Home ক্যাপ্টেন সাহেব ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৫

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৫

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৫
মারিয়াম ফুল

“ক্যাপ্টেন রাইহাম চৌধুরী রুদ্র!
কাঠগড়ার সংকীর্ণ কাঠের ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেরের চোখ দুটো বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। বুকের ভেতরের এতক্ষণের রুদ্ধশ্বাস ধুকপুকানিটা এক ধাক্কায় যেন গলায় এসে ঠেকল। মেহেরের নিজের দুই হাত কাঁপতে শুরু করল। সে তো নিশ্চিত ছিল যে রুদ্র তার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য এতক্ষণে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। নিজের সমস্ত ফ্যান্টাসির কথা শুনিয়ে, তাকে এই অপবাদের অতল সাগরে একলা ভাসিয়ে দিয়ে সে চলে গেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে, এই পোশাকে রুদ্রর এখানে এভাবে ফিরে আসা মেহেকে অবাক করে দিল ।
হঠাৎ এই নাটকীয় এবং বিশৃঙ্খল প্রবেশে বিচারক মহোদয় অত্যন্ত বিরক্ত হলেন। উনার কপাল কুঁচকে গেল। তিনি হাতের কাঠের হাতুড়িটা শক্ত করে ধরে টেবিলে কয়েকবার ঠুকে কঠোর গলায় বললেন,

“সাইলেন্স! সাইলেন্স ইন দ্য কোর্ট! কে আপনি? আদালত কক্ষের একটা নিয়ম আছে, একটা ডেকোরাম আছে। এভাবে নিয়ম ভেঙে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে ভেতরে ঢোকার মানে কী?”
রুদ্র বিচারকের ধমকে একটুও দমল না। সে কদমে হেটে সোজা ডায়াসের দিকে এগিয়ে এলো। মেহেরের ডিফেন্স লয়ার ততক্ষণে নিজের আসন ছেড়ে দ্রুত রুদ্রর পাশে এসে দাঁড়ালেন।
বিচারকের ঠিক সামনে এসে রুদ্র তার মাথা থেকে ক্যাপটা খুলে বাঁ হাতের নিচে রাখল।
তারপর অত্যন্ত মার্জিত ভাবে বলল
“আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি, মাই লর্ড। আদালতের নিয়ম ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করার জন্য আমি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমি রাইহাম চৌধুরী রুদ্র… ওরফে এই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সাওয়াজ সায়েদ মেহেরের লিগ্যাল হাজব্যান্ড।”
‘মেহেরের হাজব্যান্ড’ শব্দ দুটো এজলাসের বাতাসে ভাসতেই পেছনের পাবলিক বেঞ্চগুলো থেকে একটা তীব্র গুঞ্জন আর ফিসফিসানি ছড়িয়ে পড়ল। মেহের এক দৃষ্টিতে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে রইল।রুদ্র আসলে চাইছে টা কি?
বিচারক চশমাটা নাকের ডগায় আরও কিছুটা নামিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুদ্রর দিকে তাকালেন। উনার কণ্ঠস্বর এবার আগের চেয়েও কঠোর ও গম্ভীর হলো,

“মিস্টার রাইহাম, আপনি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক, রাষ্ট্রীয় একটি এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন। আপনি কি জানেন না যে আদালতের চলিত কার্যক্রমে এভাবে অবৈধভাবে বাধা দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ? এই নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য এবং আদালতের অবমাননার দায়ে আপনার জেল পর্যন্ত হতে পারে…”
রুদ্ররের মুখে ভয়ের কোনো রেখাই ফুটল না। সে বিনীতভাবে মাথা কিছুটা নিচু করে বলল, “আমি আইনের ধারাগুলো খুব ভালো করেই জানি, মাই লর্ড। আইনের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান আছে। কিন্তু আজ যদি আমি এই নিয়মটা ভাঙার ঝুঁকি না নিতাম, তবে আইনের আড়ালে একটা মস্ত বড় অন্যায়কে আজ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে যেত। আমি এখানে কোনো পারিবারিক আবেগ দেখাতে বা নাটক করতে আসিনি। আমার আইনজীবীর মাধ্যমে আমি মেহেরের সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়ার অকাট্য এবং চাক্ষুষ প্রমাণ নিয়ে এসেছি। এই খুন আমার স্ত্রী করেনি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

বিচারক মহোদয় উনার সামনের ফাইলটা টেবিলের ওপর একটু জোরেই বন্ধ করে রেখে বিরক্ত স্বরে বললেন,
“প্রমাণ সরাসরি উপস্থাপন করা আপনার কাজ নয়, মিস্টার রাইহাম। এটা আপনার মক্কেলের উকিলের এক্তিয়ার। আইন তার নিজস্ব গতি এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চলে। এভাবে শেষ মুহূর্তে মাঝপথে এসে হুট করে প্রমাণ দেখানোর কোনো সুযোগ এখানে নেই। তাছাড়া আজ এই মামলার শুনানির সময় শেষ, আদালত বন্ধ হতে আর মাত্র ত্রিশ মিনিট বাকি আছে।”
রুদ্রর ঠোঁটের কোণে ঠিক বাঁকা হাসিটা ফুটে উঠল—সে নিজের বাম হাতের ঘড়িটার দিকে একপলক তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত গলায় বলল,
আমি জানি, মাই লর্ড। এই কেসের সাজানো ডালপালা ছেঁটে আসল অপরাধীর মুখোশ টেনে খোলার জন্য এই থার্টি মিনিটস ইজ মোর দ্যান এনাফ। আমি আপনার কাছ থেকে মাত্র ত্রিশটা মিনিট চাচ্ছি।
রুদ্রর এই চরম এবং অটল আত্মবিশ্বাস দেখে বিচারক কিছুটা থমকে গেলেন। তিনি মেহেরের আইনজীবীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,
“ডিফেন্স কাউন্সিল, আপনার মক্কেলের স্বামী যা বলছেন এবং যে প্রমাণের দাবি করছেন, তার আইনি দায় কি আপনি নিচ্ছেন?”
আইনজীবী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মাথা নুয়ে বললেন, “জি মাই লর্ড।আমি চূড়ান্ত প্রমাণটি আদালতের নথিতে রেকর্ডভুক্ত করার অনুমতি চাচ্ছি। ”

বিচারক কিছুক্ষণ রুদ্ররের চোখের দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বিচারক গম্ভীর গলায় বললেন,
“ঠিক আছে। আদালত আসামীপক্ষকে তাদের শেষ প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ঠিক ৩০ মিনিট সময় দিচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন মিস্টার রুদ্র, যদি আপনার এই প্রমাণ ভুয়ো বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে আপনার বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি শাস্তি নেওয়া হবে।”
রুদ্র আর একটি সেকেন্ডও নষ্ট করল না। সে এজলাসের পেছনের বিশাল দরজার দিকে ঘুরে তাকাল। করিডোরের আবছা আলোয় তখন হামজা চৌধুরী দাঁড়িয়ে ছিলেন।রুদ্র দরজার দিকে তাকিয়ে একটু উচ্চকণ্ঠে ডাকল, “বাবা…!”

রুদ্রর ডাক শেষ হতে না হতেই, দরজার ওপাশ থেকে হামজা চৌধুরী নিজেই ভেতরের দিকে এগিয়ে এলেন। ওনার দুই হাত তখন শক্ত করে ধরে আছে একটা ছেলের কলার। হামজা চৌধুরী ওনার সমস্ত শক্তি আর তীব্র ঘৃণা উগরে দিয়ে ছেলেটাকে একটা প্রচণ্ড ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আদালতের মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
ধাক্কা খেয়ে ছেলেটা হুমড়ি খেয়ে এজলাসের মেঝেতে এসে পড়ল। তার অবস্থা এই মুহূর্তে অত্যন্ত শোচনীয়। তাকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কেউ বা কারা তাকে খুব নির্মম পিটিয়েছে। তার শার্টের ওপরের দিকের তিনটে বোতাম ছেঁড়া, বুকের একাংশ উন্মুক্ত। চুলগুলো উসকোখুসকো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে, আর ঠোঁটের কোণ ফেটে এখনো তাজা লাল রক্ত গড়িয়ে শার্টের কলারটা ভিজিয়ে দিচ্ছে। ব্যথায়, অপমানে আর তীব্র ভয়ে ছেলেটা মেঝের ওপর কুঁকড়ে কাঁপছে।
এজলাসের প্রথম সারিতে বসা মেঘলা মেঝের ছেলেটিকে দেখামাত্রই চিৎকার করে উঠতে গিয়েও নিজেদের দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে সামলে নিলেন। রক্তাক্ত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় আদালতের মেঝেতে পড়ে থাকা এই ছেলেটি আর কেউ নয়… দেশের বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার —জিসান!

রুদ্র এক কদম এগিয়ে গিয়ে জিসানের ছেঁড়া কলারটা শক্ত মুঠোয় ধরে এক ঝটকায় তাকে বিচারকের ডায়াসের সামনে এনে দাঁড় করাল। জিসান ভয়ে বিচারকের দিকে তাকাতেও পারছে না, কেবল কাঁপছে।মেহের কাঠগড়ার লোহার রেলিংটা দুই হাতে আরও শক্ত করে চেপে ধরল।
আদালতের মেঝেতে জিসানের মতো একজন চেনা , প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বকে এভাবে রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিচারক মহোদয়ের চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য ছোট হয়ে এলো। তাঁর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়ল। একজন আসামিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রকাশ্য আদালতে এভাবে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে এই ব্যাপারটা তাঁর বিচারকসুলভ অহংকারে আঘাত করল।
তিনি হাতের কলমটা ডেস্কে নামিয়ে রাখলেন, “হোয়াট ইজ দিস ননসেন্স, মিস্টার রুদ্র? হোয়াট ইজ গোয়িং অন ইন মাই কোর্টরুম?”

বিচারক মহোদয় আসন ছেড়ে কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে জিসানের দিকে তাকালেন। তারপর কঠোর দৃষ্টিতে হামজা চৌধুরী ও রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আদালত আপনাকে নতুন প্রমাণ বা সাক্ষী হাজির করার অনুমতি দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে আপনি একজন নাগরিককে এভাবে মারধর করে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে থার্ড ডিগ্রি টর্চার করে এজলাসে নিয়ে আসবেন। দিস ইজ আ কোর্ট অব ল, নট আ টর্চার সেল”
রুদ্র ঠান্ডা গলায় বলে উঠল, “দুঃখিত, আপনার কোথাও একটা বড় ভুল হচ্ছে। আমি কিংবা আমার বাবা আমাদের কেউই জিসানকে আঘাত করিনি।”এরপর জিসানের দিকে সরাসরি তাকিয়ে হালকা হেসে বলল, “কী বলো জিসান? আমি ঠিক বলছি তো?”
জিসান ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে কোনোমতে বলল, “জী, জী…”
রুদ্র সবার উদ্দেশ্যে বলল, “জিসান একটা এক্সিডেন্ট করেছে, ব্যাস এটুকুই। আর হ্যাঁ, আমার বাবার তরফ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।”
বিচারক রুদ্রর কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করলেন না, তবে আইনের খাতিরে তিনি জিসানের দিকে মনোযোগ দিলেন। তিনি এজলাসের পুলিশ অফিসারকে ইশারা করে বললেন, “অফিসার, এই ছেলেকে ধরুন। আর পেসকার সাহেব, ওনাকে একটু পানি দিন।”

পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে জিসানকে ধরে সোজা করে দাঁড় করাল। জিসান তখনো ভয়ে কাঁপছে।
বিচারক টেবিল চাপড়ে জিসানকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আপনি কে আর কিভাবে আপনি এই মামলার সাথে কীভাবে জড়িত? আদালতে দাঁড়িয়ে সত্যি কথা বলুন। মনে রাখবেন, আপনি যদি কোনো তথ্য গোপন করেন বা মিথ্যা বলেন, তবে এই আদালতের অবমাননা এবং খুনের তথ্য গোপনের দায়ে আপনার দীর্ঘমেয়াদী জেল হবে।”
রুদ্র আর সময় নষ্ট না করে জিসানের দিকে ফিরল। গম্ভীর গলায় জজের উদ্দেশ্যে বলল, “মাই লর্ড, ইনি হচ্ছেন জিসান শিকদার। পেশায় একজন নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার এবং মডেল। আমরা মাঝেমধ্যে বাইরে এক ক্লাবে বক্সিং প্র্যাকটিস করি, সেখান থেকেই জিসান আমার পূর্বপরিচিত। আদালতের অনুমতি নিয়ে আমি জিসানকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।”
বিচারক গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে অনুমতি দিলেন। জিসান চারদিকে একবার তাকাল। শুকনো গলায় কোনোমতে এক ঢোক গিলে নিজের শার্টের কলারটা ঠিক করার চেষ্টা করল। তার পুরো অবয়বে তখন তীব্র ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।
রুদ্র জিসানের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল, “তা মিস্টার জিসান, নিহত রিনি শেখকে আপনি চিনতেন?”
জিসান কাঁপাকাঁপা গলায় জবাব দিল, “জি… চিনতাম।”

“উনার সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?”
“হোয়াট ইজ দিস ননসেন্স! উনি আমাদের সিনিয়র আর্টিস্ট ছিলেন। কো-আর্টিস্ট হিসেবে ওনার সাথে আমার কয়েকবার কাজ হয়েছে, এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না।”
রুদ্র একটু হাসল, “ওয়েল। তা রিনি শেখের মৃত্যুর কয়েকদিন আগে শুটিং সেটে উনার সাথে কি কারো বড় কোনো ঝগড়া হয়েছিল?”
জিসান এবার পুরো আদালতের দিকে একবার চোখ বোলাল, তারপর মাথা নিচু করে বলল, “জি… আমাদের প্রডিউসার স্যারের সাথে ওনার একটা বড় ঝামেলা হয়েছিল।”
“কিসের জন্য ঝগড়া হয়েছিল, জিসান?”
“আজ্ঞে… ঝগড়ার কারণ ছিলেন স্বয়ং রিনি শেখ। প্রডিউসার স্যার রিনিকে ভীষণ পছন্দ করতেন। নানাভাবে ওনাকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু রিনি শেখ স্পষ্ট ভাষায় ওনার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উনি বলেন যে উনি বিবাহিত এবং ওনার দুটো সন্তান আছে, তাই ওনার পক্ষে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রত্যাখ্যানের পর প্রডিউসার স্যার রগের বশে রিনি শেখের বেশ কিছু বড় প্রজেক্টের কাজ কেড়ে নেন এবং ওনাকে হুমকি দেন।”

রুদ্র এবার ঘুরে তাকাল এজলাসের এক কোণে বসে থাকা প্রডিউসার এনায়েত হাশমীর দিকে। মুহূর্তটাতে তার ভীষণ হাসি পেতে লাগল। পুরো পরিস্থিতিটাই যেন কোনো সস্তা নাটকীয় সিনেমার দৃশ্য। এনায়েত হাশমী নামটা শুনে তার হঠাৎই বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমীর কথা মনে পড়ে গেল। নামের সঙ্গে স্বভাবের অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পেয়ে মনে মনে কৌতুক বোধ করলেও, সেই হাসির রেশ মুখে ফুটতে দিল না সে।
মেহেরের আইনজীবীর ইশারায় বিচারক মহোদয় তৎক্ষণাৎ এনায়েত হাশমীকে কাঠগড়ায় আনার নির্দেশ দিলেন। আদালতের মাঝে তখন একটা তীব্র শোরগোল ও গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল।
এনায়েত হাশমী কাঁপা পায়ে, কোনোমতে শরীরটা টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই , রুদ্র ওনার দিকে তীরের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল “মিস্টার এনায়েত, রিনি শেখের মৃত্যুর দিন আপনি নিজেই ১০4 নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। আর সেই খুনের দায়ভার এসে পড়েছে আমার সম্পূর্ণ নির্দোষ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর। বলুন, আপনি সেদিন ওখানে যাননি?”
এনায়েত হাশমী নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন। চারদিকের মানুষের চাউনি তাকে পাগল করে তুলছিল। তিনি চেঁচিয়ে বলতে লাগলেন,

“মিথ্যা কথা! সব মিথ্যা! আমি যাইনি, আমি যাইনি! পুলিশ তো চারপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে দেখেছে, সেখানে কি আমাকে কোথাও দেখা গেছে? আমি যাইনি।”
পুরো এজলাসে তখন পিনপতন নীরবতা। শুধু সিলিং ফ্যানের ঘড়ঘড় শব্দটা ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিকের মতো বাজছিল। মেহেরেত চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। বিচারক মহোদয় এবার অফিসার তাবিশকে আবার প্রশ্ন করলেন, “ইন্সপেক্টর তাবিশ, আপনি কি ওই অ্যাপার্টমেন্টের আশেপাশে আর কাউকে দেখেছিলেন? ঠিক মনে করে বলুন।”
তাবিশ নিজের আমতা আমতা করে বলল, “জিনা মাই লর্ড, আমি আর কাউকে দেখিনি। কিন্তু… আমার মনে হয়, মিসেস মেহেরের সাথে এই প্রডিউসার এনায়েত হাশমীর কোনো অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। ওনারাই হয়তো মিলেমিশে এই খুনটা করেছেন এবং এখন ফেঁসে গিয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। ”
‘অবৈধ সম্পর্ক’ শব্দ দুটো কানে আসতেই রুদ্রর ভেতরের রাগ মুহূর্তেই তীব্র হয়ে উঠল। চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, চোখেমুখে ফুটে উঠল দমিয়ে রাখা ক্ষোভ।রুদ্র হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে—আচমকা অফিসার তাবিশের কলার চেপে ধরে এজলাসের শক্ত দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরল।
রুদ্রর এই আকস্মিক ও হিংস্র রুদ্রমূর্তি দেখে পুরো আদালত স্তম্ভিত হয়ে গেল। রুদ্র দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল,

“হাউ ডেয়ার ইউ!ইজ মাই ওয়াইফ। আমার ওয়াইফ সম্পর্কে এরকম নোংরা কথা বলার সাহস কীভাবে পেলেন আপনি, অফিসার? কোন সাহসে চৌধুরী বাড়ির বউয়ের দিকে আঙুল তোলেন? আপনার জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব একদম”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একদল পুলিশ ছুটে এসে রুদ্রর হাত থেকে অফিসার তাবিশকে টেনে ছাড়াল। তাবিশ তখন ভয়ে কাঁপছে আর হাঁপাচ্ছে। বিচারক মহোদয় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি পিটিয়ে বললেন,
“মিস্টার চৌধুরী! আপনি যদি আদালতের ভেতরে এমন আইনবহির্ভূত আচরণ করেন, তবে আমি বাধ্য হব আপনাকে এই এজলাস থেকে বের করে দিতে! শান্ত হোন!”
রুদ্র এক হাত দিয়ে কপালের ওপর লেপ্টে থাকা অবিন্যস্ত চুলগুলো সরিয়ে মুখটা সোজা করল। তার চওড়া বুক তখনো রাগে ওঠানামা করছে। সে বিচারকের দিকে তাকিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“আমি আমার এই আচরণের জন্য আদালতের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত, মাই লর্ড। কিন্তু আমার স্ত্রীর দিকে কেউ আঙুল তুলবে, আর আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব— এমন মানুষ আমি নই। গলার রগ ছিঁড়ে হাতে ধরিয়ে দেবো একদম! আমার স্ত্রীর দিকে আঙুল তোলার সাহস তো দূরের কথা, সেই চিন্তা মাথায় আনলেও মাথা অবশিষ্টাংশ থাকবে না। মনে রাখবেন, চৌধুরী বাড়ির বউদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর স্পর্ধা এটাই যেন শেষ হয় অফিসার, তাবিশের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল রুদ্র ।এরপরে কিন্তু আমি আইনের তোয়াক্কা করবো না।

বিচারক রুদ্রকে শান্ত হতে বললেন, কিন্তু তিনি নিজেও ভেতরে ভেতরে সন্দিহান হয়ে পড়লেন। রিনি শেখের পিঠে তিনটি গুলি লেগেছিল, অথচ এনায়েত হাশমী কেবল কাঁটাচামচ বসানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাহলে আসল খুনি কে?
বিচারক গম্ভীর গলায় বললেন, “মিস্টার চৌধুরী, এনায়েত হাশমীর এই জবানবন্দি আপনার স্ত্রীকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ আসল গুলির রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। বন্দুকটা কে চালিয়েছিল?”
রুদ্র এবার পকেট থেকে একটা মেটালিক পেনড্রাইভ বের করে ডেস্কে রাখল। তার রাগ তখনো পুরোপুরি কমেনি, কিন্তু বুদ্ধির ধার ফিরে এসেছে। সে মেহেরের দিকে একবার তাকাল। মেহের এতক্ষণ ধরে অভিভূত হয়ে রুদ্রর এই রূপ দেখছিল। যে মানুষটা এতদিন কোনো পারিবারিক ঝামেলা বা আদালতের কার্যকলাপে জড়াত না, সে আজ শুধু তাকে বাঁচানোর জন্য পুরো আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। রুদ্রকে যত দেখছিল, মেহের ততই অবাক হয়ে যাচ্ছিল। মানুষটাকে যেন নতুন করে চিনছে সে। তার প্রতিটি কথা আর পদক্ষেপ তাকে বিস্মিত করে দিচ্ছিল।

রুদ্র বিচারকের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,
“মাই লর্ড, আমি আর কোনো নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করতে চাচ্ছি না। এই নোংরা পরিবেশের কারণে আমার স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে। সে কনসিভ করেছে। এই মানসিক চাপে আমার বাচ্চার যদি কিছু হয়ে যায়, তবে তার দায় কে নেবে? এই পেনড্রাইভে যে সিসিটিভি ফুটেজ আছে, তা দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগে যে ফুটেজ আপনাদের দেখানো হয়েছিল, তা ল্যাবরেটরিতে এডিট করা হয়েছিল। যেখানে শুধু আমার স্ত্রীর প্রবেশ দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাকি যাদের কাটছাঁট করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, এই পেনড্রাইভে তাদের আসল চেহারা আছে।”
বিচারক সিসিটিভি ফুটেজের কথা শুনে একটু থমকে গেলেন। তিনি চশমাটা ঠিক করে বললেন, “কিন্তু মিস্টার রুদ্র, আপনার স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে তো আমরা গ্লাভস পেয়েছি। এমনও তো হতে পারে, মিস্টার এনায়েত আর আপনার স্ত্রী মিলেই এই খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন?
আমি বিশ্বাস করি আপনি একজন সুনাগরিক, তাই আমার কাছে সত্যিটাই বলবেন।”উনি কি নিখুঁতভাবে গুলি করতে দক্ষ?”

বিচারকের এই প্রশ্নে রুদ্র না চাইতেও ঠোঁটের কোণে একটা চাপা, হাসি ফুটিয়ে উঠলো । মেহের দূর থেকে রুদ্ররের হাসিটা খেয়াল করল। এই চরম বিপদের মুহূর্তেও লোকটা হাসছে দেখে মেহেরের নিজের ভেতর এক তীব্র রাগ আর ক্ষোভ আবার দলা পাকিয়ে উঠল। মেহের মনে মনে বলতে লাগলো, ইচ্ছে হচ্ছে এখান থেকে বের হয়ে জনাবের পিঠের চামড়া তুলে ফেলতে।
‘বন্দুক চালানো’র প্রশ্ন শুনে রুদ্ররের মনে পড়ে গিয়েছিল সেই-দিন মেহের রাগের মাথায় সত্যি সত্যি রুদ্রর দিকে বন্দুক তাক করেছিল তারপর ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল এই ভেবে যে সে বুঝি রুদ্রকে গুলিই করে দিয়েছে।
রুদ্র নিজের হাসি চেপে বিনীতভাবে বলল,
“দুঃখিত জজ সাহেব। আমার স্ত্রী একটা তেলাপোকা দেখলেই ভয়ে ঘর মাথায় করে। সে বন্দুক চালানো তো দূরের কথা, ঠিকঠাক ধরতেও পারে না। আর এনায়েতের সাথে জড়িয়ে যে অবৈধ সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার স্ত্রীকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে।”
বিচারক এবার কঠোর চোখে এনায়েত হাশমীর দিকে তাকালেন, “মিস্টার এনায়েত! আপনি শেষবারের মতো বলুন, আপনি কি রিনি শেখকে গুলি করেছিলেন?”

এনায়েত আমতা আমতা করে বলল “না মাই লর্ড! আমি তো বললাম, আমি যখন ঘরে ঢুকি, ও তার আগেই গুলিতে আধমরা হয়ে পড়ে ছিল। আমি গুলি করিনি”
রুদ্র তার বাবাকে ইশারা করল কিছু একটা নিয়ে আসতে , রুদ্রের ইশারায় হামজা চৌধুরী ওনার হাতের ভারী চামড়ার ফাইলটি বিচারকের সহকারীর কাছে জমা দিলেন।
রুদ্র অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলতে লাগল, “মাই লর্ড, রিনি শেখের স্বামী তুষার শেখ পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছিলেন যে খুনের দিন উনি চিকিৎসার জন্য ইউকে-তে ছিলেন। কিন্তু আমার বাবার সংগ্রহ করা এই ফাইলে ওনার আসল পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনের ডিটেইলস আছে। রিনি শেখ মারা যান ২৬শে জুলাই। আর তুষার শেখ গোপনে দেশে ফিরে আসেন তার ঠিক তিন দিন আগে, অর্থাৎ ২৩শে জুলাই। তাহলে উনি ওই সময়ে ইউকে-তে ছিলেন বলে যে দাবি করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা”
আদালতের ভেতরে এবার রীতির মতো শোরগোল শুরু হয়ে গেল। সবাই একযোগে ঘুরে তুষার শেখের দিকে তাকাল। রিনি শেখের পক্ষের আইনজীবী দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠলেন, “অবজেকশন মাই লর্ড! এই প্রমাণের কোনো আইনি ভিত্তি নেই!”
কিন্তু বিচারক মহোদয় হাত তুলে ওনাকে থামিয়ে দিলেন, “অবজেকশন ওভাররুলড। মিস্টার রুদ্র, আপনার বক্তব্য শেষ করুন।”

রুদ্র তুষার শেখের দিকে এক কদম এগিয়ে গিয়ে বলল, “সেদিন ১০৪ নম্বর এপার্টমেন্টে রিনি শেখকে পিঠে তিনটি গুলি আপনিই করেছিলেন, মিস্টার তুষার?আপনি আগে থেকেই বন্দুকটি লোড করে রেখেছিলেন যাতে কেউ আপনাকে সন্দেহ না করে, তাই না? আপনিই আসল অপরাধী।”
তুষার শেখের মুখ মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে উঠলো। সে মরিয়া হয়ে চিৎকার করে উঠল,
“মিথ্যা! সব মিথ্যা! আমি কেন আমার স্ত্রীকে মারব? আমার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়া এই অভিযোগ আপনারা করতে পারেন না”

রুদ্র পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে ডিসপ্লেটা অন করল, “প্রমাণ চান? এই নিন সিসিটিভি ফুটেজের আসল ক্লিপ। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সেদিন আমাদের এপার্টমেন্টের নিচে যখন মানুষের ভিড় জমেছিল, ঠিক সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে আমার স্ত্রীর ফেলে আসা ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর ওই গ্লাভস জোড়া আপনিই ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। আপনি নিজের স্ত্রীকে খুন করে দায়টা মেহেরের ওপর চাপাতে চেয়েছিলেন।”
তুষার শেখ মাথা নেড়ে বলতে লাগল, “সব বানিয়ে বলা হচ্ছে! এই ভিডিও এডিটেড, এই ভিডিও মিথ্যা ”
রুদ্র আর এক পা এগিয়ে গিয়ে বরফ-ঠান্ডা গলায় বলল, “ভিডিওটা মিথ্যা হতে পারে মিস্টার তুষার… কিন্তু ওই ভিডিওতে ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেওয়া মানুষটার ডান কবজিতে যে ড্রাগনের ট্যাটু দেখা যাচ্ছে, আপনার ডান হাতের এই ট্যাটুটাও কি এডিটেড আর মিথ্যা?”
রুদ্রর এই অকাট্য, ধারালো প্রমাণের পর তুষার শেখের আর পালিয়ে যাওয়ার কোনো পথ রইলনা।বিচারক মহোদয় অত্যন্ত কঠোর গলায় বললেন, “তুষার শেখ! কাঠগড়ায় দাঁড়ান এবং আদালতের কাছে আপনার জবানবন্দি দিন।”

তুষার শেখ তখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার চোখ দিয়ে অনুশোচনার জল গড়িয়ে পড়ছে। সে কাঁপানো গলায় বলতে লাগল, “আমি… আমি ওকে সম্পত্তির লোভে বিয়ে করেছিলাম। ভালোবাসার পুরোটাই ছিল একটা নাটক। কিন্তু ইদানীং আমি অন্য একটা মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ি, যা রিনি জেনে ফেলে। ও আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ডিভোর্স দিলে আমি ওর সম্পত্তির এক আনাও পেতাম না! তাই আমি ওকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করি। কিন্তু আমি জানতাম না যে ওই দিন এনায়েত হাশমীও ওখানে আসবে আর মিসেস চৌধুরী হুট করে চলে আসবেন।যখন দেখলাম সব দোষ মিসেস চৌধুরীর উপরে এসে পড়েছে, তখন আমি সুযোগ পেয়ে গ্লাভসটা মিসেস চৌধুরীর ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম… আর সিসিটিভি ফুটেজ গুলো আমিই এডিট করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন মাই লর্ড, আমি বাধ্য হয়ে করেছি”

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৪ (২)

তুষার শেখের এই স্বীকারোক্তির পর যেন আদালতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব বিভ্রান্তি আর সন্দেহ এক মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। এতদিন যে অভিযোগ আর অপবাদ মেহেরকে ঘিরে রেখেছিল, সত্য প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর আর কোনো ভিত্তি রইল না।
আদালতকক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
উপস্থিত সবাই তুষার শেখের কথাগুলো শুনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বিচারক মহোদয় কিছুক্ষণ নথিপত্র দেখার পর তাঁর হাতুড়িটি শেষবারের মতো টেবিলে আঘাত করলেন। সেই শব্দের সঙ্গে সঙ্গেই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো…

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৩৫ (২)