চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৬
আরোবা চৌধুরী আরু
পর্দার আড়ালে সাদা গোলাপের পাপড়ি ধীরে ধীরে থেমে এলে, নাফিসা হালকা নিশ্বাস ফেলে চোখ বুজে রইল। সারা রাতের ক্লান্তি, লাজ, আর অতিরিক্ত আবেগ মিলেমিশে যেন শরীরটা দুলে উঠছিল। সায়মান তার কপালে ছোট্ট একটা চুমু এঁকে উঠে বসলো। নরম গলায় বলল,
“চলো বউ, ঠাণ্ডা একটু পানিতে নামা দরকার। তোমাকে তো পুরো লাল করে ফেলেছি।”
নাফিসা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলল, তার সায়মানের পিংক কালারের শার্টটা জড়িয়ে বসে পড়ল।
টেন্টের পর্দা সরাতেই ঠাণ্ডা সমুদ্রের বাতাস শরীর ছুঁয়ে গেল। রাতের চাঁদ সেই একই — —— রুপালি, শান্ত, আর যেন ওদের দুজনের সুখের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দূরে ঢেউগুলো মোলায়েম শব্দ তুলছে।
সায়মান নাফিসার হাতটা ধরে কাছে টেনে বলল,
“একটু পানি ছুঁইয়ে আসো না? ভয় নেই, আমি আছি।”
নাফিসা মাথা নাড়ল,
“এভাবে রাতে? যদি কেউ দেখে ফেলে?”
সায়মান মুচকি হাসল,
“কেউ নেই, পুরো বিচটা বুক করে রেখেছি তোমার জন্য। চল।”
দু’জনে বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রের কাছে এলো। নাফিসার জড়োসড়ো ভাবে হেঁটে যাচ্ছে, সেটা দেখে মৃদু হেসে, সায়মান এক হাত দিয়ে নাফিসাকে কাঁধে তুলে নিল, নাফিসা চমকে উঠলো এভাবে কাঁধে তুলে নেওয়ায় শার্ট হাটু থেকে অনেকটা উপরে উঠে গেছে লজ্জায় মুখ ডুবিয়ে দিল তার হালাল পুরুষের গলায়।
সায়মানের ভিতর কোন প্রতিক্রিয়া নেই ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের কাছে এসে নাফিসা কে নামিয়ে দিল, নাফিসা ঠান্ডা পানির স্পর্শে প্রথমে কেঁপে উঠলেও ইনি খেলতে লাগলো। আর সায়মান আরেকটু এগিয়ে গেল সামনে।
নাফিসাকে অল্প পানিতে থাকতে দেখে, সায়মান নাফিসার দিকে তাকিয়ে গলার সুর একটু উঁচু করে বলতে লাগলো
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“হ্যাঁটু পর্যন্ত নেমে এসো… বেশি ভেতরে না। তোমার ঢেউয়ের ভয় আছে জানি।”
নাফিসা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“আমার ভয় নেই।”
“হুম… নেই?”
সায়মান নাফিসার দিকে এগিয়ে এসে পেছন থেকে হাত রাখতেই নাফিসা কেঁপে উঠল।
সায়মান হেসে উঠল,
“এই যে তোমার কাঁপুনি—এটা ঢেউয়ের জন্য না, আমার জন্য। ঠিক না?”
“আই হেট ইউ!” — নাফিসা পানি ছিটিয়ে দিল তার দিকে।
ঢেউয়ের ঠাণ্ডা জল ছিটকে পড়তেই সায়মান অবাক হয়ে গেল। নাফিসা আবার এক মুঠো জল তুলে ছুঁড়ে মারল।
“এই যে শাস্তি, আমাকে সারারাত জ্বালানোর।”
সায়মান থামল না—সে সরাসরি গিয়ে নাফিসার দুই হাত চেপে ধরল,
“এত সাহস হয়েছে বউ?”
নাফিসা হাসি চেপে বলল,
“এইটা তো শুরু!”
দু’জনে ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলে উঠল। নাফিসা আবার সরে যেতে চাইলে, সায়মান এক টানে তাকে কাছে টেনে নিল। নাফিসার চুল ভিজে সায়মানের গালে লেগে আছে। তাদের হাসি, ঠাট্টা, পানির খেলা—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা যেন একেবারে অন্যরকম হয়ে উঠল।
একসময় নাফিসা পা পিছলে হঠাৎ ঢেউয়ে হেলে পড়তেই সায়মান তাকে কোলের মধ্যে তুলে নিল।
“তোমার মতো পিচ্চিদের সমুদ্রে ছেড়ে দিলে কি হয় জানো?”
সে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল।
নাফিসা হাত দিয়ে তার বুক চাপড়ে বলল,
“ছাড়েন আমাকে! আমি পড়ে যাইনি!”
“জানি… তবুও ফেলতে নেই, তুমি আমার বউ।”
সায়মান নাফিসাকে কোলে নিয়ে একটা ডুব দিল। নাফিসা ভয়ে সায়মানের সাথে আরো নিজেকে মিশিয়ে নিলো। সায়মান নাফিসার দিকে তাকালো এবার,পিংক কালারের শার্টটা শরীরের সাথে মিশে গেছে,, সেটা দেখে সায়মান চোখে আবার ঘর লেগে গেল। কিন্তু ফের মুহূর্তে নাফিসাকে থরথর করে ঠান্ডায় কাঁপছে আর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করলো।
নাফিসাকে কোলেই রেখে ধীরে ধীরে তীরের দিকে এগোতে লাগল। নাফিসা ভেজা হাত তার কাঁধে রাখতেই সায়মান ফিসফিস করে বলল,
“তোমাকে কোলে নেওয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ।”
নাফিসা লজ্জায় মাথা গুঁজে দিল তার বুকে।
রিসোর্টে ঢুকতেই সফট লাইটিং, সেন্টের হালকা ঘ্রাণ আর সম্পূর্ণ নির্জনতা —— — সব মিলিয়ে রাতটাকে আরও শান্ত লাগছিল। রুমে ঢুকে সায়মান তোয়ালে এগিয়ে দিল নাফিসার দিকে।
“চেঞ্জ করে নাও। ঠাণ্ডা লাগবে। ওয়েট নাকি আমি করে দিবো। আচ্ছা চলো একসাথে করি 🥱 সময়ের অপচয় কম হবে। আর তুমি চাইলে আর একবার ওয়াশরুমে বাসর করতে পারি। কেবল দুই বার হয়েছে সন্ধ্যা থেকে রাতের ভিতর। আমার বহুত এনার্জি আছে বউ চলো এনার্জি খরচ করি আবার। ”
নাফিসা সায়মানের হাত থেকে তোয়ালেও ছো মেরে নিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেল পিছন ঘুরে একবার তাকিয়ে, জোরে চিল্লিয়ে বলে উঠলো,
“অসভ্য ডিএসপি সাহেব! দিন দিন লুচ্চা হচ্ছেন আপনি?”
ওকে এভাবে যেতে দেখে সায়মান শব্দ করে হেসে দিয়ে নাফিসার মতো করেই জোরে বলে উঠলো,
“বউ তোমার কাছে লুচ্চা না হইলে। ৩৪ বছর ধরে পুষে রাখা এত এনার্জি খরচ করব কোথায়? ”
কিছুক্ষণ পর সায়মানও চেঞ্জ করে এল। দু’জনে যখন বিছানায় শুতে গেল, নাফিসা চুপচাপ সায়মানের দিকে তাকিয়ে রইল।
সায়মান হাসল,
“কি দেখছো?”
“এভাবে রাতভর আমাকে ভ্যালু দিলে… খারাপ লাগে।”
সায়মান তার চুলগুলো আলতো সরিয়ে দিয়ে বলল,
“তোমাকে যেভাবে deserve করো—সেভাবেই সব সময় আদর করব। তুমি আমার দায়িত্ব, ভালোবাসা, শান্তি—সব।”
নাফিসার চোখ চকচক করে উঠল।
সে ধীরে সায়মানের বুকে মাথা রাখল। একসময় সমুদ্রের হাওয়ার মতো শান্ত নিঃশ্বাসে দু’জনেই ঘুমিয়ে গেল।
পরদিন সকাল ভোরে।
রাত গভীর হওয়ার অনেক পর, শেষ রাতের ঘুমটা যেন একটু বেশিই গভীর হয়েছিল। নাফিসা সেই পরিচিত অভ্যাসে সায়মানের বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে, দুই হাত জড়িয়ে ধরেছে তাকে। আর সায়মানও ওকে শক্ত করে বুকের কাছে টেনে রেখেছে, যেন কেউ না ছুঁতে পারে, যেন পৃথিবীর সমস্ত নিরাপত্তা তার বাহুতেই বন্দি।
ভোরের আলো তখনো পর্দার ফাঁক গলে ঠিকমতো ঢোকেনি। রুমে হালকা ঠাণ্ডা, নিস্তব্ধতা ——— হঠাৎ সেই নীরবতাকে ভেঙে টিং… টিং… করে ফোনটা বেজে উঠল।
সায়মান খানিক বিরক্তি নিয়ে চোখ খুলল, তবুও নাফিসার কোমল মাথাটা নিজের বুক থেকে সরালো না। সেই হাতটা নাফিসাকে আগলে রেখে, আরেক হাত দিয়ে পাশের টেবিলে হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিল। স্ক্রিনে তাকাতেই মুখ থেকে বের হয়ে উঠলো,
“তাহমিদ ইকবাল স্যার।”
সায়মানের মুখের ভঙ্গি বদলে গেল।
ফোন কানের কাছে ধরে শান্ত, সম্মানিত গলায় বলল—
— “আসসালামু আলাইকুম স্যার।”
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো—
— “ওয়া আলাইকুমুস সালাম।”
এক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর স্যার হালকা উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন—
— “সরি, young man… আমি জানি তোমরা দু’জন এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছো। তোমাদের এই মুহূর্তটা ভাঙতে চাইনি। কিন্তু কেসটা খুব সেনসিটিভ। তোমার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তোমাকে এখনই রওনা হতে হবে। ইমিডিয়েটলি।”
সায়মান চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিল। এই সময়ে, এই অবস্থায় নাফিসাকে রেখে যাওয়া ——— এটা তার জন্য সবচেয়ে কঠিন।
কিন্তু দায়িত্ব তো দায়িত্বই।
সংক্ষেপে কথাবার্তা শেষ করে ফোন কেটে রাখল। ধীরে ধীরে নাফিসার দিকে তাকালো। মেয়েটা কেমন করে যেন তার বুকের মধ্যে লেপ্টে শুয়ে আছে, যেন সারাটা পৃথিবী তার মধ্যে। সায়মানের বুকটা অদ্ভুত কষ্টে ভরে উঠল।
— “আহ, নাফস … এখনই কি আমাকে যেতে হবে?”
নিজেকেই যেন বলল সে।
ধীরে ধীরে উঠে বসল, কিন্তু নাফিসাকে আঘাত না দিয়ে। খুব সতর্কভাবে তাকে শুইয়ে দিল বালিশে। তারপর নাফিসার কপালের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে আলতো করে একটা লম্বা চুমু দিল। সায়মান একদম নরম, ব্যথা-মেশানো চোখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
মনে হচ্ছিল —— — এভাবে তাকিয়েই থাকবে, সারাজীবন যদি পারে।
তারপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বাস্তবতা তাকে টেনে তুলল। ওকে রেডি হতে হবে।
ইউনিফর্ম পরে রেডি হতে হতে ——— সবকিছু করতে করতে তার ভিতরে একটা যুদ্ধ চলছিল। একজন স্বামী বনাম একজন পুলিশ অফিসার। দু’রকম দায়িত্ব, দু’রকম পথ। কিন্তু দুটোই তার জীবনের অংশ।
শেষবারের মতো প্রস্তুত হয়ে সায়মান রুমে ফিরে এলো। নাফিসা তখনো ঘুমাচ্ছে। মুখে সেই শিশু-সুলভ শান্তি। নাফিসার পাশে বসলো ঠোঁটে শুকনো একটা চুমু দিয়ে চলে আসতে গেলে, কিন্তু ঠিক তখনই—
হঠাৎ নাফিসার হাতটা এগিয়ে এসে সায়মানের হাত চেপে ধরল।
ঘুমের মধ্যেও যেন সে অনুভব করেছে, সায়মান চলে যাচ্ছে।
সায়মান থমকে গেল।
মৃদু হাসল, সেই হাসিতে ছিল অফুরন্ত মায়া।
নাফিসার হাতের ওপর নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে খুব ধীরে বলল—
— “ঘুমাও, পিচ্চি পুতুল …আমার পিচ্চি বউ খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো। আমারও মন চাইছে না, তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্তও যেতে। কিন্তু… আমি একজন ডিএসপি অফিসার। দায়িত্ব আছে। সেটা পালন করতেই হবে।”
নাফিসা কেমন করে যেন একটু চোখ খুলল। আধা ঘুমে ফিসফিস করে বলল—
— “যেও না… প্লিজ।”
এই দুইটা শব্দ সায়মানের বুকের ভেতর ছুরি চালানোর মতো হলো।
সে নাফিসার কপালে আবার একটা চুমু দিল—এইবার আরো গভীর, আরো টানটান অনুভূতিতে ভরা।
— “ফিরে আসবো তো বউ । আমার কাছে দোয়া থাকবে… আর তুমি ভালো থেকো।”
নাফিসাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিল। টেবিলের ওপর আগে থেকেই একটা সুন্দর ভাঁজ করা চিঠি রাখা। সেই চিঠিটার দিকে তাকিয়ে সায়মান হাসল—কঠিন, গম্ভীর পুলিশ অফিসার সায়মান তার বউয়ের জন্য হাতে লেখা চিঠি রেখে যাচ্ছে… এটা তার ভালোবাসার আরেক রূপ।
সে চিঠিটা তুলে নাফিসার হাতের কাছে রেখে দিল, যেন ঘুম ভাঙতেই প্রথম এটায় তার চোখ পড়ে।
তারপর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে পুরো রুমটা আর একবার দেখে নিল।এই রুমেই তার শান্তি, তার পৃথিবী, তার নাফিসা।
দরজা খুলতে গিয়েও একবার পেছনে তাকালো।
নাফিসা অশান্ত ঘুমে কুঁকড়ে আছে।
সায়মানের বুকটা আরেকবার মোচড় দিল।
বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তার জন্য অপেক্ষা করছে।
ড্রাইভার সালাম দিয়ে দরজা খুলে দিল।
সায়মান গভীর শ্বাস নিল, নিজের দৃঢ়তা জড়ো করল…
আর রওনা হলো মিশনের পথে।
সূর্যের নরম আলো পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকছে। সাদা চাদর, বিছানার এক পাশে চাপা ভাঁজ। নাফিসার ঘুম ভাঙতেই সে হাত বাড়িয়ে পাশের দিকে চাপড়াল।
খালি।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল—সারারাত পাশে থাকা মানুষটা নেই।
তার বুকের মধ্যে হালকা শূন্যতা ঢুকে গেল।
সে তাড়াতাড়ি উঠে বসল, নিজের জামা ঠিক করল। ঠিক তখন—
টোকা।
দরজার বাইরে থেকে নরম গলায় কেউ বলল—
“ম্যাম… আপনি জেগে উঠেছেন?”
নাফিসা দরজা খুলে দেখল—রিসোর্টের সেই স্টাফ দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে একটা খাম।
“স্যার একটা জরুরি কাজে খুব ভোরেই বের হয়ে গেছেন, ম্যাম।
যেতে যেতে আপনাকে এই চিঠিটা দিতে বলেছেন।”
নাফিসার বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠল।
সে খামটা নিয়ে আস্তে করে দরজা বন্ধ করল।
চিঠিটা কাঁপা হাতে উল্টেপাল্টে দেখল।
সামনে বড় করে লেখা—
“To my Nafisa.”
তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
“তোমার ডিএসপি সাহেব বলছি,”
আজ এই চিঠিটা লিখছি খুব তাড়াহুড়োর মাঝে…
আর লিখতে লিখতেই বুকের ভেতর কেমন একটা খালি লাগছে।
কারণ হঠাৎ করে একটা জরুরি মিশন পড়ে গেছে—
যা এখনই, এই মুহূর্তেই আমাকে যেতে হবে।
আমার পিচ্চি বউ,
আমি কতদিনের জন্য যাচ্ছি সেটা এখনো নিশ্চিত না…
এইটুকু শুধু জানি—
তোমাকে না দেখে, তোমার সাথে কথা না বলে,
তোমার হাসিটা না শুনে
এক সেকেন্ডও ভালো লাগবে না আমার।
কিন্তু দায়িত্ব…
কখনো কখনো মানুষের ব্যক্তিগত সুখের আগেও দাঁড়ায়।
তাই যাচ্ছি।
তোমাকে ফেলে রেখে যাচ্ছি বলে
মনে হচ্ছে যেন নিজের একটা অংশ তোমার কাছেই রেখে গেলাম।
তুমি নিজের খুব খেয়াল রাখবা হুম বউ ?
যত্ন করে,
সাবধানে,
একদম আমার লক্ষ্মী বউয়ের মতো করে।
আর তোমার পরীক্ষা—
ঠিকমতো, মনোযোগ দিয়ে দেবে।
আমি পাশে না থাকলেও
তোমার প্রতিটা উত্তর লেখার সময়
মনে মনে তোমার হাতটা ধরে থাকব।
মিশন শেষ হলে যত তাড়াতাড়ি পারব
তোমার কাছে ফিরে আসবো—
এইটুকু কথা দিলাম।
আর একটুও ভাদ্রামও করবা না!
তোমাকে আমি খুব ভালো চিনি—
চোখের আড়াল হলেই
নানা রকম বোকামি করতে মন চাইবে।
কিন্তু না।
একদম না।
সারাক্ষণ আম্মুর পাশাপাশি থাকবা।
বাসায় গিয়েই তার সাথে থাকবা,
তার কথা শুনবা,
কখনো একা একা বাইরে বের হবে না।
আর সকালে খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো সেরে
রেডি হয়ে নিও।
বাইরে তোমার জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে—
তারা তোমাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবে।
সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—
আমাকে ফোনে পাবে না।
এই মিশনের সময়
ফোন অফ রেখেই চলতে হবে।
কিন্তু…
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৫
এইটুকু মনে রাখবা—
ফোন অফ থাকলেও
তোমার সায়মান
তোমার কথাই ভাববে সবসময়।
তোমার মুখটাই চোখে ভাসবে,
তোমার কণ্ঠটাই কানে বাজবে,
তোমার হাসিটাই মনে পড়ে মনটা ব্যথা করবে।
তুমি শুধু একটু শক্ত থেকো।
আমি ফিরে এলে
সব রাগ, সব অভিযোগ
আমি হাসিমুখে শুনব।
তোমার সাথে আবার,
আদর করব,
লজ্জা দিব,
কোলেও নেব—
সবই করব।
শুধু এই কয়েকটা দিন
আমার ছোট্ট বউটা
নিজেকে একটু সামলে রাখবে…
এইটুকু চাওয়া।
— তোমার সায়মান।
