Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ৩৫

খান সাহেব পর্ব ৩৫

খান সাহেব পর্ব ৩৫
সুমাইয়া জাহান

সুমু মন খারাপ করে বসে আছে। শেরাজ আইয়ুবদের রুমে গেছে কোনত একটা ইম্পর্টেন্ট কথা বলতে। পাঁচ মিনিট পর শেরাজ রুমে ফিরে এলো। সুমুকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে বলল,
“কি সমস্যা বউ? মুড অফ নাকি?”
সুমু তাকাল তার খান সাহেবের দিকে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন‍্যদিকে ফিরে বসল। সুমুর কাণ্ডে শেরাজ ভ্রু কুঁচকালো। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে সুমুর পাশে বসল। সুমু মাথা নিচু করে বসে আছে। শেরাজ একটু ঝুঁকে সুমুর মুখটা দেখার চেষ্টা করল। শেরাজকে তাকাতে দেখে সুমু উঠে চলে যেতে নিল। শেরাজ সুমুর হাত টেনে ধরে সুমুকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বসাল। দু’হাত দিয়ে সুমুর দু’গাল ধরে বলল,

“কি হয়েছে, সুইটহার্ট? বলো আমাকে।”
সুমু অভিমানীসুরে বলল,
“একে তো আজ রাতেই সবাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি, তার জন‍্য আমার মন খারাপ। আর এইদিকে আপনি আমাকে আমার সুন্দর সুন্দর ড্রেসগুলো নিতে দিচ্ছেন না। মাত্র চারটা ড্রেস নিতে দিয়েছেন। আর বাকি ড্রেসগুলো আমাকে রেখে যেতে বলছেন। আমি আমার এই সুন্দর সুন্দর ড্রেসগুলো কেনো রেখে যাব?”
শেরাজ সুমুর গাল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। পকেট থেকে ফোন বের করে বেলকনির দিকে যেতে যেতে বলল,
“ড্রেসের চিন্তা বাদ দিয়ে, আমার আর তোমার পাসপোর্ট দুটো বের করে আমার কাছে দাও।”
কথাটা বলে শেরাজ বেলকনিতে গিয়ে সাহাবাজ খানকে কল করল। দু’বার রিং হতেই সাহাবাজ খান কল রিসিভ করল।

“হ‍্যালো ড‍্যাড!”
“ইয়েস বেটা!”
“তুমি তো জানোই, আজ আমরা ওমানে ফিরে যাচ্ছি। তো সেই বিষয়ে তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।”
রুমের ভেতর থেকে ঠুকঠাক শব্দ শেরাজের কানে আসতে লাগল। শেরাজ ফোনটা কানের কাছ থেকে সরিয়ে বলল,
“সুমু, কি করছো তুমি? ফোনে কথা বলছি তো, ডিস্টার্ব হচ্ছে।”
কথাগুলো বলে শেরাজ আবারও ফোনে কথা বলাতে মন দিল। রুমের ভেতর থেকে আসা শব্দে শেরাজ বিরক্ত হলো। কোনোমতে কথা শেষ করে কলটা কেটে দিল। নরম গলায় বলল,
“আমার বউটাও না…”
রুমে এলো শেরাজ। রুমের নাজেহাল হাল অবস্থা দেখে ভ্রু কুঁচকালো। পুরো রুম এলোমেলো হয়ে আছে। সুমু পাগলের মতো কিছু একটা খুঁজছে। শেরাজ এসে আটকালো সুমুকে। সুমুর দু’কাধে হাত রেখে বলল,

“কি হয়েছে? কি খুঁজছো? আর রুমের এ কি অবস্থা করেছো?”
সুমু কেঁদে ফেললো। কান্না জড়ানো গলায় বলল,
“পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিনা, খান সাহেব।”
“খুঁজে পাচ্ছোনা মানে? কোথায় রেখেছিলে?”
সুমু ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে শেরাজের পাসপোর্টটা এনে বলল,
“এই দেখুন, আপনার পাসপোর্ট। আমি কাল সকালে দুইটা পাসপোর্টই একসাথে এক জায়গায় রেখেছিলাম। কিন্তু এখন, আপনারটা পাচ্ছি শুধু। আমারটা নেই।”
শেরাজ চোখ বন্ধ করে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করল। সে জানে পাসপোর্টটা কোথায় পাওয়া যাবে। সুমুর দিকে একপলক তাকিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,

“কাঁদবে না। দশমিনিটের মধ্যে পাসপোর্ট আর এই রুমটা গোছানোর জন‍্য একটা কাজের মহিলা নিয়ে আসছি আমি। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি, সুইটহার্ট।”
কথাগুলো বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল শেরাজ। সুমু বেডের ওপর বসে কাঁদতে লাগল। শেরাজ নিচ তালায় এসে সামিয়া আর নাজমিনকে নিয়ে সোজা ইফতিয়া আর রাইশার রুমে ঢুকল। ইফতিয়া ভিডিও কলে কারো সাথে কথা বলছে। রাইশা বেডে শুয়ে গল্পের বই পড়ছে। শেরাজদের ঘরে ঢুকতে দেখে ইফতিয়া কলটা কেটে দিল। রাইশা গল্পের বই রেখে উঠে বসল।
শেরাজ গিয়ে টেবিল কাছ থেকে চেয়ার টেনে বসল। শেরাজের দুপাশে নাজমিন আর সামিয়া এসে দাঁড়াল। ইফতিয়া, নাজমিন আর সামিয়ার উদ্দেশ্যে বলল,

“তোরা এই রুমে?”
শেরাজ ডান হাত দিয়ে চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিল। ঠোঁট বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল ইফতিয়ার দিকে। ঠাট্টারস্বরে বলল,
“হাই ভোল্টেজের মার কেমন হয়, ওরা সেটাই দেখতে এই রুমে এসেছে।”
“ঠিক, বুঝলাম না।”
“খুব সিম্পল একটা ব‍্যাপার। তোমাকে একটা প্রশ্ন করা হবে। তুমি যদি তার সঠিক উত্তর দাও, তাহলে তোমাকে আমি একটা পুরষ্কার দিব। আর যদি ভুল উত্তর দাও; তাহলে হাই ভোল্টেজের মিষ্টি দিব।”
“মানে?”
“মানে, এখানে তোমার ক্লাস নিতে এসেছি। ব‍্যাস, একটা প্রশ্ন করব। উত্তর দেওয়ার জন‍্য তুমি ঠিক পাঁচ সেকেন্ড সময় পাবে। আমার হাতে বেশি সময় নেই। অলরেডি তাকে দিয়ে আসা সময়ের মধ্যে পাঁচ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। যদি তুমি কোনো মিথ‍্যা বা পাঁচ সেকেন্ডের বেশি এক সেকেন্ডও সময় নাও। তাহলে আই সুয়ার ইফতিয়া, আমি তোমাকে আমার এই শশুরের ভিটায় এই রুমের মধ্যেই পুঁতে রেখে দিব। আই রিপিট, এখানেই পুতে রেখে দিব। তুমি আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নিলে, তোমাকে কবরের পরিক্ষায় আমি পাঠাব।”
ইফতিয়া কপালে হাত দিয়ে ঘাম মুছল। শেরাজ মেঝের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মাথা উঁচু করে ইফতিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

“পাসপোর্টটা কোথায়?”
ইফতিয়া নিশ্চুপ। রাইশা বসে বসে ব‍্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছে। শেরাজ ধাপ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ইফতিয়া ভয়ে দু’পা পিছিয়ে গিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
“আ…আমার কাছ, আমার কাছে।”
শেরাজ দু’হাত পকেটে গুজে দাঁড়িয়ে রইল। ইফতিয়া কান্নাজড়িত গলায় বলল,
“প্লিজ, আমাকে মারবেন না। আমি এক্ষুনি পাসপোর্টটা দিয়ে দিচ্ছি।”
শেরাজ বিরক্তিরসূরে বলল,
“আমার বউয়ের বেডে কান্না ছাড়া, দুনিয়ার বাকি সব কান্না আমার কাছে ন‍্যাকামি মনে হয়।”
সামিয়া আর নাজমিন লজ্জায় মুখ টিপে হাসল। ইফতিয়া কোনোমতে কান্নাটাকে গিলে পাসপোর্টটা বের করে আনলো। শেরাজের দিকে
পাসপোর্টটা এগিয়ে দিল। শেরাজ পাসপোর্ট না নিয়ে বলল,

“নোংরার হাতের ছোঁয়া লেগে, এই পাসপোর্টটাও নোংরা হয়ে গেছে।”
তারপর সামিয়ার উদ্দেশ্যে বলল,
“পাসপোর্টটা নাও। টিস্যু পেপার দিয়ে আগে ভালো করে পাসপোর্ট’টা মুছো, ‍অ‍্যান্ড দেন, টিস্যু পেপারে স‍্যানিটাইজার দিয়ে পাসপোর্টটার ফ্রন্ট সাইড, ব‍‍্যাক সাইড ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে দাও।”
সামিয়া পাসপোর্টটা নিয়ে শেরাজের কথামতো কাজ করতে লাগল। শেরাজ তাকাল ইফতিয়ার দিকে। বাঁকা হেসে বলল,
“নোংরামির সাথে সাথে চুরির করার মতো এতো দারুণ একটা যোগ্যতা তোমার মধ্যে আছে, আগে জানতাম না তো। উফফ্! মায়ের ট্রেনিং প্রাপ্ত লক্ষি মেয়ে তুমি। খুশি আন্টি দারুণ ট্রেনিং দিয়েছে তোমাকে। বাই দ‍্য ওয়ে, তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে ইফতিয়া।”

“কোথায়?”
“আমার আর আমার বউয়ের রুমে।”
“কেনো?”
“কেনো? সেটা গেলেই দেখতে পাবে।”
“পাসপোর্ট তো দিয়ে দিলাম, তাহলে আমি কেনো যাব? আমি কোথাও যাব না।”
“তুমি কি নিজে থেকে যাবে, নাকি আমি আমার পদ্ধতি ট্রাই করব?”
ইফতিয়া বাধ‍্য হয়ে শেরাজদের সাথে সুমুর রুমে এলো। সুমু এখনো ওভাবেই বসে আছে। সামিয়া এসে পাসপোর্টটা সুমুর হাতে দিল। সুমু চোখের পানি মুছে পাসপোর্টটা নিয়ে বলল,
“কোথায় পেলি?”
শেরাজ এসে বসল সুমুর পাশে। সুমুকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,

“ছিল কোনো একটা নোংরা জীবাণু মার্কা চোরের কাছে। তুমি এখন চলো আমার সাথে।”
“কোথায়?”
“সন্ধ্যায় তো চলে যাচ্ছি। চলো দুজনে মিলে একটু বাহির থেকে হেঁটে আসি।”
“কিন্তু, রুমের এই অবস্থা…”
“তুমি কোনো চিন্তা কোরোনা। আমি ভালো মানের কাজের মহিলা নিয়ে এসেছি। সে রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখবে।”
ইফতিয়া তাকিয়ে আছে শেরাজের দিকে। শেরাজ তাকাল ইফতিয়ার দিকে।
“সিনেমা দেখছো? পপকর্ন এনে দেই?”
ভ্রু কুঁচকালো ইফতিয়া।
“মানে?”
“মানে এইটাই যে, তোমাকে এখানে ফ্রিতে আমার আর আমার বউয়ের প্রেমের সিনেমা দেখাতে আনিনি। রুমটা গুছিয়ে রাখো। আমরা বাহির থেকে ফিরে এসে যেন রুমটা গোছানো পাই।”
ইফতিয়া একটু উচ্চস্বরে বলল,

“আমি কেনো গোছা…”
উঠে দাঁড়াল শেরাজ। ইফতিয়া দাঁত কেলিয়ে বলল,
“না না! আমিই তো গোছাব। আপনার যান, ঘুরে আসুন। আমি রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখছি।”
শেরাজ বাহবা দিয়ে বলল,
“এই তো দ‍্যাটস লাইক অ‍্যা ডার্টি গার্ল।”
শেরাজ সুমুর হাত ধরল। রুম থেকে বেরোনোর আগে সামিয়া আর নাজমিনের উদ্দেশ্যে বলল,
“একটা চোরের ওপর ঘর পরিষ্কার করার দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। তোমরা একটু খেয়াল রেখো, যাতে ঘরের আর কোনো জিনিস এদিক ওদিক না হয়।”

কথাগুলো বলে শেরাজ সুমুর থেকে দুটো পাসপোর্ট নিয়ে প‍্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
দুজনেই বেরোলো বাসার সামনে দিয়ে হাঁটতে। হাঁটতে হাঁটতে দুজনেই অনেকটা দূরে চলে এলো। হঠাৎ শেরাজদের সামনে একটি গাড়ি এসে থামল। শেরাজরা দাঁড়িয়ে পড়ল। গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো দু’টি চেনা পরিচিত মুখ। ছেলেটা এগিয়ে এসে হাসি মুখে শেরাজের সাথে হ‍্যান্ডশেক করে বলল,
“কেমন আছেন, ভাই? এইভাবে রাস্তার মধ্যেই দেখা হয়ে যাবে ভাবিনি।”
মেয়েটা এসে সুমুকে জড়িয়ে ধরল। সুমু কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল। তবুও ভদ্রতাসূচক হেসে জড়িয়ে ধরল মেয়েটাকে। মেয়েটা সুমুকে ছেড়ে দিয়ে বলল,
“মাশাআল্লাহ্ সুমু! তুমি সত্যি অসম্ভব সুন্দর দেখতে। একদম পুতুলের মতো। এমনই এমনই আমাদের এই হিরোর মতো দেখতে ভাইয়াটা তোমার প্রেমে পড়েনি। ভাইয়া চয়েজ আছে বলতে হবে। দারুণ মানিয়েছে তোমাদের দুজনকে।”
সুমু আলতো হেসে বলল,

“আপনিও দেখতে খুব সুন্দর আপু।”
রিফাত শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“শুনলাম আজ চলে যাচ্ছেন?”
“হ‍্যাঁ ফিরে যাচ্ছি। অনেকদিন তো হলো। এবার কী ফিরে যাওয়া উচিত নয়?”
“তা তো অব‍শ‍্যই উচিত। কিন্তু আপনি আমাদের জন‍্য এতো করলেন, একদিন আপনার সাথে ঠিকমতো কথা বলা হল না। জমিয়ে আড্ডা দেওয়া হল না।”
“পৃথিবীটা গোল, ব্রো। বেঁচে থাকলে আর সৃষ্টিকর্তা চাইলে, ইনশাআল্লাহ! আমাদের আবারও দেখা হবে। তা প‍্যারিস থেকে ফিরলেন কবে? হানিমুন এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল? লাস্ট কয়েকটা দিন এতো বিজি হয়ে গিয়েছিলাম যে, আপনাদের আর খোঁজ নেওয়ার সময় পায়নি।”

“পাঁচ দিন আগে ফিরেছি। আমার মায়ের কথা তো জানেন। তার ইচ্ছা ছিল সুমুকে তার ছেলের বউ করা। এদিকে আমি ভালোবাসি অজান্তাকে। সেদিন রাস্তা থেকে মিথ্যা কথা বলে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়েছিলাম, এতে মা ভিষণ রেগে আছেন। অজান্তাকে এখন পযর্ন্ত মেনে নিতে পারেননি তিনি। বাসায় ফিরে আসার পর আমার সাথে কথা পযর্ন্ত বলেনি এখনো। তবে বাবা আমাদের মেনে নিয়েছে। বাবা মাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। ইনশাআল্লাহ! আশা করা যায় মা ও খুব তাড়াতাড়ি মেনে নিবেন সবকিছু।”
কথাগুলো বলে রিফাত শেরাজের হাত ধরল। কৃতজ্ঞতাসূচক বলল,

“আপনার মতো মানুষের সাথে পরিচয় হওয়াটাও ভাগ‍্যের ব‍্যাপার। সুমু খুব ভাগ‍্যবতী, যে এমন একটা মানুষকে তার লাইফে পেয়েছে। আমার সাথে বিয়ে হলে আমি হয়তো কোনোদিনও সুমুকে মেনে নিতে পারতাম না। সত্যি আল্লাহ যা করেন ভালোর জন‍্যই করেন। সেদিন আপনি না থাকলে হয়তো আমি অজান্তাকে কোনদিনও পেতাম না। সেদিন বিয়ের রাতে আমাকে পালাতে সাহায্য করা, কাজি অফিসে নিয়ে গিয়ে আমাদের বিয়ের ব‍্যবস্থা করা, তারপর সেই রাতেই আমাদের কক্সবাজারে পাঠানো, তার কিছুদিনের মধ্যে ইমার্জেন্সি ফ্লাইটের টিকিট বুক করে আমাদেরকে হানিমুনের জন‍্য প‍্যারিস পাঠানো, এইসব কিছু করেছেন আপনি আমাদের জন‍্য। আপনার পি,এ আপনার দেওয়া প্রতিটা দায়িত্ব খুব নিখুঁতভাবে পালন করেছে। আপনি আমাদের জন‍্য যা করেছেন, এতোটা নিজের আপন ভাই ও করত না। আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ রয়ে গেলাম।”

শেরাজ বাঁকা হাসল। রিফাতের কাঁধে হাত রেখে রিফাতকে সুমুদের থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে বলল,
“আমি আমার স্বার্থের বাহিরে কিছু করিনা, ব্রো। সেদিন আপনাকে সাহায্য করার পেছনে আমার লাইফের সবথেকে বড় স্বার্থটি জড়িয়ে ছিল। আর সেই স্বার্থটা হলো “সুমু”। আপনার ভাগ‍্য ভালো যে, আপনি অন‍্য একটা মেয়েকে আগে থেকে ভালোবাসতেন, আর তাই সুমুকে বিয়ে করতে মন থেকে রাজি হননি। যদি সেদিন আপনি সত্যি সুমুকে বিয়ে করার জন‍্য মন থেকে রাজি হয়ে যেতেন, তাহলে আজকের এই দিনটা দেখার সৌভাগ্য আপনার হতো না।”
রিফাত আলতো হেসে বলল,

“আর যদি সুমু আপনাকে ভালো না বাসতো? ও যদি আপনাকে না চাইতো? তাহলে আপনি কি করতেন?”
শেরাজ একটু উচ্চস্বরে হেসে বলল,
“ও চেয়েছে বলেই, আমার মনে ওর জায়গা হয়েছে। আর যেহেতু একবার ও আমার মনে জায়গা করে নিতে পেরেছে, সেহেতু ওকে তো যেকোনো কিছুর বিনিময়ে আমার লাগতোই। আর তাছাড়া আমার ডিকশনারীতে না, পাব না, ইম্পসিবল, রিজেক্ট– এই ওয়ার্ডগুলোর জন্মই হয়নি কোনোদিন। আমার পার্সোলান গ্রামারে অনলি দুইটা সেন্টেন্সের জন্ম হয়েছে। আর সেই দুইটা সেন্টেন্স হলো– যেটা আমার চাই, সেটা যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও আমার চাই। আর যেটা আমি চাওয়ার পরেও আমাকে চায়না, সেটা নিজে হাতে পুড়িয়ে করি ছাই।”
শেরাজ একটু থেমে আবারও বলল,

“সুমু আমাকে না চাইলে, ওর অস্তিত্ব দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতাম আমি, তবুও অন‍্যকারো হতে ওকে দিতাম না। কখনোই না।”
রিফাত ঘাবড়ে গেল। শেরাজ বিষয়টা নরমাল করার জন‍্য প্রসঙ্গে পাল্টে বলল,
“আরে প‍্যারা নাই চিল, ব্রো। তা এতোদিন পরে দেখা করতে এলেন?”
“আসলে ভাইয়া, অনেক আগেই আসতে চেয়েছিলাম। বাসায় ফিরে এতো ঝামেলা। তার ওপর কাল আপনার পি.একে কল করে জানলাম আপনারা এখানে চলে এসেছেন। আর আজ চলে যাচ্ছেন। তাই সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম আপনাদের সাথে দেখা করার জন‍্য।”

“তাহলে চলেন আমার শশুর বাড়ি।”
“না ভাই। সুমুর মা আমাকে ঝাড়ু নিয়ে তাড়া করবে। আর সুমুর বাবা আমাকে গুলি করে মারবে।”
“আরে ভয় পাবেন না। চলুন, আমার শশুর- শাশুড়ি খুব ভালো মানুষ। কিছু বলবে না। চলুন।”
রিফাত আলতো হেসে শেরাজের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“আপনি কাউকে ভয় পাননা, তাইনা ভাই?”
দাঁড়িয়ে পড়ল শেরাজ। রিফাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
“পাই। আমি একজনকে সাংঘাতিক ভয় পাই।”
“কে সে? যাকে আপনি এতো ভয় পান?”
“আমার বউ!”
রিফাত উচ্চস্বরে হেসে বলল,

“সুমু তো খুব মিষ্টি আর সহজ সরল একটা মেয়ে। ওকে ভয় পাবার কি আছে? আপনি একটা সিংহ হয়ে সুমুর মতো সামান্য একটা ইনোসেন্ট মেয়েকে ভয় পান?”
শেরাজ বাঁকা হেসে বলল,
“আপনি আমার বউকে চিনেন না। আর চেনার চেষ্টা ও করবেন না। আপনি বুঝি আপনার বউকে ভয়কে পান না?”
“সেটা আর বলতে। বউ তো নয় যেন বাঘিনী।”
শেরাজ বাঁকা হেসে বলল,
“পুরুষ মানুষ সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে যতো বড়ই বাঘ বা সিংহের বাচ্চা হোক না কেনো। বউয়ের কাছে দুনিয়ার প্রতিটা পুরুষই ভেজা বিড়াল।”
শেরাজের কথাশুনে রিফাত হেসে ফেলল। দুজনে একসাথে গাড়ির কাছে এলো। ওদের দুজনকে দেখে সুমু আর অজান্তা এগিয়ে এলো। সকলে গাড়িতে উঠে বসল। রিফাত গাড়ি স্টার্ট দিল। শেরাজ সুমুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

“এরা এতো তাড়াতাড়ি কি হানিমুন করে এলো বলো তো? সুইটহার্ট, আমরা যেদিন হানিমুনে যাব, চারটা চ‍্যাম্প নিয়ে তারপর ফিরব।”
সুমু রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে বলল,
“আপনার মুখে কি কখনো রোমান্টিক কথা ছাড়া নরমাল কথা আসেনা?”
“আসে তো। তবে সেইটা বাকি সকলের জন‍্য। তোমার জন‍্য শুধু রোমান্টিক কথা আর রোমান্স আসে।”
সুমু হাত দিয়ে শেরাজের কোমরে একটা চিমটি কেটে বলল,
“আপাতত চুপ থাকুন। পরে শুনব আপনার সব রোমান্টিক কথা।”
রিফাতদের গাড়ি এসে থামল সুমুদের বাড়ির সামনে। চারজন একসাথে গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতরে ঢুকল। সুমু রিফাতদের বসতে বলে বাড়ির সবাইকে ডেকে আনলো। হাসি বেগম ফল, মিষ্টি এনে দিল। হালকা নাস্তার সাথে সকলে আড্ডায় মেতে উঠল।

ওমান, বুরাইমি শহর
সাহাবাজ সাহেব আজ খুশিতে আত্মহারা। তার বড় ছেলে বিয়ে করেছেন। খবরটা শোনার পর থেকেই তিনি মনে মনে বড্ড খুশি হয়েছেন। শুধু পারছেনা মন খুলে প্রকাশ করতে। তার ছেলের কড়া নিষেধাজ্ঞা, আগে থেকে বাসায় কিছু না জানানো যাবেনা। সাহাবাজ সাহেব আজ নিজ হাতে বাজার করে এনেছেন। অনন‍্যা খাতুন স্বামীর আচরণে বেশ আবাক হয়েছেন। জিঙ্গাসা করলে সাহাবাজ সাহেব বলেছেন, “বাড়ির ছেলেরা বাসায় ফিরছে এতোদিন পর, তাই তাদের জন‍্য এই ব‍্যবস্থা।” অনন‍্যা খাতুন স্বামীর উত্তরেও অবাক হয়েছেন। কারণ এই বাড়ির ছেলেরা এই প্রথম কোথায় গিয়ে এতোদিন থাকল না যে, এতো আয়োজন করতে হবে। তার ওপর সাহাবাজ সাহেব অনেক ফুলের বুকে আনিয়েছেন, “কারণ ছেলে এতোদিন পর বাসায় ফিরবে। তার জন‍্য নাকি ছেলেকে ফুলের বুকে দিয়ে ওয়েলকাম জানাবেন তিনি।”

অনন‍্যা খাতুন, আফিয়া বেগম আর ইশিতা মিলে রান্না করছে। সাহাবাজ সাহেব ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছে। এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে উঠল। একজন সার্ভেন্ট এসে দরজা খুলে দিল। রোজা ফুফুমণি বলে চেঁচাতে চেঁচাতে বাসার বাসার ভেতর ঢুকে এলো। তার পেছন পেছন এলো ড্রাইভার। তার মাথায় আর হাতে দুটো লাগেজ। অনন‍্যা খাতুন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। রোজা অনন‍্যা বেগমকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“ওহ, মাই সুইট ফুফুমনি! আমি আর বিগ ব্রো পার্মানেন্টলি এখানে চলে এসেছি। আজ থেকে আমি আর বিগ ব্রো এখানে থাকব।”
অনন‍্য‍া খাতুন খুশি হয়ে বললেন,
“সত্যি, এখানেই থাকবি? যাক ভালোই করেছিস। এখানে থাকলে আমার ছেলেটার কাছাকাছি থাকতে পারবি। আমি অনেক খুশি হয়েছি। তা আমার আরিয়ান কই?”
“বিগ ব্রো আজ সকালে সালালাহতে গেছে। ড‍্যাড পাঠিয়েছে। ওখানে আমাদের বিজনেসের কি একটা প্রবলেম হয়েছে। সেটাই সলভ করতে বিগ ব্রোকে পাঠিয়েছে। বিগ ব্রো কাল চলে আসবে।”
সাহাবাজ সাহেব টিভি দেখতে দেখতে বললেন,

“নিজেদের বাড়ি থাকতে এখানে থাকার কারন কি?”
রোজা কিছু বলার আগে অনন‍্যা খাতুন বললেন,
“কেনো? আমার ভাইয়ের ছেলেমেয়ে তার ফুফুমনির বাড়িতে এসে থাকতে পারবেনা নাকি? আর তাছাড়া আরিয়ান তো ওমানে আসলে সবসময় আমাদের বাড়িতেই থেকেছে।”
“সে থেকেছে, থেকেছে। কিন্তু…”
“কোনো কিন্তু নয়। রোজা আর আরিয়ান আমার কাছে শেরাজ, সারবাজদের মতোই। ওরা এখানেই থাকবে। তুমি এই ব‍্যাপারে আর কোনো আপত্তি কোরোনা। যদি তুমি আপত্তি করো, তাহলে আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। কারণ যে বাড়িতে আমার ভাইয়ের ছেলেমেয়েরা থাকতে পারবেনা, সেই বাড়িতে আমিও থাকব না।”
সাহাবাজ সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। হালকা কড়া গলায় বললেন,
“তুমি একটু বেশি বলছ না বেগম?”
রোজা আল্লাদীগলায় বলল,

“থাকনা ফুফুমনি। আঙ্কেল যখন চাইছেন না, তখন আমরা থাকব না এই বাড়িতে। আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।”
“তুই কোথাও যাবিনা। আজ থেকে তোরা এখানেই থাকবি। আর যদি তুই চলে যাস, তাহলে আমিও চলে যাব।”
সাহাবাজ সাহেব রাগ দেখিয়ে ড্রয়িংরুম থেকে রুমে চলে এলেন। শেরাজ বারবার করে বলে দিয়েছে বউ নিয়ে বাড়িতে ঢোকার পর, সে কোনো ঝামেলাকে চোখের সামনে দেখতে চায়না। সাহাবাজ সাহেব পড়লেন বিপাকে। কারণ তিনি জানেন, শেরাজ বউ নিয়ে বাড়িতে ফিরলে আজ একটা ঝামেলা হবে এই খান ম‍্যানশনে। আর সেই ঝামেলাকে সব থেকে বড় আকারে ধারণ করাবে এই রোজা নামের মেয়েটা। তার ছেলে ফোনে ঝামেলা বলতে এই রোজাকেই বুঝিয়েছে। সাহাবাজ সাহেব বুঝতে পারছে না এখন তার কি করা উচিত। টেনশনে ঘরের মধ্যে পায়চারী করতে লাগলেন তিনি।

বিকালের দিকে রাহিন আর আইয়ুব এলো সামিয়া আর নাজমিনের রুমে। দুজনেই বসে পড়ছে। সামনের ইয়ার তাদের বোর্ড এক্সাম। রাহিনদের দেখে দুজনেই একটু নড়েচড়ে বসল। রাহিন সামিয়ার কাছে এসে বলল,
“পড়ার কি অনেক চাপ?”
সামিয়া আলতো হেসে বলল,
“সামনের ইয়ার এক্সাম তো, তাই এখন একটু চাপ আছে আর কি।”
“পড়াটা কী পরে করলে হবেনা? তাহলে আমরা চারজনের মিলে একটু সামনের বিল থেকে হেঁটে আসতাম।”
সামিয়া বই গুছিয়ে বলল,

“ঠিক আছে, চলো।”
চারজনে একসাথে বেরোলো বাড়ি থেকে। রাহিন সামিয়াকে চোখের ইশারা করে আলাদা সরে আসতে বলল। সামিয়া, নাজমিন আর আইয়ুবকে ছেড়ে রাহিনের সাথে সামনে এগিয়ে গেল।
আইয়ুব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আজ সন্ধ্যায় চলে যাচ্ছি।”
নাজমিন দাঁড়িয়ে পড়ল। মুখ ভেঙিয়ে বলল,
“ওমা, তাই নাকি? সত্যি আপনি না বললে তো আমি জানতেই পারতাম না।”
আইয়ুব হালকা হাসল। নাজমিন আবারও বলল,
“এসেছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে। একবারে থাকার জন‍্য তো আসেননি। চলে তো একদিন যেতেনই। সেটা আবার আলাদাভাবে বলার কি আছে?”

“তোমার কষ্ট হবেনা?”
চুপসে গেল নাজমিন। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“আমার কেনো কষ্ট হবে?”
“সত্যি হবেনা?”
“না হবেনা।”
“আমার দিকে তাকিয়ে বলো।”
“তাকিয়ে বলার কি আছে?”
“ঝগড়া করার সময় তো চোখে চোখ রেখে কথা বলো, তাহলে এখন এইটাও চোখে চোখ রেখে বলো।”
নাজমিন মাথা নিচু করে চুপ করে রইল। আইয়ুব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের কোনো বন্ধুই বেশি হেঁয়ালি করে কথা বলতে পারেনা। আমরা যা বলি ডিরেক্ট বলি। এতোদিন তোমার সাথে ঝগড়া করতে করতে, তোমাকে জ্বালাতে জ্বালাতে, তোমার পেছনে লাগতে লাগতে তুমি আমার ব‍্যাড হ‍েবিট হয়ে উঠেছ, ব্রাউন গার্ল। তোমার সাথে ঝগড়া না করে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না।”
নাজমিন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আইয়ুব বিলের মাঠে ফুটে থাকা একটা হলুদ রঙের ফুল ছিঁড়ে আংটির মতো করে বানিয়ে নাজমিনের সামনে হাঁটুমুড়ে বসে বলল,

“তোমার সাথে সারাজীবন এইভাবেই ঝগড়া করতে চাই আমি, নাজমিন। তুমি কি আমাদের এই ঝগড়াটাকে বৃদ্ধ বয়স পযর্ন্ত টেনে নেওয়ার জন‍্য হলেও একান্তই আমার হবে?”
নাজমিন কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল আইয়ুবের দিকে। কিছু না বলেই সে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল। আইয়ুব ওভাবেই বসে তাকিয়ে রইল নাজমিনের যাওয়ার পানে। মুখ ফুটে মৃদুস্বরে বলল,
“পালাট!”
নাজমিন হেঁটে চলে যাচ্ছে। আইয়ুব আবারও বলল,
“পালাট!”
আইয়ুব মাথা নিচু করে একবার সবুজ ঘাসের দিকে তাকাল। হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে আবারও তাকাল নাজমিনের দিকে। কিছুটা সময় নিয়ে আবারও বলল,

“পালাট!”
পেছন ফিরে তাকাল না নাজমিন। আইয়ুব দীর্ঘশ্বাস ফেলে সবুজ ঘাসের দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ চোখের সামনে কারো পা দেখতে পেয়ে মাথা তুলে তাকাল আইয়ুব। নাজমিন হাত বাড়িয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে লেগে আছে মুঁচকি হাসি। আইয়ুব তার বনোফুল দিয়ে বানানো আংটিটা নাজমিনের হাতে পরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। নাজমিন নিজের হাতের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“জীবনে যাই হয়ে যাক, আমাদের ঝগড়া কিন্তু বহাল থাকবেই।”
আইয়ুব হাসল নাজমিনের কথা শুনে। তারপর দুজনে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে গেল অনেকটা দূর।

সামিয়া আর রাহিন পাশাপাশি বসে আছে। করো মুখে কোনো কথা নেই। হঠাৎ রাহিন নিরবতা ভেঙে বলল,
“পড়াশোনা কেমন চলছে?”
“জি আলহামদুলিল্লাহ্, ভাইয়া!”
“ঠিকমতো পড়াশোনা করবি। আর নিজের খেয়াল রাখবি। রাস্তাঘাটে কোনো ছেলে ডিস্টার্ব করলে আমাকে জানাবি।”
সামিয়া হেসে বলল,
“তোমাকে বলে কি লাভ? তুমি তো আজ চলে যাচ্ছ। তোমাকে বললেও তো তুমি কিছুই করতে পারবে না।”
“সেটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবেনা। তোর দায়িত্ব শুধু আমাকে জানানো। আমি কিছু করতে পারব কি পারব না, সেটা আমি বুঝে নিব।”
“আচ্ছা জানাব।”
“হ‍্যাঁ! তুই হলি আমাদের আমানত। তোকে একজন রিকশাওয়ালার হাতে তুলে না দেওয়া পযর্ন্ত আমাদের তো তোকে দেখে শুনে রাখতে হবে তাই না?”
সামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল রাহিনের দিকে। অভিমানীসুরে বলল,
“ভাইয়া, তুমিও? যাও তোমার সাথে আর কোনো কথায় নাই। থাকো তুমি।”
উঠে হাঁটা ধরল সামিয়। রাহিন ছুঁটল তার প্রেয়সীর পিছু পিছু।

সন্ধ্যায় সুমুরা সকলে রেডি হয়ে ড্রয়িংরুমে এলো। হাসি বেগম কাঁদছেন। সুমু তার মাকে জড়িয়ে ধরে অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে। আইয়ুবরা একে একে সকলের থেকে বিদায় নিচ্ছে। রিফাত আর অজান্তা সকলের থেকে বিদায় নিয়ে আগেই বেরিয়ে পড়ল। রাইশা রাহিনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। শামীম সাহেব আর সাখাওয়াত সাহেব চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। শামীম সাহেবর চোখে পানি, তবুও তিনি নিজেকে শক্ত রেখেছেন। সুমু একে একে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে শামীম সাহেবের কাছে গেল। বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল। সামিয়া এসে জড়িয়ে ধরল বোনকে। এই বোনটার সাথে তার কতো খুনশুটি। আজ সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। সুমুর আজ প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। নিজের মা-বাবা, বোন, পুরো পরিবারকে ছেড়ে থাকার কথা ভাবলেই তার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী তাকে যেতেই হবে। প্রতিটা মেয়েকেই একদিন বাবার বাড়ি ছেড়ে শশুর বাড়ি যেতে হয়, এইটাই প্রকৃতির নিয়ম। এরপর থেকে সুমু তার বাপের ভিটায় শুধুমাত্র অতিথি হয়ে আসবে। এই কথাটায় হয়তো একটা মেয়ের জন‍্য মেনে নেওয়াটা কষ্টের। সুমু কাঁদছে। হাসি বেগম মেয়ের কান্না সহ‍্য করতে না পেরে নিজের রুমে চলে গেলেন। শেরাজ সুমুর কাছে এসে বলল,
“সময় হয়ে গেছে, সুমু। আমাদের এবার যেতে হবে।”

খান সাহেবের কথাগুলো আজ খুব নিষ্ঠুর শোনাল সুমুর কাছে। সে তার বাবা আর বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল। শামীম সাহেব মেয়েকে বুঝিয়ে বললেন। সময় হয়ে গেছে বলে তাড়া দিলেন। শেরাজ বারবার ঘড়িতে সময় চেক করছে। আইয়ুবরা সব লাগেজ গাড়িতে তুলছে। শামীম সাহেব মেয়েকে নিজের থেকে সরিয়ে শেরাজকে নিয়ে সাইডে গেলেন। সুমু একে একে সকলের থেকে বিদায় নিল। শামীম সাহেব শেরাজের সাথে কথা শেষ করে সুমুকে তাড়া দিল। সকলে মিলে বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে এলো। সুমু শাহরুখের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। কান্নাজড়িতে গলায় বলল,

“আমি চলে যাচ্ছি, ভাইয়া। তবে যাবার আগে তোমাকে কিছু কথা বলে যেতে চাই।”
শাহরুখ সুমুর কথা শোনার অপেক্ষায় রইল। সুমু একটু সময় নিয়ে বলল,
“দুনিয়াতে সত্যিকারের ভালোবাসার বড্ড অভাব, ভাইয়া। খুব বেশি ভাগ‍্যবান আর ভাগ‍্যবতীরা সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়ে থাকে। আজ তুমি বলতে পারবেনা আমাকে যে, ছোট ছোটোর মতো থাক। কারণ আজ আমি বড় হয়ে গেছি। আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তাই আজ আমি তোমাকে একটা কথায় বলব। ফারিয়া তোমাকে বড্ড ভালোবাসে ভাইয়া। যদি কখনও পারো ওর ভালোবাসাকে যত্ন করে বুকে তুলে নিও। তবুও পায়ের ফেলোনা ভাইয়া। মেয়েটা তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসে। ওকে হারিওনা ভাইয়া। রেখে দিও নিজের কাছে। আর সময় পেলে কখনও আমার কথাগুলো ভেবে দেখো।”
কথাগুলো বলে সুমু আবারও শামীম সাহেবের সামনে এসে বলল,

“আমি চলে যাচ্ছি, আব্বু। হাতে আর সময় নেই। আম্মু কি আর একটাবার আমার সাথে দেখা করতে আসবে না?”
শামীম সাহের মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন, তবে মুখে কিছুই বললেন না। সুমু আশা ছেড়ে দিল। সে জানে তার আম্মু এখন কাঁদছে। মেয়ের বিদায় মুহূর্ত দেখার মতো ক্ষমতা তার মধ্যে আর নেই। সুমু গিয়ে দাঁড়াল সামিয়া আর নাজমিনের সামনে। দুজনকে একসাথে জড়িয়ে ধরে বলল,
“বাড়ির সবার খেয়াল রাখিস। মন দিয়ে পড়াশোনা করিস। আমি আসছি।”
সুমু আর দাঁড়াল না। দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ল। শেরাজ সকলের থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠল। রাহিন গাড়ি স্টার্ট দিল। শেখ বাড়ির গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল দুটো গাড়ি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। সুমু আর পেছন ফিরে তাকাল না। একেরপর এক টিস্যু পেপার দিয়ে চোখের জল আর নাকের জল মুছতে লাগল সে। শেরাজ বসে বসে ফোনে স্ক্রল করছে। হঠাৎ ফোনের মধ্যে কিছু একটা দেখে সুমুর কান্না থামানোর জন‍্য শেরাজ বলল,

“সুইটহার্ট, তোমাকে একটা প্রশ্ন করি? আমি জানি তুমি উত্তর দিতে পারবেনা, তবুও করি।
সুমু কোনো কথা বলল না। সে নাকের পানি, চোখের পানি মুছতে ব‍্যস্ত। শেরাজ একবার সুমুর মুখটা ভালো পরখ করে বলল,
“সুইটহার্ট বলোতো, হোয়াই টমাটো ইজ টমাটার? বাট পটাটো ইজ নট পটাটার? অ্যান্ড পটাটো ইজ আলু, বাট টমাটো ইজ নট টালু,
হোয়াই সুইটহার্ট???”
সুমু চোখের জল মোছা বাদ দিয়ে শেরাজের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। সুমুকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শেরাজ ভ্রু নাচালো। সুমু কান্নাজড়ানো গলায় বলল,

“আমার কষ্ট হচ্ছে, আর আপনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন দেখে, সেগুলোর উত্তর আমার কাছে জানতে চাইছেন? বাহ! ভালোই।”
গাড়ির মধ্যে সকলে হেসে উঠল। রাহিন একটা মিউজিক ছেড়ে বলল,
“আর কোনো কান্নাকাটি চলবে না। জীবনের প্রথমবার শশুর বাড়ি যাচ্ছিস, ব‍্যাপারটা উপভোগ কর। কাঁদলে তোকে রেখেই চলে যাব।”
সুমু চুপচাপ বসে রইল। রাহিনরা মিউজিকের সাথে সাথে গলা মিলিয়ে গান ধরল।

পুরো পাঁচ ঘন্টা ফ্লাইট জার্নির পর সুমুরা এসে নামলো ওমান, মাস্কাট শহরের বিমানবন্দরে। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসতেই দৌড়ে এসে শেরাজকে জড়িয়ে ধরল রিয়াজ। শাহরুখ ও এগিয়ে এসে ভাইদের জড়িয়ে ধরল। সুমু চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে ভাইদের এই ভালোবাসার মুহুর্ত। রিয়াজকে পেয়ে আইয়ুবরা রিয়াজের সাথে দুষ্টুমি করতে লাগল। হঠাৎ রিয়াজের চোখ গেল সুমুর দিকে। রিয়াজ শেরাজের হাত ধরে টান মারল। শেরাজ একটু ঝুঁকতেই রিয়াজ গলারস্বর নিচু করে বলল,
“এই কিউট অ‍্যান্ড বিউটিফুল গার্লটা কে, ব্রো?”
শেরাজ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। রিয়াজের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,
“নাজার মাত লাগা। ভাবি হে তেরা।”
রিয়াজ চোখ বড় করে একবার তাকাল সুমুর দিকে তো একবার তাকাল শেরাজের দিকে। জোরে চেঁচিয়ে বলল,
“হোয়াট? মে ইয়েকিন নেহি কার সাকতি। কার বউ এই সুন্দর মেয়েটা? তোমরা তো বিডিতে রাহিন ভাইয়াদের বাসায় গিয়েছিলে বিয়ের অনুষ্ঠানে। তাহলে কে কার বউ নিয়ে পালিয়ে এলে?”
আইয়ুব ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কে কার বউ নিয়ে পালিয়ে এসেছি মানে? আমাদের ফ্রেন্ডস গ্রুপে সেকেন্ড হ‍্যান্ড জিনিস চলেনা, সেটা তুই জানিস না রিয়াজ?”
“জানি, জানি। তাহলে কে বিয়ে করল? বউটা কার?”
সারবাজ এসে রিয়াজকে কোলে তুলে বলল,
“বউটা এস.কের!”
রিয়াজ কোলের মধ্যে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার মতো এক্টিং করে বলল,
“ব্রো বিয়ে করেছে? সেটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে? ইম্পসিবল।”
শেরাজ এসে রিয়াজের কান মুচড়ে ধরে বলল,
“বেশি পেকেছিস তাইনা? বিশ্বাস কেনো হয়না তোর? ওইটা সত্যি তোর ভাবি।”
রিয়াজ চেঁচিয়ে বলল,

“কান ছাড়ো ব্রো, লাগছে।”
শেরাজ কান ছেড়ে দিয়ে সুমুর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। শাহরুখ এসে সুমুকে সালাম দিল। সুমু আলতো হেসে সালামের উত্তর দিল। শাহরুখ আলতো হেসে বলল,
“মাশাআল্লাহ! মেড ফর ইচ আদার, ভাবিজি।”
সে শেরাজকে একটু সাইডে নিয়ে গিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
“তা ব্রো, সকালে বড়বাবাকে কল করে কি এই সারপ্রাইজের জন‍্যই নিউ মেম্বার ওয়েলকাম ব‍্যবস্থা করে রাখতে বলেছিলে?”

“হ‍্যাঁ! করেছিস সবকিছু ঠিকঠাকভাবে? যদি আমার বউয়ের ওয়েলকাম ঠিকঠাকভাবে না হয়, তাহলে তোদের কপালে বিয়ে নেই। আর বিয়ে থাকলেও বিয়ের প্রথম একমাস তোদের বউ ছাড়া বাসার বাহিরে কাটাতে হবে।”
“আরে, তুমি কোনো চিন্তা করোনা। আমি, বড়বাবা আর রিয়াজ মিলে সব ব‍্যবস্থা করে রেখে এসেছি।”
রিয়াজ সারবাজের কোল থেকে নেমে সুমুর কাছে গেল। সুমুকে পা থেকে মাথা পযর্ন্ত পরখ করে বলল,
“ভাবিজি, আপনি দেখতে এতো সুন্দর। তাহলে আপনার চয়েজ এতো খারাপ কেনো? এই রাগি, গম্ভীর, বাজে দেখতে ছেলেটাকে তো কোনো মেয়ে পছন্দই করেনা, আর আপনি তো ডিরেক্ট বিয়ে করে ফেললেন। আমি বুঝতে পেরেছি ভাবিজি, এই আমার ব্রো আর আমার ব্রোর এই বদমাশ বন্ধুগুলো মিলে আপনাকে জোর করে আমার ব্রোর সাথে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে। এমনিতেই আমার ব্রোর কপালে মেয়ে জুটতো না, তাই ওরা আপনাকে জোর করে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে।”
শেরাজ রিয়াজের কথাগুলো শুনে শার্টের হাতে ফোল্ড করতে করতে বলল,

“তেরি তো…”
দৌড় মারল রিয়াজ। শেরাজও ছুটল রিয়াজের পিছু পিছু। সকলে হেসে উঠল ওদের কাণ্ড দেখে। রিয়াজ দৌড়ে এসে সুমুর পেছনে গিয়ে লুকাল।
শেরাজ ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আমার বউকে ছাড়, রিয়াজ। ওকে ধরেছিস কেনো?”
রিয়াজ ইচ্ছে করে সুমুকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শেরাজকে জিভ বের করে ভেঙাল। শেরাজ এগিয়ে আসতেই সুমু বলল,
“কি করছেন আপনি? রিয়াজের সাথে সাথে আপনিও কি বাচ্চা হয়ে গেলেন?”
শেরাজ রিয়াজকে টেনে সরিয়ে বলল,
“তুমি আমার বউ। দেবরের পক্ষ না নিয়ে আমার পক্ষে কথা বলো। আর রইল এই অ‍্যাটম বোমারটার কথা। এইটা বড্ড পাকা জিনিস। তুমি এইটার থেকে দূরে থাকবা, বউ।”
সুমু শেরাজের থেকে রিয়াজকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

“ওকে আমি আগে থেকেই চিনি, বুঝেছেন? আর এইটা আমার ছোট ভাই। আর দূরে ওর থেকে না, দূরে আপনার থেকে থাকা উচিত।”
রিয়াজ সুমুর কথা শুনে আলতো হেসে শেরাজের দিকে তাকিয়ে চোখ মারল। মাথাটা একটু ঝুঁকিয়ে দু’হাত দিয়ে চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে মাথা তুলে শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আগার কিছি লারকি কো পাটানা চাহাতা হো, তো মুজ ছে ছিখো।”
কথাগুলো বলে শার্টের ওপর ঝুলিয়ে রাখা সানগ্লাসটা চোখে পড়ে নিয়ে সুমুর দিকে তাকিয়ে আবারও বলল,
“ভাবিজি, লেটস গো!”

সুমুর হাত ধরে হাঁটা ধরল রিয়াজ। কিছুদূর যেতে শেরাজের ডাক শুনে দাঁড়িয়ে পড়ল। শেরাজ এসে বলল,
“অনেক দুষ্টুমি হয়েছে। চল একটা ভিডিও বানাব।”
রিয়াজ ভাব নিয়ে বলল,
“হ‍্যাঁ জানি! আমার মতো হ‍্যান্ডসাম ছেলের সাথে ভিডিও করা, সেলফি নেওয়ার জন‍্য শুধু মেয়েরাই না, ছেলেরাও পাগল।”
শেরাজ কপালের মাঝে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে বলল,
“তুই থামবি, রিয়াজ? নাকি আমি স্পেশাল ডোজ দিয়ে থামাব?”
রিয়াজ হেসে বলল,

“থাক, একটা ভিডিও বানানোর জন‍্য স্পেশাল কিছু দিতে হবেনা। এই রকম ফটোগ্রাফ, ভিডিওগ্রাফ আমি আমার ফ‍্যানদের এমনিতেই দিয়ে থাকি। আজও দিব। তবে ক‍্যামেরটা যদি আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিউটিফুল গার্লটি ধরে।”
শেরাজ আর কথা বাড়াল না তার এই বদমাশ ভাইয়ের সাথে। পকেট থেকে ফোন বের করে সুমুর হাতে দিল। সুমু চার ভাইয়ের একটা সুন্দর ভিডিও করে দিল। শেরাজ সারবাজকে দিয়ে নিজের আরও কিছু ভিডিও করে নিল। তারপর সকলে রওনা হলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।

ঘড়ির কাটায় সময় রাত দুটো। শেরাজদের গাড়ি এসে প‍ৌঁছাল খান ম‍্যানশনের গেটের সামনে। দারোয়ান গেট খুলে দিতেই শেরাজদের গাড়ি বাড়ির সামনে এসে থামল। আইয়ুবরা যার যার বাড়ি চলে গেছে। শেরাজ গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে সুমুর দিকে হাত বাড়াল। সুমু শেরাজের হাত ধরে নেমে দাঁড়াল গাড়ি থেকে।
শেরাজদের বিশাল বড় ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাড়ির ডান পাশে একটি সুইমিংপুল। সুইমিংপুলের পানির মধ্যে আন্ডারওয়াটার লাইটিং করা। যার ফলে সুইমিংপুলের পানি কখনো লাল, কখনো নীল, কখনো সবুজ বর্ণ ধারণ করছে। বাড়িটির বা’পাশে বিশাল বড় গার্ডেন। পুরো গার্ডেন কৃত্রিম আলোয় আলোকিত। বাড়িটির ফ্রন্ট ইয়ার্ড ল‍্যাডস্কিপ লাইটিং আর বিভিন্ন রকমের ফুলের গাছ দিয়ে ডিজাইন করা।

খান সাহেব পর্ব ৩৪

সুমু চোখ বুলিয়ে সবটা পরখ করল। শেরাজ সুমুর হাত ধরে সামনে এগিয়ে গেল। রিয়াজ, আরবাজ আর শাহরুখ শেরাজদের আগে বাড়ির ভেতরে ঢুকল। সারবাজ গেল গাড়ি গ‍্যারেজে রেখে আসতে। শেরাজ সুমুর হাত ধরে বাড়ির ভেতরে পা রাখতেই রিয়াজ আর শাহরুখ তাজা লাল গোলাপ দিয়ে তাদের নতুন ভাবিকে স্বাগতম জানালো। ওদের দুজনের চেঁচামেচিতে খান বাড়ির প্রতিটি কোণায় কোণায় আলো জ্বলে উঠল। বাড়ির সকলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল ড্রয়িংরুমে।

খান সাহেব পর্ব ৩৬