যায়দেহ মুচড়ে সামিরের কলার জড়িয়ে ধরে ধাকে। সামিরের গলাটা কেমন ভেজা ভেজা অনুভূত হয়।
বহুদিনের তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে যেন প্রশান্তির বৃষ্টি নেমেছে। পিতৃত্বের লোভ চড়ে বসেছে মাথায় মনে মনে ঠিক করেই ফেলেছে ওর বাবা মা যেই হোক না কেন, সামির সামহাকে নিজের কাছে রেখে দেবে৷
এদিকে বাবু হারিয়ে দিশেহারা মাহা। মাহবুব উদ্দিন এর সাহায্যে যখন চেক করেে সামহা কে সামির সিকান্দার তুলে নিয়ে গেছে, চিন্তার অভিনয় করেও চিন্তা আসছেনা। একটা কনট্র্যাক্ট কিলারের কাছে নিজের বাচ্চা আটক, কিভাবে নিশ্চিত আছে জানেনা।

কালকুঠুরি পর্ব ৫৪

1 COMMENT

Comments are closed.