জাহানারা পর্ব ৩১
জান্নাত মুন
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।।।
শরৎকালীন সকাল। আকাশটা আজ যেন একটু বেশিই স্বচ্ছ, নীলের ভেতরে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।গ্রামের পিচঢালা রাস্তার উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে গাড়িটা। সকালের শরৎবাতাস জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছে, এই হালকা শীতল পরশে যে কারো মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। দুই পাশে ছায়া ফেলে রেখেছে কাশফুলের সাদা সারি, হাওয়ার দোলায় দুলতে দুলতে যেন গাড়ির সঙ্গেই ছুটছে তারা।
❝ব্লাড হাউন্ডস!!❞
অনেক অবাক হয়ে শব্দটা একত্রে উচ্চারণ করলো জুই আর তার দুই বান্ধবী মিনা এবং সোমা।আবির একই তালে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো,
–হ্যা ব্লাড হাউন্ডস।
গাড়ির বেক সিটে বসে আছে জুই,সোমা আর মিনা।ফ্রন্ট সিটে বসে আছে আবির আর আরমান।আরমান খুব মনযোগ দিয়ে ড্রাইভিং করছে।সে বোনকে প্রাইভেটে দিয়ে আসতে যাচ্ছে। ইদানীং জুইকে একা ছাড়া হয় না।কিভাবেই বা ছাড়বে এই কদিনে এখান থেকে রাতারাতি চারটা মেয়ে নিখোঁজ।এদিকে এই ঘটনার পর আবার শেখ বাড়ির সকলের মনে পড়ে গেছে আজ থেকে প্রায় তিন চার বছর আগের ঘটনার কথা।তাই আর কেউ রিস্ক নিতে চাইছে না।এই জন্যই জুইদের প্রতিদিন কেউ না কেউ দিয়ে যায়।আবার পড়া শেষ হলে নিয়ে যায়।আজ বাড়িতে আরমান থাকায় সে ওদের দিয়ে আসতে যাচ্ছে। সেই তখন থেকে আবির জুইদের এটা ওটা বলে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে।
–ব্লাড হাউন্ডস এটা আবার কেমন শব্দ?
জুইয়ের ভয়ে চুপসে যাওয়া ফেইস দেখে মনে মনে কিছুটা হাসলো আবির।তারপর স্পুকি টোনে অর্থাৎ ভীতিকর সুরে আবার বললো,
–ঠিক শুনেছ।ব্লাড হাউন্ডস, ব্লাড অর্থ রক্ত আর হাউন্ডস হচ্ছে শিকারী কুকুর।সম্পূর্ণ মানে দাঁড়ায় রক্তের গন্ধ শুঁকে শিকারকে যেখানেই থাকুক না কেন খুঁজে বের করা।আর কু*খ্যাত মাফিয়া টেরোরিস্টরা ঠিক তেমনই।ওদের হাত থেকে শত্রুরা সহজে পার পায় না।গর্তে লুকিয়ে থাকলেও ব্লাড হাউন্ডসের মতো টেনে হিঁচড়ে সেখানে থেকে বের করে আনবে।যেমন আন্ডারওয়ার্ল্ডের শক্তিশালী মাফিয়া টেরোরিস্ট গ্রুপ ব্ল্যাক ভে-নম।
–ব্ল্যাক ভে-নম!!!
আবার অবাক হয়ে তিন বান্ধবী এক সাথে বলে উঠলো।এবারও ওদের ভয় পাওয়া দেখে আবির পুনরায় ঠোঁট টিপে হাসলো।তারপর আগের ন্যায় স্পুকি টোনে বললো,
–হুম ব্ল্যাক ভে-নম।এটা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেরোরিস্ট গ্রুপ। স্মাগলিং, অস্ত্র পাচার, মাদক, নারীপা*চার সহ এমন কোনো কাজ বাকি নেই যে তারা করে না।
জুই একটু ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
–নারীপা*চারও করে??
–হুম মেয়েদেরকে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাথে নিয়ে যায়।তারপর বেঁচে দেয়।
জুই ভয়ে ভয়ে বান্ধবীদের সাথে চোখাচোখি করে আমতা আমতা করে বললো,
–তা তারপর?
আবার জোরে শ্বাস ফেলে বললো,
–তারপর আর কি, বড়বড় মাফিয়াদের ক্লাবের প্রোস্টিটিউট বানিয়ে দেয়।তারপর আ,,,,,,,
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না আবির।আরমানের কড়া চোখের দৃষ্টি লক্ষ করেই মাঝ পথে থেমে গেলো।জুইরা এখানো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।আবির মৃদু হেসে সোজা হয়ে বসলো।এতক্ষণ ঘার বাকিয়ে কথা বলতে বলতে ঘার ব্যাথা হয়ে গেছে।জুই বেশ কিছুক্ষণ পরেও উত্তর না পেয়ে আবার প্রশ্ন করবে তখনই আরমানের কন্ঠ কানে আসে,
–যেভাবে দিয়ে আসবো সেভাবেই থাকবি। একদম বাদর গিরি করবি না।ছুটির শেষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবি। বাড়ির গাড়ি এসে নিয়ে যাবে।
–একদম ঠিক বলেছেন স্যার।দিনকাল ভালো না।দরকার পড়লে আমি এসে বাড়িতে দিয়ে আসবো।
আবিরের কথায় আরমান সরু চোখে তার দিকে তাকালো।আবির মাথা চুলকে দাঁত বের করে দিলো।আরমান গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলো,
–সকাল সকাল আমাদের বাড়িতে আসার কারণ কি?
আবির গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
–ঐ আরকি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছিলাম।
আরমান চোখ সরু করে তার দিকে তাকিয়ে ড্রাইভিং এ মনযোগ দিলো।পিছন সিট থেকে জুই বললো,
–ভাইয়া জাহান আপু কবে আসবে?তুমি না বলেছিলে নিয়ে আসবে।কই আনছ না তো।
–সময় হলে নিজেই চলে আসবে,,,
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক শব্দ করে দশের ঘরে আসলো।অথচ আমার রুমে এখনো সূর্যের আলো এসে পৌছায় নি।পৌঁছেবেই বা কি করে,রুমের সকল দরজা জানালা বন্ধ।ফলে পুরো রুম মৃদু অন্ধকারাচ্ছন্ন।সারা রুম কাঁপিয়ে লাউডলি মিউজিক চলছে ,,,
A lucky, lucky girl
She got married to a boy like you
She’d kick you out if she ever, ever knew
‘Bout all the – you tell me that you do.
এই আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে কাউচে শিথিল হয়ে বসে বলিষ্ঠ দেহি পুরুষ ইফান চৌধুরী।দৃশ্যমান তার ঢেউ খালানো বুক।পড়নের প্যান্ট বেলি বাটনের নিম্নাংশে নেমে আছে।তার সামনে টি টেবিল, যেখানে নিখুঁতভাবে সাজানো বেশ কিছু নামিদামি ব্র্যান্ডের হুইসকির বোতল।সেখানে আসেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাদা পাউডারের মতো কিছু, যা কিছুক্ষণ পর পর নাকের সাথে ঘষছে।মনে তো হচ্ছে ড্রা*গস।সেগুলোর এক পাশে তার দু’পা ক্রস করে তুলে রেখে বারবার নাড়াচাড়া করছে।তার এক হাতে একটি চকচকে Rocks Glass, তা হালকা নাড়িয়ে যাচ্ছে।ফলে হুইসকি ধীরে ধীরে ঘূর্ণায়মান হচ্ছে।আরেক হাত দিয়ে ঠোঁটের ফাঁকে থাকা সিগারেটের শলাকাটা নিয়ে উপর দিকে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো।অতঃপর ক্রস করা পা টা সোজা করে আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।সিস্টেমে লাউডলি গান চলছে,
Dirty, dirty boy
You know everyone is talking on the scene
I hear them whispering ’bout the places that you’ve been
And how you don’t know how to keep your business clean.
ড্রেসিং টেবিলের উপর বসে আছি আমি।তবে নিজের ইচ্ছেয় নয় ইফান কু*ত্তার বাচ্চার জন্য। আমার দেহে এক সুতা পরিমান কাপড়ও নেই। হাত দু’টো ইফানের টাই দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের মাথায় বাঁধা। ফেলে রাখা শাড়ি দিয়ে পা দু’টোও বাঁধা।মুখে টেপ লাগানো।শুধু অবশিষ্ট আছে চোখ দু’টো।আমার নিচের অংশ ব্লাড দিয়ে মেখে একাকার। আমি না পারছি নিজেকে মুক্ত করতে আর না পারছি চিৎকার চেচামেচি করতে।উপায়ন্তর না পেয়ে ক্ষ্যাপা দৃষ্টিতে ইফানের দিকে সেই ভোর বেলা থেকে তাকিয়ে আছি।ইফান কখনো মদ খাচ্ছে, কখনো সিগারেটে টান দিচ্ছে আর আমাকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসছে।প্রথমে তল পেটে ভিষণ ব্যথা করছিলো।আর এখন বন্দি অবস্থায় সারা শরীর ব্যথায় জর্জরিত।এতটা বিধস্ত অবস্থায় আমি নিজেকে কখনো কল্পনাও করিনি।সারা শরীরে অসংখ্য কামড় আর আঁচড়েরর দাগ।ইফান এখনো আমার দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গার্থক হাসছে।এখনও সিস্টেমে বাজছে Unholy গানের সুর,
Mummy don’t know daddy’s getting hot
At the body shop, doing something unholy
He’s sat back while she’s dropping it, she be popping it
Yeah, she put it down slowly
Oh-ee-oh-ee-oh, he left his kids at
Ho-ee-oh-ee-ome, so he can get that
Mummy don’t know daddy’s getting hot
At the body shop, doing something unholy (woo)
ইফান হুইস্কির গ্লাসে আরেকটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে অলস ভঙ্গিতে শরীর টানা দিলো।ওর বুকে সকালে আবার নতুন করে ওয়ান টাইম বেন্ডেজ লাগিয়েছে।মাথার গজটা রাতেই টেনে খুলে ফেলেছে।ইফানের গা জ্বালানো হাসি দেখে ওকে এক্ষুনি মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে।রাগের তোড়ে আমার শরীর রিরি করছে।এই মূহুর্তে নিজেকে ছাড়াতে পারলে নিশ্চয়ই আজ আমার হাতে ওর মরণ নির্ধারিত। ইফান জিহ্বার আগা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে__হেলেদুলে আমার কাছে এসে দাড়াল।আমি চোখ গরম করে তাকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছি।ফলে আমার বুকও সমান তালে উঠানামা করছে।ইফান এটা কিছুক্ষণ মনযোগ দিয়ে দেখে,বুকের নিচের তিলটায় তার খরখরে ঠোঁট শুইয়ে শব্দ করে চুমু দিলো।আমি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য বৃথা চেষ্টা করছি না।ইফান আমাকে উপর থেকে নিচ একবার জহরি চোখে পরক করলো।আমার পা-ফ্লোর রক্তে মাখামাখি। ইফান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আমার মাথা তার বুকের ক্ষত স্থানের উপর রাখলো।তারপর হাস্কি স্বরে বললো,
–খুব কষ্ট হচ্ছে জান?
কিছু সময় পেড়িয়ে গেলেও যখন আমার উত্তর পেলো না তখন ইফান তার বুক থেকে আমাকে সড়িয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো।এসির মধ্যেও আমি ঘেমে একাকার। বাবরি চুলগুলো কপালে চোখে মুখে লেপ্টে আছে।ইফান লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরিয়ে সারা মুখে হাত বুলিয়ে ঘামটা মুচে নিলো।অতঃপর মুখ থেকে টেপ টা খুলে দিতেই আমি জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে হাঁপাতে থাকলাম।ইফান আমর চুলের ভেতর দিয়ে হাত দিয়ে ঘারে ধরে তার কাছে টেনে নিতেই বাঁধা হাত দু’টো তে টান পড়ে। আমি মুখ তুলে ওর মুখে এক দলা থুতু মেরে অশ্রাব্য ভাষা ছাড়লাম,,,
–চু*দির ঘরের চু*দি সাহস থাকলে হাত দুইটা খুলে দে, তর গুডা দুইটা পানিতে গুলে তরেই খাওয়াইয়াম।
আমি থুতু নিক্ষেপ করতেই ইফান চোখ দুটো কুঁচকে নিলো।অতঃপর হাত দিয়ে মুখের থুতুটা মুছে আমার দিকে অগ্নি চোখে তাকালো।গালে হাত দিতেই আমি আরেক পাশে মুখ ফিরিয়ে নিলম।ইফান চোখ সরু করে আমাকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।তারপর দুগাল চেপে ধরে জোর করে তার দিকে ঘুরালো।ইফান আমার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি টোনে বললো,
❝মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি, কতবার বলেছি সোনা আমার সাথে তেজ দেখাবা না।তাও এমন কর কেন?❞
আমি তৎক্ষনাৎ দাঁত কিরমির করে প্রতিত্তোর করলাম,
❝তর পা*ছা মারা খাওয়ার জন্য।❞
ইফান নিজের ঠোঁট কামরে ধরলো__উফফ ঝাঁঝওয়ালি কি শুনালে এটা শরীরের সব লোম দাঁড়িয়ে গেছে।
আমি আর পারছি না।সত্যি আর পারছি না।ইচ্ছে তো করছে ওকে কাঁচা চিবিয়ে খাই।এরই মাঝে ইফান আমার হাতের বাধন খুলছে।তারপর ওর হাতের বাঁধনে আটকে রেখে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বললো,
–এটাই লাস্ট বার ওয়ার্ন করছি বুলবুলি।আমি বেঁচে থাকতে তোর মুখে যেন আর কোনোদিন অন্যকোনো পুরুষের নাম না শুনি।
ইফানের কথাটা শুনেই ভোরের কথা মনে পড়ে গেলো।
ইফান তখন ফোন কল শেষ করে নিজের বুকের ড্রেসিংটাও করে।আমি তখনো দুর্বল শরীর নিয়ে বেঘোরে ঘুমোচ্ছিলাম।ইফান আস্তে আস্তে আমার উপর ঝুঁকে পড়ে।অতঃপর আমার ক্লান্ত মলিন চেহারাটায় প্রায় দুই ঘন্টার মতো একই ভাবে তাকিয়ে থাকে।জানি না এতক্ষণ আমার মাঝে কি খুজছিলো।সে বারবার ঢোক গিলছিলো।তার চাউনি তে ছিলো একরাশ কোমলতা।আস্তে আস্তে ইফান ওর সিগারেটে পোড়া ব্রাউন কালার ঠোঁট দু’টো আমার কপালে রাখলো।ঠিক তখনই ঘুমের ঘরে আচমকা অস্পষ্ট স্বরে বললাম,
❝জায়ান ভাই__❞
আমার অস্পষ্ট ভাবে বলা শব্দটা বুঝতে দেরি হলো না ইফানের।মূহুর্তেই ইফানের চেহারার সকল কোমলতা উড়ে গিয়ে অগ্নি বর্ণ ধারণ করলো।ঘুমের মধ্যেই এক থাবা মেরে, টেনে হেচরাতে হেচরাতে ড্রেসিং টেবিলে এনে বেঁধে রেখেছে।
–আর যদি তুই’ই বেঁচে না থাকিস।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই ইফান আমার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের দখলে নিয়ে পাঁজা কোলে তুলে নিলো।আমি ব্যথায় জর্জরিত দুর্বল হাতে ওকে ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করছি।ইফান কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার ঠোঁট ছেড়ে হাস্কি স্বরে বললো,
–আমি না থাকলে তোমারও অস্তিত্ব থাকবে না সুন্দরী।
এটুকু বলে ইফান আবার আমার ওষ্ঠের ভাজে ডুব দিলো।সেভাবেই ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে গেলো।
ইফান আমাকে বাথটবে রেখে তড়িঘড়ি করে গায়ে একটা শার্ট জড়িয়ে রুম থেকে বের হতেই ইতি আর পলি দরজায় এসে হাজির।সকাল থেকে একবারও আমাকে নিচে নামতে না দেখে তারাই উপরে এসেছে খোঁজ নিতে।যেহেতু ইফানও সকাল থেকে একবারও নিচে নামে নি তাই একা কেউ আসতে চায়নি আমার রুমে।সেজন্যেই দুজন এক সাথে ভয়ে ভয়ে এসেছে।ইফান সবে রুমে লক লাগাতে যাচ্ছিল তখনই ওরা হাজির। পলি ইতির পশ্চাতে হালকা চিমটি দিয়ে মনে করিয়ে দিলো আমার কথা জিজ্ঞেস করতে।ইতি তৎক্ষনাৎ একটা ঢুক গিলে বললো,
–ভা ভাইয়া ভাবি কি রুমে।
ইফান কপালে দুই আঙ্গুল ঘষে বললো,
–হুম গিয়ে বস, ও শাওয়ার নিচ্ছে।
পলি আর ইতি ঝটপট রুমে ঢুকতে নিতেই পেছন থেকে ইফান শক্ত গলায় বলে,
–আমি না আসা পর্যন্ত ঘর থেকে এক পা বের হবি না।আর কেউ যেন রুমে ঢুকতে না পারে।
ইতি আর পলি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলতেই ইফান তাড়াতাড়ি স্থান ত্যাগ করলো।
আমাদের রুমে ঢুকতেই পলি আর ইতির চোখ কপালে।পুরো বিছানা জুড়ে ব্লাডে ছোপ ছোপ হয়ে আছে।পলির বিষয়টা বুঝতে দেরি হলো না।তক্ষুনি হাঁপ সাপ শুরু করলো ইতির সামনে।ইতি আশ্চর্য হয়ে পলিকে বললো,
–ও পলি ভাবি বিছানা লাল হয়ে আছে কেন জাহানারা ভাবির কি ঘুমের মধ্যেই মিন্স হইসে। হায়হায় সবটা বিছানা ময়লা হয়ে গেছে। ইসস আমার মনে হচ্ছে এসব দেখেই ভাইয়া লজ্জায় একটু আগে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেছে।
ইতির কথা শুনেই খুকখুক করে কেশে উঠলো পলি।তখনই ইতির নজরে পড়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনের রক্ত মাখা ফ্লোর। ইতি আঁতকে উঠে লাফ মেরে পলির পেছন চলে গেলে।পলি সেদিখে একবার তাকিয়ে দেখলো খুব বাজে অবস্থা রুমের।সেও এখন বুঝতে পারছে না কি থেকে কি।তারপর দশ মিনিট পেড়িয়ে গেলো ওয়াশরুম থেকে আমাকে বের হতে না দেখে ইতি দরজার সামনে এসে ডাকলো,
–ও ভাবি এখনো তোমার গোসল হয়নি?
আমি ভেতর থেকে মৃদু আওয়াজে উত্তর করলাম,
–বোন ওয়ার্ডরোব থেকে আমার কাপড়গুলো দাও তো সোনা।
ইতি লাফিয়ে একটা শাড়ি ব্লাউজ আর পেটিকোট দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ধরলো।তখন সে ভেতরে তাকাতে নিলে আমি বারণ করে বললাম,
–ইতি ভেতরে কাউকে আসতে দিও না। আমি কাপর-চোপর খুলে শাওয়ার নিচ্ছি।
–তুমি কোনো টেনশন করো না ভাবি। পলি ভাবি আর আমি থাকতে কেউ ভেতরে আসতে পারবে না।
আরও দশ মিনিট পেরিয়ে গেল, আমি ধীরে সুস্থে শাওয়ার নিচ্ছি।পলি আর ইতি কাউচে বসে আমাদের অগোছালো রুমটা পরক করছে।তখনই তারাহুরো করে রুমে প্রবেশ করে ইফান।তার হাতে একটা শপিং ব্যাগ।ইফান কোনো দিক না তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোলো।ইফানের আচমকা আগমনে ধরফরিয়ে উঠলো ইতি আর পলি।ইফানকে ওয়াশরুমের দিকে যেতে দেখে ইতি এক দৌড়ে ওয়াশরুমের দরজার আঁকড়ে ধরলো।ইফান ইতির হঠাৎ এমন কাজে কপাল কুঁচকালো।তখনই ইতি বলতে লাগলো,
–ভেতরে যাওয়া যাবে না ভাইয়া,ভাবি গোসল করছে।
ইফান ইতির কথা কানে তুলার প্রয়োজন মনে করলো না।বরং ওর ডানায় ধরে দরজার সামনে থেকে সরাতে নিলে ইতি রুম কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,
–ও ভাবি ভাবি গো তাড়াতাড়ি কাপড়চোপড় পড়।ভাইয়া জোর করে ভেতরে ঢুকতে চাইছে,,,
ইফান চোয়াল শক্ত করে ইতিকে ধমক দিলো,
–স্টুপিট সর সামনে থেকে,,,
–না না, সরা যাবে না।এটা ভাবির মানসম্মানের প্রশ্ন।
ইফানের চোয়াল আরও শক্ত হয়ে আসলো।এদিকে ঘরের এক কোণে পলি কখন থেকে দাঁড়িয়ে ইশারাই ইতিকে থামতে বলছে।কিন্তু মেয়েটা থামার নামই নিচ্ছে না।পলি ইতির এমন বাচ্চামতে ভিষণ লজ্জায় পড়ে গেলো। ইফান সামনে থাকায় পাড়ছে না বাচ্চা মেয়েটাকে টেনে নিয়ে যেতে।ইফান বেশ কয়েকবার বলার পড়েও দরজা ছাড়ছে না মেয়েটা।শেষে ইতিকে জোর করে সরাতে নিলে পুনরায় ইতি চেচিয়ে বলতে লাগলো,
–ও ভাবি তাড়াতাড়ি কর, ভাইয়া আমার কথা শুনছে না।তাড়াতাড়ি কাপড় পড়ে নাও,,,
এক পর্যায়ে ইফান অবুঝ ছোট বোনের কাছে হার মেনে নেয়। রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার আগে হাতের শপিং ব্যাগটা দিয়ে বলে,
–বোইন মাপ চাই তোর কাছে।নে এটা অন্তত আমার বউয়ের হাতে তুলে দিস।
ভেবেছিলাম ধীরে সুস্থে শাওয়ার নিব।তা আর হয়ে উঠলো না চেঁচামেচির কারণে।তাই পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেড়িয়ে আসলাম।ইতি তখন দরজা ঘেরাও করে ধরে ছিলো।ইফান চলে যাওয়ার পর পলি কতবার বুঝাতে চেয়েছে স্বামী স্ত্রী এক সাথে থকালে কিছু হবে না।অবুঝ ইতি কানে তুললো না পলির কথা।সে আমার তখনকার বলা কথায় ধরে বসে আছে।তার কথা অনুযায়ী, “বড় ভাবি উনার সম্মান আমার হাতে তুলে দিয়েছে।এখন উনার সম্মান প্রটেক্ট করা আমার দায়িত্ব। ”
আমি ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ইতি খুশিতে গদগদ করতে করতে বললো,
জাহানারা পর্ব ৩০
–ও ভাবি ভাবি গো, আজ আমি না থাকলে কি হতো বল তো?
ইতির কথায় পলি ঠোঁট চেপে হাসছে। আমি আর কি করবো__ছোট্ট ননদের কথায় মৃদু হেসে উত্তর করলাম,
–তাই তো, তাই তো।তুমি না থাকলে তো তোমার ভাই আমার সব দেখে ফেলতো।
আমাদের কথার মাঝে আমার ভাইব্রেট করা ফোনটা বেজে উঠলো।পলি বেড সাইট থেকে ফোনটা আমার হাতে দিলো।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি তন্নির কল এসেছে।দেরি না করে ফোনটা কানে ধরলাম। ফোনের ওপাশ থেকে তন্নি কি বললো এটা আমি ছাড়া আর কেউ শুনতে পায় নি।তবে মূহুর্তেই আমার চেহারায় চিন্তার চাপ ফুটে ওঠে। আমি অবাক হয়ে তন্নিকে বললাম,
❝কিহ্? মাঝ রাত থেকে মুক্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!!!❞
