Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪
জান্নাতি আক্তার জারা

ছাঁদের মাঝখানে গোল হয়ে বসে আড্ডায় জমিয়ে তুলছে রশ্মিরাত আরিশা আইরা আহিন আলভী।
আরাতের বা পাশে রশ্মি বসা। ডান পাশে আলভী বসা আলভী পাশে আরিশা। আরিশার পাশে আহিন, আহিনের পাশে আইরা, আইরার পাশে আবার রশ্মি এভাবে বসে আড্ডায় মগ্ন। সবাই আড্ডা দিলেও আড্ডার মাঝে অমনোযোগী হয়ে আইরা আর চোখে ছাঁদের এক কোনার দিকে বারংবার তাকাচ্ছে। তার মন অন্য কিছু নিয়ে চিন্তিত বর্তমান। আর বাকী পাঁচজনের আড্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো আমান আরিশার প্রেম কাহিনী, আলভী আরিশা কে বলে উঠলো,

___”আরিশা আপু তোমার কোনো পিচ্চি
ননদ নেই গো?
আলভীর কথায় সবাই আলভীর দিকে তাকালো। আরাত আলভী কে অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলো,
___”কেনো রে আলভী, ঘটনা কী খুলে বলতো! তুই আমারে রেখে লাইন মারার চান্সে আছিস নাকি হুম?
আলভী সঙ্গে সঙ্গে মুখে হাত দিয়ে বলল,
___তওবা, তওবা,তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ। মায়াবতী তুমি এই কথা কিভাবে বলতে পারলে! তোমাকে ছাড়া আমি কখনো কোনো মেয়েকে লাইন মরার চেষ্টা করেছি কখনো, আমার তুমি আছো না?
আলভী মুখে লজ্জা ভাব ফুটিয়ে তুলে বলল কথাটা। আলভীর কথায় সবাই চোখ বড়োবড়ো করে তাকালো আলভীর দিকে। রশ্মি নাক সিটকে বললো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

___”ওভার অ্যাক্টিং বন্ধ কর ডাফার। এবার লাইনে আয়! বল আরিশা আপুর ননদ থাকলে তোর কী কাজ?
আলভী এবার সবাইকে একনজর দেখে নিয়ে আহিনের দিকে তাকালো। মুখে দুষ্টুমি এনে বলল,
___”দেখো আপু আমার তো মায়াবতী আছে তাইনা! আমি ভাবছি আমার বন্ধুও তো কাউকে দরকার। তাই মেয়ের সন্ধান করছি। আরিশা আপুর ননদ থাকলে আমার বন্ধু একটু চান্স নিতো আরকি।
আহিন এবার মাথা ঝাকিয়ে নিজের দিকে আঙ্গুল তাক করে আলভী কে ইশারায় বুঝালো, আমার জন্য?
আলভী মাথা নেড়ে একটা কিউট হাসি দিয়ে বলল,

___” হুম তোর জন্য।
___”সালা ওইখানে দাঁড়া তুই ।
আহিন কথাটা বলে নিজের জায়গায় থেকে উঠে আলভীর দিকে আসতে নিলে আলভী নিজের জায়গা থেকে ওঠে দৌড় দিয়ে বলল ,
___ “এজন্য বলে কারো উপকার করতে নেই, সালা তোরে অভিশাপ দিলাম সিঙ্গেল মরবি তাও মেয়ে জুটবে না তোর কপালে।
আলভীর পেছনে আহিন দৌড় দিলো আলভী কে ধরতে। দুজনের দুষ্টুমি দেখে,একসঙ্গে চারজন হেঁসে ওঠলো, হাসতে হাসতে রশ্মি আরিশা কে বলে উঠলো,

___”আরিশা আপু তুমি কিন্তু সত্যি অনেক লাখি। আমান ভাইয়া কে পেয়ে। দেখছো এই কয়মাসে খুব সহজে আমাদের সঙ্গে কী সুন্দর মিশে গেছে?
কথাটা বলেই রশ্মি ছাঁদে এক কোণার দিকে তাকালো রশ্মির তাকানো দেখে বাকি তিনজনও সেদিকে তাকালো। আমান আর হাবিব এক সঙ্গ কী নিয়ে যেন হাসাহাসি করছে। আশিক ছাদের কিনারে বসে সিগারেট টানছে আর ওদের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। আনাস ফোনে কী যেন টাইপিং করছে,চোখ তার ফোনের স্কিনে। দূর থেকে আইরা আনাস কে সেই প্রথম থেকে লক্ষ করছে। আইরা মন খুঁজখুজ করছে আনাস কার সঙ্গ মেসেজ করছে জানার জন্য। এদিকে আরিশা আমানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,

___”হুম রে,অনেক ভাগ্যবতী। ওর মতো একজন কেয়ারিং হাসবেন্ড ভাগ্যবতী মেয়েদের কপালে জোটে ।
আমান আশিক হাবিব আরিশাদের দিকে আসতে আসতে আমান বলে ওঠলো,
___”আমাদের নিয়ে কী কথা হচ্ছে, আমাদের কেউ একটু বলো আমরা শুনে ধন্য হই বলো! বলো?
আরিশা,
___” তেমন কিছু না বসে পড়ো। এখানে আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিবো। আশিক ভাই তো গিটার সঙ্গে করে নিয়ে আরছে আজকে কিন্তু গান গাইতে হবে ভাইয়া?
হাবিব আমান আশিক ছাঁদের মেঝেতে বসতে বসতে আশিক বললো,,

___হ্যাঁ গানতো হবে তবে আমার গলাই না। আমার গলাই তো সবসময় শুনে থাকো। এখন তোমাদের যেকোনো একজনের গলায় গান গাইতে হবে! বলো কে গান গাইবে ?
রশ্মি,
___” ভাইয়া আইরা আপুর গলায় গান কখনো শুনেছেন?
___” উঁহুম না ।
আরাত,
___”তাহলে তো আপনারা জীবনযুদ্ধায় বহুত পিছিয়ে। আজকে আইরা আপুর গলায় গান শুনেন। তাহলে জীবনটা আপনাদের ধন্য হয়ে যাবে।
আইরা,
___”আচ্ছা বোন তুই আমার প্রশংসা করছিস নাকি বেজ্জতি করছিস! যদি একটু খুলে বলতি আমার বুঝতে সুবিধা হতো।
আরিশা আইরার সাইট নিয়ে বলে উঠলো,

___”আসলেই তো আরাত! তুই আইরার কন্ঠ নিয়ে এমভাবে বর্ননা দিচ্ছিস। মনে হয় আমরা উগান্ডার পাবলিক। আজকে পুরো ক্রেডিট আমার বেচারা বোনটা কে দিচ্ছিস কেনো। সরাসরি বল তোরা দুজন গাইবি না আইরা কে গাইতে হবে?
আরিশা কথার মধ্যে রশ্মির ফোনে, মেসেজ টুংটাং শব্দ শুনা গেলো, রশ্মি পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো।
___”হেই, রশ্মিরানী?
রশ্মি রিপ্লাই,
___” হাউ আর ইউ?
___”আই অ্যাম ফাইন, এন্ড ইউ?
রশ্মি রিপ্লাই…
___গুড।
___”কি করছো?
রশ্মি রিপ্লাই….
___” ছাঁদে সবার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
___”ওকে, ফ্রি হয়ে মেসেজ দিও,অপেক্ষায় রইলাম।

আরাত রশ্মির মুচকি হাসির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে, রশ্মির কাঁধে হালকা একটা ধাক্কা দিলো। রশ্মি ফোন হাতে নিয়ে আরাতের দিকে তাকাতে আরাত মুচকি হেঁসে ভ্রু নাচালো। সঙ্গে সঙ্গে রশ্মির হাসি মুখ থেকে লজ্জামিশ্রিত হাসি ফুতে উঠলো। আরিশা দুজনের ইশারায় কথা বলতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
___”তোরা দুজন কি নিয়ে ইশারা করছিস?
___”কিছু না আপু।
কথাটা বলে রশ্মি একবার সবাইকে দেখে নিয়ে, ফোনটা সাইলেন্ট করে পাশে রাখলো।
আমান আরিশাকে বলে উঠলো,
বাদ দেও তো বউ, আজকে আমার শালিকার গলায় গান হয়ে যাক তাহলে। শালিকা আমার জন্য একটা গান শুরু করো তো, আমি খুব এক্সাইটেড শালিকার গালায় গান শুনার জন্য।
আমান কথাটা বলে,মাথাটা ঘুড়িয়ে এবার আনাস কে ডাকলো,

“এই শালাবাবু এদিকে আসো আমাদের আড্ডায় শামিল হও,আসো আসো আমার শালীকার গলায় গান শুনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে জয়েন্ট হও।
আনাস ফোনের স্কিন থেকে চোখ উঠিয়ে,সবার দিকে তাকাইতে, আশিক সয়তানি একটা হাসি দিয়ে আনাস কে ডেকে বললো,
“এই আনাস এদিকে আয়, আইরা গান গাইবে তাড়াতাড়ি এদিকে আয় নহয়তো পড়ে কন্ঠটা মিস করবি।
কথাটা বলেই আশিক হাবিব দুজন দুজনের হাতে হাই ফাই দিলো। আশিকের কথায় আইরা মুখে একটু লজ্জা লজ্জা ভাব ফুটে উঠছে,আনাস আশিকের কথায় একবার আইরা দিকে তাকালো। তাকাতেই দুজেনের চোখাচোখি হইলো। আইরা লজ্জায় মাথাটা নিচের দিকে করে নিলো। আনাস আইরা লজ্জা পাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে মুখে বিরক্ত ফুঠে উঠলো, বিরক্তি হয়ে আবার ফোনের স্কিনে চোখ নিবদ্ধ করে বলে ওঠলো,

“নট ইন্টারেস্ট।
আনাস সের কথায় আইরা চোখ ভরা পানি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের মাথাটা উপরে দিকে তুলে আনাস সের দিকে তাকালো। আরিশা আইরার মনের অবস্থা বুঝতে পেয়ে বোনে হাতে উপর নিজের হাত রাখলো । হাবিব আশিক আনাস সের কথায় আইরা দিকে মন খারাপ নিয়ে তাকালো একবার। তখনই স্বভাবিক ভাবেই আমান বলে উঠলো,
“এই আশিক শুরু করো গিটার কই তোমার, ওইতো গিটার নেও নেও শুরু করো?
আশিক মন খারাপ করে গিটারের টুনটান শব্দ তুলতেই আইরা গলা শুনা গেল …
ls Jawaani May hum Nay ye kya krdiyaa…..
আনাস এবার ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখেই কান খারা করলো, আইরা আনাস সের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো!
lshq may teray khud ko Fanaa krdiyaa….
আনাস এবার অবাক হয়ে সরাসরি চোখ তুলে তাকালো আইরা মুখে উপর, আইরা আনাস সের চোখে চোখ রেখেই গেয়ে উঠলো,

Ma Tu Tujh May,
He Hu Tu Na Muj Me Rah….
আইরা আর আনাস সের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলো না,চোখের পানি গালে গড়িয়ে পড়ার আগেই গানের লাইন শেষ না করেই আইরা ছাঁদ থেকে দৌড়ে নিচে নেমে গেলো।
সঙ্গে সঙ্গে আশিক গিটার টা ছাঁদের মেঝেতে রেখে দিলো। হইহুল্লোর ছাঁদ টা নিমিষেই নিস্তব্ধ পরিবেশে ঘিরে গেলো সবাই চুপচাপ কেমন যেনো নিরবতা কে সঙ্গি করে নিয়ে নিলো, আশিক আনাস সের দিকে তাকিয়ে দেখলো আনাস তখনও আইরার দৌড়ে চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে! সঙ্গে সঙ্গে আশিকের মুখে তাচ্ছিল্য হাসি ফুটে উঠলো।
আরাত নিজের ভাইয়ের উপরে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকিয়ে রয়েছে, আরিশা কিছুটা মুখে রাগ রাগ ভাব, আমান শুধু অবাক চোখে চেয়ে থেকে সবাইকে লক্ষ করছে। হাবিব মেঝের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে আছে, এ-সব কিছু লক্ষ করে রশ্মি পরিবেশ টা স্বাভাবিক করতে বলে উঠলো,

এই আরাত চল রে নিচে চল অনেক তো আড্ডা হইলো। কাকিমনি রা একা একা কাজ করতাছে চল নিচে চল। এই আরিশা আপু চলো নিচে যাওয়া যাক।
আমানের দিকে তাকিয়ে,,, ভাইয়া আপনিও চলেন নিচে বড়োআব্বুরা আরছে, বড়োআব্বু দের সঙ্গে কথা বলবেন,এখন তো সন্ধ্যা লাগছে হয়তো শপিং থেকে ফুপা ফুপিও চলে আরছে।
আমান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলার আগেই আরিশা আগে আগে কাউকে কিছু না বলে নিচে চলে গেলো। আরাত একবার রাগ নিয়েই নিজের ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সেও নিচে নিমে গেলো। ওদের পিছনে পিছনে আমান চলে গেলো, রশ্মি একবার হাবিব আর আশিকের দিকে তাকিয়ে চুখের ইশারায় এদিকে সামলাতে বলে সেও নিচে গেলো, তখনও আনাস সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে!
এইবার হাবিব মেঝে থেকে ওঠে আনাস সের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে উঠলো — এভাবে না বললেও পারতি, মেয়েটা কষ্ট পাইছে?
আনাস দরজা থেকে চোখ ঘুড়িয়ে একবার হাবিবের দিকে তাকালো, স্বাভাবিক হওয়ার ন্যায় বলল,

“তো আমি কী করবো?
বুঝে-ও অবুঝের মতো করছিস কেন, মেয়েটার চোখের ভাষা তুই বুঝতে পারছিস না। নাকি ইচ্ছে করে বুঝতে চাইছিস না? যেখানে আমরা আমাদের কথা বাদ দে। তোর ছোট্ট বোন আরাত পর্যন্ত মেয়েটার তোর প্রতি দুর্বলতা বুঝতে পারে, আর তুই তো অবুঝ তাইনা?
একটু রাগ নিয়ে কথাটা বলে উঠলো হাবিব।
আনাস বিরক্তি নিয়ে বলল,
“তোরাও ওর আবেগে গা ভাসাচ্ছি? আরে ভাই ওর বয়সী বা কত সতেরো তে মাএ পা দিলো এই বয়সে এমন পাগলামি করবেই। তাই বলে আমিও ওর পাগলামি তে নাচবো নাকি হ্যাঁ আজব!
কথাটা বলেই আবার ফোনের দিকে তাকালো আনাস! হাবিব এবার আনাস সের ফোনটা কেরে নিতে নিতে,
কী তখন থেকে ফোন ঘুটাঘুটি করছিস, এখানে তোকে আমরা একটা ইম্পোর্টেন্ট কথা বলছি। আর তুই ফোন নিয়ে পড়ে আছিস,কার সঙ্গে এত চ্যাটিং করছিস দেখি।

কথাটা বলেই ফোনটা কেড়ে নিয়ে ফোনের চ্যাটিং গুলো দেখতে লাগলো হাবীব।
বাজে না বকে ফোন দে আমার। তোদের ইম্পোর্টেন্ট কথা আমার জানা আছে সেই তো ওই ইডিয়েট কে নিয়ে শুরু করবি। পাগল মেয়ে একটা পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন উপন্যাস নিয়ে পড়ে থাকে। আর উপন্যাসে ক্যারেক্টারগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে এসব উদ্ভট পাগলামি করে বেড়ায়। আর দেখ কী অদ্ভুত ভাবে তোরা সবগুলো মিলে ওই পাগলের পাগলামি কে উৎসাহ দিচ্ছিস। যেটা ওর ভবিষ্যতে ক্যারিয়ারে প্রবলেম হয়ে দাঁড়াবে। দেখবি তার প্রমান?এই যে কিছুক্ষণ আগে চোখ ভরা পানি নিয়ে নিচে চলে গেলো না! দেখবি ৩০ মিনিট না জাইতেই তার আবেগ কোথাও একটা হারিয়ে গেছে, সেই আবেগ কে খুঁজতেই আবার আমার পিছে পিছে তার উদ্ভট পাগলামি শুধু হবে।
বিরক্তি ভাব নিয়ে আনাস কথাগুলো শেষ করতেই আশিক ছাঁদের মেঝে থেকে উঠতে উঠতে রাগী গলায়।

“হ্যাঁ সেজন্যই তো তোর মেয়েটার প্রতি এতটা অবহেলা।
আনাস আশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,
” মানে?
আশিক তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে,
মানে বুঝিস না হু? একটা মেয়ে তোকে ভালোবাসে এটা তুই আবেগ বলে উড়ে দিচ্ছিস বাহ’ বাহ’ কী লজিক তোর। কি বল তো আনাস একদিন দেখবি এই আবেগ গুলোই তোর অবেলায় কারণে কুরে কুরে খাচ্ছে তোকে। এই পাগল আইরা পাগলামি দেখার জন্য ছটফট করবি। দম বন্ধ হয়ে আসবে। তখন সব তোর সাধ্যের বাইরে চলে যাবে, এখন যাকে বয়স অল্প বলে দূরে ঠেলে দিচ্ছিস।
তাকে নিজের কাছে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবি,কিন্তু সেইদিন আফসোস করা সারা তোর কোনো অপশন থাকবে না।

আনাস আশিকের দিকে চেয়ে আছে, আশিক একটু দম ফেলে, নরম গলায় পুনরায় বলতে শুরু করলো,
তুই শুধু মেয়েটার পাগলামি দেখতাছিস।কখনো পাগলামির আড়ালের মেয়েটাকে খেয়াল করেছিস? তাকে বুঝার চেষ্টা করছিস? তুই তো ভাগ্যবান রে মেয়েটা শুধুমাএ তোর জন্য পাগলামো করে। কই আর কারো জন্য তো করতে দেখি না। আরে ভাই উপন্যাস জগৎতের মেয়েরা এক পুরুষের আসক্ত হয় তাঁদের চাহিদা শুধুমাএ তাদের শখের পুরুষ যত্নশীল হতে হবে। তাদের ভালোবাসাতে হবে রাগলে রাখতে হবে। অবহেলা না।
কি বলতো ওরা যেমন শখের পুরুষের জন্য পাগলামি করতে যানে। তেমনি শখের পুরুষের অবহেলায় অভিমান করে দূরে থাকতে যানে।

তুই আরাত কে বলছিস ও কিছুক্ষণ পড়ে আবার আগের মতো তোর পিছে পিছে ঘুরবে তাইনা। হ্যাঁ ঘুরবে তোকে মানাতেও চেষ্টা করবে তোর ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করবে। ওরা খুব করে ভালোবাসার জন্য নিজেকে ছ্যাঁচড়া প্রামান করে কিন্তু কি বলতো যতক্ষণ পর্যন্ত ওদের সম্মানের দাগ না লাগছে। ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে আটকাবে না, শখের পুরুষের কাছে ছ্যাঁচড়া হয়েও পড়ে থাকতে রাজি। দিনশেষে দেখবি ওরা অবেলায় পেতে পেতে অভিমানে হারিয়ে যায়। একবার তাদেরকে হারিয়ে ফেললে ফিরে পাওয়াটা খুব কঠিন, সহজে পাওয়া ভালোবাসাটা সময় থাকতে আগলিয়ে রাখ। নাহয়তো সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবি।

আশিকের দৈর্ঘ্য কথাটা পাত্তা না দিয়ে আনাস তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে ব্যঙ্গ করে বলল,
মেয়েদের সঙ্গে ফ্ল্যাট করা ছেলাটাও আজ আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে,অনেক উন্নতি হয়ছে দেখছি। এতটা উন্নতি কবে থেকে হইলি বল তো, ফ্ল্যাট করতে করতে কারো প্রেমে পরলি নাকি হুম?রাতের মধ্যেই এতোটা পরিবর্তন হয়ে গেলি গুড গুড।
কথাগুলো বলেতে বলতে হাবিবের থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে,
“কি পাইলি ফোনে, হুম?

কী আর পাবো। তোদের দুই ভাইয়ের বিজনেসের প্রমকথন ছাড়া। মাঝখানে বেচারা আদিল টা ফেঁসে গেছে চেপাই। আচ্ছা তোরা দু’ভাই কী মানুষের কাতারে পারোস না। না আমাকে তুই বল তোরা তো মানুষ তাইনা। তাহলে তোদের কাউকে ভালোবাসতে কী প্রবলেম হুম। তোদের মন বলতে আসলে কী কিছু আছে? তোকে আর কী বলবো তোর আইডল তো তাকবীর তালুকদার। সালা জিন্দেগী বেকার, হে আল্লাহ আমার কপালে খুজে খুজে এই তাঁরছেড়া দের কে-ই বন্ধু হিসাবে লেখতো হইছিলো তোমায়!
“শেষ হয়েছে তোদের বকবক, ভাই আমি বুঝি না ছেলে হয়ে যে তোরা এতটা বকবক কিভাবে করতে পারিস? চল নিচে যাওয়া যাক এবার।

কথাটা বলেই ছাদের দরজার দিকে হাঁটা ধরলো আনাস, আনাসের কথায় এবার আশিক ছাঁদের মেঝে থেকে গিটার টা হাতে তুলে নিয়ে সামনে এগুলো এগুলো উত্তর করে উঠলো,
“হুম আজকে আমাদের কথা বকবক মনে হচ্ছে। কিন্তু দেখিস একদিন এমন দিন না আসে। মেয়েদের সঙ্গে ফ্ল্যাট করা ছেলেটার কথা আল্লাহ কবুল করে নেয়।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩

তিনজন ছাঁদ থেকে সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে আনাস পুনরায় বলে উঠলো,
“প্রেম ভালোবাসা তোদের কাজ, ভালোবাসাটা ঠিক এই আরিয়ান তালুকদার আনাস সের সঙ্গে যায় না, বুঝতে পারছিস। আমি কাউকে বলি নাই আমাকে ভালোবাসতে। যে আমাকে চাইবে তার অবহেলা সহ্য করার ক্ষমতা রাখতে হবে।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫