চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৭+৮
আয়াত বিনতে নূর
প্রতিদিনের মতো আজও নিশি ভোরে উঠে অজু করলো। ঘুমচোখেই নামাজ আদায়
করে শান্ত হয়ে বসে রইলো কিছুক্ষণ।
মনে পরীক্ষা— তাই নামাজ শেষ করেই বই খুলে গভীর মনোযোগে পড়া শুরু করলো।
চোখ-মুখে অদ্ভুত একটা দায়িত্ববোধ। যেন শুধু নিজের জন্য নয়, তার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যও সে পড়ে যাচ্ছে দিনরাত। বাবা চায় সে বড় হোক, সম্মান নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াক। ঠিক সেই কারণেই নিশিও পড়াশোনায় নিজের সবটুকু ঢেলে দিচ্ছে।
আজ শুক্রবার। কলেজ নেই। তাই পড়া শেষ করতে
করতে প্রায় সকাল ৯:৩০ বেজে গেলো।
রুম থেকে বের হওয়ার সময়,
অজান্তেই মনে পড়ে গেলো—
“ফারিস ভাইয়ের সামনে পরা যাবেনা ?… কালকের কথা ভুলে গেলে চলবে না?”
মনে হালকা কাঁপুনি এসে গেল।
গত রাতের কথা, অপমান আর তার করা
ব্যবহারের কথা মনে পড়তেই নিশির বুকটা
ভার হয়ে উঠলো।
মাথা ঝাঁকিয়ে সে এসব ভাবনা
দূরে সরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলো।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ডাইনিং টেবিলে ফারিস নেই দেখে নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রিয়ার পাশে গিয়ে চুপ করে বসলো। শুক্রবার বলে বাড়িতে জমজমাট রান্না— অথচ নিশির মুখে কোনো স্বাদ নেই। খুব শান্ত ভাবে নিজের খাবার বেড়ে খেতে শুরু করলো।
ঠিক তখনই ফারিস নিচে নামলো। সবাই একটু থেমে গেলো কথা বলা। ফারিস এসে চুপচাপ বসলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে খাওয়া শুরু করলো। মুহূর্তেই বাড়ির পরিবেশ পাল্টে গেলো, যেন তার এক নিঃশব্দ উপস্থিতি চারদিকে ছড়িয়ে গেল। তবু নিশি চাইলেই চোখ সরাতে পারছে না। নিষ্পাপ, কৌতূহলী চোখ বারবার তার দিকে চলে যাচ্ছে।
কিন্তু ফারিস?
একবার তাকিয়ে দেখেও যেন
তাকায়নি এমন ভাব করে খাওয়া
শেষ করে উঠে গেলো। নিশির ভিতরটা
হালকা কেঁপে উঠল।
সবার খাওয়া শেষে যার যার রুমে চলে যায়
— আর নিশিও রুমে ফিরে পড়তে বসলো।
একটু পর রিয়া এসে গল্প শুরু
করতেই মনটা কিছুটা হালকা হলো।
রিয়া দেখল নিশিতার মন খারাপ তাই বলল—
— “চল না কাল কোথাও যাই! কতদিন বের হই না!”
নিশি হাসল মৃদু।
— “আমাদের কি একা বাইরে যেতে
দিবে?”এইটা তোর মনে হয়?
রিয়া মুখ কুঁচকে চুপ হয়ে। ভাবতে লাগল,
তারপর সাথে সাথে আইডিয়া চলে আসল।
তারপর কিছু একটা ভেবে নিশিতার দিকে তাকালো।
নিশিতা চুপ করে রিয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।
রিয়া আর নিশিতার চোখা চোখি হয়ে যায়।রিয়া নিশিতাকে কিছু বলতে না দিয়ে বলল—
“চেষ্টা করলে রাজি করানো যায়। আমি চেষ্টা করবো।”
কিন্তু অন্য উপায়ে।
রিয়ার কথা শুনে নিশি বলল—
— “ভাই তুই গ্রেইট জাস্ট গ্রেইট এইটা জানিস।”
আমি জানতাম তুই লেখা পড়াতে ডিম হলেও গন্ডগোল দারুন পাকাতে পারিস।
নিশিতার কথা শুনে রিয়া কোনা চোখে নিশিতার দিকে তাকায়। রিয়ার এমন রিয়েকশন দেখে নিশি হাসতে থাকে। রিয়াও নিশিতার মুখে হাসি
দেখে নিজেও হাসতে থাকে।
এরপর কিছু কথা বলে রিয়া নিজের রুমে চলে গেলো।
এদিকে জুমার জন্য বাড়ির সব ছেলেরা রেডি হচ্ছে। সবাই অপেক্ষায় শুধু একজনের— ফারিসের।
কিছুক্ষণ পর ফারিস নামলো। তার পরনে—
কালো পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি, তার ফর্সা রঙে এক অপার্থিব শোভা। কেউ কি চাইলেই চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারে? নিশিও না।
তবে সে দূরেই থাকলো, নীরবে।
এইদিকে নিশি গোসল শেষে নামাজ পরে নিলো। মেরুন রঙের থ্রি-পিস পরে আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই অবাক— রংটা তার গায়ের ওপর কত সুন্দর মানিয়েছে! ভেজা চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকাতে শুকাতে তার মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। নামাজ পড়ে বেডে বসতেই ফোনটা বেজে উঠলো। অহনার ফোন।
রিসিভ করতেই অহ না বললো—
— “কেসি হো মেরি জান?” অহনার চঞ্চল সুর।
— “ভালো… তুই কেমন?”
— “শুন, রিয়া বলেছে ফারিস ভাই আর আরিশা আপুর এনগেজমেন্ট হওয়ার কথা ছিল। হয়েছে?”
নিশি একটু থামলো। তারপর শান্ত স্বরে বললো—
— “না। ফারিস ভাইকে না জানিয়ে বড় আব্বু এনগেজমেন্ট ঠিক করেছিলো। তাই ওনি রাজি হয় নাই এবং আরিশা আপুকে সে ওইভাবে দেখে না।”কিন্তু হয়তো আপুকে পরে বিয়ে করবে। কারণ ওনি তো আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছিলো।
কথা বলতে বলতে নিশির গলা একটু ভারী হয়ে গেলো। সে দ্রুত প্রসঙ্গ বদলাতে চাইলো।
— “এখন আর ওনাদের কথা বলে আমার মুড নষ্ট করিস না।”
অহনা হেসে প্রসঙ্গ পাল্টে বললো,
— “তোর নাভিদের কথা মনে আছে?
ও তোকে এখনো পছন্দ করে বুঝলি?পুরো কলেজে পাগল অবস্থা!”
নিশির বিরক্তি বেড়ে গেলো।
— “নাভিদকে বন্ধু ছাড়া আর কিছু ভাবি না আমি। এতেই শেষ। তুই ওই ছেলের কথা আমাকে কেন বলছিস?”
অহনা তবু ছাড়লো না,বলল
— “আগামীকাল তো কলেজে আসিস, সব বলবো!”
নিশি চোখ পাকিয়ে বলল—
— “আমি এসব জানতে interested নই। তুই একটু বেশি বলে ফেলছিস না অহনা??
কথা শুনে অহনা থতমত খেয়ে বলল—
— “কি? না! এমনিই বললাম!”
তারপর দ্রুত ফোন রেখে দিলো।
ফোন রাখার মুহূর্তেই নিশির মনে হলো— কেউ যেন দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে ছিল।কিন্তু কে থাকবে ধুর আমি একটু বেশি ভাবি।মনে মনে বলল।
কিন্তু হ্যাঁ, ছিলও।ফারিস।
সব শুনেছে। সব। তার চোখে রাগ, অজানা আগুন। সে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। নিশি কিছুই বুঝতে পারলো না।
এইটা তার ফারিস ভাই ছিলো।
দেখতে দেখতে রাত ১০টা বেজে গেলো,
এরপর রিয়া ডাকলো খেতে।
ফারিস আগেই নিচে চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর নিশিও নিচে গেলো।নিচে গিয়ে দেখতে পেলো রিয়া, তনয়া আপু, রাজিব ভাই, বড় আব্বু, তার বাবা,ফারিস ভাই সবাই খাবার খাচ্ছে।
আজ সে গিয়ে ঠিক ফারিসের সামনের চেয়ারে বসল।
ফারিস একবার তাকালো। তারপর চোখ নামিয়ে শান্ত ভাবে খেতে লাগলো। এমনিতেই নিশির উপর রেগে আছে অনেক। কিন্তু সেটা প্রকাশ না করে চুপচাপ খেতে থাকে।
এইদিকে নিশিও চুপচাপ। তবুও চোখ সরাতে পারছে না। এ যেন দেখা না হওয়ার থেকেও বেশি দেখা!
হঠাৎ আরাফাত চৌধুরী বললেন—
— “ফারিস, তুমি কি আরিশাকে বিয়ে করবে না?”
এইদিকে তার প্রিয় মানুষটির বিয়ের কথা বড় আব্বুর
মুখে শুনে ফারিসের দিক থেকে নজস সরিয়ে বড় আব্বুর দিকে তাকায় ছল ছল নয়নে তাকায়।
আরাফাত চৌধুরির কথা শুনে সবাই ফারিসের দিকে তাকাল।কারণ সবাই জানে ফারিস যদি রেগে যায় তাহলে কি হতে পারে—
বাবার কথা শুনে ফারিস একবার নিশির দিকে তাকালো। তারপর নিশির ছল ছল নয়ন দেখতে পেলো।নিশিতার দিকে চোখ সরিয়ে ফারিস তার বাবাকে বললো
— “আমি এখন এই বিষয়ে কোনো কথা শুনতে Interested না… I repeat, I am not interested in the topic.”
ফারিসের বাবা আর কিছু বলতে যাবে তার আগে ফারিস হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয়।তারপর তার রুমে চলে যায়।কেউ আর কিছু বললো না। সবাই নিঃশব্দে খেতে থাকলো।খাওয়া শেষে সবাই রুমে চলে গেলো।
—
নিশিতা নিজের রুমে এসে,ভাবলো —
—ওনি বিয়েটা ক্যান্সেল করে দিলেন কিন্তু কেন?
তারপর আর কিছু না ভেবে কাল কলেজ আছে।। তাইবেডে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
এইদিকে ফারিস তার বক্সিন রুমে………
ফারিস তার বক্সিং রুমে প্রবেশ করল।
হঠাৎই রাগের আগুনে তার হাতের গ্লাভস পাঞ্চিং ব্যাগে আঘাত দিতে থাকল।পাঞ্চিং ব্যাগ ছিঁড়ে গিয়ে পড়ে গেল।তখন ফারিস বসে পড়ে পাশের চেয়ারে।তার চোখে রাগ লাল হয়ে আছে।মনে হচ্ছে সামনে কেউ থাকলে।
থাকে শেষ করে দিতো। চোখ দিয়ে আগুন ঝড়ছে ফারিসের।সে হাতের গ্লাভস খুলে দেওয়ালে জোরো একটা ঘুষি মারে।
ফারিস চুপচাপ বসে রক্ত ঝরানো হাতের দিকে তাকালো।কোথাও কোনো কষ্ট নেই, শুধুই রাগ। চোখে আগুন, মুখে কঠোরতার ছাপ।
“কেনো নিশি?”—
মনের গভীর থেকে উদ্ভূত এক প্রশ্ন।
হঠাৎ সে জোরে চিৎকার করল, নিজের কণ্ঠেও রাগের অনুরণন।তার হাতের কিছুটা অংশ কেটে রক্ত বের হয়।কিন্তু তার কোনো খেলায় নেয়।
সে রেগে বলতে থাকে—
“তুই ওই মাদার***** বাস্টার্ডের নাম নিলি!”
কিন্তু হাত বাড়িয়ে কোনো আঘাত করল না—
“আমি তোকে আঘাত করব না, কিন্তু তুই ওকে পছন্দ করিস?”
ফারিস নিজেকে ধরে রাখল, এবং মৃদু একটি সূক্ষ্ম হাসি ফুটল তার মুখে।
“ঠিক আছে, জাস্ট ওয়েট এন্ড সি। এবার তুই ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরীর নতুন রূপ দেখবি।”
শাওয়ার শেষে ফারিস হাতের ব্যান্ডেজ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। রাগের আগুন এখনও নিভেনি,
কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবছে, কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
নিশি ভোরে উঠে আজু শেষে নামাজ পড়ে।
আজ তার মন ভালো, তাই পড়াশোনায় মনোযোগ আরও বেশি।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে—৮টা বাজে গেছে।
দ্রুত সাওয়ার নিতে যায়।
সাওয়ার শেষে নিচে নেমে দেখল, মা আমেনা চৌধুরী উপস্থিত।
মা হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“আজ তোর মুখটা খুব প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে মা ।”
নিশি মুচকি হেসে উত্তর দিল—
“তুমি জানো মা , কাল রাতে পড়াশোনা করে আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েছি।”আর এখন সকালে নামাজটা পরে অনেক ভালো লাগছে।
আমেনা চৌধুরী মৃদু হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
“পড়াশোনা কেমন চলছে, তোর?”
নিশি শান্ত সুরে বলল—
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তবে ফিজিক্সে একটু সমস্যা আছে। হোম টিউটর আসলে ভালো হতো।”
আমেনা চৌধুরী মৃদু হাসি দিয়ে বললেন—
“ঠিক আছে, আমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলছি। এবার দ্রুত নেমে খেয়ে নাও, কলেজও যেতে হবে।”নিশি মাথা নাড়িয়ে দ্রুত রেডি হয়ে নেমে গেল।নিশি চারদিকে একবার চোখ বোলালো
কিন্তু ফারিস কে দেখতে পেলো না। ফারিস নিশির আগে খেয়ে উপরে চলে গেছে রেডি হতে। তারপর নিচে গিয়ে রিয়ার পাশের চেয়ারে বসলো। রিয়া তখন নাস্তা করছিলো
নিশি কে আসতে দেখে মুচকি হাসলো।
তারপর আবারও খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।
নিশিও খাওয়া শুরু করলো।
নাস্তা চলতে থাকে।
আলতাফ চৌধুরী হেসে বলল—“নিশি, তোর ফিজিক্সে সমস্যা?”
নিশি মাথা নাড়ল।
আরাফাত চৌধুরী জানিয়ে দিল—“চিন্তা নেই, আমি তোর জন্য ভালো টিউটর দেখব।”
নিশি শান্ত সুরে বলল—“ধন্যবাদ বড় আব্বু।”
সবাই খাওয়া শেষ করে রুমে চলে যায়।
নিশি রুমে গিয়ে ব্যাগ নিতে যায়, কিন্তু ভুলে যায়।
রিয়া রেডি হতে গিয়েছে তার রুমে।
নিশি সিড়ি বেয়ে উপরে তার রুমের দিকে পা বাড়াতেই হাত হাতে কেউ হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের দিকে নিয়ে গেলো। নিশি ভয় পেয়ে কাচুমাচু করে চুখ বন্ধ করে নিলো।
নিশি অনুভব করছে তার উপর কারও গরম নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে।
নিশি পিটপিট করে চোখ খুলল।
নিশি চোখ খুলে দেখলো,ফারিস তার একদম কাছে।সে বিশ্বাস এই করতে পারলো না।
“আমি কি আবারও কোনো ভুল করেছি?”—মনের ভেতর প্রশ্ন জাগে
ফারিস স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল—
“এতো জ্বালাস কেনো আমাকে?”
নিশি ভয় পেয়ে থমকে যায়।
“কি.. কি করেছি আমি?”—তোতলাতে বলতে চেষ্টা করে।
ফারিস শান্ত কণ্ঠে বলল—“এই যে, জ্বালাস আমাকে… আমাকে ইগনোর করছিস?”
নিশি নিজেকে সামলে কোনো রকম।
বলল—
“আপনি তো নিজেই বলেছেন, যেনো আমি আপনার সামনে না আসি। তাই, তাহলে কি করে আপনাকে জ্বালাই?”
ফারিস তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে, বলল
—“সামনে না থেকেও আমাকে জ্বালাস।”
নিশি চুপচাপ সরে যেতে চাইলে ফারিস তার হাত চেপে ধরে।
নিশি ফিরে তাকায়, চোখে কিছু প্রশ্ম জাগে ।
ফারিস গম্ভীর হয়ে বলে—
“আমি যেতে বলেছি তোকে? আজ থেকে তোকে আর রিয়া কে আমি কলেজে ড্রপ করব।”
নিশি হতবাক, হালকা কণ্ঠে বলল
—“আ…আপনি? আমাদের?”
ফারিস বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল—
“এবার গিয়ে রেডি হয়ে রিয়াকে নিয়ে নিচে আয়। দশ মিনিটের মধ্যে।”
নিশি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে, ব্যাগ নিয়ে দ্রুত নিচে যায়।
রিয়া রেডি হয়ে নামল—
“চল, আঙ্কেল আমাদের জন্য ওয়েট করছেন।”
নিশি মজা করে বলল—
“আজ থেকে তোর গুণধর ভাই আমাদের কলেজে নিয়ে যাবে।”
রিয়া অবাক—“Am I dreaming??”
নিশি হেসে বলল—“ইয়েস, বেবি।”
নিশিতা আর কিছু বলার জন্য মুখ খুললে।রিয়া তাড়াতাড়ি নিশিতাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
নিশি গাড়িতে বসে বাইরের দিকে তাকাচ্ছে।
রিয়া কথা বলছে, নিশি শুধু হুম হাম করছে।
ফারিস গাড়ি চালাচ্ছে, মাঝে মাঝে আর চোখে গাড়ির লুকিং গ্লাসে নিশিতার দিকে নজর দিচ্ছে।নিশির বেবি হেয়ার বার বার কানের পেছনে গুঁজছে।
ফারিস বিড়বিড় করে—
এই মেয়ে আমাকে,একটু শান্তি তে থাকতে দিবে না । “এখনো জ্বালাচ্ছে আমাকে… একদিন তুই আমার মতো জ্বলবি, নিশি। I am waiting for the day।”
কলেজের সামনে এসে গাড়ি দাঁড়ায়।
রিয়া গাড়ি থেকে নেমে জরুরি ফোন কল রিসিভ করে।
নিশি নামতে গেলে ফারিস বলল—
“আমার কথা না শুনে গাড়ি থেকে এক
পা বের হবি না।” আর আমার কথা না শুনে বের হবি,
তাহলে ঠেঙ্গ ভেঙ্গে বাড়িতে বসিয়ে রাখব।
নিশি ভয়ে গুটিয়ে গেলো ।সে প্রচুর ভয় পেয়েছে।
ফারিস আরও স্পষ্ট করে বলল—
“আজ থেকে তোকে যদি কোনো ছেলের সঙ্গে দেখি, তার পরিণাম ভালো হবে না।”
‘নিশি আবাক হয়ে যায় ফারিসের কথায়। সে তো কোনো ছেলের সাথে কথা বলে না। তাহলে এসব এর মানে কি??? নিশি বুঝতে পারছে না। নিশি স্তম্ভিত।
ফারিস এইবার নিশিতার ভিতু মুখের দিকে তাকিয়ে,
ফারিস ধীরে বলল—
—“I hope you understand… Now go. Study with concentration, ok?”
ফারিস কথা বলে থামে। নিশিতা ফারিসের কথা শুনে হা করে তাকিয়ে থাকে,
এরি মাঝে রিয়া এসে নিশিতার উদ্দেশ্যে বলে—
-“কিরে এখনো গাড়ির ভিতরে কি করিস, তাড়াতাড়ি বের হো না??
রিয়ার কথায় নিশিতার ধ্যান ভাঙ্গে।তারপর নিশিতা
তরিঘরি করে নেমে যায়।
নিশিতা রিয়ার পাশে দাড়িয়ে যেতেই রিয়া ফারিসকে বলল—
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫+৬
– “গেলাম ভাইয়া ক্লাসে যাচ্ছি,লেইট হয়ে যাচ্ছে।
ফারিস জবাবে জাস্ট মাথা নাড়ে।
তারা একসাথে কলেজের ভিরতে ঢুকে যায়।
আর ফারিস নিশিতার যাওয়ার দিকে একবার তাকিয়ে, কিছু একটা ভেবে বাকা হাসিঁ দিয়ে,
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে নিশিতা লুকিয়ে ফারিসের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে…..
