Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৪১

জাহানারা পর্ব ৪১

জাহানারা পর্ব ৪১
জান্নাত মুন

চারপাশে বিস্তৃত জলরাশি। দূর থেকে ইঞ্জিনের শব্দের সাথে জাহাজ-লঞ্চের হর্ণের শব্দ ভেসে আসছে।আমাকে কিডন্যাপ করে একটা লঞ্চে নিয়ে আসা হয়েছিলো।লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ জেলা দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর উপর ভাসমান অবস্থায় ছিলো।আগুন্তকঃ আমাকে কোলে করে নিয়ে আরেকটি ক্রুজশীপে উঠতেই ক্রুজশীপটি চলতে শুরু করলো।
ক্রুজশীপটি অন্ধকারে মিলিয়ে যেতেই আরও পাঁচটি লঞ্চ ভাসামান লঞ্চটির পাশে এসে থামলো।সেখান থেকে জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়া লাফ দিয়ে অপর লঞ্চটিতে উঠলো।তাদের পিছন পিছন সিআইডি টিমের সকলে সহ নৌবাহিনীর সৈন্যরাও উঠে পড়লো।তারা লাউঞ্জ এরিয়ায় এসে দেখলো সব ফাঁকা।বাইরে অনেক গুলিবিদ্ধ ম*রদেহ পড়ে আছে।জায়ান ভাই এখানেও আমাকে না পেয়ে আরও অস্থির হয়ে পড়লো।সকলেই পুরো লঞ্চটিকে তন্নতন্ন করে খুঁজলো।তবুও কোনো সূত্র পেলো না।জায়ান ভাইয়ের চোখ আবার ভিজে এসেছে আমাকে না পেয়ে। তিনি বুকের বাম পাশে হাত ধরে, হা করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।হঠাৎ উনার চোখে পড়লো ফ্লোরে পড়ে থাকা বেলি ফুলের গাজরাটার দিকে।তিনি তাড়াতাড়ি সেটাকে কুড়িয়ে নিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরলো। তিনি এবার নিশ্চিত হলো এখানে আমি ছিলাম।তিনি নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো কেন এখানে আরেকটু আগে এসে পৌছালো না?তাহলেই তো তিনি আমাকে পেয়ে যেতো।
জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে আসসাস দিতে লাগলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের মন মানতে চাইছে না।তিনি চোখ বন্ধ করে, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে গোঙরে গোঙরে কেঁদে যাচ্ছে।উনি গাজরাটা বুকের সাথে চেপে ধরে মনে মনে আমাকে বলতে লাগলো,

–তুই কোথায় জারা?আমি তোকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না পাখি।আমি তোকে ছাড়া আর নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো না জান।দয়া করে আমার জন্য হলেও নিজেকে অক্ষত রাখ পাখি।আমি তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি জারা।আমি তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি,,,,,,,,,
শেষ কথাগুলো অস্পষ্টভাবে মুখ দিয়ে বের করে হেলে পড়লো।জিতু ভাইয়া চিৎকার করে ডেকে উঠলো,
–ভাইয়াআআআ,,,
জায়ান ভাই নিস্তেজ হয়ে পড়তেই, জিতু ভাইয়া, অফিসার কবির আর হিমন ধরে ফেললো।জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে ডাকতে লাগলো,
–ভাইয়া,ভাইয়া শুনতে পারছ।প্লিজ চোখ খুল,তোমার শরীর ঠিক আছে?
জায়ান ভাইয়ের থেকে উত্তর আসলো না।সিআইডি অফিসারদের সাথে ফরেনসিক ডক্টর সুমিও এসেছে।তিনি জায়ান ভাইয়ের পালস্ চেক করে বললো,
–আরমান স্যার, ইমিডিয়েট উনাকে প্রাইমারি ট্রিটমেন্ট দিতে হবে।না হলে উনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
জিতু ভাইয়া আর অফিসার হিমন জায়ান ভাইকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো।এদিকে বাকি সদস্যরা আমার খোঁজে চালিয়ে যেতে লাগলো।

রাত দুইটা বাজে।আমি নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চৌদ্দ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।শেখ বাড়িতে সুখের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।আব্বু প্রায় স্টোক করতে বসেছিলো।আব্বুর চাচাতো ভাইরা উনাকে ঠিক সময় হাসপাতালে না নিলে অঘটন ঘটে যেতো।এদিকে আম্মু খনে খনে জ্ঞান হারিয়ে বসছে।চাচি কাকিরা বড় আম্মু আর আম্মুর মাথায় পানি ঢালছে।কবিতা আপু জুইকে বুকে নিয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে।কয়েকজন মাথার কাছে পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে ওদের শরীরে বিন্দু মাত্র শক্তি নেই। প্রতিবেশী চাচি কাকিমারা এখনও আমাদের বাড়িতেই আছেন।উনারা সবাইকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে তবে কাউকেই খাওয়াতে পারে নি।শুধু কবিতা আপু,জিয়াদ আর জুইকে দু মুঠো ভাত গিলাতে পেরেছে।আব্বু হাসপাতালে এখনো ভর্তি আছে।কিছুক্ষণ আগে বড় আব্বু খোঁজ নিয়েছেন আব্বুকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।

তখন জিতু ভাইয়া জায়ান ভাইকে বাড়িতে রেখে আবার আমাকে খুঁজতে চলে যায়।আর জায়ান ভাইয়ের জ্ঞান ফিরার সাথে সাথে আমার জন্য পাগলামি শুরু করে দেয়।এই দুর্বল শরীর নিয়েই আমাকে খুঁজতে বেরোতে চায়।এদিকে বড় আব্বু জায়ান ভাইয়ের কাছে বসে আছে, জায়ান ভাইয়ের রুমে।জায়ান ভাইকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।উনার হাতে ক্যানুলা লাগানো,সেলাইন চলছে।সারাদিনে এক ফোটা পানিও না খাওয়ায় শরীর অনেক দুর্বল।

রাত যত বাড়ছে,পরিবেশটা ততই স্তব্ধ হয়ে আসছে।কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির সকলেই ক্লান্ত হয়ে শরীর ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিবেশী অনেকেই নিজেদের বাড়ি চলে গেছে। সবকিছুই যখন শান্ত, তখনই বাড়ির পিছন দিকে দুটো গাড়ি এসে থামলো।পিছনের গাড়ি থেকে তিনজন কালো পোশাকধারী লোক বেড়িয়ে এসে,প্রথম গাড়ির ডোর ওপেন করে দিলো।সেখান থেকে একটা কালো হুডি পড়া লোক বেড়িয়ে আসলো।তার মাথায় হুডির ক্যাপটা টেনে রেখেছে। মুখে কালো মাস্ক পড়া।লোকটা গাড়ি থেকে আমাকে বের করে কাঁধে তুলে নিলো।আমি এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। লোকটা আমাকে নিয়ে বাড়ির পেছন দিকে দিয়ে ঢুকে।তারপর কালো পোশাকধারী লোকগুলো আমর রুমের বেলকনি বরাবর মই রাখলো।সেখান দিয়ে লোকটা আমাকে নিয়ে রুমে চলে আসলো।

লোকটা আমাকে খুব সন্তোপনে বিছানায় শুইয়ে দিলো।তারপর আমার ওপর ঝুকে আমাকে মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো।আজ সারাদিন আমি ঘুমের ঘোরে আছি।কারণ আমাকে ঘুমের কড়া ডোজ দেওয়া হয়েছে।একদিনেই মুখটা কেমন যেন শুকিয়ে ফেকাসে হয়ে গেছে।লোকটা নিজের হাত দিয়ে আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে ঠোঁটের কাছে এসে থামলো।আমার গোলাপি ঠোঁটগুলো শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।লোকটা ঢুক গিললো।তারপর বেশ কিছুক্ষণ আমার ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করলো।আর ঢুক গিলতে লাগলো।লোকটা আমার মুখের উপর আরো ঝুকে পড়ে।লোকটার কান থেকে মাস্কের একটা ফিতা খুলতেই তার ঢেকে রাখা চেহারাটা দৃশ্যমান হলো।লোকটা আমার ওষ্ঠভাজে ডুব দিতে দিতে হাস্কি স্বর হিসহিসিয়ে বললো,

❝মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি,,,,,,❞
বাক্যটুকু শেষ করতে না করতেই আমার ঠোঁটে হামলে পড়লো।লোকটার ঠোঁট গুলো দিয়ে বেসামাল ভাবে আমার ঠোঁটে রাজত্ব চালাতে চালাতে আমার কলেজ ড্রেসটা বুক অব্ধি তুলে নিলো।তারপর পাজামা টেনে নাভির নিচে নামিয়ে দিয়ে সেখানে হাত বুলাতে থাকলো তো কখনো চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।হঠাৎই লোকটা কেমন যেন উন্মাদ হয়ে উঠেছে।লোকটা আমার ঠোঁটের আসেপাশ লালা দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে।হঠাৎই লোকটা নিজের হাত আমার পায়জামার ভিতর ঢুকিয়ে দিলো।মূহুর্তেই আমার সারা দেহ কম্পিত হলো।লোকটা এখনো আমার ঠোঁট নিজের দখলে রেখেছে। তার হাতের বন্য স্পর্শে আমার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে।আমি অচেতন অবস্থাতেই জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছি।এতে যেন লোকটা আরও বেসামাল হয়ে উঠেছে।ইতো মধ্যে লোকটা নিজের দেহের ভার আমার লতানো ছোট্ট দেহে ছেড়ে দিয়েছে।আমি অস্থির হয়ে উঠতেই লোকটা যেন হুশে ফিরলো।তাড়াতাড়ি আমার ওষ্ঠ ছেড়ে, পাজামার ভেতরের হাতটাও বের করে নিলো।অতঃপর আমার ঠোঁটের আসেপাশে ভেজা অংশটা নিজের এক আঙ্গুলের সাহায্য মুছে দিলো।লোকটা আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে কপালে আর কানের লতিতে শব্দ করে চুমু এঁকে দিল।লোকটা আমার উপর থেকে উঠতে গিয়েও উঠলো না।বরং আমার জামাটা বুকের উপর থেকে সরিয়ে দিলো।কিন্তু ভেতরে ইনার দেখে বড্ড বিরক্ত হলো।সে আমার পিটের নিচে হাত ঢুকিয়ে ইনারের হুক খুলে বুক থেকে ইনারটা সরিয়ে দিলো।লোকটার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি উদয় হয়েছে।লোকটা আমার বুকের নিচের তিলটায় ঠোঁট ছুঁইয়ে দীর্ঘ শ্বাস টেনে নিলো।তারপর আমার চেস্টের নিপলে ঠোঁট ছুঁইয়ে সেখানে কামড়ে দিলো।আমি উম উম উচ্চারণ করে কেঁদে দেওয়ার জন্য ঠোঁট উল্টালাম।লোকটা আমার মুখের দিকে তাকালো।তারপর কানের কাছে ঠোঁট এনে হাস্কি স্বরে বললো,

–বুলবুলি তুমি এত নরম সরম কেন?ইচ্ছে তো করছে আজই ঢুকে যেতে।
লোকটা থামলো।অতঃপর ঘারে মুখ ডুবিয়ে শ্বাস টেনে একই ভাবে হিসহিসালো,
–ওয়ান ডে বুলবুলি, আই উইল ফা*ক ইউ।এগেইন এন্ড এগেইন,,,,,,,,,
নিজের শেষ বাক্যটা বলেই উঠে দাঁড়াল। অতঃপর আমার জামা আগের মতো ঠিকঠাক করে, নিজের মুখের মাস্কটা পড়ে দ্রুত পায়ে একই পথ দিয়ে বেড়িয়ে গেলো।

চারিদিকে ফজরের আজান ভেসে আসছে।চাচিরা আম্মু আর বড় আম্মু কে বলছে,এভাবে কান্নাকাটি না করে জায়নামাজে পড়ে কাঁদতে।তাহলে আল্লাহ আমাদের উপর মুখ তুলে তাকাবেন।আম্মু আর বড় আম্মুকে সকলে ধরে দাঁড় করাচ্ছে। এরই মাঝে জায়ান ভাইয়ের কন্ঠ কানে আসলো।
❝জারা, আমার জারা কোথায়? জারা, পাখি আমার তুই কোথায় আছিস?❞
বড় আব্বু আর জিয়াদ জায়ান ভাইয়ের পিছনে ছুটে আসছে।উনার জ্ঞান ফিরার কথা ছিলো আরও দেরিতে।কিন্তু হঠাৎ করেই আমার নাম উচ্চারণ করে শুয়া থেকে উঠে বসলো।তারপর আর কোনো দিকে না তাকিয়ে হাতের ক্যানুলা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো মতে গায়ে একটা শার্ট জড়িয়ে নিচের দিকে ছুটে আসছে।বড় আব্বু আর জিয়াদও তাকে আঁটকে রাখতে পারছে না।বড় আম্মু নিজের গোছানো ছেলেকে এমন অগোছালো আর পাগলামি করতে দেখে আরও কান্নায় ভেঙে পড়লো।জায়ান ভাই জারা, জারা করতে করতে বাড়ি থেকে বের হতে নিলে সকলে ধরে আটকানোর চেষ্টা করতে লাগলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের শক্তির কাছে সকলের শক্তি যেন তুচ্ছ মনে হচ্ছে। জায়ান ভাই চিৎকার করে বলতে লাগলো,

–তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও।আমার জারা ভালো নেই। আমি আর বাঁচবো না।কাকে নিয়েই বাঁচবো আমি।আমার পাখি তো হারিয়ে গেছে। জারা জানপাখি তুই কোথায়, আমার কাছে ফিরে আয় পাখি। জারাআআআআআ,,,,,,
–জা জায়ান ভাই।
আমার কন্ঠ শুনে উপস্থিত সকলে থমকে গেলো।জায়ান ভাই আস্তে আস্তে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো আমাকে।আমার শরীরে এখনো কলেজের ড্রেস।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।ঘুমের তরে চোখগুলো বারবার বন্ধ করে নিচ্ছি। এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। সকলের চেচামেচি শুনে নিচে এসেছি।আমাকে এখানে দেখে সকলেই যেন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলছে। জায়ান ভাই অবাক হয়ে অস্পষ্ট ভাবে আমাকে ডাকলো,

–জারা।।।
–আ আমি এখানে তো,,,,,,
আমার বাক্য শেষ হতে না হতেই জায়ান ভাই ছুটে এসে আমাকে ঝাপটে ধরলো।তারপর উন্মাদের মতো আমার সারা মুখে চুমু খেতে লাগলো।কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো,
–তুই ঠিক আছিস জান।তোর কিছু হয় নি তো।কেউ কিছু করে নি তো তোর সাথে। আমাকে বল পাখি, তোকে কেউ কিছু করেনি তো।একবার বল জান তুই ঠিক আছিস।কোথায় চলে গিয়েছিলি পাখি।আমি তো তুই হীনা আজই মরে যেতাম,,,,,,,,,,

আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে জায়ান ভাই নিজেই বলতে লাগলো।এদিকে আমাকে সুস্থ দেখে সকলে হাউমাউ করে কাঁদতে উঠলো।জায়ান ভাই আমাকে নিজের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখার নিদারুণ চেষ্টা করতে লাগলো।তিনি আমাকে নিয়ে সিঁড়ির কাছেই বসে পড়লো।এদিকে সকলেই আমাকে সেভাবেই ঘিরে এটা ওটা বলে আনন্দে কাঁদতে লাগলো।
আমাকে বাড়িতেই পাওয়া গেছে খবরটা জিতু ভাইয়ার কাছে পাঠাতেই তিনি সকলকে জানিয়ে দিলো।আমাকে না পেয়ে জিতু ভাইয়ারও পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে।জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়া জানতে চায় আমি বাড়ি কিভাবে আসলাম।এদিকে সকলকে এই অবস্থায় দেখে আমি ভিষণ ভয় পেয়ে আছি।আর আমার কিছুই মনে নেই কি হয়েছে।শুধু এটুকুই মনে আছে, আমি কলেজের গেইটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম, আর কিছু মনে নেই।আমাকে বেশি প্রেসার দেয় নি কেউ। কারণ আমি অক্ষত অবস্থাতেই বাড়ি ফিরেছি এতেই সকলে খুশি। শুধু জায়ান ভাই আর জিতু ভাইয়ায় এই বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকে।

সকাল ছয়টা বাজে।আমাদের বাড়িতে একে একে সকলে আসছে আমাকে পাওয়ার খবর শুনে। কবিতা আপু আমাকে রুমে নিয়ে আসলো।তখন লোকটা আমার পেটে চাপ দেওয়ায় এখন তল পেটে অনেক ব্যথা করছে।আমি ভাবলাম হয়তো পিরিয়ড হবে তাই পাত্তা দিলাম না।কবিতা আপু কাভার্ড থেকে আমার জামাকাপড় বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো,

–সোনা বোন গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নে।ইশশ একদিনে কতটা শুকিয়ে গেছস।
আমি ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিলেই কবিতা আপু পিছন থেকে ডেকে উঠলো,
–এই জাহান দাঁড়া একটু।
আমি দাঁড়াতেই আপু ছুটে এসে আমার ডান হাত ধরে সামনে আনলো।
–তোর বুড়ো আঙ্গুলে এটা কি হয়েছে?
আমি নিজের হাতে তাকাতেই দেখলাম, সত্যিই তো নীল রঙের মতো কি একটা লেগে আছে।আমি নিজের জামায় আঙ্গুল ঘষতে ঘষতে বললাম,
–ইয়াক ছি আঙ্গুলে রং কোথা থেকে লাগলো?
–হয়েছে হয়েছে এবার শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হ।তোর চিন্তাই তো আমরা আরেকটু হলে মরেই যেতাম।আর তুই কিনা সারাদিন বাড়িতে থেকে নিজের রুমে ঘুমাচ্ছিলি।

পেরিয়ে গেছে আরও দুটো মাস।সেদিনের ঘটনাটা এখনো সবার কাছে ধোঁয়াশা।সবাই আলোচনা করে আমাকে জ্বীনে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ তারা নাকি সুন্দরী মেয়েদেরকে এভাবে হঠাৎ করে নিয়ে যায় আবার অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে যায়।আমার আম্মু আর বড় আম্মুও এটাই বিশ্বাস করেছে।যেহেতু আমি কোনো কিছু বলতে পারি নি__সেদিন আমার সাথে কি হয়েছিলো।সবার কথা শুনে আম্মু তো আমাকে কবিরাজও দেখিয়েছিলো।সে কথা আবার বাড়ির কোনো পুরুষ জানে না।কারণ এসব কথা আব্বু’রা বিশ্বাস করে না।
সেদিন জায়ান ভাই আমাকে একা রুমে নিয়ে যায়।অতঃপর আমার হাতে একটা রিভলবার আর ছোট্ট সরু ধারালো ছুরি তুলে দিয়ে বলে, নিজের আত্নরক্ষা এখন থেকে নিজেই করার জন্য। কারণ বিপদের সময় কেউ থাকবে না। বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে।জিতু ভাই আমাকে রিভলবার চালানো শিখায়।আমিও সেদিনের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি।যদিও আমাকে কখনো চোখের আড়াল করে না কেউ।

কিন্তু আজ তন্নির সাথে সুমাইয়ার বাসায় গিয়েছিলাম ওর জন্মদিন উপলক্ষে।জায়ান ভাই বিজনেসের কাজে ঢাকা গিয়েছে গতকাল।তাই আমি এই সুযোগে গার্ড ছাড়ায় বসা থেকে বেড়িয়ে গেছি।আমার সাথে বন্ধুবান্ধব ছিলো বলে বাসার কেউও গুরুত্ব দেয়নি।এদিকে সুমাইয়াদের বাসা আমাদের বাসার কাছে হওয়ায় আমি আর তন্নি ভাবলাম এইটুকু রাস্তা আমরা চলে যেতে পারবো।যা ভাবা তাই কাজ।আমার বাড়ি থেকে লোক আসার আগেই আমরা দুই পন্ডিত সুমাইয়ার বাসা থেকে বেড়িয়ে এসেছি।রাস্তায় অনেক মানুষ আছে তাই ভয় লাগছে না।কিন্তু সমস্যা হয় যখন বাজার পেড়িয়ে আমাদের বাড়ির অনেকটা কাছে চলে আসি।সেখানে কিছুটা জায়গা ফাঁকা।এই রাস্তায় আসতেই আমরা দুই বান্ধবী ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছি।

তখনই দু’টো ছেলে আমাদের ঘিরে ফেলে।এদের আমরা আগেও দেখেছি।আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামটায় থাকে।এরা হলো এক নাম্বারে গাঞ্জাখুর।ছেলে দুটো আমাদের মুখে ধরে টেনে হিচরে লোকালয় থেকে আরও কিছুটা দূরে নিয়ে গেলো।এখানে কেউ চেচিয়ে মরলেও কেউ শুনতে পাবে না।ছেলে দু’টো আমাদের সাথে জোর জবরদস্তি করতে আরম্ভ করে।একটা ছেলে তো তন্নির সম্মানহানি করার জন্য হামলে পড়ে।আমি তখনই এক সাহসী কাজ করে বসি।আমার সামনের ছেলেটাকে লাথি মারি।এতে ছেলেটা আমাকে চর মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।অন্যদিকে নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য তন্নি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।আমি তারাহুরো করে ইনারের ভেতর থেকে ছু*রি বের করে আমার সামনের ছেলেটার গলায় বসিয়ে দিলাম।ছেলেটা সাথে সাথে গোঙ্গাতে লাগলো।আমি গিয়ে তন্নির উপর ঝাপিয়ে পড়া ছেলেটাকেও ছু*রি দিয়ে এলোপাতাড়ি আ*ঘাত করি।কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলে দুটো মরা যায়।এদিকে আমি আর তন্নি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।

তন্নি নিজেদের বাসায় চলে যায় আর আমি আমার বাসায়।এদিকে আমি কাউকে কিছু না বলে চুপিচুপি নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।রাস্তায় আমি আর তন্নি প্ল্যান করেছি, এই ঘটনা কাউকে বলবো না।আমি ওয়াশরুমে গিয়ে ছুরিটা ভালো করে ধুয়ে নিই।ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। আমি আজ জীবনের প্রথম কোনো অন্যায় কাজ করলাম।যদিও জায়ান ভাই আর জিতু ভাই আমাকে ট্রেনিং দেওয়ার সময় বলে দিয়েছে, নিজের আত্মরক্ষার জন্য অপরাধী কে আঘাত করতে পিছু পা না হতে।আমিও আজ পিছু পা হই নি।নিজের সম্মান রক্ষা করতে অপরাধী কে শাস্তি দিয়েছি।আমি নিজের শরীরের সকল বস্র খুলে শাওয়ার নিতে লাগলাম।

এদিকে ল্যাপটপের মনিটরে আমাকে দেখা যাচ্ছে। যেখানে আমি শাওয়ার নিচ্ছি।ল্যাপটপের সামনে কাউচে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বসে আছে ইফান চৌধুরী।তার শরীরে কাপড় বলতে একটা শর্ট প্যান্ট তাও আবার বিপদ সীমার নিচে নেমে আছে।ইফান ড্রিংক করছে আর আমার শাওয়ার নেওয়া দেখছে।তার চোখদুটো যেন আমাকে গিলে খাচ্ছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।ইফানের গলা বারবার শুকিয়ে আসছে।সে ঢকঢক করে একের পর এক গ্লাস ড্রিংক করেই চলেছে।তবুও যেন তার তৃষ্ণা মিটছে না।এদিকে মনিটরে আমকে এই অবস্থায় দেখে ইফান পুরোই মাতাল হয়ে গেছে। ইফান কাউচে মাথা হেলে চোখ বন্ধ করে নিয়ে__নিজের মেইন পয়েন্ট চেপে ধরলো।ইফানের ফর্সা হাতে রগগুলো হঠাৎই ফুলে উঠেছে।তার দেহের অত্যাধিক মাত্রার উত্তজনায় সেগুলো নড়াচড়া শুরু করেছে ।অতঃপর বিরবির করতে লাগলো,

–বুলবুলি, বুলবুলি, বুলবুলি। উফফফ কি জিনিস তুমি,,,,
ইফান ঘার কাথ করে তার পাশে কাউচে পড়ে থাকা একটা পেপারের দিকে তাকিয়ে আবারও বাঁকা হাসলো।তারপর ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে ইনানকে চেচিয়ে ডাকতে লাগলো,
–ইন্দুইরার বাচ্চা, তাড়াতাড়ি আইস কিউব নিয়ে আয়।শালি আজও প্যান্ট ভেজানোর বন্দোবস্ত করেছে।
______বর্তমান ___
আমি ভাবনার জগতে ডুবে গেছি।তাই বাস্তব দুনিয়ার সকল জ্ঞান হারিয়ে বসে আছি।শাওয়ারের নিচে এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ঠান্ডায় শরীর জমে গেছে। সেসবে আমার খেয়াল নেই। তবে হঠাৎ নিজের শরীরে উষ্ণতার পরশ পেতেই মস্তিষ্ক পুনরায় সজাগ হয়ে উঠলো।আমি চোখ খুলার আগেই অতি পরিচিত মাদকীয় পুরুষালী কন্ঠ কানে আসে,

–আমার ঝাঁঝওয়ালির ঝাঁঝ আবার বেরে গেলো নাকি?
ইফানের কথার উত্তর দিলাম না।বরং আমি ওর থেকে সরে যেতে নিলে ইফান আমাকে তার সাথে আরও চেপে ধরে।আমি আমার কোমর থেকে ওর হাত ছাড়াতে লাগলাম।ইফান আমাকে ঘুরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।এখন ইফান আর আমি মুখোমুখি।ইফানও শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকায় ভিজে গেছে। ইফানের উপরের অংশ খালি,তবে কোমরে টাউয়াল জড়ানো।তার পেশিবহুল দেহ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।ইফান আমার উপর ঝুঁকে থাকায়__ওর থুতনি গড়িয়ে শাওয়ারের পানি আমার মুখে পড়ছে।আমি ওর বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে সরাতে বললাম,,

–সবসময় এসব নোং*রামি ভালো লাগে না ইফান।
আমার কথা শুনে ইফান চোখ সরু করে, ব্রু উঁচিয়ে বললো,,
–কোনটা নোং*রামি?
–সামনে থেকে সর।
আমি ইফানের থেকে চোখ সরিয়ে বললাম।আমার উত্তর ইফানের পছন্দ হয় নি বিধায় তার চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে।ইফান আমার গালে দুই আঙ্গুল চেপে ধরে তার দিকে আামর মুখ ঘুরালো।তারপর দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–আন্সার মি????
–আমাকে যেতে দাও,,,,
ইফান আমার ঠোঁটের কোণে এক আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বললো,,,

–ডো ইউ নো বেইবি?নেকেড লুকে তোমাকে কতটা প্রিটি লাগে?
ইফানের বাক্যটা আমার কান অব্ধি পৌঁছাতেই আমি চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকালাম। ইফানের ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি খেলছে।আমি নিজের ন*গ্ন দেহে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে হাঁপসাপ করতে লাগলাম।যদিও এটা নতুন বিষয় না।তবুও ইফানের চাউনিটা ভিষণ রকম অস্বস্তিকর।আমি জমিনে পা আরও শক্ত করে চেপে ধরলাম।ইফান বাঁকা হেসে আমার কোমরে টান মেরে ওর সাথে মিশিয়ে নিলো।মূহুর্তেই আমার নিম্নাংশে দন্ডায়মান কিছু লেগে যাওয়ার অনুভব করলাম।আমি ঠোঁট ভিজিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থেকেই ইফানকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলতে যাব__তার আগেই ইফান বলে উঠলো,

–সুইটহার্ট, তোমার জন্য একটা গিফট আছে।
আমি ইফানের দিকে আর চোখে তাকাতেই ইফান পিছনে টাউয়ালে গুঁজে রাখা ইয়ের পেকেট আমার চোখের সামনে ধরলো।মূহুর্তই আমার চোখ কপালে।ইফান ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো,
–পছন্দ হয়েছে জান?
আমি ইফানের বুকে কিল মেরে দাঁত কিরমির করতে করতে বললাম,
–অসভ্য, ব*দমাশ, জা*নোয়ার। নিজের শ্বশুর বাড়িতে ক*নড*ম কিনে নিয়ে আসতে লজ্জা করলো না?
ইফান আবারও আমার কোমর ধরে টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।তারপর সরল চেহারা করে বললো,
–ওমা বউ কিনে আনতে যাব কেন?
ইফানের কথা শুনে রাগ আরও বাড়তে লাগলো।আমি চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বললাম,

জাহানারা পর্ব ৪০

–তাহলে কি পেকেটটা উড়ে উড়ে চলে এসেছে?
আমার কথা শুনে ইফান একটা ঢুক গিললো।অতঃপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
–ইয়ে মানে বউ, শ্বশুর আব্বা’র থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছি।
ইফানের বাক্যটা আামর কানে আসতেই আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।কেমন যেন মাথাটা ঘুরিয়ে উঠলো।আমি হেলে পড়তে নিলেই ইফান আরও শক্ত করে ধরলো।আমি অসহায় চোখে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার এমন চাউনি দেখে খুব কষ্ট করে শুকনো ঢুক গিলতে লাগলো।অতঃপর ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথা

জাহানারা পর্ব ৪২