Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২২

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২২

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২২
জান্নাতি আক্তার জারা

“এই ভদ্রগুন্ডা হানিয়া আপু কই সকাল থেকে দেখছি না কেনো আপুকে?
হাবীব ফোনে চোখ নিবদ্ধ রেখে আনাস সের রুমে যাচ্ছিল। সিড়ির কাছে আসতেই সন্ধ্যার কথায় থেমে পিছন ঘুড়িয়ে দাঁড়ালো। সন্ধ্যা কে হলুদ থ্রি-পিসে মুগ্ধ চোখে চেয়ে বলে উঠলো,
” মাশাআল্লাহ সুন্দর!
সন্ধ্যা হাবীবের কথায় ঠোঁট উল্টিয়ে ভাবলো, এই ভদ্রগুন্ডা কে জিজ্ঞেস করে কী আর উত্তর দেয় কী। সন্ধ্যা হাবীবের মুখের সামনে হাত নাড়িয়ে পুনরায় জানতে চেয়ে বলে উঠলো,

” হ্যাঁ আমি জানি আমি দেখতে মাশাআল্লাহ, এবার আমার কথার উত্তর দেন, হানিয়া আপু কই?
“এত মানুষের ভীরে হানিয়ার প্রবলেম হচ্ছিলো। এজন্য গতরাতে বাসায় দিয়ে এসেছি, এবার চলো তো আমার সঙ্গে। তোমাকে দেখে আমার তৃষ্ণা মিটাই।
কথাটা বলতে বলতে হাবীব সন্ধ্যার হাত টেনে নিয়ে গেলো। আশিক গার্ডেন থেকে বাড়ির ভিতরে আসতেই হাবীব কে সন্ধ্যার হাত টেনে নিয়ে যেতে দেখে উচ্চস্বরে বলে উঠলো,
” যেদিকে তাকাই সেদিকেই জোরা জোরা আমি একাই সঙ্গ সাড়া, ওই বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড কই তুমি?
আশিকের উচ্চস্বরে বলা কথায় মিম হাসি মুখে পায়েসের বাটি হাতে নিয়ে কিচেন রুম থেকে বের হয়ে পায়েস খেতে খেতে বলে উঠলো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” ভাইয়া মায়া আপু ছাঁদে!
” ও ধন্যবাদ ছোট আপু, তুমি যাবে না?
মিম পায়েসের বাটি ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে বলল,
“এটা শেষ করে আসবো ভাইয়া।
” ওকে জলদি এসো, আসার সময় আমাদের জন্য সঙ্গে করে নিয়ে এসো!
আশিক ছাঁদে উঠতে উঠতে হাসি মুখে কথাটা বলে চলে গেলো। মূলত আরিশার গায়ে হলুদের আয়োজন ছাঁদে করা হয়েছে। দুপুরে আরাত আইরা তালুকদার বাড়ি থেকে শেখ বাড়িতে ফুল আনতে যাওয়ার পরপর আনাস ছোট্ট মিনি ট্রাক করে গাদা ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলো। গার্ডেনে গায়ে হলুদ হওয়ার কথা ছিলো বিধায় আরাত রা বাড়ির বাগানের ফুল দিয়ে নিজেদের এবং নতুন বউয়ের জন্য ফুল দিয়ে গহনা গাঁথতে চেয়েছিলো। তালুকদার বাড়িতে বেলি ফুল আর গোলাপ ফুল পেলেও গাদা ফুল ছিলো না বিধায় আরাত আইরা দুজন তালুকদার বাড়ি থেকে শেখ বাড়িতে যায়। আনাস সকাল বেলা আদিল কে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ছিলো, ফিরলো একদম ফুলের ট্রাক নিয়ে। বাড়িতে ফিরেই গার্ডেনে গায়ে হলুদের আয়োজন ক্যান্সেল করে হাবীব এবং আশিক কে ফুল দিয়ে ছাঁদ টা সাজানোর দায়িত্ব দিয়ে আনাস আর আদিল টায়ার্ড থাকায় দুজন ঘুমিয়ে পড়ছে। আরাত আইরা বাড়িতে ফিরে দেখে পুরো বন্ধুমহল আর কাজিন মহল মিলে ছাঁদ থেকে তালুকদার বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত ফুল দিয়ে সাজাতে ব্যস্ত।

দুজন অবাক নয়নে সবার ব্যস্ততা দেখার মধ্যে আনহা শেখ আইরা কে বকা দিতে লাগলেন। বাড়িতে এত কাজ রেখে বাহিরে যাওয়ার জন্য এবং আনাস কে এতটা খাটানোর জন্য। আনহা শেখের ধারণা আইরা আনাস কে আবদার করছে ফুল দিয়ে ছাঁদ সাজানো জন্য, নয়তো ওনার আদরের ভাস্তে হটাৎ করে এতএত ফুল আনবেই-বা কেনো। সকাল থেকে ফুল খুঁজতে খুঁজতে ওনার ভাইয়ের ছেলে কতটা কান্ত হয়ে পড়েছে। এই নিয়ে আনহা শেখ বেশ কিছুক্ষণ বকাবকি করতে লাগলো আইরা মায়ের বকাবকির মূল কারণ বুঝতে না পেয়ে, মায়ের বকার হাত থেকে বাঁচতে আরাত কে সঙ্গে নিয়ে সবার সঙ্গে ছাঁদ সাজানোর কাজে লেগে গেয়েছিলো।

আশিক চেয়ার টেনে ছাঁদের একপাশে বসে পড়লো, চারপাশে গেষ্ট দিয়ে ভরপুর হয়ে আছে। আশিক পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোন বের করে আশেপাশে একনজর বিলিয়ে চোখটা ফোনে রাখতে যাবে, হটাৎ চোখটা কারো উপর আটকে গেলো। ছাঁদের মেঝেতে ছোট্ট করে টেষ্ট বানানো, পুরো টেজ হলুদ গাদা ফুল দিয়ে ডেকোরেশন করা। হলুদ রাজ্যর মধ্যে তিনটি রাজকন্যা নিজেদের মধ্যে গল্পে মসগুল, আরিশা কথায় মায়া আরাত হেসে উঠলো আশিক দূর থেকে তাদের হাসির কারণ বুঝতে পারলো না। আশিক দাড়িয়ে চেয়ার টা হাতে নিয়ে তাদের কিছুটা এগে এসে বসে পড়লো। তিনজনের গল্পের মধ্যে সন্ধ্যার লজ্জা পেয়ে দৌড়ে আসাতে তাদের গল্পের ব্যাঘাত ঘটলো। আরিশা আরাত মায়া তিনজন সন্ধ্যা কে লজ্জা পেয়ে দৌড়ে আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে সন্ধ্যা কে দেখতে লাগলো। সন্ধ্যার পিছুপিছু হাবীব কে রিলাক্স মুডে আসতে দেখে আশিকের মুখটা দুষ্টুমি খেলে গেলো। হাবীব এসে আশিকের পাশে চেয়ার টেনে রিলাক্স মুডে বসতেই আশিক দুষ্টু হেসে নিচুস্বরে অবাক নয়নে বলে উঠলো,

” ছি ছি দোস্ত, তোর থেকে এটা এক্সপেক্ট করি নাই!
হাবীব জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে বলে উঠলো,
“মানে?
“মানে বুঝোনা – না তুমি তো কচি খোকা!
” বাজে না বকে লাইনে আয়, তুই আমার থেকে কী এক্সপেক্ট করোস?
” বিয়ের আগেই ছোট অবুঝ মেয়েটার সুযোগ নিতে পারলি ছি দোস্ত ছি!
আশিকের ইশারা দিয়ে দেখিয়ে কথা বলাতে হাবীব নিজের হাতের দিকে তাকালো, যেখানে কিছুক্ষণ আগে সন্ধ্যার নকের আচর দিয়েছিলো। এই মেয়ে
বিয়ের আগেই সামান্য কিস করাতে হাতের বায়োডাতা তৈরি করছে বিয়ের পর কী করবে কে জানে। হাবীব কথাগুলো ভেবে সন্ধ্যার দিকে চেয়ে আশিকের কথায় বিরবির করলো,

” ছোট্ট হইলে হবে কী ঝাঁজ দিগুণ।
আশিক হাবীবের বিরবির করা কথা শুনতে না পেয়ে,
“কিছু বললি?
“নো।
হাবীব এবার সরাসরি চোখ রাখলো সন্ধ্যার উপর। সন্ধ্যা আরিশা দের পাশে বসে আঁড়চোখে চেয়ে হাবীব কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে দ্রুত চোখ অন্যদিকে ঘুড়ালো। দুজনের লুকোচুরি চোখাচোখি গুলো এতক্ষণ আরিশা আরাত মায়া তিনজন অবাক নয়নে দেখছিলো। আরিশা সরাসরি সন্ধ্যা কে প্রশ্ন করল,
” তোর আর হাবীব ভাইয়ার মধ্যে কী চলছে বলতো?
” ক..কই কিছু, চ. চলছে না তো!

সন্ধ্যার আমতা আমতা করে কথা বলাতে তিনজনে সন্দেহ যেনো আরো গাড়ো হইলো। আরাত সন্দেহ চোখে সন্ধ্যা কে উপরনিচ পরক করে বলে উঠলো,
” তাহলে তুই এমন লজ্জা পেয়ে লাল লীল হয়ে দৌড়ে আইলি কেনো? আর তুই আসার পরপর হাবীব ভাইয়া কেনো এলো?
” আ.আমি কী জানি, বিয়ের বাড়ি যে কেউ আসতেই পারে।
“হ্যাঁ আসতেই পারে………!
” ধাত আপু তোমরাও না।

সন্ধ্যার কথায় তিনজন একসঙ্গে ব্যঙ্গ করে কথাটা বলতেই সন্ধ্যা লজ্জা পেয়ে দু-হাত দিয়ে ওড়না মুখে রাখলো। সন্ধ্যার লজ্জা পাওয়া দেখে পুনরায় তিনজন শব্দ করে হেসে উঠলো। আরাত হাসি মুখে উচ্চস্বরে হাবীব ডেকে বলল,
” ভাইয়া….দুলাভাই হওয়ার জন্য অগ্রিম শুভেচ্ছা, আর আমাদের ট্রিট চাই কিন্তু?
” ট্রিট না একদম বিয়ে খাওয়ার জন্য এডি হয়ে যায়।
হাবীবের কথায় তিনজন বেশ অবাক চোখে চাইলো, হাবীব ফাজলামো করে না হাবীবের উওরে বুঝা যাচ্ছে সন্ধ্যা কে নিয়ে হাবীব কতটা সিরিয়াস। আরাতের কথায় এবার আশিক দুষ্টু হেসে বলে উঠলো,
” ট্রিট টা আমি দিতে পাড়ি! যদি তোমার কাজিনের ফ্রেন্ড অর্থাৎ আমার ভবিষ্যৎ বউয়ের ফোন নাম্বার টা দেও!
“লুচ্চামি শুরু লুচ্চা একটা!
মায়ার কথায় আরাত হেসে আশিক কে উচ্চস্বরে বলল,

“ভাইয়া আপনার মনের জায়গা টা আগে ফাঁকা করুন তারপর ভেবে দেখবো নাম্বার দেওয়া যায় কিনা!
” হায় আল্লাহ, সবকটা বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউগুলো এমন সার্থপর কেন, এই এতিম ছেলেটার মুখপানে কেউ চায় না। তাদের দেওর যে সিঙ্গেল হয়ে গার্লফ্রেন্ডের শূন্যতায় ভুগছে…..
“তুই সিঙ্গেল?
আশিকের আস্তে আস্তে বলা কথায় হাবীব প্রশ্ন করলো। আশিক হাবীবের দিকে চেয়ে পুনরায় ধীরকন্ঠে বলল,
” হ্যাঁ, আমার মন প্লেবয় হলেও আমার হৃদয় পিওর সিঙ্গেল বুঝলি!
“মন আর হৃদয় কী আলেদা কিছু?

” কেন তুই জানোস না,ও তুই জানবি কিভাবে তুই তো মন আর হৃদয় দুটোই সন্ধ্যা কে দিয়েছিস!
আশিকের কথায় হাবীব বিরক্তি মুখে তাকিয়ে আশিক কে সাবধান করতে বলে উঠলো,
“দেখ আশিক তুই অন্য মেয়ের সঙ্গে যা ইচ্ছা কর। প্লিজ দোস্ত মায়া সঙ্গে ফ্লাট করোস না, আনাস তোকে প্রথম দিন সাবধান করছে তারউপর মায়ার বাবা এই মহল্লার রানিং চেয়ারম্যান। ওনি খুব সিরিয়াস মানুষ, মায়া কে বিয়ের বাড়িতে সারতে নারাজ ছিলেন। আতিফ আঙ্কেল রিকোয়েস্ট করাতে মায়া কে আসতে দিয়েছে!
হাবীবের কথা আশিক এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়ে মায়া কে রাগাতে পুনরায় আরাত কে বলে উঠলো,

” ছোট্ট আপু তুমি বরং আমার শাশুড়ির নাম্বার টা দিও, শাশুড়ী কে পটাতে পাড়লে বউ এমন-ই পটে যাবে!
আশিকের কথায় মায়া আর চুপ করে বসে থাকতে পারলো না। বসা থেকে ওঠে পাশে ডেকোরেশনের ছোট্ট একটা বাঁশ হাতে নিয়ে আশিকের দিকে তৈরে গেলো। আশিক মায়া কে নিজের দিকে বাঁশ হাতে নিয়ে আসতে দেখে দ্রুত চেয়ারে বসা থেকে লাফিয়ে ওঠে ছাঁদে দৌড়াতে লাগলো। সবাই হতভম্ব হয়ে দুজনের ছুটাছুটি দেখছে। আরাত আরিশা সন্ধ্যা তিনজন মিলে মায়া কে আটকাতে মায়ার পিছু নিলো। মায়া কে তিনজন মিলে ধরতেই হটাৎ আশিক দাড়িয়ে পারল। পিছন ঘুরে মায়ার দিকে নক তাক করে চিল্লিয়ে বলে,

“ওই বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড, তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি, নিজের ভবিষ্যৎ বরের পিছনে বাঁশ নিয়ে দৌড়াতে ভয় করে না?
আশিকের কথায় মায়া পুনরায় তিনজনের কাছে বন্দী আবস্থাতে নড়াচড়া শুরু করলো। মায়ার ঝাকাঝাকি তে আরাত নিজের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে না পেয়ে হটাৎ কারো বুকে গিয়ে পড়লো। আরাত কারো চওড়া বুকের ধিকধিক আওয়াজ কানে এসে বারি খেতেই চোখ তুলে উপরে চাইলো। নিজের মুখের খুব কাছে মাহিরের অস্বস্তিকর মুখটা ভেসে উঠতেই দ্রুত নিজের দুহাত মাহিরের বুকের উপর ভর দিয়ে দূরে সরে গেলো। রাফিরা আমানের গায়ে হলুদের জন্য তালুকদার বাড়িতে এসে নিচে বড়োদের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করে উপরে উঠে এলো। সবার প্রথমে মাহির ছিলো বিধায় সিড়ির দরজা দিয়ে ছাঁদে পা রাখতেই কেউ এসে বুকে বারি খেলো। কেউটা কেনো নারী বুঝতে পেয়ে মাহিরের মুখমণ্ডল অস্বস্তিকরে ভরে উঠলো। দু সেকেন্ডর মাথায় আরাত কে নিজের খুব কাছে এবং মুখোমুখি অনুভব হতেই মনের মধ্যে আলেদা অনুভূতি সৃষ্টি হলো বেশ। আরাত বুক থেকে দূরে সরে যেতেই মাহির থমকে যাওয়া নিঃশ্বাস টা পুনরায় নিয়ে আরাত কে বলে উঠলো,

” তুমি ঠিক আছো তো অদ্ভুত মেয়ে?
“হুম।
মাহিরের অদ্ভুত মেয়ে ডাকায় আরিশা মায়া বেশ অবাক হইলো, আশিক হাবীব বিরক্তি মুখে একবার মাহির কে দেখে, আমান রাফি আরশের সঙ্গে হেনসিপ করল। যবে থেকে আনাস সের মুখ থেকে জানতে পারছে আরাত মাহির নামে ছেলেটাকে লাইক করে তখন থেকে আশিক মাহির কে সহ্য করে না। হাবীব তো প্রথম থেকেই মাহির কে পছন্দ করে না। আমান সবার সঙ্গে কৌশল বিনিময় করে আরিশার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। রাফি চোখ ঘুড়িয়ে ছাঁদের আশেপাশে আইরা কে খুঁজলো। কোথাও আইরার দেখা না পেয়ে রাফি পুনরায় গল্পে মসগুল হয়ে উঠলো। সবার গল্পের মধ্যে সিড়ি বেড়ে আসতে দেখা গেল রুপোলী বেগমকে হাতে তার পানির ট্রে। রুপোলী বেগমের পিছনে মিম আহিন আলভী কে আসতে দেখা গেল। মিমের হাতে পায়েসের ট্রে আর আহিন আলভী দুজনের হাতে দুটো টিসুর প্যাকেট। রুপালী বেগম হাসি মুখে একে একে পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে আরশের কাছে এসে থেমে গেল। আরশ কে পর্যবেক্ষণ করে বলে উঠলো,

” মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ, বাবা তুমি তো দেখতে মেলা সুন্দর
” ধন্যবাদ আন্টি!
” বাহ তোমার ব্যাবহার তো ভালায় আছে!
” জ্বি আন্টি,
আরশ মুখে হাসার চেষ্টা করে উওর করলো, সবাই বেশ উৎসাহ নয়নে রুপালী বেগম আর আরশ কে দেখতে লাগলো। মিম নিজের মায়ের উৎফুল্ল হওয়ার কারণ বুঝতে পেয়ে রুপালী বেগম কে তাড়া দিতে লাগলো,
” মা গল্প পড়ে করতে পারবেন সামনে ভাইয়া দের পানি দেন!
” তুমি চুপ করো কথার মধ্যে কথা বলবে না, বাবা তোমার বাড়ি কোনে?
সাবার সামনে রুপোলী বেগমের কথায় মিম খানিক টা লজ্জা পেলো। আরশ একবার মিমের দিকে তাকিয়ে পুনরায় রুপোলী বেগমের থেকে জানতে চাইলো,

” জ্বি আন্টি?
“আমি কইতাছি তোমার বাড়ি কোনে?
” ও আচ্ছা আমার বাসা কই, জানতে চাইছেন তাইনা?
“হুম!
” আমার বাসা, চুলকানি বাজার আপনার মেয়ের শশুর বাড়ি!
রাফি পানি খাচ্ছিলো আরশের কথায় রাফির মুখ থেকে পানি ছিটকে পড়ে গেলো। আরশ এবার নিজের ফর্মে ফিরে এসেছে। মাহির পকেট থেকে রুমাল বের করে রাফি কে দিতে দিতে ভ্রু কুঁচকে আরশের দিকে তাকালো। আরশের কথায় বাকি সবাই মিটিমিটি হাসতাছে আর মিম মন ভার করে রুপালী বেগম কে এবং আরশ কে দেখছিলো। রুপালী বেগম আরশের কথায় তব্দা খেয়ে পুনরায় জানতে চাইলো,
” আমার মেয়ের শশুর বাড়ি! এগুলা কী কউ বাবা?
আরশ দুষ্টু হেসে বলে উঠলো,

“উঁহু আন্টি এটা, আমার মেয়ের শশুর বাড়ি, হবে না। চুলকানি বাজার আপনার মেয়ের শশুর বাড়ি হবে। আর এটা আমার জেলার নাম।
রুপোলী বেগম অবিশ্বাস্য চাইনি বলে উঠলো,
” ও আচ্ছা এটা তোমার জেলার নাম, কিন্তু বাবা এমন জেলার নাম তো বাংলাদেশে কখনো শুনি নাই?
মিম নিজের মায়ের প্রতি বিরক্তি হইলো এবার। একটা শহরের ছেলে গ্রামের সোজাসাপটা মানুষ পেয়ে যা বোঝাচ্ছে তার মা তাই বুঝতাছে। আর বাকি সবাই তা দেখে মজা নিচ্ছে। আরশ রুপোলী বেগমের কথায় উওর করতে পুনরায় প্রশ্ন করল,
“আন্টি আপনি মেবি গ্রামে থাকেন!

” হ হ বাবা, আমি আরাতের মামি, আর এটা আমার মেয়ে মিম। আমার মেয়ের গুনের কথা কী আর কমো গ্রামের আনাচকানাচে সবার জানা, রান্ধন থেকে শুরু করে উঠান ঝাড়ু দেওয়া পর্যন্ত……
“আন্টি আন্টি রিল্যাক্স রিল্যাক্স, আমি বলতে চাইছি আপনি গ্রামে থাকেন এজন্য শহরের চুলকানি বাজার আপনার মেয়ের শশুর বাড়ি জেলাটার নাম হয়তো শুনেন নাই কখনো!
রুপালী বেগম আরশের কথায় যুক্তি ধরে মুখটা বুঝার মতো করে বলে উঠলো,
“আছে হয়তো মুই হয়তো জানি না বাবা?
” হ্যাঁ আন্টি, একবার শুধু আমান ভাইয়ার বিয়ে টা শেষ হতে দেন। আমি আপনাকে পুরো, চুলকানি বাজার আপনার মেয়ের শশুর বাড়ি ঘুড়ে দেখাবো!

আরশ দুষ্টু হেসে কথাটা বলতেই পুরো ছাঁদ হো হো করে শব্দ করে হেসে উঠলো। মিম বেশ রেগে গেলো এবার। হাতে পায়েসের ট্রে টা একটা চেয়ারের উপর রেখে দিয়ে। রুপালী বেগমের হাত ধরে সিড়ি দিয়ে বাড়ির ভিতরে যেতে বলল। রুপোলী বেগম নিচে নামতে নামতে বেশ রেগে গেলেন মেয়ের উপর। তার এখনো আরশের সঙ্গে কথা শেষ হয়নাই। আরিশা চেয়ার থেকে পায়েসের ট্রে থেকে সবাই কে পায়েস দিতে লাগলো। মিম আরশের দিকে চেয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“আপনাকে এতক্ষণ আরিশা আপুর শশুর বাড়ির গেস্ট ভেবে ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু আর না। নিজেকে কী মনে করেন হ্যাঁ, শহরের পন্ডিত মশাই। গ্রামের মানুষ কে কী মানুষ বলে মনে হয় না?
মিমের কথায় আরশ বেশ রেগে গেলো,
” এই যে গ্রামের মূর্খ অশিক্ষিত মেয়ে, ফান বুঝো না। এতক্ষণ জাস্ট আন্টির সঙ্গে ফান করছিলাম।
“এটাকে ফান বলে?
” তো কী বলে?
দুজনের ঝগড়ার রেশ বেড়ে যাচ্ছে ভেবে আশিক আরাত কে বক্সে গান লাগাতে বলল,

” ছোট আপু বক্সে গান লাগাও তো, যেন বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড আমার প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে যায়,
আরাত এতক্ষণ চিন্তিত মুখে বেশ কয়েকবার রশ্মি কে ফোন করছিলো। সকাল থেকে রশ্মির ফোন বন্ধ পাচ্ছে। এখনো বন্ধ থাকায় আরাতের মুখটা এত হাসিখুশির মধ্যে চিন্তিত হয়ে ফুটে উঠেছে।
আশিকের ডাকে আরাত মুচকি হেসে ফোন নিয়ে বক্সের কাছে গিয়ে গান দিতে লাগলো, এতক্ষণে বাকি গেস্টরা চেয়ার ছাঁদের এক সাইটে রেখে দিয়ে ছাঁদের মেঝেতে সুন্দর করে বসে পড়ছে। মাহির আরাতের চিন্তিত মুখটা দেখে সবার থেকে কিছুটা দূরে চেয়ার পেতে বসলো যেখান থেকে বেশ সরাসরি আরাত কে দেখা যাচ্ছে। মিরা আড়চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে সেদিনের লম্বা ছেলেটাকে খুঁজলো। ছেলেটাকে খোঁজে না পেয়ে আড্ডায় মনোযোগী হলো। এদিকে রাফি আইরা কে এক নজর দেখার আশায় বারংবার সিড়ির দরজার দিকে উঁকি দিচ্ছে। আশিকের কথায় মায়া মুখ বাঁকা করে হাতের বাঁশ টা আশিকের দিকে তাক করে গানের তালে তালে গেয়ে উঠলো,

মায়া ~ lshq ki galiyon mein na jaana
lshq bada badnaam hai
আশিক মায়ার হাত থেকে বাশঁটা কেড়ে নিয়ে নিজের ঘাড়ে রেখে দিয়ে মায়ার চারপাশ ঘুরতে ঘুরতে গেয়ে উঠলো,
আশিক ~ lshq to mera khuda hai…..
Aashiq mera naam hai
সন্ধ্যা হাতে হাত ভাজ করে হাবীবের পাশে দাঁড়িয়ে হাবীবের দিকে চেয়ে মুখ ভেংচি কেটে গেয়ে উঠলো,
সন্ধ্যা ~ Aashiqui ke her kadam pe
Roz qatal-e aam hai
সন্ধ্যা কে ভেংচি কাটতে দেখে হাবীব বাঁকা হেসে দ্রুত নিজের হাত দিয়ে সন্ধ্যার কোমর চেপে নিজের দিকে ঘুরিয়ে গেয়ে উঠলো,

হাবীব ~ Aashiqui mein jaan lutana
Aashiqon ka kaam hai
হাবীব কে সন্ধ্যার কোমর চেপে ধরতে দেখে সবাই একসঙ্গে চিল্লায়ে উঠলো। আর সন্ধ্যা হা হয়ে হাবীবের দিকে চেয়ে রইলো। এবার আশিক আর হাবীব দুজন একসঙ্গে ডান্স করতে লাগলো,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২১

O saaki saaki ra…….. saaik saaik
Aa pasa a rehna jaye..koyi khawish baki
O saaki saaki ra…….. saaik saaik
Aa pasa a rehna jaye..koyi khawish baki…..

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৩