Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩০

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩০

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩০
জান্নাতি আক্তার জারা

আরাত স্কুটি নিয়ে কলেজে প্রবেশ করতে মনের মধ্যে ধুকপুকানি বাড়তে লাগলো। রাতে মাহিরের বলা কথা মনে পড়ে গেলো। আরাত স্কুটি থেকে নেমে সন্ধ্যা কে ফোন লাগাতে যাবে। হটাৎ রুপা নামে মেয়েটা ডেকে উঠলো,
___” আরাত?
আরাত ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে সেদিকে তাকালো। রুপা মেয়েটার সঙ্গে প্রথম দিন কথা কাটাকাটি হওয়ার কারণে আরাত কথা বলতে সংকোচ করলো।রূপা পুনরায় ডাক ছাড়লো,

___” আরাত এদিকে একটু আসবে! কথা ছিলো?
___” হ্যাঁ আপু এক মিনিট।
আরাত ফোনটা ব্যাগে রেখে দিতে দিতে রুপার সামনে এসে দাড়ালো,
___” বলেন আপু?
___” এখানে বলা যাবে না আমার সঙ্গে বট গাছের নিচে চলো।
রুপা হাঁটতে হাঁটতে বলল, আরাত রুপার কথায় জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে প্রশ্ন করলো,
___” কেনো আপু! এখানে বললে প্রবলেম কী?
রুপা আরাতের কথায় বিরক্তি মুখে পিছনে ফিরলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

___” তুমি অলওয়েজ বেশি কথা বলো, আমি তোমার সিনিয়র। সিনিয়রদের কথা মেনে চলতে হয়। চলো আমার সঙ্গে।
আরাত কথা বাড়ালো না রূপার পিছু পিছু চলল কলেজ মাঠে বট গাছের নিচে। রুপা আরাত কে দু’মিনিট দাঁড়াতে বলে ক্লাস রুমের দিকে গেলো। আরাত বেশ কিছুক্ষণ এদিক ওদিক হাটাহাটি করে অপেক্ষা করলো রুপা আসার। রুপা কে আসতে না দেখে আরাত বিরক্তি মুখে নিজের ক্লাস রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়াতে হটাৎ পিছন থেকে একটা কন্ঠ ভেসে আসলো,

___” আমার উত্তর কই অদ্ভুত মেয়ে?
আরাত বুকের মধ্যে অসংখ্য টিপটিপ শব্দ নিয়ে পিছনে ফিরলো। মাহির আরাতের দিকে প্রশ্নতুর চাওনি দিয়ে তাকিয়ে আছে। পুরো কলেজের নজর মাহির আর আরাতের উপর। সবার চাওনি তে বলে দিচ্ছে মাহির কিসের উওর চাইছে এই মেয়েটার কাছে। যদিও পুরো কলেজ বুঝতে পেয়ে গেছে মাহির আর আরাতের মধ্যে কিছু একটা চলছে। যদি কিছু না চলতো তাহলে আরশ আর রাফি কেনো বলবে কলেজের ছেলেরা যেনো আরাতের থেকে দূরে থাকে। তাদের দুদিনের ফিসফিস অলোচনার অবসর কাটাতে সবার নজর মাহির আর আরাতের উপর । আরাত আশেপাশে তাকিয়ে সবাই কে একনজর দেখে নিয়ে মনের মধ্যে জোর খাটিয়ে মাহির কে বলল,

___” যদি উওর হ্যাঁ হয়! তাহলে সারাজীবন পাশে থাকতে হবে। কথা দেন সারাজীবন পাশে থাকবেন ?
আরাত সবার সামনে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল।মাহির আরাতের বাড়িয়ে দেওয়ার হাতের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আরশের দিকে তাকালো। আরশ চোখের ইশারায় হাতে হাত রাখতে বলল। মাহির কিছুটা সময় নিয়ে মুচকি হেসে আরাতের হাতে হাত রাখলো।
___” কথা দিলাম।
সঙ্গে সঙ্গে আরশ হাত দিয়ে মুখে শিস বেজে উঠলো । আরশের শিস বাজানোতে পুরো কলেজ শব্দ করে চিল্লাতে চিল্লাতে তালি দিয়ে উঠলো। আরাত নিজের হাত আর মাহিরের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলো বেশ কিছুক্ষণ। প্রথম কোনো ছেলের ছোঁয়া মনের মধ্যে হাতুড়ি বাজাচ্ছে যেনো। আরাত কাঁপা কাঁপা বুক নিয়ে মাহিরের চোখের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলে উঠলো,

___” কথা দিলেন, কথা রাখতে পারবেন তো! আমি আবার ওয়াদা ভঙ্গ করা মানুষ দের পছন্দ করি না।
___” একবার যেহেতু হাতে হাত রেখেছি বিশ্বাস রাখতে পারো।
___” রাখলাম বিশ্বাস।
দুজন দুজনের চোখাচোখি তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো। তাঁদের প্রেমকথনে পুরো কলেজ সাক্ষী রইলো
মাহির আরাত কে বলে উঠলো,
___” চলো আজকে পুরো শহর ঘুরবো তোমার পছন্দের অলিগলিতে।
___” আজকে না একদিনে সবকিছু খুব সহজে পেয়ে গেলে ভালো লাগা ওঠে যাবে। অন্য একদিন আপনার সঙ্গে ঘুরবো পাশাপাশি হাঁটবো। অল্প অল্প করে অনুভূতি গুলো অনুভব করবো। সেদিন একসঙ্গে দুজন স্মৃতিচারণ করবো আজকের দিনটা।
মাহির আরাতের দিকে তাকিয়ে রইলো। সবাই চললো যে যার যার ক্লাসে। মাহির আরশ দাঁড়িয়ে থাকতে আরাত তাঁদের থেকে বিদায় নিয়ে নিজের ক্লাসে চলল। মাহির আরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরশ কে বলে উঠে,

___” তোর কথা ঠিক হবে তো?
___” অবিয়াসলি হতেই হবে, তুই তো আরাত কে লাইক করোস আসতে আসতে ভালোবেসে ফেলবি।
মাহির আরশের কনফিডেন্ট দেখে আরশের দিকে তাকালো। আরাত ক্লাসে মন বসাতে পারছে না। নতুন নতুন প্রেমে পড়লে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ভালোবাসার পুরুষ কে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে। আরাত পুরো ক্লাস শুরু মাহির কে নিয়ে ভেবেই চলছে। কলেজ ছুটির শেষে বাড়িতে ফিরে খাবার খেয়ে পড়াশোনার বাহানায় মাহিরের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলো। দিন কেটে রাত রাত কেটে ভোর। আনাস ফজরে নামাজ আদায় করতে রুম থেকে বের হয়ে আসার সময় আরাত কে লক্ষ করলো। আরাত কে ফিসফিস করতে দেখে আনাস নিজের ফোনে সময় দেখে। ফজরের আজান পড়ছে মাএ। বাড়ির কেউ উঠে নাই এখনো। আনাস আরাতের দরজার নক করে ডেকে উঠলো ।

___” বুড়ী দরজাটা খোল?
আরাত আনাস এর কন্ঠ শুনে তাড়াহুড়ো ফোন কেটে আনাস কে দরজা খুলে দিয়ে বলল,
___” কিছু বলবে ভাইয়া?
___” এতো ভোরে জেগে কেনো?
___” নামাজ পারবো এজন্য উঠলাম, তুমিও তো এতো ভোরে নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছো। আমি কী তোমাকে জিজ্ঞাস করেছি এতো ভোরে তুমি উঠেছ কেনো?
___” এতো রেখে যাচ্ছিস কেনো! মনে হচ্ছে তোর কোনো কাজে আমি ভিলেন হয়ে এসেছি?
আরাত নিজের কথায় আমতা আমতা করতে লাগলো। আনাস আরাতের চোখমুখ খেয়াল করে পুনরায় বলল,
___” তোর চোখ মুখ ফোলাফোলা লাগছে কেনো! পুরো রাত জেগে ছিলি?
___” না ভাইয়া অতিরিক্ত ঘুমের কারণে এমন লাগছে
তুমি যাও মসজিদে জামাদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
কথাটা বলে আরাত আনাস কে হাত দিয়ে থেলে রুম থেকে বের করে দিচ্ছে। আনাস বোনের তারাহুরো দেখে রুম থেকে বের হতে যাবে। মেসেজের শব্দ থেমে গেল। আনাস পিছন ঘুরে ফোনের দিকে তাকালো পুনরায় বোনের দিকে তাকাতে আরাত মুখে হাসি দিলো। আনাস কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আনাস কে চুপচাপ রুম থেকে চলে যেতে দেখে আরাত বুকে হাত দিয়ে বড়োকরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। পুনরায় তারাহুরো করে ফোনের কাছে এসে মেসেজের রিপ্লাই করতে লাগলো।

আনাস অফিসে কাজ গুলো ব্যস্ত হতে তারাহুরোয় শেষ করতে লাগলো । অফিস থেকে বাড়িতে ফিরে আজকে শেখ বাড়িতে যাবে। আইরা সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে। আনহা শেখের কাছে আইরা কে চাইবে। আনহা শেখ ভাতিজার আবদার ফেলতে পারবে না। আনাস মনে মনে কথাগুলো ভেবে খুশিমনে হাতের কাজগুলো দ্রুত হাতে শেষ করতে লাগলো। কাজ করার মধ্যে হটাৎ আরাতের অসময়ে ফোন আসায় আনাস এর হাসি মুখে চিন্তার রেস ফুটে উঠলো। আনাস ব্যস্ত হতে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলতে আরাত বলে উঠলো,
___” ভাইয়া তুমি আইরা আপুর সঙ্গে আলেদা দেখা করতে চেয়েছিলে না। হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন দিলাম। দেখা করতে চাইলে আধাঘন্টা পর লোকেশনে চলে এসো।

কথাটা বলেই আরাত আনাস কে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো। আনাস অফিসে কাজ ফেলে বাইক নিয়ে ছুটলো আরাতের দেওয়া লোকেশনে। বাইক নিয়ে পনেরো মিনিটের রাস্তা আনাস সাত মিনিটে পৌঁছালো। বাইকটা পার্কিং করে আশেপাশে চোখ বোলালো। ছোট একটা পার্ক মানুষজন নেই বললেই চলে। শুধু কয়েকজন যুবক যুবতীর জুটি দেখা যাচ্ছে। আনাস চারপাশে চোখ বুলিয়ে সময় দেখে নিলো। আরাতের বলা টাইম অনুযায়ী আরো তেরো মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। আনাস হাটাহাটি করছে আর টাইম দেখছে বারবার আজকে যেনো সময় ফুরাচ্ছে না।

বিকালে আইরা আরিশার জোরাজোরিতে রেডি হয়ে রাফির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে। রিকশা প্রায় দশ মিনিট সময় নিয়ে এসে দাড়ালো পার্কে। আইরা রিকশা থেকে নেমে টাকা মিটিয়ে দিয়ে আশপাশে তাকালো। তিন-চারটা জুটির সাইটে দূরে বাইকের সঙ্গে শরীর এলিয়ে দেওয়া একটা ছেলেকে চোখে পরলো। শুধু পিঠটা দেখা যাচ্ছে আইরা রাফি ভেবে সেদিকে এগিয়ে গেলো। ধীরপায়ে ছেলেটার সামনে এসে দাঁড়াতে আনাস কে ফোন হাতে নিয়ে ওদিক এদিক তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশ অবাক হলো আইরা,
___” আপনি এখানে?
আনাস নিজের সামনে আইরা কে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠলো। পরমুহুর্তে আইরা কথা কানে পরতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে হাসি মুখ গম্ভীর করে উওরের বদলে প্রশ্ন করলো,

___” কেনো অন্য কারো আসার কথা ছিলো ?
আইরা নিলিপ্তর উওর,
___” হ্যাঁ।
আইরা উওরে আনাস এর ভ্রু কুচকে এলো,
___” কে সে?
___” আমার ফিয়ান্সে।
আইরা কথায় আনাস এর মুখে হাসি দৈর্ঘ্য হলো। হাসি মুখে হটাৎ আইরা কে জরিয়ে ধরে বলে উঠলো,
___” রিয়েলি তুই আমাকে মেনে নিয়েছিস। আমি জানতাম আমার ইরা আমাকে ভুল বুঝবে না। এইদিনের জন্য সরি। এইদিন নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নি। শোন আমরা নতুন করে সব শুরু করবো। তুই একা না আমিও তোকে খুব ভালোবাসবো আই এম সরি রে ইরা আই এম সরি।

___” আমি রাফি মির্জার কথা বলছি আনাস ভাই?
আনাস এর খুশি তে আইরা চোখে পানি জমে গিয়েছে। আইরার কান্নাভেজা কন্ঠে আনাস এর হাত আলগা হয়ে গেলো। হাসি মুখটা মলিন হয়ে উঠলো। আনাস আইরা কে ছেড়ে দিয়ে সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে আইরা কে বলল,
___” একটা সত্যি কথা বলবি?
___” বলেন!
___” আগে বল যা বলবো সত্যি সত্যি উওর দিবি!
আইরা মুখে বিরক্তি ফুতে তুলে বলে উঠলো,
___” আপনি কিছু বলবেন, নাকি চলে যাবো
এখান থেকে?
___” ভালোবাসিস আমায়?
আইরা সময় নিয়ে আনাস এর চোখ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে উওর করলো,

___” ভালোবেসে ছিলাম এক সময়, এখন ভুলে গেছি
___” চোখ নামিয়ে বললি কেনো! জানিস তো কাউকে মন দিয়ে ভালোবাসলে ভুলে থাকার অভিনয় করা যায়। ভুলে থাকা যায় না?
আইরা আনাস এর উওর করলো না। আনাস কে পাশকাটিয়ে চলে যেতে লাগলো। আনাস থায়- জায়গায় দাড়িয়ে বলে উঠলো,

___” পালাচ্ছিস! আমার থেকে পালিয়ে যেতে পারবি, ভালোবাসা থেকে পালাতে পারবি তো ইরা?
আইরা পা থেমে গেলো। সে ভালোবাসা থেকে পালাচ্ছে না নিজের থেকে পালাচ্ছে। আর কিছুক্ষণ এখানে থাকলে হয়তো নিজেকে সামলাতে পারবে না। আইরা কে পুনরায় দাঁড়াতে দেখে আনাস তাচ্ছিল্য স্বরূপ হেঁসে উঠলো। ধীর পায়ে আইরা কাছে গিয়ে আইরা কান্নাভেজা মুখটা নিজের দু’হাতে আবদ্ধ করে নিচু স্বরে বলে উঠলো,
___” তোর সাথে একসঙ্গে বাঁচার খুব গভীর টান অনুভব করেছি ইরা। আমার ইচ্ছাটা পূরণ করবি প্লিজ?
আইরা দুহাত আনাস এর হাতে রাখলো। কান্নার জন্য ভিতর থেকে কথা বের হচ্ছে না। তবুও ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় থেমে থেমে বলে উঠলো,

___” হৃদপিণ্ড যখন সুখের আশায় ক্ষুধার্ত ছিলো। এতো খুঁজেও সুখ কে নিজের করতে পারিনি। হাঁপিয়ে ওঠে সুখের দুয়ার থেকে দূরে সরে আসলাম। সুখ আমার জীবনে ফিরলো ঠিকই। আমার ফিরার পথ বন্ধ হওয়ার পর। এখন কিভাবে সুখ কে আগলে নিবো একটু বলবেন আনাস ভাই?
___” তুই চাইলে সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে। শুধু একবার বল! আমি সব ঠিক করে নিবো?
___” আমার চাওয়ার সঙ্গে আমার পরিবার জরিয়ে আছে আনাস ভাই। আমার আপুর সংসার জরিয়ে আছে।
___” তুই চেঞ্জ হয়ে গেছিস ইরা। এতো বাহানা দিচ্ছিস কেনো! একসময় আমার ইরার প্রাধান্য ছিলাম আমি। পরিবার কে কেনো আমাদের মধ্যে ঢোকাচ্ছি?
আইরা আনাস কে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালো। আনাস অবাক নয়নে আইরা কে দেখছে। আইরা তাচ্ছিল্য স্বরূপ হেঁসে বলে উঠলো ,

___” বলে ছিলাম না আমার পরিবর্তন আপনাকে ভয়ংকর কষ্ট দেবে। মিললো তো আমার কথা। আমি আপনার হাহাকার অর্তনাদ নিজ কানে শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নিয়তির খেলা দেখেন! আপনাকে আমার জন্য দুইদিনের করা পাগলামি গুলো। আমার মন আপনাকে আমার করে নিতে চাইছে। অথচ দেখেন বছরের পর বছর আপনার জন্য পাগলামো করার পরেও আপনার মন একটি বারও আমাকে নিয়ে ভাবে নি।
আইরা কথায় আনাস পুনরায় আইরার কাছে এসে আইরা দুহাত শক্ত করে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,

___” কে বলছে তোকে নিয়ে ভাবে নি। তোকে নিয়ে না ভাবলে তোর পাগলামি গুলো কখনো সহ্য করতাম না। তোকে নিয়ে না ভাবলে তোকে অনেক আগেই আমার জীবন থেকে দূর করতাম। তোর পাগলামির পিছনে আমার খুশি লুকিয়ে থাকতো ঠিকই কিন্তু আমি বুঝতে পারতাম না। তোর পরিবর্তন আমাকে বুঝচ্ছে তোকে আমি কতটা ভালোবাসি। তোর দূরে যাওয়া আমাকে বুঝচ্ছে তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না আমি। আমি আগে তোর প্রতি বিরক্তি ছিলাম কিন্তু দেখ। এখন তোর জন্য মায়ের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার পরে-ও তোর প্রতি বিরক্তি আরছে না আমার।
আনাস শান্ত হয়ে দাড়ালো। আইরা আনাস এর চোখের দিকে ফাঁকা চোখে চেয়ে আছে। আনাস নিঃশ্বাস নিয়ে আইরা থেকে কয়েক পা পিছয়ে নিয়ে পুনরায় শান্ত কন্ঠে বলতে শুরু করল,

___” নিয়তির কথা বললি না! দেখ আমার দিকে চেয়ে দেখ। নিয়তি আজ আমাকে তোর কাছে তোর জন্য ভিক্ষা চাওয়াচ্ছে। কিছু মানুষ সময় গতিতে চেঞ্জ হয়ে যায়। আর কিছু মানুষ তার সম্মান বাচাতে চেঞ্জ হয়ে যায়। তুই সময়ের গতিতে কেমন করে চেঞ্জ হয়ে গেয়েছিস তাইনা। আর আমাকে দেখ আমি আমার সম্মান কে না তোকে চাইছি। ভালোবাসা কী অদ্ভুত তাই-না।
দুজনের কথাকথনের মধ্যে হটাৎ আইরার ফোন বেজে উঠলো। আইরা ফোনটা সামনে ধরতে দেখলো রং নাম্বার। আইরা একনজর আনাস কে দেখলো। আনাস ফোন আসাতে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে। আইরা গলা খাঁকারি দিয়ে ফোনটা রিসিভ করে বলে উঠলো ,

___” হ্যাঁ বলেন?
___” সরি লেট হয়ে গেলো, কই আপনি আইরা?
রাফির কথায় আইরা পার্কের গেটের দিকে তাকালো। রাফি গেটের কাছে দাড়িয়ে আশেপাশে খুঁজছে। আইরা ফোনে রাফি কে বলল,
___” বা দিকে তাকান।
রাফি আইরা কথা অনুসরণ করে বা দিকে তাকিয়ে আনাস আর আইরা দিকে হাসি মুখে আসতে লাগলো। আনাস আইরা কথায় গেটের দিকে তাকিয়ে রাফি কে আসতে দেখে মলিন মুখে ছোট করে বলল,
___” সত্যি রাফির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিস?
আইরা রাফির আসার দিকে তাকিয়ে উওর করলো,

___” হুম।
___” ও
আইরা আনাস এর বাথ্যাতুর কণ্ঠ শুনে রাফির থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আনাস এর উপর রাখলো। এতক্ষণে রাফি তাদের কাছে এসে গেছে। রাফি হাসি মুখে আনাস কে বলল,
___” হাই ব্রো তুমি এখানে! তুমিও কী স্পেশাল কারো সঙ্গে দেখা করতে এসেছো?
___” হ্যাঁ।
আনাস রাফি দিকে তাকাতে তাকাতে উওর করলো। রাফি হাসি মুখে পুনরায় বলে উঠলো,
___” রিয়েলি কই সে! আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবে না?
___” আসতে লেট হবে ওর।
রাফি আনাস এর কথায় চোখ টিপ দিয়ে বলে উঠলো,

___” ওকে ব্রো হ্যাপি ওয়েটিং।
আনাস রাফির কথায় মুখে হাসি ফুটালো। রাফি পুনরায় বলে উঠলো,
___” ব্রো ডোন্ট মাইন্ড আমি কী তোমার কাজিন কে নিয়ে আলেদা কথা বলতে পারি?
আনাস রাফির কথায় আইরা দিয়ে চেয়ে বলল,
___” ও সিওর ইয়া ক্যারি অন।
রাফি হটাৎ আইরা এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো। আইরা নিজের হাত রাফি কে ধরতে দেখে হুট করে আনাস এর দিকে তাকালো। আনাস দুজনের হাতের দিকে দাঁতে দাঁত খিঁচে তাকিয়ে আছে।
___” চলুন আইরা আমরা এদিকে বসে কথা বলি?

কথাটা বলে রাফি আইরার হাত ধরে হাঁটতে লাগলো। আইরা চুপচাপ রাফির সঙ্গে হাঁটতে লাগলো। আনাস দুজনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিজেকে সামলাতে না পেয়ে বাইক নিয়ে পার্ক থেকে বেরিয়ে গেলো। আইরা বাইকের আওয়াজে পিছন ফিরে আনাস কে যেতে দেখে চোখে পানি চলে এলো। রাফির হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে টলমল চোখে বেছে বেঞ্চে বসে পরলো। রাফি আইরার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি বসা। দুজনে নীরবতায় কেটে গেলো বেশ কিছুক্ষণ। মাটিতে দুটো প্রজাপতি খেলা করছে। আইরা অনুভূতিহীন চোখে সেই খেলা দেখায় মগ্ন। রাফি আইরা চোখ অনুসরণ করে প্রজাপতির খেলা দেখতে দেখতে মলিন মুখে নীরবতা ভেঙ্গে বলে উঠলো,

___” ভুলতে পারছেন না ?
___” কাকে ভুলবো ?
___” কেনো যাকে ভুলে যাওয়া জন্য আপনার আম্মু, আপনার জন্য আমাকে ঠিক করেছে?
আইরা চোখ তুলে তাকালো রাফির দিকে। কথা বলতে পারলো না। নিমেষেই টলমল চোখে এক ফোঁটা পানি গাল বয়ে গড়িয়ে পরলো। রাফি আইরা চোখের পানি দেখে অন্য দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলল,
___” চোখের পানি ফেলবেন না প্লিজ। আমার সামনে আপনি অন্য কারো জন্য কান্না করছেন। এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার ভেতরে ছটফট লাগছে ওই চোখের পানি আমার জন্য না। অন্য কারো জন্য বের হচ্ছে।
আইরা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। কান্না করে দিলো। কান্না করতে করতে বলে উঠলো,
___” আপনি সবকিছু জেনে বুঝে কেনো আমাকে ভালোবাসতে চাচ্ছেন। আপনি তো জানের আমার মনে অন্য কেউ। তাহলে কেনো নিজের জীবনের সঙ্গে জড়াতে চাইছেন?

___” কারণ টা নিচ্চয় আপনার অজানা না আইরা! আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা আপনিও জানেন।
___” ভালোবাসা হুম ভালোবাসা ! দেখছেন আমি কতটা লাকী মেয়ে, আমাকে সবাই ভালোবাসে।আমাকে ভালোবেসে আমার আম্মু আব্বু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে। আপনি আমাকে ভালোবাসেন। সেও নিজের ভালোবাসা বুঝতে পেয়ে গেছে। আমাকে ঘিরে সবার এতএত ভালোবাসা। সবার কতশত ভালোবাসার আবদার। কিন্তু আমার আবদার গুলো কারো চোখে পারছে না।
___” পানিটা খেয়ে নিন, ভালো লাগবে!
আইরা রাফির দিকে তাকালো। রাফি পানির বোতল বাড়িয়ে দিয়ে আইরা দিকে তাকিয়ে আছে। আইরা কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে চোখের ইশারায় পানির বোতলটা নিতে বলল। আইরা রাফির হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে দুঢোক পানি খেতেই। রাফি পুনরায় আইরার হাত থেকে পানির বোতলটা হাতে নিয়ে মোকা লাগাতে লাগাতে বলল,

___” তারপর?
আইরা অবাক চোখে চাইলো রাফির দিকে। রাফি মুচকি হেসে পুনরায় বলল,
___” ভালোবাসা না ভাবলেন অন্তত বন্ধু ভেবে সবকিছু শেয়ার করতে পারেন। মনে করেন আপনার সামনে হুউউ মায়া হ্যাঁ। মনে করেন আপনার সামনে আপনার বেস্টফ্রেন্ড মায়া বসা। আপনি এখন মনটা হালকা করতে সবকিছু মায়ার সঙ্গে শেয়ার করছেন। একবার সবকিছু বলে দেখুন আমি আপনার বন্ধু হয়ে সবকিছু বুঝে ফেলবো!
আইরা রাফির কথায় নিজের উপর তাচ্ছিল্য হেসে উঠলো,
___” যেখানে আমার আম্মু আমাকে বুঝতে চাইছে না। আমি বিয়ে ভালোবাসা এগুলো থেকে মুক্ত হতে চাই। আমি নিজেকে গুছিয়ে নিতে চাই। সেখানে আপনি আমাকে বুঝবেন কিভাবে?

___” আচ্ছা আইরা আপনার আনুষ্ঠানিক বিয়ে পছন্দ
নাকি ঘরোয়া?
আইরা থতমত খেয়ে গেলো রাফির কথায়। অবিশ্বাস্য হয়ে রাফির দিকে তাকালো। রাফি পুনরায় নিজের হাতের পানির বোতলের মোকা খুলতে খুলতে বলল,
___” দুহাত বাড়ান।
আইরা কে আগের ন্যায় নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাফি পুনরায় বলল,
___” চোখমুখ কান্না করে ফোলা ফোলা লাগছে। এই অবস্থায় বাসায় পৌঁছালে আন্টি ভাববে ওনার মেয়েকে আগলিয়ে রাখতে পারবো না। তখন আমার কী হবে ভেবে দেখেছেন। কী হইলো হাত বাড়ান?
রাফির কথায় আইরা চুপচাপ দুহাত বাড়ালো। রাফি আইরা হাতে পানি ঢালতে ঢালতে মুচকি হেসে পুনরায় বলে উঠলো,

___” আমার ভালোবাসার উপর ভরসা রাখতে পারেন আমি আপনার সুখের জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে দিবো।
আইরা মুখে বিরক্তি ফুতে উঠলো, মন ভার করে রাফি কে বলল,
___” নিজের সুখের জন্য আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন?
___” আপনি যেমনটা ভাববেন। আমি আমার ডিসিশন চেঞ্জ করেছি। এনগেজমেন্ট বাতিল ডিরেক্টর বিয়ে করবো। বিয়ের শাড়ির কালার ডিসাইট করে ভাবিজান কে বলে দিবেন। আর এক মিনিট অপেক্ষা করুন আরছি আমি।
রাফি চলে গেলো। আইরার ভেজা মুখে চোখ বেয়ে পুনরায় পানি ফেলতে লাগলো। তিন মিনিটের মাথায় রাফি একটা রিকশা নিয়ে পার্কের গেটের সামনে দাড়ালো। আইরা কাছে এসে টিস্যুর প্যাকেট আইরার হাতে দিয়ে দিলো। আইরা রাফির সঙ্গে কথা না বলে বড়বড় পা ফেলে রিকশার কাছে গিয়ে। রিকশাতে উঠে রাফির চোখের আড়ালে চলে গেলো। রাফি থায় জায়গায় মলিন হেসে দাড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ।

দেখতে দেখতে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে। রাফি বাড়িতে ফিরে মা বাবা কে দিয়ে এনগেজমেন্ট বাতিল করে বিয়ের প্রস্তব রাখছে। আনহা শেষ রাজি সঙ্গে আহাদ তালুকদার রাজি এতে। আনহা শেষ আর আতিফ শেখের মধ্যে মেয়ে কে নিয়ে নিত্যদিন টুকিটাকি ঝামেলা লেগেই আছে। আরিশা শশুর বাড়িতে চলে গেছে। আইরা কলেজ আর নিজের রুম। নিজের বাড়িতে ঠিকমতো ঘুরে না। তালুকদার বাড়িতে যায় না এবং আনহা শেষ যেতে দেয় না। আরাত এই কয়েক দিনে মাহিরের সঙ্গে ফ্রি হয়ে গেছে। প্রতিদিন কলেজ শেষ করে কলেজের আশেপাশে ঘুরতে বের হওয়া। রাতে ফোন আলাপ। সবমিলিয়ে তাঁদের রিলেশনশিপ লাইফ চলছে ভরপুর। আনাস এর কানে আইরা রাফির বিয়ের খবর পৌছেছে। আইরার বিয়ে কথা আলোচনা হওয়ার পর থেকে অফিসের কাজের চাপ যেনো বেড়েই চলছে দিনকে দিন। আহাদ তালুকদার আনাস কে অফিসের কাজে ব্যস্ত রেখেন প্রতিদিন। এতটা ব্যস্ততার মধ্যে আনাস আনহা শেখের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টায় কমতি রাখে নি। এতে আনহা শেখ আনাস এর থেকে সবসময় দুরত্ব বজায় রেখে চলছেন। বাবা ফুপি মনোভাব বুঝতে পেয়ে আনাস অভিমানে সবার সঙ্গে কথা বলা কমে দিয়েছে। রাত সাড়ে দশটা আনাস অগোছালো শরীর নিয়ে ধীরপায়ে বাড়িতে ফিরলো।

ড্রয়িং রুমে কাউকে চোখে পরলো না। আনাস নিজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য আরাতের রুমে সামনে এসে দাঁড়াতে কানে পরলো। বোনের খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ আনাস জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো। পুনরায় আহিনের রুমে এসে আহিন কে পড়ার টেবিলে বসে থাকতে দেখে বুঝলো আরাত একাই নিজের রুমে। আনাস কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করলো। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করার পর নিজের রুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আধাঘন্টা সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে। আহাদ তালুকদার আর আদনান তালুকদার কে সোফাতে বসে টিভি দেখতে দেখতে গল্প করতে দেখলো।
___” বড়আব্বু আপনাদের সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিলো?
আনাস এর ডাকে বাড়ির দুই কর্তা সেদিকে তাকালো। আদনান তালুকদার আনাস কে কাছে ডাকলেন। আনাস তাদের কাছে আসতে আহাদ তালুকদার আনাস কে বললেন,

___” কী বলবে তুমি?
আনাস বাবার কথায় তাচ্ছিল্য হেসে বললো,
___” টেনশন করবেন না , আমি আমার জন্য আসিনাই।
___” তাহলে?
আনাস কিছুটা সময় নিলো কথা গুলো গুছিয়ে বলার জন্য। এতক্ষণে বাড়ির দুই গিন্নি এসে উপস্থিত হয়ে গেছে। সবার নজর আনাস এর উপর,
___” বড়আব্বু আরাত তো আমাদের বাড়ির একমাত্র মেয়ে?
___” হ্যাঁ, কী হয়েছে আরাতের?
___” বাবা প্লিজ আমার পুরো কথাটা শুনেন।
___” হ্যাঁ বলো শুনছি?
___” বাবা আরাত যদি পরের ঘরে যায়। তাহলে আমাদের বাড়িটা একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আমাদের বাড়ির একমাত্র আদরের মেয়ে। ওকে ছাড়া বাড়িটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে…

___” কেনো, আরাতের বিয়ে হয়ে যেতে যেতে আমাদের ঘরে তো দুটো নতুন মেয়ে আসবে। তোমার আর তাকবীরের বউ। তাহলে বাড়িটা ফাঁকা কই থাকবে?
আনাস মায়ের কথায় বিরক্তি হতে দেখা গেলো। পুরো কথা শেষ করতে দিচ্ছে না। আনাস মায়ের কথায় পুনরায় বলে উঠলো,
___” তোমার ঘরে শুধু দুটো না তিনটা ছেলের বউ আসবে। তিনটা ছেলের বউ মিলিয়ে কী তোমার মেয়ের জায়গা পূরণ করতে পারবে ?
সবাই আনাস এর কথায় চুপচাপ হয়ে গেলো। আদনান তালুকদার আনাস কে বললেন,
___” ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বাড়াও না, তোমার যে কথাটা বলার খোলাখুলি বলো?
___” হ্যাঁ বড়আব্বু বলছি।
আনাস হটাৎ সবার সামনে মেঝেতে নিজের বাবার কাছে হাঁটু মুড়ে বসলো। আহাদ তালুকদারের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে উঠলো,
___” বাবা আমি আমার বড়ো ভাইয়ের হয়ে আপনার কাছে আপনার মেয়ে কে নিতে চাই ! দিবেন আপনার মেয়েকে আমার ভাইয়ের বউ বানাতে।

___”মানে?
আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার দুজনে আনাস এর কথায় অবাক হয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাবেয়া তালুকদার বলে উঠলেন,
___” এসব কী বলছো আনাস! তাকবীর আর আরাত কিভাবে সম্ভব?
___” কেনো সম্ভব না বড়মা! তাকবীর ভাইয়ের বউ হিসেবে। আমাদের বাড়ির মেয়ে আমাদের বাড়িতে থেকে যাবে?
আদিবা তালুকদার বললেন,
___” তুমি কী পাগল হয়েছো আনাস। তুমি ওদের বয়সের ফারাক দেখছো কখনো। তারথেকে বড়কথা তাকবীরের সঙ্গে হানিয়ার বিয়ে কথা চলছে?
___” মা বিয়ের কথা চলছে, ঠিক হয়নাই এখনো। আর তাকবীর ভাইয়া হানিয়া কে ভালোবাসে না।
আহাদ তালুকদার আনাস এর কথায় বলে উঠলেন,
___” তুমি হটাৎ তাকবীর কে নিয়ে কেনো কথা বলছো। আর আরাত এখনো অনেক ছোট্ট মাএ কলেজে পা দিয়েছে ।

এতক্ষণে আদনান তালুকদার কথা বলে উঠলেন,
___” আনাস তুমি তোমার ভাইয়ের হয়ে প্রস্তাব রাখছো ভালো কথা। তাকবীর জানে এসব! আর তাকবীর কী রাজি হবে?
___” ভাইয়া আমরা তাকবীর কে যেখানে বিয়ে করাতে চাইবো তাকবীর সেখানে বিয়ে করবে তোমার ছেলে কে তুমি চেনো না।
আদনান তালুকদারের কথায় আহাদ তালুকদার উওর করলেন। আনাস তাচ্ছিল্য স্বরূপ হেসে বলে উঠলো,
___” বাবা আপনি আপনার নিজের ছেলের মনের ভাষা বুঝতে পারেন না। সেখানে তাকবীর ভাইয়া কে কিভাবে বুঝবেন?
আহাদ তালুকদার আনাস এর কথায় গম্ভীর মুখে তাকালেন। আদনান তালুকদার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

___” আহাদ আমাদের আনাস এর কথাটা একবার ভেবে দেখা উচিত!
___”আমি তো রাজি তাকবীর বাবা কে আমার মেয়ের জামাই বানাতে। আমার চঞ্চল মেয়েকে একমাত্র তাকবীর বাবা সামলাতে পারবে। আর আমার মেয়েটা সারাজীবন আমার চোখের সামনে থেকে যাবে।
মায়ের কথায় আনাস কে একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস নিতে দেখা গেলো। আদিবা তালুকদার রাজি মানে আহাদ তালুকদার কে রাজি করে ছাড়বে আদিবা তালুকদার। আনাস নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে বাবা কে চুপচাপ চিন্তিত মুখে বসে থাকতে দেখে পুনরায় বলে উঠলো,
___” সময় নিয়ে ভাবেন আপনার মেয়ের জন্য আমার ভাইয়ের মতো দায়িত্ববান ছেলে খুঁজে পাবেন না।
আহাদ তালুকদার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
___” আমি তাকবীর কে নিয়ে ভাবছি না। তাকবীর লাকে এক। আমি ভেবেছিলাম তুমি তোমার জন্য কিছু চাইতে এসেছো?
___” আমি কেনো আপনার কাছে কিছু চাইতে আসবো বাবা। আপনার উচিত আপনার ছেলের হয়ে আপনার বোনের মেয়েকে আপনার ছেলের বউ হিসাবে চাওয়া।

___” তা আর সম্ভব না।
___” চাইলে সব সম্ভব, চেয়েছিলেন কখনো! একবার ছেলের মনের ভাষা বুঝার চেষ্টা করেছেন?
আহাদ তালুকদার বুঝলেন আনাস এর অভিমান জমে গেছে । তবুও তিনি চুপচাপ গম্ভীর মুখে বসে রইলেন। আদনান তালুকদার আনাস কে বলল,
___” তাকবীর রাজি থাকলে তবেই এই বিষয় নিয়ে এগুবো আমরা।
___” বড়আব্বু তাকবীর ভাইয়া আরাত কে ভালোবাসে।
সবাই অবাক নয়নে আনাস এর দিকে তাকালো। আনাস কথাটা বলে কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করলো। ড্রয়িং রুম জুড়ে নিরবতা ছুয়ে গেলো যেনো। তাদের নীরবতার মধ্যে একটা গাড়ি এসে দাড়ালো তালুকদার বাড়ির গার্ডেনে ধীরপায়ে গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে তালুকদার বাড়ির সদর দরজার এসে দাড়ালো তিনজন। পায়ের শব্দে দুই কর্তা দুই গিন্নি সদর দরজা দিকে তাকাতে আদিবা তালুকদার খুশি হয়ে নিজের মেয়েকে ডাকলেন,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৯

___” আরাত রশ্মি এসেছে….
মায়ের চিৎকার আরাতের কানে পড়তেই অবিশ্বাস্য হয়ে শুয়া থেকে দাড়িয়ে পরলো । পুনরায় মাহির কে লাইনে রেখেয় রুম থেকে এলোমেলো ভাবে দৌড়াতে লাগলো। ফোনের ওপাশে মাহির অবাক চোখে ফোনে স্কিনে আরাতের এলোমেলো দৌড়ের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে উঠলো।
___” এই রশ্মি টা কে।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩১