Home তাকদিরে তুমি তাকদিরে তুমি পর্ব ১৮

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৮

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৮
মোনালিসা মেহরোজ

—যে….যেও না৷ প…প্লিজ দাঁড়াও, শুনছো…..।
তীব্র জ্বরের ঘোরে আসিফের শুষ্ক মরুভূমির ন্যায় রুক্ষ খরখরে ঠোঁট জোড়া হতে বেড়িয়ে আসে কয়েকটা ভাঙা ভাঙা শব্দ। সায়না মির্জা আঁচলে চোখ মুছে নিলেন ছেলের এহেন পরিস্থিতিতে। কাল রাত থেকে এক নাগারে জ্বর ছেলেটার, ডক্টর এসে দেখে গেছেন সকালে। ঔষধ-পত্র খাওয়ানো হচ্ছে যথাসময়ে। জলপট্টি দেওয়া হচ্ছে নাগাতার ভাবে। তবে কোথায় কি? জ্বর তো কমছে না!
পাশেই ফাতিহা দাঁড়িয়ে, কপালের রমণীর গাঢ় ভাজ। আজ বিয়ে, সেই আয়োজনে সকলে ব্যস্ত থাকলেও সাহেল, ইফতিয়া বেশ কয়েকবার এসে দেখে গেছেন আসিফকে। মন বড্ড খারাপ তাদের, নাজিয়া তো পারছে না কেঁদেই দিবে। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে তৈরি হতে পাঠিয়েছে ফাতিহা। নাহিদ খানিক বাদে বাদে এসে খোঁজ নিয়ে যাচ্ছে আসিফের। আযান মির্জার কপালেও চিন্তার ভাজ।

ফাতিহা ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। ধীর পায়ে শরবতের গ্লাসটা ঠেলে এসে বসলো আসিফের শিয়রে। আসিফ তখনো অবচেতন মনে বিড়বিড় করে যাচ্ছে কি যেনো! স্পষ্ট নয় কিছুই। তবে ফাতিহা ঢের বুঝতে পেরেছে, আসিফের মনে তার স্ত্রী’র ইমান, ধৈর্য, বিশ্বাস, ভালোবাসার চেয়ে বেশি অচেনা সেই রমণীর রূপ বেশি প্রভাব ফেলেছে। যার জলজ্যান্ত প্রমাণ আজ আসিফের এই অসুস্থতা।
ফাতিহা মনে মনে ব্যথিত হলো ভিষন। বড্ড কষ্ট হলো হৃদয়ে। সে চায় আসিফ ফিরুক দীনের পথে, তাকে ভালোবাসুক। নিজের পরিবারকে আগলে নিক। মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠুক। তবে তার রূপের মোহে পরে নয়। তাকে দেখে নয়, কারণ রূপ তো ক্ষনস্থায়ী, যে কোন সময়, যে কোন দিন, যে কোন মুহূর্তে রূপ ঝরে পরে যেতে পারে। কিন্তু তার ইমান! সেটা তো ক্ষনস্থায়ী নয়। সেটা তো দীর্ঘস্থায়ী। রূপ নষ্ট হয়ে গেলেও তার ইমান তো থেকে যাবে। আল্লাহর উপর তার অগাধ বিশ্বাস, তার ভালোবাসা, তার প্রেম সবকিছু তো জন্ম জন্মান্তর থেকে যাবে। আর ফাতিহা তো চায় আসিফ ঠিক তার ইমান, তার ইবাদত তার দীন দেখেই তাকে ভালোবাসুক৷ সে জন্যই তো আজ এতোদিন অবদি এতো এতো অপমান এতো এতো তাচ্ছিল্যতা সহ্য করেও পুরুষটির মনে নিজের জন্য এক টুকরো খাঁটি ভালোবাসা তৈরি করার চেষ্টায় মত্ত সে। তবে কি হচ্ছে লাভ? হচ্ছে না তো!
ফাতিহা মাথা নুইয়ে নিলো। তবে কি সে ব্যর্থ? বাবার কথা কি সে রাখতে পারবে না? পারবে না নিজ স্বামীকে শুধরে দিতে?

ফাতিহার চোখজোড়া ভরে ওঠে পানিতে। সে চাইলেই আসিফের ভালোবাসা অর্জন করতে পারে, তা এক নিমিষে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই ভালোবাসার মধ্যে খাদ থাকবে না তার কি গ্যারান্টি? আসিফ তো তার রূপের পাগল! সে তো দেখেছে আসিফের পাগলামো! কি করে ছুটন্ত ট্রেনের মধ্যে একটা অচেনা নারীর ওড়না ধরে টানাটানি করছিলো মুখ দেখার আশায় তা তো অজানা নয় ফাতিহার!
ফাতিহার ভয় হয়। পরবর্তীতে যদি এই রূপ না থাকলে আসিফ তাকে ত্যাগ করে! আর এই ভয়েই তো তটস্থ রমণী। ফলস্বরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো স্বামীর মনে রূপের প্রতি টান নয়, বরং তার ইমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভালোবাসার জন্ম দিবে। তাই তো এতো লুকোচুরি। এতোটা আড়ালে থাকা।
ফাতিহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তাকায় সায়না মির্জার পানে। কাল রাত থেকে ছেলের গায়ে জ্বর এসেছে শুনে না খেয়ে দেয়ে বসে আছে৷ ফাতিহা অবশ্য আসিফের খেয়াল রাখবে বলে ঘুমিয়ে নিতে বলেছিলো, আর তার ভরসাতেই পুরোটা রাত পাড় করেছেন সায়না মির্জা।

—মা! কিছু খেয়ে আসুন।
ফাতিহার ডাকে নড়েচড়ে উঠলেন সায়না মির্জা। ছেলের মাথা হতে হাত সরিয়ে শুকনো মুখে পুত্রবধূর পানে চাইলেন।
—না, আম্মা। এখন খেতে ইচ্ছে করছে না।
—না করবেন না, মা। শরীর খারাপ করবে। আপনি যান। আমি আছি। কিছু লাগলে ডেকে দিবো।
সায়না মির্জা আর না করলেন না। বসা হতে উঠে পরলেন।
—বিকেলে কি ফিরার কথা বলবো, আম্মা?
—যা ভালো মনে হয় করুন।

সায়না মির্জা খানিকটা সময় চুপ করে রইলেন। বিয়ে শেষ হলে শহরে ফিরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন তিনি, যদি আসিফের জ্বর না কমে তখন। গ্রামের ডক্টর দেখিয়েছেন, এতে তো খুব একটা লাভ দেখছেন না। বিকেল অবদি যদি নয় হয় তাহলে শহরের উদ্দেশ্য পাড়ি জমাবেন বলে ঠিক করলেন সায়না মির্জা। সে সম্পর্কেই আযান মির্জাকে বলার কথা ভাবছেন। সায়না মির্জা ধীর পদক্ষেপে বেড়িয়ে গেলেন ঘর থেকে। থমথমে পরিবেশে থেকে গেলো ফাতিহা ও আসিফ। ফাতিহা স্বামীর শুকনো মুখপানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে জলপট্টিটা ফের পানিতে ভিজিয়ে কপালে রাখলো৷
অতঃপর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো স্বামীর পানে। মাথার চুলে হাত চালাতে চালাতে ভাবতে লাগলো অনেক কথা।
—আমি কি সত্যিই আপনার মনে কোন প্রভাব ফেলাতে পারলাম না?
ওপাশ থেকে কোন উত্তর পেলো না রমণী। পাবেই বা কি করে? স্বীয় স্বামী যে তার বিছানায় কাতর হয়ে পরে আছে তীব্র জ্বরে। চোখমুখ লাল হয়ে আছে। ফাতিহার কষ্ট হলো মানুষটার জন্য, প্রচন্ড ব্যথা হলো হৃদয়ে। ক্লান্ত হাসলো রমণী। এরমধ্যেই দরজায় টোকা পরে। ফাতিহা খানিক চমকে উঠলো সেই টোকায়। নিজেকে সামলে আস্তে করে আওড়ালো—-

—আসুন।
রূমে ধীর পায়ে প্রবেশ করে নিহাদ। ফাতিহা মাথার ঘোমটা’টা টেনে নিলো খানিক। নিহাদ তার পানে অবশ্য চোখ তুলে তাকালো না। আলগোছে দৃষ্টি রাখলো আসিফের নিথর মুখের পানে। কয়েকরা সেকেন্ড চুপ থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো—
—জ্বর কেমন এখন?
—আগের মতোই।
নিহাদ মাথা নাড়ালো৷ এক ধাপ এগিয়ে আসিফের কপালে হাত রাখলো একবার। অতঃপর ঔষধগুলো দেখে চিন্তিত মুখশ্রী নিয়ে আওড়ালো—-
—ঠিক আছে। জলপট্টি দিতে থাকুন। কমে কি-না দেখুন। নইলে আবার ডক্টরকে কল করতে হবে৷ শহরে নিয়ে যাবো কি-না সেটাও ভাবতে হবে না কমলে।
—জ্বী।
ফাতিহার মৃদু গলার আওয়াজে নিহাদ চুপ করে গেলো। মাথা নাড়িয়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই ফের দাঁড়িয়ে গেলো যুবক। ফাতিহা বাঁকা নজরে সেদিকে তাকালো। নিহাদ সামান্য কেঁশে ফাতিহার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলো৷ এমনিতেও তার সাথে বেশি কথা যায় না। তবে প্রশ্নটা না করেও পারলো না। পুরুষটি অতন্ত্য গম্ভীর গলায় আওড়ালো—–
—সকালে খেয়েছেন কিছু?
ফাতিহা এ প্রশ্নে কয়েক মুহূর্ত চুপ রইলো। অতঃপর ধীর গলায় বলে উঠলো—-
—না।
কপালে ভাজ পরলো নিহাদের। চট করে প্রশ্ন করে বসলো—–

—কেনো? সকাল দশ-টা বাজতে চললো আর আপনি খাবার খাননি? এটা কেমন কথা? কেউ খেতে ডাকে নি আপনাকে? অথবা মা খাবার দিয়ে যায়নি?
ফাতিহা তৎক্ষনাৎ উত্তর করলো না৷ নিহাদও নিশ্চুপ রইলো ফাতিহার থেকে উত্তর পাওয়ার আশায়। কয়েক সেকেন্ড পর অতন্ত্য ধীর গলায় বলে উঠলো রমণী—–
—তেমন কিছু না। আসলে ওনি অসুস্থ, এখনো ওঠেননি। খাবারও খাননি। তাই আরকি সেভাবে খাওয়ার প্রতি মনটা নেই। আপনি চিন্তা করবেন না, ভাইজান। আমি পরে খেয়ে নিবো।
এ পর্যায়ে যুবকের হৃদয়ে চিনচিনে ব্যথার উদয় হলো। ভাইজান ডাকটাও কেমন বড্ড অপরিচিত লাগলো। মুখে কোনরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না যুবকের। তবে ফাতিহার সামনে কেবল মুচকি হাসলো সে। সেভাবেই আওড়ালো—-
—জ্বী আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি।
ফাতিহা হাসলো। নিহাদ গটগট পায়ে বেড়িয়ে গেলো ঘর ছেড়ে।

—প…পানি, পানি….!
আচমকা আসিফের ভাঙা ভাঙা গলায় চমকে উঠলো ফাতিহা। আসিফের পানে তাকাতেই খেয়াল করলো লোকটা কেমন জ্বরের ঘোরেই দু’পাশে মাথা নাড়াচ্ছে আর শুষ্ক ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে পানি চাইছে। ফাতিহার বুকটা ধক করে উঠলো। আসিফের মতো এতো শক্ত-পোক্ত পুরুষের এই ভাঙ্গুর অবস্থা ঠিক মেনে নিতে পারলো না রমণী। হাত বাড়িয়ে তড়িঘড়ি করে শরবতের গ্লাসটা হতে চামচের সাহায্যে শরবত তুলে নিলো। অতঃপর অতি সাবধানতার সহীত তা আসিফের মুখে তুলে দিলো। আসিফ চোখ বন্ধ অবস্থায় শরবতটুকু পান করলো। এরমধ্যেই হুট করেই তার তপ্ত হাত আঁকড়ে ধরলো ফাতিহার কোমড়। আচানক এহেন কান্ডে বরফের ন্যায় জমে গেলো রমণী। শরবত ধরে রাখা হাতটা মৃদু তালে কেঁপে উঠল কেমন!
—ক…কি করছেন? ছা..ছাড়ুন…!

ফাতিহা দম খিঁচে আস্তে করে আসিফের হাতের দিকে তাকালো। দ্রুত গ্লাসটা টেবিলে রেখে পুরুষটির থেকে আলগা হতে চাইতেই ঘটলো আর এক বিপত্তি। যুবক কেমন জ্বরের ঘোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শক্ত হাতে রমণীর সরু কোমড়খানা সাপের ন্যায় পেঁচিয়ে নিলো৷ মাথা রাখলো ফাতিহার নরম কোলে। স্বামীর এহেন স্পর্শে এবার সত্যি সত্যিই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো ফাতিহার। অদ্ভুত অনুভূতিতে সিক্ত হতে থাকলো কায়া। আসিফ তখনো ঠোঁট নাড়িয়ে কি যেনো বিড়বিড় করছে। ফাতিহা তা শুনতে পেলো না অবশ্য, আর না শোনার ইচ্ছে পোষন করলো। বরং সে তো তখন দিন-দুনিয়া ভুলে অচেনা এক ঘোরে চলে গেলো। আসিফের তপ্ত শ্বাস ফাতিহা অনুভব করতে পারছে তার উদরের কাছে। নিশ্বাস নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে রমণীর। পেটের ভেতরে যেনো প্রজাপতির মেলা বসেছে!

ফাতিহা আসিফের হাতের উপর হাত দিয়ে সামান্য আলগা করতে চাইলো আসিফকে। তবে পারলো না, উল্টো ফাতিহার নড়াচড়া টের পেয়ে আসিফ যেনো আরো বেপরোয়া গতিতে ফাতিহার কোমড়ে হামলে পরলো। পুরুষালী দু’বাহু দিয়ে শক্ত করে আগলে ধরলো রমণীর সরু কোমড়। এ পর্যায়ে ফাতিহা আর নড়লো না। সেই শক্তি আর পেলো না মেয়েটা। বিয়ের পর এই প্রথমবার স্বামীর এতোটা কাছে আসাটাও ঠিক সহ্য হলো না। ফলশ্রুতিতে বুকটা কেমন কাঁপছে থরথর করে। তীব্র লজ্জায় পেলবখানা আপনা-আপনি লাল হয়ে উঠছে৷ ফাতিহা আস্তে করে তাকালো আসিফের পানে। পুরুষটির ঠোঁট জোড়া কেমন শুকিয়ে কাঠ, দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুনি রক্ত ঝড়বে সেথা হতে। ফাতিহা সেই শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ছুঁইয়ে দেওয়ার জন্য হাত তুললো, তবে হুট করেই নিজেকে সংযত করলো রমণী। চট করে হাত সরিয়ে পাথরের ন্যায় বসে রইলো।

—মা! কাল রাতে এ ঘরে শাড়ী পড়া অচেনা কোন মেয়েকে দেখেছো?
ছেলের এহেন প্রশ্নে হাত থেমে গেলো সায়না মির্জার। আপেলটার দিকে একপলক তাকিয়ে ছু*ড়ি নামিয়ে রাখলেন তিনি। বিকেল তিনটে বাজে। সদ্যই আসিফের চেতনা ফিরেছে৷ আগের থেকে এখন একটু সুস্থ বলে দেহে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন সায়না মির্জাসহ বাকিরা। তবে চেতনা ফিরে পাবার পর থেকেই আসিফ কেমন ‘থ’ মেরে বসে ছিলো অনেক্ক্ষণ। কারো সাথে কথাও বলছে না সেভাবে। আর এখন হুট করেই ছেলের এহেন প্রশ্নে বেশ অবাক হলেন সায়না মির্জা। কি বলবেন বুঝতে পারলেন না ঠিক।

—কার কথা বলছিস, বাবা?
আসিফ সোজা হয়ে বসলো খানিক। ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে আওড়ালো—-
—তাকে তুমি চিনবে না। শাড়ী পরে ছিলো হলুদ রঙা। মাথার লম্বা চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া ছিলো। চোখে গাঢ় কাজল, আর….
আসিফ থেমে গেলো। সায়না মির্জা ছেলের এতোটা আগ্রহ দেখে জিজ্ঞেস করলেন—-
—আর…?
আসিফ অনেকটা সময় চুপ করে রইলো। আচমকায় অন্যমনষ্ক হয়ে পরলো যুবক। মনের নিগুর ভাবনাগুলো বড্ড পীড়া দিলো তাকে৷ সে ভিষন দ্বিধায় আছে, কাল রাতের ঘটনা সত্যি ছিলো না-কি স্বপ্ন তার মধ্যে ফারাক ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না যুবক। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর থেকেই মনটা কেমন ছটফট করছে। তবে তার মন বলছে, কাল ভুল দেখে নি। নিশ্চয়ই মেয়েটা এখানে ছিলো। যাকে আসিফ দেখেছে। তবে সে সেন্স হারালো কি করে? কেনো চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে এলো হুট করে?
আসিফ ভাবতে পারেনা। মেয়েটা কি কোন জাদু জানে? তার উপর কোন মায়া করেছে কি সে? যার প্রভাবে আজ আসিফের এই অবস্থা! আসিফ দু’দিকে মাথা নেড়ে নিজেকেই ধমক দিলো। ফুলের মতো দেখতে নিষ্পাপ মেয়েটাকে নিয়ে কি ভাবছে ভেবেই লজ্জা অনুভব করলো যুবক। সায়না মির্জা তখনো তার পানে কপালে ভাজ ফেলে তাকিয়ে। আসিফ কথা বাড়ায় না। এরমধ্যেই দরজায় টোকা পরে। আসিফ ফিরে চায়। আযান মির্জা দাঁড়িয়ে আছেন, তার ঠিক বা’পাশেই ফাতিহা। আসিফের ভ্রু যুগল ফাতিহাকে দেখে আচমকায় মৃদু কুঁচকে গেলো।

—এখন কি অবস্থা? আসিফ! শরীর ঠিক লাগছে এখন?
বাবার ডাকে ধ্যান ভাঙে যুবকের। তড়িঘড়ি করে চোখ ফিরিয়ে সোজা হয়ে বসতে চায়। পিছনে বালিশটা তার নড়াচড়ায় হেলে পরে। যা দেখামাত্রই ফাতিহা তড়িঘড়ি করে এসে ঠিক করার জন্য হাত বাড়ায়। আসিফ বাঁধা দেয়না। বাবার পানে চেয়ে মৃদু হেঁসে আওড়ায়—-
—জ্বী, এখন ঠিক লাগছে।
আযান মির্জা মাথা নাড়ালেন।
—তাহলে তৈরি হয়ে নাও। আজ ফিরছি আমরা।
—আজ’ই?

মাথা নাড়ালেন আযান মির্জা। আসিফের জ্বর কমলেও পরবর্তীতে আবার যদি তা বেড়ে যায় সেই ভয়ে আযান মির্জা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজ’ই তারা শহরে ফিরে যাবেন। আসিফ সুস্থ হলে না-হয় পরে একবার এসে কয়েকটা দিন থেকে যাবে ফাতিহাকে নিয়ে। তবে এই মুহূর্তে আর কোন রিক্স নিতে চাননা তিনি। তারওপর অফিসে আবার কিসের একটা ফাইল চুরি গেছে, যেটা মির্জা গ্রুপের জন্য বেশ ইম্পরট্যান্ট। তাই সবকিছু সামলে নিতে আযান মির্জাকে ফিরতেই হবে৷ যার ফলে সাহেল, ইফতিয়াও আর না করেনি।

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৭

সায়না মির্জা স্বামীর পানে চেয়ে উঠে দাঁড়ালেন। বিয়ের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে ঘন্টা দু’য়েক হবে। নাজিয়াকে নিয়ে তার শশুর বাড়ির লোকজন রওয়ানা দিয়েছেন অনেক্ক্ষণ। সাথে গেছেন নাজিয়ার নানী আর চাচাতো দু’বোন। পরেরদিন তো আবার এবাড়ি নিয়েই আসবেন।
সায়না মির্জা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাকালেন পুত্রবধূর দিকে।
—মা ফাতিহা! তুমিও তাহলে তৈরি হয়ে নাও।
ফাতিহা মাথা নাড়ালো।
—আচ্ছা মা।

তাকদিরে তুমি পর্ব ১৯