Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫+৬

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫+৬

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫+৬
আয়াত বিনতে নূর

রাত তখন ঠিক ১২টা। নিশি তার বেডে বসে চোখের পানি ঝরিয়ে যাচ্ছে। মাথা থেকে একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে—
“এতক্ষণে হয়তো তার ফারিস ভাই আর আরিশা আপুর এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে… আমি হেরে গেলাম!”আমার ভালোবাসা হেরে গেলো। হেয় আল্লাহ আমাকে শক্তি দেও কিভাবে আমি সহ্য করবো।শক্তি দেও আল্লাহ, আআআ ল্ললাহ শক্তি দেও।
তার বুকের মধ্যে একটা অদৃশ্য ব্যথা, যেন হৃদয় কেউ মুঠো করে চেপে ধরেছে।
এমন সময় বাইরে থেকে রিয়া আর তনয়া বারবার দরজায় নক করতে থাকে। বেশ কয়েকবার ধাক্কা দেওয়ার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা জোরে চিৎকার করে—

“নিশি! দরজা খোল!”
ভাবনায় ডুবে থাকা নিশির এবার হুশ ফিরে আসে। সে তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে পানি দেয়, টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে খুলে দেয়।
দরজা খোলার সাথে সাথে তনয়া ঢুকতে চাইলে তাকে পাশ কাটিয়ে রিয়া দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ে।
রিয়া মুখ ভার করে বলল,
“এত দেরি করলি কেনো? সেই কখন থেকে ডাকছি!”
নিশি শান্ত স্বরে বলল,
“আমি সাওয়ার নিচ্ছিলাম।”
রিয়া নিশির বেডে বসতে বসতে মুখ গোল করে বলল,
“এতো রাতে? কিছু হয়েছে নাকি? আর তুই আরিশা ভাবির সাথে দেখা না করেই চলে এলি কেন? আমরা কত খুঁজলাম তোকে!”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নিশি এবার মাথা নিচু করে বলল,
“আমার প্রচণ্ড মাথা ধরেছিল, তাই চলে এসেছি। তা… ফারিস ভাইয়ের এনগেজমেন্ট হয়েছে?”
রিয়া হতাশ স্বরে বলল,
“না। আর জানিস? এনগেজমেন্ট এনাউন্সমেন্ট করার সাথে সাথে ফারিস ভাইয়া রেগে গিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে!”
ব্যাপারটা শুনে নিশির মনে দ্বিধাভরা খুশির স্রোত বয়ে যায়।
এনগেজমেন্ট হয়নি!
কিন্তু সাথে সাথে মনে নতুন প্রশ্ন জাগে—
ফারিস ভাই এটা করলেন কেনো? কোথায় গেলেন?
সে তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞেস করল,

“তাহলে তিনি কোথায় গেলেন?”
রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“কিছু বলেই না। রেগে বাড়ি থেকে চলে গেলো।”
এরি মাঝে তনয়া বলল,
‘আচ্ছা নিশি তুই ঘুমা আমরা আসি অনেক রাত হয়েছে।’
‘আচ্ছা আপু ‘, dনিশিতার হতাশ কন্ঠ।
ওরা যেতেই নিশিতা দৌড় দিয়ে চলে যায় বেলকনির দিকে। নিচে তাকাতেই দেখে—
ফারিসের পছন্দের মার্সিডিজ–বেঞ্জ গাড়িটা নেই।
সে বুঝে গেল— ফারিস ভাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে।
নিশির মন আরও ভারী হয়ে ওঠে।

এদিকে ফারিস…
রাগে-ক্ষোভে সে এক লেকের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে সিগারেট ধরিয়েছে। সে সাধারণত সিগারেট খায় না, কিন্তু রাগ হলে খায়।
আকাশে কোনো চাঁদ নেই। চারদিকে নিস্তব্ধ রাত।
হঠাৎ সে দাঁত চেপে বলে ওঠে—
“Why, Abbu? Why? কেনো এটা করলে?”
রাগে গাড়িটায় একটা লাথি মেরে আবার বলে—
“আরিশা? আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড! ওকে আমি কখনোই ওইভাবে ভাবিনি। ইম্পসিবল!
শেষ কথাটার শেষে তার কণ্ঠ নরম হয়ে যায়।
একটা সূক্ষ্ম হাসি ফুটে ওঠে মুখে…

এদিকে নিশিতা তার ফারিস ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে, নিজের পড়ার টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।
ঠোঁট দুরুদুরু করে কাঁপছিলো… চোখে ছিলো হাজার প্রশ্ন।
রাত দুইটার দিকে ফারিস বাসায় ফিরে আসে। তার রাগ তখনো ঠাণ্ডা হয়নি। সে রিয়াকে ফোন করে নিচে নামতে বলে।
রিয়া দরজা খুলে দিলে, ফারিস চুপচাপ ভেতরে চলে যায়। নিজের রুমে যাওয়ার সময় সে লক্ষ্য করে—
নিশিতার রুমের লাইট অন করা।

তার মনে প্রশ্ন জাগে— “নিশি তো লাইট অফ করে ঘুমায়, আজ লাইট অন করা কেন?”
তার পর রুমে প্রবেশ করে, পুরো রুমে নজর বুলায়। তারপর হঠাৎ দেখে পড়ার টেবিলে ঘুমন্ত নিশিতার মায়াবী নিশপাপ চেহারা দেখে তার রাগ মুহূর্তে যেন উধাও হয়ে যায়।
ভেজা চুল, গাল বেয়ে নেমে থাকা বেবি হেয়ার…
তার ওপর ঘুমে ঢুলে থাকা নিস্তব্ধ মুখটা এত শান্ত, এত অসহায়!
ফারিস ধীরে ধীরে তার চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দেয়। নিজের অজান্তেই বলে—
“কি আছে এমন তোর এই মায়াবী মুখে… যা আমাকে এতটা টেনে আনে?”
হঠাৎ তার চোখ পড়ে গালের দাগে—
সে হাত দিয়ে আলতো ছুঁয়ে দেখে।
তারপর নিশিকে কোল তুলে বেডে শুইয়ে দেয়, চাদর টেনে দিয়ে এসির পাওয়ার কমিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যায়।

সকালে নিশিতা ঘুম থেকে উঠে অবাক হয়ে দেখে— সে বেডে!
কখন? কিভাবে?
সে তো তার পড়ার টেবিলেই ঘুমিয়েগিয়েছিলো! বেডে আসলো কিরে?
কিন্তু সব ভাবনা ঝেড়ে সে নামাজ পড়ে নেয়। তারপর পড়তে বসলে বুঝতে পারে— মন বসছে না। হঠাৎ মনে পরে রাতে ফারিস ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো।তখন ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল ৯ টা। তারপর ভাবে ফারিস ভাই কি রুমে আছে? একবার গিয়ে দেখে আসা উচিত নয়? অনেক দ্বিধা-ভয়ে মনটা ধুকধুক করছে।
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে ফারিসের রুমের দিকে হাঁটা দেয়…
দরজা পর্যন্ত গিয়ে হাত তোলে—
“যদি বকা দেয়?”
বুকে হাত চেপে, গভীর শ্বাস নিয়ে অবশেষে—
টক্ টক্…
দরজায় নক করে নিশি।

নিশি ফারিসের রুমের দরজায় নক করে একবার,তারপর কি মনে করে হাত দিয়ে একটু ঠেলতে দরজাটা একটু হেলে গেল,নিশি বুঝতে পারলো —দরজাটা আধখোলা করে রাখা।
তার মনে সন্দেহ জাগে,
“ফারিস ভাই কি ঘরে নেই? নাকি এখনও ঘুমাচ্ছে?”
ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলো কোন শব্দ না করে, রুমে প্রবেশ করতে সবার আগে দৃষ্টি স্থির হয়ে যায় বেডের দিকে—
ফারিস খালি গায়ে, বেডের উপর উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে। কোমর পর্যন্ত কমফোর্টার টানা।
ফর্সা ত্বকে জিম করা পেশিগুলো স্পষ্ট । মুখটা এক সাইডে বেঁকে আছে যার দরুন ঠোঁট জোড়া বালিশের সাথে লেগে গোল হয়ে গেছে যেন কোনো রাগী মানুষ না, বরং শান্ত, কোমল এক শিশুর মতো মুখ। ডিম লাইটের আলোয় আরো স্পষ্ট মায়াবী লাগছে।

নিশির চোখ আটকে রইলো সেখানে।একটু পরে নিজের মনেই ফিসফিস করে—
“ঘুমিয়ে থাকলে মানুষটাকে এত শান্ত লাগে… এটাই কি সেই রাগী, জেদি, বদমেজাজী ফারিস ভাই?”
সে ধীরে ধীরে বেডের পাশে বসে আরও কিছুক্ষণ নিরবে তাকিয়ে রইলো। নিজের হাতটা বাড়িয়ে ফারিসের কপাল স্পর্শ করতে গিয়ে দেখে ফারিস হালকা নড়ে উঠছে। তাড়াতাড়ি করে উঠে যেতে লাগলো নিশি।
অন্যদিকে ফারিস টের পায় রুমে কেউ আছে। ঘুমের ভিতর নিজের কাছাকাছি পরিচিত কারো শরীরের ঘ্রাণ নাকি আসতে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলো। সে হাত বাড়িয়ে নিশির কব্জি শক্ত করে ধরে একটান দেয়। হঠাৎ টান পরাই নিশি সাথে সাথে তার ভারসাম্য ধরে না রাখতে পেরে ধপ করে ফারিসের বুকের উপর আছরে পড়ে গেলো । এতক্ষণ ফারিস আধ ঘুমো অবস্থায় নিশির হাত ধরে টান দিলেও নিশি ওর বুকের উপর পড়তে চোখ তুলে নিশির দিকে তাকালো । নিশিও হঠাৎ পরে যাওয়াই ভয়ে ভয়ে মুখ তুলে তাকাতেই —— দুজনের চোখাচোখি হয়। এক মুহূর্ত স্থির নীরবতা।

দুইজন দুইজনের চোখের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই। তারপর ফারিসের ধ্যান ভাঙল গম্ভীর, কর্কশ স্বরে বলে—
“তুই আমার রুমে কি করছিস? কে বলেছে আসতে?”
নিশি ভয়ে, তোতলাতে তোতলাতে—
“মান-মানে… আপনি কাল রাগ করে চলে গিয়েছিলেন… তাই… তাই দেখছিলাম আপনি ফিরেছেন কিনা…”
নিশিকে এইভাবে নিজের এতো কাছে পেয়ে কেমন যেনো লাগছে, নিজেকে কোনো রকম কন্ট্রোল করে,
ফারিস আরও রেগে ধমকে ওঠে বলে —
“এইভাবেই আমার উপরে শুয়ে থাকবে নাকি? উঠ আলুর বস্তা না এভাবে পড়ে থাকবে বেহায়া মেয়ে মানুষ !”
ধমকে ও অপমানে নিশি তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়ায়।
ফারিস আবার কড়া স্বরে—

“যা! বের হয়ে যা আমার রুম থেকে! কতবার বলেছি আমার রুমে আসবি না? মনে নেই তোর? তাও আবার রাতের বেলায় আমার রুমে এসেছিস সাহস কত তোর? বের হ এখনই? ”
অপমানে ভয়ে, চোখের কোনা ভিজে ওঠে নিশির।
ফারিস তাকিয়ে ঠাণ্ডা, কঠিন স্বরে আবার বলে—
“মনে হয় চড়ের ব্যথা ভুলে গেছিস।”
আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে নিশি চোখে টৈটুম্বুর পানি নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। বিছানায় বসে কান্না ভেজা কণ্ঠে নিজের মনেই বলে,
“কেনো এমন করেন আপনি? আমি কি এতটাই বিরক্তিকর আপনার কাছে?”
এমন সময় রিয়া দরজায় নক করে। নিশি চমকে উঠে তাড়াতাড়ি করে,
ওয়াজরোমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে, কান্না থামিয়ে চোখ মুছে দরজা খুলে দেয়।
রিয়া অবাক হয়ে—

“কী হয়েছে তোর? চোখ-মুখ এমন কেন?”
নিশি জোর করে হাসার চেষ্টা করে—
“এমনি… পড়ছিলাম। পরীক্ষার টেনশন…”
রিয়া তৎক্ষণাৎ বিষয় পাল্টায়—
“আজ শাড়ি পরবি? চল না দু’জনে শাড়ি পরে ছবি তুলি!”
প্রথমে না করলেও রিয়ার জেদের কাছে হার মানে সে।তারপর শাড়ি পরতে রাজি হয়।তারপর রিয়া আবার বলল—
-“তনয়া আপু শাড়ি পরতে রাজি হয়নি।তাই আজ শুধু আমি আর তুই শাড়ি পরব। আর ছবি তুলব আমাদের গার্ডেন এরিয়াতে কেমন?
নিশি বলল —
-“আচ্ছা ঠিক আছে।”
তারপর রিয়া রেডি হতে চলে গেলো।

ফারিস এদিকে ঘুম থেকে উঠে, ঠাণ্ডা মাথায় একটা লম্বা শাওয়ার নেয়। ফর্মাল ড্রেসে রেডি হয়ে নাস্তা সেরে অফিসে চলে যায়।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল। নিশি ফ্রেশ হয়ে আলমারি খুলে তার পছন্দের সুতির নীল শাড়ি বের করে। শাড়িটা গায়ে জড়াতেই রূপ যেন আরও ফুটে ওঠে। আয়নার সামনে বসে কপালে ছোট্ট কালো টিপ,
চোখে কালো কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপগ্লস— নীল কালারের শাড়িতে ও হালকা মেকআপে অনেক সুন্দর লাগছে তাকে। নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে—
“মন্দ লাগছে না..”

ঠিক তখন রিয়া ঘরে ঢুকে বিস্মিত দৃষ্টিতে বলে—
“ওফ! নিশি, তুই তো একেবারে নীলপরী!”
নিশি লজ্জায় হাসে, রিয়াকে প্রশংসা করে—
রিয়াও কালো সুতির শাড়িতে খুব সুন্দর লাগছে। দু’জনে নিচে নামে। তাদের দেখে আফিয়া চৌধুরী খুশিতে চোখে মুখে হাসি—

“মাশাল্লাহ! আমার মেয়েগুলো কত সুন্দর লাগছে!”
আফিয়া চৌধুরি আবারও বলেন —
“তাহলে এতো সাজুগুজু করে কোথায় যাওয়া হচ্ছে আপনাদের?”
নিজের মায়ের কথা শুনে,রিয়া বলে উঠে —
‘মা আমরা ছবি তুলতে বাগানের দিকে যাচ্ছি।চলি?
মেয়ের জবাবে আফিয়া চৌধুরি বললেন—
“আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যা।তাড়াতাড়ি চলে আসিস।
এইবলে তিনি রান্না ঘরে চলে গেলেন।
তারপর নিশি আর রিয়া বাগানে ছবি তুলতে চলে যায়।

রিয়া একপাশে নিজের ছবি তুলতে ব্যাস্ত, আর নিশিতা নিজের মতো করে চুপচাপ একপাশে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এই সময় ফারিস বাসায় ফিরে। নিজের প্রিয় মার্সিডিজ-বেঞ্জ থেকে নামতেই—
তার চোখ আটকে যায় গার্ডেনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা, নীল শাড়ি পরা সেই মেয়েটির দিকে।
নিশির চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপগ্লস, মুখের ভেজা চুল বাতাসে উড়ছে—
ফারিস হঠাৎ থমকে যায়।হৃদস্পন্দন যেন একটু বেশি দ্রুত। শ্বাস ভারী হয়ে আসে।তবু চোখ সরাতে পারে না। তারপর ফারিসের মুখ থেকে আপনা আপনি,

—”নীলাম্বরী ”
শব্দটা আপনা আপনি বের হয়ে যায়। ঠিক তখনই নিশি ফিরে তাকায়।সামনের দিকে,সাথে সাথে দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায়। নিশিতা এক দৃষ্টিতে ফারিসের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে।
সে কি সত্যি দেখতেছে ফারিস তার দিকে তাকিয়েছিলো?নিশির নজর তার দিকে ফিরতেই,
ফারিস তড়িঘড়ি করে দৃষ্টি ফেরায় এবং দ্রুত ভেতরে চলে যায়।
নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকে দেয়—”কারণ সে নিজেই বুঝতে পারছে না কেন এমন হলো।কেন নিশিতার দিকে এইভাবে তাকিয়ে ছিলো। ”
এইদিকে নিশি ফারিসের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। কি হলো লোকটার হঠাৎ করে এমন করে চলে গেলো যেনো চুরি করে ধরা পড়েছে,
সেজন্য এমন ভাবে চলে গেল।

—রিয়ারা ছবি তুলছে একের পর এক । তারপর নিশির দিকে তাকিয়ে বলে-
—”কিরে নিশি”,কোথায় হারালি? ভেতরে যাবিনা?
রিয়ার কন্ঠ পেয়ে, নিশিতার ধ্যান ভাঙ্গে…
এরপর নিশি বলে,

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩+৪

—নায়ায়া চল বাড়ি যাই,আর ভালো লাগছে না। তারপর নিশি এবং রিয়া বাড়ির ভিতরে চল যায়।
আর নিশি রুমে ফিরে শাড়ি ভাজ করে আলমারিতে রাখে এবং মনে মনে একটা প্রশ্ন পুড়ে পুড়ে উঠতে থাকে—
“ফারিস ভাই… সত্যিই কি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন?”
“কেন? তিনি তো আমাকে ভালোবাসেন না… তাহলে কেন?”আর ওভাবে পালিয়ে যাওয়ার কি মানে?
আর বেশি ভাবতে পারে না।
অনেক ক্লান্ত থাকায়। দরজা বন্ধ করে বিছানা গুছিয়ে শুয়ে চোখ বুঝে ফেলে…….

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৭+৮