জেন্টাল মনস্টার শেষ পর্ব
লামিয়া রহমান মেঘলা
সন্ধ্যার পর এক মিষ্টি হলুদাভ সন্ধ্যা নেমে এলো চারপাশ জুড়ে।
মিরাকে হলুদ দেওয়া এবং গান বাজনায় মেতে উঠলো পরিবেশ। মিরার পাশে সায়েরকে বসিয়ে তাকেও হলুদ দেওয়া হয়েছে।
আজ দু’জনকেই ভুত বানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো হলুদ দিয়ে। তার পরেও সবাই মিলে অনুষ্ঠানে অনেক মজা করেছে।
আদ্রিতাও কম নয়। শরীরটা যদি আরেকটু সুস্থ থাকত তবে এই বিচুটি পাতাকে আজ কেউ ঠেকাতে পারত না৷
সায়ের, বোনের হাসি আনন্দ দেখে এত বেশি খুশি হচ্ছে। সেই সাথে মিসেস মিহু। আদ্রিতা এই বয়সে এসে পরিবার ফিরে পেয়েছে সেই সঙ্গে ভাইয়ের বিয়েটাও দেখতে পারছে। এর চেয়ে খুশির খবর আর কি বা হতে পারে।
প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠান উপভোগ করল, হাসি, গল্প আর আনন্দে ভরে উঠল পরিবেশ।
গানের তালে প্রিয়া সুন্দর কিছু বাচ উপহার দিয়েছে সবাইকে। সেই নাচ স্টেজের নিচ থেকে ভ্যাবলার মত তাকিয়ে দেখে রেভেন৷
মেয়েটাকে সে যতই দেখুক না কেন মনটা তার ভরেনা৷ তার আকাঙ্খা জুড়ে আজকাল শুধু প্রিয়া প্রিয়া এবং প্রিয়া।
মিরা অবশ্য দু’জনের প্রেম ভালোই লক্ষ করে। তবে মেয়েটা চুপ আছে। বাসর ঘরে সায়েরের থেকে ওদের সম্পর্ক যাতে আদ্রিস এবং সায়ের মেনে নেয় এটা চাইবে।
মিরা এমন একটা সময় বেছে নিয়েছে প্রস্তাবটা দেওয়ার জন্য যে সায়ের না করতে পারবে না।
সেই রাতে বেশ দেরি করেই সবাই ঘুমাতে গেল।
আদ্রিতারও রুমে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল।
রুমে ফিরে আসতেই ক্লান্তিতে শরীরটা যেন ঢলে পড়ল তার।
আদ্রিস অনেকক্ষণ ধরেই গরম তেল দিয়ে আদ্রিতার পায়ে মালিশ করছে।
পা দুটো বেশ ফুলে গেছে। সারাদিনের খাটুনির ছাপ স্পষ্ট।
আদ্রিসকে এভাবে পায়ে তেল মালিশ করতে দেখা সত্যিই ভীষণ বিস্ময়কর এক দৃশ্য।
নাকের ডগায় রাগ নিয়ে ঘোরা সেই ভয়ংকর পুরুষটিও যে রাগের বাইরেও নিজের স্ত্রীর এতটা যত্ন নিতে পারে, তা সত্যিই অবাক করার মতো।
আদ্রিতা নিজের পেটের উপর হাত রেখে আদ্রিসের দিকে তাকিয়ে রইল।
আদ্রিসের মুখশ্রীতে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।
আদ্রিতা মৃদু হেসে আদ্রিসের মাথায় হাত রাখল।
আদ্রিস মাথা তুলে তাকাল।
“কি হয়েছে?”
“উঠুন, আমার এখন ভালো লাগছে।”
আদ্রিস উঠে দাঁড়াল।
হাতের তেল টেবিলে রেখে হাত ধুয়ে আবার রুমে ফিরে এলো।
আদ্রিতাকে ধীরে শুইয়ে দিয়ে নিজেও তার পাশে শুয়ে পড়ল।
আদ্রিতার মাথাটা নিজের বুকের উপর রেখে চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।
আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নিল।
তার মনের ভেতর আজ এক অদ্ভুত শান্তি।
যেন বহুদিনের অস্থিরতার শেষে সে তার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।
তার মনস্টারটা ধীরে ধীরে জেন্টল মনস্টারে পরিণত হচ্ছে।
চোখ বন্ধ রেখেই হঠাৎ আদ্রিতা বলে উঠল,
“শুনুন।”
আদ্রিস নিচু স্বরে জবাব দিল,
“হু।”
আদ্রিতা মৃদু হেসে বলল,
“আপনি মনস্টার হলেও জেন্টল মনস্টার।”
কথাটা বলেই সে মুখ লুকিয়ে ফেলল আদ্রিসের বুকে।
আদ্রিস কিছুক্ষণ চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর পরম যত্নে আদ্রিতার মুখের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল।
কপালে গভীর কোমল এক চুম্বন এঁকে দিল।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা ঘুমিয়ে পড়ল।
কিন্তু আদ্রিসের চোখে তখনও ঘুম নেই।
সে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
এক হাত এখনো আদ্রিতার চুলে।
আদ্রিতার লম্বা চুলের একগোছা হাতে তুলে নিয়ে সে তাতে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক বাঁকা, বিপজ্জনক হাসি।
“আদ্রিতা, তুই খুব ইনোসেন্ট জান।
তুই জানিসও না, আমি ঠিক কতটা পাগল হয়ে গেছি তোর জন্য।
তোর জন্য আমি নিজের বাপকেও রেহাই দিইনি।
আর সেই মানুষটাকেই তুই জেন্টল নামে ডাকলি।
আমার ভয় হয়, আমার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সামান্য আঁচ পেলেও তুই পানি ছাড়া মাছের মতো ছটফট করবি।
সেই কারণেই তোকে কিছু জানতে দিই না।
যে হাতে অস্ত্র তুলে শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছি, সেই হাত থেকে তুই ফুলের কোমলতা আশা করতে পারিস না জান।
তোকে এই মনস্টারকেই সহ্য করতে হবে সারাজীবন।
তবে হ্যাঁ, তুই যদি আমাকে জেন্টল ভেবে সুখে থাকিস, তবে সেই সুখ আমি কেড়ে নেব না।
কারণ তোর মুখের এই শান্তিটা আমি নষ্ট করতে চাই না।
কিন্তু নিজের স্বভাব বদলানো আমার পক্ষে অসম্ভব।
আমি তোর জন্য পাগল।
আমার অন্তর পুড়ে তোর জন্য।
তোর আশেপাশে অন্য কাউকে আমি সহ্য করতে পারি না।
তুই একমাত্র এই আদ্রিস খানের আদ্রিতা।
এই ভয়ংকর অবসেশনের বেড়াজাল থেকে তোর মুক্তি নেই।
আমি তোকে এতটা ভালোবাসি যে মৃত্যু ছাড়া পৃথিবীর কোনো শক্তি তোকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না।
আমার ভালোবাসা এমন এক সীমা পেরিয়ে গেছে, তুই চাইলেও তোর রুহ আমার থেকে আলাদা হবে না।
শুধু তোর মৃত্যু, কিংবা আমার মৃত্যু, এই দূরত্ব তৈরি করতে পারবে।
আর যদি কখনো সজ্ঞানে তুই আমার থেকে দূরে যেতে চাস, তবে মনে রাখিস, তোকে হারানোর আগে পৃথিবী তোকে আমার হাতেই হারাবে।
Loving you doesn’t make me weak.
If I can love you, I can erase your existence too.”
বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।
রাশিয়ার মাটি বৃষ্টির জলে ধীরে ধীরে ভিজে উঠছে।
জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ যেন রাতকে আরও গভীর, আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
শীতল বাতাসে ভেসে আসছে ভেজা মাটির মাতাল করা গন্ধ।
চারপাশে এক নরম ঠান্ডা, তবু আদ্রিসের বুকের ভেতর জ্বলছে তীব্র উত্তাপ।
সেই ঠান্ডা আবহাওয়ার মাঝেও আদ্রিতার শরীরের উষ্ণতা তার ভেতরে অদ্ভুত প্রশান্তি বয়ে আনল।
যেন সমস্ত হিংস্রতা, সমস্ত অন্ধকার, সমস্ত রক্তাক্ত স্মৃতি এই এক নারীর স্পর্শে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছে।
নিজেকে আরও গভীরভাবে আদ্রিতার সঙ্গে লেপ্টে নিয়ে আদ্রিস চোখ বন্ধ করল।
তার কণ্ঠে ভেসে এলো গভীর, নিচু, আশ্চর্য কোমল এক ফিসফিসানি।
“Sleep well, Adrita.”
পরদিনের বিয়েটা যেন আরও বেশি আলোকরঞ্জিত হয়ে উঠল।
চারপাশ ঝলমল করছে অসংখ্য আলোর ছটায়।
রাশিয়ার নামী দামি প্রায় সকল বিজনেসম্যানই উপস্থিত হয়েছে এই বিয়েতে।
এবং ব্যস্ত হয়ে সকল গেস্ট সামলাচ্ছে।
ওদিকে ঘরের মেয়েরাও তৈরি হয়ে গেছে।
কে একদম যত্ন করে লাল রঙের একটি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছেন ।
সেই সঙ্গে ছোট ছোট কানের দুল, হালকা একটি গলার হার এবং মাথায় একটি টিকলি তার সাজকে আরও মোহময় করে তুলেছে।
আদ্রিতার ছয় মাসের পেটখানা সুন্দরভাবে ঢেকে খুব নিপুণ হাতে শাড়িটি পরিয়ে দিয়েছেন মিসেস মিহু।
মনে হচ্ছিল মাতৃত্ব যেন তার সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মেয়েটার হাতের মেহেদীর রং এত গভীর, এত উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যে সেই রং র হাতেও আসেনি।
মিরা তা দেখে বলে উঠল,
“আদ্রিসই ভালোবাসে আদ্রিতাকে সব থেকে বেশি।”
আদ্রিতা কথাটা শুনে মৃদু হেসে উঠল।
মিসেস মিহু আদ্রিতাকে রেডি করিয়ে দিয়ে নিজেও তৈরি হয়ে গেলেন।
আজ মিসেস মিহুর একটি শাড়ি পরেছেন।
মিসেস মিহু নিজে এসে মাধবী বেগমকে শাড়িটি দিয়েছেন।
মাধবী বেগমের মনের গভীরে এতদিন ধরে জমে থাকা হিংসা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
হৃদয়ের কঠিন দেয়ালেও যেন নরম আলো পড়ছে।
কথায় আছে, ভালো মানুষের সঙ্গে ভালোই ঘটে।
ভালোবাসা, সম্মান আর আন্তরিকতা শেষ পর্যন্ত কঠিন মনকেও বদলে দিতে পারে।
আদ্রিস আজ একটা স্টাইলিশ কালো ব্লেজার সুট পরেছে।
তাকে অনুষ্ঠানে সবার মাঝে আজ একটু বেশিই আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে।
স্টেজে নিয়ে আসা হয়েছে মিরাকে। সেই সাথে প্রিয়া এবং আদ্রিতাও এসেছে।
আদ্রিতা স্টেজে এসে প্রথম জেটা দেখেছে সেটা হলো আদ্রিসকে।
তার চোখ কিছুক্ষণের জন্য তার বরটার দিকেই আটকে ছিলো।
কি মারাত্মক সুদর্শন দেখাচ্ছে।
এরপর শুরু হয় বিয়ে পড়ানো।
সব নিয়ম মেনে মিরা এবং সায়েরের বিয়েটা হয়ে যায়৷
সন্ধ্যার পর একে একে মেহমানরা বিদায় নেয়।
মেনশনটা পুনরায় নীরবতায় ঘিরে যায়৷
রাতে, র সাথে বসে বিয়ের ছবি দেখছিল।
এবং কে ওরা বাসর ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে।
এমন সময় রুমে আসে।
আদ্রিসকে আসতে দেখে প্রিয়া আদ্রিতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা তখন উচ্ছ্বসিত মুখে আদ্রিসকে আজকের ইভেন্টে তোলা তাদের একটি ছবি দেখায়।
“দেখেছেন, কি সুন্দর লাগছে।”
আদ্রিস মৃদু হেসে ওঠে।
তার বউটা এখনো একেবারে বাচ্চা।
ছোট ছোট জিনিসেও এমন প্রাণভরে খুশি হয়ে যায়, যেন পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য এই সামান্য মুহূর্তগুলোর মাঝেই লুকিয়ে আছে।
বাসরঘরে বসে আছে ।
কিছুক্ষণ আগেই বরসাজে ভেতরে প্রবেশ করেছে।
মিরার ভেতরটা ধকধক করছে।
হৃদস্পন্দন যেন প্রতিটি মুহূর্তে আরও দ্রুত হয়ে উঠছে।
লজ্জা, সংকোচ আর অজানা অনুভূতির মিশেলে তার পুরো সত্তা কেঁপে উঠছে নিঃশব্দে।
সায়ের ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মিরার মুখ থেকে ঘোমটাখানা সরিয়ে দিল।
মিরার গাল লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে আছে।
চোখ দুটো নিচু, অথচ সেই চোখের কোণে লাজুক কম্পন স্পষ্ট।
সায়ের মিরার কপালে কোমল এক চুম্বন এঁকে দিয়ে বলল,
“লজ্জা পাচ্ছো কেন? এটা কি প্রথম?”
মিরা লজ্জায় সায়েরের বুকে আলতো আঘাত করল।
“যাহ, লুচু।”
সায়ের হেসে মিরাকে জড়িয়ে ধরল।
তার কণ্ঠে মায়া আর দুষ্টুমির মিশেল।
“বলো, কি চাও তুমি?”
মিরা সায়েরের পাঞ্জাবির বোতাম নিয়ে টোকাটুকি করতে করতে বলল,
“যা চাইব দিবেন?”
সায়ের একচিলতে হাসল।
চোখে ভালোবাসার গভীরতা ঝলসে উঠল।
“জানও হাজির, মহারানী আপনার জন্য।”
মিরা মাথা তুলে সায়েরের দিকে তাকাল।
তার চোখে এবার লাজের পাশাপাশি গম্ভীর অনুরোধ।
“প্রিয়া এবং রেভেনের সম্পর্কটা মেনে নেন।”
কথাটা শুনে সায়ের এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
প্রিয়া আর রেভেনের সম্পর্ক মানে?
“কিসের সম্পর্ক?”
মিরা নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“বুঝতে পারছেন ঠিকই আপনি। প্লিজ, না করবেন না। ওরা দুজন দুজনকে ভীষণ ভালোবাসে।”
সায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
মেয়েটা সত্যিই ভীষণ চালাক।
এমন একটা সময়ে কথাটা বলেছে যে, সায়ের চাইলেও সহজে না বলতে পারবে না।
বহুত চালাক মেয়েটা।
হঠাৎ করেই সায়ের মিরাকে বিছানায় ফেলে তার উপর ঝুঁকে এলো।
চোখে দুষ্টু আগুন, ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
“সেটা পরে বলব। এখন আপাতত আমাকে ভালোবাসতে দাও।”
মিরা আর কিছু বলতে পারল না।
তার সমস্ত আপত্তি, সমস্ত কথা যেন সায়েরের চোখের গভীরে হারিয়ে গেল।
রাতের নরম নীরবতা ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে লাগল।
জানালার বাইরে মৃদু বাতাস বইছে, পর্দা দুলে উঠছে আলতো ছোঁয়ায়।
ঘরের ম্লান আলো তাদের চারপাশে এক উষ্ণ, কোমল আবেশ ছড়িয়ে দিল।
সেই নীরব রাতের বুকে দুটো হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে একই ছন্দে মিশে যেতে লাগল।
কথায় আছে, কঠিন মানুষেরা নাকি ভালোবাসতে জানে না।
জানে না কীভাবে কোমল আদরে প্রিয় মানুষটিকে আগলে রাখতে হয়, কীভাবে মমতায় তার সমস্ত ভাঙাচোরা অংশ জুড়ে দিতে হয়।
কিন্তু সব কথা সব মানুষের ক্ষেত্রে সত্যি হয় না।
আজ সেই কঠিন পুরুষটিই প্রমাণ করেছে, বাহ্যিক রুক্ষতা কখনো হৃদয়ের গভীরতা মাপার মাপকাঠি হতে পারে না।
যে মানুষটা চাইলে ছন্নছাড়া হয়ে যেতে পারত, অন্ধকারে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারত, সেই মানুষটিই শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত নারীর জন্য নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে।
শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সকল নিয়ম, সকল সীমারেখা ভেঙে সে পাগলের মতো ভালোবেসেছে তার ছোট্ট বউটাকে।
নিজের সমস্ত হিংস্রতা, সমস্ত উন্মাদনা, সমস্ত দখলদারিত্ব দিয়েও সে একটাই কাজ করেছে, তাকে আগলে রেখেছে।
হয়তো এই ভালোবাসার নাম কেউ হিংস্রতা দেবে।
হয়তো কেউ বলবে, এ ভালোবাসা স্বাভাবিক নয়, এ ভালোবাসার ভেতরে আছে আগুন, ভয়, উন্মাদ আসক্তি।
কিন্তু সত্যিটা হলো, তার ভালোবাসার গভীরতার কাছে সেই হিংস্রতাও যেন তুচ্ছ হয়ে যায়।
নিজের জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছে।
হারিয়েছে আপনজন, হারিয়েছে নিরাপত্তা, হারিয়েছে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।
কিন্তু সব হারানোর বিনিময়ে সে পেয়েছে কে।
বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা হয়তো তার কাছ থেকে সবকিছু নিয়েছিলেন, শুধুমাত্র আদ্রিস নামের সেই বিরল সুখটুকু তাকে দেওয়ার জন্য।
হ্যাঁ, আদ্রিসের রুক্ষতা আদ্রিতাকে কষ্ট দেয়।
তার কঠিন স্বভাব, তার ভয়ংকর দিক, তার অন্ধকারে ডুবে থাকা সত্তা অনেক সময় আদ্রিতার হৃদয়কে ব্যথিত করে।
কিন্তু সেই কষ্টের মাঝেও এক গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে আছে।
এমন এক ভালোবাসা, যা শব্দে প্রকাশ করা যায় না।
এমন এক ভালোবাসা, যা কখনো কোমল, কখনো ভয়ংকর, কখনো দহন, আবার কখনো আশ্রয়।
এই মনস্টার এবং তার প্রেমিকার উপাখ্যানের পরিসমাপ্তি তাই শেষ পর্যন্ত সুখেরই হলো।
কারণ শেষমেশ, ভালোবাসা তাদের হারায়নি।
ভালোবাসাই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৬৭
একজন ভয়ংকর মনস্টারও তার প্রিয় মানুষের কাছে আশ্রয় খুঁজে পায়।
আর এক ইনোসেন্ট হৃদয়ও ভালোবাসার শক্তিতে সবচেয়ে অন্ধকার আত্মাকেও স্পর্শ করতে পারে।
হয়তো এটাই তাদের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর সত্য।
মনস্টারটি শেষ পর্যন্ত মনস্টারই রয়ে গেল, কিন্তু তার হৃদয়ের সবচেয়ে কোমল অংশটি চিরকাল শুধুই আদ্রিতার জন্য সংরক্ষিত থাকল।
সমাপ্ত
