Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৪

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৪

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৪
আরোবা চৌধুরী আরু

সায়মান দীর্ঘ চুম্বনের পর নাফিসার চোখের দিকে গভীরভাবে তাকাল। এক মুহূর্তে তার সব আবেগ, ভালোবাসা, যত্ন, উদ্দীপনা সবই একত্রিত হয়ে তার চোখের মাধ্যমে প্রকাশিত হোক। নাফিসা কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকেও নিজের দম নিতে পারছিল না। আর নাফিসার চোখে লজ্জা ও উত্তেজনা।
সায়মান ধীরে ধীরে নাফিসাকে কোলে তুলে বেডের মাঝখানে বসাল। নাফিসা প্রথমে হকচকিয়ে গেল, তবে তার দম-বন্ধ করা হৃদয় ধীরে ধীরে শান্ত হলো সায়মানের উপস্থিতি অনুভব করে। দুইজনের নিঃশ্বাস মিলল, এবং ঘরের নিঃশব্দ পরিবেশ যেন তাদের আবেগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ালো।
সায়মান দুই হাত দিয়ে নিজের শার্ট এর বোতাম খুলতে হাত বাড়ালো কি মনে হতে হাত স্থির করে ফেলল। নাফিসা কে এক হাত দিয়ে টেনে উঠে বসালো নিজে নাফিসার দিকে এগিয়ে গিয়ে নাফিসার হাতটা নিজের শার্টের বোতামের ওপর রাখল,

“শার্টের বোতাম খোলো ফার্স্ট ফার্স্ট কাজ করবে। ”
নাফিসা লজ্জায় লাল হয়ে গেল ওর হাত কাঁপছে। সেটা দেখে সায়মান বললো,,
” বউ আমার শার্ট এর বোতাম খুলতে গিয়ে হাত কাঁপছে তোমার। তুমি তো প্রথম আমাকে এভাবে দেখবে না কলিজা,এর আগে দেখেছো অনেকভাবে। তাড়াতাড়ি খোলো আমি আর ওয়েট করতে পারছি না। লেট করলে তোমাকে দিয়ে প্যান্টের চেন ও খুলিয়ে নিব। সো ফাস্ট। ”
এই কথা শোনা মাত্রই নাফিসার লজ্জায় মিশে যেতে ইচ্ছা করলো মাটির সাথে।
“ছিঃ কি নির্লজ্জ হয়ে উঠেছে তার হালাল পুরুষ। বিশ্বাস নেই এই লোকের এটাও তার দিয়ে করে নিতে পারে। ”
তাই তাড়াতাড়ি করে কাঁপা কাঁপা হাতে বোতাম খোলা শুরু করল।
নাফিসাকে এভাবে ধীরে সুস্থে কাজ করতে দেখে সায়মান বিরক্ত হয়ে। নাফিসার হাত হালকা করে সরিয়ে দিয়ে, নিজের দুই হাত দিয়ে জোরে শার্ট এর মাঝ টান দিতে বোতামগুলো ছিড়েঁ ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে গেল। এক টান দিয়ে শার্টটা খুলে দূরের ফেলল।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

নাফিসা অবাক হয়ে সায়মানের দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে সায়মান নাফিসার জামার চেন একটান দিয়ে খুলে দিতেই নাফিসা হুঁশ ফিললো।
আরো কিছু বুঝে ওঠার আগে নিজের গায়ে বস্ত্র মাটিতে আবিষ্কার করল।
সায়মান নাফিসার উপর আধশোয়া হয়ে,, নাফিসা চুলগুলো কানে গুঁজে দিয়ে,
“বউ এত অবাক হলে হবে, অভ্যাস করে নিতে হবে আমাকে। এরপর থেকে তুমি আমাকে হেল্প করবা। আর কাঁপা কাঁপা হাতে না! আবেগি আবেগ ভরা নিয়ে তোমার হাজার পুরুষকে নিজের কাছে টেনে নিবে আরো। ”
বলেই আবার নাফিসার ঠোঁটে নিজের সব তো ছোট বসিয়ে দিল ক্রমাগত রাজত্ব করতে থাকলো তার পিচ্চি বউ এর ঠোঁটে।

আস্তে আস্তে গলায় এসে নামলো, নাফিসা তার হালাল পুরুষের স্পর্শ পেয়ে হালাল পুরুষের পাগলামোতে সায় দিতে লাগলো। আগলে নিল হালাল পুরুষের সমস্ত ভালোবাসা। পুরো ঘর জুড়ে আস্তে আস্তে দুজন ছড়িয়ে পড়লো।
ঘরটি ধীরে ধীরে তাদের আবেগে ভরে উঠল। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ছোট স্পর্শ, প্রতিটি দৃষ্টি তাদের মধ্যে এক নতুন ধরণের সংযোগ সৃষ্টি করছিল। নাফিসার হাত কেঁপে উঠছিল, কিন্তু সায়মান তার হাত ধরে, চোখে কোমল হাসি মেশিয়ে বলল, “দেখো, বউ, আমি এখানে আছি। শুধু অনুভব কর, আর বাকিটা আমার দিকে ছেড়ে দাও।”
নাফিসা ধীরে ধীরে বোঝাল যে সে তার সমস্ত লজ্জা, সমস্ত ভয় এবং সমস্ত আবেগ একসাথে দিয়ে দিচ্ছে। সে তার হাত কাঁপা কাঁপা হলেও সায়মানের প্রতি বিশ্বাস এবং ভালোবাসা প্রকাশ করছে । এই মুহূর্তে, তার হৃদয় এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করছিল।
সায়মান নাফিসার পাশে বসে তার চোখে চোখ রেখে বলল, “এতটা লাজুক হতে হবে না। তা হলে, তোমার নিজেরই আরও কষ্ট পেতে হবে ভালোবাসার কষ্ট।
নাফিসা লজ্জায় চোখ বুঝে নিল।

ঘরে ধীরে ধীরে সেই নিঃশব্দ আবহাওয়া তাদের আবেগের আড়ালে মিশে গেল। নাফিসা বুঝতে পারল, এই মুহূর্তে কোনো লজ্জা বা ভয় নয়, শুধু ভালোবাসা এবং সংযোগই প্রয়োজন। নাফিসা তার হাত ধরে এবং নিজের শরীরের প্রতিটি আন্দোলন অনুভব করতে লাগল।
“দেখো, বউ,” সায়মান বলল, “তুমি এখন এই মুহূর্তের জন্য তৈরি। সব কিছু আমি বুঝতে পারছি, তোমার সমস্ত আবেগের সঙ্গে যুক্ত আছি। তুমি নিজের হাত কাঁপা কাঁপা হলেও সেটা ঠিক আছে। আমি তোমাকে নিয়ে সব বুঝতে পারছি।”

“শুধু অনুভব কর। সব ঠিক আছে। আমি তোমার পাশে আছি।”
নাফিসা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিল। সে বুঝল, এই মুহূর্তে শুধুই আবেগ, প্রেম, বিশ্বাস এবং সংযোগই প্রয়োজন। ঘরটি তাদের ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠল। তারা একে অপরের দিকে চেয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে লাগল।
এইভাবে, পুরো ঘরটি তাদের ভালোবাসা এবং সংযোগের সাক্ষী হয়ে উঠল। নাফিসা তার হৃদয় দিয়ে সব কিছু অনুভব করল। সায়মান তার পাশে বসে, চোখে মায়া নিয়ে তার আবেগ গ্রহণ করল। নিঃশব্দে, কিন্তু গভীরভাবে, তারা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলো।

গাড়িটা এসে ধীরে থামলো রাশিদ ভিলার সামনে। সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এসেছে, চারপাশে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। সায়ফান একবার পিছনে তাকালো ———— রিশা এখনো নিঃশব্দে কাঁদছে, গলা দিয়ে হালকা ফোঁপানির মতো শব্দ বের হচ্ছে। চোখদুটো ফুলে গেছে, মুখটা ফ্যাকাশে। আর পাশে বসা জারিন চুপচাপ রিশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, শান্ত করার চেষ্টা করছে।
গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হতেই, ভেতরে একটা ভারী নীরবতা নেমে এল। সায়ফান হালকা গলায় বলল,
“চলে এসেছি। নামো দু’জন।”
রিশা সায়ফানের দিকে তাকালো ——— — চোখে অভিমান, কষ্ট, আর একরাশ অপমানের ছাপ। এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল, তারপর কিছু না বলে দরজা খুলে নেমে দৌড়ে ভেতরের দিকে চলে গেল।
তার পায়ের আওয়াজ মিলিয়ে যেতেই, সায়ফান একটা ভারী নিঃশ্বাস ফেলল।
জারিন কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। তারপর ধীরে দরজা খুলে নামল, দাঁড়িয়ে বলল,
“আপনি যেটা করলেন, ঠিক করেননি সায়ফান ভাই।”
সায়ফান চমকে তার দিকে তাকালো,

“মানে?”
জারিন সোজা তাকিয়ে বলল,
“রিশা আকাশ ভাইকে ভালোবাসে অনেক দিন থেকে । আকাশ সবসময় এড়িয়ে চলেছে ওকে৷ আপনি যে ব্যাবহারটা দিলেন এটা যে ঘটতে পারে আগের থেকেই হয়ত বুঝতে পেরেছিল। এখন বুঝতে পারছি আকাশ ভাই নিজের জায়গায় ঠিক আছে। তার কষ্টটাও কম না।
“আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয়েছে সেটাই করছি।” সায়ফান জারিনের দিকে তাকিয়ে বলল।
জারিন সায়ফানের দিকে তাকিয়ে আবার বলা শুরু করলো,
” আপনার এই ঠিক করা কাজটা ঠিক না বেঠিক জানি না। কিন্তু, আপনি কি জানেন ও কতটা কষ্ট পেয়েছে? আপনি ওর ভাই, ওর ভরসার জায়গা। আজ আপনি ওর সবচেয়ে বড় ভয়টা সত্যি করে দিলেন।”
সায়ফান চুপ। মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল, কিন্তু কথা খুঁজে পাচ্ছে না। বুকের ভেতর কেমন এক অজানা ভার জমে উঠছে।
কিছুটা কঠিন গলায় বলল,

“রিশার ভাই হিসেবে যেটা ঠিক মনে হয়েছে, আমি সেটাই করেছি। আমার মনে হয় ওর ভালো হবে এভাবে।”
জারিন মাথা নেড়ে বলল,
“ এত কিছু বললাম তবুও বুঝলেন না সেম কথা আবার বলছেন। নিজে যে দিন এমন পরিস্থিতিতে পরবেন সেদিন বুঝতে পারবেন। সবসময় যা ভালো মনে হয়, তা ভালো হয় না সায়ফান ভাই। আপনি রাগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অনুভূতি দিয়ে না। ওর চোখের দিকে তাকাননি একবারও, না হলে বুঝতেন ওর কষ্টটা কত গভীর।”
সায়ফান কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থাকল। চোখের ভেতর কেমন যেন ধোঁয়াটে অন্ধকার জমে উঠছে। মনে পড়ছে গাড়ির ভেতরে রিশার ফুঁপিয়ে ওঠা শব্দ, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে “ভাই” বলা।
মাথার ভেতর যেন কারো কণ্ঠ বাজছে ———— “আপনি যেটা করলেন, ঠিক করেননি…”
সে আস্তে বলল,

“আমি ভুল করলাম নাকি?”
জারিন কোমল গলায় বলল,
“ভুল না বলব না, কিন্তু একটু কঠিন হয়ে গেছেন আপনি। রিশা ওর নিজের ভুলের শাস্তি আগেই পাচ্ছে ——— — আর ওর ভুলটা মনে হয় কাউকে ভালোবাসা। ওকে বুঝতেন সব শুনতেন তারপর সিদ্ধান্ত নিতেন কোন রিঅ্যাকশন দেখানোর আগে। কখনও কখনও মানুষকে বোঝানো ভালো, শাস্তি নয়।”
সায়ফান নিচে তাকাল। তার বুকের ভেতর চাপা একটা ব্যথা জমে উঠছে, গলায় কিছু আটকে গেছে।
“ কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, এটাই ওর জন্য সঠিক।”
জারিন মৃদু হেসে বলল,
“সবাই ভুল করে এই বেলায়, কিন্তু কেউ যদি পাশে দাঁড়িয়ে বোঝায়, তখনই মানুষ শেখে। আপনি ওর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, অথচ ও আপনাকে সবচেয়ে বেশি দরকার এখন।”
এই কথাগুলো যেন সায়ফানের বুক ভেদ করে ঢুকে গেল। হঠাৎ করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে জারিনের মুখটা আলাদা লাগল।

কণ্ঠটা শান্ত, কিন্তু দৃঢ়। চোখে মায়া আছে।
এই মেয়েটাকে সে আগে এত মন দিয়ে দেখেনি,
কিন্তু আজ হঠাৎ মনে হচ্ছে, এ মেয়েটা শুধু কথা বলছে না, বরং তাকে ভিতর থেকে বুঝছে।
সায়ফান হালকা গলায় বলল,
“চশমা তুমি ঠিক বলছো হয়তো… আমি একটু বেশি কঠিন হয়ে গেছি।”
জারিন হাসল,
“মানুষের ভালো থাকা চাইলে, তার ওপর নরম হতে জানতে হয়।”
সায়ফান তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ।
তার মনে হঠাৎ করেই একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করল ———
জারিনের কথা, তার শান্ত গলা, চোখের কোমলতা ——— সবকিছু মিলিয়ে কেমন এক অজানা ভালো লাগা তৈরি হলো।

তার কাঁধের ভার যেন একটু হালকা লাগছে, আবার হৃদয়ে কেমন উষ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
গেটের পাশে দাঁড়িয়ে জারিন বলল,
“চলুন, এখন ভেতরে যান। রিশা হয়তো আপনাকে দরকার।”
সায়ফান ধীরে মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ… ”
জারিন হাঁটতে শুরু করল, আর সায়ফান তার দিকে তাকিয়ে রইল।
মনটা অদ্ভুতভাবে নরম হয়ে এসেছে।
সায়ফান গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে একবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল,
চোখ তুলে তাকাল জারিনের পিছু হটা ছায়ার দিকে।
“সবসময় যা ভালো মনে হয়, তা ভালো হয় না…”

সায়মানের বুকের ওপর শুয়ে আছে নাফিসা। দীর্ঘ সময়ের নিঃশব্দ ভালোবাসা, স্নেহ আর গভীর ক্লান্তি যেন তাদের চারপাশের বাতাসে মিশে গেছে। ঘরের ভেতর একটিমাত্র বাতি জ্বলছে — —— তার নরম আলোয় নাফিসার মুখটা আরও শান্ত, আরও কোমল লাগছে।
সায়মান ধীরে ধীরে তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, মাঝে মাঝে নাফিসার কপালে চুমু খাচ্ছে। কোনো শব্দ নেই।
নাফিসা চোখ বন্ধ করে রেখেছে, কিন্তু সে অনুভব করছে সায়মানের প্রতিটা ছোঁয়ায় যত্ন মিশে আছে। সেই যত্নে তার বুকের সব ক্লান্তি যেন গলে যাচ্ছে। সে জানে, এই মানুষটা শুধু তার জন্যই, তার প্রতিটি স্পন্দনের ভেতর সায়মানের উপস্থিতি জড়িয়ে আছে।
“তুমি এত চুপ কেন, বউ?” সায়মান নিচু স্বরে বলল।
নাফিসা একটু মাথা তুলে সায়মানের দিকে তাকাল। চোখে একধরনের মায়া, শান্তি।
“চুপ আছি কারণ আপনার বুকের ওপর শুয়ে থাকলেই মনে হয় পৃথিবীটা থেমে গেছে।”
সায়মান মৃদু হেসে নাফিসার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।

“ তাই নাকি! আমার বউ দেখি ভালো কথা শিখে গেছে। সব কি আমার দেওয়া আদরের জোর নাকি বউ।”
নাফিসা খানিক লজ্জা পেল সায়মানের কথায়।
সায়মান সেটা দেখে হেসে দিলো,তারপর আবার বললো,
“পৃথিবী থেমে গেলে তো আমরা বাঁচব না, বউ।”
“তবু যদি এমনই থেমে যেত সব…” — ——— নাফিসা ফিসফিস করল,
“তাহলে কোনো ভয় থাকত না।”
সায়মান কিছু বলল না। শুধু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর সায়মান নরম গলায় বলল,
“চলো, এবার উঠো। একটু ফ্রেশ হয়ে নিই।”
নাফিসা উঠতে গেলে, কমফোর্ট এর নিচে থাকা নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে আবার সায়মানের বুকের সাথে লেপ্টে গেল।

সায়মান মৃদু হাসল, তারপর তাকে উঠে একটা টাওবাল নিয়ে নাফিসার গায়ে পেচিয়ে দিলো। আলতো করে নিজের কোলে তুলে নিল।
নাফিসা তার হালাল পুরুষের গলা ধরে বুকে মুখ গুঁজে দিলো।
সায়মান নাফিসার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
” বউ কার থেকে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করছো। তোমার এমন কিছু নাই যে আমি দেখি নি কলিজা।”
নাফিসা আরো একটু গুটিয়ে গেল তার স্বামী নামক হালাল পুরুষের বুকে।
সায়মান বাথরুমের ভিতর নিয়ে এসে নিচে দাঁড় করিয়ে দিলো।

শাওয়ার অন করে দিলো। তারপর সায়ামান তার বউকে নিজ হাতে গোসল করিয়ে দিলো। দু’জনের মাঝে এমন এক নীরবতা, যা কথার চেয়েও জোরালো। শুধু তাদের নিঃশ্বাস, আর মাঝে মাঝে পানির শব্দ। সময় যেন থেমে গেছে, তারা যেন একে অপরের শান্তিতে ভাসছে। সায়মানের দেওয়া ছোঁয়া পেয়ে নাফিসা বারবার সেই ছোঁয়া কেঁপে উঠছে।
গোসল শেষে নাফিসা যখন তোয়ালে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল, তখন নিজের চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেখল। ক্লান্তি নেই, শুধু একরাশ নরম আলো। সায়মান তার পিছনে এসে দাঁড়াল, নাফিসার ভেজা চুল কাঁধ থেকে সরিয়ে দিল।

“এই চোখদুটো এমন উজ্জ্বল কেন আজ?” সায়মান মৃদু স্বরে বলল।
নাফিসা আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল,
“হয়তো আপনার যত্নে ধুলে গেছে সব ভয় আর ভলোবাসা মিশে আছে।”
সায়মান নাফিসার দিকে একবার তাকিয়ে বললো,
” চুপ করে এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে আমি আসছি,ওয়েট।”
নাফিসা মাথা নেড়ে চুপ করে রইল। তার ঠোঁটে এক হালকা হাসি, চোখে শান্তি।
সায়মান আলমারির দরজা খুলে ভেতর থেকে একটা ছোট গিফট ব্যাগ বের করল। নাফিসা আয়নার সামনে চুল শুকোচ্ছিল। সায়মান কাছে এসে ব্যাগটা ওর সামনে ধরল।
“এইটা তোমার জন্য, বউ।”
নাফিসা অবাক হয়ে তাকাল।

“আমার জন্য?”
সায়মান মাথা নাড়ল, ঠোঁটে হালকা হাসি।
“দেখ।”
নাফিসা ধীরে ব্যাগটা খুলল। ভেতর থেকে একখানা পিংক রঙের গাউন বের হলো। চোখদুটো এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল, তারপর অবিশ্বাসের স্বরে বলল,
“এই ড্রেসটা… এটা তো আমি… প্রথম দিন শপিংয়ে গিয়েছিলাম আপনার , রিশা আর রুহির সাথে ——— — তখন দেখেছিলাম! এটা তো অনেক দাম ছিল!”
সায়মান মৃদু হেসে নাফিসার দিকে তাকাল।
“জানি। তুমি তখন তাকিয়ে ছিলে ওটার দিকে, কিন্তু বলোনি কিছু। আমি বুঝে গেছিলাম তোমার চোখে ওটার প্রতি কেমন টান ছিল। তাই কিনে রেখেছিলাম। ভাবছিলাম, ঠিক সময়টাতে দেব বউ।”
নাফিসা অবাক হয়ে চেয়ে রইল। চোখে জল চলে এলো অজান্তেই।

“আপনি এমন কেন করেন?”
সায়মান নাফিসার হাতটা ধরল, আলতো করে নিজের বুকে টেনে নিল।
“কারণ আমি চাই, আমার বউ এর হাসিটা যেন আমার হাতে থাকে।”
নাফিসা আর কিছু বলতে পারল না। শুধু মৃদু হেসে মাথা নামিয়ে রাখল সায়মানের বুকে।
সায়মান বলল,
“চলো, এখন রেডি হও। আজকে আমাদের এক্সক্লুসিভ ডেট।”
নাফিসা অবাক হয়ে বলল,
“ডেট? এখানে?”
সায়মান চোখ টিপে বলল,
“হ্যাঁ।”

একটু পর নাফিসা যখন পিংক গাউন পরে আয়নার সামনে দাঁড়ালো, হালকা ওয়েভ করা চুল, গলায় একফোঁটা পারফিউমের ঘ্রাণ, চোখে শান্তি আর ঠোঁটে মৃদু হাসি।
সায়মান দরজায় ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, শরীরে মিলিয়ে হালকা পিংক শার্ট, সাদা শর্টস। নাফিসাকে দেখে চোখের ভেতর ঝলকে উঠল ভালোবাসা।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪২+৪৩

এগিয়ে এসে পকেট থেকে একটা পেন্ডেন্ট বের করে নাফিসা পড়িয়ে দিল। পরিয়ে দেওয়ার সময় সায়মানের হাতের ছোঁয়া নাফিসার গলায় ঘাড়ে লাগছে। সেই ছোঁয়ায় নাফিসা নিশ্বাস দূরত্ব হয়ে যাচ্ছে।
পড়িয়ে দেওয়া হয়ে গেলে আয়নায় নিজেদের দেখে নিয়ে, নাফিসার ঘাড়ে একটা চুম্বন একে দিতে দিতে বলল,
“এই পৃথিবীতে যদি সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কেউ বদলে দিতে পারে, সেটা তুমি, বউ।”
নাফিসা লজ্জায় নিচে তাকাল।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৫