Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ৩৫

চেকমেট ২ পর্ব ৩৫

চেকমেট ২ পর্ব ৩৫
সারিকা হোসাইন

ভার্সিটি ছুটির পর অফিসিয়াল কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করতে করতে দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামলো শাহরানের। শাহরান ক্লান্ত ভঙ্গিতে হেঁটে এসে নিজের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসলো।ইঞ্জিন স্টার্ট করতে করতে আকস্মিক মনে পড়লো নিনাদের সাথে আজ টুকটাক বিয়ের শপিং করতে যাবার কথা।যদিও গত সপ্তাহেই যাবার কথা ছিল কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততায় যাওয়া হয়নি।আজও শরীরটা বড্ড ক্লান্ত লাগছে।বাসায় গিয়ে লম্বা শাওয়ার নিয়ে ঘুমুতে পারলে মাথার টনটনে ব্যথাটা কমতো।কিন্তু নিনাদ কে আজও মানা করে দিলে ছেলেটা মনে আঘাত পাবে।বিয়ে নিয়ে অনেক এক্সাইটেড সে।তাই নিজের খারাপ লাগাকে বিশেষ পাত্তা দিতে চাইলো না শাহরান।সে তপ্ত লম্বা শ্বাস ফেলে ফোন হোল্ডার থেকে ফোন নিয়ে খটখট করে একটা টেক্সট লিখলো —

“আইএম অন দ্যা ওয়ে”
ছোট বার্তাখানা নিনাদ কে পাঠিয়ে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে ছুটলো শপিং মলের দিকে।
চলতে চলতে হঠাৎ লুকিং গ্লাসে নজর আটকালো শাহরানের।কালো রঙের একটা আধ ভাঙ্গা রং উঠা মরিচা ধরা গাড়ি শাহরানের পিছু পিছু গতি বাড়িয়ে ছুটছে । শাহরান ধারণা করলো হয়তো পিছনের ড্রাইভার খুব তাড়ায় রয়েছে।তাই নিজে সাইড হয়ে পিছনের গাড়িকে রাস্তা ছেড়ে জানালা দিয়ে হাত বের করে ইশারা করলো এগিয়ে যেতে।কিন্তু পেছনের ড্রাইভার শাহরানের পিছনেই পরে রইলো।মুহূর্তেই চতুর শাহরানের এক ভ্রু উঁচু হলো।
সে স্পিড বাড়িয়ে চওড়া হাই ওয়ে ধরে ছুটতে লাগলো।শাহরানের রোলস রয়েস এর সাথে পাল্লা দিয়ে গতি বাড়িয়ে ছুটছে নিসান স্কাইলাইন ।শাহরান ঠোঁট কামড়ে গাড়ির স্পিড তুললো আশি।সামনের রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি।এভাবে ছুটলে যেকোনো মুহূর্তে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।সন্ধ্যা লগ্নে সকলের বাড়ি যাবার তাড়া বেশি।শাহরানের মস্তিষ্ক ক্ষন কালের জন্য ভুলে গেলো তার কি করা উচিত।

নিজেকে যথেষ্ট ঠান্ডা রেখে শাহরান গাড়ির স্পিড কমিয়ে সত্তরে আনলো ।অধিক স্পিডে শহর ছাড়িয়ে কখন শহরের বাইরে চলে এসেছে খেয়ালই করেনি।যখন খেয়াল আসলো তখন সামনে দুটো মাইলস্টোন।শাহরানের চঞ্চল চোখের সামনে দুটো রাস্তা খোলা।একটা প্যান প্যাসিফিক সমুদ্রের দিকে অন্যটা পেইজ মিল রোড।দুটো রাস্তাই ভয়ানক।এক পাশে সমুদ্র অন্য পাশে পাহাড়।শাহরান গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষণকালের জন্য বন্ধ করে চোখ বুজে সিটে মাথা রাখলো। সারফরাজ কে বিষয়টা জানাবে কি জানাবে না ভাবলো কয়েক মুহূর্ত।লুকিং গ্লাসে সতর্ক নজর বুলালো শাহ।নীরব এই দুমুখো পথের বাক গলিয়ে তীক্ষ্ণ গর্জন ভেসে আসছে পেছনের গাড়িটির।
সময় অপচয় করলো না শাহরান।সে তার বাবাকে এই সামান্য বিষয়ে ডাকবে না।যথেষ্ট বড় হয়েছে সে।এসব মামুলি বিষয় নিজ হাতে হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রাখে সে।

বাকা হাসলো শাহরান।কে তাকে অনুসরণ করে এভাবে দৌড় করাচ্ছে তার চেহারা দেখার বড্ড খায়েশ জন্মালো।সে সমুদ্র ফেলে পাহাড়ি পথ বেছে নিলো।পাহাড় বড়ই নির্জন আর অন্ধকারে ঘেরা।এখানে লুকোচুরি খেলতে বড় আনন্দ পাওয়া যাবে।জানা যাবে আকস্মিক শাহরান শাহজাইনের শত্রু জন্মালো কোথা থেকে এবং কবে থেকে?যে তাকে ধরার জন্য এহেন মরিয়া হয়ে ছুটছে?
পিছনের গাড়ি যখন শাহরানের থেকে কয়েক হাত দূরে তখন শাহরান পাহাড়ের পথ ধরলো।এই পথের সমস্ত বাক তার নখদর্পনে।প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উপযুক্ত মাধ্যম এটা।
শাহরান যখন স্পিড বাড়িয়ে পাহাড়ের পথ ধরলো পেছনের ড্রাইভার তখন সামান্য ভড়কে গেলো।আর দশ কিলোমিটার এগুলোই রাস্তার উচ্চতা বাড়বে শত মিটার।নিচে ভয়ানক খাদ।একটু এদিক সেদিক ভুল হলেই নিশ্চিত মৃত্যু।
পরক্ষণেই ড্রাইভারের চোখে পঞ্চাশ হাজার ডলারের চকচকে বাদামী চেক খানা ভেসে উঠলো।মৃত্যুর চাইতে টাকার লাভ টা তাকে কব্জা করলো ভীষণভাবে।

সামান্য একটা ছেলের মাথার দাম ফিফটি থাউজ্যান্ড ডলার!বাকা ক্রুর হাসলো ড্রাইভার মার্কাস।
“এই সুযোগ আমি কিছুতেই হাতছাড়া করতে পারব না ডিয়ার প্রফেসর।ইউ হ্যাভ টু ডাই।তোমার সামান্য ওই মাথার বিনিময়ে ক্যালিফোর্নিয়া আজীবন বসে বসে খেতে পারবো আমি।জীবনে আর কি চাই?
কথা গুলো মনে মনে ভেবেই মার্কাসের চোখ মুখ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠলো মস্তিষ্কে আরও তীব্র ভাবে রক্তের নেশা চাপলো।
গাড়ির স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরলো মার্কাস।হাতের শক্ত চাপের তোপে এই বুঝি স্টিয়ারিং হুইল খানা ভেঙে গুড়িয়ে যায়।টাকার মোহে অন্ধ মার্কাস স্কেলটারে পা চেপে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছুটতে লাগলো ।যে করেই হোক আজ এই নির্জন পাহাড়ে শাহরান শাহজাইনের সমাধি গেড়ে তবেই বাড়ি ফিরবে সে।

নির্জন পাহাড়ের একদম শেষ মাথায় শাহরান গাড়ি থামালো।মূল শহর থেকে প্রায় নব্বই কিলোমিটার দূরে চলে এসেছে সে।এখানে মানুষের চলাচল সন্ধ্যার পর থাকেনা বললেই চলে।দিনের আলো ফুরাবার সাথে সাথে কুৎসিত তমিস্রা গ্রাস করে ফেলে চারিধার। কোস্ট লিভ ওক আর রেড উডের বিশাল ডাল পাতা ভেদ করে চাঁদের ক্ষীণ আলো ও এখানে পৌঁছায় না।দিনের বেলাতেও খাড়া ক্লিফের এই ধার ঝাপসা আধারে নিমজ্জিত থাকে।পথ টির চারপাশে না কোনো ব্যারিকেড না পাহাড়।দুই পাশেই গভীর খাদ।পা পিছলে একবার পড়লেই অস্তিত্ব নসাৎ হবে চিরতরে।বিশাল মিলিটারি বহর আর হেলিকপ্টার পর্যন্ত খুঁজে পাবে না গহীন অরন্যের গভীরে হারিয়ে যাওয়া ছোট মনুষ্য শরীরের।
শাহরান গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো তার পিছু নেয়া গাড়িটির। সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে ফাঁকা ঢোক গিললো।গলাটা শুকিয়ে আসছে।হাতে থাকা ঘড়িতে সময় বুলালো শাহ। সময় প্রায় ন’টার কাছাকাছি।
ফোনের স্ক্রিনে নিনাদের নম্বর ভেসে উঠলো।রিং বেজে ফোন কেটে গেলো।স্ক্রিনে এগারোটা মিসডকল।শাহরান নিনাদের নম্বর ডায়াল করতে করতে একটা সিগারেট ধরালো।রিং হওয়া মাত্র নিনাদ ফোন ধরে ধমকে উঠলো —

“ভাই দুই ঘন্টা ধরে মলে দাঁড়িয়ে আছি।কোথায় তুই?
শাহরান সিগারেটের ফিল্টারে ছোট টান দিয়ে খসখসে গলায় বলে উঠলো —
“প্যান্টটা ক্রুজ মাউন্টেইন এর একদম উঁচু চূড়ায়।
নিনাদ চাপা গলায় চিৎকার করে উঠলো —
“হোয়াট?
শাহরান ভাবলেশ জবাব দিলো —
“কেউ আমার সাথে লেনাদেনা চুকাতে চাইছে।সেই দৌড় করিয়ে এখানে এনেছে আমায়।
“আমি আসছি।
বলেই কল কেটে দিলো নিনাদ।মিনিট দুই গড়াতেই ধেয়ে আসা গাড়ির জং ধরা ইঞ্জিনের শব্দ পাহাড়ের ঢালে ঢালে প্রতিধ্বনি তুললো।অদ্ভুত হিংস্র হাসলো শাহরান।ঠোঁটে সিগারেট চেপে রেখে শার্টের হাত গুটিয়ে টাইয়ের নট খুলে শার্টের দুটো বাটন খুললো শাহরান।এরপর গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গাড়ির ডিকি খুলে বের করে আনলো HK 416 বন্দুক।এরপর পুনরায় গাড়িতে বসে চোখ বুজে পরে রইলো।
অপেক্ষা করতে লাগলো আগত শিকারের।
শাহরানের অপেক্ষার অবসান খুব দ্রুত হলো।নিসান স্কাইলাইনের হলদে আলোয় চারপাশ একটু পরিষ্কার হলো।এখানে অন্ধকারের মাত্রা এতটাই বেশি যে গাড়ির কড়া আলো পর্যন্ত সেই অন্ধকার দূরীভূত করতে ব্যর্থ।

গাড়ি থেকে ব্যস্ত ভঙ্গিতে নামলো মার্কাস।সামনে পুরো রাস্তা অবরোধ করে আড়াআড়ি ভাবে শাহরানের গাড়ি রাখা।এগোনোর পথ বন্ধ।মার্কসের ক্রোধ চরমে।ছেলেটা অনেকটা পথ তাকে বেহুদা দৌড় করিয়েছে।এটার জন্য এক্সট্রা পানিশমেন্ট ভেবে রেখেছে সে।প্রতিটা মিনিটের জন্য ছেলেটির চামড়ায় একটা একটা করে ছুরির পোচ দেবে সে।এরপর বুকে গেঁথে দেবে হাজারটা বুলেট।ছেলেটার প্রতিটা হিংস্র আঘাতের আর্তনাদে উন্মাদ উল্লাস করবে মার্কাস। কে বাঁচাবে এই নিষ্ঠুর পাহাড়ে আজ তাকে?
মনের ভাবনা ফেলে মার্কাস ব্যাঘ্র গতিতে হেঁটে শাহরানের গাড়ির নিকট ধেয়ে এলো।এসেই গাড়ির দরজায় হাত দিলো।দরজা টান দেবার সাথে সাথেই শক্ত এক লাথি পড়লো মার্কাস এর সিক্স প্যাক ওয়ালা পেটে। লাথির দাপটে একদম রাস্তার শেষ কিনারায় ছিটকে পড়লো মার্কাস।অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেলো বোধ হয়।রাস্তার ধারের ছোট গুল্মের গোড়া খামচে ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে কেশে উঠলো মার্কাস। ধারালো পাথরের ঘষা লেগে ইতোমধ্যে তার বুক,হাঁটু ছিলে গেছে।নাভির কাছটায় অসহনীয় ব্যাথা।

দাঁত কামড়ে উপড়ে উঠে দাঁড়ালো মার্কাস।
মার্কাস দাঁড়াতেই নিজের সিগনেচার স্টাইলে কাঁধে বন্দুক ঠেকিয়ে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বেরিয়ে এলো শাহরান ।বাছবিচার ছাড়াই মার্কসের লক্কর ঝক্কর গাড়িতে অনবরত গুলির বর্ষণ ছুটলো।
নিমিষের ব্যবধানেই বোম ব্লাস্টের মতো ব্লাস্ট করলো মার্কাস এর গাড়ি।
নিজের প্রিয় গাড়িটির এহেন দশা সইতে না পেরে নিজের কোমরে গুঁজে রাখা পিস্তল বের করলো মার্কাস।সেটা শাহরানের দিকে তাক করতেই ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো শাহরান।এরপর একটা বুলেট ছুড়লো একদম মার্কাস এর কব্জি বরাবর।
গুলি খেয়ে মার্কাস এর হাত থেকে পিস্তল খসে পড়লো সেই সাথে মার্কাস এর গগন বিদারী চিৎকারে কেঁপে উঠলো স্যান্টা ক্রুজ মাউন্টেইন।
মার্কাস এর চিৎকারে হো হো করে হাসতে আরম্ভ করলো শাহরণ।এরপর নাটকীয় ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলো মার্কাস এর সামনে।গিয়ে শীতল গলায় শুধালো —

“Do I know you?
মার্কাস জবাব দিলো না।ব্যাথায় দাঁত মুখ কুচকে চোখ বুজে কাতরাতে লাগলো শুধু।কিন্তু মার্কাস এর এই মুখ বন্ধ সহ্য হলো না শাহরানের।সে তার প্রশ্নের উত্তরের জন্য উদগ্রীব হয়ে পুনরায় শুধালো —
“Who sent you?
মার্কাস এবার বিদঘুটে হাসলো।বললো —
“তোর যম!
মুহূর্তেই ক্রোধ কিলবিলিয়ে উঠলো শাহরানের মস্তিষ্ক জুড়ে।বন্দুক ফেলে এলোপাতাড়ি মার্কাস এর চোখে মুখে শক্ত ঘুষি বসালো সে।মার্কাস তবুও তার হাসি থামালো না উল্টো রক্তাক্ত ঠোঁট দাঁত নাড়িয়ে বলে উঠলো —

“ইউ উইল ডাই।
শাহরান এর ফর্সা কপালে মসৃণ ভাঁজ পড়লো এই কথায়।সে হাঁটু ভেঙে বসে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো —
“What do we have against each other?”
মার্কাস ঠোঁটের রক্ত মুছে বলে উঠলো —
“তোর বাপের মূল্য তোকে চুকাতে হবে। সারফরাজ তোর বাবা।এটাই তোর সবচাইতে বড় অপরাধ।
এবার শাহরানের ভেতরের পুরো হিংস্র পশুটা লাগাম ছাড়া হলো।মনে হলো এই জানোয়ারটার সামনে ভদ্রতার বেশ ধরা পুরোটাই লস প্রজেক্ট। শাহরান কিটকিটিয়ে হেসে উঠল খুব বিশ্রী ভাবে।বড্ড ভয়ানক সেই হাসি।এই হাসির প্রতিটা শব্দ পাহাড়ের দেয়ালে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ভয়ানক এক প্রতিধ্বনি তুললো।মার্কাস এবার ঘাবড়ে গেলো।মার্কাস নিজেকে বাঁচাতে হাতের কাছে থাকা শক্ত ধারালো পাথর ছুঁড়ে মারলো শাহরানের চোখ বরাবর।
শাহরান তাৎক্ষনিক মুখ সরিয়ে নিলেও ধারালো পাথর নিষ্ঠুরের মতো কেটে দিলো শাহরানের মসৃণ কপালের কোণ।
ক্ষুধার্ত ভয়ানক জন্তুর ন্যায় গড়গড় করে উঠলো শাহরান।উঠে দাঁড়িয়ে হিসহিস করে বলে উঠলো

“I want you to disappear from my sight.”
বলেই নিষ্ঠুরের মতো মার্কাস এর শার্টের কলার ধরে মার্কাস কে দাড় করালো।দ্বিতীয় কোনো কথা বলার সুযোগ দিলো না মার্কাস কে।শুধু বলে উঠলো —
“যে তোকে পাঠিয়েছে তাকে দুদিন আগে আর পরে ঠিক খুঁজে বের করব আমি।তোর থেকে তার নাম জানার ইন্টারেস্ট বহু আগেই ফুরিয়েছে আমার।বাট মরার আগে তোর একটা কথা জেনে মরা উচিত। সারফরাজ শাহজাইন এর রক্ত বইছে আমার শরীরে।আমাকে এই পৃথিবী থেকে ভ্যানিশ করা অতোটাও সহজ না। নাও ইউ ডাই বাস্টার্ড।
বলেই ধাক্কা দিয়ে মার্কাস কে শত মিটার গহীন খাদে ফেলে দিলো শাহরান।
বাঁচার আশায় মার্কাস শাহরানের হাত খামচে ধরতে চাইলো।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।মার্কাস চিৎকার করল প্রাণ পণে —

“হি ইজ অ্যা মনস্টার!
নিমিষের ব্যবধানেই মার্কাস এর চিৎকার ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেলো নিকষ কালো আধারের বুকে।
মার্কাস নীরব হতেই পকেট থেকে রুমাল বের করে নিজের হাত মুছে নিলো শাহরান।মুখের অভিব্যক্তি বুঝালো খুব নিকৃষ্ট দুর্গন্ধ যুক্ত কিছু ছুঁয়েছে কেবলই।
রুমাল দিয়ে হাত মুছে মার্কাস এর জ্বলন্ত গাড়িতে ছুঁড়ে মারলো সেই রুমাল।অতপরঃ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ছুটলো নিজের বাড়ি অভিমুখে।

চেকমেট ২ পর্ব ৩৪

Santa Cruz mountain এ শাহরান নিজের কোনো চিহ্ন ফেলে গেলো না।কাল অবধি কেউ জানতেও পারবে না এখানে কি হয়েছিলো।শুধু ধারণা করবে কার ক্র্যা’শ করে নাম না জানা কেউ পাহাড়ের বুকে প্রাণ দিয়েছে।
কিন্তু এই প্রাণের হ’ন্তা’কারক কে?

চেকমেট ২ পর্ব ৩৬