চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৯
আরোবা চৌধুরী আরু
ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাওয়া চলছে, মহাবুব রাশিদের চোখ হঠাৎই গিয়ে পড়ে ঠিক নাফিসার দিকে ।
ভুরু কুঁচকে গেল তাঁর। একরকম গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে নাফিসাও ওনার দিকে তাকায়।
চোখে চোখ পড়ে যায়।
এক মুহূর্ত থমকে গেল।
নাফিসার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। সেই চোখদুটো, সেই চেহারা… কোথায় যেন দেখেছে সে।
একটু অপ্রস্তুত হয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। গলার কাছে কী যেন দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। সে ধীরে ধীরে মনে করতে থাকে…
“এই চেহারাটা… এই চোখ, ঠোঁট, নাক… হুবহু মিল তো সায়মান সঙ্গে হ্যাঁ পুলিশ অফিসারের সাথে !”
তার বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে।
“তাহলে কি উনি ওনার বাবা?”
“মানে… উনিই কি… আমার পুলিশ অফিসার আব্বু?” কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারে না। ভেতরে একটা কাঁপুনি চলে যায়।
ওদিকে মাহবুব রাশিদও কিছু বলছেন না।
তবে চোখ দুটো ঠিক নাফিসার দিকেই স্থির।
মেয়েটার মুখে এমন কিছু আছে মায়া মায়া ভাব।
এমন মুহূর্তে আফিয়া বেগম তাঁর কানে কানে আস্তে বললেন,,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“ওকে সায়মান এনেছে। ওদের একাডেমির এক বন্ধুর বোন। ওই ছেলেটা একটা মিশনে গিয়ে শহীদ হয়েছে।”
মাহবুব রাশিদের চোখ হঠাৎই খানিকটা আলোকিত হলো।
“সায়মান এনেছে?” তাঁর কণ্ঠে অল্প বিস্ময়,।
অনেক দিন ছেলের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই।
একটা নিরব যুদ্ধ চলছে একটা অভিমান, একরকম জেদ…
তার ছেলে ও তার সাথে তবু সে একা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে কী করছে সব খোঁজ রেখেছেন তিনি নীরবে।
আজ যখন শুনলেন, সায়মানই নিয়ে এসেছে এই মেয়েটাকে তখন নিজের অজান্তেই চোখ একটু ঝলকে উঠল।
তবে কিছু বললেন না। শুধু নিঃশব্দে নিজের মনে গুটিয়ে নিলেন বিষয়টা।
আফিয়া আবার বললেন,,
“মেয়েটার বাবা মা অনেক আগে এক্সিডেন্টে মারা যান। আত্মীয়-স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই, ওর দায়িত্ব নিয়েছে সায়মান।”
এই কথাগুলো শুনে মাহবুব রাশিদের মুখটা একটু বদলে গেল।
গম্ভীর মুখটা এবার একটু কোমল হলো।
চোখে কেমন এক ধরনের স্নেহ, মায়া জমে উঠল।
একটু চুপ থেকে তিনি চারপাশে তাকালেন। সবাই নিঃশব্দ। চামচ থেমে গেছে, কারো মুখে কোনো শব্দ নেই।
তারপর তাঁর চোখ এসে থামল আবার নাফিসার মুখে।
শান্ত, কোমল, একটু যেন ভয়ে সঙ্কুচিত হয়ে বসে আছে মেয়েটা।
চোখ নামানো, শরীরটা একটু কুঁচকে বসে যেন হাওয়ায় হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।
মাহবুব রাশিদ একটু গলা পরিষ্কার করে বললেন,
“এই যে… আমাদের নতুন অতিথি?”
সবাই চুপ।
নাফিসা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে উঠল।
সাইফান পাশে থেকে ফিসফিসিয়ে বলল,,
“ভয় পাস না, উনি সিংহ নন। হালকা টাইগার টাইপ, কিন্তু রাতে ঘুমিয়ে যান!”
নাফিসা তো একদম চমকে উঠে দাঁড়িয়ে যাবে কিনা এমন অবস্থা।
তখনই মাহবুব রাশিদ হাসলেন। হালকা, স্নেহময় একটা হাসি।
“তুমি এখন এই বাড়ির সদস্য। এই বাড়ি তোমারও। মামনি সবাইকে নিজের মনে করে থাকবে। একটা স্নেহের মুচকি হাসি দিল। কথাগুলো নরম, …
নাফিসার চোখ কেমন করে উঠল। বুকটা হালকা হয়ে গেল।
হয়তো সে সান্ত্বনার কথা শুনেছে জীবনে…
কিন্তু এত গভীর মমতা দিয়ে কেউ হয়তো এভাবে স্বাগত জানায়নি আগে।
মাহবুব রাশিদ এবার হেসে বলেন,
“নিশ্চয়ই থাকবে। তুমি এখন এ বাড়িরই মেয়ে আমাদেরই মেয়ে।”
একটু মাথা নেড়ে সাই জানালো, সেই হাসির মাঝে নাফিসা একটু গুছিয়ে বসল। মুখে হালকা একটা লাজুক হাসল।
ওর চোখে এখন আর ভয় নেই, আছে আলোর ইশারা।
একটা আশ্রয়, একটা ঠিকানা, একটা পরিবার…
হয়তো খুব নিঃশব্দে তৈরি হয়ে যাচ্ছে ওর চারপাশে।নাফিসা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করল। এই মানুষগুলোকে কিছুদিন আগেও সে চিনত না, অথচ আজ মনে হচ্ছে তারা তার আত্মার কিছু চেনা চিত্র। বিশেষ করে এইসব ঠাট্টা-হাসি যেন কোথাও তার নিজের ছোটবেলার পরিবারের টেবিলকেই মনে করিয়ে দিল।
গম্ভীর, ঠান্ডা স্বভাবের মানুষ তিনি। বাইরে থেকে কড়ার চেহারা হলেও, ভেতরে একদম অন্যরকম। অনেকে ভয় পায়, আবার অনেকেই শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে যায় ওনার সামনে। কথায় কম, ভাবনায় বেশি থাকেন তিনি।
রাজনৈতিক ব্যস্ততায় ওনার একটা নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। শহরের নামকরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন তিনি চিন্তা-চেতনায় পরিপক্ক, তবে জেদি। যা একবার স্থির করেন, তা থেকে সরেন না। রাগটা যেন ওনার ছায়াসঙ্গী, তবে প্রয়োজন হলে সেই রাগও ছায়ার মতো মিলিয়ে যেতে পারে যখন আবেগের ছোঁয়া লাগে।
সায়মান যার চোখ, মুখ, হাঁটার ভঙ্গি, এমনকি গম্ভীর চেহারাটাও যেন হুবহু বাবার মতো।
তবে বাবার মতো রাজনীতির রাস্তা নয়, বরাবরই নিজের স্বপ্নকে বুকে নিয়ে বড় হয়েছে সে। পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন।
আর এখানেই যেন শুরু হয়েছিল বাবা-ছেলের মধ্যকার সেই অদৃশ্য দেয়াল তোলার গল্প।
মাহবুব রাশিদের ছিল আশা, তাঁর বড় ছেলে পারিবারিক রাজনীতিতে পা রাখবে, একদিন হয়তো তাকেও ছাড়িয়ে যাবে রাজনীতির ময়দানে। কিন্তু সায়মানের সেই ইচ্ছে ছিল না।
সে পুলিশ হতে চেয়েছে নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটা অন্যরকম স্বপ্ন নিয়ে।
“এত টাকা, এত সম্পদ, এত সম্মান এসব ছেড়ে একটা সরকারি চাকরি?”
এই চিন্তা থেকেই বাবা-ছেলের মধ্যে জন্ম নেয় একটা অব্যক্ত সংঘাত।
সেই সংঘাত একদিন চরমে পৌঁছে। কথা-কাটাকাটি হয়, দু’জনেই দু’জনকে ছাড়েনি।
তারপর থেকেই শুরু হয় নিরব সম্পর্কের সূচনা কেউ আর কারো সাথে খোলামেলা কথা বলেনি, হাসিমুখে বসেনি একসাথে।
তবুও… তবুও, মাহবুব রাশিদ কখনো ছেলের খোঁজ রাখা বন্ধ করেননি।
সে কোথায় যায়, কী করে, কী মিশনে সব খবর তিনি নীরবে রেখেছেন নিজের ভেতরে। কিন্তু তিনি এই বিষয় সম্পর্কে কোন খবর পাননি। তাই নাফিসা খেতে এসে প্রথমে আশ্চর্য হয়েছিল। আজ এই মেয়েটিকে দেখে, জেনে সায়মানের দায়িত্ব নেওয়া কারো জীবন ভেতরে ভেতরে তাঁর বুকের ভিতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠেছে।
তারপর আচমকাই গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
“এই বাড়ির নিয়ম কি ভুলে গেছো?”
ঘরটা আবার থমকে গেল।
“বাসায় থাকলে, একসাথে খাওয়ার নিয়ম আছে রাতে অন্তত।”
এই কথাটা কিন্তু সবার জন্য নয়, একদম সুনির্দিষ্ট কারো উদ্দেশ্যে বলা।
আর সবাই বুঝে যায় তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন।
ঠিক তখনই দরজার কাছে নীরবে প্রবেশ করল সেই চেনা উচ্চতা, চেনা গতি সায়মান।
চেয়ারে বসে পড়ল, চোখে-মুখে একগাল গম্ভীরতা।
তবে সে চুপ করে থাকেনি।
বাবার দিকে তাকিয়ে হালকা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
কিছু মানুষ শুরু মানুষের ভুল ধরে বেড়ায় পদে পদে।
ঘরটা থমকে যায়।
নাফিসা তো একদম হা করে তাকিয়ে থাকে।
এই ছেলে! বাবাকে পিঞ্চ মারছে?
রিশা পাশে থেকে ফিসফিস করে বলে,
“দুইদিন থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে যাবি, নাফু। এখনও অনেক কিছু দেখা বাকি।”
নাফিসা কিছু বুঝতে পারছে না।
আফিয়া বেগম তখন অসহায় ভঙ্গিতে স্বামী ও ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
এই দু’জন মানুষ দু’জনই তাঁর হৃদয়ের টুকরো, অথচ তাঁদের মাঝে সে নিজেই যেন মাঝপথে আটকে থাকে।
মঈন রাশিদ হালকা হাসিমুখে সামনে থাকা পানিতে চুমুক দেন।
তাঁর দিকে তাকিয়ে সায়মান সালাম দেয়,
“আসসালামু আলাইকুম ছোট আব্বু।”
“ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?”
“ভালো। অনেকদিন পর দেখা হলো।”
চোখে-মুখে যেন হালকা একটা প্রশান্তি খেলে গেল।
খাওয়া শেষে সবাই ধীরে ধীরে উঠে গেল।
একেকজন নিজেদের মতো করে ছড়িয়ে পড়ল বাড়ির কোণে কোণে।
রাত বাড়ছে।
, রিশা, রুহি ও সাইফান চলে যায় দোতলার বারান্দায়, সেখানে বসার এক মজার জায়গা আছে, যেখানে বসে আড্ডা, গল্প, ঝগড়া সব চলে।
রিশা আর সাইফান ঝগড়া বাঁধিয়ে দেয় এক পর্যায়ে,
“তুই পুরা শুটকি!”
“তুমি ধলা বিলাই। একদমই আদুরে বাচ্চা।”
সাইফান পাশ থেকে তালি মেরে ওঠে,
“দুইজনই বাজে। আমি একাই কুল।”
নাফিসা ওদের ঝগড়া দেখে হালকা হাসি দিল। আর গভীর মনোযোগ দিয়ে ওদের দেখছে। ওর কোন ভাই বোন নেই। মামাতো ভাই বোন ছিল কিন্তু ওরা ওর সাথে কোনদিন খেলিনি মিশতে চাইতো না। পুরনো দিনের কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, আবার ওদের দিকে মনোযোগ দেয় ওর খুব ভালো লাগছে এদের দেখে।
এই কথার মাঝেই, একদম নীরবে এসে বারান্দার মেঝেতে বসে পড়ে একটা মিষ্টি চোখের, মাঝারি সাইজের ডগি।
নাম—”রেডি”।
সায়মান যখন বাড়ি থাকে না , এই কুকুরটাকে সাইফানই দেখাশোনা করে।
ডগিটা এসে সোজা নাফিসার পাশে বসে পড়ে।
নাফিসা চমকে যায়। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায় প্রায়।
“এইটা কুকু… কুকুর! ইসসস…”
সে একটু সরে যেতে চায়, কিন্তু রেডি ওর পাশে মাথা গুঁজে দেয়।
নাফিসা ভয় পেতে পেতেও চুপচাপ বসে থাকে।
রেডি হঠাৎ ওর কাঁধে মুখ ঠেকিয়ে দেয়।
তারপর… ছোট্ট একটা লেজ নাড়ানোর পর, ওর হাত চেটে দেয়।
নাফিসার ভয় কেটে যায় খানিকটা।
সে ধীরে ধীরে কুকুরটার মাথায় হাত রাখে।
আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দেয়, মনের অজান্তেই ওর মুখে ফুটে ওঠে এক আশ্চর্য হাসি।
সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে এসে দাঁড়ায় সায়মান।
চোখে-মুখে কিছু বলার মতো ভাব।
সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে এই মেয়েটা, যে ভয়ে ছিল, এখন সে কী সহজেই কুকুরটার সাথে মিশে যাচ্ছে!
কিছু না বলে, কোনো শব্দ না করে, চুপচাপ ফিরে যায় নিজের রুমে।
মুহূর্তটুকু নিজের ভেতর গুটিয়ে রাখে।
রাত অনেক হয়ে গেছে।
এক এক করে সবাই যার যার ঘরে চলে যায়।
ঘরের আলো নিভে গেছে প্রায়।
তবু নিঃশব্দে টিকটিক করে চলছে দেয়ালঘড়ির কাঁটা, যেন প্রতিটা সেকেন্ড কারও শ্বাস টেনে নিচ্ছে আস্তে আস্তে।
নাফিসা বিছানায় বসে আছে চুপচাপ।
ঘুম আসছে না কিছুতেই। মাথার ভেতরে একরাশ ঝড় বয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে, হাজারটা শব্দ চিৎকার করছে, অথচ মুখে একটাও উচ্চারিত হচ্ছে না।
একটা জানালার ফাঁক গলে ভিতরে ঢুকছে চাঁদের আলো।
সে উঠে দাঁড়ায় ধীরে।
বেলকনির দিকে এগিয়ে যায়।
হালকা বাতাস বইছে বাইরে।
চুলগুলো ওড়ে। ওড়নাটা দুলছে হাওয়ার দোলায়।
চাঁদের আলো আজ যেন একটু বেশি উজ্জ্বল, একটু বেশি কোমল।
রাতটা অদ্ভুত নিঃশব্দ তবুও যেন কত কথা বলে যাচ্ছে চারপাশ।
বেলকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে নাফিসা উপরের দিকে তাকিয়ে রইল আকাশে মেঘ নেই, শুধু টলটলে নীলরুপা চাঁদ। চারপাশ নিঝুম।
তাঁর চোখে জল টলমল করতে লাগল।
মুখে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে ফিসফিসিয়ে বলল,
“আল্লাহ… যদি সব ভুল হতো… তাহলে কেন এখনো আমার বুক কাঁপছে?”
তার কণ্ঠে হতাশা, ব্যথা, এবং… অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টা।
বুকটা যেন জ্বলে যাচ্ছে কোনো না দেখা ছুঁয়োনোর আগুনে।
চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসে একটি ফোঁটা অশ্রু।
সে পেছনে ঘুরে এসে বিছানায় বসে পড়ে আবার। মাথা গুঁজে দেয় বালিশে।
চোখ বন্ধ করলেই একের পর এক চিত্র ভেসে উঠছে,
সেই মুহূর্ত। সেই ছোঁয়া। সেই নিঃশ্বাস। সেই অস্পষ্টতা…
সায়মানের ঘন শ্বাস ফেলা…
কপালের সেই মুহূর্তের দুর্ঘটনাময় চুমু…
শরীরের ওপর ঝুঁকে আসা তার অস্থির উত্তাপ…
সব কিছু যেন গেঁথে গেছে মনে, শরীরের প্রতিটা কোষে।
“চিঠি কখনো কেবল লেখা থাকে না।
কিছু চিঠি শরীর ছুঁয়ে যায়… আত্মায় আঁচড় কাটে…”
নাফিসার চোখে সেই আঁচড়ের ব্যথা আর তীব্রতা ফুটে ওঠে।
সে নিজেই জানে না এই ছোঁয়া ভুল ছিল, না নিয়তি ছিল।
ঘুম আসছে না। মাথায় নানা কথা ভিড় করছে।
কিন্তু একটা ব্যাপার পরিষ্কার এই বাড়িটা, এই মানুষগুলো, এই অদ্ভুত ছোট ছোট মুহূর্ত…তার জীবনে একটা নতুন গল্পের সূচনা করছে।
অন্যদিকে…
রাত আরও গাঢ় হয়েছে।
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।সায়মান নিজের রুমে ঘোরাঘুরি করছে। বিছানায় শুতে পারছে না।অস্থির।তার চোখে আজ যেন ঘুমের কোনো চিহ্ন নেই।
হাতে সিগারেটের প্যাকেট। টান টান করে বের করে এনেছে একটা সিগারেট।আঙুলের মাঝে ধরে রাখে বহুক্ষণ।তারপর ধীরে ধীরে বেলকনির দিকে এগোয়।চুপচাপ দাঁড়িয়ে যায় সেখানে।
চাঁদের আলো ওর মুখে পড়েতীব্র না, কিন্তু একধরনের নীরব জিজ্ঞাসা যেন ছড়িয়ে দিচ্ছে আকাশ থেকে।
ওর চোখে কিছু একটা খেলে যায়।হাত বাড়িয়ে লাইটার ধরায়। কিন্তু আগুন জ্বলে না। একটুক্ষণ চেয়ে দেখে সেটা।
তারপর লাইটারটা পকেটে রেখে দেয়।
নিজের মধ্যেই ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,
“আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?”
“না কি… ওর কপালে আমার ঠোঁট সত্যিই…”
বাক্যটা শেষ করতে পারে না। ঠোঁট কেঁপে ওঠে।
চোখ বন্ধ করে মাথাটা হালকা নিচে ঝুঁকিয়ে নেয়।
“স্টুপিড… আমি এতটা কেয়ারলেস কখনো হইনি। আমি… আমি এটা কী করলাম!”
বারান্দার নরম আলো, চাঁদের চুপচাপ দৃষ্টি, বাতাসের ধাক্কায় ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে।
তবুও সে দাঁড়িয়ে থাকে।
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৮
সায়মানের বুকের ভেতরটা তখন অদ্ভুত হাহাকার।
একটা ভয়, একটা টান, একটা অপরাধবোধ সব একসঙ্গে জমে আছে ওর চোখে।
কারণ কিছু অনুভূতি শরীরে থাকে না কেবল আত্মার গহীনে গিয়ে আঘাত করে।
অন্ধকার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ওদের এই মনের লড়াই দেখছে।
তবে হয়তো আকাশের চাঁদ ঠিক বুঝে ফেলেছে,
এই রাত, এই চিঠি…
শুধু ‘চৌদ্দ’র নয়, হয়তো তাদের জীবনের অজান্তে লেখা হয়ে যাওয়া এক অনুচ্চারিত প্রেমপত্র।
