Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৯

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৯

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৯
জান্নাতি আক্তার জারা

শেখ বাড়ি, আনহা শেখ খাবার টেবিলে সকালের নাস্তা রেডি করছেন। আতিফ শেখ ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে ডাইনিং টেবিলের দিকে আসতে আসতে আশেপাশে মেয়ে কে খুজলো। পুনরায় আনহা শেখ কে ডেকে বললেন,
___”আনহা, মেয়ে ঘুম থেকে উঠেছে ?
___”তোমার আদরের মেয়ে রুমের দরজা খুলে নাই! জানবো কিভাবে?
আনহা শেখ ব্যস্ত হাতে জগ থেকে পানি গ্লাসে ঢালতে ঢালতে জবাব দিলেন। আতিফ শেখ আইরা রুমে দিকে গেলেন মেয়ে কে ডাকতে,

___” কোথায় যাও?
___” আইরা কে ডাকতে।
___” আমি ডাক দিয়েছিলাম, দরজা খুলে নাই। তোমার মেয়ের মাথায় ভূত চেপেছে । আমি আর দেরি করবো না। আজকে আরিশার শশুর শাশুড়ী সঙ্গে কথা বলবো। যতদ্রুত সম্ভব আইরা আর রাফির এনগেজমেন্টের ডেট ফিক্স করা হবে।
___” সবকিছু তোমার মন মতো ভাবলে চলবে না। আমার মেয়ে যেটা চাইবে ওটাই হবে।
আতিফ শেখ আনহা শেখের কথায় বিপরীতে গিয়ে আইরা কে ডাকতে পুনরায় পা বাড়াতে আনহা শেখের কথায় দাড়িয়ে গেলো,
___” হ্যাঁ তোমার মেয়ের মন যেটা চাইছে ওটাই করে বেড়াচ্ছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তার মন চায় উপন্যাস পড়তে। আনাস এর পিছু পিছু ঘুরতে। মন চাইলে রুমের দরজা বন্ধ করবে। পুরোদিন একা একা থাকবে। এতদিন সবকিছু নিজের মন মতো করে আরছে। এতকিছুর জন্য তুমি দায়ী। সবকিছু জেনে-বুঝে মেয়েকে শাসন করো না।
আনহা শেখের কথায় আতিফ শেখ তাচ্ছিল্য স্বরূপ হাসলেন,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

___” শাসন! কীসের শাসন, আমার মেয়ে তো কোনো অন্যায় করে না। আমার মেয়ের মতো মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
আনহা শেখ স্বামীর কথায় উত্তর করতে পারলো না। আইরা রুমের ভিতর থেকে নিজেকে নিয়ে মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া করতে দেখে। বিছানায় হাঁটু মুড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। রাত থেকে কান্না করার ফলে চোখমুখ ফোলা ফোলা হয়ে আছে। কান্না করতে করতে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। বাবা-মা উচ্চ স্বরে কথায় ঘুম ভেঙে গেলো। মায়ের কথায় পুনরায় খারাপ লাগাগুলো তাঁজা হয়ে চোখ বয়ে যাচ্ছে। একাকীত্ব পছন্দ করা আইরা আজকে নিজেকে শূন্য শূন্য অনুভব করছে। আরিশা থাকলে হয়তো কান্না করতে দিতো না বোনকে। এইযে রাত থেকে খালি পেটে কান্না করে যাচ্ছে। আরিশা থাকলে হয়তো বকা দিতে দিতে খাবার খাওয়া তো।
আইরার মনে আনহা শেখ কে নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো। আজকে আনহা শেখের কথায় সন্দেহটা পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। রাফির সঙ্গে নিজের এনগেজমেন্টে খবর টা আইরা জন্য অসহ্যকর অনূভুতি সৃষ্টি করলো। পুনরায় আতিফ শেখের কথায় বিষন্ন মুখে এক চিমটি সুখ ভেসে উঠলো।

___ ” আম্মু দরজাটা খুলো। আজকে আব্বু তোমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিবে। রুম থেকে বের হও আম্মু?
আতিফ শেখের ডাকে আইরা ওয়াশরুম গিয়ে মুখে পানির ছুটানি দিয়ে এসে রুমের দরজা খুলল। আতিফ শেখ মেয়ের ফোলা ফোলা চোখমুখের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে উঠলেন। আনহা শেখ আইরার কাছাকাছি আসলেন। গতকাল রাতে আইরা আর আনহা শেখ বাড়িতে ফিরার পর আনহা শেখ সদর দরজা খুলতে। আইরা চুপচাপ মায়ের সঙ্গে কথা না বলে নিজের রুমে গিয়ে দরজা ভিতর থেকে লাগিয়ে দিয়েছিলো। আনহা শেখ রাতের মধ্যে আরিশার সঙ্গে আইরা আর রাফি কে নিয়ে কথা বলছে। আতিফ শেখ বাসায় ফিরতে আনহা শেখ সবকিছু খুলে বলছিলো। সবকিছু শুনার পর মেয়েকে একা ছেড়ে দিতে রাতে আর আইরার রুমে যায় নাই আতিফ শেখ। সকালে মেয়ের চোখেমুখে বেহাল অবস্থা দেখে মেয়ের মাথায় আদুরে হাত রেখে পুনরায় হাতটা ফিরিয়ে নিলে বলে উঠলো,

___” এটা তো আমার মেয়ে না। আমার মেয়ে হাসি খুশি দুঃখ কষ্ট সবকিছুর সামিল ছিলাম আমি। আমার মেয়ে আমার থেকে কিছু লুকিয়ে রাখতো না।আজ একসপ্তাহ হতে চললো আমার মেয়ে একা একা অন্ধকার রুমে কান্না করে। আমার মেয়ে তো আসলো না বাবার কাছে সবকিছু শেয়ার করতে?
আইরা বাবার কথায় আতিফ শেখের দিকে তাকালো। তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গাল বয়ে গড়িয়ে পরলো। আনহা শেখ বাবা মেয়ে কে দেখছে। আতিফ শেখ পুনরায় আইরা কে বলে উঠলো,
___” তোমার কাছে একটা আবদার রাখবো। আমার পুরোনো মেয়ে কে ফিরে পেতে চাই। ফিরে দিবে আমার মেয়ে কে, বলো ফিরিয়ে দিবে?

___” আব -আব্বু…..
আইরা কান্নার কারণে কথা বলতে পারলো না। আতিফ শেখ কে জরিয়ে ধরলো। আতিফ শেখ মলিন হেসে মেয়ের মাথায় আদুরে হাত রেখে বললেন,
___” আম্মু তুমি কষ্ট কেনো পাচ্ছো। বাবাকে দেখো বাবা তোমাকে কান্না করতে দেখেও নিজেকে স্ট্রং রেখেছে। ভুল মানুষদের মন থেকে মুছে ফেলো। তোমার অতীত ভুলে যাও। তোমার ভুলগুলো মেনে নাও এবং তোমার জীবন পুনরায় শুরু করো।
___” ইনশাআল্লাহ আব্বু আমি আমার সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করবো।
আইরার ভাঙ্গা গলায় কথা গুলো শুনে মুচকি হাসলেন আতিফ শেখ। আইরা কে নিয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে চেয়ার টেনে আইরা কে বসালো। পুনরায় আতিফ শেখ ভাত মেখে নিজের হাতে মেয়েকে খাওয়াচ্ছে। আর গল্প বলে হাসানোর চেষ্টা করছেন। আনহা শেখ খাবার টেবিলে এক সাইটে দাড়িয়ে বাবা-মেয়ের ভালোবাসা মুগ্ধ চোখে দেখছেন।

পুরো তালুকদার বাড়ি রেডি হয়েছে আরিশার শশুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য শুধু আনাস বাদে। আরাত রেডি হয়ে ড্রয়িং রুমে আসতে আনাস কে সদর দরজা দিয়ে মলিন মুখে ঢুকতে দেখলো। আনাস চুপচাপ নিজের রুমে যেতে লাগলো। আরাত মাঝপথে ভাইয়ের মনোভাব পরিক্ষা করতে বলল,
___” ভাইয়া, আমরা খুব দ্রুত আরেকটা বিয়ে খেতে পারবো। আইরা আপু আর রাফি ভাইয়ার সামনে এনগেজমেন্ট।
আনাস থমকে দাঁড়ালো। কথাটা কানে পড়া মাএ মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠলো,

___” বুড়ী সবসময় ফাজলামো ভালো লাগে না। যা গাড়ি তে যা, সবাই তোর জন্য ওয়েট করছে!
___” ভাইয়া আমি মজা করছি না। ফুপি বড়মার সঙ্গে ফোনে বলছিলো রাফি ভাইয়া আইরা আপু কে পছন্দ করে। আইরা আপুকে রাজি করতে আরিশার আপুর শশুর শাশুড়ী সব দায়িত্ব আরিশা আপু কে দিয়েছে।
আনাস সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে সব কথা শুনতে পেলো। আরাত আনাস কে উত্তর করতে না দেখে মুখ বাকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। আনাস পুরো রুম জুড়ে কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হাটাহাটি করছে। আনাস বুঝতে পারলো আনহা শেখ আনাস এর উপর জেদ করে রাফির সঙ্গে এংগেজমেন্ট করে রাখতে চাইছে। আনাস এখনো নিজের অনুভূতি বুঝতে পারছে না। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল। আনাস ভেবে পেলো না কার কাছে যাবে। কার সঙ্গে মনের অনুভূতি গুলো শেয়ার করবে। কে আনাস কে বুঝবে। রুমের এমাথা ওমাথা হাঁটতে হাঁটতে হটাৎ তাকবীরের কথা মনে পড়ে গেলো ,

লন্ডন, একটা শহর যেখানে প্রকৃতি আর বাড়ির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সৌন্দর্য। রাতের শহর এক অনন্য সৌন্দর্য! শহরের আলোয় আলোকিত রাস্তা। টেমস রিভারের ধারে বসে থাকা বাড়িগুলোর আলো। আর বড় বড় ভবনগুলোর আলোকিত চেহারা সব মিলিয়ে লন্ডন রাতে এক মায়াবী শহরে পরিণত হয়। লন্ডনের এক কোণে ছোট্ট একটা বাড়ি। বাড়িটার নাম রিভার ভিউ। তাকবীর কফি খেতে খেতে জানালা পাশে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে টেমস রিভারের শান্ত জলধারা। তাকবীর গম্ভীর মুখে কফি মুখে তুলতে যাবে। বিছানার উপরে ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। তাকবীর জানালা থেকে চোখ সরিয়ে ধীরপায়ে রুমে এসে ফোনটা হাতে তুলল। ফোনের স্কিনে আনাস এর নামটা ঝলঝল করে ভাসছে।তাকবীর ফোনটা রিসিভ করতে ফেনের উপাশ থেকে আনাস এর অস্থিরতা কন্ঠ শুনা গেলো,

___” ভাইয়া হেল্প মি! আমি আমার অনূভুতি বুঝতে অক্ষম। এরমধ্যে ফুফি আইরার এনগেজমেন্টের ডেট ফিক্স করতে চাইছে। তুমি ফুপি কে বুঝাও আমাকে সময় দিতে বলো ভাইয়া,
___” কূল ডাউন আনাস, তেল মি এভরিথিং!
___” ভাইয়া কেনো আমি শান্তি পাচ্ছি না! কেনো আমার বুকের ভিতরে হাহাকার করছে। ইরার পরিবর্তন দেখে আমি অবাক হয়েছি ভাইয়া। এতদিন ওর পাগলামো গুলো বিরক্তি ভাবতাম । যখন পাগলামো বন্ধ করলো। তখন থেকে আমার মধ্যে আমি ওকে নিয়ে নতুন নতুন অনুভূতির সামিল হতে লাগলাম। জানি না, চোখে প্রচুর ঘুম থাকা সও্বেও কোনো এক অজানা ব্যাথা আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না ভাইয়া।

___” ওকে ওকে শান্ত হ, তুই আইরা প্রতি কী কী অনুভব করছিস?
___”ভাইয়া ইরা যখন প্রথমবার জড়িয়ে ধরলো। আমার হৃদয়ের স্পন্দন কেঁপে উঠেছিলো,সেই কাঁপুনি আজীবন আমার মনে থাকবে। আমার মনে আছে, সেদিন আমার সারা শরীর নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো।যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে স্পন্দন থেমে গিয়েছিলো। আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি ভাইয়া। আমি ভুল করেছি ভাইয়া ভুল করেছি।
___” এখনো সময় আছে ভালোবাসা হারাতে দেস না।
___” তুমি কেনো ভালোবাসা থেকে দূরে পালাচ্ছো ভাইয়া ?
তাকবীরের দু-চোখ জানালায়। রাতের শান্ত জলধারা তে বন্দি। তাকবীর ক্লান্ত মুখে রয়েসয়ে উত্তর করল,
___” সে আমাকে ভালোবেসে না তাই।
___” আমি কী ইরা কে ভালোবেসে ফেলেছি ভাইয়া?
তাকবীর গম্ভীর গলায় ছোট করে বলল,
___” হুম।

তাকবীর কলটা কেটে দিয়ে জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলো। পারসোনাল ফোন টা হাতে নিয়ে গ্যালারিতে ঢুকলো। পুরো গ্যালারি জুড়ে শুধু একজনের ফোটো। আরাত সাদা লেহেঙ্গা পরিহিত। লেহেঙ্গার আঁচল মাথায় দিয়ে টেজে হাসি মুখে বসা। তাকবীর ফটোটা জুম করে দেখতে লাগলো। কিছুক্ষণ নীরব চোখে ফটোটাতে চোখ রেখে নিঃশব্দে গম্ভীর মুখে বিরবির করে বলে উঠলো,
___” এক অজানা অপেক্ষায় অপেক্ষিত আমি।
আনাস মুখে হাসি নিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস নিলো। আনাস ঠিক ধরেছিলো এই অনুভূতি গুলো কেই ভালোবাসা বলে। আনাস মনে উৎফুল্লতা নিয়ে ফাঁকা বাড়িতে চিৎকার দিতে দিতে বলে উঠলো,

___” আমি অনেক বার অনেক ভুল করেছি ইরা। আর না আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইবো ক্ষমা করবি কী আমায়। আমি আমার অনূভুতি ভালোবাসা বুঝতে সক্ষম হয়েছি রে। তোর মতো আমারও আজকে বলতে ইচ্ছা করছে। ভালোবাসি ইরা আমি আমার ইরা কে খুব ভালোবাসি।
আনাস চিৎকার করে কথাগুলো বলে শান্ত হয়ে গেলো। হটাৎ অভিমান জমে গেলো কী আশ্চর্য তাইনা মানুষ টাকে নিজের ভালোবাসা ভাবতেই তার প্রতি অধিকার বোধ হতে লাগলো। খুব সহজে অভিমান জমে গেলো। আইরা হয়তো ভালোবাসে বলে অভিমান থেকে দূরে সরে গেছে। আনাস কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করলো। পুনরায় অভিযোগের সুরে বলে উঠলো,
___” অন্ধকারে চাঁদের আলোর সৌন্দর্য সবার চোখে পড়ে। শুধু চোখে পড়ে না চাঁদ কে আলো দেওয়ার পিছনে সূর্য টাকে। আমি হয়তো সেই সূর্য, আমার চোখে তুই শুধু অবহেলা দেখলি। ভালোবাসা খুঁজলি না।

আরাত রা রাফি দের বাড়িতে আসা প্রায় ঘন্টা দেড়েক হতে চললো। সবাই গল্প করতে করতে আইরা রাফির বিষয় টা তুলে ধরলো। আতিফ শেখ চুপচাপ বসে আসেন তার মুখে কথা নেই। আনহা শেখ আরিশার শশুর শাশুড়ীর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করলেন আর এক সপ্তাহ পর দুজনের এনগেজমেন্ট করে রাখবে। এই এক সপ্তাহ রাফি আর আইরা দুজন একসঙ্গে ঘুরবে ফিরবে নিজেদের চিনবে।
শুধু এনগেজমেন্ট করে রাখা হবে। রাফি আরশ মাহির তিনজন সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করছে। রাফি সপ্ন ডক্টর হওয়া। রাফি পরিপূর্ণ ডক্টর হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের বিয়ে হবে। এতদিনে আইরা নিজের ক্যারিয়া গুছিয়ে নিতে পারবে। দুজন দুজনকে আরো ভালো ভাবে জানবে। আহাদ তালুকদার বোনের সঙ্গে একমত। ভাগ্নির ভবিষ্যৎ নিয়ে এত তারাহুরো দেখে আদনান তালুকদার বোনের প্রতি সন্তুষ্টিত হতে পারলো না। রাফি বড়দের আলোচনা থেকে আরাত আর আহিন কে সঙ্গে নিয়ে গার্ডেনে ঘুরতে এলো। আহিন বাড়ির আশেপাশে দেখতে লাগলো। আরাত রাফি দুজন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে রাফি বলে উঠলো,

___” আনাস এর মনোভাব কেমন?
___” আগের মতো, কোনো রেসপন্স নেই।
___” ও।
দুজন কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করার পর আরাত রাফি কে বলল,
___” ভাইয়া আপনি আপুর বেশি বেশি করে খেয়াল রাখেন। আপনার যত্ন কেয়ার দিয়ে আইরা আপুর মন থেকে আনাস ভাইয়া কে বের করেন!
___” তুমি তোমার ভাইয়ের সাপোর্ট না নিয়ে আমার কথা ভাবছো কেনো?
___” ভুল বললেন ভাইয়া। এখানে নিজপরের কথা না। আমি শুধু চাই আইরা আপু ভালো থাকবে।
___ ” ইনশাল্লাহ কথা দিলাম আমি চেষ্টা করবো তোমার বোন কে আমার সর্বোচ্চ দিয়ে সুখী করতে।
রাফি কথায় আরাত মুচকি হাসলো। দুজনের কথা বলার মধ্যে হটাৎ রাফির ফোনটা বেজে উঠলো। রাফি ফোন হাতে তুলতে দেখলো আরশের ফোন। রাফি ফোনটা রিসিভ করতে করতে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,

___” এক মিনিট, হ্যাঁ আরশ বল?
ফোনের ওপাশ থেকে আরশ, মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ক্লাবে চলে আয়, আজকে কলেজে আসলি না কেনো!
___” বাড়িতে গেস্ট আসছে, তোরা আড্ডা দে আমি আসতে পারবো না।
রাফি আরাতের দিকে তাকালো, আরাত রাফির দিকে চেয়ে আছে। রাফি আরাতের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
___” তোর পাশে মাহির আছে?
ফোনের ওপাড়ে আরশ অবাক হয়ে বলল,
___” হ্যাঁ, কেনো কথা বলবি দিবো মাহির কে?
___” আরে না, তোর পাশে মাহির আর আমার পাশে আরাত দাঁড়িয়ে আছে।
আরাত রাফির কথায় লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে মাথা ঘুরালো। আরশের ফোনের লাউড দেওয়া ছিলো বিধায় রাফির কথা মাহিরের কানে পৌঁছেছে । আরশ মাহিরের কাঁদে হাত রেখে দুষ্টু হেসে বলল,

___” আচ্ছা এই ব্যাপার, আজকে আমার বন্ধু নতুন বাহানা নিয়ে আমাদের বিয়াইন কে দেখতে গিয়ে অসহায় মুখে ফিরে এসেছে। বন্ধুর আমার মুড অফ।
আরশের কথায় রাফি শব্দ করে হেঁসে উঠলো। মাহির রাগী লুকে আরশের দিকে তাকালো। আরাত রাফির হাসিতে বুঝতে পারলো তাকে নিয়ে অলোচনা হচ্ছে তাঁদের মধ্যে। মাহির হটাৎ আরশের থেকে ফোনটা কেরে নিয়ে বলে উঠলো,
___” তোর বিয়াইল কর বল, আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করতে!
কথাটা বলে মাহির ফোন কেটে দিয়ে আরশের কাছে ফোনটা ছুড়ে মেরে বাইক নিয়ে চলে গেলো। রাফি আরশ দু’জনে বেশ অবাক হলো এতে । আরশ ফোনটা ক্যাশ ধরে অবিশ্বাস্য হয়ে মাহিরের যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো। রাফি সন্দেহ দৃষ্টিতে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,

___” মাহির আর তোমার মধ্যে কী চলছে?
আরাত অবাক হয়ে,
___” মানে?
___” মাহির তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে একসেপ্ট করো।
আরাত চোখ বড়বড় করে রাফির দিকে তাকালো। ফোনে এমবি নেই বিধায় আর চেক করা হলো না।

আরিশা আমান বর্তমান শেখ বাড়িতে। আরিশা শশুর বাড়ি থেকে প্রায় এক সপ্তাহ পর বাবার বাড়িতে ফিরলো। আরিশা বাড়িতে ফিরেছে তবুও আইরা নিজ থেকে বোনের সঙ্গে দেখা করতে এলো না। আরিশা ফ্রেশ হয়ে নিজের রুম থেকে বের হয়ে এলো। আরিশা কে রুম থেকে বের হতে দেখে আনহা শেখ আইরা কে বুঝাতে বললেন। আরিশা ধীরপায়ে বোনের রুমে এসে দরজা নক করলো। ভিরত থেকে কোনো রেস্পন্স না পেয়ে আরিশা রুমের ভিতরে চলে এলো।
অন্ধকার রুম, জানালার পর্দা ভেত করে চাঁদের আলোয় রুমটাকে আলোকিত করে রেখেছে। আরিশা ধীর পায়ে জানালার পাশে এসে দাড়ালো। আইরা বোনের উপস্থিত বুঝতে পেয়ে ফাঁকা চোখে জানালার দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলল,

___” প্লিজ আপু একা থাকতে দে।
___” এক সপ্তাহ পর আসলাম কতদিন পড় দেখা। বোনের সঙ্গে কথা বলবি না?
আইরা হটাৎ মেঝে থেকে ওঠে আরিশা কে জরিয়ে ধরলো। আরিশা মুচকি হেসে বোন কে নিজের সঙ্গে জরিয়ে নিলো।
___” আই মিস ইউ আপু, তোকে ছাড়া বাড়িটা খালি খালি লাগে রে। আমার হাসিখুশি জীবনটা নিমেষেই এলোমেলো হয়ে গেলো আপু?
আরিশা আইরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
___” কিছুই এলোমেলো হয়ে যায় না বুঝলি, জীনের এমন সময়েক সময় আসে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। সবকিছু বলার পরও যদি কেউ জেনে-বুঝে না বোঝে তাহলে সেখান থেকে চুপচাপ ওঠে আসায় ভালো।

___” আমি তো আম্মুর মেয়ে তাইনা! কিন্তু দেখ আম্মু আমাকে বুঝলো না। আম্মু আমাকে সময় দিলো না। আমি নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার আগেই আম্মু আমাকে পুরো জীবন গুছিয়ে নিতে বলছে। আমি নিজেকেই গুছিয়ে নিতে পারছি না। অন্য কে নিজের জীবনের সঙ্গে গোছাবো কী করে আপু! জানিস আপু ঘৃণা হচ্ছে নিজের ওপর, আমার সাথে যা হচ্ছে সেটার দায়ী আমি নিজেই।
আইরার ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথায়। আরিশা বোনকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মুখোমুখি করে বলল,
___” সময় যেমন কারো জন্য থেমে থাকে না। জীবনটাও কারো জন্য থেমে থাকে না। কিন্তু মায়া টা কারো জন্য থেমে থাকে। শুধু একজনের মায়া থেকে বাঁচতে আরেকজন কে আগলিয়ে নিতে হয়।
___” আমি পারবো না আপু!
___” নিজে কে ভালো রাখার জন্য তোকে পারতেই হবে বোন।
আইরা বোনের দিকে অসহায় মুখে তাকিয়ে রইলো। আরিশা আরো এটা-ওটা বুঝাতে লাগলো আইরা কে।

আরাত রাফি দের বাড়ি থেকে এসে সোজা ওয়াশরুমে চলল পরনের পোশাক চেঞ্জ করতে। প্রায় পনেরো মিনিট সময় নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো। গুনগুন করতে করতে জামাকাপড় গুলো বেলকনির দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। গুনগুন করতে করতে আয়নায় সামনে হাতের চিরুনি নিয়ে মাথার চুলগুলো বেনি করতে লাগলো। হটাৎ মাহিরের কথা মনে পড়তেই চিরুনি তাড়াহুড়ায় রেখে দিয়ে বিছানার সামনে এসে ফোনটা হাতে তুলে নিলো। ফেসবুকে ঢুকতেই চোখে পড়লো মেহরাব ইসলাম মাহির আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। আরাত খুশিতে এলোমেলো ভাবে নাচতে শুরু করলো

___”ধ্যাত।
আরাত নাচতে নাচতে পাগলামিতে নিজের মাথায় গাট্টা মারলো। পুনরায় বিছানায় ওঠে কম্বল টেনে শরীরে জরিয়ে নিলো। আরাত মাহিরের ফেসবুক আইডি দেখতে লাগলো, এটা পার্সোনাল ফেসবুক আইডি। ফ্রেন্ডলিস্টে শুধু কয়েকজন। হয়তো মাহিরের ফ্রেন্ড সার্কেল হবে। আরাত মাহিরের আইডি দেখতে দেখতে মাহিরের ফেসবুক পেইজের লিংক চোখে পরলো। ফেসবুক পেইজ মধ্যে ঢুকতেই চোখে পরলো এক মিলিয়নের উপরে ফলোয়ার। ভার্সিটির নানারকম পিক। বন্ধুবান্ধব কে নিয়ে ঘোরাঘুরির ভিডিও। হাজার হাজার লাইক কমেন্ট সেখানে। আরাতের চোখ আটকে গেলো একটা শ্যাম বর্ণ শরীরে কালো টি-শার্টের উপরে সাদা এপ্রোন পরিহিত মাহিরের উপর। গলায় ঝোলানো স্টেথোস্কোপ। মাহির ভার্সিটির মাঠে সবুজ ঘাসের উপর দুহাতে ভর দিয়ে আকাশের দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। আরাত বেশ কিছুক্ষণ পিক টা দেখার পর। ডাউনলোড করে নিজের গ্যালারিতে রাখলো। মনের মধ্যে প্রিয় এক অনুভুতির জাগ্রত জানাল দিয়ে গেলো। আরাত মাহিরের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছে প্রায় পনেরো মিনিটের বেশি হবে। মাহির কে ফেসবুকে একটিভ দেখা যাচ্ছে। আরাত মেসেঞ্জারে ঢুকে একেকবার একেকটা টাইপিং করছে আর ডিলিট করে দিচ্ছে। পুনরায় টাইপিং করছে তো ডিলিট করে দিচ্ছে। আরাত খুঁজে পেলো না কী বলে শুরু করা যায়। আরাত ফোনটা বুকের উপরে রেখে অন্ধকার ছাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো কী বলবে কী লেখবে। হটাৎ বুকের উপরে ফোনটা মেসেজের শব্দ হতে আরাত ব্যস্ত হতে ফোনটা বুক থেকে ফোন হাতে তুলে নিলো,

___” তুমি আসলেই অদ্ভুত এক মেয়ে!
আরাত মাহিরের মেসেজ টা পরতে মনের মধ্যে ধুকপুক করতে শুরু করলো। এই প্রথম গভীর রাতে একটা ছেলের সঙ্গে মেসেজ করছে। তাও ছেলেটা পছন্দের মানুষ। আরাত মিষ্টি অনুভূতি নিয়ে টাইপিং করলো,
___” কেনো?
ওপাড়ে মাহিরের মেসেজ,
___” এত সময় নিয়ে টাইপিং করছো, এত অপেক্ষার পড়ে তোমার মেসেজ পেলাম না।
___” ও।
___” শুধু ও! আর কিছু বলবে না?
আরাত খুঁজে পেলো না, আর কী লেখা যায়, মাহিরের ওপাশ থেকে পুনরায় মেসেজ এলো,
___” ওকে ঠিক আছে, বিরক্তি করলাম গুড নাইট।
আরাত মাহিরের মেসেজ দেখে ব্যস্ত হাতে টাইপিং করতে লাগলো ,
___” আপনি আমার মেসেজের অপেক্ষায় ছিলেন?
___” তোমার কী মনে হয় ?
আরাত মেসেজ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহির ওপাশ থেকে রিপ্লাই করল। আরাত কে পুনরায় কোনো মেসেজ দিতে না দেখে। মাহির নিজে থেকে মেসেজ করলো,

___” উদ্ভুত মেয়ে?
___” হুম
মাহির আরাত কে উদ্ভুত মেয়ে বলে ডাকে উওর করতে দেখে মুচকি হাসলো। পুনরায় টাইপিং করলো,
___” তোমাকে তুমি বলে ডাকলাম। আমার কেউ খুব আপন হয়ে গেলে। তার প্রতি আমার আপনি ডাকটা আসে না।
___” আমি আপনার আপন?
___ ” হ্যাঁ আপন বাট নিজের না, তুমি কী তোমাকে আমার নিজের করে নেওয়ার অধিকার দিবে অদ্ভুত মেয়ে?
___” আরাত মেসেজ টা পরতে মনের মধ্যে ধুকপুক থেকে টিপটপ শব্দতে পরিনত হলো। আরাত অন্ধকারে চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে রাখলো। মাহির পুনরায় আরাতের কোনো মেসেজ না পেয়ে টাইপিং করলো,
___” রাত থেকে ভোর হওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। ভার্সিটির মাঠে আমার উওর টা চাই অদ্ভুত মেয়ে। তোমার উওরের অপেক্ষায় থাকলাম।
আরাত শুধু মেসেজ টা দেখলো, উওর করলো না। রাত থেকে ভোর হয়ে গেলো। ভোরে পাখিদের কিচিরমিচিরের শব্দে আরাতের ঘুম ভেঙে গেলো। ফুরফুরে মন নিয়ে আরাত ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলল।

আনাস রুম থেকে বের হতে হতে আদিবা তালুকদার কে ডেকে কফি চাইলো,
___” মা আমাকে একটা কফি বানিয়ে দেও।
আদিবা তালুকদার ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখলেন আনাস সোফাতে বসে কপালে হাত বোলাচ্ছে।আদিবা তালুকদার রাগী গলায় বললেন,
___” আমাকে হুকুম না করে যার কফি সে এসে নিয়ে যাক।
আনাস নিজের মাকে উওর করতে দেখে কিচেন রুমের দিকে তাকালো। রাবেয়া তালুকদার ছোট জায়ের কথায় ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে নিজেই আনাস এর জন্য কফি বানে নিয়ে গেলেন।

___” আনাস বাবা তোমার কফি।
___” ধন্যবাদ বড়মা।
আনাস রাবেয়া তালুকদার কে কফি দিতে দেখে হাসি মুখে ধন্যবাদ জানালো। রাবেয়া তালুকদার পুনরায় কিচেন রুমের দিকে চলে গেলেন। আনাস কফি খাওয়ার মধ্যে হটাৎ ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। আনাস ফোনটা রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে আশিক বলে উঠলো,
___” দোস্ত আমি শুনলাম তুই সালমান খান থেকে বাপ্পারাজ হয়ে গেছিস?
আনাস বিরক্তি মুখে বলল,
___” তুই কই এখন?
___” আমি পাহাড়ের সৌন্দর্য দুচোখ ভরে অনুভব করছি দিস ইস ফিলিংস দোস্ত।
আনাস আশিকের চিৎকারের মুখে চ জাতীয় শব্দ করে ফোনটা কান থেকে দূরে সরালো। আশিকের চিৎকার বলে দিচ্ছে আশিক কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আনাস ফোনটা পুনরায় কানে তুলে বলল,

___” আমার উপর ভরসা রাখ আর ওখান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যুর ফিলিংস ইনজয় কর।
___” লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। বন্ধু নামে শত্রু তুই। আমি এখান থেকে মৃত্যুর ফিলিংস নিতে যাবো আর তুই আমার ভবিষ্যৎ বউয়ের পিছু লাগবি। তোর প্রতি আমার কেনো ভরসা নেই দোস্ত। ভরসা কেনো তোর প্রতি আমার বিশ্বাস টা কাজ করে না এখন। তুই সালা সালমান খান থেকে বাপ্পারাজ হয়ে গেছিস। কখন যানি বাপ্পাারাজ থেকে শাকিব খান হয়ে যাস আল্লাহ মালুম।
আশিকের কথায় আনাস এর মাথা ব্যাথা পুনরায় জেগে উঠলো। আনাস বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো,
___” সালা ফোন রাখ। আমি বদ দোয়া দিলাম তোর বকবকানির জন্য তোর কপালে বউ জুটবে না।
___” এই দাঁড়া দাঁড়া, আরেকটা কথা বলার আছে!
___” জলদি বলে ফোন রাখ।
___ কী দোস্ত, ঠিক হইলো তো এই প্লে বয় আশিকের বাণী, প্রেমে তো তোকে পরতেই হইলো দোস্ত ?

আনাস আশিকের কথার উত্তর না করে বিরক্তি হয়ে ফোনটা কেটে দিলো। এতক্ষণ কফি খেয়ে যতটুকু ব্যাথা কমে এসেছিলো। আশিকের কথায় পুনরায় বেড়ে গেলো মাথা ব্যাথা। আনাস সোফাতে মাথা এলিয়ে দিলো। প্রায় তিন মিনিট পর আরাত হাতে মাথা ব্যাথার মলম নিয়ে আনাস এর পাশে বসলো। আনাস মাথা তুলে আরাত কে কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিজের পাশে বসতে দেখে বলল,

___” কলেজ যাচ্ছিস?
___”হুম।
___” বিছানার উপরে ওয়লেট রাখা। এক হাজারের বেশি নিবি না বলে দিলাম।
___” ওকে পনেরো শোর নিচে নিবো না। দেখি মাথা টা এদিকে করো কপালে মলম লাগিয়ে দেয়।
আনাস বোনের কথায় বিরক্তি হয়ে বলল,
___” এক হাজারের বেশি নিলে, কাল থেকে তোর টাকা নেওয়া বন্ধ।
___” তুমি আরেকটা কথা বললে, পনেরোশো থেকে দুহাজার নিয়ে নিবো।
আরাত আনাস এর মাথা নিজের দিকে এগিয়ে নিয়ে কপালে মলম লাগিয়ে দিতে দিতে বলল কথাটা। আনাস বোনের কথায় মুচকি হাসলো শুধু। পুনরায় আরাত কে বলল,

___” বুড়ী?
___” হুম বলো?
___” আমাকে ইরার সঙ্গে আলেদা দেখা করে দিবি, তোকে আমি পাঁচ হাজার নগদ দিয়ে দিবো। প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় আমার ওয়লেট থেকে তোর মন মতো টাকা নিয়ে নিবি আমি কিছু বলবো না প্রমিস করলাম।
আরাত আনাস এর কপালে মলম লাগনো বন্ধ করে অবাক চোখে আনাস কে দেখতে লাগলো। আনাস চোখ তুলে বোনের দিকে চাইলো।

___” আইরা আপু রাজি হবে না!
___” হ্যাঁ আমি জানি ইরা রাজি হবে না। তুই ওর সঙ্গে লাইব্রেরীতে যাবি বলে জেদ ধরবি। দেখবি ও রাজি হয়ে যাবে। আমি লাইব্রেরীতে তোদের জন্য ওয়েট করবো!
___” কেনো আপুর সঙ্গে দেখা করতে চাইছো?
আনাস বোনের কথায় খুশি হয়ে আরাতের হাত ধরে হাসি মুখে বলল,
___” বুড়ী আমি আমার অনূভুতি বুঝতে পেয়েছি। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। আই লাভ ইরা। আমি ওর সঙ্গে কথা বলে সব ঠিক করে নিবো। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইবো। ও আমাকে মাপ করে দিবে বল?
আরাত আনাস এর হাসি মুখে দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে মুখ ব্যঙ্গ করে বলে উঠলো,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৮

___” কারো মন ভাঙ্গার পড়ে, তার কাছে মাপ চাওয়া। আর তার প্রতি ভরসা রাখা সে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। কোনো লাভ নেই ভাইয়া। কবর যতই সুন্দর করে সাজাও না কেনো। মানুষ আর বেঁচে উঠবে না।
আরাত মলমটা হাতে নিয়ে সিড়ির দিকে নিজের রুমের উদ্দেশ্য চলে গেলো। আনাস বোনের যাওয়ার দিকে অসহায় মুখে তাকিয়ে রইলো শুধু

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩০