কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪৭
লামিয়া রহমান মেঘলা
কায়ান সেরিনের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল। তার চোখে তখন এমন এক দহন, যেন বহুদিন ধরে আটকে থাকা আগুন আজ সবকিছু ভস্ম করে দেবে।
“সব কিছু বলো সেরিন। জাস্ট একটা ফুলস্টপ বাদ পড়লেও তোকে সহ এই সব কটাকে এখানে পুঁতে রাখব। আমার আর ধৈর্য কুলাচ্ছে না।”
সেরিন এই প্রথম কায়ানের এমন ভয়ংকর রূপ দেখল। ভয়ংকর, নির্মম, অসুস্থ রকমের শান্ত। তার সামনে বসে থাকা মানুষটা যেন সেই পুরোনো কায়ান নয়, যে কখনো তার চোখের জল সহ্য করতে পারত না। এ যেন সম্পূর্ণ অন্য কেউ, যার ভেতরে মানবিকতার শেষ কণাটুকুও এই মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
সেরিনের হাত পা থরথর করে কাঁপছিল। ঠোঁট শুকিয়ে সাদা হয়ে এসেছে। বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন এত জোরে আঘাত করছিল, যেন পাঁজর ভেঙে বেরিয়ে আসবে।
কায়ান হিসহিসে স্বরে বলল,
“সময় নেই সেরিন। কথা বল।”
সেরিন চুপ।
সেই নীরবতা যেন কায়ানের মস্তিষ্কে আরও বিষ ঢেলে দিল।
কায়ান একবার চোখের ইশারা করল।
ইশারা বুঝে পেছন থেকে একটি ছেলে সামনে এগিয়ে এলো। তার মুখে কোনো ভাবান্তর নেই। পকেট থেকে ধীরে ধীরে একটি ধারালো ছুরি বের করল সে। জাকিরের পাশে পড়ে থাকা ছেলেটির হাত চেপে ধরে এক মুহূর্ত দেরি না করে আঙুলগুলো কেটে ফেলল।
চারপাশে ছিটকে পড়ল উষ্ণ রক্ত।
ছেলেটার আর্তচিৎকার রাতের নিস্তব্ধতা ছিন্নভিন্ন করে দিল।
সেরিন নিজের দুই কান শক্ত করে চেপে ধরে মাটিতে বসে পড়ল।
“বন্ধ করুন এসব। বন্ধ করুন।”
জাকিরের তখনও জ্ঞান ফেরেনি।
সেরিনের মস্তিষ্ক সামনের এই নির্মম দৃশ্য দেখে যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তার পুরো শরীর অসাড় হয়ে আসছিল। সে জানত, সত্যিটা আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু কায়ানের এই রূপ তাকে আরও আতঙ্কিত করে তুলছিল।
হঠাৎ কায়ান সেরিনের চুলের গোছা মুঠোয় ভরে টেনে ধরল।
ব্যথায় সেরিন চোখ বন্ধ করে ফেলল।
“সেরিন, তোর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে জান।”
কাঁপা কণ্ঠে সেরিন বলল,
“আ আপনি এ এসব কেন করছেন?”
কায়ানের ঠোঁটে নিষ্ঠুর হাসি ফুটল।
“তুই সব সত্যি বলে দিলে ওরা রেহাই পেয়ে যাবে।”
সেরিন কায়ানের শার্ট খামচে ধরে চোখ বন্ধ করল।
“ও ওদের ছেড়ে দিন। আমি সব বলছি।”
“এটাই তো চাই। বল।”
সেরিন চোখ বন্ধ করেই কায়ানের বুকে মুখ গুঁজে দিল। তার শরীর কাঁপছে।
“ওদের সরান প্লিজ। আমার ভয় করছে।”
কায়ান তার চুল আরও শক্ত করে ধরে তাকে নিজের সামনে টেনে আনল।
“I said tell me the fucking truth damn. আমি একটাকেও সরাব না যতক্ষণ না সব সত্যি বলছিস।”
সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস এসময় সেরিনের শরীরকে আরও শীতল করে তুলছিল।
রাত গভীর।
চারদিক নিস্তব্ধ।
দূরে কালো সমুদ্র অন্ধকার গিলে নিয়ে বারবার উত্তাল ঢেউ তুলে তীরে আছড়ে পড়ছে। পানির কুলকুল শব্দ নয়, বরং আজ তা শোনাচ্ছে মৃত্যুর আগমনী বার্তার মতো। লবণাক্ত বাতাস শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে ধারালো ছুরির ফলার মতো। আকাশে চাঁদ আছে, কিন্তু মেঘের আড়ালে তার আলোও আজ ফ্যাকাসে।
প্রকৃতিও যেন আজ এই ভয়ংকর সত্যের সাক্ষী।
সেরিনের শরীর ঠান্ডায় জমে আসছে। বাতাসে তার চামড়া সিরসির করে উঠছে। কিন্তু বাইরের শীতের চেয়ে ভেতরের আতঙ্ক হাজার গুণ বেশি।
সে মাথা নিচু করে ফেলল।
কায়ান এবার নিজের বুকের সঙ্গে সেরিনের মাথাটা চেপে ধরল।
সেরিন কাঁপা কণ্ঠে বলতে শুরু করল।
“শ শিমুল আপুর বেবি না হওয়ার পেছনে কোনো সাধারণ কারণ নেই।”
কথাগুলো বলতেই তার গলা আটকে গেল।
চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল জল।
“শিমুল আপুকে রেপ করা হয়েছিল।”
এই একটি বাক্য যেন চারপাশের বাতাসকেও জমিয়ে দিল।
“যে কথাটা আপু, মা, বাবা সবাই আপনাদের থেকে লুকিয়েছে। শিমুল আপুকে রেপ করেছিল এই নরপিশাচ।”
সেরিন কাঁদছিল।
প্রতিটি শব্দ তার গলা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছিল।
“সেদিন শুধু তার সম্মান না, তার পুরো জীবন শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই জানোয়ারের পাশবিক নির্যাতনে আপুর জরায়ুতে এমন ক্ষত তৈরি হয়, যা আর কখনো ঠিক হয়নি। ডাক্তার সোজা বলে দিয়েছিল, আপু কোনোদিন মা হতে পারবে না।”
সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ল।
মনে হলো প্রকৃতিও যেন ব্যথায় কেঁপে উঠল।
“শিমুল আপু আগেই সব জানত। আমি বলেছিলাম, এর বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে। ওকে শাস্তি দিতে। কিন্তু মা বাবা থামিয়ে দেন। তারা বলেছিলেন, সমাজের মানুষ কি বলবে।”
সেরিন তিক্ত হাসল, সেই হাসিতে ছিল শুধুই যন্ত্রণা।
“সমাজ। একটা মেয়ের জীবন শেষ হয়ে গেল, তবুও সবার ভয় ছিল সমাজকে নিয়ে।”
তার কণ্ঠ ভেঙে গেল।
“মা বাবার সিদ্ধান্তে পুরো ঘটনাটা চাপা পড়ে যায়। কেউ কিছু জানল না। আপুও কাউকে বলেনি। এরপর আপুর বিয়ে হয়। সে সব জেনেই সংসার শুরু করে।”
সে গভীর শ্বাস নিল।
“শুধু একটা জিনিস আমি জানতাম না। আপু যে কখনো মা হতে পারবে না, এটা আমি জানতাম না।”
কায়ানের আঙুল শক্ত হয়ে উঠল।
সেরিন বলতে থাকল,
“আমি শুধু জানতাম আপুকে রেপ করা হয়েছিল। কিন্তু জাকিরের কাছে সেই রাতের ভিডিও ছিল।”
এইবার তার পুরো শরীর কেঁপে উঠল।
“জাকির সেই ভিডিও দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করত। বলত, যদি আপনাকে কিছু বলি, তবে ভিডিওটা ছড়িয়ে দেবে। আপুর সংসার শেষ হয়ে যাবে।”
তার চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরছে।
“সে আমাকে তার সঙ্গে রেস্টুরেন্টে যেতে বলত। আমি দু একবার গিয়েছি। যতটা পারতাম এভয়েড করতাম।”
সেরিনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
“কিন্তু সেদিন সে আমাকে এতটা চাপ দিয়েছিল যে আমি কিছু করতে পারিনি। শেষমেশ আপুকে কল করি। আপু এমনভাবে বলল, যা কিছু হবে না, হলে আমি দেখব।”
সেরিন চোখ বন্ধ করল।
“তাই আমি গেলাম সেখানে।”
তার ঠোঁট কাঁপছে।
“ভাগ্যিস আপনি চলে এসেছিলেন।”
এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
“জানি না এরপর কি হতো।”
সব কথা বলে সেরিন কান্নায় ভেঙে পড়ল।
এতদিন বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে রাখা সত্য আজ বেরিয়ে এসেছে। কষ্ট, ভয়, অপমান, অসহায়ত্ব সব একসাথে তাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।
কায়ান শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেরিনের দিকে।
ভয়ংকরভাবে শান্ত।
এই নীরবতা সেরিনকে আরও আতঙ্কিত করল।
সে ভেবেছিল, হয়তো এবার কায়ানের রাগ বিস্ফোরিত হবে। হয়তো সে আবার আঘাত করবে।
কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে কায়ান ঝুঁকে এল।
পরমুহূর্তেই তার ওষ্ঠদ্বয় সেরিনের ওষ্ঠ আঁকড়ে ধরল।
সেরিন চোখ বন্ধ করে নিল।
তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া নোনাজল কায়ান নিজের ঠোঁটে শুষে নিল।
সমুদ্রের লবণাক্ত বাতাস, রাতের অন্ধকার, আর দুই ভাঙাচোরা মানুষের মাঝখানে জমে থাকা তীব্র আবেগ এক অদ্ভুত নীরব বিস্ফোরণে রূপ নিল।
ভালোবাসা, ভয়, অধিকার, ক্রোধ আর প্রতিশোধ এক হয়ে এমন এক অনুভূতির জন্ম দিল, যার নাম ভাষায় বলা যায় না।
কায়ান সবটা শুনে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে এমন এক নিস্তব্ধ ঝড়, যার গভীরতা বোঝার ক্ষমতা সবার থাকে না। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে সেরিনকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। তারপর নিজের ছেলেদের দিকে কেবল একবার ইশারা করল।
তার ছেলেরা যেন কায়ানের নীরব ভাষাই বুঝে নেয়।
একটি শব্দও উচ্চারণ না করে কায়ান সেরিনকে নিয়ে হোটেলের দিকে ফিরে এলো।
সেরিন তখনও ফুপিয়ে কাঁদছে। ছোট্ট শরীরটা কাঁপছে আতঙ্কে। যেন তার ভেতরের ছোট্ট আত্মাটাও আজ ভয় পেয়ে গুটিয়ে গেছে। সে কায়ানের শার্ট এমন শক্ত করে খামচে ধরে আছে, যেন ছেড়ে দিলেই পেছনে ফেলে আসা সেই ভয়ংকর মানুষগুলো আবার জীবন্ত হয়ে তার দিকে ছুটে আসবে।
হোটেল রুমে ফিরে কায়ান সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল।
ওয়াশরুমের বিশাল বাথটাবে পানি ভরতে লাগল সে। ঠান্ডা আর কুসুম গরম পানির মিশ্রণে ধোঁয়াটে আবহ তৈরি হলো চারপাশে। পানি ভরে গেলে কায়ান অত্যন্ত সতর্ক অথচ অদ্ভুত রুক্ষ ভঙ্গিতে সেরিনকে সেই পানির ভেতর নামিয়ে দিল।
তারপর হ্যান্ড শাওয়ার হাতে তুলে নিল।
পাগলের মতো সেরিনের শরীর পরিষ্কার করতে শুরু করল সে।
তার প্রতিটি স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত উন্মাদনা। যেন সে ময়লা ধুচ্ছে না, বরং সেরিনের শরীরে লেগে থাকা ভয়, অপমান আর অন্য কারও অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাইছে।
কিন্তু কায়ানের শক্ত হাতের চাপে সেরিন ব্যথা পাচ্ছিল।
শরীর কুঁকড়ে আসছিল।
তবুও মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস তার হচ্ছিল না।
কায়ানের নীরবতা আজ শব্দের চেয়েও ভয়ংকর।
সময় পেরিয়ে গেল।
এক ঘণ্টারও বেশি।
তবুও কায়ান থামল না। বিনা বাক্যে একইভাবে সেরিনের শরীর পরিষ্কার করেই চলল।
এদিকে সেরিনের শরীর ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ পর তার হাঁচি শুরু হলো।
সেই শব্দে কায়ান অবশেষে থামল।
হাতে ধরা হ্যান্ড শাওয়ারটা আচমকা ছুড়ে ফেলল মেঝেতে।
ধাতব শব্দে পুরো ওয়াশরুম কেঁপে উঠল।
সেরিনও কেঁপে উঠল ভয়ে।
কায়ান ধীরে ধীরে নিচু হলো। তারপর শক্ত করে সেরিনের চোয়াল চেপে ধরে তার মুখ নিজের দিকে ফেরাল।
গভীর, ঠান্ডা, ভয়ংকর কণ্ঠে বলল,
“কোথায় কোথায় হাত দিয়েছিল ওই ছেলে তোর।”
সেরিনের ঠোঁট কাঁপছে।
“ক কোথাও দেয়নি। আ আমি দিতে দেইনি।”
কায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
“তাহলে ওর জ্যাকেট তোর শরীরে কেন ছিল।”
সেরিন ভয়ে গিলে ফেলল শুকনো লালা।
“ঠ ঠান্ডা লাগছিল তাই।”
কায়ানের ভেতরে তখন তীব্র ক্রোধ জ্বলে উঠছে।
ইচ্ছে করছে ঠাস করে আরেকটা চড় বসিয়ে দিতে। এত বড় সত্য সে তার কাছ থেকে লুকিয়েছে। এত সাহস হলো কীভাবে মেয়েটার।
কিন্তু পরমুহূর্তেই সে নিজেকে থামাল।
সেরিন এখনো ভয়ে জমে আছে।
এখন তাকে আরও ভেঙে দেওয়া যাবে না।
কায়ান একটিও শব্দ না বলে সেরিনকে আবার কোলে তুলে নিল। বড় একটি টাওয়াল দিয়ে তাকে জড়িয়ে বেডরুমে নিয়ে এলো।
বিছানায় ধীরে শুইয়ে দিল তাকে।
তারপর নিজেও ঝুঁকে এলো উপরে।
তার দৃষ্টি অন্ধকার, অধিকারী, বিপজ্জনক।
কণ্ঠ নিচু, কিন্তু প্রতিটি শব্দে স্পষ্ট উন্মত্ততা।
“ওই স্পর্শগুলোর কোনো চিহ্ন আমি রাখতে চাই না।”
সে সেরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,
“My touch is the only touch you will remember. Your body, your heart, even every strand of hair that falls from your scalp, all of it belongs to me. Only me.”
[“তুই শুধু আমার স্পর্শই মনে রাখবি। তোর শরীর, তোর হৃদয়, এমনকি তোর মাথা থেকে ঝরে পড়া প্রতিটা চুলও আমার। সবটাই শুধু আমার।”]
আজ সেরিন প্রথমবারের মতো স্পষ্ট বুঝতে পারল, এতদিন যে কায়ানকে সে চিনেছে, সে আসলে কায়ানের কেবল একটিমাত্র রূপ। সেই রূপ ছিল কোমল, গভীরভাবে প্রেমময়, আর অদ্ভুতভাবে রোমান্টিক। যে মানুষটা তার চোখের জল মুছে দিত, তাকে বুকের ভেতর আগলে রাখত, সেই মানুষটাকেই সে সত্যিকারের কায়ান ভেবে নিয়েছিল।
কিন্তু আজ তার সামনে উন্মোচিত হয়েছে কায়ানের আরেকটি সত্তা।
এক ভয়ংকর, নির্মম, শীতল সত্তা।
এমন এক সত্তা, যার ভেতরে সহানুভূতির বদলে রাজত্ব করে উন্মত্ত অধিকারবোধ, দহন আর ধ্বংসাত্মক ক্রোধ।
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪৬
সেরিন কখনো কল্পনাও করেনি, একই মানুষ এভাবে দুই বিপরীত সত্তায় বিভক্ত হতে পারে। একদিকে অসীম কোমলতায় ভালোবাসতে জানা এক প্রেমিক, অন্যদিকে গা শিউরে ওঠা নিষ্ঠুরতায় সবকিছু ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত এক ভয়ংকর সাইকোপ্যাথ।
আজ তার মনে হচ্ছে, সে এতদিন কায়ানের ভালোবাসার উষ্ণ অংশটুকুই চিনেছিল।
অন্ধকারটাকে কখনো দেখেনি।
আর আজ যখন সেই অন্ধকার তার সামনে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, সেরিন বুঝতে পারছে, কায়ান শুধু জটিল নয়, সে যেন দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্বে বিভক্ত এক রহস্যময় মানুষ, যার প্রেম যেমন গভীর, তেমনি তার ভয়ও অতল।
