তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩৯
রাফিয়া জান্নাত রিফা
শুক্রবার সবার ছুটির দিন। এই সুযোগে তালুকদার বাড়ির বাগানে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করেছে ইতি, বিথী, নীধি, নিঝুম, মুহিন ও পিকি। র্যাকেট, শাটলকক আর নেট সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন। এখন বাকি শুধু সবাইকে খেলায় অংশ নিতে রাজি করানো। ইতি, বিথী ও নীধির ইচ্ছা মা, বাবা, বড়মা, দাদি পরিবারের সবাইকে এই খেলায় টেনে আনা।
সুন্দরের গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আগামীকাল পরীক্ষা থাকায় সে পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। সুহানা, হরলিক্স ও সাহিদা বেগম অবশ্য গ্রামে গেছেন। সুন্দর এখনও তার শালির একমাত্র বোনকে নিয়ে আগের মতোই ব্যস্ত, যদিও নিঝুম এখন আর আগের মতো সুন্দরের ওপর রেগে যায় না। এরই মধ্যে সুন্দরকে দোকানে পাঠানো হয়েছে গরম গরম জিলাপি আনতে তার সঙ্গে রয়েছে পিকি।
সুন্দরের কাছে সবচেয়ে অসহ্যকর বিষয়গুলোর একটি হলো পিকির ওই হেলেদুলে হাঁটার ভঙ্গি। সে নিজে হাঁটছে ঠিকই, কিন্তু অজান্তেই বারবার চোখ চলে যাচ্ছে পিকির দিকে। একটু পরেই সুন্দর খেয়াল করল শুধু সে একাই নয়, রাস্তার আশপাশে চলাফেরা করা অনেক মানুষও কৌতূহলী দৃষ্টিতে পিকির হাঁটা লক্ষ্য করছে। সত্যিই, পিকির হাঁটার ধরনটা একেবারেই আলাদা।
এ দৃশ্য দেখে বিরক্তি আর বিস্ময় মিশিয়ে সুন্দর হাই তুলবার ভঙ্গিতে বলে উঠল,,,
__ পিকি ভাপু।
পিকি অবাক হয়ে বলে,,
__ হোয়াট ভাপু।
__ আমার ক্ষেত্রে ভাই, আপু দুটোই তুমি।
যেমন ধরো , ভাপু+আপু
মনে মনে ধরি,
= আ=পু
=ভা\পু+পু/পু এক জোড়া পু পু কাটা
= ভাপু (উওর)
পিকি ভাবুক হয়ে বলে,,
__ ভাপু উউউ, সুন্দর তো।
খিলখিল হেঁসে সুন্দর বলে,,
__ হ্যাঁ।
সুন্দরের হাঁসি দেখে পিকি ও অবুঝের মতো হাসলো,
হঠাৎ কোথ থেকে এক জোয়ার ছেলে চুল গুলো ব্যাক ব্লাশ করতে করতে পিকির সামনে দাঁড়িয়ে বলে,,
__ হেই দালাও।
ছেলেটির নাম দুল্লু,তোতলায় কথা বলে,সব শব্দে ল ও দ, ত য়ের ব্যবহার থাকবেই ,পাড়ার বখাটে ছেলে তবে মেয়েদের উত্যক্ত করে না, মেয়েদের পিছু নেয় দুল্লু কারণ তারা সাবধানে বাড়ি পৌঁছালো কিনা এজন্য, এভাবে মেয়েদের পিছু নেওয়ায় অনেক জুতোর বারি খেয়েছে সে, কিন্তু তাতে কোন জায় আসেনি দুল্লু, মেয়েদের পিছু নেওয়াকে সে মানবসেবা মনে করে।
পিকিকে অনেক দিন ধরেই দেখছে দুল্লু হেব্বি ভালো লেগেছে পিকিকে, নিয়মিত পিকির পিছু নেয় দুল্লু, পিকি তা জানে না অবশ্য। পিকি লাল লা অধর,ও জোরা ভ্রু, হাঁটার ধরন এসবে বেশি আকৃষ্ট হয়েছে দুল্লু।সুন্দর ভ্রু কুঁচকে দুল্লুর উপর নিচ প্ররখ করে দুল্লুকে বলে,,
__ ভাই তোর প্যান্টের চেনটা তো লাগা, ছিঁড়া জাঙ্গিয়া তার উপর চিচিংফাক।
দুল্লু হকচকিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলো সত্যি তার প্যান্টের চেন খোলা, মনে মনে অসহায় ভঙ্গিতে ভাবুক হয়ে ভাবতে লাগলো দুল্লু ,,
__ সেই সকাল থেকে এভাবেই গার্লস স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম ওই জন্য মেয়ে গুলো আমায় দেখে হাসছিল,ছ্যা ছ্যা এটা কোন কথা।
দুল্লুর ব্যপারটা হলো সে সারা এলাকা, বাজার, স্কুল কলেজ সেই লেভেলের ভাব নিয়ে ঘুরলো ফিরলো, এখনি বুঝতে পেলো সে তো প্যান্টের চেন লাগায় নি,দুল্লু চেন লাগিয়ে পিকির দিকে তাকিয়ে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে দুলে দুলে বলে,,
__ তুমি এতেছিলে পলশু…,তাল কেন আ…সোওওও নি।
এদিকে পিকির বেশ ভাব বেড়ে গেল মুখ বেকাতে লাগলো দুল্লুর কথায়, সুন্দর হা হয়ে দেখতে লাগলো দুল্লু ও পিকিকে, বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে সুন্দর বলল,,
__ তোর নাম কি ?
একটু বিরক্ত হয়ে দুল্লু বলে,,
__ লুল্লু।
__ ওহহ লুল্লু।
__ আলে না লুল্লু, লল্লু।
__ আরে হ্যাঁ লুল্লু।
দুল্লু এবার বেশ বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে বলে,,
__ বলতি তো লুল্লু, ল হুসু কালে লু লয় লয় হসু কালে লু,লুল্লু।
সুন্দর আবাক হয়ে বলে,,
__ আরে হ্যাঁ হ্যাঁ তোর নাম লুল্লু।
বিরক্তিতে ফেটে পড়লো দুল্লু,,
__ আবাল কয় লুল্লু।
সুন্দর হা হয়ে তাকিয়ে রইলো দুল্লুর পানে।
এদিকে দুল্লু কিছুতেই তার নাম সুন্দরকে বোঝাতে না পেরে ওপাশে থাকা তার চ্যালা বন্ধু ফারুককে ডাকলো,,
__ এ ফালুক এদিকে আয়।
ফারুক দুল্লুর পাশে দাঁড়িয়ে বলে,,
__ হ্যাঁ ভাই।
__ আমাল নামতা বল ওনারে।
সুন্দরের দিকে তাকিয়ে ফারুক বলেন,,
__ দুল্লু ভাইয়ের নাম হলো দুল্লু মিয়া,ডাকে সবাই লুল্লু কইয়া,কেউ কেউ আবার নুন্নু মিয়া বলে ও ডাকে।দুল্লু হলো বিশেষ্য পদ,যা একটি ব্যাক্তি বাচক নাম,ইহা ডাকনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন ” দুল্লু মিয়া প্রতিদিন হাগতে যায়” কিন্তু লোকসমাজ বলবে “লুল্লু প্রতিদিন ফাঁক করতে যায়” সাধারণ মানুষ ব্যাকারণ না বুঝলে যেটা হয় আরকি।
সমানে কথা গুলো বলে গেল ফারুক সুন্দর হা হয়ে শুনে গেল,মুখ থেকে কখন জানি লালা ঝোরে তাও খেয়াল নেই সুন্দরের।পিকির সব মাথার উপর দিয়ে গেল।
খিলখিল হেঁসে পিকির দিকে তাকিয়ে দুল্লু বলে,,
__ ও আমার বন্ধু, সবসময় আমাল পাদে পাদে থাকে।
সুন্দর ফিক মেরে হেসে বলে,,
__ ও বুঝেছি,যখন তুই পাদিস তখন তোর সাথে থাকে,তাই তো,ওর কি গন্ধ করে না তোর পাদ?
দুল্লু রাগ হয়ে বলে,,
__ আলে ভাভাই,ও সবসময় আআমার পাদে পাদে থাকে।
এবার পিকি বলে,,
__ ও বুঝেছি,তোমার পপাশে পাশে থাকে?
দুল্লু দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে,,
__ হ্যাঁ বেব।
দুল্লু এবার পিকির সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে বলে,,
__ আই লা লাভ ইউ পিকি চুন্দরী।
পিকি অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে হাত দুটো নাচিয়ে,একটা আঙ্গুল কামড়ে লজ্জা নিয়ে বলে,,
__ ওহ ডিয়ার, রিয়্যালি।
__ হ্যাঁ।
__ লাভ ইউ সো মাচ বেব।
দুল্লু খুশিতে আটখানা হয়ে গেল।
সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে সুন্দর, অবাকের থেকেও বেশি অসহায় লাগলো কারণ সে তার টুনটুনির মায়েরে এভাবে আজও বলতে পেলো না,।এই দুঃখ রাখে কই সে।
আর অবাকের কারণটা হলো কোন অ্যাঙ্গেল থেকে দুল্লু পিকিকে প্রোপোচ করলো,এটা কি শোভা পায়?মানছি পিকি সুন্দর তাই বলে একটা ছেলে এসে প্রোপোচ করবে। সুন্দর এসবই কিছুক্ষণ ভাবলো, ভেবেচিন্তে দুল্লুকে বলল,,
__ চল তালুকদার বাড়ি, বিয়ের প্রস্তাব দিবি।
দুল্লু অবাক হয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নিরেট গলায় বলে,,
__ একদম না।
__ কেন?
__ ওই বালির ম মেয়েরা আমার পকি কেটে দিতে চেয়েছিল, ওলা খুব ডেঞ্জালাস।
__ কেন, কেন?
__ কালন, পপলিক্ষার হলে আমি তাদেল পাদে বসে ও তাদের দেখাই নি, এইজন্য।
__ দেখাস নি ক্যান।
__ কারণ আমিই কিছু লেখি নি,প্রাস্টিশ বাঁচানোর জন্য দেখাই নি। এজন্য পকি কেটে দিতে চেয়েছিল?
সুন্দর আর কোন কথা না বলে দুল্লু এবং পিকিকে নিয়ে জিলাপির দোকান থেকে জিলাপি নিয়ে তালুকদার বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো,ইতি, বিথী নীধির ভয়ে দুল্লু তালুকদার বাড়ি যেতে না চাইলে সুন্দরের জোরাজুরিতে যেতে বাধ্য হয় ,আবার পিকিও বলেছে কিনা। হঠাৎ দুল্লু ফারুককে বলল ,,
__ ওই যে চুতির ভাই আতছে।
ফট করে সুন্দর বলে,,
__ চুদির ভাই কে?
দুল্লু সুন্দরের দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ আলে না,চুতির ভাই,ওই ফালুক এনালে বলতো,চুতির ভাইয়ের কথা।
ফারুক বলে,,
__এনি হলেন তুশির ভাই, মেয়েটার বহুত জুতোর বারি খেয়েছে ভাই,তাও মেয়েটার পিছন ছাড়ে নি দুল্লু ভাই, কারন দুল্লু ভাই ছিল খুব উদার পরমাণু যিনি কিনা মেয়েদের পিছনে ঘুরেন শুধু তারা ঠিক মতো বাড়ি পৌঁছাল কিনা, এভাবেই একদিন তুশির ভাইয়ের কাছে ধরা খেলো দুল্লু ভাই ব্যাস উদ্দাম মাধ্যাম ধোলাই খেলো।
পিকি ও সুন্দর একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে ছোট করে বলে,,
__ ওহহ,উদার পরমাণু টা কি?
__ লোহা,পানি, বাতাস, মানুষ অসংখ্য পরমাণু দিয়ে তৈরি,তাই পরমাণু উদার এবং সেই পরমাণু দুল্লু ভাইয়ের মধ্যে ও আছে,তাই দুল্লু ভাই উদার পরমাণু।
সুন্দর ফেচেল হেসে মনে মনে ভাবলো,,
__ এ অনেক শিক্ষিত এর সাথে বেশি কথা বলা যাবে না,
না হলে কখন কোন জায়গায় আটকে দেয় বলা তো যায় না,শালির বোনের কাছে এভাবে মারা পড়লে প্যাস্টিসটা শেষ।
দুল্লু এবং ফারুক তুশির ভাইয়ের সাথে সালাম দিয়ে কথা শেষ করে সুন্দর ও পিকির সাথে হাঁটতে লাগলো,দুল্লু হাঁটছে পিকি সাথে পায়ে পা মিলিয়ে। এদিকে ফারুক হাঁটছে সুন্দরের সাথে।দুল্লু নিজের হাত খানা আস্তে ধীরে পিকির আঙ্গুল ছুঁয়ে দিলো, এবং ধীরে সস্তে নিজের আঙ্গুল গুলো পিকির আঙ্গুলের ভাঁজে ঢুকিয়ে দিলো।পিকি কিছু এতে সাঁড়া দিয়ে রেম্প ওর্য়াকের মতো করে হেঁসে হেঁসে হাঁটতে লাগলো।
সুন্দর ও ফারুক অসহায় মতো তা দেখলো শুধু।
ইতি, বিথী ও নিধি বহু কষ্টে শেষ পর্যন্ত বাড়ির সবাইকে খেলায় অংশ নিতে রাজি করিয়ে বাগানে নিয়ে এলো।
জোড়া নির্ধারণ করা হলো বিপক্ষে খেলার জন্য,,
নাজিম তালুকদার ও আলিফা বেগম,
নাঈম তালুকদার ও সিদ্দিকী বেগম,
নাফিস তালুকদার ও মিলি বেগম,
ইতি ও আলবান,
নিধি ও আর্দ্র,
বিথী ও দির্শক,
মিশকাত ও নিখিল,
নিঝুম ও মুহিন।
অন্যদিকে, সুন্দরকে সঙ্গী করার জন্য আলাদাভাবে আছিয়া বেগমকে রাখা হলো।
এই সিদ্ধান্তে নিঝুমের মনটা ভীষণভাবে ভেঙে গেল। সে মনে মনে আশা করেছিল, সুন্দরই হবে তার জোড়া। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকেই গেল।
সবার গায়েই শীতের পোশাক, কুয়াশায় চারপাশ ঢেকে আছে নরম সাদা আবরণে। এমন আবহাওয়ায় ব্যাডমিন্টনের খেলাটা জমে উঠবেই হালকা ঠান্ডা, ভেজা ঘাস আর সকালের নীরব উচ্ছ্বাস মিলেমিশে এক আলাদা আবেশ তৈরি করেছে।
আলবান এত ভোরে কোনোভাবেই উঠতে চাইছিল না। ইতির প্রবল জোরাজুরিতেই শেষ পর্যন্ত সে বিছানা ছাড়ে। মুখ ভার করে এক হাতে কফির কাপ, অন্য হাতে ফোন নীরবে স্ক্রল করতে করতে যেন অনিচ্ছারই প্রকাশ করছিল।
এদিকে দির্শক বিথীকে দেখছে কখনো ধীর পায়ে হাঁটছে মেয়েটা, কখনো হঠাৎই দৌড়ে উঠছে। মাঝেমধ্যে অট্টহাসিতে ভরে উঠছে চারপাশ। বিথীর এই অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা দির্শক গালে হাত রেখে নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে চোখে বিস্ময় আর ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি।
আর্দ্রের জীবনে তেমন কোন পরিবর্তন নেই তবে বউয়ের এক্সাটা কেয়ারে বেচারা হতাশা জনিত রোগে ভুগছে,কি আর করার বড্ডো ভালোবাসে বউটারে।
সুন্দর, পিকি, দুল্লু ও ফারুক বাগানে এসে উপস্থিত হলো। আসতেই তারা শুনতে পেল, তার শালির বোনের পার্টনার হিসেবে মুহিনকে নেওয়া হয়েছে, আর তার নিজের জন্য রাখা হয়েছে বুড়ি দাদিকে। খবরটা কানে যেতেই সুন্দর। এতক্ষণকার হাসিখুশি মুখটা মুহূর্তেই নিস্তেজ হয়ে গেল। সে ভোঁতা মুখ করে চুপচাপ বসে রইল।
এখন সে আর মুখ খুলতেও পারছে না বলতেও পারছে না যে, সে আসলে নিজের পার্টনার হিসেবে নিঝুমকেই চেয়েছিল। এমন কথা বললে লোকে কী ভাববে, সেই আশঙ্কায় সুন্দর গভীর হতাশায় ডুবে গেল।
অন্যদিকে, পিকিকে কোনো দলে নেওয়া হলো না। তার নিজের সিদ্ধান্তেই সে আম্পায়ারের দায়িত্ব নিল। খেলাটা নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করাই এখন তার কাজ।
ইতি দুল্লুকে দেখে বলে,,
__ তুই খেলায় খুব বেঈমানি করিস,তোরে খেলায় নিবো না,ফারুকরে খেলায় নিবো।
দুল্লু মিনমিনয়ে বলে,,
__ তোলে কে বলতে আমি বেঈমানি কলি?
মাঝখান থেকে বিথী ফোড়ন কেটে বলে,,
__ আমি বলছি?
দুল্লু নিজের প্যান্টটা ভালো করে চেপে ধরে বলে,,,
__ আত্তা বেঈমানি করতাম না,এখন তল?
হুট করে নিধি হাসতে হাসতে বলে,,
__ বেঈমানি করলে কাঁচি রেডি আছে বলে দিলাম।
ফাস্ট খেলাটির সূচনা হয় নাজিম তালুকদার ও আলিফা বেগমের মাধ্যমে। খেলা শুরু হতেই ইতি, বিথী ও নিধি ‘বড় মা, বড় বাবা’ বলে উচ্ছ্বাসভরে চিৎকার করতে থাকে। তিনবার কক সফলভাবে উড়াতে পারলেও চতুর্থবার আলিফা বেগম ব্যাড টাচ করে ফেলেন। এর ফলে খেলার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং তাঁদের যাত্রা সেখানেই থেমে যায়।
এরপর খেলায় অংশ নেন নাঈম তালুকদার ও সিদ্দিকী বেগম। তাঁরাও মাত্র দুবার কক মারার পর ব্যাড টাচের কারণে পরাজয় বরণ করেন। পরপরই নাফিস তালুকদার ও মিলি বেগম মাঠে নামেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের অবস্থাও একই রকম হয়।
এবার মাঠে নামলেন সুন্দর ও আছিয়া বেগম। আছিয়া বেগমের উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা ছিল সত্যিই দেখার মতো।
অন্যদিকে সুন্দর মনে মনে ভেবেছিল, এই বয়স্ক মহিলার সঙ্গে খেললে বুঝি খেলাটা খুব সহজেই শেষ হয়ে যাবে। সেই আত্মবিশ্বাসে ভোঁতা মুখে খেলতে শুরু করলেও অদ্ভুতভাবে বারবার তার দৃষ্টি চলে যাচ্ছিল নিঝুমের মুখের দিকে। মনোযোগ আর অন্যমনস্কতার সেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই খেলাটি এগোতে থাকে।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে গেল। একের পর এক স্কোর করতে লাগলেন আছিয়া বেগম। সুন্দরের হাতে ব্যথা উঠে গেলেও তিনি থামলেন না। শেষ পর্যন্ত সুন্দরকে হার মানাতে বাধ্য করলেন আছিয়া বেগম। বুড়ি বয়সেও তাঁর এমন লাফালাফি আর ক্ষিপ্রতা দেখে উপস্থিত দর্শকরা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎই খেলার মাঝখানে আছিয়া বেগমের দাপট দেখে সুন্দর এতটাই হতবাক হয়ে পড়ল যে বেখেয়ালেই কক এসে তার গায়ে লাগল। ব্যাস গেম আউট। এতে আছিয়া বেগম ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে সুন্দরের ওপর গর্জে উঠলেন। শেষ পর্যন্ত আছিয়া বেগম ও সুন্দরের স্কোর দাঁড়াল ৩৫। পিকি মাইকে সেই ফলাফল ঘোষণা করল।
এবার নট ইন্টারেস্ট নিয়ে মুহিন ও নিঝুম খেলতে নামলো তাদের স্কোর হলো ১৫ ।
এবার খেলতে নামলো দুল্লু ও ফারুক তাদের স্কোর হলো ২০।
বিথী চেয়ারে বসা দির্শকের কাছে দৌড়ে গিয়ে কানের কাছে হিসহিসিয়ে বললো,,
__ সবথেকে বেশি স্কোর আমরা করতে চাই স্যার।
হুট করে এতো এতো কাছে আসায় দির্শক ভড়কে গেলো, বিথী কিছু চুল লেপ্টে রইলো দির্শকে গালে।বিথী দিকে তাকাতেই দুজনের মুখ কাছাকাছি এলো, বিথী এপাশ ওপাশ তাকিয়ে তড়াৎ করে উঠে দাঁড়ালো, এবং দির্শক মুচকি হেসে বলে,,,
__ এসব না করে আজ আমরা বেশ সুন্দর করে প্রেম করে বেড়াতাম।
মুখে হাত দিয়ে বিথী হাসলো,,
__ প্রেম করার জন্য মেলা সময় পড়ে আছে।
__ কিন্তু আমার হাতে তো সময় কম।
__ কি সব আজব কথা বলেন স্যার।
__ এখন আর তোমার মুখে দুষ্শমন স্যার নাম টা শুনি না,কেন বলো তো?
বিথী কিছু বললো না,দির্শক ফের বলে,,
__ আমার সাথে বেশি ফ্রি হয়ে যাচ্ছো উজ্জ্বল নারী।
হঠাৎ বিথীর বুকটা ছ্যাত করে উঠলো এবং আকাশ পানে তাকিয়ে বলল,,
__ প্রেম করছি তো ফ্রি হবো না,মনে তো আর ফিলিংস কম কাজ করছে না নাকি?প্রেম আমার ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে স্যার,মানতেই হবে তা।
__ যদি না মানি।
কিছুটা কুঁচকানো চোখে রাগ হয়ে দির্শকের মুখ পানে তাকিয়ে বিথী বলে,,
__ খুন করবো।
__ তোমার হাতে খুন হতে রাজি, কিন্তু ভাগ্য তা বোধহয় হতে দিবে না।
__ আপনার কথার কোন মাথাই বুঝি না স্যার,এই জন্য অসহ্য লাগে আমার,এখন খেলতে চলুন,আর হ্যাঁ পরশু কিন্তু আমার জন্মদিন সবচেয়ে সুন্দর গিফট চাই আমার,একদম ইউনিক।মনে করে দিলাম,মনে থাকে যেন।
দির্শক একটু অবাক হয়ে কুঁচকানো ভ্রু করে বলে,,
__ কি? পরশু তোমার জন্মদিন।
__ হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি আসুন তো।
দির্শকের মুখটা কেমন যেনো কালো মেঘে ছেয়ে গেল,এটা বোধগম্য হচ্ছে না যে বিথীর পরশু জন্মদিন, ভিতরে ভিতরে আঁতকে উঠছে দির্শক।চিন্তিত মুখে উঠে বিথীর পিছু পিছু গেল।
দুল্লুকে বেঞ্চে এভাবে বসে থাকতে দেখে সুন্দর বলে,,
__ এমনে বসে আসোছ কোন?
__ তো কি কলতাম।
__ সমস্যা নাই বসেই থাক তুই?
এই বলে সুন্দর ও দুল্লুর পাশে বসলো দুল্লু অসহায় মুখে বললো,,
__ খুব মোতায় ধলছে লে ভাই?
__ বাথরুমে যাহহ।
দুল্লু বিরক্ত হয়ে বলে,,
__ ভাই লে ভাই মোতায় ধরে মোতায়।
__ তো সেটাই তো কচ্ছি রে ভাই বাথরুমে যা।
__ আলে ভাই আমাল মোতায় ধরচে এতে বাতলুমে যাবো কেন?
সুন্দর প্রচুর বিরক্ত হয়ে বলে,,
__ বুঝেছি, প্যান্টের চেন খুলতে পাচ্ছিস না তাই তো, এদিকে আয় প্যান্টের চেন খুলে দিচ্ছি।
দুল্লু রাগে গর্জে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,,
__ তুই কিন্তু আমালে অপমান কলতিছিস।
__ আজব তোরে অপমান করলাম কই।
দুল্লু সুন্দরের সাথে আর কোন কথা না বলে ফারুককে ডাকতে লাগলো,,
__ ফালুক এ ফালুক।
মুহুর্তেই ফারুক এসে হাজির হলো এবং বললো,,
__ জি ভাই।
__ চুন্দর মহাতয় কে বল আমাকে মোতায় ধরছে।
ফারুক সুন্দরের দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ ভাইকে মুতে ধরেছে,মুত মানে হলো ১ নাম্বার কাজ ওটাকে প্রকৃতির ডাক ও বলা হয়,শীত এসেছে কিনা তার জানার সুন্দর একটা মাধ্যম হলো মুত,যেমন ধরো ” দুল্লু ভাই মুততাছে এখন তার মুত দিয়া ধোয়া বেরাইতিছে তাহলে বুঝবেন শীত কাল আইয়া পরছে, এবং এই সময় আপনাকে বিবাহ করিতে হইবে,আরো একটা কথা হলো,..
কথা শেষ না হতেই সুন্দর বলে,,
__ ভাই তুই চুপ আমি বুঝেছি, বিয়া করি নাই বলি আর খোঁটা দেওন লাগবে না,আর তোর এই দুল্লু, লুল্লু,নুন্নুরে মুতের কথাই বললাম যে মুত পাইলি বাথরুমে যা।
এরই মধ্যে ফারুকের গালে কোষে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দুল্লু বলে,,
__ ওলে বয়রারা আমাকে মোতায় ধরছে।
ফারুক গালে হাত চেপে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
__ ভাই আমি তো ওটাই কইলাম, আপনারে মুতে ধরছে।
দুল্লু আরো থাপ্পড় মারতে চাইলো ফারুক কে কিন্তু মারলো না বরং চরম বিরক্ত হয়ে নিজের উরু ও বাহুতে থাপ্পড় মেরে মেরে বোঝালো,,,
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩৮
__ এখানে অনেক মোতা, সেগুলোই আমালে কামলাইতাছে,কোনটা মোতা আর কোনো মোতা এটাই বোঝোশ না তোলা।
মুহুর্তেই সুন্দর অট্টহাসি মেতে উঠলো হাসতে হাসতেই বললো,,
__ ও তোরে মশায় ধরতাছে।
ফারুক ও হাসতে চাইলো কিন্তু দুল্লুর ভয়ে হাসলো না।
