Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ২২ (২)

খান সাহেব পর্ব ২২ (২)

খান সাহেব পর্ব ২২ (২)
সুমাইয়া জাহান

আজ ডিসেম্বরের আঠারো তারিখ। শীত তার পরিবারের সকলকে নিয়ে নেমেছে দুনিয়ার মাটিতে। সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। সূর্যের আজ মেঘের সাথে বড্ড ভাব জমেছে। সে আজ নিজের আলো পৃথিবীকে দেবে না বলে পৃথিবীর সাথে আড়ি করে মেঘের পেছনে গিয়ে লুকিয়েছে। কুয়াশা কাটেনি আজ। তার সাথে দক্ষিণা হিমশীতল হাওয়া বইছে। শেরাজরা এই আবহাওয়ার মধ্যে কোথায়ও বের হয়নি। দুপুরে খাবার টেবিলে সকলে মিলে প্ল‍্যান করেছে, রাতে পিকনিক করবে। এখন যার যার রুমে এই ঠান্ডা আবহাওয়ার জন‍্য ব্ল‍াঙ্কেট মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। সুমু, সামিয়া আর নাজমিনের সাথে ওদের রুমে আড্ডা দিচ্ছে।

শেরাজ ভিডিও কনফারেন্সে মিটিংয়ে ব‍্যস্ত। স‍্যান্ডি শেরাজের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। শেরাজের চোখে মুখে কিছুটা চিন্তার ছাপ। স‍্যান্ডি অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করলেও জিঙ্গাসা করার সাহস করে উঠতে পারেনি। যমের মতো ভয় পায়, সে তার স‍্যারকে। আবার এই স‍্যার বললে, এককথায় সে স‍্যারের জন্য নিজের জানও কুরবান করতে পারবে। এই যে এখন, মুখটাকে কঠিন করে ল‍্যাপটপের সামনে বসে মিটিংয়ে ব‍্যস্ত আছে। স‍ে অনেক দায়বদ্ধ এই মানুষটার কাছে। শুধু স‍্যান্ডি মাঝে মাঝে বুঝে পায় না “এমন রাগি, গম্ভীর আর বদমেজাজি মানুষটা ওইটুকু একটা পুঁচকে মেয়ের প্রেমে কীভাবে পড়ল। তাও আবার যে সে প্রেম না, গভীর প্রেম। আর তার ম‍্যামও কীভাবে এমন রাগি, গম্ভীর, বদমেজাজি মানুষটাকে সামলাবে। অবশ্য তার স‍্যার নিজের পার্সোনাল লাইফে একদম বাচ্চাসূলভ। ম‍্যাম হয়তো স‍্যারের শুধু নরমাল ব‍্যবহার গুলোই দেখেছে। স‍্যারের প্রফেশনাল লাইফটা দেখলে কি ম‍্যাম আদো স‍্যারের সাথে নিজের জীবন বাঁধতে পারত। হয়তো না, আবার হয়তো হ‍্যাঁ। ভালোবাসা হয়তো অনেক কিছুই পারে। সত্যিকারের ভালোবাসা হয়তো অসাধ‍্য সাধন করতে পারে। যেটা তার ম‍্যাম করেছে।”
হঠাৎ শেরাজের কন্ঠস্বর শুনে স‍্যান্ডি ভাবনা থেকে বের হল। শেরাজ ল‍্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো। দুইহাত পকেটে গুজে স‍্যান্ডির সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

“কোথায় ছিলে তুমি এতোক্ষণ?”
স‍্যান্ডি মুখ ফসকে বলল,
“ভাবনায়।”
ভ্রু কুঁচকে শেরাজ বলল,
“ভাবনায় মানে?”
নিজের ভুল বুঝতে পারল, স‍্যান্ডি। থতমত খেয়ে সে বলল,
“আ..আ..আসলে স‍্যার! আমি একটা কথা ভাবছিলাম।’
“কি কথা, সান?”
“স‍্যার! আরিয়ান স‍্যার আমাকে কল করে বললেন যে, আপনাকে নাকি সকাল থেকে কল করে যাচ্ছে। আপনি নাকি কল পিক করেননি। আরিয়ান স‍্যার আপনাকে কল পিক করতে বলেছে। আর বলেছেন….”
“কি বলেছে?”
“বলেছেন যে, উনি কোরিয়া থেকে চলে এসেছেন। এখন থেকে শুধু নিজের কাজের সময় আর কোরিয়াতে যাবে। আপাতত উনি ওমানেই থাকবে, তাও নিজেদের বাড়িতে না আপনাদের বাড়ি। এখন তিনি আপনাদের বাড়িতেই আছেন।”
চুপ করে রইল শেরাজ। সে ধীর পায়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। স‍্যান্ডিকে হাতের ইশারায় রুম থেকে যেতে বলল। শেরাজের ইশারা পেয়ে রুম ত‍্যাগ করল স‍্যান্ডি। পকেট থেকে ফোনটা বের করে সুমুকে টেক্সট করল শেরাজ। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে রুমে এসে উপস্থিত হলো সুমু। সে রুমে এসে শেরাজকে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,

“আপনার মিটিং শেষ, খান সাহেব?”
কথাটা বলে সে এগিয়ে আসছিল শেরাজের কাছে। হঠাৎ শেরাজের ফোনটা বেজে উঠতেই দাঁড়িয়ে পড়ল সুমু। শেরাজের ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের ওপর “আরিয়ান” নামটা দেখল সে। ফোনটা নিয়ে শেরাজের কাছে এগিয়ে গেল। শেরাজ সুমুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে কলটা কেটে দিয়ে ইনস্টাগ্রামে ঢুকে টেক্সট করল,
“আই এম বিজি নাউ। আই উইল কল ইউ আফটার আই এম ফ্রি।”
টেক্সটটা দেখে সুমু ভ্রু কুঁচকে ফেলল। সে শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি কথা বলে নিন। আমি পরে আসব।”
কথাটা বলেই চলে যাবার জন‍্য পা বাড়চ্ছিল সুমু। শেরাজ আটকালো তাকে। সে সুমুর দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল,
“চলে যাবার জন্য আমি তোমাকে টেক্সট করে ডেকে আনিনি। কথা আমি পরে বলে নিব। আপাতত, আই নিড ইউ।”
সুমু মাথা নিচু করে রেখে বলল,

“আপনাকে একটা প্রশ্ন করব, খান সাহেব?”
“তোমার প্রশ্নটা হয়তো আমি জিনি। তবুও করো কি প্রশ্ন? এন্ড বাই দ্য ওয়েই, নেক্সট টাইম আমাকে কিছু জিঙ্গাসা করতে তোমাকে আমার থেকে পারমিশন নিতে হবে না, সুইটহার্ট। ডিরেক্ট বলে দিবে।”
সুমু মাথা তুলে তাকিয়ে বলল,
“আরিয়ান কে, খান সাহেব? সকাল থেকে আপনাকে কল করে যাচ্ছে। আর আপনিও ক্রমাগত ইগনোর করে যাচ্ছেন। কে এই আরিয়ান?”
সুমুর এমন প্রশ্নের অপেক্ষাতেই ছিল শেরাজ। সে সুমুকে নিয়ে বেডের কাছে গেল। বেডের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে সুমুকে টেনে এনে কোলের ওপর বসিয়ে জড়িয়ে রাখল নিজের সাথে। সুমুর গলায় ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে মুখ গুজে রাখল। শেরাজের তপ্ত নিঃশ্বাস সুমুর ঘাড়ের ওপর পড়ছে। সুমুর পুরো শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। শেরাজ শক্ত করে সুমুর কোমর জড়িয়ে ধরে রাখল। সুমু আবার বলল,
“সকাল থেকে এই নামের একজন আপনাকে বারবার কল করে যাচ্ছে। আর আপনি বারবার কল কেটে দিচ্ছেন। কে আরিয়ান? যাকে আপনি এইভাবে ইগনোর করছেন?”
শেরাজ সুমুর দিকে তাকাল। সে সুমুর নরম কোমল গালে একটা চুমু খেয়ে বলল,

“তোমাকে আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে হবে, সুইটহার্ট। তুমি আমার পরিবারের কাউকেই চিনোনা, জনোনা।”
সুমু উৎসাহিত কন্ঠে বলল,
“চিনি তো। যেমন ধরুন, আপনার বাবাকে আমি চিনি। অনেকবার আপনার ভিডিওতে দেখেছি। আপনার ছোট্ট ভাই রিয়াজকে চিনি। সারবাজ আর আরবাজ ভাইয়ার ছোট্ট ভাই শাহরুখকেও চিনি। আপনার মামাতো বোন ফিরোজাকে চিনি। তবে আরো অনেক জনকেই দেখেছি, কিন্তু তারা আপনার কে হয় জানিনা। কারন আপনি তাদের পরিচয় আর নাম পাবলিক করেননি।”
“ওকে! তাহলে, আজ, এখন, এই মুর্হুতে আমি তোমাকে আমার পরিবারের সকলের সাথে পরিচয় করাবো।”
সুমু আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ বেড থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিল। ফোনের লক স্ক্রিন অন করতেই সুমুর হাস‍্যজ্বল একটা ছবি ভেসে উঠল। সুমু অবাক হল না, কারণ ছবিটা সে আগেই দেখেছে। শেরাজ ফোনটা আনলক করে গ‍্যালারি অফশনে ঢুকল। সে হঠাৎ কিছু একটা মনে করে ফোনটা আবারও বেডের ওপর রেখে দিয়ে বলল,
“আগে সকলের সম্পর্কে বলি। তারপর না হয় দেখবো।”
সুমু খুব উৎসাহ নিয়ে ঘাড় কাত করে তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ সুমুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,

“আমার জন্ম হয়েছিল আফগানিস্তানে। আমার দাদাজান “জনাব সাহাবুদ্দিন খান” ওপরে কঠোর আর ভেতরে নরম মনের মানুষ ছিলেন। আফগানিস্তানের মানুষদের মাঝে মাঝে অনেক দুঃখ পোহাতে হতো। খাবার সংকট, ছাড়াও আরও অনেক রকমের সমস‍্যা লেগেই থাকে ওখানের মানুষের জীবনে। আফগানিস্তানরা সকলে তালেবান, পাঠান। ওখানের পুরুষদের দাঁড়ি রাখতেই হয় আর মেয়েদের পর্দা করতেই হয়। আমার দাদাজানও তেমন খুব আল্লাহ প্রেমি মানুষ ছিলেন। কাজ ছাড়া বেশির ভাগ সময় মসজিদেই পড়ে থাকতেন। আমার দাদার পূর্বপুরুষদের পারিবারিক অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। আমার দাদাজান আফগানিস্তানে মানুষদের নিজের সামর্থ‍্য অনুযায়ী অনেক সাহায্য ও করেছিলেন।

আমার দাদাজানের কোনো মেয়ে ছিল না। দুই ছেলে সন্তান আর আমার দাদিজান সালেহা বেগমকে নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। আমার বাবা “জনাব সাহাবাজ খান” সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। নিজের কাজের প্রতি খুব সিনসিয়ার ছিলেন তিনি। আর আমার ছোটআব্বু “জনাব শেহেজাদ খান” আমাদের পারিবারিক ব‍্যবসা সামলাতেন। দাদাজানের শারীরিক অবস্থা তখন খুব একটা ভালো ছিল না। বয়সের সাথে সাথে শরীরে নানান রকমের অসুস্থতা ধরা পড়েছিল তার। একদিন আমার ছোটআব্বু ব‍্যবসার কাজে বাসা থেকে কিছুদিন দূরে থাকেন। দাদা আর দাদি তখন বাসার একা। পনেরো দিন পর আমার ছোটআব্বু বাসার ফিরেন, সাথে একজন ভদ্রমহিলাকে নিয়ে। দাদাজান ছোটআব্বু জিঙ্গাসা করতেই তিনি জানান, তিনি বিয়ে করেছেন। মেয়েটা নাকি ছোটআব্বুর ক্লাসমেট ছিল। কলেজ লাইফ থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। ছোটআব্বুর এমন একা একা বিয়ে করাটা দাদাজান কিছুইতে মেনে নিতে পারেননি। আমাদের বংশের নিয়মের বাহিরে গিয়ে ছোটআব্বু বিয়েটা করেছেন। ছোটআব্বু এইভাবে বিয়ে করাতে, দাদাজান অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু আমার দাদিজান মেনে নিয়েছিল আমার কাকিমা আফিয়া বেগমকে।

দাদিজান ইচ্ছে করে দাদাজানের সকল দেখাশোনার ভার কাকিমাকে দেন। কাকিমা দাদাজানের সব দেখাশোনার ভার আর সংসারের সব দায়িত্ব এক হাতে সামলাতে শুরু করেন। কাকিমার এমন দায়িত্বকর্তব‍্যবোধ দেখে দাদাজান খুশি হন। বংশের নিয়মের গন্ডি সেদিন ভেঙে দেন দাদাজান। কাকিমার সেবায় আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। দাদাজান চান, আমার বাবা মানে সাহাবাজ খানকেও বিয়ে দিতে। দুই ছেলের সন্তানদের মুখ না দেখতে পারুক। তাদের বিয়ে অন্তত দিয়ে যেতে চান তিনি। আমার বাবা বিয়ে অর্ডার পেয়েও বিয়ে করছিলেন না। তিনি তার কাজ ছাড়া অন‍্যকিছুতে নিজেকে বাঁধতে নারাজ ছিলেন। দাদাজান বিয়ের কথা বললেই, বাবা আপত্তি জানাতো। কাজের সূত্রে বাবাকে বাহিরেই বেশি থাকতে হতো। ছুটি পেলেও খুব একটা বাসায় আসতোনা সে। হঠাৎ একদিন একটা গোপন মিশনে গিয়ে বাবা প্রায় দশ দিনের জন্য নিখোঁজ ছিল। বাবার টিমের কেউ বলতে পারছিল না বাবার খোঁজ। আমার দাদাজান আর দাদিজানকে এই ব‍্যাপারে কিছুই জানায় না বাবার টিমের কলিগরা। বয়স্ক মানুষ দুজন ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়বেন ভেবে, তাদের কাছ থেকে সবটা গোপন করা হয়। বাবার কলিগরা জানতো তাদের গোপন মিশন করতে গিয়ে বাবার হাতে গুলি লেগেছে। কিন্তু তারপর যে বাবা কোথায় গায়ের হয়ে গেছে কেউ বলতে পারেনা। টিমের সকল ফোর্স বাবাকে খুঁজতে চিরুনী তল্লাশি চালিয়েছে, তবুও বাবার কোনো হদিস তারা পাননি। প্রায় দশদিন পর বাবা নিজে তার ক‍্যান্টলমেন্টে ফিরে আসে।

বাবার টিমের সকলে সেদিন বাবাকে অক্ষত অবস্থায় দেখে খুব খুশি হয়, সেই সাথে অনেক প্রশ্নে জর্জরিত করে ফেলে। খুব ঠান্ডা মাথায় সকলের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ওপরমহল থেকে প্রায় একমাসের ছুটি নেয় বাবা। বাবার কাজে কখনও কোনো গাফিলতি ছিল না, আর না কখনও কোনো ছুটি নিতেন তিনি। বাবার কাজের প্রতি এতো দায়িত্বকর্তব‍্যবোধ দেখে ওপরমহল বাবাকে একমাসের ছুটি দিয়ে দেন। হাতের অবস্থা তখন অনেকটাই ভালো। গুলিটা ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। একমাসের ছুটিতে বাড়িতে এসে বিয়েতে মত প্রকাশ করেন, সেই সাথে এও বলেন মেয়ে তার নিজের পছন্দ করা আছে। দাদাজান খুব খুশি হন। দাদিজান বাবার হাতের কথা জিঙ্গাসা করতেই বাবা বলেন, “কিছুদিন আগে একটা গোপন মিশনে গিয়ে তার হাতে গুলি লাগে। গুলি খেয়ে আহত হয়েও তিনি মিশন থেকে সরে যাননি। হাতে ক্ষত নিয়ে পুরো মিশন কম্পিলিট করেন। পরিস্থিতি যখন নিজেদের হাতের মধ্যে তখন তিনি মিশন থেকে সরে যান। তিনি ভরসা রেখেছিলেন তার টিমের ওপর। বাকিটা ওরা সামলে নিতে পারবে তিনি জানতেন। গোলাগুলি তখনও চলছিল বলে, তিনি তার টিমের লোকদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। হাতে ক্ষত নিয়ে তিনি লোকালয়ে চলে আসেন। প্রচন্ড রকমের রক্তক্ষরনের ফলে জ্ঞান হারান তিনি। পরেরদিন সকালে জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে হসপিটালের বেডে অবিষ্কার করেন। নার্সকে জিঙ্গাসা করতেই নার্স বলেন, কিছু লোক তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। তাদের সাথে অল্পবয়সী কিছু মেয়েও ছিল। তার মধ্যে একটা মেয়ে বাবাকে নিয়ে একটু বেশি ডেস্পারেট ছিল।”

শেরাজ একটু থেমে আবারও বলতে শুরু করল,
“সেদিন রাতে মেয়েটি আবারও দেখা করতে আসে বাবার সাথে। বাবা মেয়েটি সাথে কথা বলে জানতে পারে মেয়েটি ওমানের নাম্বার ওয়ান এ.সি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র ওনার জনাব আফতার চৌধুরী আর তার ছোট ভাই আদনান চৌধুরীর একমাত্র ছোট বোন অনন‍্যা চৌধুরী।”
সুমু কিছু বলতে নিল। শেরাজ সুমুর ঠোঁটে নিজের আঙুল চেপে ধরে সুমুকে চুপ করিয়ে দিয়ে বলল,
“আমি তোমার প্রশ্নটা জানি। উত্তরটা তুমি নিজে থেকেই পেয়ে যাবে। তবে হ‍্যাঁ, আমার কথার মাঝখানে তুমি আমাকে কোনো প্রশ্ন করবে না। তোমার যতো প্রশ্ন তুমি সব আমাকে আমার কথা শেষ হবার পরে জিঙ্গাসা করবে। তবে আমার মনে হয়, সবটা শোনার পর তোমার আর কোনো প্রশ্ন করার থাকবে না। কিন্তু যদিও থাকে, তখন করবে, আমি বলবো।”
একটু থামল সে। কিছুটা দম নিয়ে আবারও বলল,

“মেয়েটার সাথে কথা বলে বাবা জানতে পারে মেয়েটা তার বন্ধুদের সাথে আফগানিস্তানে এসেছে, আফগানিস্তানের অভুক্ত মানুষদের সাহায্য করতে। মেয়েটি বাবার সেবা করেন। এতেই দুজনের মধ্যে আস্তে আস্তে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবা মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি রাজি হয়। তিনি তার বড়ভাই আফতার চৌধুরীকে কল করে বাবার কথা বলতেই আফতাব চৌধুরী বলেন, তিনি নেক্সট উইক আফগানিস্তানে আসবেন। বাবার যেন তখন তার পরিবার নিয়ে ওনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখেন। এরপর বাবা বাড়ি ফিরে দাদাজানকে আর চাচ্চুকে নিয়ে আফতাব চৌধুরীর কাছে যান। আফতাব চৌধুরী আর আদনান চৌধুরীর খুব আদরের বোন আমার আম্মু অনন্যা চৌধুরী। বড়মামা প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। বড়মামা আর ছোটমামার ইচ্ছা ছিল, অনেক ধুমধাম করে তাদের বোনের বিয়ে দেবেন। কিন্তু আমার দাদাজানের ইচ্ছেতে বিয়েটা মসজিদে গিয়ে ইসলামি মোতাবেক মেনে হয়। আম্মু আর আব্বুর বিয়ের ছয় মাসের মাথায় আমার বড়মামা আফতাব চৌধুরী সাউথ কোরিয়াতে চলে যান নিজের ফিল্মের শুটের কাজে। তখন আমার কাকিমা পাঁচমাসের প্রেগন‍্যান্ট। বড়মামা কোরিয়াতে গিয়ে ওখানে একজন জনপ্রিয় মডেল “মৌ সেনের” সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যান।

তাদের সম্পর্ক পাঁচমাস চলতেই, মামা জানতে পারে মৌ সেন চারমাসের প্রেগন‍্যান্ট। কিন্তু তিনি বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলতে চান নিজের ক‍্যারিয়ারের জন‍্য। বড়মামা কিছুতেই তার গার্লফ্রেন্ডের এমন সিদ্ধান্তে রাজি হননি। তিনি মৌ সেনকে কথা দেন যে, বিয়েটা করে বাচ্চা হয়ে গেলে মামা কোনোদিনও তার ক‍্যারিয়ারের প্রতি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। শুধু তার বাচ্চাটা চাই। মৌ সেনকে অনেক বোঝানোর পর তিনি রাজি হন। অবশ্য তিনি মামাকে খুব ভালোও বাসতেন। কিন্তু বিয়ে, বাচ্চা এইসব তার ভাবনার বাহিরে ছিল। মৌ সেন ছিলেন খ্রিষ্টান আর আমার বড়মামা মুসলিম। কিন্তু মামার কথায় বিয়েটা হয় আমাদের ইসলামি মোতাবেক মেনে। মৌ সেনের এইসব ধর্ম নিয়ে কোনো মাথা ব‍্যথা ছিল না। বিয়ের দিন রাতেই মৌ সেনকে দিয়ে আমার মামা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায়, আর এও কথা দেন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও মামা কোনোদিনও তাকে কোনো কিছুর জন‍্য জোর করবেন না। তিনি আগে যেমন স্বাধীনচেতন মানুষ ছিলেন, আজীবন তাই থাকবেন। এদিকে নয়মাসের শুরুতেই ডেলিভারী হয় আমার কাকিমার। তার কোল জুড়ে ফুটফুটে একটা ছেলে সন্তান আসে। দাদাজান খুশি হয়ে বাচ্চাটার নাম দেন “সারবাজ।” কিন্তু কেউ এইটা জানতো না আমার আম্মুও তখন তিন মাসের প্রেগন‍্যান্ট। অবশ্য আম্মু নিজে থেকেই জানায়নি কাউকে। আম্মু ভেবেছিল, আব্বু বাড়িতে ফিরলে তাকে আগে খবরটা দিবে। সারবাজের বয়স তখন একমাস। আব্বু বাড়িতে আসেন। আম্মু খুশির খবর আব্বুকে দেন। বড়মামা মামানিকে নিয়ে বিয়ের পরেরদিনই ওমানে ফিরে আসেন। আর মামানিকে আমাদের বাসায় রাখেন। একদিকে নিজের বউ চারমাসের প্রেগন‍্যান্ট, অন‍্যদিকে নিজের ছোটবোন তিনমাসের প্রেগন‍্যান্ট। তার ওপর বাসায় আরও একটা একমাসের বাচ্চা আছে। সকলের খুশি আর ধরে না।

আমার মামানিকে নয়মাস দশদিনে ডেলিভারী করানোর জন‍্য হসপিটালে এডমিট করানো হয়। তখন আমার আম্মুর প্রেগন্যান্সির আটমাস আটদিন চলে। সকলে মিলে হসপিটালে যান। আম্মুকে যেতে বারণ করা হলেও আম্মু কারো কথা শোনেনি। আর সেদিন রাতেই আমার দাদাজান হঠাৎ স্ট্রক করে ইন্তেকাল করেন। হসপিটালে তখনও মামানির ডেলিভারি শুরু হয়নি। হসপিটালে খবরটা আম্মুর কানে যাবার পর আম্মু কান্নায় ভেঙে পড়েন। আম্মুর বাবা-মা না থাকায় আমার দাদাজান আর দাদিজানকে নিজের মা-বাবার আসনে বসিয়েছিলেন তিনি। মামারা আম্মুকে ধরে রাখতে পারেন না। পাগলের মতো ওই অবস্থায় হসপিটাল থেকে বেরোতে গিয়ে হসপিটালের মেঝের ওপর পড়ে যায় আম্মু। তখন আম্মুর অবস্থা অনেক ক্রিটিক‍াল। ডাক্তার জানায়, এক্ষুনি ডেলিভারি করতে হবে। যেভাবে পড়েছে এক্ষুনি অপারেশন না করলে দুজনের কেউকেই বাঁচানো সম্ভব হবেনা। আমার আম্মু আর মামানির সেদিন একসাথে ডেলিভারি হয়। আম্মুর অবস্থা খারাপ হওয়ায় আম্মুর ডেলিভারি আগে করানো হয়। সেদিন হসপিটালে দুইঘরে দুটো পুত্র সন্তান হলো। মামা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে নাম রাখল “আরিয়ান চৌধুরী।” আর আমার বাবা ভিডিও কল দিয়ে সন্তানের মুখ দেখে নাম রাখল “শেরাজ খান।” আমার বাবা সেদিন কিছুক্ষণের জন‍্য এসেছিলেন। আমার দাদাজানকে দাফন করে আবারও চলে গেছিলেন তার কাজের জায়গায়। আম্মুর কাছে আসার মতো সময় তার হাতে ছিল না। এতে আম্মু একটুও রাগ করেননি বাবার ওপর। দাদাজানের মৃত্যুর ছয়মাসের মাথায় দাদিজানও ইন্তেকাল করেন। দাদাজানের বেলায় বাবা আসলেও দাদিজানের বেলায় বাবা আসতে পারেনি।

দাদাজানের পাশেই দাদিজানকে দাফন করা হয়। তারপর বাবাও চাকরিটা ছেড়ে দেন। তার দুইমাস পর আমার পুরো পরিবার ওমানে সিফট হয়। তারপর থেকেই আমরা ওমানে থাকি। আর মামানিতো আরিয়ানের জন্মের একমাসের মাথায় কোরিয়াতে ফিরে যান। বড়মামাও কিছু বলেনি মামানিকে। আমার আম্মু আমাকে আর আরিয়ানকে একসাথে বড় করেছেন। তুমি জানো, আরিয়ান দেখতে একদম ওর মায়ের মতো। তোমাদের ভাষায় কোরিয়ান বয়। সারবাজ আমার আর আরিয়ানের বড় তবে একবছরেরও বড় না। আর আরিয়ান আর আমার একি দিনে জন্ম হয়, ওহ! সরি রাতে। তাই আমরা তিনজন সমবয়সী। বড়মামা মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে এসে আরিয়ানকে দেখে যেতেন। আমাদের যখন পাঁচ বছর বয়স। তখন মামানি আবারও ওমানে ফিরে আসেন। আর তিনি এসেই আরিয়ানকে নিয়ে যান আমাদের বাড়ি থেকে। আর বলেন যে, এখন থেকে তার ছেলে নাকি তার কাছেই থাকবে। অথচ দেখো পাঁচ বছরে একটাবারের জন‍্যও আরিয়ানকে দেখতে আসেনি। যখন আরিয়ান খুব কাঁদতো ওর মায়ের জন‍্য, তখনই শুধু ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হতো। সেটাও দু’তিন মাস পরপর। তার নাকি ফোনে কথা বলার মতোও সময় হতো না। তবে হ‍্যাঁ, আরিয়ানের প্রতি বার্থডেতে এক্সপেনসিভ গিফট পাঠাতে ভুলতেন না তিনি। ওমানে ফিরে আসার একবছরের মধ্যে মামানি আবারও প্রেগন‍্যান্ট হয়। একটা কন‍্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। যার নাম রাখা হয় “রোজা”।
রোজার জন্মের একবছর পর বড়মামানি আরিয়ান আর রোজাকে নিয়ে কোরিয়াতে চলে যান। এরপর মাঝে মধ্যেই ওমানে আসতেন। আরিয়ান পড়াশোনা শেষ করে বড়মামার পারিবারিক ব‍্যবসা আর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পরে। রোজা বড়মামানির মতোই মডেলিং করে। তুমি কোরিয়ান ড্রামা দেখো, সুইটহার্ট?”

“হ‍্যাঁ, দেখি। কোরিয়ান ড্রামাতে হিরো, ভিলেন দুটোর ওপরেই ক্রাশ খাই আমি।”
সুমুর কথা শুনে রেগে গেল শেরাজ। সে সুমুর কোমরে জোরে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ওয়ানিং দিচ্ছি সুইটহার্ট! তোমার এই মুখে আমি ছাড়া অন‍্য কোনো পুরুষের নাম আর কোনোদিনও নিলে তুমি থাকবে, কিন্তু অন‍্য ছেলের নাম নেওয়ার জন‍্য তোমার এই সুন্দর মুখটা আর থাকবেনা।”
হেসে ফেলল সুমু। শেরাজের কথাগুলো মজার ছলে নিল সে। শেরাজের গলা জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মাথা রেখে বলল,
“আচ্ছা, আর নিব না। আপনি তারপর বলুন।”
“কোরিয়ান হিরো আরিয়ান চৌধুরীকে চিনো?”
কাঁধ থেকে মাথা তুলে শেরাজের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাল সুমু। সুমুর অবস্থা দেখে মিটিমিটি হাসছে শেরাজ। অবাকেরস্বরে সুমু বলল,
“মানে ওই আরিয়ান চৌধুরী আপনার মামাতো ভাই? এটাও সত্যি? আপনি জানেন আমার সব বান্ধবীরা ওনাকে কতো পছন্দ করে ইভেন আ….”

কথাটা শেষ করতে পারল না সুমু। শেরাজ সুমুর ওষ্ঠ নিজের আয়ত্বে নিয়ে নিয়েছে। তবে এই ছোঁয়া কোমল ছোঁয়া না। শেরাজ রীতিমত যুদ্ধ চালাচ্ছে সুমুর ওষ্ঠের ওপর। ব‍্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলেছে সুমু। তার চোখের পানিতে দুজনের গাল ভিজে গেছে। হাত দিয়ে শেরাজের পিঠ আর চুল চেপে ধরেছে সে। সুমুর নখ বসে গেছে শেরাজের পিঠে। তবুও সুমুর ঠোঁট থেকে সরে আসলো না শেরাজ। বরং সুমুর এমনভাবে চেপে ধরাতে আরও উৎসাহ পেল সে। হঠাৎ শেরাজ মুখের মধ্যে নোনতা অনুভব করল, তবুও ছাড়ল না সুমুকে। ব‍্যথা আর সহ‍্য করতে না পেরে মৃদুস্বরে আর্তনাদ করল সুমু। এতেই হুঁশে ফিরল শেরাজ। সে ছেড়ে দিল সুমুর ওষ্ঠ। সুমুর ওষ্ঠের অবস্থা বেহাল। এখনও চোখ বন্ধ করে রেখেছে সে। তার ঠোঁটের ওপর রক্ত দেখে শেরাজ হেসে বলল,
“ওহহ! এই নোনতা স্বাদটা ব্লাডের ছিল? আর আমি ভাবলাম হয়তো মিষ্টি বেশি খাবার ফলে, মিষ্টিটা নোনতা স্বাদ ধারণ করেছে।”
কোনো কথা বলল না সুমু। সে চোখ মেলে পযর্ন্ত তাকাল না পযর্ন্ত। শেরাজ দুষ্টু হেসে পুনরায় বলল,

“এখনও চোখ অফ করে আছো কেনো? আবারও একবার মিষ্টি খাওয়াতে চাও নাকি? এমনিতেও চুমু খাবার পর তোমার ঠোঁট জোড়া আরও বেশি নেশালো লাগছে। আফিমের মতো টানছে আমাকে। তুমি চাইলে আরও একবার…”
চোখ মেলে তাকাল সুমু। চোখ দিয়ে এখনো পানি পড়ছে তার। শেরাজ ওষ্ঠ এগিয়ে নিল সুমুর গালের কাছে। ঠোঁটে দিয়ে শুষে নিল সুমুর চোখের পানি। তারপর ঠোঁট সরিয়ে সুমুর দিকে তাকিয়ে বলল,
“ইউ নো হোয়াট সুইটহার্ট? শুধু তুমি না, তোমার চোখের পানিটাও আমার কাছে তোমার মতোই মূল‍্যবান। আর এতো মূল্যবান জিনিস আমি তো মাটিতে পড়তে দিতে পারি না।”
সে পকেট থেকে রুমাল বের করে সুমুর ঠোঁটের রক্ত মুছে দিয়ে বলল,
“এইটা শুধু ট্রেইলার ছিল, সুইটহার্ট। আমার কোনো কথাকেই হালকা ভাবে নিওনা।”
সুমু আলতো হাসল। সে ঠোঁটের ব‍্যথাকে ইগনোর করে বলল,

“এই ছোঁয়াতে কি আপনি খুশি হয়েছেন?”
শেরাজ অকপটে উত্তর দিল,
“খুব। একদম আমার মনের মতো ছোঁয়া হয়েছে এইটা।”
“তাহলে এমন ছোঁয়া আমি বারবার স্বেচ্ছায় আপনার থেকে গ্রহন করতে রাজি আছি। আপনার খুশির জন‍্য জান কুরবান, খান সাহেব। সেখানে এইটুকু ব‍্যথাতো কিছুই না। আপনার খুশির জন‍্য যেকোনো ব‍্যথাকে লক্ষ কোটি গোলাপের শুভেচ্ছা দিয়ে আমার জীবনে স্বাগতম জানাই। তবে সেটা শুধুমাত্রই আপনার জন‍্য।”
শেরাজ আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল সুমুর ক্ষতবিক্ষত ঠোঁটে। সুমু পুনরায় বলল,
“সে যদি আপনার মামাতো ভাই হয়ে থাকে, তাহলে ওর কল আপনি বারবার কেটে দিচ্ছেন কেনো?”
“কিছু প্রশ্নের উত্তর না হয়, এখন তোমার না জানাই থাক। এইসব প্রশ্নের উত্তর তুমি তোমার শশুরবাড়িতে গিয়ে আস্তে আস্তে জানতে পারবে।”

“আপনার মামা যদি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এতো বড় প্রডিউসার হয়, তাহলে আপনিও অবশ্যই অনেকবার ফিল্মের জন‍্য ডাক পেয়েছেন। এমনিতেই আপনি যা দেখতে। বলিউডের কোনো হিরোর থেকেও কোনো অংশে কম নন। আর বডি ফিটনেস তো জাস্ট মারাত্বক। আপনার সৌন্দর্যের ব‍্যাখা করা অসম্ভব।”
“হ‍্যাঁ, ডাক এসেছে আমার। শুধু মামার থেকে না, বলিউডের আরও অনেক প্রডিউসারদের থেকেও এসেছে। আমি গ্রহণ করিনি। এইসব অভিনয় জগত আমার জন‍্য না, সুইটহার্ট।”
“আচ্ছা, খান সাহেব! আপনার পরিবার আমাকে যদি মেনে না নেয়। তখন কি হবে?”
সুমুর প্রশ্ন শুনে শেরাজ হেসে বলল,
“এস.আর.কের! একটা গানে একটা লাইন আছে, সুইটহার্ট। আর সেটা কি তুমি জানো?”
“কি?”
“হো না হো সাব রাজি। দিল রাজি, তো রাব রাজি সুইটহার্ট।”

খান সাহেব পর্ব ২২

সুমু আলতো হাসল। বেড থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে একে একে তাকে সবার পিক দেখাল শেরাজ। হঠাৎ রুমের দরজার টোকা পড়তেই উঠে দাঁড়াল দুজনে। কথা বলতে বলতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে খেয়াল করেনি তারা। আজ রাতে পিকনিকের প্ল‍্যান করা হয়েছে। শেরাজ গিয়ে রুমের দরজা খুলে দিল। সুমু ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক পরে নিল। তবে তাল ঠোঁট ফুলে বেহাল অবস্থা। শেরাজ তার বন্ধুদের সাথে বাহিরে চলে গেল। সামিয়া আর নাজমিন সুমুর রুমে এসে বেডের ওপর উঠে বসল পিকনিকের প্ল‍্যান করার জন‍্য।

খান সাহেব পর্ব ২৩