তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৫
রাফিয়া জান্নাত রিফা
শীতের সকালবেলার গ্রামের প্রকৃতি এক অনন্য সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরে। ভোরের আলো ফুটতেই চারপাশে ছড়িয়ে আছে কুয়াশার চাদর। দূরের গাছপালা, খেতখামার আর ঘরের চূড়াগুলো আধো দেখা যাচ্ছে বাগান থেকে।কুয়াশায় ঢেকে আছে সব কিছু।বড় বড় গাছের পাতা গুলো ঝলমল করছে সূর্যের কোমল আলোয়।
রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে জ্বালানি কাঠের ধোঁয়া, আর পিঠা পুলি মিষ্টি গন্ধ।আছিয়া বেগম, আলিফা বেগম, সিদ্দিকী বেগম,মিল বেগম, নীলা বেগম, এবং আরো দুজন মহিলা ।
সাহিদা বেগম এনি হলেন আছিয়া বেগমের দেবরের বউ সম্পর্কে ছোট জা,বুড়ি হলেও বেশ হাস্যোজ্জ্বল প্রকৃতির,আছিয়া বেগম ও সাহিদা বেগমের বন্ধুত্ব পূর্ণ দৃঢ় সম্পর্ক।মাইশা বেগম এনি সাহিদা বেগমে পএবধু,এনি একটু গম্ভীর টাইপের মনে কোন ঘোর প্যাঁচ আছে কিনা তা বোঝা বাহুল্য। সাহিদা বেগমের ছেলে গ্রামের হাসপাতালে একজন ভালো ও সৎ ডাক্তার। সাহিদা বেগমের ও স্বামী গত হয়েছেন তিন বছর আগেই।
তালুকদার নিবাসের তারাই প্রধান্য ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। একসময় সবাই এই গ্রামেই ছিলো।ব্যবসা জন্য নাফিস তালুকদার, নাইম তালুকদার, নাজিম তালুকদার তিন ভাইকেই ঢাকা যেতে হয়।আলবান ,আর্দ্রের যখন দুই বছর তখনি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় পদর্পণ করে। তারপর ওখানেই স্থানীয় ভাবে বাসস্থান শুরু হয়। তারপর থেকেই প্রতি বছর এই গ্রামের আসা হয় মেলা উপলক্ষ্য।এই গ্রামে অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে মেলা হয়,বেশ খ্যাতমান।
রান্নাঘরে আঁকায় বসে নানান ডিজাইনের পিঠে তেলের ভাজছেন আলিফা বেগম।তাকে সাহায্য করছে সিদ্দিকী বেগম, তাদের চুলোও রান্না করার অভ্যাস আছে, অভ্যাসটা আগের হলেও ছাড়া কঠিন।মিলি বেগম এসব চুলো সম্মধ্য কিছু জানে না,বা করতেও পারবে না।তাই তিনি বড় রান্নাঘর খানায় চুলোর একপাশে পিঁড়িতে বসে আছে,সব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।সাহিদা বেগম কোমড়টা কে টেনেটুনে বহুত কষ্টে উঠে দাঁড়ালেন এবং আছিয়া বেগম কে বললেন,,,
__ ভাবি চলেন আমরা বড় আপার বাড়ি থাইকা ঘুইরা আসি,নিলা,মিলি বউমা তোমারও চলো।
তারা যাওয়ার জন্য উদিত হলেই সাহিদা বেগম মাইশা বেগম কে বললেন,,
__ সুহানা,আর সুন্দর কোথায় বউমা।
তখন তিনি বটিতে করে আলু চিকন করে কাটছিলেন,সাহিদা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন,,
__ আছে বোধহয় কোথাও?
তারা চারজনই সেখান থেকে চলে গেলেন।
সুহানা ও সুন্দর মাইশা বেগমের সন্তান। সুহানার বয়স ১৮ ,ইতি বিথী নীধিই বয়সি, সুন্দর বয়স ২৬ পড়াশোনা করছে।
আলিফা বেগম তেলে দেওয়া পিঠেটিকে এপিট ওপিট করে ভাজচ্ছেন ফাঁকে ফাঁকে সিদ্দিকী বেগমকে দেখছেন, কিছু বলতে চাচ্ছে বোধহয়।তা বিশেষ ভাবে খেয়াল করলেন সিদ্দিক বেগম এবং বললেন,,,
__ বুবুজান কিছু বলবে কি?
আলিফা বেগম হাসি দিয়ে বললেন,,,
__ কি আর বলবো বল?
__ কিছু তো বলতে চাচ্ছোই তুমি?বলে ফেলো?
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আলিফা বেগম বলেন,,,
__ ছেলে দুটোকে নিয়ে বড্ডো চিন্তা হয়?
__ কিসের?
__ কিসের তা জানি না?
__ এতো চিন্তা করো না?
__ তোকে একটা কথা বলতে চাই?
__ কি কথা?
ভাঁজা পিঠেটাকে তুলে বাটিতে রাখলেন, কিছুটা ইতস্তত বোধ করে বললেন,,
__ রাখবি?
__ আগে বলেই দেখো তো?
__ তোর তো তিনটে মেয়ে, আমার মেয়ে নেই, এই দুঃখ কখনো হয়নি কারণ সর্বক্ষণ ইতি, বিথী, নীধিকে মেয়ে হিসাবে দেখেছি,ও পাশে পেয়েছি,মেয়ে তিনটেও এমন ভাবে মিশেছে যে ওসব মাথায়ই আসে নি।
__ ওরা তো তোমারই মেয়ে।
__ তাহলে একটা মেয়ে দিয়ে দে, আমার তো দুই ছেলে একজনের বউ করলে মন্দ হয় না।
সিদ্দিকী বেগম হাসি দিয়ে বলে,,
__ কার কথা বলছো?
__ নিধির কথা?
__ কোন ছেলের জন্য চাইছো?
__ আর্দ্রের জন্য।
সিদ্দিকী বেগমের হাঁসিটা চওড়া হয়ে উঠলো,,
__ বেশ ভালো প্রস্তাব তো।
__ হুম এখন তুই কি বলিস?
__ আমার তো আর্দ্র বাবাকে ভালোই লাগে, কিন্তু আমার তিন মেয়ে যে, তাদের তো একটাই কথা হয় এক ছেলেকে বিয়ে করবে আর নাহয় এক বাড়ির তিন ছেলেকে বিয়ে করবে, কিন্তু তারা কোনভাবেই আলাদা হবে না। তিনজনই একসাথে সবখানে থাকবে।
__ দুর,ওরা ওসব মজা করে বলে।
__ ওদের বাবার ও এক কথা?
__ আমি কথা বলবো কি বলিস?
__ আচ্ছা বলিও।
সিদ্দিকী বেগম আবার বলে,,,
__ আলবানের আগে আর্দ্রের বিয়ের কথা ভাবছো যে?
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আলিফা বেগম বলেন,,
__ ও আর বলিস না,ওই ছেলেরে তো বিয়ের কথা বললেই ছ্যাত ছ্যাত করে ওঠে,যেনো কি থেকে কি বলে ফেললাম, এদিকে বয়স কি কম হচ্ছে নাকি।তাই আমি আর্দ্রেরই আগে বিয়ে দিবো,ওর বাবাও তাতে সহমত দিছে।
__ আর্দ্র কে বলছো?
__ ও না হয় বলবো পড়ে?
__ আমার তো ইতি কে নিয়ে বড্ডো চিন্তা?
__ ওসব মাথায় রাখিস না তো।
এভাবে তাদের সন্তানদের নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন চলল।
সূর্য একটু উপরে উঠতেই কুয়াশা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে, মাঠে দেখা যাচ্ছে কৃষকেরা কাজে নেমে পড়েছে। শিশিরভেজা ধানক্ষেত সোনালি রোদে আলো ঝলমল করে ওঠছে। সামনেই একটা ছোট্ট মাঠ, তালুকদার বাড়ির পেছনেই, মাঠের চারপাশে ঝোপঝাড়,মাঠটাতে গরু,ছাগল, শান্তিতে ঘাস খাচ্ছে।মুরগি নেচে নেচে ডেকে বেরাচ্ছে। শুনশান জায়গাটি,লোকজন আসে না বললেই চলে।মাঠের একপাশে শসার ক্ষেত বেশ বড় বড় শসা ধরছে,।তিনবোনেই সেই ক্ষেতে ঘুরে বেরোচ্ছে আর শসা ছিঁড়ে নিয়ে তা তাদের ওড়নাতে মুছে খাচ্ছে। তাদের পিছনে তিনজন ছোট,বড় মাঝারি সাইজের বাচ্চা ও আছে,তাঁরাও বেশ আরাম করে শসা খাচ্ছে।নিধি অনেক গুলো শসা ক্ষেত থেকে তুলে ওড়নায় নিলো।তারপর সবাই এক এক করে ক্ষেত থেকে উঠে মাঠে আসলো, সেখানে ঘাসে উপর গোল করে বসলো।নিধি ওড়না থেকে শসা বের করে গুনলো,১৫ টা এনেছে সে।বিধি ও এনেছে ১০ টা।ইতি কটাক্ষ করে বলে,,,
__ সব গুলো শসাই তুলে আনতি?
বিথি বলে,,,
__ হ হ পড়ে মতিউর চাচা দেখে কেলেংকারি হোক।
নিধি বলে,,
__ হয়েছে থাম,এখন ভাগ বসা।
বিথী একটা একটা ভাগ বসালো।২৫ টা শসার মধ্যে ২৪টা ভাগ হলো ।একজন করে পেল চারটা করে।একটা শসা অবশিষ্ট রয়ে গেলো।একটা বারো বছরের মেয়ে গাল ফুলিয়ে বলল,,,
__আপা, আমারে নিয়ে এইডা তো পুরাই অন্যায় হইছে!
ইতি বলে,,
__ কি হয়েছে?
__ আমারে আরেকটা দিতে পারতা, আপা?
নিধি বলে,,
__তোরে আর একটা দিবো কেন?সমান সমান ভাগ হলো দেখলি না।
মাথা নুইয়ে মেয়েটা বলে,,,
__ওইডা তো আমার বাবার শসার ক্ষেত, আপা! এখন বাবা জানলে বলবে এত শসা কই গেল।তখন আমারেই একগাদা ভুজুং ভাজুং বুঝাইতে হইবো! তাই আমারে একটা বাড়তি দিয়া দেও, আপা।
বিথী হাস্যকর অর্থেই হাসতে হাসতে বলে,,,
__ এত শসা খেয়ে রাতে বিছানায় মুতে দিবি,পরে সকালে তোর মা আইসা আমাগো তিন বোনকে ধরবে তখন কি বলবো আমরা? বল,বল?। আমাদের ইমেজটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
নিধি হাসতে বলে,,
__ বল বল।
ইতিও হাসতে হাসতে মেয়েটার গালে হাত দিয়ে বলে,,,
__ তোর নাম এমনিই আর ফুলি রাখি নাই রে।
বিথীর হাতে থাকা অবশিষ্ট শসাটি ফুলিকে দিয়ে বলে,,
__ এই যে ধর,তাও কান্দিস না ম্যাডাম ফুলি।
শসা পেয়ে ফুলি মধ্য বেশ হাঁসি খুশি মনোভাব দেখা দিল। সেখানে বসেই সবাই মিলে শসা খেতে খেতে অনেক গল্প করলো,যে গল্পে হাতা মাথা কিছুই নেই, অদ্ভুত অদ্ভুত সব গল্প। বিথী বলা গল্পে তো সবাই হো হো করে হেসে উঠছে। এঁকে অন্যর গায়ে ঢলাঢলি মাএা ও বেরে যাচ্ছে। তখনি এক শব্দতরঙ্গর তাদের সবার কানেই পৌঁছাল।
__মে-এএএ… মে-এএএএএ…
কখনো ভাঙা, কখনো দীর্ঘশ্বাসের মতো টেনে ওঠছে ছাগলটির কন্ঠ স্বর। ইতি বিথী নীধি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে ছাগলটির দিকে এক প্রকার দৌড়ে গেল।সেই শব্দে কাঁম্পন তৈরি হলো, সেভাবেই কাঁপতে কাঁপতে ছাগলটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।বারবার মাটির ওপর অস্থিরভাবে এপিঠ ওপিঠ করে পা ও শরীর আছড়াচ্ছে।ছাগলের নিঃশ্বাস ভারী হলো, নাকের ছিদ্র ফুলে ওঠছে বারবার, মাঝে মাঝে মৃদু গোঙানির মতো শব্দ করে, মাঝে মাঝে ব্যাথায় বিকট ভাবে চিৎকার করছে। ছাগলের সামনে গিয়ে সবাই দাড় হলো ইতি, বিথী, নীধি বুঝতে পারলো না ছাগলটি এমন কেন করেছে, তাদের এসব ব্যাপার জানার কথাও না।ইতি ভয়ে বড় বড় চোখ করে বাচ্চাদের বলে,,
__ এ ছাগলটা এমন করে কেন?কি হয়েছে?
ফুলি ছাগলের দিকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে বলে,,
__ আপা ছাগলের বাচ্চা হইবো তো তাই এমন করছে?
বিথী হকচকিয়ে বলে,,
__ ফুলি এখন কি করবো, তাড়াতাড়ি বল, ছাগলের অবস্থা বেশি ভালো না,দেখ কেমন যন্ত্রণায় মোছড়া মুছড়ি করছে।
ফুলি ছাগলের পাশে বসে বলল,,
__ আপা তোমরা ছাগলের পা গুলান ধরো,।
ইতি, নিধি ছাগলের পা গুলো ধরলো।ফুলি ছাগলটাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিলো, বিথী ফুলির মাথায় টালা দিয়ে বলল,,
__ তাড়াতাড়ি কর?
ইতি বলে,,
__ আমার কি যে ভালো লাগছে, ছাগলের বাবু হবে,ওয়াও।
নিধি বলে,,
__ প্রথম এক্সপেরিমেন্ট,আর অনেক এক্সাইটেড ।
__ হুম।
ফুলি কিছুই করছে না,এমনকি ছাগলটার গায়ে হাত পযন্ত দিচ্ছে না। ঝুঁকে ঝুঁকে শুধু দেখেই যাচ্ছে।ইতি,নিধি ছাগলটার পা গুলো ধরেই রইল,ফুলির আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই করবে না,এতেই ফুলির একটু ভাব বেড়ে গেছে হয়তো, নিজেকে বেশ ডাক্তার ডাক্তার ও মনে হচ্ছে। ছাগলের দিকে অপলক তাকিয়ে ছাগলের প্রসবের যন্ত্রণা দেখে কি বুঝলো কে জানে, হঠাৎ হকচকিয়ে ফুলি বললো,,
__ হায় আল্লাহ! ছাগলের অবস্থা তো খুবই খারাপ।
ছাগলের পেট কেঁপে ওঠছে ঢেউয়ের মতো, পিঠ বাঁকা হয়ে গেছে, মাঝে মাঝে থেমে থেমে মাটিতে পা দিয়ে খুঁড়ার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।নিজের অস্বস্তি মাটির বুকেই লুকোতে চাচ্ছে বোধহয়।ছাগলের এমন অবস্থা বিথী দেখলো,মন আনচান করে উঠলো,,,
__ কিইইই , এখন কি হবে বল?
ফুলি আবার ছাগলের দিকে অপলক চেয়ে রইল।
আট নয় বছরের মেয়ে নিলু,ও রেশমা চুপ করেই সেখানেই গুটিয়ে বসে রইল নিরব দর্শক হয়ে।ফুলি ভাব ভঙ্গি পরিবর্তন করে বিথীর দিকে তাকিয়ে বললো,,
__ আপা ছাগলের অবস্থা ভালা না, ডাক্তার ছাড়া এ কাজ কেউ পাইবো না?জলদি ডাক্তার আনতে হইবো।
ইতি বেশিই হকচকিয়ে বিথী কে বললো,,,
__ বিথী যা ডাক্তার বাবু রে ডেকে নিয়ে আয়,যাহহহ।
ভীতু বনে চলে যায় বিথী,কি করবে বুঝতে পারছে না, অস্বাভাবিক ভাবে অযথা হাত কাঁপতে লাগলো,ফুলি , ইতি,নিধি এমন ভাবে কথা বলছে যেনো এই বুঝি পৃথিবী ধ্বংস হয়,আকাশ বুঝি ভেঙ্গে পড়ে তাদের মাথায়,ঠিক সেভাবেই বিথীকে সমানে বলেই যাচ্ছে,বলেই যাচ্ছে “তাড়াতাড়ি ডাক্তার আন” যাহ যাহ” মৃদু রাগ দেখিয়ে নিধি বিথী কে বলে,,
__ বলদি নিলু রে সাথে নিয়ে যাহহ, তাড়াতাড়ি কর দৌড়া।
বিথী কি বুঝলো এটি অজানা, ছাগলের যে অবস্থা খারাপ এটাই জান্তা কারণ, ডাক্তার আনতে হবে এটাই মেইন পয়েন্ট।সে কারণেই বিথী আর কিছু না ভেবে নিলুর হাত ধরে সুরু লম্বা ঘাসে ভরা রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে লাগলো।
এদিকে ফুলি ডাক্তার আনার কথা বলে নিজেই পড়লো মস্ত বিপাকে ,অসল কথা হচ্ছে ফুলির জানাই নেই সে করবে কি ? নিজের ইমেজ বাঁচাতে হবে এইটুকুই জানা।
ইতি ছাগলের পেটে হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতে লাগলো,ছাগলটি সমানে মেএএএ করেই যাচ্ছে।ইতির হাতের স্পর্শে একটু হলেও যন্ত্রণা পরিত্রাণ পেলো বোধহয়, ছাগল তার পুরো শরীরটা নুইয়ে দিলো মাটিতে, যন্ত্রণা মৃদু গোঙানির আওয়াজটা বড্ডো কানে লাগছে নিধি। বুকের ভিতরটা কেমন যেনো ছ্যাত ছ্যাত করে উঠছে।
বিথী ছুটে যাচ্ছে চারিদিকে সবুজে ভরা মধ্যে ছোট রাস্তাটা দিয়ে, মাঝে মাঝে ওড়নাটা উড়ছে বলে ঠিকঠাক করে নিচ্ছে।ওড়না টা বড্ড জ্বালাসচ্ছে বিথী কে,এতে বেশ বিরক্ত হলো বিথি,দৌড়ানো অবস্থাতেই ওড়নাটা গলা দিয়ে পেঁচিয়ে নিলো। বিথীর দৌড়ের সাথে নিলু কিছু তেই পারছে না কতবার যে বাচ্চা মেয়েটা পড়ে যেতে ধরলো তার হুদিস নেই।
ধান ক্ষেতের সরু মাল্লিতে ঘাস কাটছে ভ্যাবলা ভাই,তখনি তার চোখ গেলো দৌড়ানো বিথীর পানে। কাস্তে আর ঘাসের বস্তাটা একপাশে রেখে মাল্লি থেকে উঠে দাড়ালো। চোখে মুখে হাসির ঝিলিক উপচে পড়লো বিথীকে দেখে। ভ্যাবলা ভাই বিথীর আসা রাস্তার দিকে দৌড়ে গেলো।দৌড়ানো বিথী সামনে গিয়ে দাড় হলো ভ্যাবলা। বিথীর দৌড় থেমে গেল ভ্যাবলা ভাইকে দেখে, হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে লাগলো,নিলু ও হাঁফাতে লাগলো, নিলু যেনো এমন এলোমেলো দৌড় থেকে নিস্তার পেল। বিথী হাঁফাতে হাঁফাতেই ভ্যাবলা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাত ইশারা করে বোঝালো ও মুখেও বললো,,
__ ভ্যাবলা ভাই তুমি? এখানে?
ভ্যাবলা ভাই বোবা,কানেও শুনে না,তাকে একবার দেখলেই সবাই বলবে এই আসলেই ভ্যাবলা,দেখতেই ভ্যাবলা টাইপের,সরল সোজা মন,বয়স হবে ৩৪/৩৫ হবে,তা বোঝা বড় দ্বায়,ভ্যাবলা ভাই অনেক শক্তিশালী,কোন কুস্তিগীরির থেকে কম কিছু না, গ্রামে প্রত্যেক বছর কুস্তি খেলায় ভ্যাবলা ভাই প্রথম হয়,এ নিয়ে গ্রামে সে কি হইহুল্লোড় হয়। গ্রামের যত জোরের কাজ আছে সব ভ্যাবলা ভাই করে।ইতি, বিথী, নীধির তো এক নাম্বার পালোয়ান ভাই ভ্যাবলা ভাই, তেমনি ভ্যাবলা ভাইয়ের ও অনেক পছন্দ এই তিন তরঙ্গদের। অনেক কর্মট একজন মানুষ ভ্যাবলা ভাই। দেখতে উজ্জ্বল শ্যামলা কিন্তু লাল রোদে মুখটা কালচে লাল হয়ে আছে।গায়ে হাতা কাটা ঢিলেঢালা গেঞ্জি পড়েছে তাতে পেশি গুলো ফুলে উঠেছে। ভ্যাবলা ভাই এমন হাতা কাঁটা গেঞ্জিই পড়ে।ওসব শার্ট পড়লে নিমেষেই ছিঁড়ে টিরে যাবে,তাই এসব পড়া।
মুখ দিয়ে মৃদু কথার আওয়াজ ও দুই হাত দিয়ে কথার অঙ্গ ভঙ্গি বের করে বিথীকে ইশারায় ভ্যাবলা ভাই বোঝালো,,,
__ কবে আইছো বিথী?আর ওরা কই?
বিথীর বুঝতে কোন সমস্যা হলো না,সেও হাত ইশারা করে বললো,,
__ কাল আসছি?ওরা ওইদিকে আছে? এখন আমার সাথে চলো?কাজ আছে।
ভ্যাবলা ভাই হাত দিয়ে ইশারায় বোঝালো,,
__ কি কাজ?
__ ডাক্তারের কাছে জাবো?
ভ্যাবলা আকাশ পানে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো, হাতে ইশারায় বোঝালো,,,
__ ডাক্তারের কাছে কেন জাইবা, নিশ্চয়ই কোন ফন্দি আটছো?
বিথী ইশারায় বোঝালো,,
__ চলো তো?
এই বলে বিথী ভ্যাবলা ভাইয়ের হাত ধরে টানতে লাগলো, ভ্যাবলা ভাই কি বুঝলো তা বোঝা বাহুল্য,হো হো জোরে জোরে হাসতে হাসতে বিথী সাথে দৌড়াতে লাগলো,বোবা মৃদু আওয়াজ বের হচ্ছে মুখ দিয়ে।
গ্রামের হাসপাতালটি গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এটি একটি একতলা পাকা ভবন। হাসপাতালটির চারপাশে সবুজ গাছপালা এবং ফুলের বাগান রয়েছে, যা পরিবেশকে মনোরম করে তুলেছে। ভবনের সামনে একটি ছোট মাঠ আছে যেখানে রোগীদের আত্মীয়রা বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। বিথী,নিলু, ভ্যাবলা ভাই গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক উপস্থিত হলো।এই ক্লিনিকে অনেক ভালো সেবা প্রদান করা হয়, কিন্তু বিথীর এখানে আসার কারণ কি??
হাসপাতালে একজন ডাক্তার, একজন নার্স এবং কয়েকজন সহকারী কর্মচারী এরা নিজ কাজে নিয়োজিত। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভ্যাবলা ভাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে বিথীর দিকে মুলত বোঝার চেষ্টা করছে। বিথী কোন এখানে এসেছে। বিথী এখনো হাঁফাচ্ছে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে সেগুলো ওড়না দিয়ে মুছে নিলো বিথী। ভ্যাবলা ভাই বিথীর বাহুতে আঙ্গুলের টোকা দিলো। বিথী তাকলো ভ্যাবলা ভাইয়ের দিকে, ভ্যাবলা ভাই হাতে ইশারায় বোঝালো,,
__ কেন এখানে আইছো বিথী?
বিথী হাত ইশারা করে বলে,,,
__ কাজ আছে,আসো আমার সাথে?
বিথী কমিউনিটি ক্লিনিক এর ভিতরে প্রবেশ করল
গ্রামের হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ,বেশ সাজানো গোজানো এই ছোট ক্লিনিক টি। মূল দরজার সামনে গিয়ে বিথী দাঁড়াল ডাক্তার কক্ষ খুঁজতে লাগলো।
অনেক রোগীরা চেয়ারে বসে ডাক্তার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছে ।দেয়ালে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা পোস্টার ও সচেতনতামূলক বার্তা টাঙানো থাকে।
ডান পাশে আছে ডাক্তারদের কক্ষ, দেখতে পোলো। তাও শিওর হওয়ার জন্য একজন সেবিকাকে তড়িঘড়ি করে বিথী বলে,,,
__ ডাক্তার বাবু কোথায়?
সেবিকা টি আঙ্গুলের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন,,
__ এই বাম কক্ষে যান।
বিথী দ্রুত বেগে সেদিন গেলো, বিথীর জানা নেই যে প্রাণীর ডাক্তার আলাদা ও মানুষের ডাক্তার আলাদা, শুনেছিল হয়তো কিন্তু এখন মনে নেই।তার মতে ডাক্তার তো ডাক্তারই মানুষ প্রাণী সব সমান।
বিথী ডাক্তারে কক্ষ দরজার কাছে এসে দরজা খুলতে লাগলো কিন্তু খুলতে পেলো না।আরো বিরক্তি ধরে গেল,আর কিছু না ভেবে ভ্যাবলা ভাইকে হাতের ইশারায় বোঝালো,,
__ ভ্যাবলা ভাই দরজা ভেঙ্গে ফেলো।
ভ্যাবলা ভাই বড় বড় চোখ করলো, তৎক্ষণাৎ আবার চোখ ছোট করে নিলো, বিথী যখন বলেছে তারমানে এই দরজা ভাঙ্গতেই হবে। ভ্যাবলা ভাই বাহু দিয়ে দরজায় ধাক্কা মারলো, প্রথম ধাক্কাতে কিছুই হলো না কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কাতে দরজা ভাঙ্গে নি কিন্তু খুলে গেল, হুড়মুড় করে প্রবেশ করলো ভ্যাবলা ভাই,একটুর জন্য উপুড় হয়ে পরলো না।
ভ্যাবলা ভাইয়ের কোমড় কুজু হয়ে আছে সে কারণেই উপুড় হয়ে পড়লো না,মাথাটা তুলতে যাবে সেসময়ই ভ্যাবলা ভাইয়ের চোখে সামনে প্যান্ট চেন খোলা উন্মুক্ত দৃশ্য,হা হয়ে তা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো ভ্যাবলা ভাই, ভ্যাবলা ভাইয়ের মনে হলো হয়তো কোন মূর্তি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে যার প্যান্টের চেন খোলা সাথে বেল্ট ও।
ভ্যাবলা ভাইয়ের ভীতু মনে অনেক প্রশ্ন জাগলো, সেভাবেই রয়ে সহে কিছু একটা ভেবে ভ্যাবলা ভাই নিজেই প্যান্টের চেনটা লাগিয়ে দিলো।তারপর মুখটা ভেংচি কেটে উপরে উঠতে লাগলো। উপরে উঠতে এক জল জ্যান্ত মানুষ রক্ত লাল চোখ দেখতে পেলো ভ্যাবলা ভাই। ভ্যাবলা ভাইয়ের বুঝতে সময় লাগলো না যে এটা ডাক্তার বাবু।ওমনি ভ্যাবলা ভাইয়ের মুখ বিকট হা করে রইলো,যাকে বলে অবাকের চরম পর্যায়ে ভ্যাবলা ভাই।
ডাক্তার মুলত দরজা লাগিয়ে প্যান্ট ঠিক করছিল,ঠিক সেই সময় বিথী,নিলু,আর ভ্যাবলা ভাইয়ের আগমন, প্যান্টের কাজ কই আর সু সম্পন্ন করতে পারলো তাতেই তো ভ্যাবলা ভাই নিজেই ওনার কাজখানা করে দিলো,সে যাই হোক,তবে ডাক্তার কিন্তু প্রচুর রেগে আছে।তার মতে তার প্যান্টের চেন ভ্যাবলা লাগিয়ে দেওয়াতে একদমই পছন্দ হয় নি। নিজের রাগ যথাসম্ভব সংযত রাখলেন ডাক্তার। রেগে গেলে চলবে না।
আজই নতুন এসেছে এই ক্লিনিকে সব কেমন চলছে না চলছে তা পর্যবেক্ষণ করতে। এমবিবিএস করেছেন ঢাকা থেকে,এখন ছোট ছোট সব হাসপাতালে, ক্লিনিক ক্যাম্পে নিজে দক্ষতা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসা জগতে নতুন হলেও অনেক দক্ষ। আজকে এখানে ক্যাম্প করে ঢাকায় যাবেন তিনি।
ডাক্তারের কক্ষটিতে, চেয়ার, প্রেসক্রিপশন প্যাড এবং রোগী দেখার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন স্টেথোস্কোপ, রক্তচাপ মাপার মেশিন ইত্যাদি সব আছে।
বিথী ডাক্তারে কাছে এসে রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__ রুমের দরজা লক করে কি পিরিতি করছিলেন?
ডাক্তারের কাছে বিথী স্বাভাবিক মনে হলো না, কিন্তু ভালো লাগলো,ডাক্তার যথেষ্ট হ্যান্ডসাম প্রেম পিরিতি মোটেও করে না,তার মতে বিথীর মতো এত সুন্দরী কন্যা এত আগুন হয়ে আছে কেন?কেন? ডাক্তার আমতা আমতা করে বলে,,,
__ আমার প্যান্টে একটু সমস্যা হয়েছিল, অবশ্যই এটা আমার পার্সোনাল কাজ তাই দরজা লক করেই করতে হবে,তাই না।
__ রাখেন আপনার কাজ?এখন চলেন তাড়াতাড়ি?
বিথী বেশ রাগি মনে হলো ডাক্তারের, কিন্তু রাগটা বেশ ভালোই লাগলো ডাক্তারের,,
__ কোথায় যাবো মিস রাগি চন্ডি?
__ বাচ্চা প্রসব করাতে হবে?
__ রাগি চন্ডি আমি তো বাচ্চা প্রসব করি না।
বিথী এবার সত্যিই রাগে মাথা ফেটে যেতে লাগলো ইচ্ছা তো করলো ডাক্তার মাথা ফাটিয়ে খান খান করে দিতে,অযাথাই রাগ হলো দু হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।
__ বালদের ডাক্তার হইছেন?
বলদ বলাতে ডাক্তার বেশ চিন্তিত হলো,,
__ বলদের কি চিকিৎসার হয় আদৌও?
পাশ থেকে নিলু বেশ ভাব ভঙ্গি নিয়ে বলে,,,
__ বলদ ডাক্তার।
বলেই মুখে হাত চেপে হাসছে থাকে নিলু, ভ্যাবলা ভাই হা হয়ে দেখতে থাকে, বিথী ও ডাক্তার কথার কোন মানেই বুঝছে না সে।
বিথী বলে,,
__ উফ ডাক্তার বাবু সময় নেই চলুন তো?
__ কিন্তু..
__ কোন কিন্তু নয়, চলুন?
ডাক্তার বুকে উপর দুহাত গুজে কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর বললো,,
__ আচ্ছা কোথায় আর কতদুর যেতে হবে?
বিথী বলে,,,
__ এই তো সামনের মাঠেই?
মাঠের কথা শুনে ডাক্তারের চোখ বড় বড় হয়ে গেল,মাঠে কোন মহিলার প্রসব হবে?এ কেমন কথা?হতেও পারে?পেইন কখন কোথা উঠবে তা তো বলা বাহুল্য? একনাগাড়ে এসব ভাবলো ডাক্তার।আবার কিছুক্ষণ ভেবে বললো,,,
__ ওনার অবস্থা এখন কেমন?
বিথী হেব্বি রাগ হচ্ছে,যা বলার মতো না,রাগে দাঁত আপনা আপনি কটমট করছে ধৈর্য তো নেই বললেই চলে,,,
__ যন্ত্রণায় হাত পা ছুড়া ছুড়ি করছে, আমার বোন ওর পা ধরে রেখেছে যাতে নড়াচড়া না করে?
ডাক্তার এবার ভ্রম কেটে গেলো,মাথা আউলায় গেলো,কি বলছে এসব? মহিলা পা ধরে রেখেছে মানে,? গ্রামের তো নরমালে খুব ভালো ভাবে প্রসব করানো হয়?বেশ ভালো অভিজ্ঞ মহিলা করে থাকে?তবে এই মেয়ে বলছে কি?এসব মনে মনে ভ বলো ডাক্তার। বিথী রাগে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,,,
__ বাল? আরে ওই ডাক্তার বাবু?মাথা, মেজাজ কিন্তু তুঙ্গে উঠেছে বলে দিলাম?
ডাক্তার কৌতুহলী হয়ে বলল,,
__ রাগি চন্ডি একটু কষ্ট করে যদি বলতে,কার ডেলিভারি হবে?
বিথীর রাগে মাএা বেড়ে গেল এত উওর দিতে দিতে বিরক্ত ধরে গেছে।নিলু বিথীর দিকে তাকালো অতঃপর আবার ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বললো,,
__ ওই যে আমাগো ওদিকে সুন্দরী ছাগলটা আছে না ওটাই? মেলা সুন্দর দেখতে, মেলা ফর্সা ও।ওর বাচ্চা ও হবে সোন্দর সোন্দর। চলেন ডাক্তার সাহেব?
নিলুর কথা শুনে ডাক্তারের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,মাথা চক্কর দিতে শুরু করলো দু পা পিছিয়ে গিয়ে বেডের সাথে ধাক্কা লাগলো।এ কি বললো? শেষে কিনা এমবিবিএস করা ডাক্তার ছাগলের প্রসব করাবে,ছি ছি? এমবিবিএস করা ডাক্তারের মানসম্মান শেষ।না এ কাজ কিছুতেই করবে না ডাক্তার।মনে মনে ভেবে স্থির সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,,
__ রাগি চন্ডি আপনার ভুল হচ্ছে কোথাও?আমিতো প্রাণীর ডাক্তার না,আমি এমবিবিএস করা বড় ডাক্তার, আমি একজন কার্ডিওলজি।ভুল জায়গায় এসেছেন আপনারা?
বিথী বলে,,
__ ডাক্তার তো ডাক্তারই মানুষ প্রাণী সবরোই সেবা করা তাদের দায়িত্ব, ওদিক ছাগলের অবস্থা খুব খারাপ,এখন কোন প্রাণীর ডাক্তার খুঁজতে পাবো না। আপনাকে পেয়েছি মানে আপনাকেই যেতে হবে,ব্যাস?আর একটাও কথা না।
ডাক্তারের হাঁসি মুখখানা চুপছে গেল, গম্ভীর মুখে শুধালো,,,
__ আমি যেতে পাবো না, ব্যাস?
__ যেতে হবেই হবে?
ডাক্তার অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে,,
__ যাবো না,?
বিথী কোমরে এক দিয়ে ও অন্য হাতে মধ্যেআঙ্গুলি ঝাঁকিয়ে বলে,,,
__ ভালোই ভালোই বলছি চলেন?নইলে পরে কিন্তু খুব খারাপ হবে বলে দিলাম,এই আমি টা সম্মধ্য আপনার কিন্তু কোন ধারনা নেই?
এমন কথায় ডাক্তারের বেশ ভয় লাগলো বিথীকে, কিন্তু ডাক্তার ও দমে যাওয়ার পাএ না, ডাক্তার মানসম্মান কিছুতে ডুবাবে না না না,এতে যা হবার হোক।তাই ডাক্তারের নিরেঢ় জবাব,,
__ আপনি যা ইচ্ছা করেন,আমি যাবো না মানে যাবো না?আমি একজন মানসম্মত ডাক্তার, আমার সম্মান আছে,আমাকে দেখে কি আ আপনার পশুর ডাক্তার মনে হয় নাকি?আজব?
বিথী ও রাগে ডাক্তারের দিকে তেড়ে যেতে ধরলো, ডাক্তার যাতে ভয় পায় তাই ব্যঙ্গ করে বলল,,
__ নিলু ছাড় আমাকে ছাড় বলছি?এই ডাক্তারের আজ মাথা ফাটাবো?
নিলু ফ্যালফ্যাল করে বিথীর দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ আপা আমি তুমারে ধরি নাই তো,এই দেহো আমার হাত?ধরি নাই তোমায়।
এবার বিথী নিলুর উপর রাগ হলো,চোখ বন্ধ করে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,
__ কুত্তি হাতটা ধর তবে?
তড়িৎ বেগে নিলু বিথী হাতটা ধরে নিলো,,,
__ আপা ধইরা লইছি, আস্তে গায়ের জোর দেখাইবা,নইলে পড়ে তোমার হাত ঝারানোর সময় আমি সহ উইড়া জামু ডাক্তার সাহেব কাছে।
বিথী মুচকি হেসে বলে,,
__ আচ্ছা।
ডাক্তারের প্রচুর হাসি পেল কিন্তু হাসলো না। মানসম্মান বাঁচানোর ভয়ে বেচারা নেতিয়ে পড়েছে, বিথী বুঝলো এই ডাক্তারের সাথে কথায় পেরে ওঠবে না।তাই এবার ভ্যাবলা ভাইয়ের দিকে তাকালো, ভ্যাবলা ভাই তো বিথীর দিকেই তাকিয়ে ছিল,মুলত বোঝার চেষ্টা করছে কি বলছে বিথী?। বিথী এক গাল হাঁসি দিয়ে ভ্যাবলা ভাইকে হাতে ইশারা করে বললো,,,
__ ডাক্তার বাবু কাঁধে তুলে নাও?
ভ্যাবলা ভাই এক কথার মানুষ, বিথী বলেছে মানে নিশ্চয়ই কোন না কোন কারণ আছেই।তাই ভ্যাবলা ভাই আর কিছু না বলে, বিথী কথামতো ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো, ডাক্তারের তো প্রথম থেকেই এই দানব শরীরটাকে খুব ভয়ংকর লাগছিল,এই দানব শরীর ডাক্তারকে একটা টোকা দিলে ডাক্তারের কেল্লা এখানেই খতম। ডাক্তার শুকনো ঢোঁক গিলে ভ্যাবলা ভাইয়ের দিকে তাকালো। ভ্যাবলা ভাই জোরে জোরে হাঁসি দিয়ে ডাক্তারকে কাঁধে তুলে নিলো।
ডাক্তার ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত পা ছুড়া ছুড়ি করতে লাগলো, কিন্তু এক চুল পরিমান ও নিস্তার পেল না। বিথী বেশ ভাব নিয়ে ক্লিনিকের বাইরে যেতে লাগলো তার পিছনে ভ্যাবলা ভাই। ক্লিনিক ভেতরে নার্সের হা হয়ে দেখছে,কেউ আগানোর সাহস পাচ্ছে না,ওই যে কারণ একটাই ভ্যাবলা পালোয়ান ভাই। ডাক্তার তো নার্স নার্স বলে সমানে চিৎকার করছে।
পাশেই কয়েকটি বেডে রয়েছে অসুস্থ রোগী তারা বেড থেকে উঠে উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখছে হা হয়ে।
ডাক্তার একসময় নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় হাঁপিয়ে উঠেলো,তাই আর বৃথা চেষ্টা করলো, ভ্যাবলা ভাই তো বিথীর পিছনে পিছনে একপ্রকার ছুটেই চলছে,যেন এক মিনিট ও লেট হলে কি না হয়ে যাবে তা বলা বাহুল্য।
ইতি,নিধি এখনো ছাগলের পা ধরে বসে আছে,ফুলি তো ছাগলকে দেখেই যাচ্ছে,ইতি বারবার রাস্তার পানে তাকাচ্ছে আর নিধিকে বলছে,,
__ বিথী এখনো নেই কেন যে?কোন ঝামেলা টামেলা হলো না তো?
নিধি বলে,,
__ ওরং সাথে ঝামেলা করার সাহস আছে নাকি কারো?
নিধি এবার ফুলির দিকে তাকিয়ে তার মাথায় টালা দিয়ে রেগে বলে,,
__ এই যে আর একজন তখন থেকে ছাগলের দেখতেছে,কি দেখতেছে তা আল্লাহ মাবুদ জানে?ওরে ছাগলের অবস্থা দেখ ,একটু আগে তো ভালোই মেএএএএ মেএএএএ করছিলো এখন তো তাও করছে না, শুধু জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
ফুলি মুখ কুঁচকে বলে,,,
__ ওহ হো আপা,আমারে দেখতে দাও। তুমি ওসব বুঝবে না।
ইতি, নিধি আর কিছু বললো,নিলু দৌড়ে আসতে আসতে বলছে,,,
__ আপা আমরা ডাক্তার সাহেবরে নিয়া চইলা আইছি।
ইতি,নিধি হা হয়ে দেখে ভ্যাবলা ভাই কাঁধে করে ডাক্তার বাবু কে নিয়ে আসতে, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফটাচ্ছে, যদিও পারছে না।
ভ্যাবলা ভাই ইতি,নিধির সামনে এসে ডাক্তারকে ধুপ করে ফেলে দেয়,ইতি হকচকিয়ে ভ্যাবলা ভাইকে ইশারায় বলে,,,
__ এভাবে ফেলে দিলে কেন?ব্যাথা পাবে তো?
ভ্যাবলা ভাই ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে আবার ডাক্তারকে নিজের কাঁধে তুলে, এবার সুন্দর করে কাঁধ থেকে নামিয়ে দিলো ঘাসে,এবার আর একটু ব্যাথা পায় না ডাক্তার, কিন্তু শক্তপোক্ত হাতে ওটা নামায় ডাক্তার কোমরে বেশ ব্যাথা পেয়েছে।এবার নিধি ভ্যাবলা ভাইকে হাত ইশারা করে বলে,,,,
__ সরি বলো?
ভ্যাবলা ভাই আবার ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে ডাক্তারের পিটে হাত দিয়ে নাড়িয়ে দেয় ওতেই সরি বলা হয়ে গেছে।
ডাক্তার অনেক ক্রুদ্ধ হয়ে বলে,,,
__ আ আমি আপনাদের সবার নামে মামলা করবো?
ইতি বলে,,,
__ ও না হয় পড়ে করিয়েন এখন ছাগলকে দেখুন কি করতে হবে তাই করুন,টাকা নিয়ে চিন্তা করবেন না, দুই টাকা দিবো যান এক টাকা বাড়িয়ে দিলাম।আমার আবার অনেক টাকা,ওতো কিপ্টা আমি না, কিন্তু তিনটাকার বেশি এক টাকা ও দিবো না।
ইতির কথায় উপস্থিত থাকা সবাই হো হো করে জোরে হাসতে থাকে,সবার হাসি দেখে অযাথা ভ্যাবলা ভাই ও হাসলো,হাসলো না শুধু ডাক্তার।
ডাক্তার কোমরে হাত দিয়ে রাগি কন্ঠে বলে,,,
__ কতবার বলবো আমি পশুর ডাক্তার না মানুষের ডাক্তার,আমি একজন কার্ডিওলজি আর এই গ্রামে প্রথম এসেছি,কার কি সমস্যা তা চেকাপ করতে।
নিধি বলে,,,
__একদম বেশি কথা বলবেন না। ছাগলের বাচ্চা হচ্ছে না কেন তাই দেখুন?
বিথী বলে,,,
__ এই ডাক্তারের সাথে কথা বলে কাজ নাই,?
বিথী ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ কি ডাক্তার বাবু এই যে আমার পালোয়ান ভাইরে দেখছেন তাকে কুস্তি গিরি দেখাতে বলি কি বলেন?
ডাক্তার বুঝলো যে ভ্যাবলা ভাইয়ের কথা বলছে,এবার যদি ভ্যাবলা ভাই ডাক্তারকে ধরে তবে নিশ্চিত মেরেই ফেলবে, ডাক্তার ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে রইল।কি করবে বুঝতে পারছে না? বিথী দমক স্বরে বললো,,
__ কেমন ডাক্তার আপনি? চোখের সামনে এক প্রাণির খারাপ অবস্থা দেখছেন তাও চুপচাপ বসে আছেন,ছি ধিক্কার জানানো উচিত আপনাদের মতো ডাক্তারদের।
ইতি ও বলে,,
__ ছি ডাক্তার ছি?
ডাক্তার অসহায় হয়ে বসে রইল, ইচ্ছা করছে জোরে জোরে কান্না করতে, কিন্তু পাচ্ছে আর কই? এমবিবিএস করা ডাক্তারকে কিভাবে পশুর ডাক্তার মনে করছে এরা ,এটাই ডাক্তারের মাথায় ঢুকছে না। ডাক্তার ছাগলের দিকে তাকালো,একটু একটু মায়া ও হলো,আবার বিথীর দিকে ও তাকালো, বিথী ঘামান্ত মুখখান ডাক্তার বেশ মনে ধরেছে?রাগি চন্ডিকে তার প্রথম দেখায় বেশ লেগেছে,এটাকে কি লাভ এট ফাস্ট সাইড বলে।জানা নেই ডাক্তারের। সবার দিকে একবার করে তাকালো ডাক্তার, ভ্যাবলার দিকে তাকাতেই ভয়ে কেঁপে উঠল ডাক্তার মনে মনে ভাবলো,,
__ এই দানব শরীর নিয়ে থাকে কিভাবে?
ডাক্তার আর কিছু না ভেবে, ডাক্তারি এপ্রোন থেকে স্যার্জিক্যাল মাস্ক বের করে মুখে পড়লেন, পরক্ষণে দুটো হ্যান্ড গোল্সফ পরিধান করলেন।তারপর ক্রুদ্ধ কন্ঠে সবাই কে বলে,,
__ সরে যাও সবাই?
সবাই সরে গেলো,ইতি, বিথী নীধি সুক্ষ্ম চোখে দেখতে লাগলো ডাক্তারের কার্যকলাপ।
ডাক্তার কে কিছুই করতে হলো না কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাগলের বাচ্চার মাথা বের হতে লাগলো,তা টেনে বের করলেন ডাক্তার, পরক্ষণ আবারো একটা ছাগলের বাচ্চা হলো সেটাকেও টেনে বের করলো ডাক্তার।
একটা ছেলে ছাগল মানে খাসি অন্যটা মেয়ে ছাগল অর্থ্যাৎ হাইলোন ছাগল হলো, উপস্থিত থাকা সবাই হৈচৈয়ে মেতে উঠলো,ফুলি বাচ্চা ছাগল গুলো মুখে ফু দিয়ে শ্বাস দিলো, এদিকে ডাক্তার বমি হয় হয় এমন এটা অবস্থা,তাও কোন রকমের নিজেকে সংযত রাখলো, তড়িৎ বেগে ছাগলের পাশ থেকে উঠে হাতে গ্লোভস খুলে ও মাস্ক খুলে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।তখনি ইতি এসে ডাক্তারের দিকে তিন টাকা দিয়ে বলে,,,
__ এই যে নিন আপনার পারিশ্রমিক।
ডাক্তার টাকা গুলো নিয়ে দুই টাকার নোট টা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলে,,
__ ভাবছি এই টাকা দিয়ে দশ তালা বাড়ি দিবো?
এ কথা শুনে ডাক্তারের হাত থেকে টাকা গুলো আবার নিয়ে নিলো ইতি ও মুখ কুঁচকে বললো,,,
__ তাহলে কোন টাকা দিবো না,আমি চাই না আমার টাকা দিয়ে কেউ বড়লোক হোক।
ইতির কথা শুনে ডাক্তার তাজ্জব বনে চলে গেল, হঠাৎ বিথী ডাক্তারে সামনে এসে কি যেনো ভেবে জোরে জোরে হাসতে শুরু করে দিলো,ব্যাস হাসতেই থাকলো হাসির থামার নামই নিচ্ছে না, হাঁসিতে পুরু শরীর নেতিয়ে পড়ছে,এই পড়ে পড়ে অবস্থা,।
বিথী এই হুটহাট হাঁসি এমন পর্যায়ে গেল যে নিজের শরীরের হাঁসির বেগ সামলে উঠতে না পেরে ডাক্তারের গাঁয়ে ঢলে পড়ে যেতে লাগলো,আর একটু হলেই ডাক্তার গায়ে পড়ে এই বুঝি, নূন্যতম দূরত্ব রেখে হঠাৎ দুটো হাত ঝাঁকিয়ে তুলে বিথীকে ডাক্তারের শরীরে পড়া থেকে বিরত রাখলো।দির্শক বিথীকে নিজের পিটের দিকে রাখলো,দির্শক আগুন ক্রুদ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল ডাক্তারের পানে, বিথী এখনো দাড় হয়েই দির্শকের পিটে কপাল রেখে হেঁসেই যাচ্ছে,। ডাক্তার হাত দুটো বিথীকে ধরার জন্য প্রস্তুতই ছিলো, কিন্তু তার আগে দির্শক বিথী কে ঘুরিয়ে নিলো।দির্শকের এমন আগুন চোখের কারণ বুঝলো না ডাক্তার। বিথীর এক হাত দির্শক শক্ত করে চেপে রেখেছে, হাতে ব্যাথা লাগতে হাঁসি থেমে গেল বিথীর,ঘটনাটি বুঝতেও বেশি একটা সময় লাগলো না । বিথী দির্শক দিকে এসে বললো,,
__ স্যার হাতে লাগছে ছাড়ুন?
দির্শকের নিরেট কথা,,
__ লাগার জন্যই ধরছি?
ব্যাথায় মুখ কুঁচকে নিলো বিথী।
এবার সেখানে উপস্থিত হলো আলবান ইতির মাথা জোরে একটা টালা বসালো, ইতির পুরো শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠলো,মাথাটা ভনভন করে উঠলো,রাগ হয়ে আলবানের দিকে তাকিয়ে বললো,,,
__ কি সমস্যা কি?
আলবান ও ক্রুদ্ধ কন্ঠে বললো,,,
__ কি করছিস এসব ধারনা আছে কিছু?
__ কি করেছি?
__ ছি তোর সাথে কথা বলে লাভ নেই?
__ বলতে আসেন কেন তবে??
__ এটাই আমার ভুল?
আলবান এবার হাসলো জোরেই হাসলো,হাসতে হাসতেই বললো,,,
__ শেষে কিনা এমবিবিএস করা ডাক্তার কে দিবে ছাগলের প্রসব করালি?তোরা পরিস ও ?
এই বলে পেটে হাত দিয়ে আলবান হাসতে লাগলো।ইতি শীতল চাহনিতে সেই হাসি পর্যবেক্ষণ করলো,আলবানেল হাসিই দেখলো সে? সত্যিই দেখলো?কি অপরুপ হাঁসি?তবে হাসে না কেন লোকটা?মনে মনে বিরবির করে বললো,,,
__ না হাসাই ভালো,এই হাঁসি দেখলে না জানি কত মেয়ে আলবান ভাইয়ের প্রতি ক্রাশ খেতো?
এই বলে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো ইতি,দেখলো কোন অচেনা মেয়ে টেয়ে আলবান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে কি না,নাহ নেই।
আলবান ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলে,,,
__ ডক্টর এক্সটেমলি সরি, ওদের আসলে জানা নেই পশুর ডাক্তার আলাদা? ক্ষমা করবেন?
ডাক্তার মুচকি হেসে বললো,,,
__ সরি প্রয়োজন নেই, কিন্তু হ্যাঁ আমার প্রথম এক্সপেরিমেন্টটা ছাগল ডেলিভারি করে হলো।
বলেই ডাক্তার জোরে জোরে হাসতে লাগলো।
বিথীর দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ সুন্দরী রাগি চন্ডির সাথেও দেখা হয়ে ভালো?
নিমিষেই রাগে চোখ বন্ধ করে নিলো দির্শক বিথী হাত আরো জোরে চেপে ধরলো, বিথী এবার কঁকিয়ে আহ.. শব্দ করলো,তা দেখে ডাক্তার বললো,,,
__ আপনি ওর হাত ওভাবে চেপে ধরে আছেন কেন?
দির্শক চোখ খুলল প্রচুর পরিমাণে চোখ জোরা লাল হয়ে আছে, চোখে লাল লাল শিরা গুলো দেখা যাচ্ছে। ইচ্ছা তো করছে ডাক্তারের গলা চিপে ধরতে, কিন্তু তাও নিজেকে সংযত রাখলো।ডাক্তার দেখলো দির্শকের সেই লাল চোখ,লাল চোখের মানেটা আজানা রইলো ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ইতি দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,,,
__ এর পর থেকে কোন ডাক্তারকে চিকিৎসার জন্য ডেকে আনলে,আরো কম পরিমাণে টাকা দিবেন, কেমন?।
এবার বিথীর দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ বিদায় সুন্দরী রাগি চন্ডি?
এই পর্যায়ে দির্শকের রাগে মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু কিছু করতে পাবে না কারণ এখানে আলবান সহ সবাই উপস্থিত আছে,
দির্শকের মাএাতিক্ত রাগ যে বিথী হাতে উপর উশুল হচ্ছে তা বুঝতে বাকি রইল না।
এই বলে ডাক্তার চলে যায়।তখনি বিথীর হাত দীর্শক ছেড়ে দেয়,লাল চোখে বিথী দিকে তাকায়, বিথীর চোখ পানি টুইটম্বুর, কিন্তু প্রচুর পরিমাণে রাগ ও উপছে পড়ছে,বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে দির্শকের পানে, তেজি কন্ঠে ডেভিল হাসি দিয়ে বিথী বলে,,,
__ হিসেব তোলা রইল স্যার?
__ যার তার গায়ে ঢোলে পড়াটা কি অসভ্যতামি,নাকি কোন ভালো মেয়ের পরিচয়?
__ বিথী কারো ঢলে পড়ে, হাস্যকর লাঞ্ছনা দিলেন স্যার।
__ পড়তেই তো যাচ্ছিলে??
__ সেই তো ডাক্তারের জায়গায় আপনি আমাকে ধরলেন, ডাক্তার যদি যে সে লোক হয় তবে আপনিও নিশ্চয়ই বৈধতা নন।
এই বলে বিথী সেখান থেকে চলে যায়।দির্শক ফোজ করে নিঃশ্বাস ছাড়তে শুরু করলো,অনবরত মাথায় চুলগুলো টানতে লাগলো। আজকাল প্রচুর রাগ হয় বিথী উপর, বিথীর এমন কথা সহ্যা সীমানার বাইরে চলে যায়, নিজের মনকেই বোঝে না দির্শক কি চায়?কি বলে?না কিচ্ছু জানে না।
ইতি,নিধি, বিথী ছাগলের বাচ্চা গুলো নাম দিলো,বেশ মজা হইহুল্লোড় ও করলো।দির্শক আলবান একসাথে দাঁড়িয়ে তা দেখতে লাগলো।দির্শক আলবানকে বললো,,,
__ যেখানে কারো জীবন বিষাদ বেরঙিন হবে, সেখানে এরাই সেগুলো ছুঁয়ে রঙিন করে দিবে,এর খুব মজবুত দৃঢ় বন্ধন, কিন্তু কিভাবে আলবান,ইটস ইমাজেরি?
আলবান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,,
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৪
__ আই ডোন্ট নো, বাট আমার কাছেও তোর মতোই এসব নতুন,আমার কাছে ও এসব ইমাজেরি।
দির্শক কিছুক্ষণ বিথীর হৈচৈয়ে থাকা মুখ পানে শীতল চোখে তাকিয়ে বুকে হাত গুজে আলবানকে বলে,,,
__ নক্ষত্র বোধহয় রাতের আকাশেই মানায়,কারো জীবনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে পারে না?এমন কি উজ্জ্বল করতে পারে না?এটা বোধহয় বিলাসিতা?
আলবান এক ভ্রু উঁচিয়ে দির্শকের পানে তাকিয়ে তার কথাটা কে উপেক্ষা করে বলে,,,
__ চল আর্দ্রের বোধহয় ফ্রেশ হওয়া শেষ,এখন আমরা লাইনে গিয়ে দাড়াই,আমি কিন্তু আগে মনে থাকে যেনো।
দির্শক হাঁসি দিয়ে বলে,,
__ চল।
