জাহানারা পর্ব ৩৮
জান্নাত মুন
ইফান আমাকে ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে দু হাত সামনে এগিয়ে দিলো।অতঃপর সে আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে কেজুয়ালি ডাকলো,
–আমার বুলবুলি,কাছে আস জান।
আমি ওর দিক থেকে পলক ফেললাম না।বরং আগের ন্যায় নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।ইফান আমার কাছে এসে আমার গালে হাত রেখে বললো,
–কি হয়েছে জান?এভাবে ভেজা চুলগুলো খোলা রেখেছ কেন আবার তো ভিজে যাচ্ছ?
আমি বিনা বাক্যে ইফানের সামনে থেকে চলে গেলাম।ইফান হালকা ঠোঁট বাকালো।আমি বুকে জড়িয়ে রাখা গামছাটা দিয়ে চুল পেচিয়ে নিলাম।অতঃপর কাভার্ড থেকে শাড়ি বের করে গায়ে জড়াতে লাগলাম।ইফান আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেই আমাকে লক্ষ করছে।আমি একবারও ওর দিকে তাকালাম না।শাড়ি পড়া শেষ হলেই রুম থেকে বেড়িয়ে চলে গেলাম।এদিকে ইফান এখনো নির্লিপ্ত ভাবে আমার যাওয়ার পানে চেয়ে।আমি যদি আজ একবার ইফানের চোখের দিকে তাকাতাম তাহলে হইতো দেখতে পেতাম অচেনা এক চাউনি।যাতে ছিলো আমাকে না বলা হাজারও নির্লিপ্ত স্বীকারোক্তি।
হ্যা,,এই সেই নি*কৃষ্ট,কু*ৎসিত চরিত্রের মানব ইফান চৌধুরী।যার সবটা জুড়ে পাপে মোড়ানো।যার বেডে প্রতিনিয়ত জায়গা পেত নতুন নতুন অপ্সরীরা।অথচ কেউ জানতেই পারলো না, কোনো এক নারীকে প্রথম দেখাতেই ইফান চৌধুরী সেই নোংরা নারী আসক্তি ত্যাগ করে।
হুম, আমিও কখনো জানতে পারি নি।ইফান যেদিন প্রথম আমাকে দেখেছিলো সেদিনই নারী সঙ্গ নেওয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়।তবে কোনো এক অযাচিত কারণে বেশ কয়েকবার নারী সঙ্গ নিতে চেয়েছিলে। তবে কখনো আর পারে নি।তার নিকৃষ্ট চোখ দু’টোতে বারবার ভেসে উঠতো এক পবিত্র সরল মুখাবয়ব।তার ইস্পাতের মতো কঠিন হৃদয়ের স্পন্দনও গতি হারাতো এক নারীর জন্য ।যা তাকে বারবার এসব থেকে দূরে সরিয়ে দিতো।এমন কি মুক্তাতাকেও তার থেকে দূরে রেখেছিলো।সেদিন মুক্তা আমাকে নিয়ে কু উক্তি করায় তার গালে ইফানের শক্ত হাতে চারটা থাপ্পড় পড়ে । তবে কেন মুক্তা আর ইফান নিজেদের নিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়েছিলো তা এখনও ধোঁয়াশা। আর কেনই বা ইফান নিজেকে আমার কাছে বারবার নোংরা প্রমাণ করতে চায়, সেটাও আমার অজানা।
ইফান বেশ কিছুক্ষণ আমার প্রস্থানের দিকে চেয়ে রইল।অতঃপর তার ঠোঁটের কোণে ভেসে উঠলো সেই চিরচেনা হাসি।যা দেখলেই আমার রাগে সারা শরীর জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যায়।ইফান ঠোঁট কামড়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বিরবির করলো,
–উফফ,তোকে রাগালে বুকে এত শান্তি লাগে কেন বউ?
ঘড়ির কাটা সকাল সারে আটটার ঘরে।অনেক রাত অব্দি জেগে থাকায় এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন জিতু ভাইয়া।সোফায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বেশ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে তাকে।ঘুমের মধ্যে একটু নড়তেই কিছু একটার সাথে নিজের মাথায় বারি লাগলো।তিনি বিরক্তি নিয়ে চোখ হালকা খুলতেই চমকে গেলো।নোহা উনার মাথার নিকট স্বল্প স্থান দখল করে ফ্লোরে বসে, সোফায় দু’হাত ভাজ করে, তার উপর মাথা রেখে নির্দ্বিধায় ঘুমাচ্ছে।চোখে মুখে কিছু শর্টকাট চুল পড়ায় তার ঘুমে বেশ ডিস্টার্ব হচ্ছে। এদিকে জিতু ভাইয়ার মূহুর্তেই ঘুম উবে গেছে নোহাকে এখানে দেখে।এই মেয়েটাকে উনার বরাবরই ডিজগাস্টিং লাগে।লাগবেই বা না কেন?মেয়েটা যে পরিমাণ গায়ে পরা তাতেই উনার বুঝা হয়ে গেছে নোহার ক্যারেক্টার কেমন টাইপের।
জিতু ভাইয়া ঝটপট চেচিয়ে, উঠে বসলেন,
–হোয়াট দ্যা হ্যাল!!!
জিতু ভাইয়ার কন্ঠ স্বর কানে যেতেই নোহা পিটপিট করে তাকালো।চোখের সামনে এলোমেলো জিতু ভাইয়াকে দেখে নোহার গোলাপি ওষ্ঠের কোণে হাসির ঝলক দেখা দিলো।মেয়েটার ঘুমের রেশ এখনো কাটে নি।সে ভাবছে জিতু ভাইয়া বর্তমানে স্বপ্নে তার সামনে বসে আছে।তার কেন জানি মনে হয় জিতু ভাইয়াকে সে আরও আগেও কোথাও দেখেছে।কিন্তু কোথায়?নোহা এখন ভাবছে সে স্বপ্ন দেখছে।সে তাই মনে করে জিতু ভাইয়ার দিকে হাত ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিলো।উদ্দেশ্য জিতু ভাইয়ার হালকা ব্রাউন ঠোঁট ছুঁইয়ে দেওয়া। তবে তার আগেই ওর হাত ঝারা মেরে সরিয়ে উঠে দাড়ালো জিতু ভাইয়া।মহূর্তেই নোহার ঘুম ঘুম ভাবটা সম্পূর্ণ কেটে যায় ।নোহা তারাহুরো করে উঠে দাঁড়ায়। জিতু ভাইয়া ধমক দেওয়ার আগেই মেয়েটা ভয়ে জড়সড় হয়ে বললতে লাগলো,
–জিতু বেইবি, আমি তোমার টুনটুনিতে একদমই হাত দেইনি। ট্রাস্ট মি আমি কিছ্যু করি নি শুধু,,,,,,
–শুধু কি???
নোহার এমন সব কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেল জিতু ভাইয়া।তাই ওর মুখের কথা কেড়ে নিলো। নোহা আদিখ্যেতা করে বাচ্চাদের মতো বলতে লাগলো,
–আমি তো জাস্ট তোমাকে একটা হামি দিয়েছি কিস করি নি। সত্যি,,,,,,
নোহার কথা শুনে জিতু ভাইয়ার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটতে লাগলো।তাকে কিনা একটা বাজে চরিত্রের মেয়ে কিস করে বসলো।এই মূহুর্তে উনার ইচ্ছে করছে থাপ্পড়ে এই মেয়ের বত্রিশ টা দাঁত ফেলে, গরাদে ঢুকিয়ে দিতে।জিতু ভাইয়া হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগে রিরি করছে।এদিকে উনাকে এমন অবস্থায় দেখে ভয়ে নোহার হাত পা কাঁপছে। জিতু ভাই মুখ খুলবে তার আগেই কানে আসে একটা রিনরিন আওয়াজে মেয়েলী কন্ঠ স্বর,,,,,
–নোহাপু তুমি এখানে???
জিতু ভাইয়া ধীরে ধীরে ঘার কাথ করে সেই দিকে তাকালো।ইতি নোহার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই ল*জ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।যেন দুনিয়ার সকল লজ্জা ওকে ঘিরে ধরেছে।ইতিকে লজ্জা পেতে দেখে জিতু ভাইয়ার ঠোঁটে মৃদু হাসির ঝলক দেখা দিলো, যা মূহুর্তের মধ্যেই মিলিয়ে যায়।ইতি নোহাকে মিনমিন করে বললো,
–নোহাপু, ভাবিজান তোমার খোঁজ করছিলো।উনি রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকায় আমাকে আর জুইকে পাঠালো ডাকতে।জুই আমাকে বললো এদিকে একবার দেখতে,আর ও আরেক দিকে গেছে। তুমি নিচে আস, আমি জুইকে গিয়ে বলি তোমাকে পেয়েছি।
নিজের কথা বলেই এক প্রকার ছুটে পালালো ইতি।এদিকে জিতু ভাইয়া সেদিকে একই ভাবে তাকিয়ে আছে।তার মনযোগে ব্যাঘাত ঘটে নোহার নেকামি কন্ঠে,
–বেইবি আমি আসি হ্যা।।।
–শাট আপ, আমার রুমে কখন এসেছ হুম?
নোহা মুখটা আরও গোমড়া করে বলতে লাগলো__জানো জিতু বেইবি,গতকাল না আমাকে ঘোস্ট রুমের বাইরে নিয়ে এসেছিলো।হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙতেই দেখি আসেপাশে সব অন্ধকার।ও এম জি, আমি অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম।তারপর যখন প্রিটি গার্লকে ডাকতে যাব তখনই প্রিটি গার্লের কন্ঠ কানে আসে,”কু*ত্তার বাচ্চা আরেকবার ঝাঁকি দিলি তোর বি*চি দুইটা ভুনা করে খা,,,,,”
–নোহাআআআআআ!!!!!
আচমকা পুরো শেখ বাড়ি কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো জিতু ভাইয়া।এবার আর নিজের রাগ সামলাতে পারছে না।কত বড় অসভ্য, বেয়াদব, নি*র্লজ্জ হলে এসব কথা তাকে বলে।জিতু ভাইয়া আসেপাশে তাকিয়ে একটা লাঠির খোঁজ করলো।অতঃপর কিছু না পেয়ে খালি হাতেই নোহাকে থাপ্পর দেওয়ার জন্য ওর দিকে তাকাতেই চোখ বড়সড় হয়ে গেলো।কারণ ইতোমধ্যেই মেয়েটা জিতু ভাইয়ার সামনে থেকে পালিয়েছে।জিতু ভাইয়া রাগে নিজের চুল টেনে আবার চেচিয়ে উঠলো,
–আরেকবার তোকে আমার সামনে পেলে থাপ্পড়ে তোর বত্রিশটা দাত পেলে দিব বি*চ,,,,,
আমি, আম্মু আর বড় আম্মু কে রান্নায় একটু হেল্প করলাম।যদিও আমার নিচে নামতে অনেকটা লেইট হয়ে গিয়েছিলো।আম্মু রা সব আইটেমই রান্না করে ফেলেছিলো প্রায়।আমি এসে সালাদ রেডি করলাম।আমি আরও কিছু করতে নিবো তখনই বড় আম্মু বললো,
–জাহান আম্মু তুমি আর কাজে হাত লাগিও না তো মা। যাও আব্বাজান কে গিয়ে বল নিচে আসতে আর বাকি সবাইকেও বলে দিও।
বড় আম্মুর কথায় আম্মু আর পাশের বাসার কাকিমাও সায় দিলো।আমি শাড়ির আচলে ভেজা হাতটা মুছে রান্নাঘর ত্যাগ করলাম।ভাবতেই অবাক লাগছে,এই যে আমার সম্মানহানি করে অবশেষে বিয়ে করলো।আর সেই নোংরা লোকটাকেই আমার মা চাচিরা ছেলের মতো আদর স্নেহ করছে।আধও কি এই নোংরা লোক তাদের স্নেহের মর্যাদা দিবে তো?আমি এসব ভেবে তাচ্ছিল্য করে হাসলাম।
রুমে ঢুকতেই আমার চোখ কপালে উঠার উপক্রম হলো।আমার সামনে লুঙ্গি আর সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং ইফান চৌধুরী। আমি কোনো কিছু না ভেবেই হাসিতে ফেটে পড়লাম।আমার খিলখিল হাসির আওয়াজ শুনে মূহুর্তেই থমকে গেলো ইফান।সে ফোনে কারো সাথে কথা বলছিলো।তখনই আমার আগমন। ইফান ফোন কানে ধরেই আস্তে আস্তে আামর দিকে তাকালো।অতঃপর মুগ্ধ নয়নে দেখতে লাগলো আমাকে।আমার মন ভুলানো হাসি দেখে ইফানের ওষ্ঠোদ্বয় আপনাআপনি আলাদা হয়ে গেলো।সাথে লেগে আছে তৃপ্তির হাসি।
আজ বহু বছর পর আবারও সেই জাহানারা কে দেখতে পেল ইফান।ইফান আমার স্নিগ্ধ চেহারার দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো।এদিকে এখনো ওকে দেখে রুম কাঁপিয়ে হাসিতে ফেটে পড়ছি আমি।ইফান আমাকে দেখতে দেখতে একটা ঢুক গিললো।আজও আমি একটা নীল শাড়ি পড়ে আছি।ইফানের চোখে স্পষ্ট ভেসে উঠছে সেই কাশবনের প্রতিচ্ছবি।তার কানে এখনো ভেসে আসে আমার সেই দিনের প্রাণবন্ত হাসির রিনঝিন সুর। ইফান আমার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই আনমনে উচ্চারণ করলো,,,
❝ নীলাঞ্জনা ❞
আমি পেটে হাত ধরে হাসছি তখনই ইফানের মৃদু কন্ঠ স্বর কানে আসে।আমি থমকালাম।কারণ এর আগে ওর মুখ থেকে এই ডাকটা শুনি নি।আমি ইফানের চোখের দিকে তাকালাম।আচমকা আমার ঠোঁটের হাসি বিলীন হয়ে যায়।তখনও ইফানের ঘোর লাগা নয়ন আমাতেই নিবদ্ধ। আমি আবারও কঠিন রুপে চলে আসলাম।এতে ইফানের ধ্যান ভাঙে।ওর কানে ফোনটা এখনো ধরে আছে।ইফান আমার দিকে তাকিয়ে থেকেই ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তির উদ্দেশ্য বললো,,
–গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা সিটি, জামুনা ফিউচার পার্ক সহ ঢাকার সকল মার্কেটের লুঙ্গি তুলে নিয়ে আমার শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দে।আজ থেকে আমি লুঙ্গি পড়বো।
নিজের কথা শেষ করে ফোন কেটে দিয়ে বিছানার উপর ছুড়ে ফেলে দিলো।এদিকে আমি বিষ্ময় ভরা নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে আছি।ফোনে এসব কি বলেছে লোকটা?এরই মাঝে ইফান আমার কাছে আসতে নিলে পড়নের লুঙ্গি টা খুলে পায়ের কাছে পড়ে গেলো।জীবনের প্রথম লুঙ্গি পড়ায় ঠিক করে গিট দিতে পারে নি।তাই দু পা এগোতেই খুলে পড়লো।আমি ওর এমন অবস্থা দেখে হতবুদ্ধ হয়ে ওর চোখের দিকে তাকালাম। ইফানের সাথে চোখাচোখি হতেই ইফান একটা শুকনো ঢুক গিললো।অতঃপর নিচ থেকে লুঙ্গিটা আবার কোমরে তুলে ধরলো।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ওর কাছে এগিয়ে গেলাম।তারপর লুঙ্গি তে গিট দিতে দিতে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললাম,
–লজ্জা করে না দামড়া জিনিস নিয়ে আন্ডার প্যান্ট ছাড়া ঘুরতে।
ইফান আমার শাড়ির উম্মুক্ত কোমরে হাত ঢুকিয়ে নিজের সাথে চেপে ধরলো।অতঃপর ঘারে মুখ ডুবিয়ে শব্দ করে চুম্বন এঁকে দিতে দিতে বলল,
–এত লজ্জা রাখলে বউকে ঠান্ডা করবো কিভাবে?
–অসভ্য,,,
আমার কাথা শেষ হতে না হতেই ইফান আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।আমি ওর বেসামাল ঠোঁটের বন্য স্পর্শ সহ্য না করতে পেরে গোঙ্গাতে লাগলাম,
—উমমমম,,,, ছাড়ররর,,,,,ইফান।
ইফান ছাড়লো না বরং তার সাথে আরেকটু মিশিয়ে নিলো।অতঃপর আরও কিছুক্ষণ আমার উপর নিজের খাহিশ মিটিয়ে তারপর ছাড়লো।আমি রাগে গদগদ করতে করতে ভেজা ঠোঁট মুছে নিলাম।ইফান আমার দিকে তাকিয়ে নিজের ঠোঁটের আসেপাশের তরল টুকু জিহ্বা দিয়ে আহরণ করে নিলো।অতঃপর আমার আচল দিয়ে মুছে নিলো।আমি খ্যাপা দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম। ইফান ঠোঁট বাঁকাল।আমি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম,
–কুত্তা সারারাত আমাকে ঘুমাইতে দিছস না।আর এখন সকাল হতে না হতে আবার শুরু করছস।
ইফান চাপা হেসে জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে লাগলো।আমার ঠোঁটে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে হাস্কি স্বরে বললো,
–বেইবি আজ রাতেও ঘুমাতে পারবে না।কিছুক্ষণ আগে একটা ভিডিও দেখলাম।উফফ,রাতে সেটা তোমার উপর এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে তো নাকি,সোনা।।
–বান্দর, তুই লে*প্টিনের গু খেয়ে থাক আমি গেলাম।
ইফানকে এক ঝারি মেরে, আমি রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।এদিকে পেছন থেকে কানে আসলো ইফানের উচ্চ স্বরে হাসির আওয়াজ।এতে রাগে আমার শরীরে যেন ফোসকা পড়তে লাগলো।
আমি বেড়িয়ে যেতেই ইনান আর আলাল,দুলাল রুমে ঢুললো।তাদেরও একই অবস্থা। পড়নে লুঙ্গি আর বড় আব্বুর অভার সাইজ ফতোয়া। ইনান ইফানকে একটা ফতোয়া দিলো পড়তে।ইফান নাক ছিটকে বললো,
–শালার থেকে শার্ট নিয়ে আসতে পারলি না?
আলাল তার বড় বড় দাঁতগুলো বের করে বললো,
–ভাই আপনার শালা এক নাম্বারে হিটলার।কত কিইরা চাইলাম একটা শার্ট প্যান্ট দিতে।আমাদের নাই বা দিলো অন্তত আপনাকে দিতে।দিলো না তো, দিলোই না।
সিরিয়াস কথা বলার সময়ও আলাল হেসে হেসে বলে।আজও তাই। ইফান ওকে একটা ঝারি মারলো,
–তুই শালা তর কাতলা কাতলা দাঁত গুলো বন্ধ কর।
অতঃপর চারজন নিচে নামলো।আগে থেকে লিভিং রুমে অপেক্ষা করছে সবাই।ইফানকে দেখা মাত্রই আমার মা চাচিরা রান্নাঘরে ছুটলো।এদিকে বড় আব্বু ভদ্রতার খাতিরে হেসে ইফানকে বললো খাওয়ার টেবিলে বসতে।আব্বু খবরের কাগজ মুখের সামনে ধরে রেখেছে,কিছু বললো না।বিষয়টা ইফানের ভালো লাগলো না।তাই তাড়াতাড়ি এসে আব্বু র থেকে পেপারটা ছিনিয়ে নিবে বলে বড় বড় পা ফেলতে গিয়ে ঘটে আরেক অঘটন। পুরো লিভিং রুম ভর্তি মানুষের সামনে লুঙ্গি খুলে পায়ের কাছে পড়লো।মূহুর্তেই আব্বু, বড় আব্বু সহ সকলেই অস্বস্তিতে পড়ে গেলো।আমি মাথায় হাত ধরে জোরে জোরে শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত রাখতে চাইছি।ইচ্ছে তো করে ওর মাথা ফাটিয়ে দিতে।আমি ডাইনিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে জিতু ভাইয়ার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছিলাম।আর তখনই এই অঘটন ঘটে।জিতু ভাই মহা বিরক্তি নিয়ে ইফানের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বিরবির করতে লাগলো।যদিও ইফানের কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না।তবুও এই পরিস্থিতি টা আমার জন্য লজ্জাজনক। কারণ শত হলেও ঐ লোকটা আমার স্বামী। ইফান আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো ঢুক গিললো।সে চোখের ভাষায় বুঝাতে চাইলো,
–আমি কিছু করি নি বউ।সব এই শালার লুঙ্গির দোষ।
আমি চোখ সরিয়ে ভাইয়ার পাতে তরকারি তুলে দিতে লাগলাম।এরই মাঝে নোহার কন্ঠ কানে আসে,
–ইয়েএএএএ ইফান বেইবি জাঙ্গিয়া পড়ে রেখেছে।হুররে বেইবির নুনু কেউ দেখতে পারে নি।
আমি, জিতু ভাইয়া সহ সকলেই নোহার দিকে চোখ গোলগাল করে তাকালাম। কারণ মেয়েটা ইফানের ফতোয়ার এক মাথা হালকা উঁচিয়ে ধরে, ইফানের পড়নে জাঙ্গিয়া দেখে খুশিতে গদগদ করছে।এদিকে ওর এমন কাজে আব্বু আর বড় আব্বুর লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে। অন্যদিকে জিতু ভাইয়া রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বিরবিরালো,
–ফা*কিং বি*চ,,,,,
বেলা পড়ে গেছে আরও অনেকটা সময় আগে।আজ জিতু ভাই বাড়িতেই ছিলো। সারাদিন নিজের রুমে পড়ে বেঘোরে ঘুমিয়েছে।এদিকে আসরের নামাজ পড়ে আমাদের গ্রামের ছোট বড় ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে।আজও করছে আমাদের বাড়ির পাশে আমাদের পড়ে থাকা জমিটায়।আমি ছোট থাকতেই দেখে আসছি জায়গাটা খালিই পড়ে আছে।আর বাচ্চারা এটাকে খেলার মাঠ বানিয়ে সবসময় খেলাধুলা করে।মূলত তারা খেলাধুলা করে বলেই জায়গাটার কোনো ব্যবস্থা করতে চাইছে না বড় আব্বু।
জিতু ভাইয়া হাই তুলতে তুলতে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। তখনই চোখে পড়লো বাচ্চাদের খেলা দেখে খিলখিল করে হাসছে ইতি আর জুই।তিনি বেশ কিছুটা সময় ইতিকে মনযোগ দিয়ে দেখলো।অতঃপর বেলকনি ত্যাগ করে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
সারে চারটা বাজে।আমি ঘর গোছাচ্ছি। তখনই কোথা থেকে ছুটে আমার রুমে আসলো নোহা।হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
–প্রিটি গার্ল, আমাকে তোমার একটা প্রিটি ড্রেস দিবে।
আমি কিছু না বুঝতে পেরে নোহার দিকে তাকিয়ে রইলাম।মেয়েটা আমার বিয়ের আগের গেঞ্জি আর প্লাজু পড়ে আছে। নোহা বারবার বলতে লাগলো আামর একটা সুন্দর ড্রেস তাকে দিতে।কিন্তু কেন তা তাড়াহুড়োর জন্য বলতে পারছে না। আমি ঝটপট আমার একটা গাউন জামা ওকে দিলাম। নোহা ওটা হাতে পেয়ে খুশিতে গদগদ করতে করতে আমার গালে পরপর দুটো চুমু খেয়ে যেভাবে ঝড়ের বেগে এসেছিলো, সেভাবেই বেড়িয়ে গেলো।
আমি ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে। তখনই দরজা দিয়ে ইফান প্রবেশ করলো।ওর এক হাতে ফোন। আরেক হাতে লুঙ্গির একটা কোণা ধরে রেখেছে। আমাকে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সেও সেদিকে একবার তাকিয়ে বললো,
–শালি এভাবে ছুটছে কেন?
আমি কাঁধ নাড়িয়ে ঠোঁট উল্টালাম। মানে আমি জানি না।তারপর আগের ন্যায় নিজের কাজে মন দিলাম।ইফান রুমের দরজা লাগিয়ে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।এতে বিরক্তি তে আমার চোখমুখ কুচকে আসলো।আমি ওর হাত সরিয়ে দিয়ে বিছানার চাদর ঠিক করতে গেলাম।এদিকে ইফান পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দিলো।আমি দাঁত কটমট করে ওর দিকে ফিরতেই আামর দুপাশে বেডে হাত রেখে আমার উপর ঝুঁকে পড়লো।অতঃপর ঠোঁট বাকিয়ে বললো,
–জান শরীরটা কেমন মেজমেজ করছে।
আমি চোয়াল শক্ত করে বললাম,
–আমার উপর থেকে সর।সবসময় ফাইজলামি ভালো লাগে না।
নির্লজ্জ লোকটা কথা শুনলো না।বরং আমার শাড়ির আচলে হাত চালাতে চালাতে বললো,
–আমি ফাইজলামি মারছি না।মুডে আছি জান।
নিজের কথা শেষ করে আমার আরও কাছে আসতে নিলে,ওকে সরাতে ওর মেইন পয়েন্টে হাঁটু মারলাম।আচমকা আমার এমন কাজে ইফান ছিটকে আমার উপর থেকে সরে নিজের মেইন পয়েন্ট চেপে ধরলো।আমি এই সুযোগে ওঠে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে খপ করে আমার হাতটা ধরে ফেললো।অতঃপর আমাকে ওর পিট করে তার সাথে চেপে ধরে।আমার এক হাত আমার পেছনে ইফান শক্ত করে ধরে রেখেছে। আমি হাতের মোচড়ে ব্যথা পেয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম,
জাহানারা পর্ব ৩৭
–শয়তান ছাড় বলছি,,,,,
ইফান রাগে দাঁতে দাঁত পিষতে লাগলো।ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে অতিরিক্ত মাত্রায়।ফলে কটমট শব্দ আমার কানে আসছে।ইফান আমার কানের কাছে নিজের খড়খড়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে সেভাবেই দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–তুই বেডি মনুষ, জামাইয়ের পিরিতের ঠেলায় “ও” “আহ্“ করে চোখ উল্টাবি।
আর তুই কি করস,পান থেকে চুন খসলেই জামাইয়ের নু*নুতে হাঁটু মারস,এটা কি ধরনের বেডাগিরি বউ?
