Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৩ (২)

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৩ (২)

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৩ (২)
আয়াত বিনতে নূর

এদিকে নিশিতা বাইরে দাঁড়িয়ে ফারিসের জন্য অপেক্ষা করছিল। সময় যেন নড়তেই চাইছে না।
বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে, কিন্তু ফারিসের কোনো দেখা নেই। অপেক্ষার বিরক্তি ধীরে ধীরে মনটাকে ভারী করে তুলল। আর তাই হঠাৎ করেই সে সিদ্ধান্ত নিল এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে একটু হেঁটে আসবে। নিশিতা ধীরে ধীরে তালুকদার বাড়ির পেছনের দিকে চলে গেল। সেখানে পৌঁছেই তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল।
একটা বিশাল, পরিপাটি বাগান চারদিকে সাজানো দেশি-বিদেশি নানা রকম ফুলের গাছ। রঙের বাহার, আলোর ঝিলিক আর ফুলের মিষ্টি গন্ধ মিলেমিশে জায়গাটাকে স্বপ্নের মতো লাগছে।
ঠিক এই দৃশ্যটাই তাকে হঠাৎ করে ফারিসের সেই বাড়িটার কথা মনে করিয়ে দিল, যেই বাড়িতে ফারিস একদিন তাকে নিয়ে গিয়েছিল।

সেই একই শান্ত পরিবেশ, সেই একই ফুলের ঘ্রাণ,
আর ঠিক তেমনই এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
নিশিতা আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
দৌড়ে গিয়ে একটা ফুলের কাছে মুখ ঝুঁকিয়ে নাক ভরিয়ে সুগন্ধ নিতে লাগল। তারপর আরেকটা…
তারপর আরেকটা। একটার পর একটা ফুলের গন্ধে ভরে উঠল তার শ্বাস-প্রশ্বাস। মুখে ফুটে উঠল শিশুসুলভ একরাশ প্রশান্ত হাসি।
তালুকদার বাড়ির চারপাশে পর্যাপ্ত লাইট থাকায় রাতের অন্ধকারও আজ ভয় ধরাতে পারল না তাকে। চারদিক আলোয় ঝলমল করছে।
নিশিতা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত মনে বাগানের ভেতর হাঁটতে লাগল। নিশিতা খুব যত্ন করে প্রতিটা ফুলের কাছে থামছে, হাত বাড়িয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দেখছে,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আর নীরবে তাদের সুবাস উপভোগ করছে
ঠিক যেন নিজের ছোট্ট জগতেই হারিয়ে গেছে।
এদিকে রিভান একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোন কলে কথা বলতে বলতে অজান্তেই বাগানের দিকে চলে এসেছে। ব্যস্ত কথোপকথনের মাঝেও নিশিতা বুঝতে পারেনি কখন নিশিতা মূল পথ ছেড়ে এখানে ঢুকে পড়েছে। হঠাৎ করেই কথার ফাঁকে তার চোখ পড়ে নিশিতার দিকে।আর ঠিক সেই মুহূর্তেই রিভানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
হৃৎস্পন্দন আচমকাই বেড়ে গেল। শ্বাসটা যেন কেউ জোর করে কেড়ে নিচ্ছে তার বুকের গভীর থেকে।
রিভান কথা বলা থামিয়ে দিয়েছে ফোনের ওপাশে কে কী বলছে, তার কিছুই আর কানে যাচ্ছে না।
চোখে-মুখে মুগ্ধতা উপচে পড়ছে। শাড়ি পরিহিতা সেই রমণী শিশুসুলভ কাণ্ডে ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছে,
নরম আলোয় তার মুখটা আরও কোমল হয়ে উঠেছে। রিভানের চোখ দুটো যেন নিশিতার ওপর আটকে গেছে।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
ঠিক যেন চোখ দিয়ে তাকে গিলে খাচ্ছে।
ফোনের ওপাশের মানুষটা একের পর এক

“হ্যালো… হ্যালো…”
বলে যেতে থাকলেও রিভানের তরফ থেকে কোনো উত্তরই আসছিল না। রিভানের ঠোঁট কেঁপে উঠছিল,
কিন্তু মুখ দিয়ে যেন কোনো শব্দই বেরোচ্ছে না।
নিজেই বুঝতে পারছিল না এখন কী করছে,
এখানে এসেছে, আর এই ফোনটা কানে ধরে রেখেই বা কেন দাঁড়িয়ে আছে।
এক কথায় বলতে গেলে তার মস্তিষ্ক যেন মুহূর্তের মধ্যেই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। শেষমেশ কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে রিভান ফোনটা কানে ধরে বলল,
“I’ll call you later.”

বলে সঙ্গে সঙ্গে কলটা কেটে দিল। তারপর আবার সেই দৃষ্টি মুগ্ধতায় ভরা, অদ্ভুত এক টানে আটকে থাকা দৃষ্টি নিশিতার দিকেই ফিরে গেল।
রিভানের ঠোঁটের কোণে একরাশ বিস্ময় আর মুগ্ধতা নিয়ে শব্দটা বেরিয়ে এলো,
“মায়াবিনী…”
নিজেও বুঝতে পারল না কখন সে নিশিতার দিকে এগিয়ে গেল। ধীরে… নিঃশব্দে… পায়ের আওয়াজ যেন ইচ্ছা করেই চেপে রাখছে। নিশিতার একদম ঠিক পিছনে এসে দাঁড়াল সে। হঠাৎ করেই নিশিতার বুকের ভেতর কেমন জানো শিরশির করে উঠল। এক অজানা অনুভূতি কেউ যেন তার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। আর দেরি করল না।
ঝট করে পিছনে ফিরে তাকাতেই রিভানকে দেখে নিশিতা ঠিক ভূত দেখার মতো চমকে উঠল।
চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল।

মুখের রক্ত এক মুহূর্তেই যেন শুকিয়ে গেল।
ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল নিশিতা। গলা শুকিয়ে এলো। কষ্ট করে এক ঢোক শুকনো ঢোক গিলল।
এতো রাতে, এতোটা নিরিবিলি জায়গায়, হঠাৎ করে একজন অচেনা পুরুষকে সামনে দেখে
এক অজানা ভয় পুরো শরীরটা জুড়ে চেপে ধরল তাকে। হাত দুটো হালকা কেঁপে উঠছে।
বুকের ভেতরটা ধকধক করছে অস্বাভাবিকভাবে।
রিভান সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারল নিশিতা তাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। তার চোখের আতঙ্কটা একেবারেই স্পষ্ট।
তাই আর এক মুহূর্তও দেরি না করে রিভান নিজেই দুই পা পিছিয়ে গেল। নরম, আশ্বস্ত করার মতো কণ্ঠে বলল,
“Hey… don’t scare.

আমি খারাপ কেউ না। ভয় পেও না তুমি।
ওকে?”
কিন্তু নিশিতার ভয় যেন তাতে একটুও কমল না।
সে দ্রুত চারপাশে তাকাতে লাগল কেউ আছে কিনা, কেউ দেখছে কিনা।বাগানের আলো, ফুল
সবকিছুই হঠাৎ করে তার কাছে ভিন্নরকম লাগতে শুরু করল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দূর থেকে পরিচিত দুটো কণ্ঠ ভেসে এলো। রিয়া আর অহনা দৌড়ে এসে বাগানের ভেতর ঢুকল।
রিয়া আর অহনা নিশিতাকে খুঁজতে খুঁজতে বাগানের দিকে চলে এসেছে। নিশিতাকে দেখে ওরা দ্রুত তার কাছে এগিয়ে গেল।রিয়া চিন্তিত গলায় বলল,

“ঠিক আছিস তো নিশি? কিছু হয়নি তো?”
অহনা বিরক্ত হয়ে বলল,
“তুই কোনোদিন ঠিক হবি না। তোর চিন্তায় আমি আর রিয়া পাগল হয়ে যাচ্ছি। আর তুই এখানে বাগানে কী করছিস?”
তাদের কথার মাঝেই হঠাৎ অহনার চোখে পড়লো একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রিভানকে। চমকে উঠে বলল,
“আরে! মি. রিভান! আপনি এখানে?”
রিভানের ধ্যান ভাঙলো। এতক্ষণ নিশিতার দিকেই স্থির ছিল তার দৃষ্টি। হালকা গলা খাঁকারি দিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে বলল,
“আসলে একটা ইম্পরট্যান্ট কল রিসিভ করতে এখানে এসেছিলাম। তারপর ওনাকে দেখলাম।”
রিয়া কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করল,

“ওনি কে?”
রিভান উত্তর দেওয়ার আগেই রিয়া নিজেই বলল,
“নিশি আমার বোন। মানে আমার ছোট আব্বুর ছোট মেয়ে।”
রিভান মনে মনে হেসে নিল। তাহলে মায়াবিনী চৌধুরী বাড়ির মেয়ে চোখে এক ধরনের অদ্ভুত ঝিলিক ফুটে উঠলো। দেখা তো হবেই, মায়াবিনী… খুব শিগগিরই। রিয়া পরিস্থিতি সামলাতে বলল,
“চল, ভেতরে যাই। না হলে আবার সবাই খোঁজাখুজি শুরু করবে। তখন বকা খেতে হবে।”
ঠিক তখনই রিভানের ফোনে আবার কল এলো। বিরক্তি চাপা দিয়ে সে আবারও কলটা রিসিভ করল। নিশিতা চুপচাপ রিয়া আর অহনার পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগলো। বাড়ির সামনে এসে হঠাৎ থেমে জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা… ওই লোকটা কে?”

রিয়া হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“আরে, ওনি রিভান তালুকদার। যার সাথে ভাইয়াদের ডিল সাইন হয়েছে ।”
“ও আচ্ছা ”
নিশিতা একটু ভেবেই বলল,
“আমি তো ওনাকে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে… দেখে মনে হলো ভালো মানুষ।”
রিয়া মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ। এবার চল, না হলে সবাই ফ্রীতে আমাদের মার দিবে।”
“আচ্ছা চল,”
বলে নিশিতা সামনে এগোলো। রিয়া আর অহনা আগে আগে চলে গেল। নিশিতা হাঁটার জন্য এক পা বাড়াতেই হঠাৎ কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো যেন তার খুব আপন কেউ কাছেই আছে। বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠলো।

সবার আগে ফারিসের নামটাই মনে হতেই সে তড়িৎ গতিতে পিছনে ফিরে তাকালো।নিশিতা হাঁটার জন্য এক পা বাড়াতেই হঠাৎ অনুভব করল, খুব আপন কেউ যেন কাছেই আছে।
মনে প্রথমেই ফারিসের নামটা আসতেই তড়িৎ বেগে পিছনে ফিরল। আর সত্যিই ফারিস নিশিতার ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে। ফারিসের চোখে-মুখে মুগ্ধতা। যেন সামনে কোনো পরী দাঁড়িয়ে আছে।
চোখ দুটো নিশিতার উপর স্থির হয়ে গেল।
কোমল কণ্ঠে বলল,
“মাই ব্ল্যাক রোজ।”
নিশিতা অবাক হয়ে বলল,
“কি বললেন আপনি?”

ফারিস হঠাৎ নিশিতার কোমর ধরে তাকে নিজের কাছে টেনে নিল। নিশিতা বিরক্ত হয়ে ফিসফিস করে বলল,
“করছেনটা কি? ছাড়ুন। কেউ দেখে ফেলবে।”
কিন্তু ফারিসের কানে সেসব কথা ঢুকল না।
হালকা গুনগুন করে গাইতে লাগল,
Hai maine suni hai,
Pariyon ki kahani…
Waisa hi noor tera,
Chehra hai tera roohani…
নিশিতা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকে ফিসফিস করে বলল,
“আপনি এত সুন্দর গানও পারেন, মি. চৌধুরী?”
ফারিস হালকা হেসে বলল,

“আরও অনেক কিছু পারি। কিন্তু তুই এখানে কী করছিস?”
নিশিতা বিরক্ত গলায় বলল,
“আগে ছাড়ুন, তারপর বলছি।”
ফারিস তাকে ছেড়ে একটু দূরে গিয়ে বলল,
“বল এবার।”
নিশিতা চোখ নামিয়ে বলল,
“আসলে আপনার জন্যই এখানে ওয়েট করছিলাম।”
এই কথা শুনে ফারিস বুঝে উঠতে পারল না রাগ করবে না হাসবে।তারপর রাগি গলায় বলল,
“কে বলেছে তোকে এখানে আমার জন্য অপেক্ষা করতে? আর এতটা সময় তুই একা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলি!”
ঠিক তখনই রিভান কল শেষ করে এগিয়ে এসে বলল,

“আরে, মি. চৌধুরী যে!”
ফারিস হাত মিলিয়ে বলল,
“হ্যাঁ।”
রিভান বলল,
“এত দেরি করলেন কেন? আর মি. রাজীব চৌধুরী কোথায়?”
ফারিস স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“কিছু কাজ ছিল, তাই দেরি। রাজীব গাড়ি পার্ক করছে।”
রিভান মাথা নেড়ে বলল,

“ও আচ্ছা। চলুন, যাদের সাথে কাজ করবেন তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। সবাই ভিতরেই আছে।”
এসব কথার মাঝেই হঠাৎ করেই রিভানের চোখ গিয়ে থামলো নিশিতার ওপর। এক মুহূর্ত থেমে থেকে নিশিতার দিকে তাকিয়েই ফারিসকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ওনি কি আপনার বোন হন, মি. চৌধুরী?”
ফারিস কিছু বলবে তার আগেই রাজীব এগিয়ে এসে গম্ভীর গলায় বলল,
“হ্যাঁ। আমাদের সবচেয়ে আদরের বোন। নিশিতা।”
ফারিস আর কোনো কথা বলল না। শুধু চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইল, চোখে জমে উঠলো স্পষ্ট বিরক্তি। রিভান হালকা হাসি দিয়ে নিশিতার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
“হ্যালো, মিস নিশিতা।”

নিশিতা একবার ফারিসের দিকে তাকালো। দেখলো, সে রাগে কটমট করছে। সেই দৃষ্টিটাই যেন নিশিতার সিদ্ধান্ত বদলে দিল।হাত না বাড়িয়ে, একটু দূর থেকেই নরম গলায় বলল,
“হাই।”
ফারিস আর এক সেকেন্ডও দেরি করলো না। ঠান্ডা কিন্তু শক্ত গলায় বলল,
“এবার ভেতরে যাওয়া যাক, মি. তালুকদার?”
রিভান চোখে হালকা কৌতূহল লুকিয়ে রেখে
বলল,
“হ্যাঁ, অবশ্যই।”

তারপর সবাই একসাথেই ভেতরে ঢুকে পড়লো।
ভেতরে ঢুকেই নিশিতা প্রায় দৌড়েই চলে গেল অহনা আর রিয়ার কাছে। রিয়া নিশিতার মাথায় আলতো করে গাট্টা দিয়ে বলল,
“তুই কি ভালো হবি না, নিশি? একশো বার তোকে বলছি আমাদের থেকে দূরে দূরে ঘুরিস না। তাও কেন শুনছিস না?”
নিশিতা মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“আরে বাবা! আমি তো চলেই আসছিলাম। এমন করে মারলি কেন?”
ওদের কাণ্ড দেখে অহনা হেসে উঠলো,
“আচ্ছা আচ্ছা, হয়েছে। আর ঝামেলা করিস না।”
এরপর রিয়া আর নিশিতা পাশাপাশি একটা চেয়ারে বসলো। অহনা ওদের থেকে একটু দূরে আরেকটা চেয়ার টেনে বসল। ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ালেন মমতা তালুকদার। তাকে দেখে নিশিতা আর রিয়া সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালো।

মমতা তালুকদার স্নিগ্ধ হাসি নিয়ে নিশিতার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“মাশাল্লাহ! তুমি নিশিতা, তাই না?”
নিশিতা হালকা মাথা নেড়ে বলল,
“জ্বি।”
“এতো বড় হয়ে গেছো!”
মমতা তালুকদার আবেগে বললেন,
“আমার কথা মনে আছে? আমি কিন্তু তোমার বড় মায়ের বান্ধবী ছিলাম একসময়। বেশ কয়েকবারই তোমাদের বাড়িতে গেছি।”
তারপর রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আর রিয়া, তুমি কেমন আছো?”
রিয়া ভদ্রভাবে হাসি দিয়ে বলল,
“এই তো আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আন্টি।”
মমতা তালুকদার হেসে বললেন,

“অনেক বছর হয়ে গেল তোমাদের বাড়ি যাই না। তোমাদের জন্মেরও আগে গিয়েছিলাম। তারপর আফিয়ার সাথে মাঝে মাঝে ফোনেই কথা হতো। আর ভাগ্যক্রমে… তোমাদের সাথেই ডিলটা সাইন হলো।”
একটু থেমে বললেন,
“আচ্ছা, তোমরা বসো। আমি আসছি।”
নিশিতা আর রিয়া একসাথে মাথা নেড়ে বসল।
মমতা তালুকদার হেসে চলে গেলেন। আর এদিকে ফারিস রিভানসহ আরও কয়েকজন বিজনেসম্যানের সঙ্গে কথাবার্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো।কিন্তু কথার ফাঁকেই বারবার তার চোখ চলে যাচ্ছিল নিশিতার দিকেই। যেন ভিড়ের মাঝেও, নিশিতাই তার একমাত্র অস্থিরতার কারণ।

এদিকে একা বসে থাকা অহনাকে চোখে পড়তেই রাজীব প্রায় দৌড়েই চলে গেল তার দিকে।
হুট করে রাজীবকে এভাবে সামনে আসতে দেখে অহনা চমকে উঠলো। বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
“সমস্যা কি আপনার? এভাবে দৌড়াচ্ছেন কেন?”
রাজীব কোনো উত্তর না দিয়ে সরাসরি অহনার পাশের চেয়ারটায় বসে পড়লো। তারপর একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, অহনা।”
এমন কথা শুনে অহনা এক মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি থমকে গেল। কী বলবে, কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না।
“মানে…?”
অহনা একটু কুণ্ঠিত গলায় বলল।
রাজীব বিরক্তির সাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“কিছুই কি বুঝো না তুমি, মেয়ে? তোমার বয়সি মেয়েরা কী করে আর তুমি কী করো একবার ভেবে দেখেছো?”
কথার মানে বুঝতে পেরে অহনা হালকা হেসে ফেলল। আর রাজীব আবারও একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল যেন নিজের অস্থিরতা সামলানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে কথাবার্তার মাঝেই আরাফাত চৌধুরী রিভানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আচ্ছা, মি. তালুকদার, আমার সাথে যারা এই ডিলে কাজ করবে তারা কোথায়?
এখনো তো তাদের সাথে পরিচয়টাই হলো না।”
রিভান ভদ্র হাসি দিয়ে বলল,
“ওহ, শিওর। আসুন আমার সাথে। আমি আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।”
তারপর রিভানের সাথে এগিয়ে গেলেন ফারিস, আরাফাত চৌধুরী আর আলতাফ চৌধুরী।
হঠাৎ রিভান ডাক দিল,
“মি. জামান?”
আরিশ জামান পিছনে ফিরে তাকালেন।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ফারিসের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।সে কল্পনাও করেনি এই মানুষটাকে এখানে দেখতে হবে।
আবাক হয়ে ফারিস বলল

“আপনি…?”
ঠিক তখনই পিছন থেকে আরিশা এগিয়ে এসে আরেক দফা চমক লাগিয়ে বলল,
“ইয়েস, ফারিস। আমরা।”
ফারিস আরিশার দিকে তাকিয়ে রীতিমতো ধাক্কা খেল।
“তুই এখানে? What nonsense!”
কিন্তু আরিশার মুখে এক ফোঁটাও অস্বস্তি নেই।
নীলজ্জের মতো হেসে সে বলল,
“হ্যাঁ, ফারিস। এই ডিলের ২০% টেন্ডার আমাদের।”
একটু থেমে চোখে চোখ রেখে বলতে শুরু করল,
“দেখা হয়ে ভালো লাগলে তোমার সাথে।”
আর ফারিস তখনো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে—বোঝার চেষ্টা করছে, এই নতুন খেলায় আসলে কে শিকার
আর কে শিকারি। রিভান কথাবার্তার ভেতরের চাপা উত্তেজনার কিছুই বুঝতে না পেরে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রশ্ন করল,
“আপনারা কি একে অপরকে চেনেন?”

ফারিস বিরক্ত চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা কিন্তু ধারালো কণ্ঠে বলল,
“না। চিনি না। আর চিনতেও চাই না।”
ফারিসের এমন কঠিন উত্তর শুনে রিভান এক মুহূর্ত থমকে গেল। কী বলবে বুঝে উঠতে না পেরে, পরিস্থিতি সামলানোর জন্য হালকা হেসে বলল,
“আশা করি আপনাদের দুই টিমের কাজের বন্ডিং ভালো হবে।”
ফারিস আর আরিশার মধ্যে যতই পারসোনাল সমস্যা থাকুক না কেন, আরাফাত চৌধুরী জানতেন কাজের জায়গায় ফারিস এসব আনবে না। তাই সবাই চুপ করেই রইলো।
ফারিস সংক্ষিপ্তভাবে বলল,
“হ্যাঁ, অবশ্যই। আমাদের সম্পর্কটা কাজ অব্দি আর কাজ পর্যন্তই থাকবে।”
একটু থেমে যোগ করল,

“Okay guys, I’ll take a break now.”
এই বলেই ফারিস মকটেল কাউন্টারের দিকে গিয়ে বসল।আরিশাকে দেখে যে ফারিস একটুও খুশি হয়নি, সেটা বুঝতে কারো বাকি রইলো না। তবুও পরিস্থিতি নষ্ট না করতে সবাই নীরব থাকলো।
কিছুক্ষণ পর আরিশা ফারিসের পিছনে পিছনে গেল। গিয়ে তার পাশের চেয়ারটায় বসে ফারিসের দিকে তাকিয়ে নরম কিন্তু চাপা অভিমান
নিয়ে বলল,
“কি হলো, ফারিস? এমন করছো কেন? দেখো তোমাকে ভালোবেসে আমি ঠিক কতটা দূর চলে এসেছি।”
একটু থেমে কাঁপা গলায় বলল,
“তাও কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে না, ফারিস?”
ফারিসের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। চোখে না রাগ, না মায়া শুধু জমে থাকা শীতলতা।
আরিশা বিরক্ত হয়ে বলল,

“আমার মধ্যে এমন কী কম আছে, ফারিস? যে আমাকে ভালোবাসা যায় না?”
এবার আর চুপ থাকতে পারলো না ফারিস। এতক্ষণ জমে থাকা রাগ যেন বিস্ফোরণ ঘটালো।
এক প্রকার চিৎকার করেই উঠে বলল,
“Shut up! Just shut up, bloody bitch!”
চোখে আগুন যেন আরিশাকে শেষ করে ফেলবে,
“ভেবেছিসটা কি তুই নিজেকে? তোর মতো মেয়েকে এই ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী ভালোবাসবে?”
কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠলো,
“আমি যাকে ভালোবাসি, তুই তার নখের যোগ্যও না। আর এই ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী তোর দিকে কখনো ফিরেও তাকাবে না।”

এক কদম সামনে এগিয়ে দাঁত চেপে বলল,
“আর একটা কথা বললে… তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো আমি।”
এই কথা বলেই ফারিস গটগট পায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। আরিশার চোখ দিয়ে নিঃশব্দে দু’ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। কানে শুধু বাজতে থাকলো ফারিসের বলা কথাগুলো। নিজেকেই প্রশ্ন করল , ফারিস কি সত্যিই কাউকে ভালোবাসে?
ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী কি আদৌ কাউকে ভালোবাসতে পারে? হঠাৎ যেন কিছু একটা বদলে গেল তার চোখের ভেতর। চোখের পানি মুছে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি টেনে বলল,
“শেষ পর্যন্ত… তোমাকে আমারই হতে হবে, ফারিস।”
চোখে অন্ধ জেদের ঝিলিক,

“তুমি যাকে ভালোবাসো, দরকার হলে তাকে এই পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেবো। তাও আমি তোমাকে ছাড়বো না।”
আরিশা জামান নিজের ভালোবাসাকে অন্য কারো হতে দেবে না মানে না।এই বলেই উঠে দাঁড়ালো।হঠাৎ করেই হলরুমজুড়ে এনাউন্সমেন্ট ভেসে
এলো,
“Ladies and gentlemen, it’s time for the couple dance!”
মুহূর্তেই চারপাশ ভরে উঠলো হাততালিতে।
রিয়া আর নিশিতাও একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।এক এক করে সব কাপল নাচের ফ্লোরের দিকে যেতে থাকলো।
আলো, মিউজিক আর মানুষের কোলাহলে পুরো পরিবেশটাই বদলে গেল।
এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইল না রাজীব।
অহনার দিকে তাকিয়ে একটু দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল,.

“এই মেয়ে, নাচবি আমার সাথে?”
অহনা তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,
“নাহ… আমি নাচ করতে পারি না।”
কিন্তু রাজীব কথা শোনার লোক না।সে অহনার হাত ধরে টানতে টানতে বলল,
“আমি শিখিয়ে দেবো। চল এবার।”
অহনা কিছু বলার আগেই সে তাকে নাচের ফ্লোরের দিকে নিয়ে গেল।অন্যদিকে কিয়াস তনয়ার দিকে তাকিয়ে ভদ্র গলায় বলল,

“কি ম্যাডাম? নাচবেন আমার সাথে?”
তনয়া হালকা লাজুক হাসি দিয়ে বলল,
“কিন্তু… আমি তো আগে কখনো নাচিনি।”
কিয়াস হাত বাড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে
বলল,
“আজ নাচবেন। আমার সাথে। আসুন।”
তনয়া একগাল হেসে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল।
তারপর দু’জন পাশাপাশি নাচের ফ্লোরে এগিয়ে গেল।চারপাশে হাসি, কথা, মিউজিক—সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম রাত।

কিন্তু এসবের মাঝেও রিভান একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল শুধু একজনের দিকে নিশিতা।নাচের ফ্লোরে আলোর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা নিশিতাকে তার চোখ সরতেই চাইছিল না।মনে হচ্ছিল, একটু এগিয়ে গেলেই হয় একটা কথা বললেই হয় কিন্তু ঠিক তখনই তার মনে ঢুকে পড়লো অজানা এক ভয় যদি নিশিতা তার সাথে কথা না বলে? যদি তাকিয়েও না চায়?
এই ভাবনাটাই যেন তার সাহসটা ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছিল।পা দুটো এগোতে চেয়েও এগোচ্ছে না।
রিভান দূর থেকেই তাকিয়ে রইলো নিশিতার দিকে,
তার হাসির দিকে,আর নিজের বুকের ভেতর জন্ম নেওয়া সেই অচেনা অনুভূতির দিকে।এদিকে নাচের এনাউন্সমেন্ট কানে যেতেই আরিশা আর দেরি করলো না।
সে সোজা ফারিসের কাছে এগিয়ে গিয়ে চোখে কৃত্রিম উষ্ণতা এনে বলল—

“এসো ফারিস, আমরা নাচ করি।”
কিন্তু ফারিস যেন তার অস্তিত্বই টের পেল না।
একবারও তাকাল না আরিশার দিকে।
তার চোখ তখন শুধু এক দিকেই নিশিতা।নিশিতার চোখে-মুখে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ফুটে উঠেছে।হালকা হাসি, লাজুক উত্তেজনাসব মিলিয়ে তাকে আজ আলাদা লাগছিল।ফারিস তাকিয়ে বাকা একটা হাসি দিল।তারপর সোজা নিশিতার সামনে গিয়ে বলল,
“নাচ করবি?”
নিশিতা যেন এই কথাটারই অপেক্ষায় ছিল।
এক মুহূর্তও দেরি না করে বলল,
“হ্যাঁ, ফারিস ভাই।”
ফারিস হাত বাড়িয়ে দিয়ে নরম কিন্তু অধিকারী গলায় বলল,
“আয় তাহলে, আমার সাথে।”
আরিশা এসব দেখে যেন আকাশ থেকে পড়লো।
ফারিস নিজে কাউকে এভাবে নাচের জন্য ডাকছে
এই দৃশ্যটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না সে।
আর নিশিতার প্রতি জমে থাকা রাগটা তীরতীর করে বাড়তে লাগলো।এদিকে রিয়াও পুরো দৃশ্যটা দেখে হতভম্ব। মনে মনে বলল,

“নিশির কথায় কে বিশ্বাস করবে? আমার ভাইটা তো দেখি নিশি বলতে পাগল।”
ফারিস নিশিতার হাত ধরে তাকে নিয়ে গেল ডান্স ফ্লোরে।ধীরে ধীরে গান বাজতে শুরু করলো।
আলো-ছায়ার খেলায় চারপাশটা নরম হয়ে এলো।
সবাই নিজের পার্টনারকে নিয়ে নাচতে শুরু করলো।নাচের মাঝেই ফারিস হঠাৎ নিচু গলায় বলল,
“তুই কি আমাকে একটু নিশ্চিত থাকতে দিবি না?”
এই কথায় নিশিতা একেবারেই অবাক। নাচের ছন্দে তাল মিলিয়েই ফারিসের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি আবার কী করলাম?”

ফারিস তাকে আলতো করে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল,
“এই যে… তোর সুন্দর চোখজোড়া। আজ কাজল দিয়েছিস।”
একটু থেমে কণ্ঠ ভারী করে বলল,
“জানিস, আমি বাদে কতজন তোর এই চোখের মায়ায় পড়ে যাচ্ছে তা জানিস?”
তার গলায় চাপা যন্ত্রণা,
“এই যন্ত্রণা যদি তুই বুঝতি…”
নিশিতা বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে বলল,
“আপনি কী বলতে চান?”
ফারিস তাকে আবার ঘুরিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল।তার কণ্ঠ এবার আরও নিচু, আরও গভীর,
“আমি চাই না… আমার হক, আমার জন্য তৈরি করা এই সৌন্দর্য অন্য কেউ দেখুক।”
তার নিঃশ্বাস নিশিতার কানের কাছে,

“আমার জিনিসটার সৌন্দর্য শুধু আমি দেখতে চাই, নিশি।আর কাউকে দেখতে দিতে চাই না।”
নিশিতা নরম কণ্ঠে, একটুও দ্বিধা না রেখে বলল,
“তাহলে আজকে থেকে আর কাজল দেবো না।”
ফারিসের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো।নাচ চলতে থাকলো,কিন্তু ডান্স ফ্লোরের মাঝখানে।এদিকে ডান্স ফ্লোরে ফারিস আর নিশিতাকে এতটা কাছাকাছি দেখে রিভানের দু’হাত অজান্তেই মুঠো হয়ে গেল।

চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে উঠেছে।
কেন জানি নাএই দৃশ্যটা তার সহ্য হচ্ছিল না।
ফারিসের হাত নিশিতার কোমরে,নিশিতার নিঃশ্বাস ফারিসের বুকের এত কাছে,
সবকিছু যেন রিভানের বুকের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল।রাগের তোপে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।হাতে ধরা জুসের গ্লাসটা এমনভাবে চেপে ধরেছে মনে হচ্ছিল, আর একটুখানি চাপ পড়লেই গ্লাসটা ফেটে যাবে। চোখ সরাতে পারছে না,

আবার তাকিয়েও থাকতে পারছে না।
নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বলল,
“এতটা কাছে… কেন?”
আর অন্যদিকে আরিশা।তার চোখে তখন শুধু আগুন। রাগে রাগে সাপের মতো ফসফস করতে থাকলো ।নখগুলো তালুর ভেতর গেঁথে যাচ্ছে,
কিন্তু তাতেও রাগ কমছে না।মনে মনে বিষাক্ত স্বরে বলল,
“আজকে তুই বাঁচবি না, নিশি।ফারিস আমাকে ছেড়ে তোর কাছে গেলো?”
চোখ সরু করে ডান্স ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে ভাবল,
“এতটা ভালোবাসে তোকে?”

ঠোঁট কামড়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“কালকে… যেভাবেই হোক, ফারিসকে আমার করে নেবো আমি।”
চোখে অন্ধকার সিদ্ধান্ত,
“আর আজকে… আজকে তোকে আমি ছাড়বো না।”

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৩

হলের আলো ঝলমল করছে,গান বাজছে, মানুষ হাসছেকিন্তু এই হাসির আড়ালেই জন্ম নিচ্ছে
দুটি ভয়ংকর আগুন।একটা ঈর্ষায় পোড়া হৃদয়ের,
আরেকটা অন্ধ ভালোবাসার নামে জন্ম নেওয়া প্রতিশোধের।আর ডান্স ফ্লোরের মাঝখানে
সবকিছু না জেনেইনিশিতা তখনো ফারিসের হাত ধরে ঘুরছে যেন ঝড়ের ঠিক আগের শান্ত মুহূর্তটা উপভোগ করছে।

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৪