Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৮

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৮

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৮
জান্নাতি আক্তার জারা

প্রকৃতি কখনো আপনাকে হতাশ করবে না। যত প্রকৃতিটাকে অনুভব করবেন চোখ মেলে দেখবেন ততই মুগ্ধ লাগবে জগতটা।এই প্রকৃতির এক নাম নদী যার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় হৃদয় দিয়ে। নদীর স্রোতের মতো জীবনও থেমে থাকে না’কেবল বয়ে চলে নিজের পথে। এই তো নদীর স্রোতের মতোই চার নারী নিজেদের নিয়ে মগ্ন,তাদের মগ্ন থাকার মধ্যেই হটাৎ একটা কন্ঠ ভেসে এলো।

“হ্যালো বেয়াইনসাব রা…
আহিন আলভী বালুমাটি দিয়ে খেলা করছে। আরাত রশ্মি আরিশা আইরা, চারজন মিলে একটার পর ফটো ওঠাচ্ছিল কাশফুল বাগানে। ওদের ফটো তুলার মধ্যে দিয়েই হটাৎ কারো কন্ঠ ভেসে এলো। কন্ঠ শুনেই চারজন মিলে পিছন ঘুরতেই দেখতে পেলো। রাইডিং জ্যাকেট পরিহিত শ্যাম বর্ণ এক যুবককে। উচ্চতায় পাঁচ ফুট সাত&আট হবে। ছেলেটা বাইকে থাকা আবস্থাতে হেলমেট খুলে বাইকে রেখে দিয়ে বাইক থেকে নেমে ওদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে একবার আরিশার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললো —

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আস-সালামু আলাইকুম ভাবীজান!
আরিশা মুখে হাসি টেনে নিয়ে যুবকের দিকে এগিয়ে যাইতে যাইতে সালামের উত্তর করলো — ওয়া আলাইকুমুস-সালাম দেওরমশাই। কেমন আছো রাফি?
“আলহামদুলিল্লাহ ভাবীজান।
আরিশা রাফিকে হাসি মুখেই বলে উঠলো — “ভাবিজানের কথা তো দেখি একদম ভুলে গেছো হুম?
কই আমি তো সবসময় ভাইয়ার থেকে আপনার খবর রাখি। ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করে দেখবেন শুধু আপনার না।আমি আপনার বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের খবর রাখি।
কথাটা বলেই রাফি এইবার আর চোখে আইরা দিকে তাকালো। যে আপাতত কোনোদিকে পাওা না দিয়ে নিজের ফোনে ফটো গুলো দেখতে ব্যস্ত।

রাফি এবার সবাইকে দেখে নিয়ে রশ্মিরাত কে বলে উঠলো — কি ব্যাপার বেয়াইনসাব রা একদম নিস্তব্ধ হয়ে আছে কেনো, বিয়াই সাহেবের আগমন পছন্দ হয়নাই বুঝি।
আরাত হাসি মুখে বলে উঠলো — পছন্দ হবে না কেনো। আমাদের একটা মাএ বেয়াই সাহেব বলে কথা।
রাফি আইরা দিকে তাকিয়ে মুখে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে উঠলো — ভাবলাম, আমার আগমন যদি কারো বিরক্তির কারণ হয়ে যদি দাঁড়ায় ।
সবাই সঙ্গে সঙ্গে আইরার দিকে তাকালো, আইরা নিজের দিকে সবাইকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বিরক্তি চাওনিতে সবাইকে দেখে নিয়ে বলে উঠলো।

এখানে কী তোরা সবগুলো ফাউল বকতে আরছিস?
তোরা থাক সবগুলো আমি চলে গেলাম।আবহাওয়া টা বিরক্তি লাগছে আমার।
কথাটা বলেই আইরা পিছন ফিরে বাড়ির পথে হাটা ধরতেই। সামনে তাকিয়ে দেখতে পেলো, আনাস আশিক হাবিব কে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে। সঙ্গে সঙ্গে আইরা পা থেমে গেলো। আইরা থামে নাই আইরা কে আটকাতে আইরা পথ আটকে দাঁড়াইছে রাফি। আইরা চোখ সামনে আনাস সের উপর নিবদ্ধ । রাফি আইরার সামনে দাড়ানোর কারনে, আইরা রাফির দিকে বিরক্তিকর চোখে তাকালো। আর রাফি আইরা উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো।
“আরে আরে বেয়াইনসাব, বিরক্তি হয়ে কই যাচ্ছেন? আমার আগমন যদি আপনার বিরক্তির কারণ হয়, তাহলে আমাকে তো আপনার মুখে হাসির কারণ হতে হবে তাইনা। এভাবে আমাকে অপরাধী বানাইয়া চলে যাচ্ছেন। তা তো হবে না।

“বিরক্তি জায়গায় টুকু দিয়ে দিলেন। এখন একটু হাসির কারণ হতে দেন, বেয়াইনসাব।
আনাস ওদের পাশ কেটে যাওয়ার সময় রাফির কথাটা আনাস সের কানে পরতেই। পা দুটো থেমে গেলো কিছুক্ষণের জন্য, আনাস একবার চোখ তুলে আইরা আর রাফিকে এক নজর দেখে নিয়ে আবার সামনে দিকে পা বারালো ।
আশিক হাবিবও আনাস সের মতো থেমে গেলো জায়গায়, তারপর আইরা আর রাফির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো দুজন। আশিক রাফিকে দেখে বলে উঠলো — হাই ব্রো কেমন আছো?
রাফি মুখ ঘুড়িয়ে আশিক হাবিব কে দেখে নিয়ে হাসি মুখে, জরিয়ে ধরে বলে উঠলো — আলহামদুলিল্লাহ ব্রো অনেক দিন পড়ে দেখা হইলো।

একে একে হাবিব আশিক দুজনেই রাফিকে জরিয়ে ধরে, হাবিব বলে উঠলো — হ্যাঁ ফার্স্ট দেখা, আরিশা আপুর কাবিনের দিনে, আর সেকেন্ড দেখা আজকে হইলো।
রাফি হাসি মুখে বলে উঠলো — আত্মীয়তা যখন হয়ে গেছে। ইনশাল্লাহ দেখা হতেই থাকবে, আল্লাহ আর সে চাইলে আরো গভীরভাবে সম্পর্কটা জোরালো হইবে।
হাসি মুখে কথাটা বলেই রাফি এবার সরাসরি আইরা দিকে তাকালো, আশিক রাফির কথায় মুচকি হেসে বলে উঠলো — সবকিছু মহান রাব্বুল আলামিনের মার্জি। চলো সামনে এগুনো যাক।
রশ্মি বলে উঠলো — তা বেয়াই সাহেব, আমাদের একমাত্র দুলাভাই কই। তাকে তো দেখছি না।
রাফি সবার সঙ্গে সামনে দিকে এগিয়ে যাইতে যাইতে রশ্মির কথায় হাসির মুখে উত্তর করলো — বেয়াইনসাব আপনাদের দুলাভাই তার শালিকাদের জন্য নদীর পাড়ের উপরে দোকানটাই নেমেছে।

নদীর তীরের অস্ত যাওয়া সূর্যের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, শেষ বিকালের গাড়োরক্তিম আভায় রাঙ্গানো আকাশের শোভা মিশ্রিত প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের মাধুরী দেখে দু চোখের তৃষ্ণা যেন মেটে না। শেষ বিকালের সৌন্দর্যটা যেনো এক নিমেষেই সবাইকে চুপচাপ করে দিয়েছে।
নদীর পাড়ে বসে নীরবতার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ব্যস্ত চার যুবক চার যুবতী।
হাবীবের বাড়ি থেকে ফোন আসায়। হাবীব সবার থেকে বিদায় নিয়ে। আহিন আলভী কে সঙ্গে নিয়ে চলে গিয়েছে। আগে ওদের দুজন কে তালুকদার বাড়িতে নেমে দিবে তারপর হাবীব নিজের বাড়িতে চলে যাবে।
আমান আরিশা ওরা দুজন সবার থেকে কিছুটা দূরে একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছে।
রশ্মিরাত দু’জন কাছাকাছি বসে সৌন্দর্য উপভোগ করছে।

আইরা কিছুক্ষণ পরপর আর চোখে দেখে যাচ্ছে আনাস কে। আনাস কিছুটা বিরক্তি কিছুটা মুগ্ধ চোখে প্রকৃতির টা উপভোগ করছে। আইরা আনাস সের মুখের রিয়েকশন দেখে নিয়ে নদীর পানির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো। এদিকে রাফি মনমুগ্ধকর চাউনিতে সেই মুখের মুচকি হাসিটুকু দেখে যাচ্ছে।
রাতের সৌন্দর্য সত্যিই অনেক মনোমুগ্ধ কর। এতএত লুকোচুরির মধ্যে দিয়ে হটাৎ আনাস নীরবতা ভেঙ্গে রশ্মি কে ডেকে উঠলো — রশ্মি?
“হ্যাঁ ভাইয়া!
” তুই নাকি স্টাডি জন্য কানাডা যাচ্ছিস!

সবার চোখ রশ্মির দিকে ঘুরে গেলো। রশ্মি এবার কিছুটা নড়াচড়া করে, ভালো হয়ে বসে বলে উঠলো।
“হ্যাঁ ভাইয়া, বাবা গতকাল ফোনে তার ইচ্ছে জানাইছে, বাবার ইচ্ছা আমি কানাডার বাবার কাছে গিয়ে এখানে ইউনিভার্সিটিতে স্টাডি করবো।
আশিক বলে উঠলো — তোমার কী ইচ্ছা,তুমি যাবে কানাডায়?
কথাটা শুনার সঙ্গে সঙ্গে রশ্মি আরাতের দিকে তাকালো, দেখলো আরাত সবার মতো উত্তর জানার জন্য প্রশ্নবোধক চাওনি দিয়ে রশ্মির দিকে তাকিয়ে আছে। রশ্মি এবার সবাইকে দেখে নিয়ে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।

” হুম!
আরাত রশ্মির দিকে তাকিয়ে মলিন হাসি দিয়ে নদীর পানির দিকে তাকালো। আনাস বলে উঠলো – তাহলে তো কয়েকদিনের মধ্যেই ফ্লাইট তাই-না?
“হ্যাঁ ভাইয়া!
আনাস ওঠে এসে রশ্মি কাছে এগিয়ে এসে বলে উঠলো — খুব ভালো থাক, আগামী দিনগুলোর হয়তো পরিবর্তন শুধু হয়েই গেলো। আমাদের কখনো ভুলে যাস না যেন।কখনো প্রয়োজন পড়লে এই ভাইয়া কে পাশে পাবি সবসময়।
সবার চোখের পানি টলমল করছে, এতদিনের বন্ধন ছেড়ে ওই দূর দেশে চলে যাবে, হয়তো তাদের জীবনের পরিবর্তন শুরু হতে চলছে। আগের মতো চাইলেই সবার সঙ্গে আড্ডা দিতে পারবে না। বড়দের কাছে রশ্মি আর তিন বিচ্ছু নামে বিচার দিতে পারবে না। আরাতের সঙ্গে বড়োদের চোখ ফাকি দিয়ে স্কুটিতে পুরো শহর আর বেড়ানো হবে, রশ্মি এবার কান্না করে দিলো। কান্না করতে করতে বলে উঠলো —
তোমাদের খুব মিস করবো আমি,

রশ্মি আর কথা বলতে পারলো না, আরাত এসে রশ্মিকে জড়িয়ে নিয়ে আরাত কান্না শুরু করলো রশ্মির সঙ্গে।
আরিশা এগিয়ে এসে দুজন কে শান্ত করতে বলে উঠলো — আমরাও তোকে মিস করবো পাগলী।
তোরা দুজন এমন ভাবে কান্না করছিস যেন রশ্মি আর বাংলাদেশের আসবেই না।
প্রকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আরছিলো, মনটা হালকা করতে। কিন্তু বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে মনমরা মলিন চেহারায়। বোন রুপি বন্ধুত্বর দূরত্বর কথায় সবাইকে কেমন উদাসীন করে রাখছে।

সময়টা দুপুর __১১ঃ৪৪,
গতকাল বেশ রাত করেই আরাত রা বাড়িতে ফিরেছে, আমান রাফি আরিশা আইরা কে বাড়িতে এগিয়ে দিতে চাইছিলো। কিন্তু আরিশা আইরা নিজেদের বাড়িতে যাবে না। রাত টা তালুকদার বাড়িতে কাটাবে বিধায় আমান দের সঙ্গে আশিকও নদীর পাড়ে থেকে সবার কাছে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে। আর আইরা আরিশা রশ্মিরাত রাতে বেলা সবাই একসঙ্গে গল্প করতে করতে পায়ে হেটে তালুকদার বাড়িতে গিয়েছে। আনাস ওদের থেকে কিছুটা পিছনে ছিলো।

বাড়িতে এসেই আনাস কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেছিলো, এদিকে আরিশা আইরা রশ্মি, আরাতের রুমে ঘুমাতে গিয়েছে। রশ্মি প্রায়রাত আরাতের সঙ্গে থাকে। আর আরিশা আইরা দের জন্য তালুকদার বাড়িতে দুবোনের আলেদা দুটো রুম রয়েছে। তবে আইরা আরিশা আরাতের রুমে বেশি থাকে। এইতো চারজন মিলে একরুমে গল্প করতে করতে কে কোথায় ঘুম আরছে তা ঠিক নেই। রশ্মি সোফাতে মাথা এলিয়ে দিয়ে বসে আবস্থায় ঘুম, আরাত আইরা দুজন বিছানায়, দুজন দিকে হয়ে ঘুম আরছে, আরিশা রুমের মেঝেতে পাঠানো বিছানায় ঘুম আরছে, চারজন চাররকম হয়ে এক ঘুমে সকাল।

সকাল ৪: ৩৪ মিনিটে আইরার ঘুম ভাঙ্গে। আইরা শুয়ে থাকা আবস্থাতে বা হাত দিয়ে বালিশের নিচে থেকে ফোনটা খোঁজে নিয়ে সময় টা দেখে, সময়টা দেখেই, তাড়াহুড়ায় বিছানায় বসতে বসতে চিল্লিয়ে বলে উঠে।
“হায় আল্লাহ সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছে, দশটায় আমার কলেজ।
কথাটা বলেই তাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমের দিকে দৌড়ে গেলো। আইরা চিৎকারে বাকি তিনজনে ঘুম শেষ। হটাৎ চিৎকারে রশ্মি সোফায় হামি তুলতে তুলতে সোজা হয়ে বসে পরলো।
আরাত কিছু একটা হয়েছে ভেবে বিছানায় থেকে তারাহুরো করে ওঠে বসে আইরার ওয়াশরুমে দৌড়ে যাওয়ার দিকে অবাক চোখে চেয়ে রইলো। আরিশা মেঝের বিছানা থেকে শুয়ে থাকা আবস্থায় মাথাটা উপরে তুলে একবার আইরা ওয়াশরুমে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললো।

” উফফ এই মেয়ে আর ভালো হবে না, দুরু বাল।
কথাটা বলেই বিরক্তি হয়ে পুনরায় বালিশে মুখ গুজালো আরিশা। রশ্মি মাথার লম্বা সিলকে চুলগুলো হাত খোঁপা করতে করতে বলে উঠলো।
“আসলেই আজকে অনেকটা বেলা হয়ে গিয়েছে, ফজরের নামাজ কাজা হয়ে গেলো।
আরাত হুম বলে বিছানায় থেকে নেমে বিছানা ঠিক করতে লাগলো, রশ্মি রুম থেকে বের হয়ে নিজেদের বাড়িতে চলে গেলো, আইরা কিছুক্ষণ পড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সোজা রুমের বাহিরে যাইতে যাইতে আরাতের উদ্দেশ্য বলে উঠলো।

” আমি বাড়িতে চলে গেলাম, আরিশা আপু উঠলে বলে দিস।
আইরা কথাটা বলে উত্তরের আশায় না থেকে তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বের হয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতেই, আনাস সের সঙ্গে সামনাসামনি ধাক্কা লাগতে লাগতে বেঁচে গেলো। আইরা নিজের সামনে আনাস দুহাত উপরে দিকে দিয়ে হালকা পিছানো দেখে, বিরবির করে বলে উঠলো।
“মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ।

আনাস অফিসের জন্য রেডি হয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট করে বাড়ি থেকে বের হইতেই,মনে পড়লো বাইকের চাবি নিয়ে আসতে ভুলে গিয়েছে। বাইকের চাবি নিতে নিজের রুমে দিকে যাচ্ছিল আনাস, হটাৎ সিড়ি মধ্যে আইরাকে তাড়াহুড়া করে আসতে দেখে আনাস কিছুটা পিছুপা হইলো। সঙ্গে সঙ্গে আইরা আনাস সের সামনে এসে ধাক্কা লাগতে লাগতে সামলে নিলো নিজেকে। আনাস আইরা কে বিরবির করতে দেখে বিরক্তি হয়ে বলে উঠলো।
” কী সমস্যা, জান্ত মাছের মতো লাফাচ্ছিস কেনো, এখনই তো ধাক্কা লেগে যেত।
“সরি আনাস ভাই!
আসলে কলেজে লেট হয়ে যাচ্ছে তো এজন্য।

“ওকে, এখন সামনে থেকে সাইট হ,আমি রুমে যাবো।
আইরা মুচকি হাসি দিয়ে সিড়ির একপাশে এসে দাড়ালো আর আনাস উপরে নিজের রুমে দিকে যাইতে শুরু করলো। আইরা আনাস সের চলে যাওয়া দিকে তাকিয়ে, হেসে নিচে দিকে যাইতে যাইতে বলে উঠলো — হায় আল্লাহ, মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ এত সুন্দর কেনো আনাস ভাই। উফফ মনটা চাই____হায় আল্লাহ আমার কলেজ।
কলেজের কথা মনে হইতেই পুনরায় তারাহুরো করে নিচে নেমে এলো আইরা। নিচে এসে খাবার টেবিলে দিকে একবার তাকিয়ে বলল — মামনি আমি বাড়িতে গেলাম।
কথাটা বলেই চলে গেলো নিজেদের বাড়িতে। রাবেয়া তালুকদার শুধু একবার আইরা কে দেখলেন, খাবার খাওয়ার জন্য বলবেন, একটুও বলার সময় দেয়নাই আইরা।

১১: ৪৪, দিকে তালুকদার বাড়িটা বর্তমান একদম নীরব। আহিন স্কুলে গিয়েছে। আনাস, আহাদ তালুকদার আদনান তালুকদার তিনজন অফিসে। আরিশা ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে সকালে খাবার খেয়ে নিজেদের বাড়িতে গিয়েছে। আরাত রশ্মিদের বাড়িতে বর্তমান। বাড়িটা একদম চুপচাপ।
কালো মারসিটিজ গাড়িটা তালুকদার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো। তাকবীর গাড়ি থেকে বের হয়ে কোনোদিকে না তাকিয়ে গটগট পায়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো। ড্রয়িংরুম পেরিয়ে সিড়ি দিয়ে নিজের রুমে দিকে যাওয়া আবস্থা একবার আরাতের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। আরাতের দরজার একবার নজর বুলিয়ে আবার নিজের রুমে দিকে এগুলো।

তালুকদার বাড়ির নিচ তলায় বড়োরা থাকে, আহাদ তালুকদার, আদনান তালুকদার, আর বাদবাকি রুমগুলো ফাঁকা থেকে যায়। দোতলার সিড়িটা মাঝখানে হওয়ার। সিড়ির প্রথম রুমটায় আরাতের। আরাতের রুমের বা পাশে দুটা রুম, একটা আরিশা জন্য আরেকটা আইরা জন্য তারপাশে রুমগুলো ফাঁকা থাকে।
আরাতের রুমের ডান দিকে, প্রথমে আহিনের রুম তারপরের রুমটা আনাস সের, সব শেষেরটা তাকবীরের, তাকবীরের রুমটা সব রুমের থেকে আদেলা এবং বড়ো। পুড়ো রুমটা যেন সাদায় ঘেরা বিছানায় চাদর হইতে, রুমের মেঝে, রুমের আসবাবপত্র সবকিছু সাদা রংয়ের। তাকবীরের রুমের বেলকনি ছোটখাটো একটা ছাঁদের মতো, বেলকনির কোমর অবধি রেলিংটা পুরোটা সাদা থাইগ্লাসের। বেলকনি মাঝখানে সাদা রংয়ের সোফা সেট করা রয়েছে। বেলকনিতে মাথার উপর রাতের খোলা আকাশ টা আজান তালুকদার তাকবীরের খুব প্রিয়। তাকবীরের রুম, বেলকনি, দুটোই রুমের মালিকের মতো নিস্তব্ধ।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৭

রুমে এসে প্রায় আধাঘন্টা সময় ধরে শাওয়ার নিয়ে। টাউজার পড়ে তয়লা দিয়ে মাথার চুলগুলো মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হইলো। বেলকনিতে গিয়ে ভেজা তয়লা টা দড়িতে ঝুলিয়ে রেখে রুমে এসে আলমারি থেকে ঢিলাঢালা অ্যাশ কালার টি শার্ট বের করে গায়ে জড়িয়ে নিলো। আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনি দিয়ে মাথার চুলগুলো পরিপাটি করে। বিছানায় সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বেড সাইট থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে অফ লাইন করে রাখে নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখটা বন্ধ করল। এতটা পথ জার্নি করায় অনেকটা টায়ার্ড লাগছে। এখন একটা লম্বা ঘুম দরকার।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৯