তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০ (২)
তাবাস্সুম খাতুন
ইতালি টাইম এখন বিকাল পাঁচটা বেজে চার মিনিট। পাঁচটার সময় প্লেন ল্যান্ড করেছে ইতালির রাজধানী রোমের এয়ারপোর্ট এ। নিশান সিমির হাত ধরে এয়ারপোর্ট এর কাজ মিটিয়ে বেড়িয়ে আসলো। সিমির চোখ দুটো শুধু এইদিকে তো ওইদিকে ঘুরতে আছে। নিশান নিজের হাতের মাঝে সিমির হাতটাটা শক্ত করে চেপে ধরে আছে। সে হেঁটে যাচ্ছে। কিছু দূর যেতেই একটা গাড়ি এসে থামলো তাঁদের সামনে। নিশান সিমিকে নিয়ে উঠে বসলো গাড়িতে। সিমি নিশ্চুপ হয়ে সবকিছু দেখে যাচ্ছে।
গাড়ি চলতে শুরু করলো। বেশি না দশ মিনিট চলেই গাড়ি থামলো একটা বাড়ির সামনে। সিমি মাথা উঁচিয়ে দেখতে গিয়েও পারলো না নিশানের জন্য। নিশান সিমির হাত ধরে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলো। গাড়িটা চলে গেলো আবার। নিশান সিমির হাত চেপে ধরে বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। সিমি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে বাড়ির আশেপাশে দেখতে লাগলো। দুই তলা বিশিষ্ট ডুপ্লিক্স বাড়ি। তবে রং সম্পূর্ণ ব্ল্যাক। বাড়ির ডান পাশে পাথর দিয়ে ঘেরা একটা ফোয়ারা আছে। তার এক পাশে আছে ফুলের গাছ। বেলি ফুলের সুঘ্রান বাড়ির আনাচে – কানাচে।বাড়ির বাম পাশে আছে একটা গ্যারেজ। হয়তো গাড়ি আছে। সদর দরজা থেকে ধরে বাড়ির প্রবেশ পথ পর্যন্ত পাথর বাঁধানো রাস্তা। তারা দুইজন সেই রাস্তা ধরে হেঁটে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। সিমি বাড়ির ভিতরে ঢুকে অবাক হলো সাথে ভ্রু কুঁচকালো কারন বাড়ির ভিতরেও সেই একই রকম রং সম্পূর্ণ কালো। ফ্লোর সহ আসবা পাত্র গুলোও ব্ল্যাক। এত এত ব্ল্যাক এর মাঝে করে কি এই বিদেশি কুত্তা? তার মনে প্রশ্ন জাগছে। প্রশ্ন দমিয়ে রাখতে না পেরে হঠাৎ নিশানের উদ্দেশ্য বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“একটা জিনিষ বুঝলাম না। একটু বুঝিয়ে দেবেন।”
নিশানের পা জোড়া থেমে গেলো। তারা মাত্র সিঁড়ির অর্ধেক উঠেছে। নিশান সিমির দিকে ফিরে তার কাছে এক পা দুই পা করে এগিয়ে আসতে লাগলো। সিমি ঢোক গিলে পিছালো গ্রিলে এর কাছে এসে থেমে গেলো। নিশান সিমির একদম কাছাকাছি এসে গ্রিলের দুই পাশে হাত দিয়ে সিমিকে ঘিরে ফেললো। সিমি মাথাটা একটু হেলিয়ে নিলো। নিশান সিমির আরো একটু কাছে আসলো স্লো ভয়েসে বললো,
“কি বুঝিস না? প্রাকটিক্যাল কোন কিছু কি?”
প্রাকটিক্যাল কথা শুনে সিমি চোখ খুলে নিশানের দিকে তাকালো। চোখে চোখ পড়তেই সিমি চোখ সরিয়ে নিয়ে বললো,
“ইয়ে মানে বাড়িটা আপনারই যা বুঝলাম!তবে পুরো বাড়ির রং ব্ল্যাক কেন?”
সিমি চোখ নিচু করে রেখেই কথাটা বললো। নিশান সিমির মুখের দিকে আরো একটু ঝুঁকে পড়লো। নিশানের গরম নিশ্বাস সিমির মুখে উপচে পড়লো। সিমি চোখ বন্ধ করে নিলো হাল্কা কেঁপে উঠলো। নিশান নেশালো কন্ঠে বললো,
“ব্ল্যাক ইস মায় এট্ট্রাকশন, রেড ব্লাড ইস মায় ইমোশন, এন্ড ইউ আর মায় ডিপলি অবজেসন।”
থামলো নিশান। নিশানের শেষ কথা শুনে সিমির সর্বাঙ্গ জুড়ে কেঁপে উঠলো। নিশান হুট করে সিমির কাঁপতে থাকা ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো,
“তোর কাঁপা দেহ দেখলে আমার অন্য কিছু ফিল আসছে বেবি।”
সিমি দ্রুত নিশানের চোখের দিকে তাকালো তবে বেশিক্ষন তাকাতে পারলো না সেই গভীর চোখ জোড়াতে। সেই দৃষ্টি নত করে মিনমিনে সুরে বললো,
“আপনি এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে। শুধু কাঁপবো না। একটু পরে আমার হার্ট টা বেড়িয়ে আপনার হাতে চলে যাবে।”
সিমির কথা শেষ হতেই তার কানে আসলো হাসির শব্দ। সে পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো নিশান হাসছে। সিমি চোখ ছোট ছোট করে বললো,
“আমার কথা এতটাও খারাপ না। যে হাসি লাগবে।”
নিশানের হাসি থেমে গেলো। গম্ভীর মুখ করে সিমির হাত টেনে উপরে উঠতে উঠতে বললো,
“বেশি না বকে সাওয়ার নিবি চল।”
সিমি মুখ ভাঙিয়ে যেতে লাগলো। নিশান একটা রুমের সামনে এসে পাসওয়ার্ড টাইপ করতেই দরজা খুলে গেলো। নিশান সিমিকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দিলো। রুম জুড়ে অন্ধকার। নিশান লাইট অন করলো। সিমি সেই আলোতে রুম দেখতেই চোখ জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। রুমের ভিতরে সব ব্ল্যাক। তবে আকর্ষণীয়া লাগছে খুব। একটা বড়ো মাস্টার সাইজ বেড যার উপরে কালো রং এর বেডসিট বালিশ,ব্লাঙ্কেট সব ব্ল্যাক রং এর। এক পাশে আছে বড়ো সোফা সেইটাও ব্ল্যাক রং এর। একটা টি টেবিল আছে সেইটাও ব্ল্যাক রং এর। ফ্লোর জুড়ে ব্ল্যাক সব। বেডের ডান পাশে একটা বড়ো পর্দা দেওয়া আছে। নিশান গিয়ে পর্দা টা সরিয়ে দিলো উন্মুক্ত হলো একটা দেওয়াল জুড়ে শুধু বড়ো কাঁচ। নিশান কাঁচের এক পাশে হাত দিয়ে খুললো ওই বেলকুনি। রুমের ডান পাশের একদম কোনায় একটা দরজা আছে হয়তো ওয়াশরুম। ডান পাশের আরেক সাইতে আছে বড়ো আলমারি সেইটাও কালো রং এর তবে সেইটা দেওয়াল এর সাথে সেট আপ করা। সিমি শুধু অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছে। নিশান সিমির উদ্দেশ্য বললো,
“ঐখানে ওয়াশরুম। সাওয়ার নিয়ে আয়।”
সিমি সাওয়ার নেওয়ার কথা ভাবতেই মনে পড়লো সে পড়বে কি? তাই বললো,
“সাওয়ার নিলে আমি কি পড়বো?”
“আলমারির বাম পাশ খুলে দেখ।”
সিমি ধীরে ধীরে হেঁটে আলমারির কাছে গিয়ে বাম পাশটা খুলতেই চক্ষু জোড়া যেন আরো বড়ো হয়ে গেলো। আলমারির চারটা থাক। প্রথম থাকে বিভিন্ন রকমের জর্জেট শাড়ি। বেশির ভাগ রং কালো আর লাল। আর দুই একটা বেগুনি, নীল,সাদা। দ্বিতীয় থাক জুড়ে সালোয়ার কামিজ। একই সবই প্রায় লাল আর কালো। কয়েকটা নীল সাদা। তৃতীয় থাক জুড়ে আছে গ্রাউন একই রকম রং সব কালো, লাল, সাদা, নীল। নিচের থাকে আছে স্কার্ট কুর্তি প্লাজু টি শার্ট। সিমি এত সব দেখে অবাক হয়ে পিছে ফিরে নিশানের উদ্দেশ্য বলল,
“এইগুলো কি আমার নাকি অন্যের?”
অন্যের মানে এই মেয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছে? নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“বেয়াদব মেয়ে কানের নিচে দেবো দুইটা থাপ্পড়। ঐগুলো তোর ছাড়া কার হবে?”
নিশান কে রেগে যেতে দেখে সিমি সেই জায়গা থেকে একটা স্কার্ট, টি শার্ট আর উড়না নিয়ে ওয়াশরুমে দৌড়ে ঢুকে গেলো। ভিতরে ঢুকে বুক হাত দিয়ে বললো,
“শালা বিদেশি কুত্তা। আমি এইখানে বাবার জন্ম থুরি দাদার জন্মেও আসি নি। তাহলে বুঝবো কিভাবে? এইগুলো কার।”
এইদিকে নিশান কাকে যেন কল করলো। কিছু একটা বলে ফোন কেটে দিলো।সিমি দশ মিনিটের মাথায় বেড়িয়ে আসলো মাথায় কাপড় টেনে নিশান নিজের পোশাক নিয়ে ওয়াশরুম এ ঢুকলো। সিমি বেলকুনিতে গেলো। একটু পায়চারি করে রুমে ঢুকলো। বেডের একপাশে বসলো। কি করবে ও বুঝতে পারছেনা। নতুন জায়গা আর কথা বলার মতো কেউ নেই। আর না আছে ফোন সময় কাটানোর জন্য। এর মধ্যে নিশান ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসলো। ডেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো মুছে শুকাতে লাগলো। সিমি আড়চোখে একবার দেখে চোখ নামিয়ে নিলো। নিশান চুলগুলো সেট আপ করে সিমির কাছে এসে বললো,
“নিচে আয়।”
সিমি কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালো। নিশানের পিছু পিছু যেতে লাগলো।নিশান ডাইনিং টেবিলে বসলো সিমিকেও বসতে বললো। ডাইনিং টেবিলের উপরে সাজানো আছে খাবার। নিশান সিমির প্লেটে বেড়ে দিলো। নিজের প্লেটেও বাড়লো। সিমিকে খেতে বলল। সিমি কিছু না বলে চুপচাপ খেতে লাগলো। নিশান ও কিছু না বলে খেতে লাগলো। সিমি খেতে খেতে বললো,
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬০
“এই বাড়িতে আর কেউ থাকে না।”
নিশান চোখ উঁচিয়ে সিমির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো,
“তোর আর কাকে লাগবে? আমি নিজেই এনাফ সবার জন্য। চুপচাপ খা।”
সিমি নিজের মনে নিশান কে একশো একটা গালি দিতে দিতে খেতে লাগলো।
