Home তাকদিরে তুমি তাকদিরে তুমি পর্ব ১৭ (২)

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৭ (২)

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৭ (২)
মোনালিসা মেহরোজ

ফাতিহাকে শাড়ী পড়া অবস্থায় আবিষ্কার করে বিস্ময়ে থ মেরে গেছেন সায়না মির্জা। পুত্রবধূ কাচা হলুদ রঙা শাড়ী পরে প্রথমেই এসেছে তাকে দেখাতে। সায়না মির্জা ফাতিহাকে উপর থেকে নিচ পর্যবেক্ষণ করে আপন মনেই ‘মাশাল্লাহ’ আওড়ালেন। হুট করেই চোখে পানি চলে আসলো তার৷ রমণীকে দু’হাতে আগলে কপালে দীর্ঘ চুম্বন আঁকলেন ভদ্রমহিলা। ফাতিহা চোখ বুঁজে অনুভব করলো শাশুড়ীর স্নেহখানা। ভদ্রমহিলা পর পর ফের আওড়ালেন—–
—মাশাল্লাহ, আমার মেয়েটাকে একদম পরীর মতো লাগছে। নূরের আলো বর্ষিত হচ্ছে মুখ থেকে।
ফাতিহা শাশুড়ীর অতিরক্তি প্রশংসায় আহ্লাদে আটখানা। নিজেও মায়ের সমতুল্য মানুষটাকে আগলে জানালো—–
—ধন্যবাদ মা।
সায়না মির্জা হাসলেন। ঠিক তখনি দরজায় কড়া ঘাতের শব্দ হলো। দু’জনেই নড়েচড়ে উঠলেন। দরজার পানে তাকাতেই খেয়াল করলেন আযান মির্জা দাঁড়িয়ে। তার চোখও ফাতিহার উপর পরতেই কেমন চকচক করে উঠলো—-

—আরে, আমার আম্মা শাড়ী পরেছে? বাহ্…।
বলতে বলতেই এগিয়ে এলেন তিনি। ফাতিহা চমৎকার হাসলো শশুরের কথায়। এরমধ্যেই আযান মির্জা এসে থামলেন সামনে।
—হুম, দেখো দেখো। তোমার মেয়ে সেজেগুজে একদম পরী হয়ে বসে আছে।
শাশুড়ীর কথায় ফাতিহা মাথা নুইয়ে নিলো। আযান মির্জা সন্তুষ্ট হেঁসে আওড়ালেন—-
—তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
অতঃপর ফাতিহাকে বললেন—–
—দাঁড়াও তো আম্মা, তোমার জন্য একটা জিনিস রেখেছিলাম।
বলতে বলতেই আযান মির্জা আলমারি খুললেন। ফাতিহার কপালে ভাজ পরলো। সায়না মির্জাও সেদিকে তাকিয়ে দেখে চলেছেন স্বামীর কাজ। এরমধ্যেই আযান মির্জা নিজেদের সাথে আনা একটা ব্যাগ খুলে ফেললেন। অতঃপর ভেতর থেকে বের করলেন পুরনো একটা কাঠের বাক্স।
মাঝারি সাইজের বাক্সটার পানে ফাতিহা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকালো, কি আছে তা দেখতে বড্ড ইচ্ছে হলো রমণীর।
আযান মির্জা বাক্সটা বের করে আনলেন। চমৎকার হেঁসে পুত্রবধূর পানে তা বাড়িয়ে বললেন—-

—দেখো তো আম্মা, পছন্দ হয় কি-না!
—এখানে কি আছে, বাবা?
—আহা, খুলেই দেখো না!
বলতে বলতে বাক্সটা ফাতিহার হাতে দিলেন তিনি। রমণী অনুভব করলো , বাক্সটা বেশ ভারী৷ কপালে ভাজ ফেলে ধীর হস্তে তা খুলে আনতেই কপালের ভাজ দ্বিগুণ হলো তার। সাথে বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে রইলো বাক্সের ভেতরে। আযান মির্জা স্ত্রীর পানে তাকালেন, অতঃপর পুত্রবধূর পানে তাকিয়ে আওড়ালেন—-
—কি! পছন্দ হয়েছে?
ফাতিহা ফিরে চাইলো। অতঃপর আবার তাকালো হাতের দিকে৷ বাক্স ভর্তি পুরনো আমলের নকশা করা বেশ ভারী এবং মোটা গহনা। কতগুলো মোটা বালা, নথ থেকে শুরু করে গলার হারসহ সকল ধরনের গয়না। ফাতিহার হাতটা কেঁপে উঠল মৃদু তালে। হৃদপিণ্ডটা অযথায় লাফাচ্ছে।
ফাতিহা তার কাঁপতে থাকা হাতটা সামলে বাক্সটা বিছানায় রাখলো গম্ভীর মুখে। অতঃপর শশুরের পানে চাইলো কেমন নির্জীব চোখে। আযান মির্জার কপালে ভাজ ফেলালে ফাতিহার এই নিস্তব্ধতা।

—কি হলো, আম্মা! পছন্দ হয়নি?
ফাতিহা ধীরে শ্বাস ফেলালো। কিন্তু উত্তর করলো না। আযান মির্জার মুখটা ছোট্ট হয়ে গেলো। ভাবলেন, হয়তো পুত্রবধূর গহনাগুলো পছন্দ হয়নি। বিরস মুখে বলে উঠলেন—-
—আমি ভেবেছিলাম পছন্দ হবে। আসলে এগুলো তোমায় দেওয়ার অনেক শখ ছিলো, আম্মা। এই গহনাগুলো আমার মায়ের। সেদিন তোমার হাতের পায়েস খাওয়ার পর মনে হলো, মা মা*রা যাওয়ার পর এতো বছর বাদে মায়ের শূন্যস্থান পূরণ করতে আমার ঘরে তুমি এসেছো। তাই রেখে দিয়েছিলাম তোমার জন্য। তবে পছন্দ যখন হয়নি তখন আমি নতুন গহনা বানিয়ে…..!

—বাবা!
ফাতিহার অতি নরম স্বরের ডাকে আযান মির্জার চোখ ভরে উঠলো অশ্রুতে। নিজেকে সামলে মুখ ঘুড়িয়ে নিলেন তিনি। সায়না মির্জার চোখেও পানি টলমল করছে৷ ফাতিহা আলতো হাতে শশুরের দু’হাত আঁকড়ে ধরে আওড়ালো—-
—আমার তো গয়না আছে, বাবা। এসবের কি প্রয়োজন?
—আম্মা!
—হ্যাঁ বাবা। আমার গয়না তো আপনারা’ই, আপনাদের দোয়ায় তো আমার সবচেয়ে বড় গয়না। সেখানে এসব ধাতু দিয়ে কি হবে?
আযান মির্জা অসহায় চোখে তাকালেন।
—নিবে না, আম্মা?
ফাতিহা হাসলো।

—নিবো। তবে এখন নয়। আপনার ছেলে যখন পুরোপুরি আমাকে মেনে নিবে, যখন আমি সম্পুর্নরূপে আপনার পুত্রবধূ হয়ে উঠতে পারবো তখন নিবো। তার আগে নয়।
এ পর্যায়ে আযান মির্জার কপালে ভাজের সৃষ্টি হলো। তড়িঘড়ি করে বলে উঠলেন—-
—কিন্তু আম্মা আমি তো এসব তোমায় আমার মেয়ে ভেবে দিচ্ছি। সেখানে আসিফের স্ত্রী শব্দটা কেনো আসবে?
ফাতিহা চোখ বুজে নিলো। কন্ঠ তার একদম মিইয়ে গেলো—-
—জানি, বাবা। কিন্তু তবুও আমি চাই আপনাদের মেয়ের পাশাপাশি আপনাদের ছেলের স্ত্রী হয়ে উঠতে। আর যেদিন তা হতে পারবো—সেদিন এই গয়নাগুলো আমি গ্রহন করবো। তার আগে নয়।

—এ্যাঁ, এটা কি করে দিলি? মাথায় কি বুদ্ধি-সুদ্ধি নেই তোর? আমার চোখেও লেগে গেছে, ইয়াক…।
বলতে বলতেই তীব্র বিরক্তিতে চোখমুখ খিঁচে নিলো নাজিয়া। রনি তখনো নাজিয়ার চোখমুখে হলুদ মাখিয়ে দিতে ব্যস্ত। এমনিতেই না বলে হুট করেই এক থাবা হলুদ তার মুখে ছুঁড়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ চোখেও বোধহয় পরে গেছে রমণীর। নাজিয়া চোখ বন্ধ করে হাত দিয়ে তা পরিস্কার করতে লাগলো। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিহাদ বোনের কান্ডে চুপচাপ, একদম নিস্তব্ধ।
পুরুষটি সবসময়’ই গা ছাড়া, ছন্নছাড়া ভাব নিয়ে চলে। কখন কি করে হুশ থাকে না নিজের’ই। পড়াশোনা শেষ করে বাবার সাথে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছে। তবে তার অর্ধেক দিন’ই কাটে বই আর সিগারেটের ধোঁয়ায়। মাঝেমধ্যে গিটারের টুংটাং শব্দে নিজেকে ডোবায়। আবার কখনো দু’এক লাইন কবিতা বা গান লিখে৷ এভাবেই শান্ত নদীর মতো তার জীবন চলে যাচ্ছে। ইফতিয়া-সাহেল মেয়ের আগে ছেলেকেই বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে ছেলে তাদের বিয়েতে রাজি নয়। এদিকে মেয়েরও একের পর এক সম্মন্ধ আসায় বিরক্ত হয়ে পরেন।কতগুলো ভেঙে দিয়েছেন তার হিসেব জানা নেই। শেষমেশ উপায়ন্তর না পেয়ে আগে মেয়েকেই শশুরবাড়ী পাঠাচ্ছেন। ছেলেরটাও পরে দেখে নিবেন।

এরমধ্যেই সেখানে গুটিগুটি পায়ে এসে থামে ফাতিহা। সকলের দৃষ্টি খানিক নড়েচড়ে ঘুড়ে যায় তার পানে। নিহাদ চমকে উঠে রমণীকে এরূপে দেখে। দৃষ্টি স্থির হয়ে যায় যুবকের। হুট করেই বুকের চিনচিনে ব্যথাটা গাঢ় হয়।
অন্যদিকে নাজিয়া নতুন ভাবিকে দেখেই চোখজোড়া চকচক করে তাকালো। আহ্লাদী কন্ঠে ডেকে উঠলো—-
—ভাবি! এসেছো? তোমায় কি সুন্দর লাগছে! ওয়াও….।
নাজিয়া নিজেই নিজের গালে হাত রাখলো। ফাতিহা মৃদৃ হাসলো মাত্র। আশেপাশের অনেকের দৃষ্টি তখনো ফাতিহার পানে। ফাতিহা সুক্ষ্ম দৃষ্টি বুলালো একবার। অতঃপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো।
—এসো এসো, হলুদ লাগাও আমায়।
—আসছি।
ফাতিহা নাজিয়ার পাশে বসলো ধীরেসুস্থে। এক চিমটি হলুদ তুলে নাজিয়ার গালে লেপ্টে দিলো। নিহাদ তখন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে রমণীটির পানে৷ রনি তা খেয়াল করে সামান্য ধাক্কা দিতেই নড়েচড়ে উঠলো যুবক। দৃশ্য সংযত করলো নিজের।

—এটা রাখো। ভাবির তরফ থেকে সামান্য উপহার।
হলুদ ছুঁইয়ে উঠে যেতে যেতে নাজিয়ার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলো ফাতিহা। এটা সে আসিফের ওয়ালেট থেকে নিয়েছে, বলা হয়নি এখনো। বলতে চেয়েও পারেনি। কেননা ওয়ালেট ঘরে থাকলেও যুবকটি কোথায় গেছে তা জানা নেই তার৷ ফোন করলেও তা রিসিভ হলো না বিধায় উপায়ন্তর না পেয়ে বিরস মুখে না বলেই টাকাটা নিয়েছে রমণী। ভেতরে ভেতরে ভয়ে থাকলেও উপরে নিজেকে স্বাভাবিক রাখলো। সকলে হলুদ ছুঁইয়ে কিছু না কিছু দিচ্ছে, সেখানে সে খালি হাতে কেমন দেখা যায়! এতে তো আসিফেরও অসম্মান। তাই তো আর আগেপিছে না ভেবে টাকাটা নিলো। আসিফ ফিরলে জানিয়ে দিবে বলেও ঠিক করে রেখেছে।
ফাতিহা নাজিয়ার হাতে টাকা দিয়ে উঠে দাঁড়াতেই নাজিয়া কেমন ইতস্তত করে টাকা ফিরিয়ে দিতে চাইলো। ফাতিহা মৃদু হেঁসে স্টেজ থেকে নেমে দাঁড়ালো। নাজিয়াকে আস্বস্ত করতে ভুললো না মোটেও।

ফাতিহা নেমে দাঁড়াতেই অনুভব করলো হিজাবটা কেমন এলোমেলো হয়ে এসেছে, শাড়ীর কুঁচিটাও ঠিক নেই। রমণী আশেপাশে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে দ্রুত ভেতরের দিকে পা বাড়ালো। নিজের ঘরে প্রবেশ করেই সোজা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরলো। ঘরে কেউ নেই। আসিফও নেই সে ব্যতীত৷ এরমধ্যেই শাড়ী ঠিক করে হিজাবের পিনগুলো খুলতেই একদম হুট করেই ক্যারেন্ট চলে গেলো। চমকে ওঠে ফাতিহা। হঠাৎ এরূপ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ভিষন ভয় লাগলো কেনো যেনো। তবুও হাত দিয়ে আস্তে করে টেবিলে রাখা একটা মোমবাতি লাইটারের সাহায্যে জ্বালিয়ে নিলো। গ্রাম অঞ্চলে ঘনঘন বিদ্যুৎ যায় বলে ইফতিয়া বাড়িতে আগে থেকেই মোমের ব্যবস্থা করে রেখেছিলো। সকলের ঘরেই মোম রাখা আছে আলাদা করে।
মোমবাতি জ্বালিয়ে ফাতিহা ধীর পায়ে ফের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরলো। থমথমে পরিবেশ। নিজের নিশ্বাসের শব্দও যেনো শোনা যাচ্ছে। ক্যারেন্ট যাওয়ায় প্রথমে বাহিরে চিল্লাপাল্লা হলেও নিহাদরা সব ঠিক করে নিয়েছে। ফাতিহা সেদিকে একবার কান পেতে আলতো হাতে হিজাবটা খুলে রাখলো। আর পরবে না বলে ঠিক করলো। চুলগুলো খুলে আঁচড়ে নিতেই হুট করে, একদম হুট করেই পিছনে কারো অস্তিত্ব টের পেলো রমণী। মোমবাতির আবছা আলোই আয়নায় কারো ছায়া সুস্পষ্ট নজরে এলো। ফাতিহার হাত থেমে গেলো তৎক্ষনাৎ । শির দাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামলো ভয়ের তাড়নায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। হাত থেকে চিরুনি খুলে ঠাস করে মেঝেতে পরে গেলো।

ফাতিহা আচমকা চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো। দম বন্ধ করে রইলো রমণী। অন্যদিকে ওপাশের আগন্তুক এগিয়ে আসতে আসতে একেবারে ফাতিহার গা ঘেঁসে দাঁড়ালো। ফাতিহা কেঁপে উঠলো তা অনুভব করে। পুরুষটির দৃষ্টি তখন আয়নার সেই নারী অবয়বের পানে। কপালে তার কয়েক দস্তর ভাজ। তীব্র অবিশ্বাস্য আঁকড়ে ধরেছে যেনো৷ কাঁপা কন্ঠনালী ভেদ করে আচমকা বেড়িয়ে এলো কয়েকটা শব্দ—-
—তু…তুমি?
ফাতিহা নিশ্বাস খিঁচে রইলো। সাথে রমণীর তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক চট করে বুঝে ফেললো পুরুষটি আসলে কে। সে অন্য কেউ নয়, সে স্বয়ং তার স্বামী, তার অর্ধাঙ্গ, আসিফ মির্জা। বাবার পরে যেই পুরুষ প্রথম তাকে দেখেছিলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত যাত্রায়। আজ আবার সেই আলাপ…..!

ফাতিহা খুব আস্তে করে চোখ মেলে তাকালো। সরাসরি দৃষ্টি মিলিত হলো আয়নায় আসিফের চোখের পানে। পুরুষটির চোখ তখন থমকে আছে, তীব্র বিস্ময় আর অজানা অনুভূতিতে গাঁট হয়ে আছে কেমন। ফাতিহা মৃদু হাসলো। মোমের আলোই তার সেই হাসি কোন অপ্সরার চেয়ে কম মনে হলো না আসিফের কাছে। হুট করেই বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হলো। দম বন্ধ হয়ে এলো অজানা কারনে।
আসিফ এই নারীটির মুখ অস্পষ্ট দেখেছিলো৷ দ্বিতীয়বার দেখলে চিনতে পারতো, আর আজ ঠিকি চিনতে পারলো। আসিফ একশো-ভাগ নিশ্চিত এটা ওই রমণীই। এটাই সে যার হাতে সে কষিয়ে একটা থাপ্পড় খেয়েছিলো৷ যাকে দেখার আসায় উতলা হয়ে বারবার মুখ খুলতে বলছিলো ট্রেনের মধ্যে। ফলস্বরূপ রাগের বশে নারীটির হাতে থাপ্পর খেয়ে বসে যুবক। তবে তাতে তার কোন আফসোস ছিলো না, তার আফসোস ছিলো নারীটিকে সম্পুর্নরূপে না দেখতে পাওয়ার। যা আজ, এই অনাকাঙ্ক্ষিত রাতে, অনাকাঙ্ক্ষিত এক জায়গায় হয়ে গেলো।

আসিফের চোখজোড়া কেমন অন্ধকার হয়ে এলো। ফাতিহা তখনো হাসছে, তার ঠোঁটের কোণায় হাসি তখনো জ্বলজ্বল করছে ভিষন। আসিফ সহ্য করতে পারেনা৷ নিতে পারেনা রমণীর নূরানী আভায় ভরে ওঠা জ্বলজ্বলে মুখশ্রীর সৌন্দর্যতা। মোমের আলোই আলোকিত এই রমণীর মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেনা আসিফ। তার কাজলকালো আঁখিপল্লব তখনো হাসছে, ঠোঁটের কোণায় তিলটা কেমন চকচক করছে। আসিফ সহ্য করতে পারেনা।ফলস্বরূপ চোখজোড়া কেমন নিভে আসে যুবকের। অস্থির হয়ে উঠে মস্তিষ্ক। গলা শুকিয়ে কাঠ তার৷
এরমধ্যেই আসিফ হুট করেই হেলে পরে। ফাতিহার কাঁধে তার মাথা ধপ করে পরে যায়। ফাতিহা তখনো হাসে, স্বযত্নে স্বীয় স্বামীর মাথা আগলে ধরে রমণী। সাথে অনুভব করে, আসিফ তার কোমড় সাপের ন্যায় জড়িয়ে ধরেছে দু’হাতে। ভিষন শক্ত সেই বাঁধন। চোখের পাতা বন্ধ যুবকের। ঠোঁট নাড়াচ্ছে কেমন। তবে ফাতিহা কিছু শুনতে পেলো না। শুধু তার হাতের বাঁধনের পানে চেয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালো—-

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৭

—এ দৃঢ় বাঁধন এক অচেনা রমণীর জন্য, আপনার স্ত্রীর জন্য নয়। অথচ তবুও আমি খুশি হচ্ছি ভিষন। কারণ আপনার চাওয়া ও আপনার তাকদির—দুটোই এক। আপনার তাকদিরে আপনার ইচ্ছেই লিখা, এখন সময় তা খুলে দেখার। আপনি প্রস্তুত তো! মিস্টার আসিফ মির্জা!

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৮