তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫
জান্নাতি আক্তার জারা
“প্রেম ভালোবাসা তোদের কাজ, ভালোবাসাটা ঠিক এই আরিয়ান তালুকদার আনাস সের সঙ্গে যায় না, বুঝতে পারছিস। আমি কাউকে বলি নাই আমাকে ভালোবাসতে। যে আমাকে চাইবে তার অবহেলা সহ্য করার ক্ষমতা রাখতে হবে।
আরিশা আরাত রশ্মি আমান চারজন নিচে নেমে এসে দেখে আইরা নেই। আইরা ছাঁদ থেকে নেমে কাউকে কিছু না জানিয়ে সোজা নিজেদের বাড়িতে চলে গিয়েছে। আমান আরিশাকে তাড়া দিয়ে বললো।
আমি এখন বের হবো। চলো মামাদের সঙ্গে দেখা করে আসা যাক,বলেই আরাত রশ্মির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
“তো শালিকারা আবার দেখা হবে আজকে আসলাম তাহলে?
আমানের কথায় আরাত মনমরা হাসি দিলো, রশ্মি হেসে বললো — ইনশাআল্লাহ ভাইয়া আবার দেখা হবে, আল্লাহ হাফেজ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আমান হেসে আল্লাহ হাফেজ বলে আরিশা কে নিয়ে প্রথমে আহাত তালুকদার ঘরের দিকে এগুলো। আরাত রশ্মি দুজনেই আরাতের রুমে দিকে চলে গেলো। আমান আরিশা আহাদ তালুকদার সঙ্গে কথা বলে। আদনান তালুকদারের সঙ্গে দেখা করে, বের হইতেই। আনাস আশিক হাবিব কে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে দেখলো। তারপর আরিশার থেকে বিদায় নিয়ে আনাস সহ চারজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হইলো।আর আরিশা আরাতের রুমে দিকে চলে গেলো।
সময়টা সন্ধ্যা ৭: ৪৫ ঘরে, ড্রয়িং রুমের সোফাতে বসে আছেন তালুকদার বাড়ির দুই কর্তা, আদনান তালুকদার, আহাদ তালুকদার। আদনান তালুকদার সোফাতে বসে খবরের কাগজে মুখ ডুবাইছে। আর আহাদ তালুকদার চা তে চুমুক দিতে দিতে বা হাতে ইমুট দিয়ে টিভি একটার পর চ্যানেল পাল্টাচ্ছে।ঠিক তখনই মিন গেইট দিয়ে ঢুকতে দেখা গেলো রাহিমা সুলতানা কে( রশ্মির আম্মু) রাহিমা সুলতানা ড্রয়িং রুমে এসেই আদনান তালুকদার আহাত তালুকদার কে সোফায় বসে থাকতে দেখে সালাম দিলেন।
“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ!
আদনান তালুকদার আহাত তালুকদার চোখ তুলে একবার সেদিকে তাকিয়ে সালাম নিলেন।
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
রাহিমা সুলতানা সালামের উত্তর পেতেই ওদিকে এদিকে তাকিয়ে আদিবা তালুকদার, রাবেয়া তালুকদার কে খুজতে লাগলো। তখনই আহাদ তালুকদার বলে উঠলো।
“ভাবী, সবাই দুতলা রুমে আড্ডা দিচ্ছে এখানেই সবাই কে পাবেন।
রাহিমা সুলতানা জ্বি ভাইজান বলে দুতালা চলে যায়, এদিকে আহাদ তালুকদার মুখে বিরক্তি ফুতে উঠলো, টিভিতে দেখার মতো কিছুই নেই,আহাদ তালুকদার টিভিটা বন্ধ করে আদনান তালুকদারের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।
“ভাইয়া আজকে বাড়িতে আরিশা দের সঙ্গে আমান এসেছিলো দেখা হয়ছে তোমার সঙ্গে?
আদনান তালুকদার খবরের কাগজটা টেবিলে রেখে দিতে দিতে বললেন।
হুম দেখা হয়েছে, ছেলেটার ব্যাবহার খুব ভালো। অল্প কয়েকদিনেই সবার সঙ্গে সুন্দর মতো মিশে গেছে। ওদের আনুষ্ঠানিক নিয়ে। আতিফ, আনহা, সঙ্গে একদিন কথা বলতে হবে। ছেলে তো আর বেকার না সফল ব্যবসায়িক। তাহলে আর দেরি করার কী প্রয়োজন মেয়েকে তাদের হাতে দিতে।
আহাদ তালুকদার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন। তাহলে আমানের পরিবার কে নিয়ে বসা যাক একদিন।
আদনান তালুকদার ছোট্ট ভাইকে বললো।
“হুম। তাকবীর কবে দেশে আসবে আদিলের কাছে ফোন দিয়ে শুনতো। তাকবীর বাড়িতে আসার পড়ে সবাই মিলে বসা যাবে।
আহাদ তালুকদার ফোনটা বের করে আদিলকে ফোন দিতে দিতে বললেন — তোমার ছেলে বাড়িতে থাকলেই বা কি, কবে ওকে বাড়ির বিষয়ে কথা বলতে দেখলে তুমি। ওকে জিজ্ঞেস করলে সোজা বলে দিবে তোমাদের যা ভালো হয় তাই করো।
কথাটা বলতে বলতে আহাদ তালুকদার ফোন লাগাইলেন আদিলের কাছে, আদনান তালুকদার ছোট ভাইয়ের কথায় ছোট্ট একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলাইলো।
“রাহিমা ভাবি, কতক্ষণ থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আসেন আসেন, দেখেন শাড়িটা পচ্ছন্দ হবে কি না আপনার । দেখেন সবার টা সবাইকে দিয়ে দিয়েছি শুধু আপনার টা বাকি ছিলো।
কথাটা বলতে বলতে আনহা শেখ শাড়ি হাতে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো। রাহিমা সুলতানা,ঘরের ভিতরে দিকে এগিয়ে গিয়ে হাসি মুখে বলে উঠলো।
“আনহা,তোমার পচ্ছন্দের উপর আর কারো কথা থাকতে পারে নাকি, অনেক সুন্দর হয়ছে।
বলেই শাড়ি টা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো। আনহা শেখ যেইদিন নিজের জন্য শপিং করতে বের হয়। সেইদিন আনহা শেখের সামর্থ মতো সবার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসবেই। তবে কয়েকদির পরপর না আনহা শেখের শপিং মানেই একদেড় বছর পরপর। আর বাদবাকি টাইম আতিফ শেখ নিজেই ওনার বউয়ের জন্য মাঝেমধ্যে শপিং করে নিয়ে আসেন।
আতিফ শেখ আনহা শেখকে এই বাড়িতে নেমে দিয়ে ওনি সোজা নিজেদের বাড়িতে গিয়েছে। রাবেয়া তালুকদার আর আদিবা তালুকদার বিছানার উপর থেকে নেমে দাঁড়ালো। রাবেয়া তালুকদার বলে উঠলেন।
“তোমার বাড়িতে কী কাজ থাকে হ্যাঁ? বাড়ির সঙ্গে বাড়ি বলার আগেই এসে হাজির হবে।
রাহিমা সুলতানা হেসে উঠলেন — হুম তা আর বলতে। তবে কোনো কাজ ছিলো না ভাবী। আপনার ভাইজান ফোন করেছিলো তার সঙ্গে কথা বলতেই সময় চলে গিয়েছে। বিচ্ছু গুলো কই দেখছি না যে?
আদিবা তালুকদার বলল — ওদের শপিং আনহা দিয়ে দিয়েছে । যে যার শপিং নিয়ে ওরা এখন আরাতের রুমে সবগুলো।
আনহা শেখ তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলো —ভাবী আমি বের হবো রাত গভীর হয়ে যাচ্ছে ।
কথাটা বলেই আনহা শেখ আরিশা কে ডাকতে লাগলেন।
আরিশা….আরিশা…কই তুমি? বাড়িতে যাবে। আমি বের হবো এখন?
“আম্মু দুমিনিট ওয়েট করো প্লিজ..
আরাতের রুম থেকে আরিশা চিল্লিয়ে বলল কথাটা। আহিন বলে উঠলো।
আপু ফুপি বাড়িতে একাই যাকগা। তুমি থেকে যাও প্লিজ মজা হচ্ছে তো। আইরা আপু তো সেই বিকাল-সন্ধ্যা দিকে চলে গেছে। তুমি অন্তত থেকে যাও তাহলে রাতে আরাত আপুর কাছে ভূতের গল্প শুনতে পারবে?
আরিশা মুচকি হাসি দিয়ে। হুম তোর আরাত আপুর ভূতের গল্প আমার জানা আছে ভাই। ওর গল্প তোদের দুজনেই জন্য পারফেক্ট। মাঝখান থেকে শুধু রশ্মি তাকে ভুক্তে হয়। আমি আইরা তো বেঁচে গেয়েছি। নাহতো রশ্মির মতো আমাদেও দুজকেও ভুগতে হতো।
আরাত কিছু বলবে তার আগেই আরিশা আরাত কে কিছু বলতে না দিয়ে — চল চল আজকের জন্য আল্লাহ হাফেজ সবগুলোরে। আমি যাই আমার বোনটারে গিয়ে একটু জ্বালাতে হবে। আল্লাহ হাফেজ! আল্লাহ হাফেজ!
বলেই আরিশা রুম থেকে বের হয়ে গেলো, এদিকে রশ্মি আরিশার কথায় হাসতে শুরু করলো। এবার আরাত রশ্মির দিকে রাগী লুক দিয়ে বললো।
“আরিশা আপু আমার সন্মানের গলা চেপে দিয়ে গেলো। আর তুই এটা দেখে হাসতাছোস দাঁড়া।
কথাটা বলেই আরাত রশ্মিকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে বালিশ দিয়ে মারতে শুরু করলো। রশ্মি এবার বলে উঠলো।
“আরিশা আপুর রাগ আমার উপর তুলছিস কেন ছেমরি? সর দূরে সর।
বলে রশ্মি বিছানায় বসে আরেকটা বালিশ নিয়ে আরাত কে মারতে শুরু করে। এদিকে আলভী বিছানায় কাছে এগিয়ে গিয়ে আরাত কে বলে উঠলো।
“মায়াবতী হচ্ছে না তো! তুমি চাইলে আমি তোমাকে হেল্প করতে পারি। একটা কাজ করো!
বিছানার ঝাড়ু আরাতের দিকে এগিয়ে দিয়ে,আবার বলতে শুরু করলো — তুমি বরং এটা ব্যাবহার করতে পারো?
সঙ্গে সঙ্গে আরাত রশ্মি দুজনেই মারামারি বন্ধ করে আলভী দিকে কপাল কুঁচকে তাকালো। আলভী এবার ওদের দুজনকে দেখে নিয়ে, মুখে কেবলামার্কা হাসি দিয়ে!
“ওহো তোমরা বালিশ দিয়ে মারামারি করতেই কমফোর্টেবল করছো তাইনা?
কথাটা বলেই হাতের ঝাড়ু টা বিছানার রেখে দিতে দিতে — আচ্ছা ঝাড়ু থাক তাহলে, তোমরা বালিশ দিয়েই কন্টিনিউ করতে পারো আমার সমস্যা নেই।
বলেই আলভী পিছনের দিকে পিছাতে পিছাতে মাথার ইশারায় বুঝালো কন্টিনিউ! কন্ডিনিউ।
আহিন দু পকেটে হাত দিয়ে সোফায় কণারে বসে আছে। ভাবটা এমন যেনো এখানে কোনো কমেডি শো চলতাছে। আর আহিন হচ্ছে সেই শো মেহমান।
হটাৎ সোফার এক পাশে রশ্মীর ফোনটা টং টং শব্দ হইলো। রশ্মিরাত এবার দুজনেই বিছানা থেকে দাড়িয়ে নিজেদের জামাকাপড় ঠিকঠাক করতে করতে রশ্মি আহিনকে বলে উঠলো।
“এই আহিন ফোনটা এদিকে দিয়ে যা তো ভাই।
আহিন মুখটা অসহায় ফেস করে —আমি পারবো না,আমি পারবো না,আমি পারবো না….
ওহোও পারবো না এখান থেকে উঠতে আমি..
তেমার ঠ্যাকা পরলে নিয়ে যাও তুমি…
আমাকে উঠতে বইলো না হা হা হা….
আরাত আহিনের মতো করে সুর তুলে বলে উঠলো
“পোলা তুই বহুদ সেয়ানা…
কথায় কথায় শুধু বাহানা..
ও আমার চেল্টু চেলা..
কথা না শুনলে দিবো পেলা…
মায়াবতী এতো রাতে তোমাকে কে মেসেজ দিতাছে গো, তুমি আমাকে ধোঁকা দিচ্ছো তাইনা?কথাটা বলেই আলভী এবার একটু কান্নার ডং করে আরাতের দিকে আঙ্গুল তুলে গেয়ে উঠলো..
“ও মায়াবতী, মায়াবতী তুমি অপরাধ করতাছো রে…
আমার যত্ন করা ভালোবাসায় বাটপার ঢোকাচ্ছো যে..
আমার ভালোবাসার অনুভূতির মধ্যে কারো ঢোকাচ্ছ রে, তারে পাইলে ইচ্ছা মতো কয়েকটা দিতাম যে হে….
রশ্মি তিনজনে নাটক দেখে বিরক্ত হইলো — চুপ করবি তোরা….এই আলভী আহিন রুম থেকে বের হয়ে যা তো । তোরা তিনজন একসঙ্গে থাকলে সয়তানও তোদের আশেপাশে আসতে ভয় পায়।
কথাটা বলেই রশ্মি ওদের দুজনের হাত ধরে রুম থেকে বের করে দিচ্ছে!
আহিন আলভী বের হতে হতে, আহিন বলে উঠলো।
“এই রশ্মি আপু তুমি হয়তো আমাকে খেয়াল করো নাই। আজকাল আমি আগের মতো আর ভন্ডামী করি না কেমন যেন ভদ্র হয়ে গেছি!
আহিনের কথাটা আরাতের কানে পড়তেই আরাত রশ্মি কে ডেকে উঠলো —এ রশ্মি দাঁড়া দাঁড়া।
আরাতের কথায় রশ্মি দাঁড়িয়ে গেলো। আহিন আলভী মুখে হাসি ফুটে উঠলো এই তো তাদের লিডার তাদেরকে অপমানে হাত থেকে বাঁচাবে এখন। আরাত ওদের কাছে এগিয়ে এসে রশ্মির হাত দুজনেই হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে। আরাত,আলভী আহিনের ঘাড়ে হাত রাখলো। রশ্মি বিরক্ত চোখ নিয়ে তাকালো তিনজনের দিকে। আর আহিন আলভী রশ্মির দিকে একটু ভাব নিয়ে তাকাতেই । আরাত আহিনকে বলে উঠলো,
“তুই ভদ্র হয়ে গেছিস?
আহিন মুখে দুষ্টু হেসে,হাত দিয়ে ইশারায় দেখিয়ে। “এইতো থোরা, থোরা,।
আহিনের কথাটা শেষ হইতেই। ঠিক সে সময়ই আরাত দুজনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিতে দিতে বলে উঠলো।
“দেখছিস রশ্মি, ঠিক এভাবে এই ভদ্রলোক দের সন্মান দিতে হয়।
বলেই ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিলো। রশ্মি হাসতে হাসতে আরাতের শরীরের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে। আরাত বিরক্তি হয়ে — ম্যাম আপনার হাসা শেষ হয়লে চলেন। আপনার নাগর ওয়েট করতাছে আপনার মেসেজের রিপ্লাই জন্য।
এদিকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আহিন আলভীকে বললো —দেখছিস? আলভী তোর মায়াবতী কতটা বিশ্বাস ঘাটক?
আলভী দরজার দিকে তাকিয়ে। হাতের আঙ্গুল দরজার দিকে টাক করে। আবার একটু নাটকীয় ভঙ্গীমায় বলতে শুরু করলো — তুমি বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতটা করো না মায়াবতী। তুমি শুধু আমারিইইইইই….
আহিন আলভী কে টেনে নিয়ে যাইতে যাইতে— তোর মায়াবতী অভিনয়ের জন্য সেরা রে…
“এই আলভী কই যাস দাঁড়া ওখানে?
আহিন আলভী ওখানেই দাঁড়িয়ে পড়লো। আনহা শেখ আর আরিশা কিছুক্ষণ আগেই নিজেদের বাড়িতে চলে গিয়েছে। তারপর থেকে রাবেয়া আদিবা রাহিমা তিনজন মিলে রশ্মি কে নিয়ে কথা বলছিলেন। তখনই আহিন আলভী কে দরজার সামনে দিয়ে যাইতে দেখে। রাহিমা সুলতানা আলভী কে ডেকে উঠলেন। আলভী নিজের মাকে দেখে গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো— আম্মু চলো বাড়িতে যাবো। এখানে আর এক মিনিটও থাকবো না।
কেনো কী হয়েছে আলভী বাবা? তুমি কী কনো কারণে রাগ করেছো? আহিন তোমাকে জ্বালাচ্ছে হুম আমাকে বলো একবার। ওর কান মলে দিবো একদম।
কথাটা বলতে বলতে রাবেয়া তালুকদার আহিন আলভী দিকে এগিয়ে আসলো । আহিন মায়ের কথায় গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো — হুম তোমাদের মেয়েরা করে দোষ, নাম হয় আহিন আলভীর সব দোষ!
আদিবা তালুকদার এগিয়ে এসে। কেনো আরাত রশ্মি কী করছে তোমাদের সঙ্গে?
আহিন আদিবা তালুকদারের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো — যানো কাকীমনি আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হটাৎ একটা ছেলের ফোন এলো। আমি ফোনের কাছেই ছিলাম বিধায় ফোনটা রিসিভ করলাম। জানো তারপর কী হয়ছে?
রাহিমা রাবেয়া আদিবা, তিনজনই আহিনের দিকে প্রশ্নবোধক চাননি দিয়ে — কী হয়ছে?
আলভী আহিনের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে। কখন এগুলো হইলো, হ্যাঁ মানছে রশ্মি আপুর ফোনে মেসেজ আরছে। কিন্তু মেসেজ টা ছেলের না মেয়ের ছিলো এটাই তো দেখে নাই আহিন। আলভী আহিনের কথায় আহিন কে কণে দিয়ে গোটা মেরে ইশারায় জানতে চাইলো তুই মিথ্যা বলছিস কেনো।
আহিন আলভী দিকে তাকিয়ে একটা সয়তানি হাসি দিয়ে চোখ টিপ দিয়ে আবার বলতে শুধু করলো।
আমি যখন ফোনটা রিসিভ করলাম। সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ওপাড়ে থেকে একটা ছেলের কন্ঠ ভেসে এলো। আমি কিছু বলতেই যাবো সঙ্গে সঙ্গে আরাত আপু আমার হাত থেকে ফোনটা কেরে নিয়ে আমাদের দুজন কে রুম থেকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো।
আলভী মুখে একটু রাগ নিয়ে বলে উঠলো — একদম মিথ্যা বলবি না আমার মায়াবতীর নামে। মায়াবতী কিছু করে নাই সব দোষ ওই শাঁকচুন্নির। ওটা মায়াবতীর ফোন ছিলো না শাঁকচুন্নি ফোন ছিলো।
আহিন এবার আলভী দিকে দাঁতে দাঁত চেপে — তুই একটু সবসময় বেশি বঝোস, ফোনটা যার হোক না কেনো ছেলেটা ইম্পোর্টেন্ট!
আলভী আহিনের কথা বুঝতে না পেরে বোকার মতো বলে উঠলো — তুই কীভাবে জানলি এটা ছেলের মেসেজ ছিলো?
আলভীর কথাটাতে আহিন মুখে ভোলা ভোলা হাসি দিয়ে। মা কাকীদের দিকে তাকালো। আহিন মিথ্যা কথা বলছিলো এটা যে মা কাকিমনিরা এতক্ষণে বুঝে নিয়ে নিছে। আহিন কেবলামার্কা হাসি দিয়ে আলভীর মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলে উঠলো।
“আরে ব’লদ আমি মজা করছিলাম এতক্ষণ।
মা কাকিদের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে আবার বলে উঠলো —কিচ্ছু বুঝে না।
কথাটা বলেই আহিন একপ্রকার ওখান থেকে পালিয়ে গেলো। এখানে থাকলে নিচ্ছিত মায়ের হাতে কান মলার বদলে থাপ্পড় পরতো গালে।
রাবেয়া তালুকদার আহিনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন ফাজিল একটা।
রাহিমা সুলতানা আলভী কাছে গিয়ে আলভী গালে হাত রেখে — এই যে সারাদিন বড়ো বোনকে শাঁকচুন্নি শাঁকচুন্নি বলে রাগাস। যখন রশ্মি কানাডা চলে যাবে তখন কার সঙ্গে ঝগড়া করবি শুনি?
আলভী অবাক চোখে বলে উঠলো —শাঁকচুন্নি কানাডা চলে যাবে মানে?
হুম তোর বাবা রশ্মিকে কানাডা ইউনিভার্সিটি পড়াবে এজন্য রশ্মি কে তোর বাবার কাছে নিয়ে যাইতে চাইছে কিন্তু..
রাহিমা সুলতানা নিজের পুরো কথা শেষ করার আগেই আলভী মন খারাপ করে বলে ওঠলো।
তাহলে আমার মায়াবতীর কী হবে। আমার মায়াবতী থাকতে পারবে না শাঁকচুন্নিকে ছাড়া। দেইখো শাঁকচুন্নিও মায়াবতীকে ছাড়া এইদূর অচেনা দেশে যাবেই না।
আদিবা তালুকদার উদাসী হয়ে বললেন।
সত্যিই আমিও এটাই ভাবছি, রশ্মিরাত আলেদা হবে? কখনো না রশ্মি তার আরাত কে রেখে যাবেই না। ওরা ছোট্ট থেকে কখনও আলেদা থাকে নাই। সেখানে তো দূর দেশ।
রাহিমা সুলতানা চিন্তিত মুখে — আমিও এটা নিয়ে টেনশন করতাছি ভাবী। আপনার ভাইজান আমাকে বেশ কিছুদিন আগে কথাটা বলেছিলো! রশ্মির এসএসসি দেওয়ার পর কানাডা ইউনিভার্সিটি পড়াশোনার কথা। কিন্ত আমি কাউকে কিছু বলি নাই। ভাবছি এই বিষয়ে এসএসসি শেষ হইলে বলবো।
এখন তো এসএসসি শেষ কলেজ শুরু করতে হবে। এজন্য আজকে আপনার ভাইজান ফোন করে কথাটা রশ্মি কে জানাতে বললো। সঙ্গে এটাও বললো রশ্মি কানাডা যাওয়া পর আমাদেরও যাওয়া আসি চলতেই থাকবে। কিন্তু রশ্মি তো রাজি হবে না আরাত কে ছেড়ে দূর দে-শ যাইতে এবার কী করবো বলেন তো ভাবী।
আদিবা তালুকদার — আমিই তো মেনে নিতে পারছি না। মেয়েটা আমাদের ছেড়ে ওই দূর দে-শে পড়ে থাকবে পড়াশোনার জন্য। কেন বাংলাদেশে কী কলেজ ভার্সিটি অভাব পরছে নাকি। রশ্মিকে এতো দূরে পড়াশোনা করার জন্য পাঠাতে হবে। ভাইজান নিজেই তো ঠিকমতো দেশে থাকে না বিজনেস জন্য কানাডায় পড়ে থাকে। তো রশ্মি কে পড়াশোনার জন্য নিয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে আপনারাও সেটেল হয়ে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিয়ে রাখেন নাই তো ভাবি ?
রাহিমা সুলতানা — না না ভাবি আমরা শুধু যাওয়া আসা করবো। আপনার ভাইজান বাংলাদেশের সেটেল হওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। আরমাএ দুবছর তাহলে ওদিকে সব সামলে নিয়ে বাংলাদেশের একিবারে সেটেল হবে। এতদিনে আমাদের যাতায়াত চলতেই থাকবে কানাডায়। রশ্মিও কমফোর্টেবল হয়ে যাবে।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪
আলভী মায়ের কথায় বলে ওঠে —আম্মু তোমরা দেখি কতকিছু ভেবে ফেলাইছো শাঁকচুন্নি কে না জানিয়ে। দেখো গিয়ে শাঁকচুন্নি মায়াবতীকে ছেড়ে কোথাও যাইতে রাজি হবে কী না।
বলতে বলতে আলভী নিজেদের বাড়ির দিকে চলে গেলো। রাবেয়া আদিবা রাহিমা, তিনজনই চিন্তিত মুখ করে দাড়িয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। রাবেয়া তালুকদার বলে উঠলেন আগে রশ্মির সঙ্গে কথা বলা যাক। রাহিমা সুলতানা, মাথা ঝাকিয়ে হুম বলে উনি তালুকদার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজেদের বাড়িতে চলে গেলেন।
