Home ডেসটেনি ডেসটেনি পর্ব ১১

ডেসটেনি পর্ব ১১

ডেসটেনি পর্ব ১১
সুহাসিনি মিমি

প্রিয়ন্তী মিতালীকে জোরপূর্বক টেনেটুনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়াল মুড়ি কিনতে।ঘটনার আকস্মিকতায় মেয়েটার হাত পা কাঁপছে এখনও। ওখানে গিয়েই দুটো ঝাল মুড়ি অর্ডার করল প্রিয়ন্তী।দোকানদার ফটাফট ঝাল ঝাল করে দুটো মুড়ি বানিয়ে পেকেট ওদের হাতে তুলে দিলো। প্রিয়ন্তী নির্বিঘ্নে খেলেও খবর হয়ে গেল মিতালীর। এত ঝাল সে খেতে পারেনা। তাড়াহুড়ো আর অসস্তিতে বেমালুম সেসব ভুলে বলেছিলো প্রিয়ন্তী। ঝালে পানি পানি করতে করতেই সিটের ওখানে চলে গেল মিতালী। আর অমনি সেখানে এসে সুযোগ বুঝে হাজির হলো হাসিব।
গায়ে ভিজা টি-শার্ট থেকে টপটপ করে গড়িয়ে পানি পরছে। মাথাটা দূ পাশে ঝাকিয়ে চুল থেকে পানি ছাড়িয়ে প্রিয়ন্তীর পাশে এসে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল,

“কি খাচ্ছ স্নোহোয়াইট?”
আকস্মিক এহেন অদ্ভুত সম্মোধনে ভরকানো চোখে তাকালো প্রিয়ন্তী। হাসিব ছেলেটাকে প্রথম থেকেই কেন যেন অপছন্দ ওর। তবুও হতোবিহুলতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল,
“জুস্ খাচ্ছি!”
হাসিব আড় চোখে তাকিয়ে ফিচেল হেসে বলল,
“দেখে তো মনে হচ্ছে মুড়ি খাচ্ছ?”
“দেখেছেনই যেহেতু তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন?”
হাসিব ঠোঙা থেকে একমুঠো নিয়ে খেতে খেতে বলল পুনরায়,
“এমনে রেগে আছো কেন? গরমে মাথা হট হয়ে আছে নিশ্চই? পানিতে নামবে না? নেমে দেখো শরীর মাথা সব একদম জম্পেস ঠান্ডা হয়ে যাবে!”
“না। এখানেই ভালো আছি।”
“ভয় পাচ্ছ নাকি নামতে? ”
প্রিয়ন্তী ভুরু গুটিয়ে বলল,
“পানিতে নামতে আবার ভয় কিসের?”
“তাহলে নামছো না কেন?”
“এমনি!”

“এমনি কেন? সবাই তো নেমেছে। জাফলং এসেছো আর পানিতে নামবে না?”
“সবাই নামলেই যে আমাকেও নামতে হবে এমন তো কোনো নিয়ম নেই।”
“তুমি! তুমি এখানে অন্য মেয়েদের সঙ্গে ঘুরতে এসে আমাকে বলছো ব্যস্ত? আমাকে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে মেয়ে নিয়ে ট্যুরে এসেছো হাসিব ?”
ওদের কথার মাঝখানেই আচমকা এক মেয়ে ঝড়ের বেগে এসে দাঁড়াল সামনে। কপাল কুঁচকে অগ্নিদৃষ্টি নিঃক্ষেপ করে চাইলো হাসিবের দিকে। চেয়ে রেগেমেগে ফুসতে ফুসতে কথাগুলো বলে থামল মেয়েটি। হাসিব মেয়েটিকে দেখতেই থতমত খেয়ে পাল্টা জবাব দিল,

“হু আর ইওর সিস্টার? ”
“মানে? এখন তুমি আমাকে চিনছো না?এই মেয়ের জন্যই বুঝি আমাকে এতদিন ইগনোর করছিলে?”
বলে আঙুল তুলে প্রিয়ন্তীর দিকে ইশারা করল মেয়েটা। ওদিকে প্রিয়ন্তী স্তব্ধ, হতোবিহুল। হাসিব লজ্জায়, অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“শুনুন, আপনি ভুল করছেন। আমি আপনাকে চিনি না!
“চুপ! সালা চরিত্রহীন!”
মেয়েটা গর্জে উঠল এবার।হাসিব বুঝল ব্যাপারটা সিরিয়াস। তাই পরিস্থিতি সামলে নিতে বলল,
“ওদিকে আসো। একটু সাইডে আসো। তোমাকে বুঝিয়ে বলছি কেমন?”
“ওদিকে কেন যাব? এখানেই বলবে যা বলার? এই মেয়েটাকে কবে পটিয়েছো? এই মেয়ে কতদিন যাবৎ চলছে এসব? তুমি জানতে না ওর গার্লফ্রেন্ড আছে?”

অযথাই নিজের উপর আঙ্গুল তোলায় এইবার ফুসে উঠল প্রিয়ন্তী। মেয়েটা কিছু না জেনে বুঝেই ওকে দোষারোপ করছে। মানবতার খাতিরে এতক্ষন চুপ থাকলেও এইবার যেইনা মুখ খুলতেই যাবে অমনি সেখানে আরেকটা মেয়ে এসে দাঁড়িয়ে প্রথম মেয়েটির উদ্দেশ্য হতবাক হয়ে বলল,
“শিলা! তুই? তুই এখানে কি করছিস? আর ওর সঙ্গে এমনে কথা বলছিস কেন? তুই ওকে চিনিস?”
শিলা নামের মেয়েটা এবার রাগের ফুঁসতে ফুঁসতে চেঁচিয়ে বলল,
“চিনি মানে? ও তো আমার বয়ফ্রেন্ড!সালা চিটার। আমি থাকা অবস্থায় আরেক মেয়ে নিয়ে এসেছে ঘুরতে!”
দ্বিতীয় মেয়েটি এবার আশ্চর্যে চোখ বড় বড় করে বলল,
“তোর বয়ফ্রেন্ড হলে আমার কে? ও তো আমার সঙ্গেও রিলেশনশিপে আছে!”
হাসিব বেচারা এবার পড়েছে মহা ফ্যাসাদে। এদের কি এখনই আসার ছিল। শেষ। সবশেষ। যতটুকু মান সম্মান জুগিয়েছিল প্রিয়ন্তীর কাছে সব কিছুতে পানি ঢেলে দিলো এরা। প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে তাকালো এবার হাসিবের ফ্যাকাসে চেহারার দিকে। কপাল কুঁচকে বলল,

“হাসিব ভাই আপনি ডাবল টাইমিং করছিলেন এদের সঙ্গে?”
“আরেহ না না প্রিয়ন্তী, তুমি ভুল বুঝছো!আমি এদের চিনি না। আপনারা কারা আম্মারা?”
দুই বান্ধবী এবার একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ল হাসিবের উপর,
“সালা এখন আমাদের চিনিস না? এই তোর কয়টা লাগে? এমন আর কতজন কে একসঙ্গে রেখেছিস?বল? কিরে বলছিস না কেন? আমাকে বলে ওর নাকি পেট খারাপ। বাইরে বের হতেই পারবে না। ওয়াশরুম নাকি পুরো ভাসিয়ে ফেলসে। এখন কি জাফলং ভাষাতে এসেছিস সালা? ”
বলেই সোজা হাসিবের কলার চেপে ধরল মেয়েগুলো।ওদিকে এতক্ষন পর্যটকরা অনেকেই ইতিমধ্যে এসে সেখানে ভিড় জমিয়েছে। আগ্রহ নিয়ে দেখছে সেইসব দৃশ্য। কেউ কেউ তো আবার ক্যামেরায় ভিডিও করাও শুরু করে দিয়েছে। পাভেল এসে প্রিয়ন্তী কে সেখান থেকে টেনে নিয়ে গেল অন্যদিকে। বোনকে এসব ঘটনায় জড়াতে চায়না সে। হাসিব বেচারা হাত তুলে দুইজন কে সামলাতে চেয়েও হিমশিম খাচ্ছে। শেষ ভরসার হাত হিসাবে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাজধীর কে ইশারায় বলল ওকে বাঁচাতে এখান থেকে।
তাজধীর প্রথমে ভ্রু তুলে প্রত্যাখন করল সেই অনুরোধ। এইবার হাত জোড় করে মিনতি করল হাসিব। বন্ধুর এহেন দুর্দশায় সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিলো তাজধীর। এগিয়ে এসে সিনা টানটান করে দাঁড়িয়ে নির্লিপ্ত শুধাল,

“কিরে? তুই এখানে কি করছিস? তোর বউ কখন থেকে তোকে ডাকছে আর তুই এখানে মেয়েদের গায়ে পড়ে আছিস কেন?এই সুন্দরীরা কারা?”
প্রথমত তাজধীরের মত এমন সুদর্শন পুরুষ এসে সেখানে হাজির হয়েছে, দ্বিতীয়ত আবার সেই পুরুষের মুখে নিজদের র প্রশংসা শুনতেই হাসিব কে ছেড়ে লজ্জায় মিউয়ে গেল মেয়ে দুটো। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো সেই সুদর্শনের পানে। মুখ দিয়ে আপনাপানি বেরিয়ে এলো,
“বউ? এই তুই বিয়েও করেছিস? ”
তাজধীর গম্ভীর মুখে উত্তর দিলো সেই কথার,
“হ্যাঁ। নিউলি ম্যারিড। সরকারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বন্ধুর বিয়ে খেতেই তো আসলাম। তবে এখানে কি হয়েছে সুন্দরীরা? তোমরা ওর উপর ক্ষেপে আছো কেন? ”

“আর বইলেন না ভাইয়া! এ আমাদের দুই বান্ধবীর সঙ্গে ডাবল টাইমিং করছিলো। আজকে হাতে নাতে ধরেছি একবারে! বিয়ে করেও ব্যাটা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিল!”
“শুধু বিয়ে? দুই দুইটা বাচ্চর বাপ হয়ে বসে আছে অলরেডি।”
মেয়ে দুটো একসঙ্গে হতাশ দৃষ্টিতে হাসিবের দিকে তাকাল।গা ঘিন ঘিন করে বলল,
“ছিঃ!”
এরপর কিছু মনে পড়ার মত করে পরে
ফট করে প্রশ্নঃ করল,
“নিউলি ম্যারিড হলে বাচ্চা হলো কিভাবে ভাইয়া?”
“কাবিন তো হয়েছে বছর পাঁচেক আগেই। বাচ্চাসহ তুলে এনেছে গত সপ্তাহে!”
মেয়ে দুটো হাসিবের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে ফুসতে ফুসতে বলল,
“তোকে তো পরে দেখে নেব! সালা লুসার! না জানি কোন মেয়ের কপাল পুড়ছে!”
বলেই ঝড়ের মতো চলেও গেল ওরা। ওরা যেতেই হাসিব তাজধীরের পেটে গুঁতো মেরে বলল,

“সালা আমি বিয়ে করেছি?”
পেট থেকে হাত ছাড়িয়ে নির্বিকার উত্তর দিলো তাজধীর,
“এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল?”
ওদিকে পাভেল হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মিতালীও মুখ চেপে হাসছে। প্রিয়ন্তী দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। ওর এসব ছেলেদের দূ চোখে সহ্য হয়না। মেয়েদের জায়গায় আজ ও থাকলে নির্ঘাত হাসিবের মাথা ফাটাতো।

বেশ অনেকক্ষণ যাবৎ সুইমিং শেষে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে উঠে এলো সকলে। আপাতত দুপুরের খাবার খেতে হবে। সেই উদ্দেশ্যই সবাই রওনা দিলো। দুপুরের কাঠফাটা খা খা রোদ্দুরে সামান্য হাঁটতে শরীরের ভিজা জামা গুলো শুকিয়ে গেছে গাঁয়েই। প্রিয়ন্তী একটুর জন্যও পানিতে নামেনি সারাটাসময়। মেয়েটাকে পানি থেকে দূরে দূরে থাকতে দেখে তাজধীর বুঝেছে ওর যে পানিতে ফোবিয়া আছে।
উপরে উঠার পথে ওরা টুকটাক অনেক কিছুই নিলো সেখান থেকে।তবে সবচেয়ে বড় বিপত্তি বাঁধল উপরে উঠতে গিয়ে। এতগুলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সাধ্যি ছেলেদের থাকলেও হাল ছেড়ে দিলো মিতালী। প্রথমে কয়েকটা সিঁড়ি হাপাতে হাপাতে উঠলেও একসময় হাল ছেড়ে স্বামীর কাঁধে ঢলে পড়তে পড়তে বলবে,
“ভাই একটু কোলে নেওনা! আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না!”
পাভেল চোখ কপালে তুলে দাঁতে দাঁত পিষলো ,
” তোমার কি মাথা নষ্ট হয়েছে? এতগুলা মানুষের সামনে আমি তোমাকে কোলে নিবো?”
মিতালী ঠোঁট উল্টে জবাব দেয়,
“আমি তো আর তোমার পর কেউ না। তোমার ঘরের বউ আমি। রুমের মধ্যে তো ঠিকই নিতে পারো। বাইরে নিলে সমস্যা কি?”

রাগে ড়ি ড়ি করতে করতে বলল পাভেল,
” রুম আর এই এখানের মধ্যে পার্থক্য বুঝনা? ”
“না বুঝি না। না নিতে পারলে আমি এখানেই বসে থাকবো। আমার পক্ষে সম্ভব না আর উঠা!”
“নিজের ওয়েট দেখেছো? যেখানে এই সিঁড়িগুলো বেরিয়ে আমার নিজেরই বারোটা বেজে যাচ্ছে, সেখানে তোমার মত হাতিকে নিয়ে আমি কিভাবে উঠবো?”
“একদম খোটা দিবেনা আমায়। কই রাতে কোলে নেয়ার সময় তো কখনো ওজনের অজুহাত দাওনা? আমাকে দোষ না দিয়েই নিজেকে নিয়ে ভাবো। আমার ওজন ঠিকই আছে। তুমি বরং আমার ভাইয়ের মতো জিম টিম করে আমার বডি বানাও। মোটু কোথাকার!’
“খবরদার মোটু বলবে না!”

“তো কি বলবো? তোমার পেট যেই হারে বাড়ছে কোনদিন জানি শার্ট ফুটো করে বেরিয়ে আসে বাইরে!”
“তাহলে তোমার ভাইয়ের কোলে গিয়ে ওঠো গা।!”
“স্বামী থাকতে ভাইয়ের কোলে কেন উঠবো?”
পাভেল রেগে চোয়াল শক্ত করে বলল,
“আসো আমার মাথার উপর উঠে বসো এসে!”
“নিচে ঝুকো। বসি!”
পাভেল বুঝল এই মেয়েকে শান্ত না করা পর্যন্ত ওর মাথা ঠান্ডা রাখতে দিবেনা। রাগে গজগজ করতে করতে মিতালী কে কোলে তুলে নিলো ও। পেছনে থাকা প্রিয়ন্তী তা দেখে মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলো।হাপাতে হাপাতে উঠছে প্রিয়ন্তী ও। সাথে থাকা তাজধীর স্পষ্ট লক্ষ্য করল সেসব। প্রিয়ন্তীর পিছনেই ছিল সে। কিঞ্চিৎ ঝুকে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠল,

“উহু উহু ঐভাবে ঐদিকে নজর দিয়েন না মিস।তবে আপনি চাইলে আমি কিন্ত আপনাকে উপরে উঠতে হেল্প করতে পারি। দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে গড়া এই শরীরটা কাজে লাগিয়ে আপনায় এক হাতে কোলে তুলতে পারি। বাচ্চার বাবা পাশে থাকতে বাচ্চার মাকে এভাবে কষ্ট করে হেঁটে হেঁটে উপরে উঠতে দেখলে আমার বাচ্চাগুলো আমায় বকবে না?”
প্রিয়ন্তী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চোখ-মুখ লাল করে শাসিয়ে উঠল অকস্মাৎ,
“কি বললেন আপনি?”
“কিছু বললাম নাকি?”
“আচ্ছা আপনার কি আমাকে না জ্বালালে পেটের ভাত হজম হয়না? উপরে উপরে দেখতে তো এমন ভাব করেন যেন ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না।”
“ভাত এখনো পেটে পড়েনি মিস। এন্ড দ্যা লাস্ট থিঙ্ক ইজ আমি মাছ খেতে পছন্দ করিনা!”
“তা পছন্দ করবেন কেন আপনি তো মানুষের মাথা খেতে উস্তাদ!”
মনে মনে এটা বললেও মুখে বলল,
“এতোই কোলে নিতে মন চাইলে ঐযে পিছনে আপনার ফ্রেন্ড হাপাচ্ছে ওনাকে নিন!”
তাজধীর প্রিয়ন্তীর ইশারায় ঘাড় বাকিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলে সত্যিই হাসিব হাঁপাচ্ছে। বিরক্তিতে নাক মুখ কুঁচকে নিলো।বলল,
“আপনাকে কোলে নিতে চাচ্ছি দেখে এত সস্তা ভাববেন না মিস প্রিয়ন্তী, আপনার সঙ্গে কি ওদের তুলনা বলুন?”
ততক্ষনে হাসিব ডেকে উঠল তাজধীর কে। প্রিয়ন্তী সেই সুযোগে উপরে উঠতে উঠতে বলে গেল,
“অসহ্য!
“নাইস কমপ্লিমেন্ট!”

লাঞ্চ শেষ করতে করতে বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা নামার পথে। সূর্যের সেই তেজ এখন আর নেই। সবাই খাওয়া শেষ করে আবার গাড়িতে উঠে বসল।
এইবার ড্রাইভিং সিটে বসল হাসিব। সামনে তাজধীর বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। পিছনে পাভেল, মিতালী আর প্রিয়ন্তী নিজেদের মধ্যে গল্প আড্ডায় মশগুল। পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে গাড়ি আবারও বাক ধরলো শহুরে পথে। হঠাৎ করেই হাসিব ব্রেক চাপল।
গাড়ি রাস্তার পাশে থামতেই পাভেল ভুরু কুঁচকে বলল
“এইখানে ! এখানে কেন থামালেন ভাই ?”
মিতালীও মাথা বের করে চারপাশে তাকাল। এরপর হতাশ হয়ে বলল,
“কিছুই তো নাই এখানে!”
“তোমাদের একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস দেখাবো।”

পাভেল সন্দেভরা চোখে বলল,
“কি জিনিস?”
“আগুন পাহাড়।”
“আগুন পাহাড়?” মিতালী চোখ বড় বড় করল।
“গেলেই দেখতে পাবে।”
আগুন পাহাড়ের কথা শুনেই সবাই একদম চাঙ্গা হয়ে গেল।পাহাড় তো সবাই দেখেছে। কিন্তু আগুন পাহাড় দেখেনি কোনোদিন। মিতালী ধৈর্য্য হারিয়ে উত্তেজিত গলায় বলল,
“চল চল! কোথায় সেটা!”
হাসিব রাস্তার সামনে একটা সরু পথ দেখিয়ে বলল,
“ওই দিক দিয়ে যেতে হবে।”
পাভেল কপাল কুঁচকাল,
“এত ছোট রাস্তায় তো গাড়ি ঢুকবে না ?”
পেছন থেকে প্রিয়ন্তী শান্ত গলায় বলল,
“তাহলে কি হেঁটে যাব?”
হাসিব হেসে তাকাল ওর দিকে।বলল,
“আরে না। এই যে অটো আছে।”
রাস্তার পাশে কয়েকটা অটো দাঁড়িয়ে ছিল। একটু দরদাম করে হাসিব একটা রিজার্ভ করল। সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে তাজধীর আর হাসিব বসল।
পেছনে বসলো পাভেল, মিতালী আর প্রিয়ন্তী। অটো স্টার্ট দিতেই গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে হেলতে দুলতে ছুটল অটোটা। ঝাঁকুনি খেতে খেতে এগোচ্ছে সেটা। মিতালী এক ঝাঁকুনিতে প্রায় পাভেলের উপর গিয়ে পড়ল। পাভেল মুখ বাঁকিয়ে বলল,

“ঠিকমত বসতেও পারোনা? ”
“আমি কি ইচ্ছে করে পড়েছি?” মিতালী রাগ দেখাল।
পরপর আরেকটা বড় ঝাঁকুনিতে নড়েচড়ে উঠল সবাই । এইবার পাভেল এসে পড়লো মিতালীর উপর। মিতালীও ঝাঁজ মিশিয়ে বলল,
“এখন তুমি বসতে পারোনা?”
পাভেল চোখ পাকিয়ে তাকাতেই প্রিয়ন্তী বলল,
“ভাইয়া ওটা কি গাছ?”
চারপাশে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়, মাঝে মাঝে টিনের ছোট ছোট ঘর দেখা যাচ্ছে । দূরে কোথাও গরুর ঘণ্টার শব্দ ভেসে আসছে কানে । সন্ধ্যারে স্লান আলোয় আলোকিত চারোপাশ। হালকা কুয়াশার মতো ধোঁয়া উঠছে মাঠের দিক থেকে। এই ধরনের গ্রামীণ পথে ওদের খুব একটা আসা হয় না। দেখাও হয়নি তেমন একটা। তাই সবার মধ্যেই অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করছে। মিতালী মুগ্ধ হয়ে বলল,

“উফ! জায়গাটা কত সুন্দর!”
প্রিয়ন্তীও চুপচাপ চারপাশ দেখছে। একসময় অটোটা একটা সরু উঁচু পথে উঠতে লাগল। চারপাশে ঝোপঝাড়, আলো ক্রমেই কমে আসছে। পরিবেশে হালকা একটা গা ছমছমে অনুভূতি হচ্ছে সকলের।
“এই জায়গাটা একটু ভয়ংকর না? ভুত টুট আছে নাকি? ”
পাভেল বলল,
“ভূত থাকলেও কি? তোমায় দেখে নির্ঘাত পালাবে ব্যাটা! শাকচুন্নি যেখানে থাকে ওখানে ভুত টিকে না!”
অটোটা তখন কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে আরও ভেতরে ঢুকছে। ঝাঁকুনি খেতে খেতে এগোচ্ছে সেটা। অটোটা কাঁপতে কাঁপতে শেষমেশ একটা ফাঁকা জায়গায় এসে থামল। মাগরিবের আযানের ধ্বনি ভেসে আসছে দূরের মসজিদ থেকে। সবাই নেমে চারপাশে তাকাল।
মিতালী ভুরু কুঁচকে বলল,

“কোথায় পাহাড়?”
পাভেলও চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ ভাই এখানে তো কোনো পাহাড় দেখছি না!”
হাসিব রহস্যময় হাসি দিয়ে সামনে ইশারা করল,
“এইদিকে আসো।”
ওরা কয়েক কদম এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল মাটির একটা বড়সড় উঁচু স্তুপ। পুরোটা যেন শুকনো মাটি আর পাথরের স্তূপে তৈরি। আশেপাশে কয়েকটা ছোট ছোট গর্তের মতো ফাটল আছে। প্রথম দেখায় খুব সাধারণই লাগে। প্রিয়ন্তী একটু অবাক হয়ে বলল,

“এইটাই?”
হাসিব মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ। এইটাই আগুন পাহাড় মানে লোকালরা যেটাকে বলে আগুন পাহাড় বা আগুন বাহার।”
তাজধীর শান্ত চোখে জায়গাটা দেখল। হাসিব নিচু হয়ে মাটির একটা ফাটলের দিকে ইশারা করে বলল,
“এখান থেকে গ্যাস বের হয়। সিলেটের মাটির নিচে গ্যাসের লেয়ার আছে তো। ওই গ্যাস বের হয়ে আসে ছোট ছোট ফাটল দিয়ে।”
পাভেল সন্দেহের চোখে বলল,

“তাহলে আগুন কোথায়?”
হাসিব পকেট থেকে একটা ম্যাচবক্স বের করল।
সবাই কৌতূহলী হয়ে গোল হয়ে দাঁড়াল তখন।
হাসিব একটা কাঠি ঘষতেই ছট করে ছোট্ট শিখা জ্বলে উঠল। মিতালী চমকে উঠল,
“এমা এইটা তো সত্যি জ্বলছে!”
ছোট্ট একটা ফাটল থেকে আগুন জ্বলছে। অন্ধকার নামা সন্ধ্যায় শিখাটা লালচে কমলা হয়ে ঝলমল করছে যেন। হাসিব হাসতে হাসতে বলল,
“এই জন্যই নাম আগুন পাহাড়।”
মিতালী মুগ্ধ হয়ে বলল,
“অদ্ভুত তো!”

প্রিয়ন্তী একটু ঝুঁকে আগুনটার দিকে তাকাল। খুব বড় কিছু না, কিন্তু সন্ধ্যার অন্ধকারে মাটির ভেতর থেকে আগুন বের হওয়া দেখতে সত্যিই অন্যরকম লাগছে ওর। পাভেল বলল,
“এইটা কি সারাক্ষণ জ্বলে?”
“হ্যা তবে দিনের বেলা দেখা যায়না। আগুন ধরালে জ্বলে। আবার নিজে নিজেই নিভে যায়।”
তাজধীর শান্ত গলায় বলল,
“প্রাকৃতিক গ্যাস সিপেজ এটা গর্দভ!”

চারপাশে তখন অন্ধকার একটু একটু করে ঘন হচ্ছে। ঝোপের মধ্যে ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকছে দল বেঁধে।
প্রিয়ন্তী তখনও আ গুনের ফুলকিটার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে খোলা চুলগুলো উড়ছে ওর। তন্মধ্য তাজধীর কোনো কথা না বলে মাটির স্থূপের সরু আঁকাবাঁকা পথ ধরে ওপরে উঠতে শুরু করল। ধাপে ধাপে রেখে রেখে একবারে উঠে গেল একদম উপরে। প্রিয়ন্তী আশ্চর্য হয়ে দেখল। লোকটা যেন এক লাফেই অনেকটা ওপরে উঠে গেছে। আলাদিনের দৈত্ত থেকেও ফাস্ট এই ব্যাটায়! কয়েক সেকেনন্ডের মধ্যেই তাজধীর বেশ ওপরে দাঁড়িয়ে পড়ল। এরপর নিচের দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে ডাক দিল,
“এই! হাসিব!”
হাসিব তখন নিচে দাঁড়িয়ে ফোনে কিছু একটা দেখছিল। মুখ তুলে বলল,
“কী?”
“তুই উঠবি না?”
হাসিব একবার ঢিবিটার দিকে তাকাল। তারপর আবার মাথা নেড়ে বলল,
“ধুর! অনেকবার আসা হয়েছে এখানে।”
দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয়ন্তীর ও লোভ হলো বেশ।
প্রিয়ন্তী নিচ থেকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষন। হঠাৎ করেই মনে হল ইশ ওও যদি একবার ওপরে উঠতে পারত! ও একটু গলা উঁচু করে ডাকল তখন,

“ওপরে কেমন?”
তাজধীর নিচে তাকাল। উঠচ্ছাসিত হয়ে ঠোঁট কামড়ে বলল,
“অসাম।”
আরেকটু থেমে ঠোঁট টেনে যোগ করল,
“একদম অস্থির ভিউ। না দেখলে মিস করবেন!”
প্রিয়ন্তীর চোখ চকমক করে উঠল কৌতূহলে। ঠোঁটে বিস্ময় টেনে বলল,
“সত্যি?”
“বিশ্বাস না হলে উপরে উঠে দেখুন!”
ব্যাস এইটুকুই যথেষ্ট ছিল ওর জন্য। সাথে সাথেই বলল,
“আমি উঠব!”
পাশে থাকা পাভেল ভ্রু তুলে নাকোজ করে বোনকে,
“উঠার দরকার নেই। পড়ে যাবি ।”
“পড়ব না ভাইয়া! প্লিজ উঠি? ”
ততক্ষণে প্রিয়ন্তীর মাথায় জেদ চেপে গেছে দেখে
শেষমেশ পাভেল হাল ছাড়ল। বলল,
“আয় আমার সঙ্গে!”
“ভাবি উঠবে না?”
প্রিয়ন্তীর প্রশ্নে আগেভাগে না সম্মতি দিলো পাভেল,

“এই মুটি পাহাড়ে উঠলে পাহার ধসে পরবে। এর থেকে ভালো এখানেই থাকুক!”
মিতালী বিড়বিড় করল রাগে। অস্ফুট গলায় বলল,
“রাতে এসো শুধু। তখন এর শোধ আসলে তুলবো আমি!”
পাভেল সেসবে পাত্তা না দিয়ে বোনকে টেনে হাত ধরে উপরে উঠিয়ে নিয়ে গেল পাভেল। আঁকাবাঁকা পথ ধরে ধীরে ধীরে উঠতে লাগল তারা। পাভেল সামনে থেকে বোনের হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। দুই-তিন জায়গায় প্রায় পিছলে যাচ্ছিল প্রিয়ন্তী। নিচে দাঁড়িয়ে মিতালী বলল,
“এই সাবধানে ! পড়ে যেয়োনা আবার !”
অনেক কষ্টে অবশেষে ওপরে উঠল দুজন। উপরে এসে দাঁড়াতেই প্রিয়ন্তী চারদিকে তাকাল।
অমনি চোয়াল ঝুলে গেল ওর। দেখার মত তো এখানে কিছুই নেই। আশেপাশে কয়েকটা ঝোপঝাড়, অন্ধকার মাঠ, দূরে কয়েকটা ঘরের আলো ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না আপাতত। পাভেল হতাশ গলায় বলল,

“ভাই, মিথ্যা বললেন কেন?”
তাজধীর উত্তর দিলো সোজাসাপ্টা,
“আমি একা একা কেন কষ্ট করব? তোমরাও কর।”
গজগজ করতে করতে নিচে নামতে শুরু করল পাভেল।প্রিয়ন্তীর তখন ভীষণ রাগ লাগছে।
এত কষ্ট করে উঠল শুধু লোকটার কথা শুনে! দেদারসে মিথ্যা বলে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে লোকটা।
দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলে উঠল প্রিয়ন্তী,

“মিথ্যুক কোথাকার!”
বলেই ফুঁসতে ফুঁসতে নিচে নামতে উদ্যোত হতেই মাটির উপর জুতোর তলায় স্লিপ করল সঙ্গে সঙ্গে। একটা পা পিছলে গেল ওর। একপায়ের জুতোটা খুলে গড়িয়ে পড়ল নিচে। প্রিয়ন্তী প্রায় পড়ে যাচ্ছিল নিচে অমনি একটা শক্ত হাত ওর কবজি চেপে ধরল। মেয়েটা পড়তে পড়তে বেঁচে গেছে এযাত্রায়। আধা ঝুলে আছে ঢিবির কিনারায়। এক পা ফাঁকা শূন্যয় ঝুলছে। তাজধীর নিচের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“হাতটা শক্ত করে ধরুন ইডিয়ট!”
প্রিয়ন্তী ভয় পেয়ে ওর হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরল এবার। ততক্ষনে নিচ থেকে চেঁচামেচি শুরু হয়ে গিয়েছে। মিতালী, পাভেল, হাসিব চিৎকার করে বলছে,

“আল্লাহ প্রিয়ন্তী হাত ছেড়ো না। শক্ত করে ধরো। পড়ে যাবে নাহলে!”
তাজধীরের হাত তখনও শক্ত করে ধরা। প্রিয়ন্তী ঝুলে আছে তখনো। হৃদপিণ্ড যেন বুকের ভেতর থেকে বের হয়ে আসবে মেয়েটার। নিচে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে সেদিকে। প্রিয়ন্তী চোখ মুখ খিচে লোকটার হাতে নিজের নখ ডাবিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে। ভয়ে কম্পিত স্বরে আওড়াচ্ছে,
“প্লিজ প্লিজ ছাড়বেন না। ছাড়বেন না। ধরে রাখুন। নাহলে পড়ে যাবো আমি!”
“আপনি তো বেশ সুবিধাবাদী মানুষ।সময় সুযোগ বুঝে কাজে লাগান, তাই না? একটু আগেই বললেন আপনার পার্সোনাল জিনিস পারমিশন ছাড়া স্পর্শ না করতে। এখন আবার বলছেন শক্ত করে হাত ধরে থাকতে!”
প্রিয়ন্তী চোখ কুঁচকে বলল,

“এখানেও আপনার জগড়া করতে হবে?”
“অনুরোধ করে বলুন। এভাবে বললে একদম নিচে ফেলে দিবো!”
“ফেলে দিন।”
“ওকে!
বলেই তাজধীর হাত আলগা করতেই প্রিয়ন্তী খপ করে তাজধীরের হাত চেপে ধরে।প্রিয়ন্তীর রাগ তখন চূড়ায়। তবু পরিস্থিতি বুঝে নিজেকে সামলাল।
একটু থেমে দাঁত চেপে বলল,
“প্লিজ আমাকে একটু টেনে তুলবেন?”
তাজধীর শান্ত গলায় বলল,
“এত সুন্দর করে রিকোয়েস্ট করছেন যেহেতু না করার সাধ্যি আছে?”
বলেই হেঁচকা টানে প্রিয়ন্তী টেনে কে উঠালো উপরে। একটানেই মেয়েটা হুড়মুড়িয়ে উপরে গিয়ে দাঁড়াল। হঠাৎ পায়ের নিচে কেমন একটা অদ্ভুত শিরশির অনুভূত হলো প্রিয়ন্তীর। পায়ের নিচটা কেমন পিচ্ছিল পিচ্ছিল ঠেকছে।মনে হচ্ছে বেশ নরম তুলতুলে কিছু। হঠাৎ সেই পিচ্ছিল জিনিসটা নড়ে উঠল। ঠুস করে নরম লেজের মতো কিছু একটা পায়ের সাথে লাগল। ক্রমশ আঘাত করতে থাকল ওর পায়ে। প্রিয়ন্তীর শরীর জমে গেল জায়গায়। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই কাঁপতে কাঁপতে কিঞ্চিৎ নিচে ঝুকে তাকাল ও। অমনি দেখতে পেলো অন্ধকারে সরু একটা কিছু কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে। আর ওর পা’টা ঠিক তার মাথার উপরে ফেলেই দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তেই বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠল ও,

“পা—আআ! আমার পায়ের নিচে। পায়ের নিচে কি যেন। কিছু একটা আছে!”
নিচে দাঁড়িয়ে সবাই একসাথে চমকে উঠল তখন।
মিতালী চেঁচিয়ে উঠল,
“কি হয়েছে প্রিয়? ”
পাভেল আতঙ্কে বলল,
“কি হয়েছে আবার। চিৎকার করছিস কেন? এই প্রিয়?”
প্রিয়ন্তীর গলা কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“ভাইয়া আমার,আমার পায়ের নিচে কিছু একটা নড়ছে…!”
সাপটা আবার লেজ নেড়ে উঠল তখন। তাজধীর চোখ সরু করে পকেট থেকে ফোন বের করল। পরের মুহূর্তেই ফ্ল্যাশলাইট অন করে তাক করল প্রিয়ন্তীর পায়ের কাছে। আলো পড়তেই দৃশ্যটা এবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। মাটির উপর কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে মোটা, কালচে একটা সাপ। প্রিয়ন্তীর পা প্রায় তার মাথার উপরেই চেপে আছে।কয়েক সেকেন্ড থম মেরে দাঁড়িয়ে থেকে আচমকাই শব্দ করে হেসে উঠল তাজধীর। প্রিয়ন্তীর চোখ কপালে উঠল।ওর এই অবস্থায় লোকটার হাসি পাচ্ছে? জীবন আর মৃ ত্যুর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ও। আর লোকটা সেই সব দেখে দিব্যি গা এলিয়ে হাসছে?

মেয়েটার গা জ্বলে উঠল রাগে। আবার একই সাথে শরীরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেল একটা ঘিনঘিনে অনুভূতি।ও চোখ শক্ত করে বন্ধ করে বিড়বিড় করে বলল,
“কিছু করুন। প্লিজ কিছু করুন। আমি,আমি এত তাড়াতাড়ি ম রতে চাই না।”
নিচে দাঁড়িয়ে মিতালী আতঙ্কে কেঁপে কেঁপে বলল,
“আল্লাহ! সা সাপ নাকি!”
পাভেল চিৎকার করল নিচ থেকে। বলল,
“নড়িস না প্রিয় ! একদম নড়িস না! আমি আসছি!”
হাসিবও উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“ভাই সাবধানে!”
কিন্তু তাজধীর তখনো ভাবলেশহীন। সেই থেকে হেসেই যাচ্ছে লোকটা। নিচু হয়ে সাপটার দিকে একপল তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল,

ডেসটেনি পর্ব ১০

“বাহ। বেছে বেছে একদম নিজের মিত্রর কাছেই এসে পড়েছেন দেখছি মিস প্রিয়ন্তী! মনে হচ্ছে বেচারা এখানে এসে চুপচাপ কুণ্ডলী মেরে বসে আপনারই অপেক্ষায় ছিল এতক্ষন।”
“এই সিরিয়াস সময়েও আপনার আমাকে নিয়ে মজা করতে হবে?”
“মজা কই করলাম। আ”ম অলসো ভেরি সিরিয়াস! ভয় তো বেচারা সাপ টা আপনাকে পাচ্ছে। আরেকটু জোরে পা দিয়ে চেপে ধরলেই বেচারা পটল তুলবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট!”

ডেসটেনি পর্ব ১২